• Skip to primary navigation
  • Skip to main content
  • Skip to primary sidebar

রূপকথন

Healthier Lifestyljhhe Choices

  • Facebook
  • Home
  • Shop
  • Blog
    • মেকআপ
      • ব্রাইডাল মেকআপ
      • সেলিব্রিটি মেকআপ
      • চোখের সাজসজ্জা
      • মুখের রূপসজ্জা
      • লিপ মেকআপ
      • মেকআপের ধারণা
      • মেহেদী ডিজাইন
      • নখের ডিজাইন
    • চুলের যত্ন
    • ত্বকের যত্ন
    • চুল স্টাইল
    • স্বাস্থ্য ও সুখ
      • ফিটনেস
      • স্বাস্থ্যকর খাবার
      • ওজন বৃদ্ধি
      • ওজন কমানো
      • যোগ ব্যায়াম
      • ডায়েট টিপস
      • আয়ুর্বেদ
  • Contact Us

SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)

মধু কি মুখ ও ত্বকের জন্য উপকারী? এটি কিভাবে ব্যবহার করতে হয়?

by রূপকথন ডেস্ক

মধু হল সবচেয়ে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক উপাদানগুলির মধ্যে একটি। এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং এটি ত্বকের যত্নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন উপাদান। অনেক লোক উজ্জ্বল ত্বক এবং নরম, হাইড্রেটেড চেহারা বজায় রাখার জন্য মধু ব্যবহার করে। এছাড়াও, মধুতে উপস্থিত প্রাকৃতিক এনজাইমগুলি এটিকে ত্বকের যত্নের একটি কার্যকারী উপাদান করে তোলে। তাই প্রায় দেখবেন ত্বকের যত্নের পণ্যে মধু ব্যবহার হয়ে থাকে।

মধুতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং ক্ষত নিরাময়ের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আপনার বাড়িতে এক বোতল মধু থাকলে, আপনি সহজেই আপনার ত্বকের জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন।

এই আলোচনায় ত্বক চর্চায় মধু আমাদের কি কি উপকার করে তা সম্পর্কে জানতে পারবো।

মধু ব্রণ সারাতে পারে (Honey Can Heal Acne): গবেষণায় দেখা গেছে যে, মধুতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি অনেক রকমের চর্মরোগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জীবাণুর বৃদ্ধিকে বাধা দেয়।এসব জীবাণুদের মধ্যে রয়েছে P. acnes এবং S. aureus যা ব্রণ সৃষ্টি করে। S. aureus এটোপিক ডার্মাটাইটিস এবং অন্যান্য ত্বকের সংক্রমণের কারণ হতে পারে।  

এটি ক্ষত নিরাময় করে (It Heals Wound): মধু ছোটখাটো পোড়া এবং ক্ষত নিরাময় করতে পারে এবং ত্বকের সমস্যা যেমন ত্বকের সোরিয়াসিস, খুশকি এবং ডায়াপার ডার্মাটাইটিসের বিরুদ্ধে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে। 

এটি আপনার ত্বককে ময়েশ্চারাইজড রাখে (It Keeps Your Skin Moisturized): মধু একটি চমৎকার ইমোলিয়েন্ট এবং হিউমেক্ট্যান্ট যা আপনার ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। তাই, এটি ময়শ্চারাইজিং ক্রিম এবং লোশনগুলিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। আপনার ত্বক যদি শুষ্ক  থাকে তবে আপনি ত্বককে  নরম এবং কোমল রাখতে মধু ব্যবহার করতে পারেন।

মধু ত্বকের পিএইচ বজায় রাখতে সাহায্য করে (Honey Helps Maintain Skin pH): মধু আপনার ত্বকের pH নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যেকোনো ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে । মধুর কম  pH অনেক রোগজীবাণু বৃদ্ধিতে বাধা দেয় এবং ক্ষত দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে।

মুখের জন্য মধু কীভাবে ব্যবহার করবেন?

১. লেবু এবং মধু (Lemon & Honey):

লেবুর রসে ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ। এক গবেষণা বলে যে, লেবুর রস ত্বকে একটি ক্ষয়কারী প্রভাব ফেলে, আপনার ত্বককে তেল-মুক্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং ছিদ্র বা পোরস কমিয়ে দিতে পারে। এই ফেইস মাস্ক ব্রণ, ব্রেকআউট নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • অর্ধেকটা পরিমান লেবুর রস। 
  • ১ টেবিল চামচ খাঁটি মধু। 
  • তোয়ালে। 

প্রক্রিয়া:

  • মধুর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে একটি মসৃণ মিশ্রণ তৈরী করুন ।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। চোখের চারপাশের ত্বক এড়িয়ে চলুন।
  • মিশ্রণটি প্রায় ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • প্রথমে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, তারপরে ঠান্ডা পানি দিয়ে।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে একবার.

২. দুধ, আপেল সিডার ভিনেগার এবং মধু (Milk,Apple cider vinegar & Honey):

দুধে ল্যাকটিক এসিড থাকে। টপিকাল ল্যাকটিক অ্যাসিড আপনার ত্বকে একটি মৃদু এক্সফোলিয়েটিং এবং ক্লিনজিং প্রভাব ফেলে এবং ত্বকের গঠন মসৃন করে। আপেল সাইডার ভিনেগার ব্যাপকভাবে তার ত্বকের প্রশান্তিদায়ক প্রভাবের জন্য ব্যবহৃত হয়। বলা হয় এটি ত্বকের পিএইচ পরিবর্তন করে যা ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১ টেবিল চামচ গুঁড়া দুধ (বা ১/২ চা চামচ কাঁচা দুধ) । 
  • ২ চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার। 
  • ১/২ চা চামচ খাঁটি মধু। 
  • তোয়ালে। 

প্রক্রিয়া:

  • একটি মসৃণ মিশ্রণ না পাওয়া পর্যন্ত সমস্ত উপাদান একসাথে মিশাতে হবে। 
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। আপনার চোখের চারপাশে ত্বক এড়িয়ে চলুন ।
  • প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য মিশ্রণটি রেখে দিন।
  • ১৫ মিনিটের পরে, আপনার আঙ্গুলগুলি ভিজিয়ে নিন এবং আপনার ত্বককে এক্সফোলিয়েট করার জন্য শুকনো মাস্কটি আলতো করে ঘষুন।
  • ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।
  • ময়েশ্চারাইজ করুন। 

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে একবার। 

৩. মধু এবং দারুচিনি (Honey And Cinnamon):

দারুচিনিতে এমন গুণ রয়েছে, যা ব্রণ বা ফোলাভাব দূর করতে পারে । ২০ জন রোগীকে নিয়ে একটি গবেষণায় হালকা থেকে মাঝারি ব্রণের উপর দারুচিনি জেলের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলাফল হিসেবে পাওয়া গেছে যে, দারুচিনি জেল ব্রণের ক্ষত কমাতে সাহায্য করেছে। মধুর সাথে, দারুচিনি ব্রণ পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • এক চিমটি গুঁড়া করা দারুচিনি  বা ২-৩ ফোঁটা দারুচিনি এসেনশিয়াল অয়েল।
  • ১ টেবিল চামচ মধু। 

প্রক্রিয়া:

  • উপাদান দুটি একসাথে মিশাতে হবে।
  • মিশ্রণটি ব্রণের ক্ষতগুলিতে প্রয়োগ করুন (একটি স্পট চিকিত্সা হিসাবে)।
  • ১০-১৫ মিনিটের জন্য এটি রেখে দিন।
  • ধুয়ে ফেলুন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ১-২ বার।

৪. টমেটো এবং মধু (Tomato And Honey):

টমেটোতে লাইকোপিন থাকে । একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে টপিকাল লাইকোপিন একটি কার্যকর  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফ্রি র্যার্ডিকেলগুলিকে বাধা দিয়ে কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে। মধু, টমেটো একসাথে আপনার ত্বক সুস্থ রাখতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১/২ পাকা টমেটো। 
  • ১ টেবিল চামচ খাঁটি মধু।
  • তোয়ালে।

প্রক্রিয়া:

  • একটি ব্লেন্ডারে টমেটো পিউরি করুন।
  • পিউরিতে মধু যোগ করুন এবং ভালভাবে মেশান।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। আপনার চোখের চারপাশে ত্বক এড়িয়ে চলুন।
  • প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য মাস্কটি রেখে দিন।
  • ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২ বার। 

৫. কলা এবং মধু (Banana And Honey):

কলা একটি সাধারণ উপাদান যা ফেস মাস্কে ব্যবহৃত হয় এবং বলা হয় এটি ত্বকে ময়শ্চারাইজিং প্রভাব ফেলে । এটি যেকোনো ফেস মাস্কের জন্য একটি চমৎকার বেস। মধু এবং লেবুর সাথে একসাথে, এই মাস্কটি আপনার ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রেকআউট প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১টি পাকা কলা। 
  • ১ চা চামচ কাঁচা মধু। 
  • ১ চা চামচ লেবুর রস। 
  • তোয়ালে। 

প্রক্রিয়া:

  • একদম মসৃন না হওয়া পর্যন্ত কলা ম্যাশ করুন।
  • ম্যাশ করা কলায় মধু এবং লেবুর রস যোগ করুন।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। আপনার চোখের চারপাশে সংবেদনশীল ত্বক এড়াতে ভুলবেন না।
  • প্রায় ১০-১৫ মিনিটের জন্য মিশ্রণটি রেখে দিন।
  • হালকা গরম পানি দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে ফেলুন এবং একটি তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে একবার। 

৬. বেসন এবং মধু (Gram Flour & Honey):

বেসন ত্বক পরিষ্কার করতে এবং এক্সফোলিয়েট করতে সাহায্য করে। এটি অতিরিক্ত তেল এবং ট্যানিং কমাতেও সাহায্য করে। এই মাক্সটি নিয়মিত ব্যবহারে আপনাকে একটি পরিষ্কার রঙ দিতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ২ টেবিল চামচ বেসন (বেসন)
  • ১ টেবিল চামচ খাঁটি  মধু
  • পানি 
  • তোয়ালে

প্রক্রিয়া:

  • মধু ও বেসন মিশিয়ে নিন।
  • কিছু পানি যোগ করুন এবং একটি মসৃণ এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ পেস্ট পেতে ভালভাবে মেশান।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। আপনার চোখের চারপাশে ত্বক এড়াতে ভুলবেন না।
  • প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য মিশ্রণটি রেখে দিন।
  • হালকা গরম পানি দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
  • একটি তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ৩ বার। 

৭. দই এবং মধু (Yougurt & honey):

দইতে এল-সিস্টাইন রয়েছে যা ত্বকের রঙ হালকা করতে সাহায্য করতে পারে । এটি ত্বককে এক্সফোলিয়েট করতে এবং উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে এবং এটিতে একটি শীতল এবং ত্বক-প্রশান্তকারী প্রভাবও রয়েছে। এই ফেসপ্যাকটি ত্বককে নরম করতে এবং উজ্জ্বল করার জন্য চমৎকার।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ২ টেবিল চামচ দই বা দই। 
  • ১ টেবিল চামচ খাঁটি মধু। 
  • তোয়ালে। 

প্রক্রিয়া:

  • একটি মসৃণ মিশ্রণ পেতে উপাদানগুলি একত্রিত করুন।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। আপনার চোখের চারপাশে এড়িয়ে চলুন।
  • প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য মিশ্রণটি ত্বকে রেখে দিন।
  • হালকা গরম পানি দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২ বার।

৮. অলিভ অয়েল এবং মধু (Olive Oil And Honey):

অলিভ অয়েল জনপ্রিয়ভাবে ত্বক পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হয়। ত্বকে ম্যাসাজ করা হলে, এটি ত্বকের পোরস পরিষ্কার করতে এবং আপনার ত্বক থেকে ময়লা এবং বর্জ অপসারণ করতে সহায়তা করে। মধু মিশানোর পর, এটি আপনার ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রেকআউট প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ২ টেবিল চামচ মধু
  • ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল
  • তোয়ালে।

প্রক্রিয়া:

  • আপনি একটি মসৃণ মিশ্রণ না পাওয়া পর্যন্ত উপাদানগুলি  একসাথে মিশান ।
  • সামান্য গরম না হওয়া পর্যন্ত মিশ্রণটি প্রায় 20 সেকেন্ডের জন্য মাইক্রোওয়েভ এ গরম করুন।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। আপনার চোখের চারপাশে এড়িয়ে চলুন ।
  • মিশ্রণটি প্রায় ৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • হালকা গরম পানি এবং একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২ বার।

৯. হলুদ এবং মধু (Turmeric And Honey):

হলুদের থেরাপিউটিক উপকারিতা রয়েছে যার ফলে ব্রণ সহ ত্বকের অনেক সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করতে পারে। এটি প্রাচীনকাল থেকে এর অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই সংমিশ্রণটি আপনার ত্বককে পরিষ্কার রাখতে পারে, ব্রণের ব্রেকআউটকে কমিয়ে আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১ চা চামচ হলুদ
  • ১ চা চামচ খাঁটি মধু
  • ১ চা চামচ দই
  • তোয়ালে

প্রক্রিয়া:

  • আপনি একটি মসৃণ মিশ্রণ না পাওয়া পর্যন্ত উপাদানগুলি মিশিয়ে নিন ।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। 
  • মিশ্রণটি প্রায় ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • হালকা গরম পানি  এবং একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ১-২ বার।

১০. গোলাপজল এবং মধু (Rosewater And Honey):

গোলাপজল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট প্রদর্শন করে এবং S. aureus ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে বাধা দেয় যা ব্রণ এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ২ চা চামচ গোলাপ জল
  • ১ টেবিল চামচ মধু
  • তোয়ালে

প্রক্রিয়া:

  • আপনি একটি মসৃণ মিশ্রণ না পাওয়া পর্যন্ত উপাদানগুলি একসাথে মিশান। 
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। 
  • প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য মিশ্রণটি রেখে  দিন।
  • হালকা গরম পানি এবং একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ১-২ বার।

১১. মধু এবং চিনি স্ক্রাব (Honey And Sugar Scrub):

চিনি এবং মধুর স্ক্রাবের টেক্সচার আপনার ত্বকের উপরিভাগের সমস্ত মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। এটি আপনার ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। স্ক্রাবটি আপনার মুখকে আর্দ্রতা এবং পুষ্টি শোষণের জন্য প্রস্তুত করে, তাই এটি একটি ময়েশ্চারাইজিং মাস্কের সাথে ব্যবহার করা ভালো হবে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ২ টেবিল চামচ মধু
  • ৩ টেবিল চামচ চিনি
  • ১ চা চামচ অলিভ অয়েল
  • ১ চা চামচ লেবুর রস
  • তোয়ালে

প্রক্রিয়া:

  • একটি ঘন মিশ্রণ পেতে উপাদানগুলি একসাথে মেশান ।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে নিন।
  • আপনার মুখে মিশ্রণটি প্রয়োগ করুন এবং আপনার আঙ্গুলের ডগা দিয়ে বৃত্তাকার গতিতে আপনার ত্বকে আলতো করে স্ক্রাব করুন। মিনিট দুয়েক এভাবে করুন।
  • প্রথমে মৃদু উষ্ণ পানি  দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে নিন, তারপরে ঠান্ডা পানি দিয়ে।
  • একটি তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২-৩ বার।

১২. মধু এবং নারকেল তেল (Honey And Coconut Oil):

নারকেল তেলের প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি সোরিয়াসিস এবং এটোপিক ডার্মাটাইটিস এর মতো ত্বকের সমস্যাগুলোকে কমিয়ে আনতে পারে। এটি সব ধরনের ত্বকের সাথে খাপ খায় না,  বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের ধরন যাতে ব্রণ বাড়াতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১ চা চামচ নারকেল তেল
  • ১ চা চামচ মধু

প্রক্রিয়া:

  • দুটি উপাদান মিশ্রিত করুন। 
  • মিশ্রণটি আপনার মুখে ১০ মিনিটের জন্য ম্যাসাজ করুন।
  • এটি আরও ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে নিন।
  • সবশেষে একটি ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে শেষ করুন ।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২ বার।

১৩. অ্যাভোকাডো এবং মধু (Avocado And Honey):

অ্যাভোকাডো তেল পলিআনস্যাচুরেটেড এবং মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড সহ লিনোলিক এবং লিনোলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ। গবেষণায় দেখা গেছে যে এটির চমৎকার ক্ষত-নিরাময় ক্ষমতা রয়েছে  এবং কোলাজেনের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  •  অ্যাভোকাডো তেল এক চা চামচ
  • এক চা চামচ খাঁটি মধু

প্রক্রিয়া:

  • দুটি উপাদান একত্রে মিশ্রিত করুন।
  • এটি আপনার মুখে ১০ মিনিটের জন্য ম্যাসাজ করুন।
  • এটি আরও ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে নিন।
  • সবশেষে একটি ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে শেষ করুন ।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২-৩ বার।

১৪. ওটমিল এবং মধু (Oatmeal and honey):

কলয়েডাল ওটমিল (সিদ্ধ ওটস) ত্বকের জন্য একটি চমৎকার ক্লিনজিং এজেন্ট। এটি স্যাপোনিন সমৃদ্ধ যা ত্বক থেকে ময়লা এবং বর্জ অপসারণ করতে সহায়তা করে। এটি জ্বালাপোড়া কমিয়ে  আপনার ত্বককে ঠান্ডা করতেও সাহায্য করে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • সেদ্ধ ওটস ২ টেবিল চামচ
  • ১ টেবিল চামচ খাঁটি মধু

প্রক্রিয়া:

  • উভয় উপাদান মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  • এটি আপনার মুখে সমানভাবে লাগিয়ে  দিন।
  • ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন এবং তারপরে আরও ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • উষ্ণ পানি এবং তারপর একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • সবশেষে একটি ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে শেষ করুন। 

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২ বার।

মুখ ও ত্বকের জন্য মধু ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

খাঁটি ও ভেজালহীন মধু অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। খাঁটি কাঁচা মধুতে পরাগের অস্তিত্ব থাকতে পারে। তাই, যদি আপনার পরাগ এবং মৌমাছির বিষ থেকে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে আপনার মুখে মধু ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

এটি বিভিন্ন উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে, যেমন:

  • ফুসকুড়ি
  • চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়া
  • শ্বাস গ্রহণে জটিলতা
  • লাল লাল দাগ ও চুলকানিযুক্ত চর্মরোগ
  • হাঁচি
  • ত্বকে দাগ
  • গলা চুলকানি

মধু ব্যবহার করার আগে, এটি আপনার জন্য উপযুক্ত কিনা তা নিশ্চিত করতে একটি প্যাচ পরীক্ষা করুন। এছাড়াও, আপনার মুখে মধু ব্যবহার করে রাতারাতি ফেলে রাখবেন না। এটি আঠালো, এবং আপনি আরাম বোধ করবেন না। এটি ধুলো এবং অন্যান্য ময়লাকে আকর্ষণ করতে পারে যাতে আপনার ত্বকের অবস্থা আরো খারাপ করতে পারে।

Filed Under: Face Care Tips, SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)

৯টি সহজ উপায়ে শীতে তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিন

by রূপকথন ডেস্ক

তৈলাক্ত ত্বক মানেই হল মুখের উপর তেল চিটচিটে অনুভূতি এবং চকচকে দাগ যা কেউই চাইবে না।

অনেকেই মনে করেন যে শীতের শুষ্ক বাতাস অতিরিক্ত তেল দূর করে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এটি সত্য নয়। শীত হোক বা গ্রীষ্ম, তৈলাক্ত ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত।

এই  লিখাটি পড়ে ৯টি সহজ পদ্ধতিতে শীতকালে আপনার তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিতে পারবেন।


১. সঠিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন(Pick The Right Moisturizer):

আপনাকে নিয়মিত তেল-মুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে, এমনকি শীতকালেও।

বর্তমান বাজারের পণ্যগুলি ভিটামিন ই সমৃদ্ধ, যা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সেরা পণ্য। 

নিশ্চিত করুন যে আপনি প্রতিবার মুখ ধোয়ার রুটিনের পরে ময়শ্চারাইজ করুন কারণ এটি তেলের ভারসাম্য বজায় রাখবে।

২. ত্বক এক্সফোলিয়েট করুন(Exfoliate Your Skin):
আপনি নিয়মিত আপনার ত্বক পরিষ্কার এবং এক্সফোলিয়েট করে একটি স্বাস্থ্যকর ত্বক বজায় রাখতে পারেন।আপনি একটি স্ক্রাব প্রয়োগ করতে পারেন।

প্রায় ৩০ সেকেন্ডের জন্য এক্সফোলিয়েট করুন এবং তারপরে উষ্ণ – গরম নয় – জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনার ত্বকে কাটা, খোলা ক্ষত বা রোদে পোড়া হলে এক্সফোলিয়েটিং এড়িয়ে চলুন।

৩.পেট্রোলিয়াম জেলি এড়িয়ে চলুন(Avoid Petroleum Jelly):

আপনার মুখ এবং ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি প্রয়োগ করা এড়িয়ে চলুন।

ফাটা ঠোঁটের জন্য, মেডিকেটেড বা ভেষজ লিপ বাম ব্যবহার করুন।

৪.টি ট্রি অয়েল(Tea Tree Oil):
বেশিরভাগ মানুষ শীতকালে গোসল করার জন্য গরম জল ব্যবহার করেন। গরম জল আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে ফেলতে পারে। এটা প্রমাণিত যে কয়েক ফোঁটা চা গাছের তেলের সাথে গরম জল ব্যবহার করা আর্দ্রতার ক্ষতি পূরণ করে এবং ত্বককে কোমল এবং অনেক নরম রাখতে সাহায্য করে।

৫.হাইড্রেটেড থাকুন(Stay Hydrated):
প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস জল খাওয়ার চেষ্টা করুন। এটি আপনাকে আপনার ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে এবং আপনার ত্বকের ছিদ্র থেকে টক্সিন এবং ব্যাকটেরিয়া বের করে দেয়।

৬.তেল-মুক্ত মেকআপ পণ্য ব্যবহার করুন(Use Oil-Free Makeup Products):

ফাউন্ডেশন কেনার সময়, নিশ্চিত করুন যে আপনি একটি তরল ক্রিম বেছে নিন যা তেল-মুক্ত এবং আদ্র । 

নিয়মিত মেকআপ পণ্যগুলিতে প্রাকৃতিক তেল থাকে যা আপনার ত্বকের জন্য ভাল নয়।

পরিবর্তে, ম্যাট-ইফেক্ট সহ পাউডার ভিত্তিক পণ্যগুলি ব্যবহার করুন কারণ সেগুলি দীর্ঘস্থায়ী হয়।

৭.আর্দ্রতা সমৃদ্ধ ত্বকের পণ্য ব্যবহার করুন(Use Moisture-Rich Skin Products):

চেষ্টা করুন সাবান এর পরিবর্তে বডি ওয়াশ ব্যবহার করতে। আর আপনি যদি সাবান ব্যবহার করতেই চান তবে নিশ্চিত করুন যে এতে যেন ময়শ্চারাইজিং উপাদান থাকে। গ্লিসারিন এবং প্রাকৃতিক তেলযুক্ত সাবান শরীরের জন্য একটি ভাল বিকল্প। তবে মুখের জন্য, তেল-মুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। 

৮.পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করুন(Use A Clean Towel):

একটি পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করলে তৈলাক্ত ত্বক প্রতিরোধ করা যায়। এটি ব্রেকআউটের পরিমাণও কম করে। আপনার মুখ ধোয়ার পরে, আপনার ত্বক শুকিয়ে নিন এবং আপনার ত্বকে ঘষবেন না। একই তোয়ালে ব্যবহার করলে তোয়ালে থাকা ব্যাকটেরিয়া আপনার মুখে ফিরে আসবে। 

এটি এড়াতে, প্রতি সপ্তাহে তোয়ালে ধুয়ে পরিষ্কার করে ব্যবহার করুন।

৯.ত্বক পরিষ্কার করুন, টোনিং করুন এবং ময়শ্চারাইজ করুন(Cleanse, Tone, And Moisturize):

রুটিন ক্লিনজিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং আপনার ত্বকের সমস্ত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে এবং প্রতিটি ঋতুতে আপনার সেগুলি করা অপরিহার্য। নিশ্চিত করুন যে আপনি ক্লিনজিং মিল্কের চেয়ে আদ্র ক্লিনজার এবং টোনার কিনছেন কারণ এটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ক্লিনজিং মিল্ক ভাল নয়।

গ্রীষ্ম হোক বা শীত, আপনার তৈলাক্ত ত্বক থাকেই। সুতরাং, এটিকে আপনার চিরশত্রু হিসাবে বিবেচনা করার পরিবর্তে, এটির সাথে মিত্র হওয়ার চেষ্টা করুন, তাহলে জিনিসগুলি আরও মসৃণভাবে কাজ করবে। যত্ন সহকারে এই টিপসগুলি অনুসরণ করুন।

Filed Under: Oily Skin

শীতে পা এবং গোড়ালীর যত্নে প্রয়োজনীয় ৫ টি উপায়

by রূপকথন ডেস্ক

শীতকালে বেশির ভাগ সময়  আমাদের পা উষ্ণ মোজা অথবা বদ্ধ জুতা পরিহিত থাকে। তাই এসময় আমাদের পায়ের বিশেষ যত্নের কথা ভুলে গেলে একেবারেই  চলবে না। শীতে পায়ের যত্নে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে এবং নীচে আমরা সেই ঠান্ডা শীতের দিনে আপনি আপনার পায়ের যত্ন নিতে পারেন এমন কিছু উপায় তালিকাভুক্ত করেছি ।

নীচে কয়েকটি প্রয়োজনীয় শীতকালীন পায়ের যত্নের টিপস দেওয়া হল।

১. শীতকালীন পায়ের যত্নে ময়েশ্চারাইজিং অপরিহার্য:

ঠাণ্ডা বাতাস আপনার ত্বককে শুকিয়ে দেয়, এবং আপনি যখন আপনার শরীরের অন্যান্য অংশকে ময়শ্চারাইজ করেন, আপনি আপনার পায়ের কথা ভুলে যেতে পারেন। 

শুষ্ক ত্বকের কারণে ফাটল দেখা দিতে পারে যা অত্যন্ত অস্বস্তিকর এবং বেদনাদায়ক হতে পারে, তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যেগুলি প্রায়শই ফাঙ্গাল সংক্রমণ বিকাশের প্রথম কারণ। 

একটি ভাল মানের ফুট বাম দিয়ে প্রতিদিন ময়শ্চারাইজ করার মাধ্যমে ত্বকের  চামড়া ফেটে যাওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারেন ।

২.শীতে পায়ের যত্নে পা উষ্ণ রাখার পাশাপাশি  খোলামেলা রাখা অত্যন্ত জরুরী :

শীতকালে নিম্ন তাপমাত্রার ফলে উল বা পশমি  মোজা এবং মোটা বুট/কেড্স জুতা বেশি ব্যবহার করা হয়। 

যদিও এটি শরীর কে উষ্ণ রাখার জন্য খুবই প্রয়োজন,তবে আপনার পায়ের স্বাভাবিক বাতাস চলাচল করতে দেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাই  আপনি যখনি আপনার বাড়ির ভিতরে থাকবেন এবং উষ্ণ বোধ করবেন, তখনই আপনার জুতো এবং মোজা খুলে ফেলুন।

সারাদিন আপনার পা জুতার মধ্যে আটকে রাখলে প্রচুর ঘাম হয়, যা পায়ের ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এছাড়াও পা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর জন্যও দায়ী।

৩.পায়ের যত্নে অন্যতম উপায় পা পরিষ্কার রাখা

শীতকালে আপনার পা প্রতিদিন সাবান (বা ক্লিনজার) এবং উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে ভুলবেন না। পা  ধোয়ার পরে এবং মোজা বা জুতা  পরার আগে খুবই ভালোভাবে শুকানো উচিত।

এছাড়াও শীতকালে উষ্ণ পানিতে ইপ্সম(Epsom salt) লবণ ব্যবহার করে গোড়ালি সহ পা কিছুক্ষন ভিজিয়ে রাখলে পা ফাটা একেবারেই হয় না।

৪. শীতের জন্য সঠিক জুতো বেছে নিন

এমন জুতা পরুন যা আরামদায়ক হয় এবং খুব টাইট না। আঁটসাঁট জুতা রক্তের প্রবাহকে কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে পা এবং গোড়ালির চামড়া ফেটে  যেতে পারে।

নিশ্চিত করুন যে আপনি একটি মোটা সোলড জুতা পরেছেন যাতে বাতাস প্রবাহিত করতে পারে  এমন উপাদান রয়েছে। এটি আপনার পা সুরক্ষিত এবং উষ্ণতা  নিশ্চিত করবে।

৫.নেইল পলিশ ব্যবহার করবেন না

শীতের মাসগুলি নখে নেইল পলিশে আচ্ছাদিত না করে আপনার নখগুলিকে স্বাভাবিক ভাবে থাকতে দেওয়াই আদর্শ কাজে ।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, শীতের মাসগুলিতে আপনার পায়ের যত্ন নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি আপনার পা দেখা না গেলেও নিশ্চিত করুন যে তা পরিষ্কার, উষ্ণ এবং ভালভাবে আর্দ্র থাকে। 

আশা করি, এই শীতকালীন পায়ের যত্নের টিপস আপনাকে সহায়তা করবে।

Filed Under: SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)

রমজানে যেভাবে ত্বকের যত্ন নেবেন

by লামিয়া তানজিন মাহমুদ

খোশ আমদেদ মাহে রমজান। যে মাসটির তাৎপর্য রয়েছে সারা জাহানের সকল মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে। ইবাদাত,  পবিত্রতা অর্জন এবং তা রক্ষার যে তাগিদ এ মাসে দেখা যায় তা অন্যান্য মাসে কিছুটা হলেও বিরল দৃশ্যে রূপ নেয়, অর্থাৎ দেখা যায় না। ঠিক তেমনি, অন্যান্য মাসে যে অনভ্যস্ততায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে মানুষ, এ মাসে তাও হয়ে ওঠে না। তার উপর শারীরিক কিছু ধকল তো আছেই।

সব মিলিয়েই কিছু নিয়ম যোগ হওয়া, আর কিছু অভ্যেস সুযোগের অভাবে বাদ হয়ে যাওয়া এই মাসটায় কিছুটা আলসেমি, সময়ের অভাব, কাহিল কিংবা দূর্বলতার কারণেই শরীর সহ ত্বকটা কিছুটা হলেও অনাদরেই পড়ে যায়। আজকের লেখন এর বিষয় এ নিয়েই।

প্রসঙ্গ নিয়ে স্বল্প আলাপনঃ

রমজান মাস। বছরের পবিত্রতম এই মাসটিতে খাওয়ার পরিমাণ এবং সময়ে থাকে বড্ড হেরফের। প্রাত্যহিক যে নিয়মে আমাদের দেহ ঘড়ি চলে, সেই নিয়মের দুনিয়ায় চলে আসে আকাশ-পাতাল পরিবর্তন। ভোর রাতের সাহরি আর সন্ধার সময়ে ইফতার। মাঝের এই দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকাটা অতটা গুরুত্বপূর্ণ না হলেও পানি পান না করে থাকাটা কিন্তু আসলেই সমস্যার একটি বিষয়।

এটা আপনারা জানেন, আমরা যতই খাই, আসল কাজ কিন্তু করে পানি। আর রমজান মাসে এই পানির ঘাটতিই দেখা দেয় বেশি। যার ফলে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, একই সাথে ত্বকের নানান সমস্যাও দেখা দেয়। আর এ কারণেই রমজান মাসে শরীর সুস্থ রাখার সাথে সাথে নিজের ত্বকের দিকেও একটু মনযোগী হতে হবে বইকি।

প্রয়োজন কিছু যত্নের। যে যত্ন ত্বকের নিস্তেজ এবং শুষ্কতা দূর করে দিয়ে স্বাস্থ্যকর, কোমল, উজ্জ্বল করে তুলবে। আর যেহেতু এবারের রমজান মাসটা ভরা চৈত্রে পালন করতে হচ্ছে এবং হবে, তাই দরকার সতর্কতার সাথে সচেতনতা। কারণ আপনার সুস্থতা দরকার। ইবাদাতে মনযোগী হতে গেলেও সুস্থতা আবশ্যক। হোক তা শরীরের কিংবা ত্বকের।

রমজানে করণীয়ঃ

কিছু অভ্যেসের আমদানি করতে হবে। অভ্যেসের আমদানির কারণ আপনার সুস্থতা, আপনার শরীর ও ত্বকের সুস্থতা। এ কারণে একটু জানয়ে দতে চাই চলমান এই রমজানে কী করবেন আর কী করবেন না। প্রথমেই জানিয়ে দেই, কী কী করবেন না।

এই রোজায় যা যা মোটেও করবেন না

মেইক আপ!

ইবাদাতের মাস। অযু সমেত পাক পবিত্রতা বজায় রাখার পুরো উলটো কাজ হচ্ছে মেইক আপ। বুঝিয়ে বলছি-

স্বাভাবিকভাবে ভাবুন। দীর্ঘসময় পানিহীন থাকার দরুন আপনার ত্বকে এটা স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে যে, পানির ঘাটতি আপনার শরীরে বিদ্যমান। সেখানে মেইকআপের মতো কৃত্রিম কিছু প্রসাধনীর ব্যবহার আপনার ত্বকের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য মোটেও প্রযোজ্য নয়। শীতকালে রূক্ষ হয়ে যাওয়া ত্বকের উপর পাওডার মাখালে যেমন ভেসে ভেসে থাকে, এই রমজানে মেইকআপও তেমনি ভেসে ভেসে থাকে। যে কারণে কোন ধরণের শুষ্ক প্রসাধনী ব্যবহারে যাবেন না। এগুলো ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে।

ভাজা পোড়া খাবার!

চৈত্রের রোদের বৈশিষ্ট্য কী জানেন? এর কড়া তেজ! মানে প্রখর রোদ। এই রোদে মশলাদার, তেলে ভাজা খাবার খেতে ভালো লাগে? না-কি লাগার কথা বলুন তো? আপনি যতটা তেলে ভাজা খাবার কিংবা মশলাদার খাবার খাবেন, অতটা হজম হতে প্রচুর পানির দরকার হয়। এতে চাপ পড়ে কিডনি আর পাকস্থলীর উপর কারণ এই পানি আর খাবার এর প্রক্রিয়া এরাই করে থাকে।

খেয়াল করে দেখবেন, গরমকালে উচ্চ প্রোটিন, তেলে ভাজা, মশলাদার খাবার খেয়ে আপনার মোটেও স্বস্তি হবে না। বরং এক ধরণের অজানা অস্বস্তিতে দিনভর ভুগতে থাকবেন একই সাথে ক্লান্তিতে ছেয়ে থাকবে পুরো শরীর। এছাড়াও তেলে ভাজা খাবারগুলো কিন্তু ত্বকের নানারকম সমস্যার কারণ।

আদ্রতা!

রমজান মাসে অতিরিক্ত রোদ কিংবা ঠাণ্ডা দুটোই আপনার ত্বকের জন্য ভিষণ রকমের ক্ষতিকর। অতিরিক্ত রোদে অনেকের হিটস্ট্রোক হওয়ার ঘটনা বিরল নয়। আবার অনেকক্ষণ এসির মধ্যে থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রাও অসহ্যকর হয়ে উঠতে পারে।

ঘুমত্যাগ!

অনেকের বদভ্যাস আছে রাত জাগার। রাতটা জেগে কাটিয়ে সাহরিতে কোনমতে খেয়ে, কোন রকমের একটু ঘুম দিয়েই সকালে হয় ক্লাশে ছোটা নয় কর্মস্থলে ছোটা! ফলশ্রুতিতে চোখের তলে কালি, চোখ ফোলা, চেহারায় তেলতেলে বিধ্বস্ত ভাব লক্ষ্যনীয়।

এই রোজায় যা যা করবেন!

কী কী করতে পারবেন না, সেই তালিকা তো জানা হলো। এবার একটু জেনে নেওয়া দরকার এই দাবদাহে রোজা রেখে কী কী করতে পারবেন এবং করবেন। তো চলুন জেনে নেই –

পানি!

পানির বিকল্পই নেই, বিশ্বাস করুন। সারাদিন পানি ছাড়া, ভাবা যায়? সেখানে ইফতার বলুন কিংবা সাহরি, পানি এবং পানি জাতীয় খাবারের ব্যবস্থা রাখাই হবে সবচেয়ে ভালো উপায়। চেষ্টা করবেন ইফতারের পর থেকে সাহরি পর্যন্ত ২.৫-৩ লিটার পানি খেতে।

ডাবের পানি, লেবুর শরবৎ কিংবা আপনার সাধ্য অনুযায়ী যে-কোন ফলের জুস বানিয়ে নিতে পারেন। খেতে পারেন ফল, সালাদ, সবজি, শাক। এগুলো শরীরে পানি ধরে রাখে। শরীরে পানির প্রবাহ ঠিক থাকলে ত্বক সুস্থ থাকে আর এতে করে ত্বকের নেতিয়ে পড়াটা কমে আসবে।

খাদ্যতালিকা!

রমজান মাস। ইবাদাতের এই মাসটায় ইবাদাত নিয়ে মাথা ঘামানোটাই বেশি জরুরি, তাই না পাঠক? কিন্তু আমাদের অনেকেই এই সময়টায় ভুড়িভোজে মেতে ওঠেন। এই বিষয় থেকে একটু সরে আসা প্রয়োজন আছে। একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, আপনি যত ভারি খাবার খাবেন আপনার শরীরের তত পরিশ্রম হবে সেটা হজম করার জন্য।

এজন্য সহজপাচ্য কিছু খাবার বরাদ্দ রাখুন সাহরি আর ইফতারের জন্য। আঁশযুক্ত খাবার রাখুন তালিকায়। এ ধরণের খাবার শরীর, ত্বক দুইএর জন্য বিষম উপকারি। অন্ত্র তো ভালো থাকেই, সেই সাথে ত্বকেও দারুণ পুষ্টি জোগায়। ফল (হোক তা দেশি বা আপনার সাধ্য অনুযায়ী), বাদাম, খেজুর, সবুজ ও রঙিন শাক-সবজি রাখুন তালিকায়। এগুলো আপনার শরীরকে ঠিক রাখতে একদম যথেষ্ট। খেতে পারেন সেদ্ধ করা খাবার। বিশেষ করে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই যুক্ত সবজি।

আরেকটা তথ্য দেই, দুধ খাওয়ার অভ্যেস থাকলে সাহরিতে এবং ইফতারে দুধ খেতে পারেন। দুধ খাওয়াতে সমস্যা মনে হলে দই খেতে পারেন। এটা খুবই উপকারি। এই গরমে দই আপনার জন্য শান্তির পাশাপাশি স্বস্তিদায়ক একটা খাবারই হবে বটে! প্রোটিন তো পাবেন, একই সাথে সারাদিনের কর্মশক্তিও পাবেন।

পরিধেয় বস্ত্র হোক সুতির!

গরমের তেজ দেখেছেন? গোসল করে বের হলেও এই তেজে শরীর আবার ঘেমে নেয়ে ওঠে। কি তাই তো? এই অতিরিক্ত গরম, সাথে তীব্র এবং অসহনীয় জ্যাম, তার উপর সিয়াম পালন করে দীর্ঘ সময় থাকাটা ধকলের বিষয়ই বটে। এই গরম, এবং এর ফলে হওয়া অতিরিক্ত ঘাম দুটোই কিন্তু শরীর এবং ত্বকের জন্য বেশ খারাপ।

আবার শুধু ঘাম বের হয়েই ক্ষান্ত নয়, ঘামাচি সমেত কিছু ফোঁড়া, চর্মরোগও দেখা দেয় অনেকের। বিশেষ করে যারা কর্মজীবী আছেন। এই গরমে যাদের বের হতে হচ্ছে বাইরে। তারা একটু সচেতন থাকবেন। অবশ্য এই রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খোলা আছে। তাই কর্মজীবী সমেত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মূলত, বাইরে যারা বের হচ্ছেন তাদের সবার ক্ষেত্রেই এই বিষয়গুলো খাটে। আর তাই, সমাধান আবশ্যক। সমাধান আপনার পরিধেয় বস্ত্রে। সুতি ব্যবহার করুন। শরীর সতেজ থাকবে।

ত্বক কথন!

দীর্ঘসময়ের সিয়াম পালনে শরীরের যে অংশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দৃষ্টিগোচর হয়, তার নাম ত্বক। আমরা হয়তো হাল ছেড়েই দেই, একটা মাসের ব্যাপার বলে। কিন্তু যখন আপনি ঠিক করবেন নিজেকে যত্নে রাখবেন তখন এই যত্নের ব্যপ্তিকাল সারা বছরের জন্যই হওয়া চাই। তাই না? একটু প্রয়োজন আছে যত্নের। আর এ জন্যই ঘরোয়া কিছু বিষয় জানিয়ে দিচ্ছি-

ময়েশ্চারাইজার!

ত্বক কী পরিমাণে শুষ্ক হয়ে থাকে, এ তো এতদিনের সিয়াম পালনে আপনারা ইতোমধ্যে জেনে গিয়েছেন। মেইকআপও বেমানান এই শুষ্ক ত্বকে। তবে করণীয় কী বলুন তো? ময়েশ্চারাইজার! জি, এটাই একমাত্র জিনিস যা আপনার ত্বককে সজীব রাখবে। ত্বক ভালো করে ভিজিয়ে নিয়ে তবেই ময়েশ্চারাইজার মাখাবেন।

অথবা গোসলের পর মাখাতে পারেন। কিংবা বাইরে বের হওয়ার আগে মাখিয়ে নিতে পারেন। আবার ফিরে এসে ভালো করে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার মাখয়ে রাখতে পারেন। ত্বক উজ্জ্বল তো থাকবেই, সেই সাথে শুষ্কতাও অতটা কাবু করতে পারবে না।

এখন একটা ব্যাপার, কোন ময়েশ্চারাইজার মাখাবেন! বাজারে তো অভাব নেই। অলিভ ওয়েল মাখাতে পারেন। এটা খুবই ভালো ময়েশ্চারাইজার। ধরুন, অলিভ ওয়েল নেই আপনার। কী করবেন? নারিকেল এর খাটি তেল মাখাবেন। সবচেয়ে উৎকর্ষ ময়েশ্চারাইজার কিন্তু এই নারিকেল তেলই।

ঘুমের বিকল্প নেই!

রমজান মাস মানেই ঘুমের সেই রকমের হেরফের। এই রাত জাগা, দিনে ছোটা, এই করে ঘুমের যে দফারফা হচ্ছে তা কিন্তু আমলে নিচ্ছে না কেউই। হয়তো কেউ নিচ্ছে কিন্তু সংখ্যাটা খুব কম, নগন্য। মোট কথা, ঘুমাবেন। রাতেই ঘুমাবেন। দিনের ঘুমের চাইতে রাতের ঘুমটা ঢের ভালো।

কারণ আমাদের শরীরের যে ক্ষয়ক্ষতিগুলো হয়, সেগুলো রাতেই পূরণ হয়। আর রাত ৯ টার পর থেকে যে ঘুম হয়, সে ঘুমের এক ঘন্টা মাঝরাত কিংবা দিনের ৩ ঘন্টা ঘুমের সমান। সুতরাং বুঝতেই পারছেন! ১০ টার মধ্যে যদি আপনি ঘুমিয়ে যেতে পারেন, ৩ টার মধ্যে এমনিতেই উঠতে পারবেন। ঝরঝরে একটা অনুভূতি নিয়ে তাহাজ্জুদ পড়বেন কিংবা সাহরি যখন খাবেন, তখন যেই প্রশান্তি অনুভব করবেন সেটা কিন্তু রাতে না ঘুমিয়ে একদমই পাবেন না। সুতরাং ঘুমাতে হবে। ৮ ঘন্টা কমপক্ষে।

গোসল করুন!

শীতকালে ঠাণ্ডার ভয়ে গোসল বাদ দেওয়া জাতি আমরা, তাই না? আচ্ছা গরমে ক’বার গোসল করি? কমপক্ষে দুইবার গোসল করুন। সকালে, রাতে। বাইরে যারা বের হোন, তারা বের হওয়ার আগে গোসল করে বের হবেন।

বাসায় ফিরে এসে আবার গোসল করবেন। এতে করে এই দাবদাহে রোজার কারণে ক্লান্তিটা আপনাকে অতটা স্পর্শ করবে না। এবং ত্বকটাও পরিষ্কার থাকবে। আর একটা বিষয় মনে করিয়ে দেই, গোসল করে ময়েশ্চারাইজার মাখাতে ভুলবেন না।

যত্ন নিন ঠোঁটের!

শীতকালে ঠোঁট শুকিয়ে যায়, এ তো জানা কথা। লিপবাম, লিপস্টিক, কতকিছুই তো মাখিয়ে রাখি। আচ্ছা এই রোজায় ঠোঁট শুকালে কী করেন? রোজাভঙ্গের ভয়ে অনেকেই কিছুই মাখাতে চান না ঠোঁটে। ফলে কী হয় জানেন? ঠোঁট ফেটে চৌচির!

অনেকের তো রক্তও বের হয় ঠোঁট দিয়ে। ভয়ংকর বিষয় না এটা? একটু ভিজিয়ে নিয়ে আলতো করে তেল কিংবা ভেসলিন মাখিয়ে রাখলে ক্ষতি নেই। এটা তো আর খাওয়ার জিনিস নয় যে আপনি খেয়ে নিবেন, তাই না?

আরোও কিছু টিপস!

ত্বক সতেজ রাখার জন্যই তো আয়োজন আমাদের। আর এই সতেজতা আসবে যত্নে। যত্ন নিতে প্রয়োজন প্রাকৃতিক কিছু বিষয়ের যা টিপস আকারে দিচ্ছি। ঘরোয়া উপকরণও বলতে পারেন। একটু দেখে নিন-

★ এই ঋতুতে পাকা পেপে কিন্তু দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। ধরুন ইফতার কিংবা সাহরির জন্যই আপনি কাটছেন। একটুখানি নিয়ে একটু পিষে নিন। মুখে, গলায়, হাতে পায়ে মাখিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। পাকা পেপে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

আপনি চাইলে আরও কিছু উপকরণ বাড়াতে পারেন। পাকা পেপের সাথে কিছুটা লেবুর রস আর চালের গুড়া মিশিয়ে একটা মিশ্রণ বানাতে পারেন। এটা মুখে মাখিয়ে ২০ মিনিট রেখে তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নেবেন। ত্বক উজ্জ্বল হবে। নেতিয়ে পড়া ত্বকে জৌলুশ দেখতে পাবেন।

★ ত্বকে মাখাতে পারেন দুধ। অথবা দুধ আর গোলাপজলের মিশ্রণ। ত্বকের তৈলাক্তভাব দূর করে এই মিশ্রণটি।

★ আপনার কাছে চন্দন কাঠের গুড়া থাকলে এই মিশ্রণটি প্রয়োগ করতে পারেন।

কিছুটা চন্দন গুড়া, হলুদ গুড়া আর গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে মাখাবেন। এটা ব্রনের জন্য খুব উপকারি। ব্রনের দাগও দূর করে এই মিশ্রণ। নিয়মিত না হলেও সপ্তাহে ২/৩ বার ব্যবহার করতেই পারেন।

★ শুষ্ক ত্বক যাদের, তারা টমেটো, পাকা কলা, শশা আলাদা আলাদা ভাবে অথবা ৩ টা একসাথে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে মাখাবেন। ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নেবেন।

★ বাসায় পেয়াজু, বেগুনি কিংবা আলুর চপ তো হয়? বা না হলেও, মশুরের ডাল আর বেসন তো থাকার কথা, তাই না? মিহি করে ডাল বেটে মুকজে মাখিয়ে রাখবেন। ত্বকের ময়লা দূর করে ডাল ও বেসন। শুষ্কভাবও দূর করে দিয়ে কোমল আর সজিব করে তোলে।

★ এই পয়েন্টটি তাদের জন্য যাদের রোজ বের হতে হচ্ছে এই গরমে। রোদে পুড়ে যাওয়া ত্বকের জন্য একটা অসাধারণ তথ্য দিচ্ছি। বেকিং পাওডার কিংবা বেকিং সোডার সাথে আপনারা পরিচিত আছন। কিছুটা পানির সাথে এই পাওডার গুলিয়ে নিন। একটা পরিষ্কার কাপড় ঐ পানিতে ভিজিয়ে নিন। এখন এই কাপড় দিয়ে রোদে পোড়া জায়গাগুলো আলতো করে মুছে নিন। কয়েকদিন বাদে নিজেই পার্থক্য লক্ষ্য করুন।

★ রমজানে চোখের নিভে গর্ত হয়ে যাওয়া সহ চোখের নিচে কালি জমাটা খুবই সাধারণ একটা বিষয়। আলু এবং শসার রস মাখাবেন কালি পড়ে যাওয়া জায়গায়।

★ ত্বকের পাশাপাশি চুলও কিন্তু রুক্ষ হয়ে যায়, খেয়াল করেছেন? সপ্তাহে অন্তত ২ দিন তেল লাগান। রুক্ষতা কমবে।

★ এই গরমে অনেকের চুল কিন্তু খুব ঘামে। একই সাথে ঘেমে যায় মাথার ত্বক। এক্ষেত্রে লেবুর খোসা পেস্ট করে মাথায় মাখাবেন, চাইলে কিছুটা আদা দিতে পারেন। কিংবা লেবুর রস মাথায় মাখাতে পারেন। এই মিশ্রনটিকে মাথায়  ১ ঘন্টা  রেখে ধুয়ে নিবেন শ্যাম্পু দিয়ে। এটা চুল এবং মাথার মধ্যে থাকা ফাংগাল ইনফেকশন দূর করে।

★ অতিরিক্ত রুক্ষ হয়ে যাওয়া চুলে পাকা কলা মাখাতে পারেন। এটা চুলের সতেজতা ফিরিয়ে আনে।

একটা বিষয় খেয়াল করেছেন? আপনি মুখে বা চুলে যাই মাখুন না কেন, তা ধুতে নিতে ঠাণ্ডা পানির কথা বলা হয়েছে। এই ঠাণ্ডা পানি মোটেও বরফ মেশানো পানি নয়। বরং ঘরোয়া তাপমাত্রায় থাকা স্বাভাবিক পানি। অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা কোন পানিই কিন্তু আমাদের ত্বক কিংবা চুলের জন্য ভালো নয়। চলমান রমজান ভালো কাটুক সবার, সুস্থতায় আর সজীবতা থাকুক বিশ্ব।

 

 

 

 

 

 

Filed Under: Face Care Tips, Skin Care Ideas

মুখ ধোয়ার সময় কোন ভুলগুলো আপনার ত্বককে ড্যামেজ করতে পারে?

by লামিয়া তানজিন মাহমুদ

এইতো বেশ কিছুদিন ধরে শীতের একটা আবেশ ছড়িয়ে পড়লো পুরো দেশে। যদিও এখনকার শীত অতটা জাঁকালো নয়, তবুও! অন্দরমহলে রাজত্ব বিস্তার করে তবেই না বসন্তকে আসার সুযোগ করে দিলো বিদায়ী ঋতু শীতকাল। আর বসন্তটাও বলিহারি! তারিখ না জানলে তো বোঝাই দায় যে চলমান ঋতুটার নাম বসন্ত। ঘাবড়াচ্ছেন? ভাবছেন শিরোনাম বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ষড়ঋতুর রচনা লিখতে বসেছি? একদম না।

আজকের আলাপনের বিষয় ত্বক নিয়ে। মুখ ধোওয়ার সময় প্রায়শই আমরা কিছু ভুল করি, যা আমাদের ত্বককে ভেতর থেকে মলিনতায় ঢেকে দেয়। ভুলগুলো পাকাপোক্ত হয় এই ঋতুগুলোর খেয়ালেই। ভাবছেন, কেমন করে? চলুন খোলাসা হয়ে যাক –

ঋতু ভিত্তিক মুখের যত্ন নিয়ে একটু কথা

আমরা যে জাতি হিসেবে অলস, এ তো নতুন নয় বরং জানা কথা। তাই না? কতটা অলস এ আর বলতে! ধরুন, মুখের যত্ন কিংবা সাধারণ মুখ ধোওয়া নিয়েও যদি বলি, সেখানেও কিন্তু আমাদের আলসেমি তুঙ্গে! এমনও হয়, শীতকালে ঠাণ্ডার ভয়ে পানিই ছোঁয় না অনেকে। আর গরমে ঘষে-মেজে পারলে ছাল-চামড়া তুলে নেয়! প্রশ্ন হলো, এগুলো কি আদৌ নিয়ম?

নিয়ম অনিয়মের পালাক্রমে একটা নিয়ম জানিয়ে রাখি – মুখ ধোওয়ার মতো সাধারণ বিষয়ে কিছু নিয়ম কিন্তু আছে। আর এই নিয়ম এক দুই দিনের তো নয়ই বরং ঋতু ভেদে সবসময় নিয়ম মেনেই নিয়মিত মানতে হয় এই নিয়ম। যার অনিয়মে তাৎক্ষণিক সমস্যা সহ দীর্ঘকালীন সমস্যারা দল বেঁধে হাজির হতে একটুও সময় নেয় না।

Common Mistakes Made When Washing Your Face

অনীহা? না আলস্য?

অনেকে আলস্যের কারণে হোক আর গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই হোক, মুখ ঠিকঠাক ধুতেই চান না। কোন রকম পানির স্পর্শ নিয়েই দায় সারেন। এ কি আদতে মুখ ধোওয়া? আমরা অনেকে নিয়ম জানি না অথবা বলা যায়, জানলেও মানি না। অথচ সমস্যার মুখ দেখলেই আয়োজন করে ভাবতে বসে যাই – “কী হলো? কেন হলো?” ওদিকে সমাধান যে সমস্যার জন্ম নেওয়ার আগেই করা যেতো, তা কিন্তু ভুল করেও ভাবতে যাই না। আর এতে ফলাফল কী দাঁড়ায় জানেন? ব্রন, বলিরেখা, বয়সের ছাপ, শুষ্কতা, তেলচিটে ভাব ইত্যাদি। কি? সমস্যাগুলো পরিচিত লাগছে না? এই সমস্যার শুরুটা কোত্থেকে হয়, জানেন? আলস্যের দাপটে ভুলভাবে মুখ ধোওয়া থেকে।

মুখ ধোওয়ার কিছু বিষয় যা আপনার জানা প্রয়োজন

একটা মজার তথ্য কি জানেন? অনেকে তারুণ্য বোঝাতে সাজসজ্জা করেন। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঠিকভাবে যদি মুখ ধোওয়া হয়, তাহলে সেই ধোওয়াটাই ত্বককে বেশ ভালো রাখে এবং তারুণ্য বাড়িয়ে তোলে। আর এজন্য একটা সুন্দর ত্বক ধারণ করতে প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাসের। যেন-তেন নয়, মুখ ধোওয়াকে ভাবতে হবে অবশ্য করণীয় কাজ হিসেবে। কারণ দরজায় উঁকি মারছে গ্রীষ্ম। খেয়াল করে দেখেছেন? বাতাসে আদ্রতা কিন্তু এখন মিশ্র।

এই মুখ ঘামাচ্ছে তো এই ত্বক খুব করে টানছে। বাড়তি হিসেবে যোগ হচ্ছে মুখে বাড়তি তেলের আগমন। বিরক্তিকর ব্যাপারই বটে, তাই না?  তবে যত বিরক্তিকরই হোক না কেন, এসব কারণে বারবার মুখ ধোওয়ার কথা যদি ভেবে থাকেন তবে তা বেমালুম ভুলে যান।

কারণ প্রতিটা ত্বকে একটা স্বাভাবিক মাত্রার তেলতেলে ভাব থাকে, যাকে ময়েশ্চার বলে। বারবার পানির স্পর্শ পেলে এই তেলতেলে ভাবটা চলে যায়। এতে করে ত্বক খুব দ্রুতই তেল হারিয়ে রুক্ষ, শুষ্ক, প্রাণহীন হয়ে যায়। এবার তাহলে প্রশ্ন, বারবার মুখ ধুয়ে নিলে ত্বকের ক্ষতি, আবার কম ধুলেও ক্ষতি, তাহলে দিনে কিংবা রোজ কতবার মুখ ধোওয়া উচিৎ আমাদের?

আর কীভাবে?

প্রশ্নেরা উঁকি মারছে কি?

চলুন জেনে নেওয়া যাক :

মুখ ধোওয়ার সময় যে ভুলগুলো আপনার ত্বককে মলিন করে তোলে (Common Mistakes Made When Washing Your Face)

১. মুখ কীভাবে ধুবেন?

অনেকে মুখ ধুতে ক্লিনজার ব্যবহার করেন। খুব ভালো বিষয় এটা। তবে এখানে একটু খেয়াল রাখার বিষয় আছে। আর তা হলো, যে ক্লিনজার দিয়েই মুখ ধুয়ে নেন না কেন, সেই ক্লিনজার যেন মুখ ধোয়ার পরে ভালোভাবে ধুয়ে চলে যায়। অর্থাৎ ত্বকে সেই ক্লিনজারের বিন্দুমাত্র কণাও যাতে আঁটকে না থাকে।

অনেকে তাড়াহুড়োয় কোনমতে ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নেন। এতে ক্লিনজারের আঠালো অথবা পিচ্ছিল বিষয়টা মুখে আঁটকে থাকে। এতে কী হয় জানেন? ত্বকে আঁটকে থাকা এই ক্লিনজারই আরও বেশি ধুলা, বালি, ময়লা টেনে আঁটকে রাখে। আর তাতে কিন্তু মুখের ত্বকের ক্ষতিটাই হয়। অতএব, যা-ই ব্যবহার করুন না কেন, মুখের ত্বকে এর প্রমাণ রাখার কোন প্রয়োজন নেই। ধুয়ে নেবেন। কেমন?

২. যতই মুখ ধোওয়া, ততই ভালো?

আমরা অনেকেই ভাবি বেশি বেশি মুখ ধুলেই বুঝি মুখের ত্বকের জন্য ভালো হবে। এটা আপাতত ভালো মনে হলেও আদতে তা কিছুটা সমস্যার জন্ম দেয়। বারবার সাবান দিয়ে মুখ ধুয়ে নেন, এরকম অনেকেই আছেন। এতে কী সমস্যা হয়, জানেন? ত্বকে স্বাভাবিক তেলের পরিমাণ একদমই কমে যায়।

আবার যদি একদমই মুখ না ধোওয়া হয়, কিংবা স্বাভাবিক এর থেকে কম ধোওয়া হয় তবে সেক্ষেত্রে কিছু ছত্রাক জন্ম নেয় মুখের ত্বকে যারা ত্বকের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

এখন জিজ্ঞাসা থাকতে পারে, কতবার মুখ ধোয়া জরুরি!

উত্তর – ২ বার।

দিনে কেবল ২ বার যদি ঠিক নিয়মটি মেনে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন, একাধিকবারের কী প্রয়োজন বলুন তো? এখন কোন দুই বার মুখ ধুবেন, সেটা হলো প্রশ্ন! সমস্যা নেই জানিয়ে দিচ্ছি-

প্রথমবারের মুখ ধোয়াটা হবে সকালে, ঘুম থেকে উঠে। আর দ্বিতীয় এবং শেষ বারের মুখ ধোয়াটা হবে বাইরে থেকে ফিরে, অথবা আপনি যদি বাসাতেই অবস্থান নেন সেক্ষেত্রে ঘুমের আগে একবার মুখ ধুয়ে নেবেন। তবে যে হারে গরম পড়া শুরু হয়েছে, এতে একাধিকবার মুখ ধোওয়ার আবশ্যিকতা অস্বীকার করাই যায় না।

সেক্ষেত্রে পরামর্শ এই মূল দুই বারের মাঝে যদি মুখ ধোওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন তবে সেটা সাবান দিয়ে কিন্তু ভুলেও নয়। পরিষ্কার পাতলা কাপড় কিংবা টিস্যু অথবা মুখে ঝাপটা মেরে পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই হয়ে যাবে। কিন্তু এখানে একটু সাবধান হবেন। বেশি নয়, কেমন? অতিরক্ত পানিও মুখের ত্বকের তেল কেড়ে নেয়।

৩. মুখ ধুয়েই কি ময়েশ্চারাইজার মাখেন?

ময়েশ্চারাইজার এর বিষয়টা হচ্ছে – ত্বকে স্বাভাবিক তেলতেলে ভাব বজায় রাখা। ভালো একটি ময়েশ্চারাইজার আপনার ত্বককে এই অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া থেকে কিন্তু বাঁচিয়ে রাখে। তাই এর গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায়ই নেই।

এক্ষেত্রে আরেকটু বিষয় আছে। সেটা হলো, সকলের ত্বক কিন্তু এক নয়। খেয়াল করে দেখবেন, কারও ত্বক বেজায় শুষ্ক। আবার অনেকের ত্বক তেলেতেলে। সেক্ষেত্রে ত্বক এর ধরণ বুঝে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হয়। যাদের ত্বক তেলতেলে, তারা ওয়াটার বেইজ এর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে উপকার পাবেন। আবার যাদের ত্বক শুষ্ক, তারা অয়েলি টাইপ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। আর এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে মুখ ধোয়ার পরপরই।

এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি দেই- বাজারে যত ধরণের ময়েশ্চারাইজার আছে এদের মধ্যে যদি সবচেয়ে ভালো ময়েশ্চারাইজার পেতে চান তবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে নারিকেল তেল বানিয়ে নিন। এর চেয়ে ভালো ময়েশ্চারাইজার আর নেই। উপকার এর কথা জানতে চাইলে বলবো, ব্যবহার করেই দেখুন। নারিকেল তেলে সমস্যা হলে অলিভ অয়েলও মাখতে পারেন মুখে। এটাও একই কাজ করে। পড়ুন: ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের বলিরেখা দূর করুন

৪. মুখ ধোওয়ার ক্ষেত্রে কেমন পানি ব্যবহার করা উচিৎ?

নিশ্চিত করে বলতে পারি, এই প্রশ্ন আপনাদের ভাবাবে। বাড়তি হিসেবে পালটা প্রশ্ন মাথায় আসতেও পারে- “পানির আবার ধরণ কী? মুখ ধোওয়া হলেই হলো!”

একটা তথ্য জানিয়ে রাখি, যে পানি আপনি পান করতে পারবেন না, সে পানি মুখ ধোওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেও যাবেন না। মুখ ধোওয়ার ক্ষেত্রে পানির ধরণের গুরুত্বটা একটু কি বুঝাতে পারলাম? আসুন খোলাসা করছি-

আমরা অনেকেই, বেশিরইভাগই মুখ ধোওয়া নিয়ে মোটেও সচেতন নই। সেখানে মুখ ধুয়ে নিতে গেলে কী পানি ব্যবহার করছি, তাও ভেবে দেখি না। অথচ এই মুখটাই বেশি দেখা যায় বাইরে থেকে। সব বাদ দিন, বাইরে থেকে ফিরে কিংবা আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের মলিন মুখ দেখতে ভালো লাগবে আপনার? এ জন্যই প্রয়োজন যত্নের। যা হবে সাধ্যের মধ্যে।

একটু ঠাণ্ডা পড়লেই অনেকে ধোয়া ওঠা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নেন। আবার ভিষণ গরমে হিমশীতল পানিতে মুখ ধুয়ে নেন। আদতে এই প্রচণ্ড গরম কিংবা ঠাণ্ডা, দুই-ই মুখের ত্বকের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। এটা কিন্তু মুখের ত্বককে স্থায়ীভাবে শুষ্ক করে তোলে। একটু চিন্তা লাগছে না এসব জেনে? ভয়ের কিছু নেই। মুখ ধোওয়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করবেন। এটিই ত্বকের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। এবং ত্বককে ভালো রাখতে বেশ কাজে দেবে। বিশেষ করে পরিশোধিত পানি দিয়ে মুখ ধোওয়ার অভ্যাস করলে এটি আপনার ত্বকের জন্য সবচেয়ে বেশি ভালো হবে।

৫. ক্লিনজারের ক্ষেত্রে ভুল করছেন না তো?

মুখ ধোওয়ার ক্ষেত্রে ক্লিনজারের ব্যবহারের কথা ইতোমধ্যে জানেন আপনারা। কিন্তু এটা কি জানেন? ত্বকভেদে ক্লিনজারও কিন্তু ভিন্ন হয়। এক্ষেত্রে একেক ত্বকের জন্য একেক ক্লিনজার ব্যবহার করাই উচিৎ। আর এ জন্য চাই ঠিকভাবে ক্লিনজার বেছে নেওয়া, যেটি আপনার ত্বক গ্রহণ করতে পারবে। আর তারও আগে আপনার জানতে হবে, আপনার ত্বকের ধরণ।

ক্লিনজার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু কথা না বললেই নয়, আর তা হলো- প্রতিটা পণ্যের কিছু ব্যবহারবিধি থাকে। কোন পণ্য কত পরিমাণে, দৈনিক কতবার, কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তার একটা নির্দেশাবলি থাকে। এটা মেনে চলা দরকার। নির্দেশাবলিতে দেওয়া নিয়মের হেরফের হলে কিন্তু ত্বক ধীরে ধীরে ড্যামেজ হয়ে যায়। এটা মাথায় রাখবেন। আর অবশ্যই বাইরের কিনে আনা পণ্যের মেয়াদ এর তারিখ দেখে নেবেন। মেয়াদ থাকার মধ্যেই পণ্য শেষ করবেন।

আর যদি ঘরোয়া উপায় জানতে চান তবে বলবো- অ্যালোভেরা, কাঁচা হলুদ এর বিকল্প নেই।

৬. মুখ ধোওয়ার আগে হাত ধোওয়া জরুরি!

মুখ ধোওয়ার আগে আয়োজন করে যে হাত ধুয়ে নিতে হয়, এ কি আপনারা জানতেন? কিংবা জানলেও মানতেন? ভাবছেন, প্রয়োজনিয়তা কী এর? আসুন বলছি-

অনেকের যুক্তি এমন, হাত দিয়েই যেহেতু মুখ ধোওয়া হচ্ছে তাহলে হাত কেন আগে ধুয়ে নিতে হবে! উত্তর হলো, আমাদের হাত কি জীবাণুমুক্ত? হলে কতটা? যে হাত মুখে লাগাবেন, সেই হাতের জীবাণু কি মুখে যাবে না? প্রশ্নগুলো কি আপনাদের একটু হলেও ভাবাচ্ছে, পাঠক? যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তো এই লেখন স্বার্থক। ভাবনা থেকেই না হয় ভালো কিছু হোক। তবু হোক।

প্রসঙ্গে ফিরি- মুখ ধোওয়ার আগে হাতটা ভালো করে ধুয়ে নেবেন। এরপর এই হাত মুখে লাগলেও সমস্যা নেই। মুখ ধুয়ে নেবেন আলতো হাতে। মনে রাখবেন, এটা আপনার মুখের ত্বক। কাদামাটির স্তুপ না যে দলাই-মলাই করবেন।

৭. মুখ মুছতে তোয়ালে? নো ওয়ে!

আচ্ছা, মুখ ধোওয়ার পরে আপনারা কি তোয়ালে ব্যবহার করেন? সেক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করেন? ঘষে ঘষে? উত্তর হ্যাঁ হলে, সর্বনাশ করছেন!

অনেকেই এই কাজটা করেন। তড়িঘড়ি করে মুখ ধুয়ে এসেই খুব জোরে জোরে তোয়ালে দিয়ে মুখ ঘষেন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এতে ত্বকের অস্বস্তি সৃষ্টিকারী পানি, ধুলো-বালি দ্রুত মুছে যায়। আদতে এটি ত্বকের শুষ্কতা বাড়াতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে বয়সের আগেই দ্রুত ত্বকের চামড়া ঝুলে পড়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে। এক্ষেত্রে করণীয় হলো – নরম কাপড়ে মুখ মোছার অভ্যেস করা। এবং আলতো করে চেপে পানি মুছে নেওয়া। ভুলেও ঘষাঘষি করবেন ন।

আরেকটা ব্যাপার, মুখ মোছার কাপড় যেন  নরম এবং পরিষ্কার হয়। নইলে এতক্ষণ যা যা বুঝিয়ে এলাম, প্রতিটা ধাপই ব্যর্থ হতে বাধ্য যদি আপনি তোয়ালে সংক্রান্ত এই ভুল পদক্ষেপ গুলো অব্যাহত রাখেন।

৮. সাজগোজ করেন?

এতক্ষণের লেখনের আলাপনে সবটুকু নারী ও পুরুষের জন্য থাকলেও এখনের আলাপনটুকু কেবল নারীদের জন্য। একটু একপেশে আলাপ করবো এখানে। আচ্ছা, নারীদের বলছি, সাজতে ভালোবাসেন? সাজেন আপনারা?

বাঙালি হোক কিংবা না হোক, একটু কাজল, ঠোঁটকে সামান্য রাঙানো এটুকু তো একটা নারী করতেই পারে, তাই না বলুন? কিংবা ধরুন মাঝে মাঝে একটু ভারি সাজ, ক্ষতি তো নেই। বরং সাজলে একেকটা নারীকে যে কতটা মায়াবতী লাগে, সে আর বলতে? তো সেই মায়াবতীদের বলছি, আয়েশ করে সাজেন কিংবা সাজতে পছন্দ করেন এমন অনেকে আছেন। কিন্তু এই সাজগোজের পর্ব শেষে মুখ থেকে এই কৃত্রিমতা তুলে ফেলার অভ্যেস আছে তো? অনেকে এই সাজ নিয়েই দিব্যি ঘুমিয়ে যান। এতে ক্ষতিটা হয় ত্বকের, বিশ্বাস করুন। তাই এইখানে সাজগোজ নিয়ে একটু বিশদে যাবো। দরকার আছে বইকি!

যারা সাজগোজ করেন, তারা অন্তত এটা জানেন যে মূলত সাজগোজের এই উপাদানের প্রতিটাই কৃত্রিম। আর সকল ধরণের কৃত্রিম পণ্য আমাদের ত্বকের জন্য কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল এনে দেয় না। ফলে ব্রণ, শুষ্কতা, তৈলাক্তভাব সহ অনেক ধরণের সমস্যা কিন্তু দেখা যায় যা আপনার মুখের ত্বকের ধীরে ধীরে ড্যামেজ এর দিকে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এজন্য কী করবেন জানেন? যেখানে যেখানে কৃত্রিম প্রসাধনী লাগাবেন, সে জায়গা ভালো করে ধুয়ে নেবেন।

এক্ষেত্রে নারিকেল তেল, জলপাই তেল ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। আর সেটা ব্যবহার করতে হবে অবশ্যই টিস্যু কিংবা তুলা দিয়ে। এক্ষেত্রে তুলা এবং টিস্যুতে তেল লাগিয়ে মুখ থেকে প্রসাধনী তুলে ফেলতে হবে। তারপর আপনার পছন্দমতো ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে নিয়ে নরম কাপড়ে আলতো আলতো চাপ দিয়ে মুছে নেবেন। আর ত্বক মুছেই তাতে ময়েশ্চারাইজার মাখাবেন। এভাবেই রাতে ঘুম দিন। আর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখুন ত্বক কতটা কোমল আর মোলায়েম হয়ে উঠেছে।

মনে রাখা প্রয়োজন!

এখন যে বিষয় নিয়ে বলবো, বলছি না তা কেউ জানে না। জানে, কিন্তু নানান ধরণের ব্যস্ততায় মনে রাখার ফুরসত মেলে না তাই মনে করিয়ে দিতেই লেখন শেষে এই ক্ষুদ্র আয়োজন।

যখন মুখ ধুতে নেবেন, চুলটা বাঁধবেন ভালো করে। খেয়াল করে দেখবেন, যেদিকটায় চুল থাকে সেদিকটায় আমরা তেল আর শ্যাম্পু ছাড়া অন্য কিছু মাখতে যাই না। তাই না? এক্ষেত্রে ধরুন আপনি মুখ ধুয়ে নিতে গেলেন আর গাল বেয়ে চুল পড়ে রইলো। আপনি ঐ চুল তো সরালেনই না বরং গালের ঐ জায়গা ঠিকঠাক ধোওয়া হলো না। হয় না এমন, বলুন? কি মিললো তো অভ্যাসটা? চুলটা না-হয় এবার থেকে বেঁধেই নিলেন!

আরেকটা বিষয় একটু জানিয়ে রাখি , বাড়িতে কিছু ঘরোয়া উপাদান দিয়ে এমন কিছু বানিয়ে ফেলুন যা আপনার ত্বকের উপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলবে না। এবং বয়সও ধরে রাখবে। একটা তথ্য জানিয়ে দেই- আমাদের কিছু ঋতুভিত্তিক রোগ বালাই বা শারীরিক উপসর্গ থাকে। এক্ষেত্রে প্রতিষেধক হিসেবে আমরা খুঁজতে যাই কৃত্রিম কিছু। আসলে, যখন যে ঋতু চলে আর সেই ঋতুতে যত ফল আর শাক, সবজি পাওয়া যায়, সেগুলোই কিন্তু ঐ ঋতুতে শারীরিক সব সমস্যার সমাধান।

এটা কিন্তু আপনি চাইলেই পরীক্ষা করে দেখতেই পারেন। প্রাকৃতিক যেহেতু তাই নিশ্চিত করেই বলা যায়, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তো চলুন, এবার থেকে না হয় প্রকৃতির উপরেই নিজেদের সুস্থ রাখার ভার ছেড়ে দেই! আপত্তি নেই তো?

Filed Under: Face Care Tips

ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের বলিরেখা দূর করুন

by লামিয়া তানজিন মাহমুদ

ক্ষুদ্র মানব শিশু! জগতের সবচেয়ে রহস্যময় অথচ অপূর্ব এক সৃষ্টি। গড়নে নিখুঁত। সময়ের পরিক্রমায় বয়স বাড়তে বাড়তে যখন তারুণ্য পেরিয়ে একটু আগায় তখনই যেন কিছু ‘না শুনতে চাওয়া’ শব্দেরা চারপাশ থেকে বিদ্ধ হতে থাকে কানে। অনেকটা জানান দেয় ঘরে থাকা আয়নাটাও। আর বয়স তো জানান দেয়ই! পাল্টাচ্ছে সময়, বাড়ছে বয়স! পরিবর্তন হচ্ছে শরীরে, হচ্ছে মনে। হবেও। এই-ই নিয়ম। নিয়মের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে সব পাল্টানোর দলে নাম লিখিয়েছে মানব দেহ, ত্বক, সবকিছুই। জানিয়ে দিচ্ছে, আর ছোট্টটি নেই আপনি। বড়ো হয়েছেন, বুড়িয়ে যাচ্ছেন!

বলছি হালের চিন্তার বিষয়- ‘মুখে বয়সের ছাপ বা ত্বকের বলিরেখা‘ নিয়ে। চিন্তার বিষয়ই বটে! বয়স হলেও বয়সটা লুকোতে স্বচ্ছন্দ আমরা সবাই। কে চাইবে ত্বকে মুখে বয়স বুঝাতে? কেউই না। তাই বলে বয়স বাড়লেই যে বলিরেখা কিংবা মুখে বয়সের ছাপ পড়বে, বিষয়টি কিন্তু তা না। অনেকের খুব বয়সেও অত ছাপ পড়ে না আবার অনেককেই দেখবেন কম বয়সে মুখে বয়সের ছাপ পড়েছে।

এর কারণ কী হতে পারে বলুন তো?

মুখে বয়সের ছাপ বা বলিরেখা! কী এই জিনিস?

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কমে যায় কোষের কার্যক্ষমতা। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে যাকে বলা হয় জৈবিক ক্ষমতা হ্রাস। যাদের প্রভাব শরীরে সহজেই দৃশ্যমান হয়। বিশেষ করে মুখে। কি তাইতো? বয়স যত বাড়তে থাকে, শরীরে থাকা এনজাইম কাজ করা তত কমাতে থাকে। এক পর্যায়ে গিয়ে কাজ করা বন্ধই করে দেয়। তখন ত্বকে কিছু ছাপ পড়ে, ভাজ পড়ে, যেগুলোকে বয়সের ছাপ কিংবা বলিরেখা বলা হয়।

বলিরেখা পড়ার জায়গাগুলোও অদ্ভুত। মুখে, চোখের নিচে, ঠোঁটের চারপাশে বয়সের ছাপ গুলোকেই বলিরেখা বলে। জায়গাগুলো অদ্ভুতই বটে! বয়স বুঝিয়েই ছাড়ছে। বলিরেখা নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাও কিন্তু এখানে। অবেকেই ভাবেন, বলিরেখা মানেই বয়স বৃদ্ধি। অর্থাৎ যার যত বয়স, তার মুখেই বলিরেখা থাকবে। যদি এ কথায় কেউ ভুল খুঁজে না পান তাহলে পাশ্চাত্য দেশের নায়ক নায়িকাদের বয়স ধরে রাখার সূত্রটা কী হতে পারে বলে আপনি মনে করছেন? কিংবা বাংলাদেশের চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা অথবা জয়া আহসান নিয়েই বা কেমন ভাবনা আপনাদের? বয়স কত হতে পারে তাঁদের? বলিরেখা পান তাঁদের মুখে? না পেলে কেন?

প্রশ্নোত্তর পর্ব বাদ রেখে চলুন খোলাসা করি বিষয়টা। বলিরেখার জন্য বয়স আসলেই কিছু না। বলিরেখার কারণ হিসেবে তালিকার শীর্ষে আছে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্নি। বয়স কিছুই না। বরং বয়স ধীরে ধীরে বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। বয়স কম থাকাকালীন শরীরে কোষ বিভাজন এবং কোলাজেন তৈরি দুটির হার বেশি থাকে। যাতে ত্বক টানটান থাকে আর চাকচিক্য ভাব বজায় থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে কোষ বিভাজন এবং কোলাজেন তৈরির হার কমতে থাকে ফলে ত্বক ঢিলে হতে থাকে। সেই সাথে কমে যায় ত্বকের চাকচিক্য।

সুতরাং বলিরেখার সাথে বয়স বৃদ্ধির যে অমন কোন সম্পর্ক নেই, সে ব্যাপারে ধারণা কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে না পাঠক? বয়সের ছাপ কিন্তু যে-কোন বয়সেই পড়তে পারে। কারও কিশোর বয়সেই বয়সের ছাপ পড়ে, অনেকের ৩০ পেরোলেও বয়স বোঝা যায় না। বয়সের ছাপের এই প্রক্রিয়াটা মূলত শুরু হয় শরীরের ভেতরে। পরে বাইরে এর প্রভাব পড়ে। তবে এখানে আরও একটা ব্যাপার আছে। চেহারাতে বয়সের ছাপ কতটা পড়বে আর কোন বয়সে পড়বে তা কিন্তু অনেকটাই নির্ভর করে আপনার বংশীয় কিছু বিষয়ের উপর। কেমন সেটা?

বংশে কারও ডায়াবিটিস হলে অন্যদেরও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, এ আপনারা জানেন। ঠিক তেমনি আপনার বংশে যদি কম বয়সেই ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা কিংবা সমস্যা থাকে তবে আপনি ধরে নিন আপনারও এটা হবেই। কিন্তু হ্যাঁ, এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব! কীভাবে জানেন? কোন কিছুর সমাধানে আসার আগে সমস্যাটি খুব ভালোভাবে বুঝে নিতে হয়, এ আপনারা জানেন। সে কাজটিই করবো এখন। বলিরেখা নিয়ে আদ্যপান্ত জানবো। এতে কী হবে জানেন? সমস্যার বিস্তারিত বুঝতে পারলে সমাধান বের করতে আর নতুন সমস্যা হবে না। তাই না? চলুন শুরু করা যাক-

বলিরেখা কিংবা মুখে বয়সের ছাপ! কেন?

কোন কিছুর সমাধানের জন্য সমস্যার গভীরে যাওয়া আবশ্যক। মুখে বয়সের ছাপ কিংবা বলিরেখা সংক্রান্ত সমস্যার ঘরোয়া সমাধানে যাওয়ার আগে একটু করে জানিয়ে রাখতে চাই কেন এই বলিরেখা-

পাঠক, কোলাজেন নিয়ে একটু আগে আলাপ করছিলাম। মনে আছে নিশ্চয়ই? মূলত কোলাজেনই ত্বক টানটান রাখে। বয়স বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে ত্বকে কোলাজেন তৈরির যে স্বাভাবিক ক্ষমতা, তা কমে আসে। আর এতেই ত্বক বুড়িয়ে যেতে থাকে।

এ তো গেলো বলিরেখা সংক্রান্ত শরীরের ভেতরের খবর। বাইরেরও কিছু প্রভাব আছে বইকি! মানসিক যে-কোন চাপ, রোদে বেশিক্ষণ থাকা, পানি কম খাওয়া, ধুমপান, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ঘুমের সময় বালিশের চাপের কারণে ত্বকে দাগ পড়াসহ মুখের নানান রকম ভঙ্গিমার কারণেও কিন্তু ত্বকে এবং মুখে বলিরেখা কিংবা বয়সের ছাপ দেখা দেয়।

বলিরেখা না পড়ুক!

অনেক কথার ফুলঝুড়ির পর এবার আসি সমাধানে। যেন-তেন সমাধান নয়, একদম ঘরোয়া। বর্তমানে সয়লাব হয়ে যাওয়া নকলের ভিড়ে প্রয়োজনীয় কিছু খুঁজে পেয়ে ব্যবহার করা দুষ্করই বটে! আবার এক সমস্যা দূর করতে গিয়ে অন্য সমস্যার উদ্ভব হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই না পাঠক? সে কারণে কৃত্রিমতা বাদ দিয়ে প্রকৃতির কাছে নিয়ে যাচ্ছি আপনাদের। কারণ একমাত্র প্রাকৃতিক কিছুই সম্পূর্ণ ভরসাযোগ্য, এ কিন্তু নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। অতএব….

বয়স বাড়ার সাথে মুখে বয়সের ছাপ পড়বেই, এটা যেন চিরন্তন সত্য। তবে বয়সের ছাপ পড়ার এই গতিকে কিন্তু ঘরোয়াভাবেই ধীর করতে পারবেন আপনি। চাই কিছু প্রচেষ্টা। তো চলুন ঘরোয়াভাবে কীভাবে বলিরেখা দূর করবেন সে সম্পর্কে জেনে নেই-

জীবনধারা পালটে ফেলুন!

আচ্ছা পাঠক, একটু ভেবে বলুন তো! আপনারা কে কীভাবে জীবন চালাচ্ছেন? প্রশ্ন দেখে কপাল কুঁচকে এলো কি? আচ্ছা সহজ করে দিচ্ছি- আপনার দৈনন্দিন খাবার গুলো কী? খাদ্যাভাস সম্পর্কে একটু ভাবুন। না! এখানেই শেষ নয়, আরও আছে। এরপরের ভাবনা শারীরিক ব্যায়াম নিয়ে। করেন তো প্রত্যেহ? ঘুম ঠিকঠাক হয় তো? প্রাপ্তবয়স্কদের জব্য ঘুম মানেই কিন্তু ৮ ঘন্টা। বয়সের সাথে সাথে বুড়িয়ে যাওয়া এড়াতে কিংবা বুড়িয়ে যাওয়ার গতি ধীর করতে এই তিন বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কোন ৩ টি?

  • খাদ্যাভ্যাস।
  • শারীরিক ব্যায়াম।
  • পর্যাপ্ত ঘুম অর্থাৎ ৮ ঘন্টা ঘুম।

কি মনে থাকবে তো? এই তিনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু খাদ্যাভ্যাস। যে অভ্যাসের সূচনা করতে হয় বয়সের ছাপ পড়ার আগেই। কিছু খাবার আছে যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে বেশ সহায়ক। সুতরাং খাদ্যতালিকায় সে খাবারগুলোর অগ্রাধিকার অবশ্যই বেশি থাকবে। কি তাইতো?

খাদ্যাভ্যাস এর পাশাপাশি একটা বিষয় মনে করিয়ে দেই, পানি পান করবেন। অনেকেই পানির পিপাসা পায় না, জানেন? এর মধ্যে শীতকাল আসন্ন। শীতকালে ঠাণ্ডার ভয়েও অনেকে পানি পান করেন না। কিন্তু ভয়ংকর তথ্য কী জানেন? ত্বকে পানির পরিমাণ কমে গেলেই কিন্তু মুখে বয়সের ছাপ আরও স্পষ্ট আকারে বসে যায়। পানির অভাবে যদি আদ্রতা হারিয়ে ত্বক শুকিয়ে যায়, তাহলে যত দামি ক্রিম বা লোশনই হোক না কেন, কাজে দেবে ন। এ আপনারা মিলিয়ে নিন। শুধু পানি পানে সমস্যা হয় অনেকের। বমি বমি ভাবও হয়। সেক্ষেত্রে পরামর্শ দিচ্ছি পানি আছে এমন কিছু খাওয়ার। যেমন- শাক, সবজি, ফল, সালাদ,  শরবৎ, স্যুপ ইত্যাদি।

মোট কথা শরীরে লিকুইড প্রবেশ হতে দেবেন। এটা আপনার ত্বক ভালো রাখবে, সতেজ করবে ভেতর থেকে। অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে যাবেন। খাদ্যতালিকায় রাখবেন সহজপাচ্য সব খাবার যা সহজে হজম হয়। ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই যুক্ত খাবার অবশ্যই রাখবেন খাদ্যতালিকায়। এই দুই জাতীয় ভিটামিন ত্বক সতেজ রাখতে বেশ কার্যকর। আর হ্যাঁ, সাপ্লিমেন্ট কিছু খাবেন না। এমন কিছুই খাবেন যাতে শরীরে সরাসরি পুষ্টি যায়।

এড়িয়ে চলুন কৃত্রিম সব প্রসাধনী!

সাজগোজ পছন্দ করেন এমন মানুষের সংখ্যাটা কেমন হতে পারে বলে আপনাদের ধারণা?

অবশ্যই কম নয়, তাই না? আচ্ছা এবার বলুন তো, সাজগোজ করা ক’টা মানুষের মুখ ত্রুটিহীন দেখেছেন? ত্রুটিহীন বলতে বুঝাচ্ছি বয়সের ছাপ, ব্রন জাতীয় বিষয়াদি। অনেকে এগুলো ঢেকে রাখতেই ব্যবহার করেন নানান ধরণের কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী। সাময়িক উপকার পেলেও এর খেসারত হয় মারাত্মক ধরণের। ফেইসবুক এবং পত্রিকাগুলোতে অনেকের ত্বক পুড়ে যাওয়ার ঘটনা আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন। পুড়ে যাওয়ার কারণ এই কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী। মোটকথা হলো, কৃত্রিম কোন কিছুই ভালো নয়।  হোক সেটা সাধারণ বা প্রাকৃতিক বলে বিক্রি করা সাবান কিংবা ফেইসওয়াশ।

এখন প্রশ্ন আসা খুব স্বাভাবিক যে, “যদি সাবান কিংবা ফেইসওয়াশ বাদ দিতেই হয় তবে মুখ ধুবো কী দিয়ে?”

উত্তর- দুধের সর, কাঁচা হলুদ, ময়দা, গোলাপজল, অ্যালোভেরা, ডিম, খুব ভালো মানের তেল, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন। বাস! হয়ে এলো! একটা ব্যাপার জানিয়ে রাখি, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন না। এবং সানস্ক্রিন কেনার আগে অবশ্যই রঙহীন ও গন্ধহীন দেখেই কিনুন।

সানস্ক্রিন ব্যবহারের একটা নিয়ম জানিয়ে দিচ্ছি

দিনের আলোতে যদি বাড়িতে কিংবা অফিসে থাকেন তাহলে কমপক্ষে ২ বার সানস্ক্রিন লাগাবেন। আর বাইরে থাকলে প্রতি ২ ঘন্টা পরপর ১ বার করে সানস্ক্রিন লাগাবেন। খেয়াল রাখবেন, ত্বক যেন কোনভাবেই শুষ্ক হয়ে না যায়।

ডুব দিন প্রকৃতিতে

কেবল প্রাকৃতিক ছাড়া আর কিছুতেই স্বয়ংসম্পূর্ণ কিছু পাওয়া কিন্তু নিতান্তই অসম্ভব। এককালে রূপচর্চা বলতে প্রাকৃতিক বিষয়ই বুঝানো হতো। কিন্তু এখন দিনকাল বড্ড পাল্টেছে। যতই বলি, মেইক আপে সব সম্ভব কিন্তু প্রাকৃতিক আর কৃত্রিমতার মধ্যে বিস্তর একটা ফারাক আছে। আর সে কারণেই কিছু প্রাকৃতিক উপাদান নিয়ে জানাবো আপনাদের। যার কিছু না কিছু ঘরেই থাকে। চলুন শুরু করা যাক-

অ্যালোভেরা

বাংলায় ঘৃতকুমারী, ইংরেজিতে অ্যালোভেরা। মোটামুটি পরিচিতি একটা সবুজ উদ্ভিদ। গন্ধ এবং স্বাদের কারণে অনেকে নাক ছিটকালেও এর উপকার কিন্তু অনবদ্য। বিশেষ করে ত্বকের জন্য। ত্বকের অসংখ্য সমস্যার অসাধারণ একটি সমাধান এই অ্যালোভেরা প্রাকৃতিকভাবেই ঝুলে ও কুঁচকে যাওয়া বলিরেখাযুক্ত ত্বককে করে তোলে টানটান।

শরীরের যে জায়গাগুলো কুঁচকে যায়, ঝুলে যায় কিংবা বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করে সে জায়গাগুলোতে অ্যালোভেরা জেল মাখিয়ে আলতো হাতে ম্যাসাজ করলে উপকার পাবেন। ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট রেখেই ধুয়ে নেবেন জায়গাগুলো।

অ্যালোভেরার জেল বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে ভালো হয় সরাসরি গাছেরটা ব্যবহার করতে পারলে। রোজ ব্যবহারেই ফল পাবেন। তবে হ্যাঁ, ধৈর্য ধরেই রোজ ব্যবহার করতে হবে। একদিন করলেন, দু’দিন বাদ দিলেন, এভাবে হবে না। যাই করবেন, করতে হবে নিয়মিত। এই হলো কথা।

গোলাপজল

গোলাপজল যারা ব্যবহার করেন বা ইতোমধ্যে করে ফেলেছেন তারা কিন্তু এই পানির গুরুত্ব বেশ অনুধাবন করতে পারেন। কি তাইতো?

সৌন্দর্যের বন্ধু গোলাপজল বলিরেখা দূর করব ত্বককে করে তোলে টানটান এবং লাবণ্যময়। রাতে ঘুমোনোর আগে শরীরের যে জায়গাগুলোতে বলিরেখা পড়েছে সে জায়গাগুলোতে গোলাপজল লাগান তুলোতে মিশিয়ে। অর্থাৎ গোলাপজলে তুলো ভিজিয়ে নিয়ে সে ভেজানো তুলো বলিরেখা হয়েছে এমন জায়গায় আলতো করে লাগান। সারারাত রাখুন। সকালে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত করুন কাজটি। ফলাফল নিজেই দেখুন।

একটা বিষয় জানিয়ে রাখি, আসল গোলাপজল না হলে কাজ হবে না৷ আর আসল গোলাপজল পাওয়াটাও কঠিন, তাই না? সেক্ষেত্রে ঘরেই বানিয়ে ফেলতে পারেন গোলাপজল। কী করে? জানাচ্ছি-

গোলাপ জলের জন্য প্রথমেই লাগবে গোলাপ ফুল। নিজের গাছের হলে তো খুবই ভালো। বাইরে থেকে কিনে আনা হলে খেয়াল রাখবেন এই ফুলে যাতে কোন কেমিক্যাল মেশানো না থাকে। অর্থাৎ পুরো টাটকা ফুলই লাগবে গোলাপজল বানাতে।

১ কাপ পরিমাণ গোলাপের পাপড়ি আলাদা করে একটা কাঁচের পাত্রে রাখুন। ২ কাপ পরিমাণ পানি সেদ্ধ করে সেই কাঁচের জারে রাখুন। ৩০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর পানিটা ছেঁকে নিন। ছেঁকে নেওয়া পানি ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে ব্যবহার করুন। যেহেতু ঘরোয়া এবং প্রিজারভেটিভ নেই তাই ১ সপ্তাহের মতো ব্যবহার করতে পারবেন। এরপর শেষ হয়ে এলে আবার একই নিয়মে বানিয়ে নেবেন। খুব সহজ না?

ডিম

ব্যাচেলর্স ফুড নামে খ্যাত এই ডিমকে চুলের যত্নে ব্যবহৃত হতে দেখলেও ত্বকের যত্নে অনেকেই হয়তো সেভাবে দেখেননি। এবার জানবেন এবং ঘরে তৈরি করে দেখবেনও। জানাচ্ছি ব্যবহারবিধি-

ডিম থেকে সাদা অংশ আলাদা করে বিট করে ফোম বানান। এই ফোম বলিরেখা যুক্ত স্থানে মাখিয়ে রাখুন। শুকিয়ে এলে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহার করুন। সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৪ বার। ত্বক টানটান হয়ে উঠবে।

মধু

মধুকে অনেক রোগের ঔষুধ বলা হয়। মহৌষধ খ্যাত এই মধুর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদানের কারণে এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি সহ শরীরের ভেতর থেকে অনেক রোগ সারিয়ে তোলে। এমনকি মধু ত্বকের অ্যাকনে দূর করতেও সাহায্য করে। প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকার কারণে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ার গতিকে মন্থর করে দেয় মধু। শুষ্কতা, রুক্ষতা দূর করতেও মধুর বিকল্প নেই।

মধুর ব্যবহার

মধুর ব্যবহার মোটেও কঠিন কিছু না। নিয়ম করে রোজ ব্যবহার করবেন। শুধু পানি দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে আলতো হাতে মধু মাখাবেন মুখে। কিছুক্ষণ রেখে আবার শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নেবেন। এভাবে রোজ করবেন। পার্থক্যটা ক’দিন বাদেই টের পাবেন।

আমন্ড অয়েল

তেলের নাম শুনে যারা অ্যালার্জির ভয় পাচ্ছেন তাদের জন্য বলছি- অ্যামন্ড অয়েলে অ্যালার্জির কোন সম্ভাবনা নেই। এই তেলটিকে ত্বক খুব দ্রুতই শুষে নেয় ফলে মুখ চটচটে হয় না। বরং ঝকঝকে, দাগহীন এবং উজ্জ্বল হয়ে উঠে ত্বক। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে তেলটিতে ফলে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্নি থেকে ত্বকে সুরক্ষা করে৷ এতে কী হয় জানেন? মুখে বয়সের ছাপ পড়ে না। এছাড়া অ্যামন্ড অয়েলে থাকা কোলাজেনই মূলত ত্বকে বয়সের ছাপ এড়াতে সহায়তা করে।

শুধু ত্বক নয় বরং চোখের ডার্ক সার্কেল এর দাগ দূর করতেও কিন্তু অ্যামন্ড অয়েল বেশ কার্যকর।

  • ব্যবহারের নিয়ম

রাতে ঘুমোনোর আগে ভালো করে মুখ ধুয়ে আলতো করে অ্যামন্ড অয়েল মুখে মাখিয়ে নিন। সারারাত রাখুন। সকালে ঘুম থেকে ভালো করে মুখ ধুয়ে নিন। নিয়ম করে রোজ ব্যবহার করুন এবং ফলাফল দেখুন।

অলিভ অয়েল

ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ও আদ্রতা বাড়ানোর জন্য অলিভ অয়েলের বিকল্প নেই বললেই চলে। তুলোর সাহায্যে অলিভ অয়েল মুখে মাখিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলবেন। নিয়মিত করুন। উপকার পাবেন।

লেবুর রস!

হালকা করে লেবুর রস মুখে মাখিয়ে ১০ মিনিট পরেই ধুয়ে ফেলুন। অনেকের মুখে লেবুর রস সরাসরি সহ্য হয় না। সেক্ষেত্রে পানি দিয়ে প্রথমে মুখটা ভালোভাবে ধুয়ে নেবেন। এরপর লেবু কেটে মুখে আলতো করে ঘষে ঘষে লাগাবেন। উপকার পাবেন। বেশি লাগাবেন না। অনেকের র‍্যাশের সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে খুব সংবেদনশীল ত্বক হলে লেবু পুরোপুরি বাদ দেবেন।

কলা

বলতে গেলে প্রায় বারোমাসি এই ফল বাসার আশেপাশেই পাওয়া যায়। ভীষণ সহজলভ্য এবং দামেও সস্তা আর পুষ্টিতে অনবদ্য এই কলার ব্যবহার শুধু খাওয়াতেই নয় বরং ত্বকের জন্যও প্রযোজ্য। সেক্ষেত্রে ত্বকের জন্য পাকা কলা ব্যবহার করবেন। পেকে যাওয়া কলা চটকে নিয়ে পেস্ট করুন বা ব্লেন্ড করেও নিতে পারেন। মুখে মাখিয়ে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলবেন। নিয়মিত ত্বকে কলার ব্যবহার আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলবে।

আনারস

ফল হিসেবেই  বেশ সুস্বাদু ও উপকারি হিসেবে খ্যাত এই আনারসের ব্যবহার যে ত্বকেও হতে পারে, সেটা হয়তো অনেকের ভাবনার বাইরে। মুখের বলিরেখা দূরীকরণে আনারসের ভূমিকাও কিন্তু কম না। কয়েক টুকরো আনারসের পেস্ট বানান অথবা শুধু রসটা নিন। মুখে মাখিয়ে শুকিয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে এলেই ধুয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহার করুন। উপকার পাবেন বইকি।

ঘরোয়া টোটকা

এত-শত কথার ভিড়ে অনেক কিছু নিয়েই মোটামুটি একটা ধারণা হলো, তাই না? এবার তবে আলোচ্য বিষয় যা নিয়ে সেদিকে সরাসরি চলে এলে মন্দ হয় না। বলছিলাম, ঘরোয়াভাবে বলিরেখা দূর করার উপায় নিয়ে। চলুন কিছু টোটকা জেনে আসা যাক-

ওটমিলের ঘরোয়া স্ক্রাব

যা লাগছে-

  • ১ টেবিল চামচ ওটমিল।
  • ১ টেবিল চামচ জলপাই তেল।
  • ১ চা চামচ মধু।

এই তিন জিনিস একত্রে মেশান, পেস্ট তৈরি করুন। পেস্ট তৈরি হয়ে এলে মুখে ঘষুন। ২ মিনিটের মতো রাখুন। ধুয়ে ফেলুন।

মিল্ক স্ক্রাব

পরিমাণ মতো গমের ভুসি ও ক্লেঞ্জিং মিল্ক একত্রে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে মাখিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। ধুয়ে ফেলুন।

শুধুই নারিকেল তেল

ঘরে একদম প্রাকৃতিক নারিকেল তেল আছে? তাহলে নির্ভয়ে এবং নিশ্চিন্তে থাকুন। ঘুমোবার আগে পুরো মুখে, ঘাড়ে নারিকেল তেল ম্যাসাজ করুন। পুরো রাত রাখুন। ত্বকের বার্ধক্য দূর করতে নারিকেল তেলের তুলনা হয় না। এই তেল ত্বকের গভীরে পৌছে ত্বকে ভেতর থেকে পুষ্টি দেয়। ত্বকের স্বাভাবিক বার্ধক্য প্রক্রিয়াকেও নষ্ট করতে সাহায্য করে নারিকেল তেল। তবে তেলটা খাটি হতে হবে।

নারিকেল তেলের ব্যবহার এখানেই শেষ নয়। আরেকটা ব্যবহার আছে। যেটাতে লাগবে শুধু হলুদ আর খাটি নারিকেল তেল। দুটো একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। বলিরেখা আছে এমন স্থানে মাখিয়ে রাখুন। শুকিয়ে এলেই ধুয়ে নিন। এই পেস্ট এর ব্যবহার আপনার ত্বককে নরম করবে। বলিরেখা দূর করে আরও উজ্জ্বলতা বাড়াবে। মূলত ত্বকের জন্য হলুদ কিন্তু খুবই কার্যকরী। কতটা কার্যকরী সে প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয়-

হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকে কোলাজেন এর উৎপাদন এর সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। এতে ত্বক টানটান হয়।

গাজর মধুর পেস্ট

বাসায় গাজর থাকে? অন্তত বাসার আশেপাশে বাজারে তো কিনতে পাওয়া যায়, তাই না? ভালো করে ধুয়ে মনমতো টুকরো করে সেদ্ধ দিন। সেদ্ধ হয়ে এলে মধুর সাথে মিশিয়ে সেদ্ধ গাজর ব্লেন্ড করে নিন। পেস্টের মতো হয়ে এলে সেটা বলিরেখা আছে এমন জায়গায় মাখান। শুকিয়ে এলে ধুয়ে নিন।

গোলাপ জল ও দুধ

খুবই চেনা এবং নাগালের মধ্যে থাকা দুটো উপাদান নিয়ে এবারের ঘরোয়া টোটকা জানাচ্ছি-

দুধ এবং গোলাপ জল একই পরিমানে নিয়ে মেশান। মিশ্রণটিতে তুলো ডুবিয়ে আলতো করে বলিরেখায় মাখুন। শুকিয়ে আসা অবধি মুখে মিশ্রণটি রাখুন। এরপর শুধু পানি দিয়ে ভালো করে মুখটি ধুয়ে নিন। ত্বক টানটান করতে এই মিশ্রণটি খুব কাজের। এতে বলিরেখা ধীরে ধীরে দূর হয়ে যায়।

অ্যালোভেরা ও কাঠবাদাম

টোটকায় যাওয়ার আগে আলাদাভাবে অ্যালোভেরা আর কাঠবাদাম নিয়ে কিছু বিষয় জানিয়ে রাখি-

অ্যালোভেরার কাজ ত্বকের বলিরেখা কমিয়ে ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল, মজবুত আর নরম করে তোলা। কাঠবাদাম প্রচুর তেল সম্বলিত একটি সহজলভ্য ড্রাই ফ্রুট। বয়সের ছাপ এড়াতে কাঠবাদাম খুবই কার্যকর। এবার টোটকায় চলে আসি।

  • যা লাগছে

সারারাত ভেজানো কয়েকটা কাঠবাদাম।

একটা টাটকা অ্যালোভেরার পাতার জেল।

  • জেল সংগ্রহের নিয়ম

পাতার উপর নিচ আলাদা করে ভেতরে স্বচ্ছ নরম অংশটি ব্লেন্ড করে নিন। হয়ে গেলো অ্যালোভেরা জেল।

  • যা করা লাগবে

ভেজানো কাঠবাদাম শিল পাটায় মিহি করে বেটে নিন। ব্লেন্ডারের কথা বললাম না কারণ কয়েকটা কাঠবাদামের জন্য অনেকক্ষেত্রে ব্লেন্ড হয় না। অনেকক্ষেত্রে মিহিও খুব হয় না যদি খুব অল্প পরিমাণে কেউ ব্যবহার করে। সেক্ষেত্রে ভরসা করার মতো শিল পাটাই শ্রেয়।

তো শিল পাটায় বেটে নেওয়া এই কাঠবাদামগুলোকে রেখে দিয়ে এর ভেতর অ্যালোভেরা পাতা থেকে সংগ্রহ করা জেলটি দিন। ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটা মুখে মাখিয়ে নিন। শুকিয়ে এলে ধুয়ে ফেলুন।

লেবুর রস ও পুদিনা পাতা

কিছুটা পুদিনা পাতার রস আর লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এতে তুলো ডুবিয়ে সেই তুলো বলিরেখা যুক্ত স্থানে মাখান। চোখের নিচে থাকা ডার্ক সার্কেলেও মাখান। শুকানো পর্যন্ত রেখে দিন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল ও টানটান হবে।

পেপে ও টকদই

ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে পেপে কিন্তু দারুণ কার্যকরী। সমপরিমাণ টকদই আর পেপের পেস্ট একসাথে মিশিয়ে আলাদা পেস্ট তৈরি করুন। মুখে মাখুন। শুকিয়ে এলে ধুয়ে নিন। বাস!

কফি প্যাক

কফিপ্রেমি মানুষদের জন্য একটা সংবাদ, খাওয়ার পাশাপাশি এই কফি আপনি চাইলে মুখেও দিতে পারবেন। এ জন্য সামান্য কিছু কাজ করতে হবে-

নারিকেল তেল, চিনি, দারুচিনি, সহনীয় মাত্রার গরম পানি আর কফি- সবটা মিলিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে মাখুন। মুখের অতিরিক্ত তেল দূর করবে এটা। ত্বককে টানটান করে তুলবে।

ভাতের মাড়ের প্যাক

শিরোনাম দেখে আঁৎকে উঠেছেন যারা, তাদের জন্য বলছি, ভাতের মাড় কিন্তু ত্বকের জন্য বেশ কাজের। ইউটিউবে ঘাটাঘাটি করলে তথ্যটা পেয়ে যাবেন, জাপান, কোরিয়া, তাইওয়ান, চিনের মেয়েদের বয়স ধরে রাখার পেছনে ভাতের মাড়ের অবদান কিন্তু আসলেই গুরুতর। তেমনই একটি টোটকা জানাচ্ছি আজ-

ভাত হয়ে আসার আগে মাড় কিছুটা মাড় ছেঁকে নিবেন। ঠাণ্ডা করে ওতে মেশাবেন দুধ আর মধু। এখন এই মিশ্রণ মুখে মাখিয়ে শুকিয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। এরপর সেদ্ধ চালের পানি মানে ভাতের পাতলা মাড় দিয়ে মুখ ধুয়ে নেবেন। এরপর এই অবস্থায় আরও কিছুক্ষণ থেকে মুখ শুকিয়ে এলে তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে নেবেন। ৭ দিন পর পার্থক্য দেখুন।

বয়সের ছাপ কমিয়ে এনে বলিরেখা দূর করে এই প্যাক। তাছাড়া ত্বকের লাবণ্য বাড়াতেও বেশ কার্যকরী প্যাকটি।

দুধ ও কোকো পাউডার

মুখের জন্য কতটাই আর লাগবে? আন্দাজমতো কোকো পাউডার আর দুধ মিশিয়ে পেস্ট করে নিন। যতটা কোকো পাউডার আর অর্ধেকটা দুধ নেবেন এক্ষেত্রে। মুখে মাখিয়ে অপেক্ষা করুন শুকানোর। ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে নিন মুখটা। ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহার করুন।

ডিম এর প্যাক

একটা তথ্য জানিয়ে রাখি, মুখের যে-কোন কিছুতে ডিমের সাদা অংশটা ব্যবহার করবেন। কেন করবেন, এই প্রশ্নের উত্তরে আগাম জানিয়ে রাখি, প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে টানটান করার ক্ষমতা আছে ডিমের সাদা অংশের।

টক দই আর ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। বলিরেখা এবং রোদে পোড়া জায়গায় মাখান পেস্টটা। শুকিয়ে এলেই ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ন্যূনতম ২ দিন করুন এই কাজটা।

ডিমের আরেকটা কাজ আছে। মধুর সাথে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিন। মেশানো হয়ে এলে মুখে মাখান। শুকিয়ে এলে ধুয়ে নেবেন উষ্ণ গরম পানি দিয়ে। গরম পানি বলতে ধোয়া ওঠা টগবগে পানি না কিন্তু। ত্বকে সহ্য করতে  পারবেন, এমন মাত্রার পানি। নিয়মিত এটাও করতে পারেন।

আলু ও আপেল

ভিন্নধর্মী দুই জিনিসকে এক করতে যাচ্ছি। ত্বকের বলিরেখা যুক্ত স্থানেই তো মাখাবেন, কতটা আর লাগতে পারে? সমপরিমাণ আলু ও আপেল বেটে নিন। মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে মাখান। শুকিয়ে এলে ধুয়ে নিন। ত্বক দারুণভাবে উজ্জ্বল হবে।

কলার প্যাক

পাকা কলা আর মধু একসাথে ব্লেন্ড করে নিন। মুখ, ঘাড়, হাত, পা সহ যেখানে যেখানে রোদে পোড়ে সেখানে মাখান। রোদে পোড়া দাগ, বলিরেখা কমাতে এই প্যাক বেশ কার্যকর।

মোটামুটি অনেকগুলো কিন্তু সহজলভ্য কিছু ঘরোয়া টোটকা নিয়ে আলাপ হলো আজ। আশা করছি কোন না কোন উপায় অবশ্যই অবলম্বন করবেন। এবং অবশ্যই নিয়ম মেনে চলবেন।

Filed Under: Anti Ageing, Skin Care Ideas

  • « Go to Previous Page
  • Page 1
  • Interim pages omitted …
  • Page 4
  • Page 5
  • Page 6
  • Page 7
  • Page 8
  • Interim pages omitted …
  • Page 12
  • Go to Next Page »

Primary Sidebar

সাম্প্রতিক লেখা

১৬টি সেরা খাবার সকালবেলার দৌড়ের পর খাওয়ার জন্য – পোস্ট-রান রিকভারি পুষ্টি

ওজন কমাতে সেরা ২০টি ডিটক্স স্মুদি: উপাদান, প্রস্তুতি ও উপকারিতা

সহজে হজম হয় এমন ১৬টি হালকা খাবারের রেসিপি

Low FODMAP Diet: ৩ ধাপের পরিকল্পনা ও কোন খাবার খাবেন, কোনটা এড়িয়ে চলবেন

প্যালিও ডায়েট: উপকারিতা, ঝুঁকি ও ৭ দিনের খাবার পরিকল্পনা

বিভাগ সমূহ

  • Fashion
  • HAIR CARE (চুলের যত্ন)
    • Basic Hair Care (বেসিক হেয়ার কেয়ার)
    • Dandruff (খুশকি)
    • Dry Hair Care (শুকনো হেয়ার কেয়ার)
    • Hair Care Ideas
    • Hair Fall ( চুল পড়া)
    • Hair Growth ( চুল বৃদ্ধি)
    • Hair Treatment (চুল চিকিৎসা)
    • Oily Hair Care ( তৈলাক্ত চুলের যত্ন)
  • HEALTH & WELLNESS (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা)
    • Diet Tips
    • Fitness
    • Healthy Food
    • Home Remedies
    • Ingredients and Uses
    • Nutrition (পুষ্টি)
    • Weight Gain
    • Weight Loss (ওয়েট লস)
  • Lifestyle (জীবনযাপন )
  • MAKEUP (মেকআপ)
    • Bridal Makeup (ব্রাইডাল মেকআপ)
    • Eye Makeup (চোখের সাজসজ্জা)
    • Lip Make up (লিপ আপ করুন)
  • SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)
    • Acne
    • Anti Ageing
    • Beauty Secrets
    • Dry Skin
    • Face Care Tips
    • Face Packs and Masks
    • Glowing skin
    • Homemade Tips
    • Oily Skin
    • Skin Care Ideas
    • Skin Care Problems
    • Sunscreen
  • Top 10's

Copyright © 2026 · RUP KOTHON · All rights reserved ®