• Skip to primary navigation
  • Skip to main content
  • Skip to primary sidebar

রূপকথন

Healthier Lifestyljhhe Choices

  • Facebook
  • Home
  • Shop
  • Blog
    • মেকআপ
      • ব্রাইডাল মেকআপ
      • সেলিব্রিটি মেকআপ
      • চোখের সাজসজ্জা
      • মুখের রূপসজ্জা
      • লিপ মেকআপ
      • মেকআপের ধারণা
      • মেহেদী ডিজাইন
      • নখের ডিজাইন
    • চুলের যত্ন
    • ত্বকের যত্ন
    • চুল স্টাইল
    • স্বাস্থ্য ও সুখ
      • ফিটনেস
      • স্বাস্থ্যকর খাবার
      • ওজন বৃদ্ধি
      • ওজন কমানো
      • যোগ ব্যায়াম
      • ডায়েট টিপস
      • আয়ুর্বেদ
  • Contact Us

লামিয়া তানজিন মাহমুদ

রমজানে যেভাবে ত্বকের যত্ন নেবেন

by লামিয়া তানজিন মাহমুদ

খোশ আমদেদ মাহে রমজান। যে মাসটির তাৎপর্য রয়েছে সারা জাহানের সকল মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে। ইবাদাত,  পবিত্রতা অর্জন এবং তা রক্ষার যে তাগিদ এ মাসে দেখা যায় তা অন্যান্য মাসে কিছুটা হলেও বিরল দৃশ্যে রূপ নেয়, অর্থাৎ দেখা যায় না। ঠিক তেমনি, অন্যান্য মাসে যে অনভ্যস্ততায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে মানুষ, এ মাসে তাও হয়ে ওঠে না। তার উপর শারীরিক কিছু ধকল তো আছেই।

সব মিলিয়েই কিছু নিয়ম যোগ হওয়া, আর কিছু অভ্যেস সুযোগের অভাবে বাদ হয়ে যাওয়া এই মাসটায় কিছুটা আলসেমি, সময়ের অভাব, কাহিল কিংবা দূর্বলতার কারণেই শরীর সহ ত্বকটা কিছুটা হলেও অনাদরেই পড়ে যায়। আজকের লেখন এর বিষয় এ নিয়েই।

প্রসঙ্গ নিয়ে স্বল্প আলাপনঃ

রমজান মাস। বছরের পবিত্রতম এই মাসটিতে খাওয়ার পরিমাণ এবং সময়ে থাকে বড্ড হেরফের। প্রাত্যহিক যে নিয়মে আমাদের দেহ ঘড়ি চলে, সেই নিয়মের দুনিয়ায় চলে আসে আকাশ-পাতাল পরিবর্তন। ভোর রাতের সাহরি আর সন্ধার সময়ে ইফতার। মাঝের এই দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকাটা অতটা গুরুত্বপূর্ণ না হলেও পানি পান না করে থাকাটা কিন্তু আসলেই সমস্যার একটি বিষয়।

এটা আপনারা জানেন, আমরা যতই খাই, আসল কাজ কিন্তু করে পানি। আর রমজান মাসে এই পানির ঘাটতিই দেখা দেয় বেশি। যার ফলে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, একই সাথে ত্বকের নানান সমস্যাও দেখা দেয়। আর এ কারণেই রমজান মাসে শরীর সুস্থ রাখার সাথে সাথে নিজের ত্বকের দিকেও একটু মনযোগী হতে হবে বইকি।

প্রয়োজন কিছু যত্নের। যে যত্ন ত্বকের নিস্তেজ এবং শুষ্কতা দূর করে দিয়ে স্বাস্থ্যকর, কোমল, উজ্জ্বল করে তুলবে। আর যেহেতু এবারের রমজান মাসটা ভরা চৈত্রে পালন করতে হচ্ছে এবং হবে, তাই দরকার সতর্কতার সাথে সচেতনতা। কারণ আপনার সুস্থতা দরকার। ইবাদাতে মনযোগী হতে গেলেও সুস্থতা আবশ্যক। হোক তা শরীরের কিংবা ত্বকের।

রমজানে করণীয়ঃ

কিছু অভ্যেসের আমদানি করতে হবে। অভ্যেসের আমদানির কারণ আপনার সুস্থতা, আপনার শরীর ও ত্বকের সুস্থতা। এ কারণে একটু জানয়ে দতে চাই চলমান এই রমজানে কী করবেন আর কী করবেন না। প্রথমেই জানিয়ে দেই, কী কী করবেন না।

এই রোজায় যা যা মোটেও করবেন না

মেইক আপ!

ইবাদাতের মাস। অযু সমেত পাক পবিত্রতা বজায় রাখার পুরো উলটো কাজ হচ্ছে মেইক আপ। বুঝিয়ে বলছি-

স্বাভাবিকভাবে ভাবুন। দীর্ঘসময় পানিহীন থাকার দরুন আপনার ত্বকে এটা স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে যে, পানির ঘাটতি আপনার শরীরে বিদ্যমান। সেখানে মেইকআপের মতো কৃত্রিম কিছু প্রসাধনীর ব্যবহার আপনার ত্বকের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য মোটেও প্রযোজ্য নয়। শীতকালে রূক্ষ হয়ে যাওয়া ত্বকের উপর পাওডার মাখালে যেমন ভেসে ভেসে থাকে, এই রমজানে মেইকআপও তেমনি ভেসে ভেসে থাকে। যে কারণে কোন ধরণের শুষ্ক প্রসাধনী ব্যবহারে যাবেন না। এগুলো ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে।

ভাজা পোড়া খাবার!

চৈত্রের রোদের বৈশিষ্ট্য কী জানেন? এর কড়া তেজ! মানে প্রখর রোদ। এই রোদে মশলাদার, তেলে ভাজা খাবার খেতে ভালো লাগে? না-কি লাগার কথা বলুন তো? আপনি যতটা তেলে ভাজা খাবার কিংবা মশলাদার খাবার খাবেন, অতটা হজম হতে প্রচুর পানির দরকার হয়। এতে চাপ পড়ে কিডনি আর পাকস্থলীর উপর কারণ এই পানি আর খাবার এর প্রক্রিয়া এরাই করে থাকে।

খেয়াল করে দেখবেন, গরমকালে উচ্চ প্রোটিন, তেলে ভাজা, মশলাদার খাবার খেয়ে আপনার মোটেও স্বস্তি হবে না। বরং এক ধরণের অজানা অস্বস্তিতে দিনভর ভুগতে থাকবেন একই সাথে ক্লান্তিতে ছেয়ে থাকবে পুরো শরীর। এছাড়াও তেলে ভাজা খাবারগুলো কিন্তু ত্বকের নানারকম সমস্যার কারণ।

আদ্রতা!

রমজান মাসে অতিরিক্ত রোদ কিংবা ঠাণ্ডা দুটোই আপনার ত্বকের জন্য ভিষণ রকমের ক্ষতিকর। অতিরিক্ত রোদে অনেকের হিটস্ট্রোক হওয়ার ঘটনা বিরল নয়। আবার অনেকক্ষণ এসির মধ্যে থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রাও অসহ্যকর হয়ে উঠতে পারে।

ঘুমত্যাগ!

অনেকের বদভ্যাস আছে রাত জাগার। রাতটা জেগে কাটিয়ে সাহরিতে কোনমতে খেয়ে, কোন রকমের একটু ঘুম দিয়েই সকালে হয় ক্লাশে ছোটা নয় কর্মস্থলে ছোটা! ফলশ্রুতিতে চোখের তলে কালি, চোখ ফোলা, চেহারায় তেলতেলে বিধ্বস্ত ভাব লক্ষ্যনীয়।

এই রোজায় যা যা করবেন!

কী কী করতে পারবেন না, সেই তালিকা তো জানা হলো। এবার একটু জেনে নেওয়া দরকার এই দাবদাহে রোজা রেখে কী কী করতে পারবেন এবং করবেন। তো চলুন জেনে নেই –

পানি!

পানির বিকল্পই নেই, বিশ্বাস করুন। সারাদিন পানি ছাড়া, ভাবা যায়? সেখানে ইফতার বলুন কিংবা সাহরি, পানি এবং পানি জাতীয় খাবারের ব্যবস্থা রাখাই হবে সবচেয়ে ভালো উপায়। চেষ্টা করবেন ইফতারের পর থেকে সাহরি পর্যন্ত ২.৫-৩ লিটার পানি খেতে।

ডাবের পানি, লেবুর শরবৎ কিংবা আপনার সাধ্য অনুযায়ী যে-কোন ফলের জুস বানিয়ে নিতে পারেন। খেতে পারেন ফল, সালাদ, সবজি, শাক। এগুলো শরীরে পানি ধরে রাখে। শরীরে পানির প্রবাহ ঠিক থাকলে ত্বক সুস্থ থাকে আর এতে করে ত্বকের নেতিয়ে পড়াটা কমে আসবে।

খাদ্যতালিকা!

রমজান মাস। ইবাদাতের এই মাসটায় ইবাদাত নিয়ে মাথা ঘামানোটাই বেশি জরুরি, তাই না পাঠক? কিন্তু আমাদের অনেকেই এই সময়টায় ভুড়িভোজে মেতে ওঠেন। এই বিষয় থেকে একটু সরে আসা প্রয়োজন আছে। একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, আপনি যত ভারি খাবার খাবেন আপনার শরীরের তত পরিশ্রম হবে সেটা হজম করার জন্য।

এজন্য সহজপাচ্য কিছু খাবার বরাদ্দ রাখুন সাহরি আর ইফতারের জন্য। আঁশযুক্ত খাবার রাখুন তালিকায়। এ ধরণের খাবার শরীর, ত্বক দুইএর জন্য বিষম উপকারি। অন্ত্র তো ভালো থাকেই, সেই সাথে ত্বকেও দারুণ পুষ্টি জোগায়। ফল (হোক তা দেশি বা আপনার সাধ্য অনুযায়ী), বাদাম, খেজুর, সবুজ ও রঙিন শাক-সবজি রাখুন তালিকায়। এগুলো আপনার শরীরকে ঠিক রাখতে একদম যথেষ্ট। খেতে পারেন সেদ্ধ করা খাবার। বিশেষ করে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই যুক্ত সবজি।

আরেকটা তথ্য দেই, দুধ খাওয়ার অভ্যেস থাকলে সাহরিতে এবং ইফতারে দুধ খেতে পারেন। দুধ খাওয়াতে সমস্যা মনে হলে দই খেতে পারেন। এটা খুবই উপকারি। এই গরমে দই আপনার জন্য শান্তির পাশাপাশি স্বস্তিদায়ক একটা খাবারই হবে বটে! প্রোটিন তো পাবেন, একই সাথে সারাদিনের কর্মশক্তিও পাবেন।

পরিধেয় বস্ত্র হোক সুতির!

গরমের তেজ দেখেছেন? গোসল করে বের হলেও এই তেজে শরীর আবার ঘেমে নেয়ে ওঠে। কি তাই তো? এই অতিরিক্ত গরম, সাথে তীব্র এবং অসহনীয় জ্যাম, তার উপর সিয়াম পালন করে দীর্ঘ সময় থাকাটা ধকলের বিষয়ই বটে। এই গরম, এবং এর ফলে হওয়া অতিরিক্ত ঘাম দুটোই কিন্তু শরীর এবং ত্বকের জন্য বেশ খারাপ।

আবার শুধু ঘাম বের হয়েই ক্ষান্ত নয়, ঘামাচি সমেত কিছু ফোঁড়া, চর্মরোগও দেখা দেয় অনেকের। বিশেষ করে যারা কর্মজীবী আছেন। এই গরমে যাদের বের হতে হচ্ছে বাইরে। তারা একটু সচেতন থাকবেন। অবশ্য এই রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খোলা আছে। তাই কর্মজীবী সমেত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মূলত, বাইরে যারা বের হচ্ছেন তাদের সবার ক্ষেত্রেই এই বিষয়গুলো খাটে। আর তাই, সমাধান আবশ্যক। সমাধান আপনার পরিধেয় বস্ত্রে। সুতি ব্যবহার করুন। শরীর সতেজ থাকবে।

ত্বক কথন!

দীর্ঘসময়ের সিয়াম পালনে শরীরের যে অংশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দৃষ্টিগোচর হয়, তার নাম ত্বক। আমরা হয়তো হাল ছেড়েই দেই, একটা মাসের ব্যাপার বলে। কিন্তু যখন আপনি ঠিক করবেন নিজেকে যত্নে রাখবেন তখন এই যত্নের ব্যপ্তিকাল সারা বছরের জন্যই হওয়া চাই। তাই না? একটু প্রয়োজন আছে যত্নের। আর এ জন্যই ঘরোয়া কিছু বিষয় জানিয়ে দিচ্ছি-

ময়েশ্চারাইজার!

ত্বক কী পরিমাণে শুষ্ক হয়ে থাকে, এ তো এতদিনের সিয়াম পালনে আপনারা ইতোমধ্যে জেনে গিয়েছেন। মেইকআপও বেমানান এই শুষ্ক ত্বকে। তবে করণীয় কী বলুন তো? ময়েশ্চারাইজার! জি, এটাই একমাত্র জিনিস যা আপনার ত্বককে সজীব রাখবে। ত্বক ভালো করে ভিজিয়ে নিয়ে তবেই ময়েশ্চারাইজার মাখাবেন।

অথবা গোসলের পর মাখাতে পারেন। কিংবা বাইরে বের হওয়ার আগে মাখিয়ে নিতে পারেন। আবার ফিরে এসে ভালো করে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার মাখয়ে রাখতে পারেন। ত্বক উজ্জ্বল তো থাকবেই, সেই সাথে শুষ্কতাও অতটা কাবু করতে পারবে না।

এখন একটা ব্যাপার, কোন ময়েশ্চারাইজার মাখাবেন! বাজারে তো অভাব নেই। অলিভ ওয়েল মাখাতে পারেন। এটা খুবই ভালো ময়েশ্চারাইজার। ধরুন, অলিভ ওয়েল নেই আপনার। কী করবেন? নারিকেল এর খাটি তেল মাখাবেন। সবচেয়ে উৎকর্ষ ময়েশ্চারাইজার কিন্তু এই নারিকেল তেলই।

ঘুমের বিকল্প নেই!

রমজান মাস মানেই ঘুমের সেই রকমের হেরফের। এই রাত জাগা, দিনে ছোটা, এই করে ঘুমের যে দফারফা হচ্ছে তা কিন্তু আমলে নিচ্ছে না কেউই। হয়তো কেউ নিচ্ছে কিন্তু সংখ্যাটা খুব কম, নগন্য। মোট কথা, ঘুমাবেন। রাতেই ঘুমাবেন। দিনের ঘুমের চাইতে রাতের ঘুমটা ঢের ভালো।

কারণ আমাদের শরীরের যে ক্ষয়ক্ষতিগুলো হয়, সেগুলো রাতেই পূরণ হয়। আর রাত ৯ টার পর থেকে যে ঘুম হয়, সে ঘুমের এক ঘন্টা মাঝরাত কিংবা দিনের ৩ ঘন্টা ঘুমের সমান। সুতরাং বুঝতেই পারছেন! ১০ টার মধ্যে যদি আপনি ঘুমিয়ে যেতে পারেন, ৩ টার মধ্যে এমনিতেই উঠতে পারবেন। ঝরঝরে একটা অনুভূতি নিয়ে তাহাজ্জুদ পড়বেন কিংবা সাহরি যখন খাবেন, তখন যেই প্রশান্তি অনুভব করবেন সেটা কিন্তু রাতে না ঘুমিয়ে একদমই পাবেন না। সুতরাং ঘুমাতে হবে। ৮ ঘন্টা কমপক্ষে।

গোসল করুন!

শীতকালে ঠাণ্ডার ভয়ে গোসল বাদ দেওয়া জাতি আমরা, তাই না? আচ্ছা গরমে ক’বার গোসল করি? কমপক্ষে দুইবার গোসল করুন। সকালে, রাতে। বাইরে যারা বের হোন, তারা বের হওয়ার আগে গোসল করে বের হবেন।

বাসায় ফিরে এসে আবার গোসল করবেন। এতে করে এই দাবদাহে রোজার কারণে ক্লান্তিটা আপনাকে অতটা স্পর্শ করবে না। এবং ত্বকটাও পরিষ্কার থাকবে। আর একটা বিষয় মনে করিয়ে দেই, গোসল করে ময়েশ্চারাইজার মাখাতে ভুলবেন না।

যত্ন নিন ঠোঁটের!

শীতকালে ঠোঁট শুকিয়ে যায়, এ তো জানা কথা। লিপবাম, লিপস্টিক, কতকিছুই তো মাখিয়ে রাখি। আচ্ছা এই রোজায় ঠোঁট শুকালে কী করেন? রোজাভঙ্গের ভয়ে অনেকেই কিছুই মাখাতে চান না ঠোঁটে। ফলে কী হয় জানেন? ঠোঁট ফেটে চৌচির!

অনেকের তো রক্তও বের হয় ঠোঁট দিয়ে। ভয়ংকর বিষয় না এটা? একটু ভিজিয়ে নিয়ে আলতো করে তেল কিংবা ভেসলিন মাখিয়ে রাখলে ক্ষতি নেই। এটা তো আর খাওয়ার জিনিস নয় যে আপনি খেয়ে নিবেন, তাই না?

আরোও কিছু টিপস!

ত্বক সতেজ রাখার জন্যই তো আয়োজন আমাদের। আর এই সতেজতা আসবে যত্নে। যত্ন নিতে প্রয়োজন প্রাকৃতিক কিছু বিষয়ের যা টিপস আকারে দিচ্ছি। ঘরোয়া উপকরণও বলতে পারেন। একটু দেখে নিন-

★ এই ঋতুতে পাকা পেপে কিন্তু দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। ধরুন ইফতার কিংবা সাহরির জন্যই আপনি কাটছেন। একটুখানি নিয়ে একটু পিষে নিন। মুখে, গলায়, হাতে পায়ে মাখিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। পাকা পেপে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

আপনি চাইলে আরও কিছু উপকরণ বাড়াতে পারেন। পাকা পেপের সাথে কিছুটা লেবুর রস আর চালের গুড়া মিশিয়ে একটা মিশ্রণ বানাতে পারেন। এটা মুখে মাখিয়ে ২০ মিনিট রেখে তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নেবেন। ত্বক উজ্জ্বল হবে। নেতিয়ে পড়া ত্বকে জৌলুশ দেখতে পাবেন।

★ ত্বকে মাখাতে পারেন দুধ। অথবা দুধ আর গোলাপজলের মিশ্রণ। ত্বকের তৈলাক্তভাব দূর করে এই মিশ্রণটি।

★ আপনার কাছে চন্দন কাঠের গুড়া থাকলে এই মিশ্রণটি প্রয়োগ করতে পারেন।

কিছুটা চন্দন গুড়া, হলুদ গুড়া আর গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে মাখাবেন। এটা ব্রনের জন্য খুব উপকারি। ব্রনের দাগও দূর করে এই মিশ্রণ। নিয়মিত না হলেও সপ্তাহে ২/৩ বার ব্যবহার করতেই পারেন।

★ শুষ্ক ত্বক যাদের, তারা টমেটো, পাকা কলা, শশা আলাদা আলাদা ভাবে অথবা ৩ টা একসাথে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে মাখাবেন। ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নেবেন।

★ বাসায় পেয়াজু, বেগুনি কিংবা আলুর চপ তো হয়? বা না হলেও, মশুরের ডাল আর বেসন তো থাকার কথা, তাই না? মিহি করে ডাল বেটে মুকজে মাখিয়ে রাখবেন। ত্বকের ময়লা দূর করে ডাল ও বেসন। শুষ্কভাবও দূর করে দিয়ে কোমল আর সজিব করে তোলে।

★ এই পয়েন্টটি তাদের জন্য যাদের রোজ বের হতে হচ্ছে এই গরমে। রোদে পুড়ে যাওয়া ত্বকের জন্য একটা অসাধারণ তথ্য দিচ্ছি। বেকিং পাওডার কিংবা বেকিং সোডার সাথে আপনারা পরিচিত আছন। কিছুটা পানির সাথে এই পাওডার গুলিয়ে নিন। একটা পরিষ্কার কাপড় ঐ পানিতে ভিজিয়ে নিন। এখন এই কাপড় দিয়ে রোদে পোড়া জায়গাগুলো আলতো করে মুছে নিন। কয়েকদিন বাদে নিজেই পার্থক্য লক্ষ্য করুন।

★ রমজানে চোখের নিভে গর্ত হয়ে যাওয়া সহ চোখের নিচে কালি জমাটা খুবই সাধারণ একটা বিষয়। আলু এবং শসার রস মাখাবেন কালি পড়ে যাওয়া জায়গায়।

★ ত্বকের পাশাপাশি চুলও কিন্তু রুক্ষ হয়ে যায়, খেয়াল করেছেন? সপ্তাহে অন্তত ২ দিন তেল লাগান। রুক্ষতা কমবে।

★ এই গরমে অনেকের চুল কিন্তু খুব ঘামে। একই সাথে ঘেমে যায় মাথার ত্বক। এক্ষেত্রে লেবুর খোসা পেস্ট করে মাথায় মাখাবেন, চাইলে কিছুটা আদা দিতে পারেন। কিংবা লেবুর রস মাথায় মাখাতে পারেন। এই মিশ্রনটিকে মাথায়  ১ ঘন্টা  রেখে ধুয়ে নিবেন শ্যাম্পু দিয়ে। এটা চুল এবং মাথার মধ্যে থাকা ফাংগাল ইনফেকশন দূর করে।

★ অতিরিক্ত রুক্ষ হয়ে যাওয়া চুলে পাকা কলা মাখাতে পারেন। এটা চুলের সতেজতা ফিরিয়ে আনে।

একটা বিষয় খেয়াল করেছেন? আপনি মুখে বা চুলে যাই মাখুন না কেন, তা ধুতে নিতে ঠাণ্ডা পানির কথা বলা হয়েছে। এই ঠাণ্ডা পানি মোটেও বরফ মেশানো পানি নয়। বরং ঘরোয়া তাপমাত্রায় থাকা স্বাভাবিক পানি। অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা কোন পানিই কিন্তু আমাদের ত্বক কিংবা চুলের জন্য ভালো নয়। চলমান রমজান ভালো কাটুক সবার, সুস্থতায় আর সজীবতা থাকুক বিশ্ব।

 

 

 

 

 

 

Filed Under: Face Care Tips, Skin Care Ideas

মুখ ধোয়ার সময় কোন ভুলগুলো আপনার ত্বককে ড্যামেজ করতে পারে?

by লামিয়া তানজিন মাহমুদ

এইতো বেশ কিছুদিন ধরে শীতের একটা আবেশ ছড়িয়ে পড়লো পুরো দেশে। যদিও এখনকার শীত অতটা জাঁকালো নয়, তবুও! অন্দরমহলে রাজত্ব বিস্তার করে তবেই না বসন্তকে আসার সুযোগ করে দিলো বিদায়ী ঋতু শীতকাল। আর বসন্তটাও বলিহারি! তারিখ না জানলে তো বোঝাই দায় যে চলমান ঋতুটার নাম বসন্ত। ঘাবড়াচ্ছেন? ভাবছেন শিরোনাম বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ষড়ঋতুর রচনা লিখতে বসেছি? একদম না।

আজকের আলাপনের বিষয় ত্বক নিয়ে। মুখ ধোওয়ার সময় প্রায়শই আমরা কিছু ভুল করি, যা আমাদের ত্বককে ভেতর থেকে মলিনতায় ঢেকে দেয়। ভুলগুলো পাকাপোক্ত হয় এই ঋতুগুলোর খেয়ালেই। ভাবছেন, কেমন করে? চলুন খোলাসা হয়ে যাক –

ঋতু ভিত্তিক মুখের যত্ন নিয়ে একটু কথা

আমরা যে জাতি হিসেবে অলস, এ তো নতুন নয় বরং জানা কথা। তাই না? কতটা অলস এ আর বলতে! ধরুন, মুখের যত্ন কিংবা সাধারণ মুখ ধোওয়া নিয়েও যদি বলি, সেখানেও কিন্তু আমাদের আলসেমি তুঙ্গে! এমনও হয়, শীতকালে ঠাণ্ডার ভয়ে পানিই ছোঁয় না অনেকে। আর গরমে ঘষে-মেজে পারলে ছাল-চামড়া তুলে নেয়! প্রশ্ন হলো, এগুলো কি আদৌ নিয়ম?

নিয়ম অনিয়মের পালাক্রমে একটা নিয়ম জানিয়ে রাখি – মুখ ধোওয়ার মতো সাধারণ বিষয়ে কিছু নিয়ম কিন্তু আছে। আর এই নিয়ম এক দুই দিনের তো নয়ই বরং ঋতু ভেদে সবসময় নিয়ম মেনেই নিয়মিত মানতে হয় এই নিয়ম। যার অনিয়মে তাৎক্ষণিক সমস্যা সহ দীর্ঘকালীন সমস্যারা দল বেঁধে হাজির হতে একটুও সময় নেয় না।

Common Mistakes Made When Washing Your Face

অনীহা? না আলস্য?

অনেকে আলস্যের কারণে হোক আর গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই হোক, মুখ ঠিকঠাক ধুতেই চান না। কোন রকম পানির স্পর্শ নিয়েই দায় সারেন। এ কি আদতে মুখ ধোওয়া? আমরা অনেকে নিয়ম জানি না অথবা বলা যায়, জানলেও মানি না। অথচ সমস্যার মুখ দেখলেই আয়োজন করে ভাবতে বসে যাই – “কী হলো? কেন হলো?” ওদিকে সমাধান যে সমস্যার জন্ম নেওয়ার আগেই করা যেতো, তা কিন্তু ভুল করেও ভাবতে যাই না। আর এতে ফলাফল কী দাঁড়ায় জানেন? ব্রন, বলিরেখা, বয়সের ছাপ, শুষ্কতা, তেলচিটে ভাব ইত্যাদি। কি? সমস্যাগুলো পরিচিত লাগছে না? এই সমস্যার শুরুটা কোত্থেকে হয়, জানেন? আলস্যের দাপটে ভুলভাবে মুখ ধোওয়া থেকে।

মুখ ধোওয়ার কিছু বিষয় যা আপনার জানা প্রয়োজন

একটা মজার তথ্য কি জানেন? অনেকে তারুণ্য বোঝাতে সাজসজ্জা করেন। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঠিকভাবে যদি মুখ ধোওয়া হয়, তাহলে সেই ধোওয়াটাই ত্বককে বেশ ভালো রাখে এবং তারুণ্য বাড়িয়ে তোলে। আর এজন্য একটা সুন্দর ত্বক ধারণ করতে প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাসের। যেন-তেন নয়, মুখ ধোওয়াকে ভাবতে হবে অবশ্য করণীয় কাজ হিসেবে। কারণ দরজায় উঁকি মারছে গ্রীষ্ম। খেয়াল করে দেখেছেন? বাতাসে আদ্রতা কিন্তু এখন মিশ্র।

এই মুখ ঘামাচ্ছে তো এই ত্বক খুব করে টানছে। বাড়তি হিসেবে যোগ হচ্ছে মুখে বাড়তি তেলের আগমন। বিরক্তিকর ব্যাপারই বটে, তাই না?  তবে যত বিরক্তিকরই হোক না কেন, এসব কারণে বারবার মুখ ধোওয়ার কথা যদি ভেবে থাকেন তবে তা বেমালুম ভুলে যান।

কারণ প্রতিটা ত্বকে একটা স্বাভাবিক মাত্রার তেলতেলে ভাব থাকে, যাকে ময়েশ্চার বলে। বারবার পানির স্পর্শ পেলে এই তেলতেলে ভাবটা চলে যায়। এতে করে ত্বক খুব দ্রুতই তেল হারিয়ে রুক্ষ, শুষ্ক, প্রাণহীন হয়ে যায়। এবার তাহলে প্রশ্ন, বারবার মুখ ধুয়ে নিলে ত্বকের ক্ষতি, আবার কম ধুলেও ক্ষতি, তাহলে দিনে কিংবা রোজ কতবার মুখ ধোওয়া উচিৎ আমাদের?

আর কীভাবে?

প্রশ্নেরা উঁকি মারছে কি?

চলুন জেনে নেওয়া যাক :

মুখ ধোওয়ার সময় যে ভুলগুলো আপনার ত্বককে মলিন করে তোলে (Common Mistakes Made When Washing Your Face)

১. মুখ কীভাবে ধুবেন?

অনেকে মুখ ধুতে ক্লিনজার ব্যবহার করেন। খুব ভালো বিষয় এটা। তবে এখানে একটু খেয়াল রাখার বিষয় আছে। আর তা হলো, যে ক্লিনজার দিয়েই মুখ ধুয়ে নেন না কেন, সেই ক্লিনজার যেন মুখ ধোয়ার পরে ভালোভাবে ধুয়ে চলে যায়। অর্থাৎ ত্বকে সেই ক্লিনজারের বিন্দুমাত্র কণাও যাতে আঁটকে না থাকে।

অনেকে তাড়াহুড়োয় কোনমতে ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নেন। এতে ক্লিনজারের আঠালো অথবা পিচ্ছিল বিষয়টা মুখে আঁটকে থাকে। এতে কী হয় জানেন? ত্বকে আঁটকে থাকা এই ক্লিনজারই আরও বেশি ধুলা, বালি, ময়লা টেনে আঁটকে রাখে। আর তাতে কিন্তু মুখের ত্বকের ক্ষতিটাই হয়। অতএব, যা-ই ব্যবহার করুন না কেন, মুখের ত্বকে এর প্রমাণ রাখার কোন প্রয়োজন নেই। ধুয়ে নেবেন। কেমন?

২. যতই মুখ ধোওয়া, ততই ভালো?

আমরা অনেকেই ভাবি বেশি বেশি মুখ ধুলেই বুঝি মুখের ত্বকের জন্য ভালো হবে। এটা আপাতত ভালো মনে হলেও আদতে তা কিছুটা সমস্যার জন্ম দেয়। বারবার সাবান দিয়ে মুখ ধুয়ে নেন, এরকম অনেকেই আছেন। এতে কী সমস্যা হয়, জানেন? ত্বকে স্বাভাবিক তেলের পরিমাণ একদমই কমে যায়।

আবার যদি একদমই মুখ না ধোওয়া হয়, কিংবা স্বাভাবিক এর থেকে কম ধোওয়া হয় তবে সেক্ষেত্রে কিছু ছত্রাক জন্ম নেয় মুখের ত্বকে যারা ত্বকের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

এখন জিজ্ঞাসা থাকতে পারে, কতবার মুখ ধোয়া জরুরি!

উত্তর – ২ বার।

দিনে কেবল ২ বার যদি ঠিক নিয়মটি মেনে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন, একাধিকবারের কী প্রয়োজন বলুন তো? এখন কোন দুই বার মুখ ধুবেন, সেটা হলো প্রশ্ন! সমস্যা নেই জানিয়ে দিচ্ছি-

প্রথমবারের মুখ ধোয়াটা হবে সকালে, ঘুম থেকে উঠে। আর দ্বিতীয় এবং শেষ বারের মুখ ধোয়াটা হবে বাইরে থেকে ফিরে, অথবা আপনি যদি বাসাতেই অবস্থান নেন সেক্ষেত্রে ঘুমের আগে একবার মুখ ধুয়ে নেবেন। তবে যে হারে গরম পড়া শুরু হয়েছে, এতে একাধিকবার মুখ ধোওয়ার আবশ্যিকতা অস্বীকার করাই যায় না।

সেক্ষেত্রে পরামর্শ এই মূল দুই বারের মাঝে যদি মুখ ধোওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন তবে সেটা সাবান দিয়ে কিন্তু ভুলেও নয়। পরিষ্কার পাতলা কাপড় কিংবা টিস্যু অথবা মুখে ঝাপটা মেরে পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই হয়ে যাবে। কিন্তু এখানে একটু সাবধান হবেন। বেশি নয়, কেমন? অতিরক্ত পানিও মুখের ত্বকের তেল কেড়ে নেয়।

৩. মুখ ধুয়েই কি ময়েশ্চারাইজার মাখেন?

ময়েশ্চারাইজার এর বিষয়টা হচ্ছে – ত্বকে স্বাভাবিক তেলতেলে ভাব বজায় রাখা। ভালো একটি ময়েশ্চারাইজার আপনার ত্বককে এই অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া থেকে কিন্তু বাঁচিয়ে রাখে। তাই এর গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায়ই নেই।

এক্ষেত্রে আরেকটু বিষয় আছে। সেটা হলো, সকলের ত্বক কিন্তু এক নয়। খেয়াল করে দেখবেন, কারও ত্বক বেজায় শুষ্ক। আবার অনেকের ত্বক তেলেতেলে। সেক্ষেত্রে ত্বক এর ধরণ বুঝে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হয়। যাদের ত্বক তেলতেলে, তারা ওয়াটার বেইজ এর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে উপকার পাবেন। আবার যাদের ত্বক শুষ্ক, তারা অয়েলি টাইপ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। আর এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে মুখ ধোয়ার পরপরই।

এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি দেই- বাজারে যত ধরণের ময়েশ্চারাইজার আছে এদের মধ্যে যদি সবচেয়ে ভালো ময়েশ্চারাইজার পেতে চান তবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে নারিকেল তেল বানিয়ে নিন। এর চেয়ে ভালো ময়েশ্চারাইজার আর নেই। উপকার এর কথা জানতে চাইলে বলবো, ব্যবহার করেই দেখুন। নারিকেল তেলে সমস্যা হলে অলিভ অয়েলও মাখতে পারেন মুখে। এটাও একই কাজ করে। পড়ুন: ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের বলিরেখা দূর করুন

৪. মুখ ধোওয়ার ক্ষেত্রে কেমন পানি ব্যবহার করা উচিৎ?

নিশ্চিত করে বলতে পারি, এই প্রশ্ন আপনাদের ভাবাবে। বাড়তি হিসেবে পালটা প্রশ্ন মাথায় আসতেও পারে- “পানির আবার ধরণ কী? মুখ ধোওয়া হলেই হলো!”

একটা তথ্য জানিয়ে রাখি, যে পানি আপনি পান করতে পারবেন না, সে পানি মুখ ধোওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেও যাবেন না। মুখ ধোওয়ার ক্ষেত্রে পানির ধরণের গুরুত্বটা একটু কি বুঝাতে পারলাম? আসুন খোলাসা করছি-

আমরা অনেকেই, বেশিরইভাগই মুখ ধোওয়া নিয়ে মোটেও সচেতন নই। সেখানে মুখ ধুয়ে নিতে গেলে কী পানি ব্যবহার করছি, তাও ভেবে দেখি না। অথচ এই মুখটাই বেশি দেখা যায় বাইরে থেকে। সব বাদ দিন, বাইরে থেকে ফিরে কিংবা আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের মলিন মুখ দেখতে ভালো লাগবে আপনার? এ জন্যই প্রয়োজন যত্নের। যা হবে সাধ্যের মধ্যে।

একটু ঠাণ্ডা পড়লেই অনেকে ধোয়া ওঠা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নেন। আবার ভিষণ গরমে হিমশীতল পানিতে মুখ ধুয়ে নেন। আদতে এই প্রচণ্ড গরম কিংবা ঠাণ্ডা, দুই-ই মুখের ত্বকের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। এটা কিন্তু মুখের ত্বককে স্থায়ীভাবে শুষ্ক করে তোলে। একটু চিন্তা লাগছে না এসব জেনে? ভয়ের কিছু নেই। মুখ ধোওয়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করবেন। এটিই ত্বকের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। এবং ত্বককে ভালো রাখতে বেশ কাজে দেবে। বিশেষ করে পরিশোধিত পানি দিয়ে মুখ ধোওয়ার অভ্যাস করলে এটি আপনার ত্বকের জন্য সবচেয়ে বেশি ভালো হবে।

৫. ক্লিনজারের ক্ষেত্রে ভুল করছেন না তো?

মুখ ধোওয়ার ক্ষেত্রে ক্লিনজারের ব্যবহারের কথা ইতোমধ্যে জানেন আপনারা। কিন্তু এটা কি জানেন? ত্বকভেদে ক্লিনজারও কিন্তু ভিন্ন হয়। এক্ষেত্রে একেক ত্বকের জন্য একেক ক্লিনজার ব্যবহার করাই উচিৎ। আর এ জন্য চাই ঠিকভাবে ক্লিনজার বেছে নেওয়া, যেটি আপনার ত্বক গ্রহণ করতে পারবে। আর তারও আগে আপনার জানতে হবে, আপনার ত্বকের ধরণ।

ক্লিনজার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু কথা না বললেই নয়, আর তা হলো- প্রতিটা পণ্যের কিছু ব্যবহারবিধি থাকে। কোন পণ্য কত পরিমাণে, দৈনিক কতবার, কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তার একটা নির্দেশাবলি থাকে। এটা মেনে চলা দরকার। নির্দেশাবলিতে দেওয়া নিয়মের হেরফের হলে কিন্তু ত্বক ধীরে ধীরে ড্যামেজ হয়ে যায়। এটা মাথায় রাখবেন। আর অবশ্যই বাইরের কিনে আনা পণ্যের মেয়াদ এর তারিখ দেখে নেবেন। মেয়াদ থাকার মধ্যেই পণ্য শেষ করবেন।

আর যদি ঘরোয়া উপায় জানতে চান তবে বলবো- অ্যালোভেরা, কাঁচা হলুদ এর বিকল্প নেই।

৬. মুখ ধোওয়ার আগে হাত ধোওয়া জরুরি!

মুখ ধোওয়ার আগে আয়োজন করে যে হাত ধুয়ে নিতে হয়, এ কি আপনারা জানতেন? কিংবা জানলেও মানতেন? ভাবছেন, প্রয়োজনিয়তা কী এর? আসুন বলছি-

অনেকের যুক্তি এমন, হাত দিয়েই যেহেতু মুখ ধোওয়া হচ্ছে তাহলে হাত কেন আগে ধুয়ে নিতে হবে! উত্তর হলো, আমাদের হাত কি জীবাণুমুক্ত? হলে কতটা? যে হাত মুখে লাগাবেন, সেই হাতের জীবাণু কি মুখে যাবে না? প্রশ্নগুলো কি আপনাদের একটু হলেও ভাবাচ্ছে, পাঠক? যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তো এই লেখন স্বার্থক। ভাবনা থেকেই না হয় ভালো কিছু হোক। তবু হোক।

প্রসঙ্গে ফিরি- মুখ ধোওয়ার আগে হাতটা ভালো করে ধুয়ে নেবেন। এরপর এই হাত মুখে লাগলেও সমস্যা নেই। মুখ ধুয়ে নেবেন আলতো হাতে। মনে রাখবেন, এটা আপনার মুখের ত্বক। কাদামাটির স্তুপ না যে দলাই-মলাই করবেন।

৭. মুখ মুছতে তোয়ালে? নো ওয়ে!

আচ্ছা, মুখ ধোওয়ার পরে আপনারা কি তোয়ালে ব্যবহার করেন? সেক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করেন? ঘষে ঘষে? উত্তর হ্যাঁ হলে, সর্বনাশ করছেন!

অনেকেই এই কাজটা করেন। তড়িঘড়ি করে মুখ ধুয়ে এসেই খুব জোরে জোরে তোয়ালে দিয়ে মুখ ঘষেন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এতে ত্বকের অস্বস্তি সৃষ্টিকারী পানি, ধুলো-বালি দ্রুত মুছে যায়। আদতে এটি ত্বকের শুষ্কতা বাড়াতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে বয়সের আগেই দ্রুত ত্বকের চামড়া ঝুলে পড়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে। এক্ষেত্রে করণীয় হলো – নরম কাপড়ে মুখ মোছার অভ্যেস করা। এবং আলতো করে চেপে পানি মুছে নেওয়া। ভুলেও ঘষাঘষি করবেন ন।

আরেকটা ব্যাপার, মুখ মোছার কাপড় যেন  নরম এবং পরিষ্কার হয়। নইলে এতক্ষণ যা যা বুঝিয়ে এলাম, প্রতিটা ধাপই ব্যর্থ হতে বাধ্য যদি আপনি তোয়ালে সংক্রান্ত এই ভুল পদক্ষেপ গুলো অব্যাহত রাখেন।

৮. সাজগোজ করেন?

এতক্ষণের লেখনের আলাপনে সবটুকু নারী ও পুরুষের জন্য থাকলেও এখনের আলাপনটুকু কেবল নারীদের জন্য। একটু একপেশে আলাপ করবো এখানে। আচ্ছা, নারীদের বলছি, সাজতে ভালোবাসেন? সাজেন আপনারা?

বাঙালি হোক কিংবা না হোক, একটু কাজল, ঠোঁটকে সামান্য রাঙানো এটুকু তো একটা নারী করতেই পারে, তাই না বলুন? কিংবা ধরুন মাঝে মাঝে একটু ভারি সাজ, ক্ষতি তো নেই। বরং সাজলে একেকটা নারীকে যে কতটা মায়াবতী লাগে, সে আর বলতে? তো সেই মায়াবতীদের বলছি, আয়েশ করে সাজেন কিংবা সাজতে পছন্দ করেন এমন অনেকে আছেন। কিন্তু এই সাজগোজের পর্ব শেষে মুখ থেকে এই কৃত্রিমতা তুলে ফেলার অভ্যেস আছে তো? অনেকে এই সাজ নিয়েই দিব্যি ঘুমিয়ে যান। এতে ক্ষতিটা হয় ত্বকের, বিশ্বাস করুন। তাই এইখানে সাজগোজ নিয়ে একটু বিশদে যাবো। দরকার আছে বইকি!

যারা সাজগোজ করেন, তারা অন্তত এটা জানেন যে মূলত সাজগোজের এই উপাদানের প্রতিটাই কৃত্রিম। আর সকল ধরণের কৃত্রিম পণ্য আমাদের ত্বকের জন্য কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল এনে দেয় না। ফলে ব্রণ, শুষ্কতা, তৈলাক্তভাব সহ অনেক ধরণের সমস্যা কিন্তু দেখা যায় যা আপনার মুখের ত্বকের ধীরে ধীরে ড্যামেজ এর দিকে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এজন্য কী করবেন জানেন? যেখানে যেখানে কৃত্রিম প্রসাধনী লাগাবেন, সে জায়গা ভালো করে ধুয়ে নেবেন।

এক্ষেত্রে নারিকেল তেল, জলপাই তেল ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। আর সেটা ব্যবহার করতে হবে অবশ্যই টিস্যু কিংবা তুলা দিয়ে। এক্ষেত্রে তুলা এবং টিস্যুতে তেল লাগিয়ে মুখ থেকে প্রসাধনী তুলে ফেলতে হবে। তারপর আপনার পছন্দমতো ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে নিয়ে নরম কাপড়ে আলতো আলতো চাপ দিয়ে মুছে নেবেন। আর ত্বক মুছেই তাতে ময়েশ্চারাইজার মাখাবেন। এভাবেই রাতে ঘুম দিন। আর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখুন ত্বক কতটা কোমল আর মোলায়েম হয়ে উঠেছে।

মনে রাখা প্রয়োজন!

এখন যে বিষয় নিয়ে বলবো, বলছি না তা কেউ জানে না। জানে, কিন্তু নানান ধরণের ব্যস্ততায় মনে রাখার ফুরসত মেলে না তাই মনে করিয়ে দিতেই লেখন শেষে এই ক্ষুদ্র আয়োজন।

যখন মুখ ধুতে নেবেন, চুলটা বাঁধবেন ভালো করে। খেয়াল করে দেখবেন, যেদিকটায় চুল থাকে সেদিকটায় আমরা তেল আর শ্যাম্পু ছাড়া অন্য কিছু মাখতে যাই না। তাই না? এক্ষেত্রে ধরুন আপনি মুখ ধুয়ে নিতে গেলেন আর গাল বেয়ে চুল পড়ে রইলো। আপনি ঐ চুল তো সরালেনই না বরং গালের ঐ জায়গা ঠিকঠাক ধোওয়া হলো না। হয় না এমন, বলুন? কি মিললো তো অভ্যাসটা? চুলটা না-হয় এবার থেকে বেঁধেই নিলেন!

আরেকটা বিষয় একটু জানিয়ে রাখি , বাড়িতে কিছু ঘরোয়া উপাদান দিয়ে এমন কিছু বানিয়ে ফেলুন যা আপনার ত্বকের উপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলবে না। এবং বয়সও ধরে রাখবে। একটা তথ্য জানিয়ে দেই- আমাদের কিছু ঋতুভিত্তিক রোগ বালাই বা শারীরিক উপসর্গ থাকে। এক্ষেত্রে প্রতিষেধক হিসেবে আমরা খুঁজতে যাই কৃত্রিম কিছু। আসলে, যখন যে ঋতু চলে আর সেই ঋতুতে যত ফল আর শাক, সবজি পাওয়া যায়, সেগুলোই কিন্তু ঐ ঋতুতে শারীরিক সব সমস্যার সমাধান।

এটা কিন্তু আপনি চাইলেই পরীক্ষা করে দেখতেই পারেন। প্রাকৃতিক যেহেতু তাই নিশ্চিত করেই বলা যায়, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তো চলুন, এবার থেকে না হয় প্রকৃতির উপরেই নিজেদের সুস্থ রাখার ভার ছেড়ে দেই! আপত্তি নেই তো?

Filed Under: Face Care Tips

ব্যাক পেইন বা পিঠে ও কোমরে ব্যথার কারণ, উপসর্গ এবং ঘরোয়া প্রতিকার | Back Pain Home Remedies in Bengali

by লামিয়া তানজিন মাহমুদ

বর্তমানে পিঠ বা কোমর ব্যথা (back pain) এখন খুব প্রচলিত একটি সমস্যা। এই ধরনের ব্যথা যেকোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে। তবে পুরুষের তুলনায় নারীদের এই সমস্যায় বেশি ভুগতে দেখা যায়। চলমান শীতে ওমিক্রন আর করোনার পাশাপাশি যদি আর কিছুর প্রকোপ বাড়ে, তবে সে হচ্ছে ব্যাক পেইন। আজকের আলাপন ব্যাক পেইন নিয়েই।

back pain

ব্যাক পেইন বা পিঠে ও কোমড়ে হওয়া ব্যথা নিয়ে কিছু কথা

প্রশ্ন আসতে পারে, শীতকালেই কি ব্যাক পেইনের আগমন? উত্তর হচ্ছে – না!

ব্যাক পেইন এমন এক ব্যথার নাম যা ঋতুর উপর নির্ভর করে না। অনেকটা স্বেচ্ছাচারী বলা যায়। আবার এও বলা যায়, মানবজাতি তাদের আয়েশি জীবনযাপনে অভ্যস্ত হলেই এই ব্যাক পেইনকে রীতিমতো নিমন্ত্রণ দিয়ে ডেকে আনে। একটু অবাক লাগছে না? আসুন নিমন্ত্রণের বিষয়টা একটু বুঝিয়ে বলি-

কমবেশি সবারই ব্যথার অভিজ্ঞতা হয়। ছোটকালে হামাগুড়ি দেওয়ার আগে থেকে বার্ধক্যে উপনীত হয়েও এই ব্যথা থেকে মুক্তিলাভের যেন কোন পথ বাতলে দেওয়া হয়নি। আর হলেও বা, যা হওয়ার তা তো হবেই। বলছিলাম ব্যাক পেইন এর কথা। ইংরেজি এই (Back Pain) শব্দের আক্ষরিক অর্থ অনুযায়ী ব্যাক অর্থ পেছন আর পেইন অর্থ ব্যথা।

সে হিসেবে ব্যাক পেইন বলতে পেছনে ব্যথাকেই বোঝানো হয়। আর পেছন বলতে ঘাড়ের নিচ থেকে কোমড় পর্যন্ত অংশকে বোঝানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত ব্যাক পেইন বলতে কেবল পিঠ আর কোমড়ের ব্যথাকেই বোঝায়। এবার হয়তো আজকের আলাপনের বিষয় একটু সাবলীল হয়ে এসেছে, তাই নয়?

পিঠ কিংবা কোমড়ের ব্যথা অথবা উভয় অংশেরই ব্যথা মূলত কোন বয়স মানে না। যে-কোন বয়সেই হতে পারে। যে-কোন বয়সের যে-কেউই আক্রান্ত হতে পারে এই ব্যথায়। তবে মাঝামাঝি বয়স থেকে শুরু হওয়া এই ব্যথা জীবনের অন্তিম লগ্ন পর্যন্ত টিকে যাওয়ার ঘটনাই এখন পর্যন্ত বিদ্যমান।

অর্থাৎ এই ব্যথা শুরুর ঠিক সময় হলো মাঝামাঝি বয়স। যদি জিজ্ঞাসা করেন, পিঠে ব্যথা কিংবা কোমড়ে ব্যথা এটা কেমন ধরণের ব্যথা? তাহলে এক শব্দে বলা যায়- সাধারণ। আদতে অতি সাধারণ এই ব্যথাটাকে তাই অনেকেই আমলে নেন না। যার পরিণতি হিসেবে অনেককেই করাতে হয় অপারেশন! আঁৎকে ওঠার মতো সংবাদ নয়?

অথচ এক চিমটি সচেতনতাই পারে অপারেশন কিংবা মেডিসিন এর মতো কৃত্রিম উপায়ে সুস্থ হওয়া থেকে বিরত থাকতে। একটু বিশদ জানানোর প্রয়োজন আছে বইকি। চলুন বিশদ আলাপনের গভীরে ডুব দেই একযোগে!

ব্যাক পেইন এর কারণ (Cause of Back Pain)

সরাসরি কিছু পয়েন্ট তুলে ধরছি-

  • ভারি বস্তু ক্রমাগত ওঠানামা করা।
  • দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে একটানা কাজ করলে।
  • অস্টিওপরোসিস রোগের কারণে পিঠ ও কোমরে ব্যথা হতে পারে।
  • ভুল ভঙ্গিমায় কাজ করা।
  • হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে স্থান পরিবর্তন করা। যেমন- শোওয়া থেকে উঠে বসা কিংবা বসা থেকে দাঁড়িয়ে যাওয়া।
  •  দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিমায় স্থির থাকা।
  • বেশি নরম বিছানায় ঘুমালে।
  • হুট করে কোন পেশিতে টান লাগলে কিংবা প্রসারিত হয়ে গেলে। সায়টিক বা এক শিরার সমস্যা হলেও ব্যাক পেইন দেখা দেয়।
  • কোন দূর্ঘটনার কারণে শরীরের পেছনে আঘাত পেলে।
  • উচ্চতা ও শারীরিক গড়নের স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় ওজন বেড়ে গেলে।
  • হুট করে শারীরিক কোন কসরত করলে। ধরুন হুট করেই জিম করলেন, বা ব্যায়াম শুরু করলেন। এগুলোর সরাসরি প্রভাব পিঠ বা কোমড়ের উপরে পরে।
  • বাতের সমস্যা যদি থাকে কিংবা বয়সের কারণে।
  • হবু মায়েদের হতে পারে। হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

প্রিয় পাঠক, ব্যাক পেইন অর্থাৎ পিঠে ও কোমড়ে ব্যথার এই কারণগুলো কি মিল খাচ্ছে আপনাদের সাথে? যদি মিলেই যায় তাহলে করণীয় কী বলুন তো? সব জানাচ্ছি কিন্তু তার আগে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানানোর আছে আপনাদের। শেষ পর্যন্ত থাকুন।

ব্যাক পেইন এর লক্ষণ বা উপসর্গ (What are the Symptoms of Back Pain)

এবার সরাসরি পয়েন্ট আকারে না দিয়ে একটু বিশদের দিকে হাঁটবো আমরা, প্রয়োজন আছে এর।

  • ঘাড় থেকে শুরু হওয়া ব্যথাটা নিতম্ব পর্যন্ত ছড়ানো থাকে। কখনও কখনও এই দুই জায়গায় ব্যথা স্থায়ী হয় অথবা পুরো মেরুদন্ডটিতে ব্যথা থাকে।
  • এই ব্যথার ফলাফলে এক পা, কখনওবা দুই পায়েই ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কোমড়ের ব্যথা যাদের আছে তারা জানেন, ব্যথা ধীরে ধীরে নিচের দিকে ধাবিত হয়। অর্থাৎ কোমড় থেকে হাঁটু এবং সর্বশেষ গোড়ালিতে গিয়ে ঠেকে।
  • দীর্ঘসময় টানা বসে থাকার ফলে ব্যথা ক্রমশই বাড়ে। একটা পর্যায়ে তা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়।
  • যাদের শুধু কোমড় ব্যথা হয়, তাদের ক্ষেত্রে কোমড়ের সামান্যতম নড়াচড়া মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে। সেক্ষেত্রে কোমড় বাঁকানো, উঠা বসা সবকিছুতেই ব্যথা অনুভূত হয়।
  • ব্যথার প্রভাবে পিঠে বা কোমড়ে ফুলে যেতে পারে। অনেকক্ষেত্রে ব্যথার জায়গার মাংস শক্ত হয়ে যায়, এতে ব্যথা আরও বাড়ে।
  • এটা মোটামুটি সবাই জানেন যে ব্যথার জায়গা তুলনামূলক গরম থাকে। তাছাড়াও শরীরের যে স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকে, তা ছাপিয়ে যেতে পারে ব্যথার প্রভাবে।
  • মনের সাথে শরীরের সংযোগ প্রবল থাকার কারণে মনের সামান্যতম এদিকওদিকে শরীরের উপর ধকল পড়ে বেশি। এক্ষেত্রে মেজাজ এর পরিবর্তনে ব্যাক পেইন হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
  • ব্যথার জায়গাগুলোতে চাপ দিল কিংবা ছুঁলে ব্যথা হুট করেই বাড়ে।
  • কিছু নতুন সমস্যা যুক্ত হতে পারে। যেমন- অবসাদ, খিটখিটে মেজাজ, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা, মনোযোগ এর অভাব, মাথা ব্যথা ইত্যাদি।
  • শারীরিক আরও কিছু উপসর্গও দেখা দিতে পারে, যেমন- ঘাড়ে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা, বুকে ব্যথা, পায়ের তালুতে ব্যথা, চোখ ব্যথা, কখনও বা চোখ লাল হয়ে যাওয়া, ডায়রিয়া ইত্যাদি সমস্যারাও দল বেঁধে হানা দেয়।
  • অনেকের পায়ে ক্রমাগত ঝিনিঝিন ও অবশ ভাব দেখা দেয়।
  • কিছু মানুষের ক্ষেত্রে জ্বর, কাঁপুনি, বমি, ঘোলা প্রস্রাব হতে পারে। সেক্ষেত্রে ঘন ঘন প্রস্রাব, জ্বালাপোড়া সহ প্রস্রাবের সময়ে ব্যথা অনুভূত হয় অনেকের। ( একটি কথা এখানে জানিয়ে রাখা ভালো, এই পয়েন্টটি সবার জন্য নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন হয় অনেকের। তাই বলে এটা যে সবার হতেই হবে, তা কিন্তু নয়। বা এই সমস্যা না হলে যে তা আদতে ব্যথার যোগ্যতা হারায়, তাও কিন্তু নয়।)

ব্যাক পেইন এর ঘরোয়া প্রতিকার (Back Pain Home Remedies)

Back Pain Home Remedies

দেখুন পাঠক, ব্যথা কিন্তু কোন রোগ নয় বরং এটি রোগের একটা অনুভবযোগ্য অবস্থা মাত্র। তাই ব্যথাকে অবহেলা করাটা নিতান্তই বোকামি। মূল আলাপনে যাওয়ার আগে কিছু বিষয় একটু জানিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছি। সমস্যা যেমন  আছে, সমাধানও তেমন আছে। তবে চেষ্টা থাকা লাগবে ঘরোয়া প্রতিকারে সুস্থ হওয়ার ব্যাপারে। কেন বলছি এই কথা?

ঔষধ কিংবা অপারেশন কি প্রাকৃতিক কোন ব্যাপার? অবশ্যই না। অন্যদিকে ঘরোয়া প্রতিকার বলতে আমরা কিন্তু প্রাকৃতিক বিষয়টাকেই বুঝে থাকি। কি তাই তো? প্রকৃতিতে আমাদের যাবতীয় রোগ বালাই থেকে শুরু করে যেকোন শারীরিক সমস্যার ঔষধ দেওয়া আছে। যা আহরণ করে নেওয়ার দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই।

প্রাকৃতিক পন্থা অর্থাৎ ঘরোয়া প্রতিকারে আপনার লাভ এখানেই যে এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। আর এ কারণেই দিনকে দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে প্রাকৃতিক সহ ঘরোয়া সব প্রতিকার মূলক ব্যবস্থাগুলো। আলাপনের এ পর্যায়ে সরাসরি চলে যাচ্ছি ব্যাক পেইন এর ঘরোয়া প্রতিকারে-

  • এ ধরণের ব্যথা গুলোতে সাধারণত শরীরচর্চা খুব কাজে দেয়। মানে সাধারণ ব্যায়াম আর কী। এর মানে আবার এই না যে আপনি জিমে গিয়ে ভারি ভারি জিনিস টানাহেঁচড়া করবেন!
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হুটহাট ব্যথানাশক ট্যাবলেট খাবেন না। খাওয়ার প্রয়োজনিয়তা অনুভব করলে চিকিৎসক এর পরামর্শ মেনেই তবে খাবেন। তবে ব্যথার জন্য ঔষধ না খাওয়ার পরামর্শ দেন অনেক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। এটাও মাথায় রাখবেন। অতিরিক্ত ব্যথার ঔষধ কিডনির সমস্যা করে।
  • ব্যাক পেইন হওয়ার কারণ হিসেবে কী কী পয়েন্ট লিখেছিলাম, মনে আছে? একটানা যদি কোন অবস্থানে আপনি আঁটকে থাকেন এটা আপনার পিঠে আর কোমড়ে ব্যথা সৃষ্টি করবেই। সেক্ষেত্রে একটানা বসে থাকবেন না। ২০/৩০ মিনিট অন্তর অন্তর উঠবে, হাঁটবেন।
  • যাদের অতিরিক্ত ওজন, তাদের তো ভয় আছেই। একটু একটু করে ওজন ঝেড়ে ফেলুন। কী করে ওজন কমাবেন তার জন্য পুষ্টিবিদ এর সাথে আলাপ করতে পারেন।
  • ধরুন আপনি টিভি দেখছেন কিংবা বসে বসে কোন কাজ করছেন। কী করবেন জানেন এই সময়টায়? গরম পানি ভর্তি হট ওয়াটার ব্যাগ পিঠের পেছনটায় দিয়ে রাখবেন কুশনের মতো। গরম পানির ভাপ যে-কোন ব্যথা কমাতে সিদ্ধহস্ত।
  • শৈশবে আমাদের দাদি, নানি, মা, খালারা একটা কাজ করতেন। সরষের তেল আমাদের গায়ে মেখে দিয়ে আমাদেরকে রোদে শুইয়ে রাখতেন। সরষের তেল এর উপকারিতা যে কতখানি তা লিখে শেষ করা নিতান্তই অসম্ভব। তবে হ্যাঁ, এই বয়সেও সেই শৈশবের কাজটার পুনরাবৃত্তি করতে পারেন। ব্যথার জায়গায় সরষের তেল সামান্য গরম করে মেখে রাখবেন। এক ঘন্টা পর কুসুম গরম পানিতে গোসল করবেন। কয়েকদিন করতে পারেন। ফলাফল নিজেই দেখুন।

backpain exercise

এছাড়াও ভেষজ তেলগুলো মালিশের জন্য কিন্তু বেশ উপকারি। যে-কোন ব্যথাতে ভেষজ তেল গায়ে মাখার বেশ সুফল রয়েছে।

  • ব্যথার জন্য গরম দুধ খুব কার্যকর, এ আপনারা জানেন। আমাদের মায়েরা কিন্তু এখনও আমাদের যে-কোন রোগ কিংবা ব্যথার প্রতিষেধক হিসেবে আগেই গরম দুধ খেতে দেন। এবং আশ্চর্যজনকভাবে এটা কাজেও দেয়। একটা ছোটো কাজ করবেন। এখন থেকে দুধ খাওয়ার আগে সামান্য হলুদ আর মধু মিশিয়ে নেবেন। হলুদ, দুধ আর মধুর ভেতরকার ক্ষমতা আপনার শরীরের ভেতরের জন্য বেশ কার্যকর। বিশ্বাস না হলে খেয়েই দেখুন।
  • চায়ের নেশা আছে প্রায় অনেকের। এই শীতে চা তো আরও বেশিই দরকারের খাতায় নাম লিখিয়েছে। এক্ষেত্রে এই চা দিয়েই একটা প্রতিষেধক করতে পারেন। চা যখন বানাবেন, তখন সেই পানিতে কয়েক টুকরো আদা একটু ছেঁচে দিয়ে দেবেন। এরপর রস বেরোলে সামান্য চা পাতা দিয়ে ঢেকে দেবেন। প্রয়োজন মতো চিনি কিংবা মিছরি দিয়ে এই চা পান করুন। যেকোন ব্যথাতে আদার রস বেশ কার্যকরী একটা উপাদান।
  • সারাদিনের ক্লান্তি শেষে যখন আমরা বিছানার কাছে ফিরি তখন একদম গা এলিয়েই শুয়ে পড়ি কিংবা ঘুমিয়ে যাই। এই সময়টায় স্বাভাবিকভাবেই আমরা কেউই মাথায় রাখি না যে শোয়ার কিছু নিয়ম আছে। হাত পা যাচ্ছেতাইভাবে পেঁচিয়ে অথবা ছড়িয়ে ঘুমান অনেকেই আর ভুলটা এখানেই হয়। শোয়ার কিংবা ঘুমের কিন্তু সুন্দর কিছু নিয়ম আছে। ইউটিউব ঘাটলেই সে-সব আপনারা পেয়ে যাবেন।
  • চেষ্টা করবেন শরীরের বাইরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো যাতে নড়াচড়ার উপরে থাকে। অর্থাৎ হাত, পা, মাথা, ঘাড় কোন কিছু বেশিক্ষণ স্থির হয়ে না থাকে। নড়াচড়া করলে ব্যথা জেঁকে বসে থাকে না।
  • যদি ভারি কাজ কিংবা অতিরিক্ত ওজন বহনের অভ্যাস না থাকে তাহলে এড়িয়ে যান দয়া করে। এগুলো আপনার ব্যাক পেইন সহ শরীরের নানা জায়গায় ব্যথা সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

ভিন্ন আলাপন!

লেখনের এ পর্যায়ে প্রাসঙ্গিকতা বজায় রেখে একটু ভিন্ন আলাপনের দিকে ধাবিত হওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছি। আলাপনের শিরোনাম- এই ব্যাক পেইন কাদের বেশি হয়? একটু করে জানিয়ে রাখি, উপকারে এলেও আসতে পারে।

★ প্রথমে আসি কোমড়ে ব্যথার দিকে। সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোমড়ে ব্যথা বাড়ে। তবে হ্যাঁ, ৩০ এর পর থেকে কোমড় সহ নানান ধরণের ব্যথা বাড়ার উৎকর্ষ সময়। অনেকের ক্ষেত্রে এ ব্যথার বিষয়টা ৪০ এর পর গিয়ে শুরু হয়।

★ কায়িক পরিশ্রমের অভাবে যে অনেকের নানান ধরণের শারীরিক ব্যথা হতে পারে, এ কি আপনারা জানেন?

নিয়মিত কিছু ব্যায়াম, কায়িক শ্রমের অভাবে পেট ও পিঠের মাংসপেশিতে এক ধরণের চাপ পড়ে। ফলে সামান্য পরিশ্রমে ব্যথা হুট করেই বেড়ে যায়।

★ ওবেসিটি অর্থাৎ অতিরিক্ত ওজন যাদের, তাদের কোমড় আর পিঠের মাংসপেশিসহ হাড়গুলোতে ব্যথা অনুভূত হতে পারে, যখন তারা কোন কাজ করতে নেন।

★গর্ভকালীন সময়ে অনেক হবু মায়েদের পিঠে এবং কোমড়ে ব্যথা হয়ে থাকে। এর কারণ জানেন? গর্ভাবস্থায় শরীরের ওজন বেড়ে ভারি হয়ে যায়। শরীরের এই ভারিক্কি ভাবের কারণে পেশিতে চাপ পরে। অতঃপর….কোমড়ে ব্যথা।

★ কিডনির সমস্যা যাদের আছে কিংবা যাদের প্রস্রাবে ইনফেকশন আছে, তাদের অনেকের ক্ষেত্রে কোমড় ব্যথা হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। (একটু বলে রাখা ভালো, কিডনির সমস্যা কিংবা প্রস্রাবের ইনফেকশনে শুধু কোমড় ব্যথাই একমাত্র ব্যথা না বরং আরও অনেক সমস্যা দেখা দেয়। তাই কোমড়ে ব্যথা হলেই যে সেটা কিডনির সমস্যা কিংবা প্রস্রাবের ইনফেকশন, এটা ভাবার কোন কারণ নেই। )

★ আপনি কি বিষন্নতা প্রেমি? অর্থাৎ ডিপ্রেসড? একটু সাবধানতার প্রয়োজন আছে যদি উত্তর হ্যাঁ হয়। কেমন!

★ মদ, সিগারেটের অভ্যাস থাকলে ঝেড়ে ফেলে দিন। এ অভ্যাসগুলো কোমড়ে ব্যথার কারণ হতে পারে।

এখানে একটা তথ্য জানিয়ে দেই – যারা ধুমপান করেন তাদের জন্য সতর্কবার্তা বলতে পারেন। ধুমপানে রক্তনালী ধীরে ধীরে চিকন হতে থাকে। এর প্রভাবে কোমড় থেকে রক্ত প্রবাহ ঠিক ভাবে নিচের দিকে নামতে পারে না। এতে কী হয় জানেন? হাড়গুলো ঠিকঠাক পুষ্টি পায় না। ফলাফল – কোমড়ে ব্যথা, দুর্বলতা।

★ আরেকটা তথ্য দিয়ে রাখি- পুরুষের তুলনায় মেয়েরা ব্যাক পেইন অর্থাৎ পিঠে ব্যথা এবং কোমড়ে ব্যথার ক্ষেত্রে বেশি ভুক্তভোগী!

ভিন্ন আলাপনের এ পর্যায়ে প্রাসঙ্গিকতা বজায় রেখে আরও একটা সমাধান দাঁড় করাতে চাচ্ছি। ধরুন, আপনার ব্যাক পেইন হয়েই গেলো। কিংবা যে অভ্যাসগুলো আপনার আছে তাতে যে-কোন সময়েই আপনি ব্যাক পেইনের একজন নিয়মিত রোগী হয়ে উঠতেই পারেন। এক্ষেত্রে একটু সাবধানতার প্রয়োজন আছেন না বলেন?

এবার তাহলে যে সমাধানটিতে যাবো তার শিরোনাম – সাবধান হওয়ার মূহুর্ত কোনটি? অর্থাৎ ঠিক কোন সময়টায় গিয়ে আপনার থামতে হবে চিরচেনা অভ্যাসগুলো থেকে। আবার ধরুন, আপনি হয়তো ভাবছেন এটা খুব স্বাভাবিক সাধারণ ব্যথা, অথচ এটি ক্রমশ তীব্রতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। জানার প্রয়োজন আছে বইকি, তাই না বলুন? তাহলে শুরু করা যাক –

★ ধরুন, আপনার কোমড় ব্যথা আছে তবে এর সাথে বাড়তি হিসেবে প্রস্রাব কিংবা পায়খানার ক্ষেত্রে যদি কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। তবে অবশ্যই আপনাকে সতর্ক হতে হবে এবং কালবিলম্ব না করে চিকিৎসক এর শরণাপন্ন হতেই হবে।

★ ব্যাক পেইন এর সাথে গায়ে কি জ্বরাভাব থাকে আপনার? জি এক্ষেত্রেও আপনাকে চিকিৎসক এর শরণাপন্ন হতে হবে।

★ অনেক ক্ষেত্রে এমন হয় না? ধরুন কোন আঘাত পেলেন, আর সেই আঘাতের ফলাফল স্বরূপ ব্যাক পেইন বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। হয় না এমন? এ-সব ক্ষেত্রে হেলাফেলা করার একদম উপায় নেই, জানেন? এমন হলে আপনাকেই বলছি, সতর্কতা অবলম্বন এর সময় আপনারও হয়েছে।

★ ব্যাক পেইন এর বিষয়টা এমন যে বিশ্রাম নিলে আর নিয়ম করেই কিছু নিয়ম মানলে এই ব্যথা থেকে মুক্তিলাভ সম্ভব। কিন্তু ধীরে ধীরে যদি এই ব্যথা তীব্রতার পথে এগোয় তবে সেই ব্যথাকে লালন-পালন করার চাইতে চিকিৎসক এর পরামর্শ নেওয়া আপনার জন্য অবশ্য কর্তব্য।

★ পিঠে কিংবা কোমড়ের এই ব্যথা যদি নামতে নামতে এক পায়ে অথবা দুই পায়ে বিশেষ করে হাঁটুতে নেমে আসে তবে আপনার আর হেলা করার অবকাশ নেই।

★ মদ পান, ধুমপান ইত্যাদির বাজে অভ্যাস যাদের আছে তাদের আবার বলছি, সময় থাকতে একটু সাবধান, কেমন?

★ আবার ধরুন আপনার সাধারণ মাপের ব্যাক পেইনই আছে। কিন্তু বাড়তি হিসেবে যদি ধীরে ধীরে ওজন কমার ঘটনা ঘয়তে থাকে তবে সচেতনতার সময় ঘনিয়েই এসেছে, ধরে নিন।

★ শুধু ব্যাকপেইন হলে ঘরোয়া কিছু প্রতিকারেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু দুর্বলতা, শরীরে অবশভাব এবং পায়ের ঝিনঝিনভাব যদি দেখা দেয় তাহলে আপনাকে সতর্ক হতে হবে।

যতক্ষণ পর্যন্ত ঘরোয়াভাবে সম্পূর্ণ ব্যথা নিরাময় করা যায় কিংবা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় ততক্ষণ পর্যন্ত দয়া করে নিয়ম মেনে চলুন। নয়তো একবার যদি ঔষধ আর অপারেশনের দিকে এগোন, বিশ্বাস করুন ছাড়াছাড়ির সুযোগ আর পাবেন না। তাই অপারেশন কিংবা ঔষধের উপর নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর আগে প্রকৃতির উপরেই না হয় প্রথম নির্ভরতা বাড়ুক!

Image Source: pixabay.com

Filed Under: Lifestyle (জীবনযাপন )

ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের বলিরেখা দূর করুন

by লামিয়া তানজিন মাহমুদ

ক্ষুদ্র মানব শিশু! জগতের সবচেয়ে রহস্যময় অথচ অপূর্ব এক সৃষ্টি। গড়নে নিখুঁত। সময়ের পরিক্রমায় বয়স বাড়তে বাড়তে যখন তারুণ্য পেরিয়ে একটু আগায় তখনই যেন কিছু ‘না শুনতে চাওয়া’ শব্দেরা চারপাশ থেকে বিদ্ধ হতে থাকে কানে। অনেকটা জানান দেয় ঘরে থাকা আয়নাটাও। আর বয়স তো জানান দেয়ই! পাল্টাচ্ছে সময়, বাড়ছে বয়স! পরিবর্তন হচ্ছে শরীরে, হচ্ছে মনে। হবেও। এই-ই নিয়ম। নিয়মের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে সব পাল্টানোর দলে নাম লিখিয়েছে মানব দেহ, ত্বক, সবকিছুই। জানিয়ে দিচ্ছে, আর ছোট্টটি নেই আপনি। বড়ো হয়েছেন, বুড়িয়ে যাচ্ছেন!

বলছি হালের চিন্তার বিষয়- ‘মুখে বয়সের ছাপ বা ত্বকের বলিরেখা‘ নিয়ে। চিন্তার বিষয়ই বটে! বয়স হলেও বয়সটা লুকোতে স্বচ্ছন্দ আমরা সবাই। কে চাইবে ত্বকে মুখে বয়স বুঝাতে? কেউই না। তাই বলে বয়স বাড়লেই যে বলিরেখা কিংবা মুখে বয়সের ছাপ পড়বে, বিষয়টি কিন্তু তা না। অনেকের খুব বয়সেও অত ছাপ পড়ে না আবার অনেককেই দেখবেন কম বয়সে মুখে বয়সের ছাপ পড়েছে।

এর কারণ কী হতে পারে বলুন তো?

মুখে বয়সের ছাপ বা বলিরেখা! কী এই জিনিস?

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কমে যায় কোষের কার্যক্ষমতা। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে যাকে বলা হয় জৈবিক ক্ষমতা হ্রাস। যাদের প্রভাব শরীরে সহজেই দৃশ্যমান হয়। বিশেষ করে মুখে। কি তাইতো? বয়স যত বাড়তে থাকে, শরীরে থাকা এনজাইম কাজ করা তত কমাতে থাকে। এক পর্যায়ে গিয়ে কাজ করা বন্ধই করে দেয়। তখন ত্বকে কিছু ছাপ পড়ে, ভাজ পড়ে, যেগুলোকে বয়সের ছাপ কিংবা বলিরেখা বলা হয়।

বলিরেখা পড়ার জায়গাগুলোও অদ্ভুত। মুখে, চোখের নিচে, ঠোঁটের চারপাশে বয়সের ছাপ গুলোকেই বলিরেখা বলে। জায়গাগুলো অদ্ভুতই বটে! বয়স বুঝিয়েই ছাড়ছে। বলিরেখা নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাও কিন্তু এখানে। অবেকেই ভাবেন, বলিরেখা মানেই বয়স বৃদ্ধি। অর্থাৎ যার যত বয়স, তার মুখেই বলিরেখা থাকবে। যদি এ কথায় কেউ ভুল খুঁজে না পান তাহলে পাশ্চাত্য দেশের নায়ক নায়িকাদের বয়স ধরে রাখার সূত্রটা কী হতে পারে বলে আপনি মনে করছেন? কিংবা বাংলাদেশের চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা অথবা জয়া আহসান নিয়েই বা কেমন ভাবনা আপনাদের? বয়স কত হতে পারে তাঁদের? বলিরেখা পান তাঁদের মুখে? না পেলে কেন?

প্রশ্নোত্তর পর্ব বাদ রেখে চলুন খোলাসা করি বিষয়টা। বলিরেখার জন্য বয়স আসলেই কিছু না। বলিরেখার কারণ হিসেবে তালিকার শীর্ষে আছে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্নি। বয়স কিছুই না। বরং বয়স ধীরে ধীরে বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। বয়স কম থাকাকালীন শরীরে কোষ বিভাজন এবং কোলাজেন তৈরি দুটির হার বেশি থাকে। যাতে ত্বক টানটান থাকে আর চাকচিক্য ভাব বজায় থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে কোষ বিভাজন এবং কোলাজেন তৈরির হার কমতে থাকে ফলে ত্বক ঢিলে হতে থাকে। সেই সাথে কমে যায় ত্বকের চাকচিক্য।

সুতরাং বলিরেখার সাথে বয়স বৃদ্ধির যে অমন কোন সম্পর্ক নেই, সে ব্যাপারে ধারণা কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে না পাঠক? বয়সের ছাপ কিন্তু যে-কোন বয়সেই পড়তে পারে। কারও কিশোর বয়সেই বয়সের ছাপ পড়ে, অনেকের ৩০ পেরোলেও বয়স বোঝা যায় না। বয়সের ছাপের এই প্রক্রিয়াটা মূলত শুরু হয় শরীরের ভেতরে। পরে বাইরে এর প্রভাব পড়ে। তবে এখানে আরও একটা ব্যাপার আছে। চেহারাতে বয়সের ছাপ কতটা পড়বে আর কোন বয়সে পড়বে তা কিন্তু অনেকটাই নির্ভর করে আপনার বংশীয় কিছু বিষয়ের উপর। কেমন সেটা?

বংশে কারও ডায়াবিটিস হলে অন্যদেরও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, এ আপনারা জানেন। ঠিক তেমনি আপনার বংশে যদি কম বয়সেই ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা কিংবা সমস্যা থাকে তবে আপনি ধরে নিন আপনারও এটা হবেই। কিন্তু হ্যাঁ, এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব! কীভাবে জানেন? কোন কিছুর সমাধানে আসার আগে সমস্যাটি খুব ভালোভাবে বুঝে নিতে হয়, এ আপনারা জানেন। সে কাজটিই করবো এখন। বলিরেখা নিয়ে আদ্যপান্ত জানবো। এতে কী হবে জানেন? সমস্যার বিস্তারিত বুঝতে পারলে সমাধান বের করতে আর নতুন সমস্যা হবে না। তাই না? চলুন শুরু করা যাক-

বলিরেখা কিংবা মুখে বয়সের ছাপ! কেন?

কোন কিছুর সমাধানের জন্য সমস্যার গভীরে যাওয়া আবশ্যক। মুখে বয়সের ছাপ কিংবা বলিরেখা সংক্রান্ত সমস্যার ঘরোয়া সমাধানে যাওয়ার আগে একটু করে জানিয়ে রাখতে চাই কেন এই বলিরেখা-

পাঠক, কোলাজেন নিয়ে একটু আগে আলাপ করছিলাম। মনে আছে নিশ্চয়ই? মূলত কোলাজেনই ত্বক টানটান রাখে। বয়স বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে ত্বকে কোলাজেন তৈরির যে স্বাভাবিক ক্ষমতা, তা কমে আসে। আর এতেই ত্বক বুড়িয়ে যেতে থাকে।

এ তো গেলো বলিরেখা সংক্রান্ত শরীরের ভেতরের খবর। বাইরেরও কিছু প্রভাব আছে বইকি! মানসিক যে-কোন চাপ, রোদে বেশিক্ষণ থাকা, পানি কম খাওয়া, ধুমপান, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ঘুমের সময় বালিশের চাপের কারণে ত্বকে দাগ পড়াসহ মুখের নানান রকম ভঙ্গিমার কারণেও কিন্তু ত্বকে এবং মুখে বলিরেখা কিংবা বয়সের ছাপ দেখা দেয়।

বলিরেখা না পড়ুক!

অনেক কথার ফুলঝুড়ির পর এবার আসি সমাধানে। যেন-তেন সমাধান নয়, একদম ঘরোয়া। বর্তমানে সয়লাব হয়ে যাওয়া নকলের ভিড়ে প্রয়োজনীয় কিছু খুঁজে পেয়ে ব্যবহার করা দুষ্করই বটে! আবার এক সমস্যা দূর করতে গিয়ে অন্য সমস্যার উদ্ভব হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই না পাঠক? সে কারণে কৃত্রিমতা বাদ দিয়ে প্রকৃতির কাছে নিয়ে যাচ্ছি আপনাদের। কারণ একমাত্র প্রাকৃতিক কিছুই সম্পূর্ণ ভরসাযোগ্য, এ কিন্তু নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। অতএব….

বয়স বাড়ার সাথে মুখে বয়সের ছাপ পড়বেই, এটা যেন চিরন্তন সত্য। তবে বয়সের ছাপ পড়ার এই গতিকে কিন্তু ঘরোয়াভাবেই ধীর করতে পারবেন আপনি। চাই কিছু প্রচেষ্টা। তো চলুন ঘরোয়াভাবে কীভাবে বলিরেখা দূর করবেন সে সম্পর্কে জেনে নেই-

জীবনধারা পালটে ফেলুন!

আচ্ছা পাঠক, একটু ভেবে বলুন তো! আপনারা কে কীভাবে জীবন চালাচ্ছেন? প্রশ্ন দেখে কপাল কুঁচকে এলো কি? আচ্ছা সহজ করে দিচ্ছি- আপনার দৈনন্দিন খাবার গুলো কী? খাদ্যাভাস সম্পর্কে একটু ভাবুন। না! এখানেই শেষ নয়, আরও আছে। এরপরের ভাবনা শারীরিক ব্যায়াম নিয়ে। করেন তো প্রত্যেহ? ঘুম ঠিকঠাক হয় তো? প্রাপ্তবয়স্কদের জব্য ঘুম মানেই কিন্তু ৮ ঘন্টা। বয়সের সাথে সাথে বুড়িয়ে যাওয়া এড়াতে কিংবা বুড়িয়ে যাওয়ার গতি ধীর করতে এই তিন বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কোন ৩ টি?

  • খাদ্যাভ্যাস।
  • শারীরিক ব্যায়াম।
  • পর্যাপ্ত ঘুম অর্থাৎ ৮ ঘন্টা ঘুম।

কি মনে থাকবে তো? এই তিনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু খাদ্যাভ্যাস। যে অভ্যাসের সূচনা করতে হয় বয়সের ছাপ পড়ার আগেই। কিছু খাবার আছে যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে বেশ সহায়ক। সুতরাং খাদ্যতালিকায় সে খাবারগুলোর অগ্রাধিকার অবশ্যই বেশি থাকবে। কি তাইতো?

খাদ্যাভ্যাস এর পাশাপাশি একটা বিষয় মনে করিয়ে দেই, পানি পান করবেন। অনেকেই পানির পিপাসা পায় না, জানেন? এর মধ্যে শীতকাল আসন্ন। শীতকালে ঠাণ্ডার ভয়েও অনেকে পানি পান করেন না। কিন্তু ভয়ংকর তথ্য কী জানেন? ত্বকে পানির পরিমাণ কমে গেলেই কিন্তু মুখে বয়সের ছাপ আরও স্পষ্ট আকারে বসে যায়। পানির অভাবে যদি আদ্রতা হারিয়ে ত্বক শুকিয়ে যায়, তাহলে যত দামি ক্রিম বা লোশনই হোক না কেন, কাজে দেবে ন। এ আপনারা মিলিয়ে নিন। শুধু পানি পানে সমস্যা হয় অনেকের। বমি বমি ভাবও হয়। সেক্ষেত্রে পরামর্শ দিচ্ছি পানি আছে এমন কিছু খাওয়ার। যেমন- শাক, সবজি, ফল, সালাদ,  শরবৎ, স্যুপ ইত্যাদি।

মোট কথা শরীরে লিকুইড প্রবেশ হতে দেবেন। এটা আপনার ত্বক ভালো রাখবে, সতেজ করবে ভেতর থেকে। অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে যাবেন। খাদ্যতালিকায় রাখবেন সহজপাচ্য সব খাবার যা সহজে হজম হয়। ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই যুক্ত খাবার অবশ্যই রাখবেন খাদ্যতালিকায়। এই দুই জাতীয় ভিটামিন ত্বক সতেজ রাখতে বেশ কার্যকর। আর হ্যাঁ, সাপ্লিমেন্ট কিছু খাবেন না। এমন কিছুই খাবেন যাতে শরীরে সরাসরি পুষ্টি যায়।

এড়িয়ে চলুন কৃত্রিম সব প্রসাধনী!

সাজগোজ পছন্দ করেন এমন মানুষের সংখ্যাটা কেমন হতে পারে বলে আপনাদের ধারণা?

অবশ্যই কম নয়, তাই না? আচ্ছা এবার বলুন তো, সাজগোজ করা ক’টা মানুষের মুখ ত্রুটিহীন দেখেছেন? ত্রুটিহীন বলতে বুঝাচ্ছি বয়সের ছাপ, ব্রন জাতীয় বিষয়াদি। অনেকে এগুলো ঢেকে রাখতেই ব্যবহার করেন নানান ধরণের কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী। সাময়িক উপকার পেলেও এর খেসারত হয় মারাত্মক ধরণের। ফেইসবুক এবং পত্রিকাগুলোতে অনেকের ত্বক পুড়ে যাওয়ার ঘটনা আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন। পুড়ে যাওয়ার কারণ এই কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী। মোটকথা হলো, কৃত্রিম কোন কিছুই ভালো নয়।  হোক সেটা সাধারণ বা প্রাকৃতিক বলে বিক্রি করা সাবান কিংবা ফেইসওয়াশ।

এখন প্রশ্ন আসা খুব স্বাভাবিক যে, “যদি সাবান কিংবা ফেইসওয়াশ বাদ দিতেই হয় তবে মুখ ধুবো কী দিয়ে?”

উত্তর- দুধের সর, কাঁচা হলুদ, ময়দা, গোলাপজল, অ্যালোভেরা, ডিম, খুব ভালো মানের তেল, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন। বাস! হয়ে এলো! একটা ব্যাপার জানিয়ে রাখি, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন না। এবং সানস্ক্রিন কেনার আগে অবশ্যই রঙহীন ও গন্ধহীন দেখেই কিনুন।

সানস্ক্রিন ব্যবহারের একটা নিয়ম জানিয়ে দিচ্ছি

দিনের আলোতে যদি বাড়িতে কিংবা অফিসে থাকেন তাহলে কমপক্ষে ২ বার সানস্ক্রিন লাগাবেন। আর বাইরে থাকলে প্রতি ২ ঘন্টা পরপর ১ বার করে সানস্ক্রিন লাগাবেন। খেয়াল রাখবেন, ত্বক যেন কোনভাবেই শুষ্ক হয়ে না যায়।

ডুব দিন প্রকৃতিতে

কেবল প্রাকৃতিক ছাড়া আর কিছুতেই স্বয়ংসম্পূর্ণ কিছু পাওয়া কিন্তু নিতান্তই অসম্ভব। এককালে রূপচর্চা বলতে প্রাকৃতিক বিষয়ই বুঝানো হতো। কিন্তু এখন দিনকাল বড্ড পাল্টেছে। যতই বলি, মেইক আপে সব সম্ভব কিন্তু প্রাকৃতিক আর কৃত্রিমতার মধ্যে বিস্তর একটা ফারাক আছে। আর সে কারণেই কিছু প্রাকৃতিক উপাদান নিয়ে জানাবো আপনাদের। যার কিছু না কিছু ঘরেই থাকে। চলুন শুরু করা যাক-

অ্যালোভেরা

বাংলায় ঘৃতকুমারী, ইংরেজিতে অ্যালোভেরা। মোটামুটি পরিচিতি একটা সবুজ উদ্ভিদ। গন্ধ এবং স্বাদের কারণে অনেকে নাক ছিটকালেও এর উপকার কিন্তু অনবদ্য। বিশেষ করে ত্বকের জন্য। ত্বকের অসংখ্য সমস্যার অসাধারণ একটি সমাধান এই অ্যালোভেরা প্রাকৃতিকভাবেই ঝুলে ও কুঁচকে যাওয়া বলিরেখাযুক্ত ত্বককে করে তোলে টানটান।

শরীরের যে জায়গাগুলো কুঁচকে যায়, ঝুলে যায় কিংবা বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করে সে জায়গাগুলোতে অ্যালোভেরা জেল মাখিয়ে আলতো হাতে ম্যাসাজ করলে উপকার পাবেন। ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট রেখেই ধুয়ে নেবেন জায়গাগুলো।

অ্যালোভেরার জেল বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে ভালো হয় সরাসরি গাছেরটা ব্যবহার করতে পারলে। রোজ ব্যবহারেই ফল পাবেন। তবে হ্যাঁ, ধৈর্য ধরেই রোজ ব্যবহার করতে হবে। একদিন করলেন, দু’দিন বাদ দিলেন, এভাবে হবে না। যাই করবেন, করতে হবে নিয়মিত। এই হলো কথা।

গোলাপজল

গোলাপজল যারা ব্যবহার করেন বা ইতোমধ্যে করে ফেলেছেন তারা কিন্তু এই পানির গুরুত্ব বেশ অনুধাবন করতে পারেন। কি তাইতো?

সৌন্দর্যের বন্ধু গোলাপজল বলিরেখা দূর করব ত্বককে করে তোলে টানটান এবং লাবণ্যময়। রাতে ঘুমোনোর আগে শরীরের যে জায়গাগুলোতে বলিরেখা পড়েছে সে জায়গাগুলোতে গোলাপজল লাগান তুলোতে মিশিয়ে। অর্থাৎ গোলাপজলে তুলো ভিজিয়ে নিয়ে সে ভেজানো তুলো বলিরেখা হয়েছে এমন জায়গায় আলতো করে লাগান। সারারাত রাখুন। সকালে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত করুন কাজটি। ফলাফল নিজেই দেখুন।

একটা বিষয় জানিয়ে রাখি, আসল গোলাপজল না হলে কাজ হবে না৷ আর আসল গোলাপজল পাওয়াটাও কঠিন, তাই না? সেক্ষেত্রে ঘরেই বানিয়ে ফেলতে পারেন গোলাপজল। কী করে? জানাচ্ছি-

গোলাপ জলের জন্য প্রথমেই লাগবে গোলাপ ফুল। নিজের গাছের হলে তো খুবই ভালো। বাইরে থেকে কিনে আনা হলে খেয়াল রাখবেন এই ফুলে যাতে কোন কেমিক্যাল মেশানো না থাকে। অর্থাৎ পুরো টাটকা ফুলই লাগবে গোলাপজল বানাতে।

১ কাপ পরিমাণ গোলাপের পাপড়ি আলাদা করে একটা কাঁচের পাত্রে রাখুন। ২ কাপ পরিমাণ পানি সেদ্ধ করে সেই কাঁচের জারে রাখুন। ৩০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর পানিটা ছেঁকে নিন। ছেঁকে নেওয়া পানি ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে ব্যবহার করুন। যেহেতু ঘরোয়া এবং প্রিজারভেটিভ নেই তাই ১ সপ্তাহের মতো ব্যবহার করতে পারবেন। এরপর শেষ হয়ে এলে আবার একই নিয়মে বানিয়ে নেবেন। খুব সহজ না?

ডিম

ব্যাচেলর্স ফুড নামে খ্যাত এই ডিমকে চুলের যত্নে ব্যবহৃত হতে দেখলেও ত্বকের যত্নে অনেকেই হয়তো সেভাবে দেখেননি। এবার জানবেন এবং ঘরে তৈরি করে দেখবেনও। জানাচ্ছি ব্যবহারবিধি-

ডিম থেকে সাদা অংশ আলাদা করে বিট করে ফোম বানান। এই ফোম বলিরেখা যুক্ত স্থানে মাখিয়ে রাখুন। শুকিয়ে এলে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহার করুন। সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৪ বার। ত্বক টানটান হয়ে উঠবে।

মধু

মধুকে অনেক রোগের ঔষুধ বলা হয়। মহৌষধ খ্যাত এই মধুর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদানের কারণে এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি সহ শরীরের ভেতর থেকে অনেক রোগ সারিয়ে তোলে। এমনকি মধু ত্বকের অ্যাকনে দূর করতেও সাহায্য করে। প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকার কারণে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ার গতিকে মন্থর করে দেয় মধু। শুষ্কতা, রুক্ষতা দূর করতেও মধুর বিকল্প নেই।

মধুর ব্যবহার

মধুর ব্যবহার মোটেও কঠিন কিছু না। নিয়ম করে রোজ ব্যবহার করবেন। শুধু পানি দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে আলতো হাতে মধু মাখাবেন মুখে। কিছুক্ষণ রেখে আবার শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নেবেন। এভাবে রোজ করবেন। পার্থক্যটা ক’দিন বাদেই টের পাবেন।

আমন্ড অয়েল

তেলের নাম শুনে যারা অ্যালার্জির ভয় পাচ্ছেন তাদের জন্য বলছি- অ্যামন্ড অয়েলে অ্যালার্জির কোন সম্ভাবনা নেই। এই তেলটিকে ত্বক খুব দ্রুতই শুষে নেয় ফলে মুখ চটচটে হয় না। বরং ঝকঝকে, দাগহীন এবং উজ্জ্বল হয়ে উঠে ত্বক। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে তেলটিতে ফলে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্নি থেকে ত্বকে সুরক্ষা করে৷ এতে কী হয় জানেন? মুখে বয়সের ছাপ পড়ে না। এছাড়া অ্যামন্ড অয়েলে থাকা কোলাজেনই মূলত ত্বকে বয়সের ছাপ এড়াতে সহায়তা করে।

শুধু ত্বক নয় বরং চোখের ডার্ক সার্কেল এর দাগ দূর করতেও কিন্তু অ্যামন্ড অয়েল বেশ কার্যকর।

  • ব্যবহারের নিয়ম

রাতে ঘুমোনোর আগে ভালো করে মুখ ধুয়ে আলতো করে অ্যামন্ড অয়েল মুখে মাখিয়ে নিন। সারারাত রাখুন। সকালে ঘুম থেকে ভালো করে মুখ ধুয়ে নিন। নিয়ম করে রোজ ব্যবহার করুন এবং ফলাফল দেখুন।

অলিভ অয়েল

ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ও আদ্রতা বাড়ানোর জন্য অলিভ অয়েলের বিকল্প নেই বললেই চলে। তুলোর সাহায্যে অলিভ অয়েল মুখে মাখিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলবেন। নিয়মিত করুন। উপকার পাবেন।

লেবুর রস!

হালকা করে লেবুর রস মুখে মাখিয়ে ১০ মিনিট পরেই ধুয়ে ফেলুন। অনেকের মুখে লেবুর রস সরাসরি সহ্য হয় না। সেক্ষেত্রে পানি দিয়ে প্রথমে মুখটা ভালোভাবে ধুয়ে নেবেন। এরপর লেবু কেটে মুখে আলতো করে ঘষে ঘষে লাগাবেন। উপকার পাবেন। বেশি লাগাবেন না। অনেকের র‍্যাশের সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে খুব সংবেদনশীল ত্বক হলে লেবু পুরোপুরি বাদ দেবেন।

কলা

বলতে গেলে প্রায় বারোমাসি এই ফল বাসার আশেপাশেই পাওয়া যায়। ভীষণ সহজলভ্য এবং দামেও সস্তা আর পুষ্টিতে অনবদ্য এই কলার ব্যবহার শুধু খাওয়াতেই নয় বরং ত্বকের জন্যও প্রযোজ্য। সেক্ষেত্রে ত্বকের জন্য পাকা কলা ব্যবহার করবেন। পেকে যাওয়া কলা চটকে নিয়ে পেস্ট করুন বা ব্লেন্ড করেও নিতে পারেন। মুখে মাখিয়ে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলবেন। নিয়মিত ত্বকে কলার ব্যবহার আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলবে।

আনারস

ফল হিসেবেই  বেশ সুস্বাদু ও উপকারি হিসেবে খ্যাত এই আনারসের ব্যবহার যে ত্বকেও হতে পারে, সেটা হয়তো অনেকের ভাবনার বাইরে। মুখের বলিরেখা দূরীকরণে আনারসের ভূমিকাও কিন্তু কম না। কয়েক টুকরো আনারসের পেস্ট বানান অথবা শুধু রসটা নিন। মুখে মাখিয়ে শুকিয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে এলেই ধুয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহার করুন। উপকার পাবেন বইকি।

ঘরোয়া টোটকা

এত-শত কথার ভিড়ে অনেক কিছু নিয়েই মোটামুটি একটা ধারণা হলো, তাই না? এবার তবে আলোচ্য বিষয় যা নিয়ে সেদিকে সরাসরি চলে এলে মন্দ হয় না। বলছিলাম, ঘরোয়াভাবে বলিরেখা দূর করার উপায় নিয়ে। চলুন কিছু টোটকা জেনে আসা যাক-

ওটমিলের ঘরোয়া স্ক্রাব

যা লাগছে-

  • ১ টেবিল চামচ ওটমিল।
  • ১ টেবিল চামচ জলপাই তেল।
  • ১ চা চামচ মধু।

এই তিন জিনিস একত্রে মেশান, পেস্ট তৈরি করুন। পেস্ট তৈরি হয়ে এলে মুখে ঘষুন। ২ মিনিটের মতো রাখুন। ধুয়ে ফেলুন।

মিল্ক স্ক্রাব

পরিমাণ মতো গমের ভুসি ও ক্লেঞ্জিং মিল্ক একত্রে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে মাখিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। ধুয়ে ফেলুন।

শুধুই নারিকেল তেল

ঘরে একদম প্রাকৃতিক নারিকেল তেল আছে? তাহলে নির্ভয়ে এবং নিশ্চিন্তে থাকুন। ঘুমোবার আগে পুরো মুখে, ঘাড়ে নারিকেল তেল ম্যাসাজ করুন। পুরো রাত রাখুন। ত্বকের বার্ধক্য দূর করতে নারিকেল তেলের তুলনা হয় না। এই তেল ত্বকের গভীরে পৌছে ত্বকে ভেতর থেকে পুষ্টি দেয়। ত্বকের স্বাভাবিক বার্ধক্য প্রক্রিয়াকেও নষ্ট করতে সাহায্য করে নারিকেল তেল। তবে তেলটা খাটি হতে হবে।

নারিকেল তেলের ব্যবহার এখানেই শেষ নয়। আরেকটা ব্যবহার আছে। যেটাতে লাগবে শুধু হলুদ আর খাটি নারিকেল তেল। দুটো একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। বলিরেখা আছে এমন স্থানে মাখিয়ে রাখুন। শুকিয়ে এলেই ধুয়ে নিন। এই পেস্ট এর ব্যবহার আপনার ত্বককে নরম করবে। বলিরেখা দূর করে আরও উজ্জ্বলতা বাড়াবে। মূলত ত্বকের জন্য হলুদ কিন্তু খুবই কার্যকরী। কতটা কার্যকরী সে প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয়-

হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকে কোলাজেন এর উৎপাদন এর সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। এতে ত্বক টানটান হয়।

গাজর মধুর পেস্ট

বাসায় গাজর থাকে? অন্তত বাসার আশেপাশে বাজারে তো কিনতে পাওয়া যায়, তাই না? ভালো করে ধুয়ে মনমতো টুকরো করে সেদ্ধ দিন। সেদ্ধ হয়ে এলে মধুর সাথে মিশিয়ে সেদ্ধ গাজর ব্লেন্ড করে নিন। পেস্টের মতো হয়ে এলে সেটা বলিরেখা আছে এমন জায়গায় মাখান। শুকিয়ে এলে ধুয়ে নিন।

গোলাপ জল ও দুধ

খুবই চেনা এবং নাগালের মধ্যে থাকা দুটো উপাদান নিয়ে এবারের ঘরোয়া টোটকা জানাচ্ছি-

দুধ এবং গোলাপ জল একই পরিমানে নিয়ে মেশান। মিশ্রণটিতে তুলো ডুবিয়ে আলতো করে বলিরেখায় মাখুন। শুকিয়ে আসা অবধি মুখে মিশ্রণটি রাখুন। এরপর শুধু পানি দিয়ে ভালো করে মুখটি ধুয়ে নিন। ত্বক টানটান করতে এই মিশ্রণটি খুব কাজের। এতে বলিরেখা ধীরে ধীরে দূর হয়ে যায়।

অ্যালোভেরা ও কাঠবাদাম

টোটকায় যাওয়ার আগে আলাদাভাবে অ্যালোভেরা আর কাঠবাদাম নিয়ে কিছু বিষয় জানিয়ে রাখি-

অ্যালোভেরার কাজ ত্বকের বলিরেখা কমিয়ে ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল, মজবুত আর নরম করে তোলা। কাঠবাদাম প্রচুর তেল সম্বলিত একটি সহজলভ্য ড্রাই ফ্রুট। বয়সের ছাপ এড়াতে কাঠবাদাম খুবই কার্যকর। এবার টোটকায় চলে আসি।

  • যা লাগছে

সারারাত ভেজানো কয়েকটা কাঠবাদাম।

একটা টাটকা অ্যালোভেরার পাতার জেল।

  • জেল সংগ্রহের নিয়ম

পাতার উপর নিচ আলাদা করে ভেতরে স্বচ্ছ নরম অংশটি ব্লেন্ড করে নিন। হয়ে গেলো অ্যালোভেরা জেল।

  • যা করা লাগবে

ভেজানো কাঠবাদাম শিল পাটায় মিহি করে বেটে নিন। ব্লেন্ডারের কথা বললাম না কারণ কয়েকটা কাঠবাদামের জন্য অনেকক্ষেত্রে ব্লেন্ড হয় না। অনেকক্ষেত্রে মিহিও খুব হয় না যদি খুব অল্প পরিমাণে কেউ ব্যবহার করে। সেক্ষেত্রে ভরসা করার মতো শিল পাটাই শ্রেয়।

তো শিল পাটায় বেটে নেওয়া এই কাঠবাদামগুলোকে রেখে দিয়ে এর ভেতর অ্যালোভেরা পাতা থেকে সংগ্রহ করা জেলটি দিন। ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটা মুখে মাখিয়ে নিন। শুকিয়ে এলে ধুয়ে ফেলুন।

লেবুর রস ও পুদিনা পাতা

কিছুটা পুদিনা পাতার রস আর লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এতে তুলো ডুবিয়ে সেই তুলো বলিরেখা যুক্ত স্থানে মাখান। চোখের নিচে থাকা ডার্ক সার্কেলেও মাখান। শুকানো পর্যন্ত রেখে দিন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল ও টানটান হবে।

পেপে ও টকদই

ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে পেপে কিন্তু দারুণ কার্যকরী। সমপরিমাণ টকদই আর পেপের পেস্ট একসাথে মিশিয়ে আলাদা পেস্ট তৈরি করুন। মুখে মাখুন। শুকিয়ে এলে ধুয়ে নিন। বাস!

কফি প্যাক

কফিপ্রেমি মানুষদের জন্য একটা সংবাদ, খাওয়ার পাশাপাশি এই কফি আপনি চাইলে মুখেও দিতে পারবেন। এ জন্য সামান্য কিছু কাজ করতে হবে-

নারিকেল তেল, চিনি, দারুচিনি, সহনীয় মাত্রার গরম পানি আর কফি- সবটা মিলিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে মাখুন। মুখের অতিরিক্ত তেল দূর করবে এটা। ত্বককে টানটান করে তুলবে।

ভাতের মাড়ের প্যাক

শিরোনাম দেখে আঁৎকে উঠেছেন যারা, তাদের জন্য বলছি, ভাতের মাড় কিন্তু ত্বকের জন্য বেশ কাজের। ইউটিউবে ঘাটাঘাটি করলে তথ্যটা পেয়ে যাবেন, জাপান, কোরিয়া, তাইওয়ান, চিনের মেয়েদের বয়স ধরে রাখার পেছনে ভাতের মাড়ের অবদান কিন্তু আসলেই গুরুতর। তেমনই একটি টোটকা জানাচ্ছি আজ-

ভাত হয়ে আসার আগে মাড় কিছুটা মাড় ছেঁকে নিবেন। ঠাণ্ডা করে ওতে মেশাবেন দুধ আর মধু। এখন এই মিশ্রণ মুখে মাখিয়ে শুকিয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। এরপর সেদ্ধ চালের পানি মানে ভাতের পাতলা মাড় দিয়ে মুখ ধুয়ে নেবেন। এরপর এই অবস্থায় আরও কিছুক্ষণ থেকে মুখ শুকিয়ে এলে তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে নেবেন। ৭ দিন পর পার্থক্য দেখুন।

বয়সের ছাপ কমিয়ে এনে বলিরেখা দূর করে এই প্যাক। তাছাড়া ত্বকের লাবণ্য বাড়াতেও বেশ কার্যকরী প্যাকটি।

দুধ ও কোকো পাউডার

মুখের জন্য কতটাই আর লাগবে? আন্দাজমতো কোকো পাউডার আর দুধ মিশিয়ে পেস্ট করে নিন। যতটা কোকো পাউডার আর অর্ধেকটা দুধ নেবেন এক্ষেত্রে। মুখে মাখিয়ে অপেক্ষা করুন শুকানোর। ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে নিন মুখটা। ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহার করুন।

ডিম এর প্যাক

একটা তথ্য জানিয়ে রাখি, মুখের যে-কোন কিছুতে ডিমের সাদা অংশটা ব্যবহার করবেন। কেন করবেন, এই প্রশ্নের উত্তরে আগাম জানিয়ে রাখি, প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে টানটান করার ক্ষমতা আছে ডিমের সাদা অংশের।

টক দই আর ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। বলিরেখা এবং রোদে পোড়া জায়গায় মাখান পেস্টটা। শুকিয়ে এলেই ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ন্যূনতম ২ দিন করুন এই কাজটা।

ডিমের আরেকটা কাজ আছে। মধুর সাথে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিন। মেশানো হয়ে এলে মুখে মাখান। শুকিয়ে এলে ধুয়ে নেবেন উষ্ণ গরম পানি দিয়ে। গরম পানি বলতে ধোয়া ওঠা টগবগে পানি না কিন্তু। ত্বকে সহ্য করতে  পারবেন, এমন মাত্রার পানি। নিয়মিত এটাও করতে পারেন।

আলু ও আপেল

ভিন্নধর্মী দুই জিনিসকে এক করতে যাচ্ছি। ত্বকের বলিরেখা যুক্ত স্থানেই তো মাখাবেন, কতটা আর লাগতে পারে? সমপরিমাণ আলু ও আপেল বেটে নিন। মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে মাখান। শুকিয়ে এলে ধুয়ে নিন। ত্বক দারুণভাবে উজ্জ্বল হবে।

কলার প্যাক

পাকা কলা আর মধু একসাথে ব্লেন্ড করে নিন। মুখ, ঘাড়, হাত, পা সহ যেখানে যেখানে রোদে পোড়ে সেখানে মাখান। রোদে পোড়া দাগ, বলিরেখা কমাতে এই প্যাক বেশ কার্যকর।

মোটামুটি অনেকগুলো কিন্তু সহজলভ্য কিছু ঘরোয়া টোটকা নিয়ে আলাপ হলো আজ। আশা করছি কোন না কোন উপায় অবশ্যই অবলম্বন করবেন। এবং অবশ্যই নিয়ম মেনে চলবেন।

Filed Under: Anti Ageing, Skin Care Ideas

আপেল সিডার ভিনেগার কি ওজন কমাতে সাহায্য করে ? [Apple Cider Vinegar for Weight Loss]

by লামিয়া তানজিন মাহমুদ

মেদবিহীন, ছিপছিপে সুন্দর স্বাস্থ্য ছোট বড় সবারই খুব প্রিয়। আর নিজের সুগঠিত, সুগড়ন ও কার্যক্ষম শরীর সবারই কাম্য । পরিসংখ্যানে জানা যায়, যুগোপযোগী এবং উপযুক্ত খাবার গ্রহণে সক্ষম মানুষই স্বাভাবিক ওজন ও সুস্থ শরীর নিয়ে বেঁচে থাকেন। আর ঠিক তাই, খাবার নির্বাচনে এবং নিয়মিত শরীরচর্চায় আমাদের সকলের একমাত্র ব্রত হওয়া উচিত। তথাপি এই প্রত্যাশা পূরণ সহজ কাজ নয়।

আমরা জানি যুগে যুগে ইতিহাসে, শক্ত মনের মানুষই স্বাভাবিক চিন্তাধারা এবং সাবলীল মননশীলতার ছাপ রেখে গেছেন। একটা সময় ছিল যখন মানুষ, সিনেমার রঙীন পর্দায় চিকন কিংবা মুটিয়ে যাওয়া নায়ক-নায়িকা দেখে তাদের মতো নিজেদেরকে সাজানোর ব্যর্থ প্রয়াসে নিজেদের অলস অবসরের সময় অতিবাহিত করতো ।

গড়বাঁধা অলস জীবনাসরের সেই সময় এখন পাল্টে গেছে ,পাল্টানোর সেই অদম্য গতি, এতটাই প্রবল যে শরীর নিয়ে অসচেতন মানুষগুলো ও এখন হাঁটছে সচেতনতার পথে। তবে, বিষয়টি মন্দ নয়। চলমান মহামারীতে বেঁচে থাকাটাই যেখানে অনিশ্চিত সেখানে স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়াকে অনেকে বিলাসিতা ভাবলেও মূলত এটিই ঠিক।

ওজন অনুচিন্তন!

অনেক হলো জীবনাদর্শের নিয়মানুবর্তিতা । প্রসঙ্গে ফেরা যাক এবার তবে – স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবনার শুরুতে যেটা সবার আগে মাথায় আসে, তার নাম ওজন। অতিরিক্ত ওজনে মুটিয়ে যাওয়া মানুষগুলোকে কাছ থেকে দেখেছেন কখনও? চিকন হওয়ার জন্য কিংবা একটা পরিমিত ওজনে আসার জন্য তাদের প্রচেষ্টা কিন্তু দেখার মতো। জিম থেকে শুরু করে ডায়েট, ব্যায়াম, সকালে হাঁটা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে তারা নিজেদের খুব ভালোভাবেই অভ্যস্ত করে ফেলেন। নিয়ম মেনে হাত ধোওয়া, পরিষ্কার -পরিচ্ছন্ন থাকা, চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা, ব্যায়াম করা, পরিমিত খাওয়া, বাইরে বের হলে ও হাঁচি-কাশির প্রাদুর্ভাব হলে মাস্ক পরা এগুলো কি খুব কঠিন? তবে সত্যি বলতে, একসময় কঠিন মনে হলেও এখনের পরিস্থিতি অনুযায়ী সব স্বাভাবিক ।

অভ্যাসের শুরুটা শুরুটা হওয়া উচিত খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে। সেক্ষেত্রে পছন্দের শুরুতে থাকে কিটো ডায়েট, কারও কারও আবার অ্যাপল সিডার ভিনেগার। ওজন ভাবনার সাথে অ্যাপল সিডার ভিনেগার এর সম্পর্ক যারা আঁচ করতে পারছেন না, আজকের এই চেষ্টা শুধুমাত্র তাদের জন্য।

অ্যাপল সিডার ভিনেগার কী? [What is Apple Cider Vinegar?]

অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং পানির সংমিশ্রণে তৈরি হয় ভিনেগার। এক্ষেত্রে চিনি বা ইথানলকে গাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যাসিটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করা হয়। বাংলায় যাকে সিরকা নামে চিনে থাকেন আমাদের মায়েরা, সেটাই আসলে ভিনেগার। ভিনেগার বা সিরকা, যে নামেই ডাকুন, পদার্থটা আদতে আদ্যোপান্ত তরল। লেখার এ পর্যায়ে একটা মজার তথ্য জানিয়ে রাখি- মুলত টক ওয়াইনকেই কিন্তু ভিনেগার বলা হয়! বাজারে যে কয়েক ধরণের ভিনেগার পাওয়া যায় তার মধ্যে সাদা ভিনেগার, বলস্যামিক ভিনেগার, অ্যাপল সিডার ভিনেগারগুলো বেশ প্রচলিত।

ওজন নিয়ন্ত্রণে অ্যাপল সিডার ভিনেগার [Apple Cider Vinegar for Weight Loss]

অ্যাপল সিডার ভিনেগার মূলত জনপ্রিয় হতে শুরু করেছেই ওজন কমানোর কারণে। এই ভিনেগারে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড খাওয়ার ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। আর বাড়িয়ে দেয় শরীরের মেটাবলিজম। 

বলা হয়ে থাকে ওজন কমানো, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং পেটের যে-কোন সমস্যায় অ্যাপল সিডার ভিনেগার টনিকের মত কাজ করে। ভিনেগারটি অ্যাসিড সম্প্রদায়ের সদস্য হলেও অ্যাসিডিটি দূর করার ক্ষেত্রে কিন্তু বেশ কার্যকর। খাওয়ার আগে ১ কাপ পানিতে ১-২ চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খেয়ে নিবেন।

দিনে ১-২ বার পান করলেই যথেষ্ট, মূলত এই অ্যাপল সিডার ভিনেগার ওজন কমানোর জন্যই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। শর্করায় যে ওজন বাড়ে তা ইতোমধ্যে কিটো ডায়েট এর আর্টিকেলে আপনারা জেনেছেন। হুট করে খাবারের তালিকা থেকে শর্করা এড়িয়ে চলাটা শর্করা-প্রেমি বাঙালির জন্য কঠিনই বটে। সেক্ষেত্রে শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার পর এই অ্যাপল সিডার ভিনেগার পানির সাথে মিশিয়ে পান করলে দিনের পরবর্তী সময়গুলোতে ক্ষুধা লাগার বিষয়টা থেকে মুক্তি পাবেন।

অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়া ১৭৫ জনকে নিয়ে জাপানে একটা গবেষণা হয়েছিল। গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অ্যাপল সিডার ভিনেগার আদতে কাজে দেয় কী না। ফলাফল ইতিবাচক। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অ্যাপল সিডার ভিনেগারকে যদি নিত্যদিনের ডায়েটে যোগ করতে পারেন তাহলে ক্ষুধাবোধ থেকে মুক্তি তো পাবেনই সেই সাথে ওজন নিয়ন্ত্রণেও রাখতে পারবেন।

অ্যাপল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম [How to Drink ACV for Weight Loss]

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন খাওয়ার আগে ১-২ টেবিল চামচ পরিমাণ অথবা ১৫-৩০ মিলি অ্যাপল সিডার ভিনেগারই সারাদিনের জন্য পরিমিত পরিমাণ।

অথবা এই পুরো পরিমাণকে ২-৩ ডোজ আকারে ভাগ করে নিয়েও সারাদিন খেতে পারেন। পছন্দ আপনার।

তবে হ্যাঁ, খেতে হবে অবশ্যই পানিতে মিশিয়ে। এক গ্লাস পানিতে ১/২ টেবিল চামচ অর্থাৎ ৫-১০ মিলিলিটার পরিমাণ অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খেতে হবে।

ঘরে তৈরি করুন আপেল সিডার ভিনেগার [How to Make Apple Cider Vinegar at Home]

১০টি আপেল নিয়ে ভালো করে ধুয়ে কাপড় দিয়ে মুছবেন। প্রত্যেকটা আপেলকে ৪ কিংবা ৮ কিংবা যত ইচ্ছা ছোটো টুকরো করে কেটে নেবেন। বিচি অথবা বিচির অংশ বাদ দিতে হবে না। সবটা নেবেন।

আপেলের রঙ বাদামি না হওয়া পর্যন্ত রেখে দিন। রঙ ধরলে বড়ো কাঁচের জারে আপেলের টুকরোগুলো রাখুন। এবার ১ কাপ পানিতে ১ চা চামচ চিনি গুলিয়ে জারে ঢেলে দিন। কাঁচের জার যেন অবশ্যই ভালো করে ধুরে রোদে শুকানো হয়।

আপেলের টুকরো গুলো পুরোপুরি ডুবে না যাওয়া পর্যন্ত চিনি মেশানো পানি ঢালবেন। পরিমাণ তো জানেন? ১ কাপের জন্য ১ চা চামচ চিনি। আপেলগুলো পুরোপুরি ডুবে গেলে ২ টেবিল চামচ সাদা ভিনেগার দিন।

এবার টিস্যু দিয়ে জারের মুখ ঢেকে দিয়ে রান্নাঘরের ক্যাবিনেটে রেখে দিন ৩ সপ্তাহ। লক্ষ্য রাখবেন, কোনভাবেই যাতে বাতাস না ঢোকে জারের ভেতর। ৩সপ্তাহ পর জার বের করে আপেলের টুকরো তুলে ফেলবেন। তারপর তরলটাকে ভালোভাবে কাঠের চামচ দিয়ে নাড়বেন, নেড়েচেড়ে আবার আগের জায়গায় রেখে দিবেন। এরপর নিয়ম করে প্রতিদিন একবার চামচ দিয়ে নাড়বন। এভাবে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ দেখুন। টক ভাব এসেছে? এলেই হয়ে গেলো আপনার ভিনেগার।

Apple Cider Vinegar at Home

আপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতা [Benefits of Apple Cider Vinegar]

৯৪% পানি, ১% কার্বোহাইড্রেট সহ ফ্যাট এবং প্রোটিন-শুন্য অ্যাপল সিডার ভিনেগার ১০০ মিলিতে ২২ ক্যালোরির যোগান দেয়।দেখতে গাঢ় মধুর মত আর ঘ্রাণে হালকা টকের এই পানীয়তে আছে সেলুলোজ ও অ্যাসিটিক অ্যাসিডের দারুণ মিশেল যেটাই মূলত শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কাজ করে। রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ সালমা পারভিন এ ব্যাপারে বলেন- রোজ নিয়ম করে ১-২ চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার শুধু ওজনই কমায় না বরং মেটাবলিজম বাড়ায় ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জোগান দেয় শরীরে। অ্যাপল সিডার ভিনেগারে প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার থাকার দরুন ভিনেগারটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক। টাইপ টু ডায়াবিটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যার যে ঝুঁকি তা কমিয়ে এনে হৃদরোগের আশঙ্কাও কমিয়ে দেয় অ্যাপল সিডার ভিনেগার। এখানে একটা কিন্তু আছে। ডায়াবিটিসে আক্রান্ত যাদের ঔষধ খাওয়া

লাগে,তবে এখানে কিছু সতর্কতা আছে। পুষ্টিবিদ সালমা পারভিন জানান, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যাপল সিডার ভিনেগার না খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। অন্তঃসত্ত্বা মা, বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মা এবং কিডনি রোগিদের জন্য অ্যাপল সিডার ভিনেগার একদমই নিষেধ। প্রশ্ন আসা খুব স্বাভাবিক, কেন নিষেধ? উত্তর এটাই, এ অবস্থায় অ্যাপল সিডার ভিনেগার শরীরে স্থায়ী ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই করে না। অতএব অ্যাপল সিডার ভিনেগার খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

অনেক কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে এবার আসল আলাপনে আসা যাক। ঠিক কী কী কারণে অ্যাপল সিডার ভিনেগারের এত জনপ্রিয়তা, কী কারণেই বা এর ব্যবহার হুট করে বেড়ে গেলো তা জানার প্রয়োজন আছে বইকি! চলুন একটু করে জেনে নেই অ্যাপল সিডারের অন্যান্য ব্যবহারগুলোও।

  • ব্লাড সুগার কমানোর কাজে অ্যাপল সিডার ভিনেগার!

ব্লাড সুগার যাদের আছে তারা জানেন এর ভাবনা ভাবাটা কতটা দূর্বিষহ। এই দূর্বিষহ ভাবনা থেকে কিছুটা রেহাই দিতেই যেন অ্যাপল সিডার ভিনেগার এর আবির্ভাব। ব্লাড সুগার এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এর পাশাপাশি কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমিয়ে আনে অ্যাপল সিডার ভিনেগার। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। ডায়াবিটিস ও ক্যান্সার রোগিরা এর সুফল বেশ ভালোভাবেই পেয়ে থাকেন। তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই অ্যাপল সিডার ভিনেগার খাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

  • খুশকি ভাবনায় অ্যাপল সিডার ভিনেগার!

খুশকি নিয়ে ভাবেন না এমন কে আছেন বলুন তো? ঘুম হারাম করে দেওয়ার মতো চিন্তা নয় কী? সমস্যা যেমন আছে, সমাধানও কিন্তু আছে। ১ টেবিল চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ ভিনেগার নিন। ওতে মেশান ১ কাপ পানির ৪ ভাগের ১ ভাগ। মেশানো পানি চুলের ত্বকে ভালো করে ঘষে নিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ২ বার করুন আরও ভালো ফলাফল পেতে।

  • রোদের আঁচ এবং ব্রণ যখন শত্রু!

চলছে তীব্র রোদের সময়। সূর্য যেন উপচে পড়ে তাপ ছড়াতেই বেশি ব্যস্ত। ঝড়ছে ঘাম, ক্লান্ত হচ্ছে শরীর। একই সাথে চেহারায় পড়ছে রোদে পড়া কালচে ছোপ। গরমের দিনের জাতীয় সমস্যা! তবে সমাধান হিসেবে এবারও অ্যাপল সিডার ভিনেগারের পথেই হাঁটবো আমরা।

১ কাপ ভিনেগার, ১ কাপ গোলাপজল, ১ কাপ পানি ভালো করে মিশিয়ে ফ্রিজে রাখুন। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে রোদে পোড়া জায়গা গুলোতে এই মিশ্রণ মাখিয়ে বাতাসে শুকিয়ে নিন। পাতলা নরম সুতি কাপড় দিয়ে আলতো ঘষে মুছে পরিষ্কার করে নিন। এই কাজটি চালু রাখুন। ফল পাবেন।

একইভাবে ব্রণ নিয়েও অনেকে অনেক ঝামেলা পোহান। সমাধান হিসেবে অ্যাপল সিডার ভিনেগার এর নামই বলতে হবে। কেন? বলছি-
অ্যাপল সিডার ভিনেগারটিতে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল প্রভাব প্রাকৃতিক টোনারের কাজ করে। যার কাজ মুখের ব্রণের বৃদ্ধি কমিয়ে এনে মুখের যাবতীয় ব্রণ দূর করা। এই অ্যাপল সিডার ভিনেগারটি মুখের পিএইচ এর মাত্রা ঠিক রেখে মুখের অন্যান্য দাগ দূরীকরণে সাহায্য করে।

এছাড়া এটি খুব দ্রুতই ত্বকের একদম গভীরে প্রবেশ করে। যা ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করে দেয়। এ কারণে ব্রণ হলে কী করবেন জানেন? ভিনেগার আর পানির মিশ্রণে কটন বাড ডুবিয়ে একদম সরাসরি ব্রণের উপর রেখে মুছবেন। ব্রণের চারপাশও মুছবেন। একই নিয়মে প্রতিদিন নিয়ম করে ২ বার যত্ন নিতে থাকুন। ব্রণের জীবাণু পুরোপুরি নির্মূল হবে এবং ব্রণের দাগ পড়বে না মুখে।

  • ডায়রিয়ার হঠাৎ প্রাদুর্ভাব দূরীকরণে অ্যাপল সিডার ভিনেগার!

অনেক সময় এমন হয় না যে হুট করে ডায়রিয়া হয়ে গেলো। ঘরে স্যালাইন নেই। তখন কী করবেন? সময় নিয়ে গুড়, লবণ মিশিয়ে স্যালাইন বানাবেন? অবশ্যই না! বাড়িতে অ্যাপল সিডার ভিনেগার থাকলে চটজলদি এক চামচ পানিতে গুলে খেয়ে নিলে খুব দ্রুত উপকার পাবেন। এখানে একটু করে জানিয়ে রাখি, ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে ডায়রিয়া হলে এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

  • খাবার সংরক্ষণে অ্যাপল সিডার ভিনেগার!

অনেকে খাবার সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহার করেন। এ আপনারা জানেন। মজার ব্যাপার হলো এই অ্যাপল সিডার ভিনেগার দিয়েও আপনি কিন্তু খাবার সংরক্ষণ করতে পারবেন। ভিনেগারটিতে অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকার কারণে খাবারের এনজাইম ও ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস হয়ে প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

  • গন্ধ দূর করতে অ্যাপল সিডার ভিনেগার!

গরমের দিন চলছে না? প্রচুর ঘামছেন। সারা শরীর ঘামে ভিজে বাজে গন্ধ ছড়াচ্ছে। একই সাথে জুতা মোজার বিষয় তো আছেই। গন্ধটা বিব্রতকর অবশ্যই। এজন্য কী করবেন জানেন? অ্যাপল সিডার ভিনেগার পানিতে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। গোসলের পরে এই পানি বগল, পা সহ যেখানে ঘাম বেশি হয়, সেখানে মাখিয়ে নিন। ব্যাক্টেরিয়া মরবে। ঘামের গন্ধও দূর হবে।

বাইরে যাওয়ার আগে এটা করতে পারেন। আবার ঘরে ফিরে এসে কুসুম গরম পানিতে ভিনেগার মিশিয়ে রোদে পোড়া জায়গায় মাখাবেন। উপকার পাবেন। একই কথা প্রযোজ্য মুখের গন্ধের ক্ষেত্রেও। অ্যাপল সিডার ভিনেগারে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল নামক উপাদানের উপস্থিতি থাকার দরুন পানির সাথে অ্যাপল সিডার ভিনেগারটি মিশিয়ে কুলকুচি করে ফেলে দিলে মুখের দুর্গন্ধ নিমেষেই দূর হবে।

  • ডিশ ডিটারজেন্ট হিসেবে অ্যাপল সিডার ভিনেগারের ব্যবহার!

অনেক সময় দেখা যায় ঘরে ব্যবহৃত প্লেট বাটি কেমন তেল চিটচিটে হয়ে আছে। সাবান কিংবা ছাই এ কাজ হচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে পরিষ্কারক হিসেবে অ্যাপল সিডার ভিনেগার কিন্তু বেশ কাজের। যে ডিশ ওয়াশার দিয়ে প্লেট বাটি পরিষ্কার করেন তার সঙ্গে ভিনেগার মিশিয়ে প্লেট বাটি সহ আনুষঙ্গিক যা যা ধোয়ার ধুয়ে নিন। সিঙ্কটাও ধুয়ে ফেলতে পারেন। ফলাফল নিজেই দেখুন।

  • স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অ্যাপল সিডার ভিনেগারের ব্যবহার!

মানব দেহের পুরো Ph এর সমতা রক্ষার কাজ কিন্তু অ্যাপল সিডার ভিনেগার করতে সক্ষম। যাদের শরীরে Ph এর মাত্রা কম থাকে তাদের কিছু সমস্যা থাকে। তারা যে-কোন রোগে খুব দ্রুত আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এবং তাদের শরীরে শক্তিও থাকে তুলনামূলক কম। সুতরাং বুঝতেই পারছেন ভিনেগারটি এদিক থেকে কতটা এগিয়ে। নিয়মিত এই ভিনেগার পানে দেহে শক্তি জমা হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।শরীরের লিভার ভালো রাখার জন্য এবং অ্যালার্জি প্রতিরোধের জন্য অ্যাপল সিডার বেশ কার্যকর।

এছাড়া যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তারা চটজলদি সমাধান পেতে ১ গ্লাস পানিতে ১ চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। দ্রুত ফল পাবেন। তবে হ্যাঁ, যাদের আলসার আছে তাদের কাছে অনুরোধ- আপনারা এ জিনিস ভুলেও পান করবেন না।

আপেল সিডার ভিনেগারের ক্ষতিকর প্রভাব [Side Effects of Apple Cider Vinegar]

প্রাকৃতিক বলেই প্রতিক্রিয়ার ঊর্দ্ধে থাকবে এমন কিন্তু কিছুই নেই। আর তাই, ব্যতিক্রমের তালিকায় নাম লেখায়নি অতি প্রয়োজনীয় এবং সুপরিচিত এই অ্যাপল সিডার ভিনেগারটিও। আছে কিছু বিরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও। একটু আলাপনের প্রয়োজন আছে এই বিষয়ে।

অ্যালার্জি আছে এমন ব্যক্তিদের অনেকের ক্ষেত্রেই অ্যাপল সিডার ভিনেগার উলটো প্রতিক্রিয়া দেখায়। আবার ডায়াবিটিসের কারণে যাদের ইনসুলিন নিতে হচ্ছে তাদের নির্ধারিত ঔষধের সাথেও অ্যাপল সিডার ভিনেগারের সংঘর্ষ হতে পারে। অ্যাপল সিডার ভিনেগার এর অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বকের সমস্যার কারণ হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। মূলত এর কোন ঔষধি গুণাগুণ কিংবা পুষ্টিগুণ নেই। নেই কোন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ক্লিনিকাল প্রমাণও। যেমন – ওজন হ্রাসের কথাই ধরুন। যে কারণে জনস্বাস্থ্য সংস্থা চিকিৎসা সংকান্ত নির্দেশিকায় এই অ্যাপল সিডার ভিনেগার ব্যবহারের প্রস্তাব দেয় না। তবে সামান্যতম ব্যবহার নিরাপদ হিসেবেই বিবেচিত হয়। আবার ট্যাবলেট আকারে অ্যাপল সিডার ভিনেগারে মুখ, গলা, পেট, কিডনির নরম টিস্যুতেও ক্ষত সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অনেকে আছেন যারা সাময়িক ঔষধ হিসেবে অ্যাপল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করেন, অনেকে চোখ ধোওয়া এবং কান পরিষ্কারের জন্যও অ্যাপল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করেন। যার ব্যবহার আদতে বিপজ্জনকই বটে!

মূলত অতিরিক্ত কোনকিছুই ভালো না। তা যতই প্রাকৃতিক হোক না কেন! যে কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন আছে বইকি! পরামর্শ নিয়ে খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে কিংবা পরে পানি মিশিয়ে অ্যাপল সিডার ভিনেগার পান করুন। তবে হ্যাঁ, রাতে ঠিক ঘুমোনোর আগে এ ভিনেগার খাবেন না। ঐ সময়ে এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ঘুমোনোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে যাবতীয় খাওয়া দাওয়া শেষ করবেন।

অনেকে আছেন যে-কোন খাবার খাওয়ার আগে শুঁকে দেখেন। অভ্যেসটা ভালো তবে অ্যাপল সিডার ভিনেগারের ক্ষেত্রে এই অভ্যেসটা একটু এড়িয়ে যেতে হবে। এর তীব্র গন্ধ নাকের জন্য ভালো নয়। চোখের জন্যও নয়।

অনেকে ভরা পেটে এই ভিনেগার পান করেন। যা আদতে অনুচিত। পাঠক, ভিনেগার মেশানো পানি খেতে হবে খালি পেটে, ভরা পেটে খেলে লাভ তো হবেই না বরং শরীরে নানান ধরণের সমস্যা দেখা দিবে।একটা বিষয় স্পষ্ট করে জানিয়ে রাখা ভালো, অনেকে রাতের বেলায় এই ভিনেগার খেয়ে ঘুমোতে যান। এটা সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর। ভুলেও যদি রাতে খেয়ে ফেলেন, তাহলে অন্তত ৩০ মিনিট সোজা হয়ে বসে থাকবেন। পান করে সাথে সাথে শুয়ে পড়বেন না।একইসাথে অনেকটা ওজন কমানোর চিন্তায় অনেকেই একসাথে অনেকটা অ্যাপল সিডার ভিনেগার খেয়ে ফেলেন। এখানে একটা বিষয় বোঝা দরকার, সবকিছু সবার শরীর নিতে পারে না। তাই শুরুটা অল্পে হওয়া ভালো। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে এলেই না হয় পরিমাণ বাড়ানো যাবে।

এ পর্যায়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় জানিয়ে রাখি। অনেকেই আছেন ভিনেগার মেশানো পানি খেয়েই দাঁত ব্রাশ করে ফেলেন। দয়া করে এ ভুল করবেন না। কেন করবেন না? এতে দাঁতের অ্যানামেল ক্ষয়ে যায়। ক্যাভিটি দেখা দেয়। তবে পানীয় পান করার ৩০ মিনিট পর দাঁত ব্রাশ করতে পারেন।

পরিশেষে, ওজন কমানোর জন্য কী নেই? অনেক কিছুই আছে। তবে প্রয়োজন আছে সদিচ্ছার। কম খাওয়া কিংবা পরিমিত খাওয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে লিপ্ত থাকাই আপনাকে একটা সুস্থ জীবন দেবে। এ আপনি বিশ্বাস করেন? জীবন কিন্তু অতটাও মন্দ নয়, শুধু জীবনটা কাটানোর নিয়মটা জানতে হয়।

Filed Under: Weight Loss (ওয়েট লস)

কিটো ডায়েট এর আদ্যপ্রান্ত – ১ মাসে ১৫ কেজি পর্যন্ত ওজন কমবে

by লামিয়া তানজিন মাহমুদ

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল!

আপনি যেহেতু এই লেখাটি পড়ছেন,তাই ধরেই নিচ্ছি আধুনিক প্রযুক্তির যান্ত্রিক সমীকরণের সাথে তাল মিলিয়ে আপনি স্মার্টফোন নয়তো পিসি ব্যবহারে অভ্যস্ত। আমাদের এই যান্ত্রিক জীবন ব্যবস্থার যাতাকলে পিষে, ক্লান্তির সেই অবসর সময় টুকুর সদ্ব্যবহার করার জন্য,আপনি ও হয়ত প্রায়শ ফেইসবুক,টুইটার বা বিভিন্ন সাইট ভিজিট করে থাকেন। আর ঠিক তাই, আপনি রূপকথনের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এই আর্টিকেলটি পড়ছেন ।

আধুনিক বিশ্বের এই ক্রান্তি লগ্নে এসে প্রযুক্তির উন্নতি সাধনের সাথে সাথে আমাদের অবশ্যই নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে ও সচেতনতা আবশ্যক।

‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’ ভাব-সম্প্রসারণ হিসেবে ছোটোকালে কম-বেশি সবাই পড়েছি আমরা। মুখস্ত বিদ্যা কিংবা সৃজনশীলতার দরুন নানান কথাবার্তা লিখে পাশ-মার্ক তুলেই হয়তো দায়িত্ব সেড়েছেন অনেকে, কেউ-বা আবার বুঝে-শুনেই যা লেখার লিখে বাস্তব জীবনেও তার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

চারপাশে একটু নজর বুলালেই এ কথার সত্যতা কিন্তু আপনি নিজেই যাচাই করতে পারবেন। সকাল সকাল কিছু মানুষকে একসাথে দৌড়াতে দেখেছেন? কিংবা হাসতে? অনেকের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় প্রচুর তাজা শাক-সবজি, ছোটো মাছ এবং দেশীয় ফলের প্রাধান্য দেখতে পাবেন। কেন বলুন তো?

ঘুরে-ফিরে উত্তর কিন্তু ওটাই, স্বাস্থ্য! নিয়মতান্ত্রিক জীবন ও সুসম খাবারে যেটা পরিণত হয় সম্পদে। সুস্বাস্থ্যের চেয়ে বড়ো সম্পদ কি কিছু আছে? অসুস্থ হলেই কেবল বোঝা যায়, সুস্থ থাকার প্রয়োজনিয়তা কী। তাই নয়? স্বাস্থ্য এবং সুস্থ থাকা। এ দুটো বিষয় যে বিষয়টির সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত তার নাম খাবার। এই খাবারের সাথে আবার যে নামটি আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে তার নাম ডায়েট কন্ট্রোল।

আচ্ছা, ডায়েট কন্ট্রোলের নাম শুনেছেন? একটু মুটিয়ে যাওয়া কিংবা মোটা হওয়া থেকে দূরে থাকার জন্য অনেকেই কিন্তু ডায়েট কন্ট্রোলের দিকে ঝুঁকে থাকেন। সেই ডায়েট কন্ট্রোলের দুনিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নামটি “কিটোজেনিক ডায়েট বা কিটো ডায়েট“।

বিঃদ্রঃ আপনার ব্যক্তিগত ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে এই ডায়েট অনুসরণ করবেন না

কিটো ডায়েটের পরিচয়ঃ কী এই কিটো ডায়েট? [What is the Keto Diet?]

এক কথায়- ‘নো কার্বোহাইড্রেট!’ অর্থাৎ, এই কিটো ডায়েটের মূল উদ্দেশ্যই হলো শরীরে থাকা যাবতীয় কার্বোহাইড্রেটকে একদম নিঃশেষ করে ফেলা এজন্য কিটো ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়। আপনারা জানেন, মোটা হওয়ার জন্য কার্বোহাইড্রেট দরকার হয় শরীরে। তাই যারা চিকন হতে চান তাদের জন্য কিটো ডায়েটে এর ঠিক উলটো কাজটা করতে হয়। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় সব খাবার এড়িয়ে যেতে হয়। যাতে শরীরে থাকা চর্বি পুড়তে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে জমে থাকা কার্বোহাইড্রেটও পুড়তে শুরু করে। যার কারণে ওজন কমতে থাকে। মূলত কিটো ডায়েটকে সুপার লো-কার্ব ডায়েট বলে। ডায়েটটিতে কার্ব এক্সট্রিম লেভেলে কম থাকে, প্রোটিন মিড লেভেলে এবং ফ্যাট যথেষ্ট হাই থাকে।

টিপিকাল যে কিটো ডায়েট আছে সেখানে মোট ক্যালোরিক নিডের ফ্যাট ৭০%, প্রোটিন ২৫% এবং কার্ব ৫% থাকে। এর মানে হলো একটা পুরো দিনে আপনি যতটা খাবার খাবেন সেই খাবারের সুষম বণ্টনটা এমন হবে। একজন মানুষের স্বাভাবিক যে ডায়েট সেখানে কার্বোহাইড্রেট এর পরিমাণই থাকে ৫০%, ফ্যাট থাকে ৩০% এবং প্রোটিন ২০%। এখন আপনি যদি সারাদিনে ১২০০ ক্যালোরি খান তাহলে এর ৫০% কার্ব মানে ৬০০ ক্যালোরি কার্ব খেতে হবে আপনাকে।

মানবদেহের প্রধান খাদ্য বা জ্বালানি কী জানেন? গ্লুকোজ। আর কিটো ডায়েটের মূল উদ্দেশ্যই হলো এই গ্লুকোজের বদলে কিটোন বডিগুলোকে জ্বালানি বা খাদ্য হিসেবে প্রস্তুত করে ব্যবহার করা। খুব ইফেক্টিভ একটি ফ্যাট লস ডায়েট হিসেবে খ্যাত এই কিটোজেনিক ডায়েটটি মূলত প্রোটিন নির্ভর। অর্থাৎ প্রোটিন খাওয়াটাই কিটো ডায়েটের মূল উদ্দেশ্য।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই প্রোটিন দিয়ে মানবদেহের প্রতিদিনের ক্যালোরি নিড এবং রিকোয়ার্মেন্ট পূরণ করা সম্ভব হয় না সেক্ষেত্রে টোটাল ক্যালোরি নিডের ২০%-৩০% প্রোটিন এবং ৫% কার্ব খেয়ে শরীরের বাকি নিড এবং রিকোয়ার্মেন্ট পূরণ করতে হয়।

এতক্ষণের আলাপনে মোটামুটি একটা ধারণা এসেছে না কিটো ডায়েট সম্পর্কে? এমনও অনেকে আছেন যারা কিটো ডায়েট বলতেই বোঝেন প্রচুর মাংস গ্রহণ। আদতে বিষয়টা এমন না। আমাদের শরীরে ৬২% পানি, ১৬% আমিষ, ১৬% চর্বি, ৬% মিনারেল এবং ১% এর থেকেও কম কিংবা কাছাকাছি পরিমানের শর্করা, ভিটামিন এবং অন্যান্য কিছু উপাদান আছে।

কিটো ডায়েটের প্রকারভেদ [Types of Keto Diet]

এখনও পর্যন্ত চার ধরণের কিটো ডায়েট এর সাথে আমাদের পরিচয় ঘটেছে-

(ক) স্ট্যান্ডার্ড কিটোজেনিক ডায়েট – এ ধরণের ডায়েটে ফ্যাট ৭০%, প্রোটিন ২৫% এবং কার্ব ৫% থাকে। সাধারণত কিটো ডায়েট বলতে মানুষ এটাই বুঝে এবং এই স্ট্যান্ডার্ড কিটোজেনিক ডায়েটই বেশি পরিচিত এবং প্রচলিত।

 (খ) সাইক্লিক্যাল কিটোজেনিক ডায়েট – সপ্তাহে দু’দিন-ই কার্ব খাওয়ার অনুমতি আছে এই কিটো ডায়েটে।

(গ) টার্গেটেড কিটজেনিক ডায়েট – প্রথম দুটি কিটো ডায়েটের তুলনায় এই কিটো ডায়েট একটু আলাদাই বটে। কতটা আলাদা সে প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয়, এই কিটো ডায়েটে আপনি কার্ব খেতে পারবেন তবে সেটা বিশেষ ক্ষেত্রে। যেমন- ওয়ার্ক-আউটের আগে কিংবা পরে।

(ঘ) হাই প্রোটিন কিটোজেনিক ডায়েট – এই ডায়েটটি কিছুটা স্ট্যান্ডার্ড কিটোজেনিক ডায়েট এর মতো। কেবল প্রোটিনের মাত্রাটা কিছুটা বেড়ে যায়। কেমন সেটা? স্ট্যান্ডার্ড কিটোজেনিক ডায়েট এ প্রোটিন থাকে ২৫% আর এই হাই প্রোটিন কিটোজেনিক ডায়েটে প্রোটিনের পরিমাণ থাকে ৩৫%। অর্থাৎ পুরো বণ্টনটা হলো- ফ্যাট ৬০%, প্রোটিন ৩৫% এবং ফ্যাট ৫%। এথলেট এবং বডিবিল্ডারদের জন্য এই হাই প্রোটিন কিটোজেনিক ডায়েট খুব কার্যকর।

নতুনদের জন্য সহজ কেটোজেনিক ডায়েট এর খাবার পরিকল্পনা [Simple Ketogenic Meal Plan for Beginner]

Ketogenic Meal Plan

কিটোজেনিক ডায়েটের এতক্ষণের আলাপনে কী খেতে পারবেন আর কী খেতে পারবেন না এটুকু জানার পরে ডায়েট চার্ট জানার ব্যাপারে সামান্য আগ্রহ জন্মেছে কি পাঠক? আগ্রহ জিইয়ে রাখার উপহার স্বরূপ এক সপ্তাহের কিটোজেনিক ডায়েট প্ল্যান, শুধু আপনাদের জন্য-

সকালে কী খাবেন?

অনেকের সকালে খাওয়ার অভ্যেস নেই, অনেকের আছে। যাদের আছে তারা সকাল ৮ টা থেকে সাড়ে ৮ টার মধ্যে দুধ এবং চিনি ছাড়া ১ কাপ চা খেতে পারেন। স্বাদ পেতে আদা, লেবু এবং সামান্য লবণ দিতে পারেন।

কুসুম গরম পানির সাথে অ্যাপল সিডার ভিনেগার অথবা কোকোনাট ভিনেগার মিলিয়ে খেতে পারেন। কিংবা লেবু চিপে রস বের করে নিয়েও মিশিয়ে খেতে পারেন।

যারা সকালের খাবার খেতে দেরি করেন, তারাও একই ভাবে বেলা ১১ টার মধ্যে উপর্যুক্ত খাবার খাবেন।

দুপুরে কী খাবেন?

দুপুরের খাবারের শুরুটা হবে অ্যাপল সিডার ভিনেগারের এক চামচের সাথে এক গ্লাস পানি। মিশিয়ে খাবেন। এতে গ্যাস হওয়া থেকে নিরাপদ তো থাকবেনই, সেই সাথে শরীরের চর্বি কাটাতেও এর উপকারিতা আছে।

দুপুরের খাবারে বাটার, শাক, সবজি, মাংস অথবা মাছ, ঘিয়ে ভাজা ডিম এবং বাদাম, শশা এবং টমেটোর সালাদ খাবেন। শাক, মাছ এবং সবজি এক্সট্রা ভার্জিন ওলিভ ওয়েল দিয়ে রান্না করে খাবেন। সবজি কম সেদ্ধ করবেন, এতে সবজির গুণগত মান অব্যাহত থাকে।

১ দিনে সর্বোচ্চ ৬ টা ডিম কুসুমসহ খেতে পারবেন। এতে সমস্যা নেই তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রোটিন এবং ফ্যাটের ভালো উৎস ডিম। কিটোজেনিক ডায়েট আপনাকে ডিম খাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। অতএব…

পাঠক, মাছ আর মাংস কিন্তু একই সাথে খাবেন না। ঠিক আছে? মাছ খেলে মাংস খাবেন না আবার মাংস খেলে মাছ খাবেন না। মুরগি (দেশি বা ফার্ম), উট, দুম্বা, ভেড়া, খাসি, গরু ইত্যাদি, অর্থাৎ যে মাংসই খান না কেন ১ টুকরো। বেশি নয়।

সকালে যারা ৮ টা থেকে সাড়ে ৮ টার মধ্যে সকালের খাবার খান, তরা চেষ্টা করবেন দুপুরের খাবার দেড়টার মধ্যে খেয়ে নিতে। আর ১১ টায় যারা খান, তারা আড়াইটা থেকে ৩ টার মধ্যে খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

বিকালে কী খাবেন?

বিকালে খাওয়ার অভ্যেস থাকলে কিংবা ক্ষুধা লাগলে সকালের নাস্তার পুনরাবৃত্তি করবেন। চা, বাটার কফি, বাটার কিংবা ঘিয়ে ভাজা বাদাম ইত্যাদি খেতেই পারেন।

রাতে কী খাবেন?

রাত ৮ টার মধ্যে রাতের খাওয়া শেষ করবেন। দুপুরে যা খেলেন, এখানেও ঠিক তাই। খাবারের কয়েক পদ কম হোক, সমস্যা নেই।

যে ধরণের খাবার খেতে পারবেন না কিটো ডায়েটে! [Foods You Should Avoid on a Ketogenic Diet]

যত ধরণের ডায়েট কন্ট্রোল এর ব্যাপার আছে, প্রায় সবগুলোতেই সাধারণ কিছু বিধিনিষেধ আছে। তেমনই কিছু বিধিনিষেধ আছে কিটো ডায়েটেও-

(ক) মিষ্টিজাতীয় খাবার বাদ! সাথে চিনিও! সাদা চিনি, লাল চিনি বলতে কিছুই থাকবে না খাদ্য তালিকায়। মিষ্টিপ্রেমিদের জন্য দুঃসংবাদই বটে! তবে দুঃসংবাদের এখানেই শেষ নয়, আরও একটু আছে। কোকজাতীয় সব ধরণের ঠাণ্ডা পানীয়, সব ধরণের ফল ও ফলের জুস, কেইক আইসক্রিম, চকোলেইট, স্মুদি, যে-কোন ধরনের মিষ্টান্ন, ইত্যাদি নিষিদ্ধ। খেতেই পারবেন না।

(খ) আটার তৈরি খাবার অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে। একই সাথে ভাত,পাস্তা, নুডুলস, ওটস, কর্নফ্লেক্সও অনেকে বেশ পছন্দ করে খান। দুঃখের সাথে জানাচ্ছি কিটোজেনিক ডায়েটে এগুলোও বাদ!

(গ) বাঙালি মানেই মাছে-ভাতে-ডালে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়া এক অনুভূতি। কী তাইতো? অনেকে বেশ আয়েশ করে ডাল দিয়ে আলুভর্তা, ডাল দিয়ে আম এবং ডাল দিয়ে ডিম অমলেট খেতে ভালোবাসেন। এ ভালোবাসা দোষের কিছু না তবে কিটো ডায়েটে এ ভালোবাসা নিষিদ্ধই বটে! ডালে প্রোটিনের পাশাপাশি প্রচুর কার্ব থাকার কারণে কিটো ডায়েটে সব ধরণের ডাল বাদ!

(ঘ) প্রিয় পাঠক, মাটির নিচের সবজি খেতে কেমন লাগে আপনার? আলু, গাজর, কচু, ওল, মুলা, ইত্যাদি খেতে কেমন লাগে? সর্ষের তেল আর নতুন ওঠা ধনে পাতা দিয়ে ঝাল করে আলু ভর্তার স্বাদ পেতেই বা কেমন লাগে পাঠক? অমৃত নয়? এখানেও দুঃসংবাদ জানাচ্ছি, কিটো ডায়েটে এই মাটির নিচে হওয়া সবজি খাওয়া একদমই বারণ!

(ঙ) সর্বশেষ দুঃসংবাদ তাদের জন্য যারা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেতে ভালোবাসেন! জি! ওটাও বাদ! কোন প্রক্রিয়াজাত খাবার আপনি কিটো ডায়েটে খেতে পারবেন না।

যে খাবার গুলো খাওয়ার অনুমতি আছে! [Foods that are Allowed to Eat!]

খাদ্যপ্রেমীরা হয়তো ভাবছেন, সবই যদি বাদ পড়ার তালিকায় যায় তবে খাবেন টা কী? কিংবা হয়তো ভাবছেন, কিটো ডায়েটে কি তবে না খেয়েই ডায়েট কন্ট্রোল করতে হবে? উত্তর হলো- ‘না!’ অনেক কিছু বাদ পড়লেও অনেক মুখরোচক কিছুই আছে যা আপনি এই কিটো ডায়েটে খেতে পারবেন। চলুন একটু জেনে নেওয়া যাক-

(ক) মাংসপ্রেমীদের জন্য সুখবর! কিটো ডায়েটে আপনি মাংস অর্থাৎ গরু এবং মুরগি খেতে পারবেন।

(খ) অনেকে মাংস অত পছন্দ করেন না। এবারের সুখবরটা তাদের জন্য! সব ধরণের মাছ আপনি খেতে পারবেন। বড়ো কিংবা ছোটো কোন বাছ-বিচার নেই। সব মাছ খাওয়া আপনার জন্য প্রযোজ্য। কী খুশি তো ফিশ-লাভারেরা?

(গ) বলুন তো পাঠক, কোন খাবারকে ব্যাচেলর্স ফুড বলা হয়? ডিম, তাইতো? ব্যাচেলর্স লাইফ, হল লাইফ, মেস লাইফ, সাবলেট লাইফে থাকা প্রতিটা মানুষের নিত্য দিনের খুব পরিচিত খাবার কিন্তু ডিম। ঘরে আর কিছু থাকুক বা না থাকুক, ডিম তো থাকবেই। ডিম ভাজি কিংবা ভর্তা করে দিনাতিপাত করে দেয় এমন অনেকেই কিন্তু আছেন। রান্নার ঝামেলা এড়ানো কিংবা সহজে প্রস্তুত করা যায় বলে ডিমের জনপ্রিয়তাও কিন্তু অনেক। আবার অনেকে ডিম খেতেও বেশ পছন্দ করেন। তো ডিম নিয়ে এত আলাপনের মাঝে একটা সুখবর দিয়ে রাখি, কিটো ডায়েটে আপনি ডিম খেতে পারবেন। জি ঠিকই পড়েছেন। ডিম খাওয়ার অনুমতি আপনি কিটো ডায়েটে পাচ্ছেন।

(ঘ) ঘি এবং বাটার কার না পছন্দ? ঘিয়ে ভাজা লুচি কিংবা পরোটার স্বাদ অমৃত-তুল্য অনেকের কাছেই। আর বাটার? সে তো আরেক ধাপ এগিয়ে। পাউরুটি এবং বাটার যেন মানিকজোড়। বলছি, এই বাটার এবং ঘি-ও আপনি খেতে পারবেন কিটো ডায়েটে!

(ঙ) বাদাম পছন্দ? খেতে ভালোবাসেন? বাদামের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানলে এই জিনিস না খেয়ে থাকা অসম্ভবই হবে আপনার জন্য। কিটো ডায়েট এই অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবারটি আপনার জন্য বরাদ্দ রেখেছে।

(চ) স্বাস্থ্য সম্মত যত তেল আছে, যেমন- অলিভ অয়েল, কোকোনাট অয়েল, ক্যানলা অয়েল, এর সবই খেতে পারবেন।

(ছ) সবুজ যত সবজি আছে, যেমন- পালং, ব্রকলি, বাঁধাকপি ইত্যাদির সবই খেতে পারবেন। তবে রংটা সবুজ হতে হবে।

(জ) মশলা খেতে পারবেন, প্রায় সবই। এতে মানা নেই।

কেন কিটো ডায়েট ভালো? [Benefits of Ketogenic Diet]

প্রায় হুট করেই বাংলাদেশে যেন কিটো ডায়েট বিষয়টা জনপ্রিয় হয়ে উঠলো। এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই কিটো ডায়েট আদতে কতটা ভালো আর কেনই-বা ভালো? উত্তর খুঁজতে কিছু বিষয়ের আলাপন জুড়ে দিচ্ছি-

  • যদি প্রচুর ফ্যাট কমানোর ইচ্ছা থাকে তবে কিটো ডায়েটকে ভরসা আপনি করতেই পারেন! কারণ এই ডায়েটে খুব অল্প সময়েই অনেক ফ্যাট কমানো যায়।
  • এই ডায়েটে ফ্যাট আর প্রোটিন গ্রহণের আধিক্যের কারণে পেট খালি থাকার সম্ভাবনাও থাকে না। অনেক বেশি প্রোটিন শরীরে থাকলে এমনিতেও ক্ষুধা পায় না। এজন্য ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে আনা খুব সহজ হয়ে যায়।
  • মেদ কমে যাবে ঠিকই কিন্তু শরীরে পেশীর পরিমাণ ঠিক থাকবে।
  • গবেষণা জানাচ্ছে, যে সকল মানুষ কিটো ডায়েটে অভ্যস্ত তারা টিপিক্যাল লো-ফ্যাট ক্যালোরির যত রেস্ট্রিক্টেড ডায়েট আছে, সে সমস্ত ডায়েটের চাইতে ২.২ গুণ বেশি ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন।
  • হার্ট ডিজিজ, ব্লাড প্রেশার, ব্লাড সুগারের রিস্ক কমায় কিটো ডায়েট। একই সাথে পিসিওএস এবং ডায়াবিটিস রোগীদের জন্যও ডায়েটটি বেশ কার্যকর। শুধু ওজন কমানো না বরং ইনসুলিন আর ব্লাড সুগারও নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ সাহায্য করে কিটো ডায়েট।
  • তবে ভেজিটেরিয়ানদের জন্য কিটো ডায়েটটা আসলেই মুশকিলের ব্যাপারই বটে! কারণটা ইতোমধ্যে হয়তো বুঝেও গেছেন। কিটো ডায়েটে প্রোটিন যতটা গ্রহণ করতে হয় শাক-সবজি থেকে সেই পরিমাণটা সংগ্রহ করা আসলেই খুব কঠিন। আবার শাক-সবজিতে শর্করাও থাকে। কিটো ডায়েটে শর্করা আবার নিষেধ! সুতরাং একই সাথে শর্করা আর প্রোটিন, বুঝতেই পারছেন বিষয়টা আসলেই সাংঘর্ষিক।

আছে বিপরীত কিছু ঘটনাও! [Common Side Effects on a Keto Diet]

হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই কিটো ডায়েট আদতে কতটা সুফল বয়ে আনে কিংবা কুফল, সে আলাপে যাবো না তবে একটা ডাক্তারের ঘটনা উল্লেখ করতে চাই। মন দিয়ে পড়ুন ,সিদ্ধান্ত আপনাদের!

মেয়েটির বয়স ৩০, উচ্চতা ৫ ফুট ৩। উচ্চশিক্ষিতা এবং একজন মা। দুটি ফুটফুটে সন্তানের জননী সে। জনৈক ডাক্তারের চেম্বারে গিয়েছিলেন তীব্র শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে অথচ তার পরিবারে শ্বাসকষ্টের কোন রোগী নেই! রিপোর্ট জানালো কিটো ডায়েটে আকৃষ্ট হয়ে ৫ মাস ধরে কিটো ডায়েট এ আছেন মেয়েটি। এই ৫ মাসে ৮ কেজি ওজন কমিয়ে ৭২ কেজি থেকে ৬৪ কেজিতে নামিয়ে এনেছেন। সবই ঠিক ছিল কিন্তু সমস্যা বেঁধেছে অন্য জায়গায়। ওজন কমলেও শরীরের নানান জায়গায় নানান রকম সমস্যার দেখা মিলছে। বুকের ভেতর অস্থির লাগা, শরীর দূর্বল লাগা, মাথা ঘোরা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য। সব মিলিয়ে দিশেহারা মেয়েটি।

প্রশ্ন রাখছি, কী বুঝলেন? সবার কি সব সয়?

ডায়েট সম্পর্কে অনেকের ধারণা শূন্যেরও নিচে, এ আপনি জানেন?

ইউটিউব, গুগল ঘেটে অল্প সময়ে ওজন কমাতে অনেকেই ঝুঁকে যান কিটো ডায়েটের দিকে। নাম পালটে অনেকে লো কার্ব ডায়েট বলেও ফলাও করে প্রচার করছেন কিন্তু কাজ তো ঐ একই। কিন্তু সত্যি বলতে কী, আমরা অনেকেই ভুলে যাই যে আমরা আদতে মানুষ। হ্যাঁ, এটাও ঠিক মানুষ পারে না এমন কিছুই নেই। কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে যে জীবন একটাই! গেইমের মতো একাধিক লাইফ আমরা পাবো না ,তাই সব কিছু নিয়ে নিজের উপর এক্সপেরিমেন্টটা না চালালেই কী নয়?

না, আমি এও বলছি না যে কিটো ডায়েট ভালো নয়, বরং অনেকের কাজে এসেছে। কিন্তু যদি সর্বসাকুল্যে চিন্তা করতে যান, তাহলে কিন্তু এই কিটো ডায়েট আদতে সাধারণ কোনো মানুষের জন্য উপযুক্ত নয়। বিভিন্ন ডাক্তাররা অন্তত এমনটাই বক্তব্য দিয়েছেন। এখন কেন এই কিটো ডায়েট সর্বসাকুল্যে প্রযোজ্য নয়, সে বিষয়ে একটু আলাপের প্রয়োজন আছে বইকি! তো চলুন বিভিন্ন ডাক্তার এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত জেনে নেওয়া যাক-

আচ্ছা পাঠক, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে এমন কাউকে দেখেছেন কখনও? এই মানুষগুলোর জন্য লবণ খাওয়া কিন্তু একদম নিষিদ্ধ! আবার ধরুন যিনি থাইরয়েড ডিজঅর্ডারে ভুগছেন, স্বাভাবিকভাবেই তার গ্লোটেনযুক্ত খাবার নিষিদ্ধ। একইভাবে গবেষণা করেই কিটো ডায়েটকে মূলত সাজানো হয়েছিল মৃগী রোগীদের থেরাপডিউডিক ডায়েট হিসেবে। প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টি উপাদানকে বাদ দিয়ে কেবল হাই ফ্যাট, হাই প্রোটিন এবং নামেমাত্র কিছু কার্বোহাইড্রেড দিয়ে সাজানো হয় এই কিটো ডায়েট। এই ডায়েট তৈরির নেপথ্যে ছিল মৃগী রোগীদের সুস্থতা। কিন্তু ঔষধ আবিষ্কারের আগে এই কিটো ডায়েটের সাইড ইফেক্ট প্রকট হয়ে ধরা দেয়। অতিরিক্ত ওজন হ্রাস, স্বাস্থ্য জটিলতা সহ ডায়েটটি গ্রহণযোগ্যতা হারাতে শুরু করে। আমাদের মস্তিষ্কের প্রধান খাদ্যই হচ্ছে শর্করা বা গ্লুকোজ যেটা আমাদের সারাদিনের অ্যানার্জি বহন করে। এখন আপনি চিন্তা করুন, এত প্রয়োজনীয় এই শর্করা বাদ দিয়ে অতিরিক্ত চর্বি যখন আপনি গ্রহণ করছেন শর্করার পরিবর্তে, তা আদতে কতটা কাজে দেবে? সাময়িকভাবে এটা হয়তো শরীরে থাকা অতিরিক্ত চর্বিকে পুড়িয়ে, ভেঙে ওজন কমিয়ে দেয় এবং শরীরে স্বাভাবিক মেটাবলিজমের বিরুদ্ধে হয়ত কাজও করে, তবে সেটা সাময়িক। কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে এই অবস্থা চলতে থাকলে কিছু সমস্যা হয়। অতিরিক্ত ফ্যাট বার্ন হওয়ার দরুন কিটন বডি অতিরিক্ত তৈরি হয় যা প্রাথমিকভাবে রক্তে কিটোসিস এবং পরবর্তী সময়ে কিটোএসিডোসিসে রুপান্তরিত হয়। আর এগুলো রক্তের সাধারণ পিএইচ লেভেলকে একদম ক্ষতিগ্রস্থ করে ফেলে।

পড়ুন: ৩০ দিনে ওজন কমানোর কার্যকরী উপায়

কিটো ডায়েটের শুরুর দিকে প্রথম ২/৩ সপ্তাহ কোনরকমে ঝুঁকির বাইরে ফেললেও দীর্ঘমেয়াদী কিটো ডায়েট শরীরের জন্য মোটেও সুখকর কিছু না। মাথা ঘোরানো, মাথাব্যথা, বুক ধরফর করা, বমি বমি ভাব, শরীর ব্যথা, কাজে অমনযোগিতা, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস, সারাদিন পিপাসা পাওয়া, খিটখিটে মেজাজ ইত্যাদি দেখা দেয়। আরও ভয়ংকর তথ্য দেই পাঠক? হুট করে না জেনে-বুঝে এই কিটো ডায়েট অনুসরণ করে অতিরিক্ত চর্বি গ্রহণ করার ফলে রক্তে কোলেস্টেরল, এলডিএল, টিজি বেড়ে গিয়ে স্ট্রোক এবং হৃদরোগ এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এখানেই শেষ নয়! অতিরিক্ত চর্বি গ্রহণের কারণে উপর্যুক্ত সমস্যা তো আছেই, বাড়তি হিসেবে যোগ দেয় ডায়রিয়া। আবার ডায়েটে ফাইবার কম থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যকে বোনাস হিসেবেও পেতে পারেন! ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত যারা, তাদের জন্য এই কিটো ডায়েট মোটেও আদর্শ নয়। লিভার দুর্বল তো করবেই, পিত্তথলিতে পাথর, প্যানাক্রিয়াস সহ হজম শক্তি পর্যন্ত কমিয়ে দেবে। এতো গেলো শরীরের ভেতরকার সমস্যা। বাইরের কথায় একটু আসি- ত্বকের উজ্জ্বলতা হারানোর পাশাপাশি চুল পড়ে যাওয়ার আধিক্য দেখা দেবে! হরমোনাল ইম্ব্যালেন্স যাদের আছে, গর্ভবতি, দুগ্ধদানকারি মা, আর্থ্রাইটিসে ভোগা মানুষদের জন্যও এই কিটো ডায়েট আদর্শ নয়। মেয়েদের জন্য বলছি- ডায়েট শুরুর পূর্বে জেনে-বুঝে আগাবেন। সামান্য এদিক ওদিকে ঋতুস্রাবের সমস্যার পাশাপাশি বাচ্চা ধারণেও কিন্তু সমস্যা হতে পারে।

কিডনি রোগীদের কথা একটু না বললেই নয়। এই রোগীদের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটিন খাওয়ার অনুমতি থাকে। কিটো ডায়েটে মাত্রার অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ফলে কিডনিতে চাপ পড়ে। দীর্ঘসময় এই চাপ নেওয়ার ক্ষমতা কিডনির থাকে না ফলে কিডনিতে পাথর হয়ে বিকল হয়ে যাওয়ার ঘটনা কিন্তু বিরল নয়।

পাঠক, একটু হলেও এবার হয়ত ধারণা পেয়েছেন যে কিটো ডায়েট আদতে সর্বসাকুল্যের জন্য নয়। এবং দীর্ঘমেয়াদের জন্যও আদর্শ নয়। আবার হুট করে ছেড়ে দিলে আগের চেয়ে বেশি হারে ওজন বেড়ে যাবে। মূলত এখনও পর্যন্ত কোন গবেষণায় কিটো ডায়েটের দীর্ঘমেয়াদী কিংবা সর্বসাকুল্যে গ্রহণযোগ্যতার বিষয় আবিষ্কৃত হয়নি। তাই একে পুর্ন নিরাপদ ভাবার আগে একটু ভাবতে হবে। ডাক্তার কিংবা পুষ্টিবিদ এর পরামর্শ ছাড়া ফেইসবুক, ইউটিউব এবং গুগলের উপর ভরসা করে নিজের শরীর নিয়ে এক্সপেরিমেন্টে না যাওয়ার অনুরোধ জানাবো। শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করুন। ভালো চিন্তা করুন এবং প্রফুল্ল থাকুন। বাজে চিন্তা এবং বাজে অভ্যাস থাকলে তা বাদ দিয়ে দিন। সুস্থতা হাতে এসে ধরা দেবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানবজীবনের ৭টি বদভ্যাস এর তালিকা করেছে যেগুলো মানব মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর –

  • সকালে কিছু না খাওয়া।
  • রাতে খুব দেরিতে ঘুমানো।
  • বেশি চিনি ও মিষ্টান্ন গ্রহণ।
  • দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা।
  • খাওয়ার সাথে টিভি দেখা, মোবাইল চালানো অথবা কম্পিউটার চালানো।
  • ঘুমানোর সময় মাথায় কিছু দিয়ে ঢেকে রাখা- টুপি বা স্কার্ফ জাতীয়।
  • প্রস্রাবের বেগ থাকা সত্ত্বেও আঁটকে রাখা।

সুস্থ জীবন যাপনের জন্য শরীরে কম বেশি সব ধরণের খাবারই কিন্তু দরকার হয়। শরীর যেহেতু আপনার, একে ভালো রাখার দায়িত্বটাও আপনার। আর তাই সিদ্ধান্তটাও আপনার।

Filed Under: Diet Tips, Weight Loss (ওয়েট লস)

Primary Sidebar

সাম্প্রতিক লেখা

১৬টি সেরা খাবার সকালবেলার দৌড়ের পর খাওয়ার জন্য – পোস্ট-রান রিকভারি পুষ্টি

ওজন কমাতে সেরা ২০টি ডিটক্স স্মুদি: উপাদান, প্রস্তুতি ও উপকারিতা

সহজে হজম হয় এমন ১৬টি হালকা খাবারের রেসিপি

Low FODMAP Diet: ৩ ধাপের পরিকল্পনা ও কোন খাবার খাবেন, কোনটা এড়িয়ে চলবেন

প্যালিও ডায়েট: উপকারিতা, ঝুঁকি ও ৭ দিনের খাবার পরিকল্পনা

বিভাগ সমূহ

  • Fashion
  • HAIR CARE (চুলের যত্ন)
    • Basic Hair Care (বেসিক হেয়ার কেয়ার)
    • Dandruff (খুশকি)
    • Dry Hair Care (শুকনো হেয়ার কেয়ার)
    • Hair Care Ideas
    • Hair Fall ( চুল পড়া)
    • Hair Growth ( চুল বৃদ্ধি)
    • Hair Treatment (চুল চিকিৎসা)
    • Oily Hair Care ( তৈলাক্ত চুলের যত্ন)
  • HEALTH & WELLNESS (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা)
    • Diet Tips
    • Fitness
    • Healthy Food
    • Home Remedies
    • Ingredients and Uses
    • Nutrition (পুষ্টি)
    • Weight Gain
    • Weight Loss (ওয়েট লস)
  • Lifestyle (জীবনযাপন )
  • MAKEUP (মেকআপ)
    • Bridal Makeup (ব্রাইডাল মেকআপ)
    • Eye Makeup (চোখের সাজসজ্জা)
    • Lip Make up (লিপ আপ করুন)
  • SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)
    • Acne
    • Anti Ageing
    • Beauty Secrets
    • Dry Skin
    • Face Care Tips
    • Face Packs and Masks
    • Glowing skin
    • Homemade Tips
    • Oily Skin
    • Skin Care Ideas
    • Skin Care Problems
    • Sunscreen
  • Top 10's

Copyright © 2026 · RUP KOTHON · All rights reserved ®