• Skip to primary navigation
  • Skip to main content
  • Skip to primary sidebar

রূপকথন

Healthier Lifestyljhhe Choices

  • Facebook
  • Home
  • Shop
  • Blog
    • মেকআপ
      • ব্রাইডাল মেকআপ
      • সেলিব্রিটি মেকআপ
      • চোখের সাজসজ্জা
      • মুখের রূপসজ্জা
      • লিপ মেকআপ
      • মেকআপের ধারণা
      • মেহেদী ডিজাইন
      • নখের ডিজাইন
    • চুলের যত্ন
    • ত্বকের যত্ন
    • চুল স্টাইল
    • স্বাস্থ্য ও সুখ
      • ফিটনেস
      • স্বাস্থ্যকর খাবার
      • ওজন বৃদ্ধি
      • ওজন কমানো
      • যোগ ব্যায়াম
      • ডায়েট টিপস
      • আয়ুর্বেদ
  • Contact Us

SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)

ব্রণ দূর করতে ফেসিয়াল স্টিমের উপকারিতা এবং ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া দেওয়া হল

by Mohona

ব্রণের সঙ্গে কি সংগ্রাম করে যাচ্ছেন? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে ফেসিয়াল স্টিম আপনাকে এর সাথে মোকাবেলা করতে সাহায্য করবে। আপনার ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার এবং ব্রণ প্রতিরোধ করার জন্য এটি একটি দুর্দান্ত উপায়। আমি জানি আপনাদের মধ্যে অনেকেই এই প্রক্রিয়াটি করে দেখবেন কিনা তা নিয়ে দ্বিধাবোধ করবেন, কিন্তু আপনি যদি এটি সঠিক উপায়ে করেন, তাহলে ফেসিয়াল স্টিমিং আপনাকে খুব ভালো ফলাফল প্রদান করবে। এবং আজকে আমি সঠিক উপায়ে করার পদ্ধতিটি আলোচনা করবো।

কিভাবে ফেসিয়াল স্টিমিং ব্রণ কমাতে সাহায্য করে

কোন স্কিন কেয়ার রুটিন অনুসরণ করার আগে আপনাকে অবশ্যই বুঝতে হবে কেন এবং কিভাবে এটি আপনাকে সাহায্য করবে। ব্রণ তখনি হয় যখন আপনার ত্বকের লোমকুপ গুলো তেল, চর্বি অথবা মৃত চামড়ার কোষ এবং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বন্ধ হয়ে যায়। PubMed Health এর প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে বলা হয় ত্বক গরম পানি অথবা ফেসিয়াল ষ্টীম দিয়ে ট্রিট্মেন্ট করালে এটি লোমকূপ পরিষ্কার এবং ধুলাবালি মুক্ত করতে সাহায্য করে। এটি ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি আপনার ত্বকে যে অয়েন্টমেন্ট অথবা ক্রিম ব্যবহার করেন, ফেসিয়াল স্টিমিং এদের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। স্টিম নেওয়ার পর আপনার ত্বক আরো নরম হয়, এবং এরপর আপনি আপনার ত্বকে যাই ব্যবহার করেন তা আরো ভালো কাজ করে।

এখন আপনি জানেন যে কেনো ব্রণ দূর করতে অয়েন্টমেন্ট এবং ক্রিমগুলো কাজ করতো না! এরা যদি ত্বকের গভীর স্তরে প্রবেশ করতে না পারে, তারা কোন মতেই কাজ করবেনা – এবং ফেসিয়াল স্টিমিং এটি করতে সাহায্য করে। এছাড়া যখন আপনার লোমকুপগুলো পরিষ্কার থাকবে তখন আবার সেই কুৎসিত ব্রণগুলো ফিরে আসা নিয়ে আপনাকে কোনো চিন্তাই করতে হবে না। ব্রণের জন্য ফেসিয়াল স্টিমিং এর ব্যবহার সম্পর্কে আরো কিছু উপকারিতা জেনে নেওয়া যাক।

ব্রণের জন্য  ফেসিয়াল স্টিম ব্যবহারের উপকারিতা

১. এটি ভালোভাবে আপনার ত্বক পরিষ্কার করে

মখে স্টিমের ব্যবহার আপনার ত্বকের লোমকুপ গুলো খুলতে সাহায্য করে, ধুলাবালি পরিষ্কার করে এবং ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া দূর করে। ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডস (বন্ধ হয়ে যাওয়া লোমকূপের কারণে সৃষ্ট) নরম করে তুলে এদের থেকে সহজে মুক্তি পেতে সহায়তা করে।

২. রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে

ফেসিয়াল স্টিম মুখের ঘাম ঝরায়। যার ফলে, এটি আপনার রক্তনালী প্রসারিত করে এবং মুখের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে। রক্ত আপনার মুখে অক্সিজেন এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ সরবরাহ করে আপনার ত্বককে স্বাস্থ্যসম্মত এবং উজ্জ্বল করে তুলে।

৩. এটি ত্বককে হাইড্রেট করে

ফেসিয়াল স্টিমিং আপনার ত্বককে হাইড্রেট করতে সাহায্য করে। যখন আপনার লোমকূপগুলো খোলা থাকে, তখন এরা প্রাকৃতিক তেল নিঃসরণ করে যা আপনার ত্বক ময়েশ্চারাইজড রাখে এবং ত্বক শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা করে।

৪. এটি কোলাজেনের প্রবাহ বাড়ায়

স্টিম নেওয়ার পর আপনার মুখে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়, যার ফলে আপনার ত্বকে পুষ্টি এবং অক্সিজেন পৌছায়। এটি কোলাজেনের উৎপাদন বৃদ্ধি করে, ত্বকের নমনীয়তা উন্নত করে, এবং বয়সের ছাপ এবং বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে।

৫. এটি আপনাকে রিল্যাক্স হতে সাহায্য করে

ব্যতিক্রমীভাবে ফেসিয়াল স্টিমিং আপনার ত্বককে শীতল এবং সতেজ করে তুলে। এবং যখন আপনি পানিতে এসেনশিয়াল তেল যোগ করেন, এটা একটি পরিপূর্ণ এ্যারোমা থেরাপি সেশনের মত কাজ করে যা আপনার ত্বককে শুধু উজ্জলই করে না, আপনার ইন্দ্রিয়গুলোকে শীতল করে।

সবচেয়ে সেরা বিষয়টি হলো আপনি এসকল উপকারিতাগুলো ঘরে বসেই উপভোগ করতে পারবেন! ঘরেই আপনার মুখ স্টিম করার প্রক্রিয়াটি নিম্নে ধাপে ধাপে দেওয়া হলোঃ

কিভাবে ঘরে বসেই ব্রণের জন্য ফেসিয়াল স্টিমিং করতে হবে

ঘরেই ফেসিয়াল স্টিমিং করার জন্য কয়েকটি প্রক্রিয়া আছে, এবং এদের নিয়ে নিছে আলোচনা করা হলোঃ

একটি পাত্রের ব্যবহার

ধাপ ১. টেবিলে একটি বড় পাত্র নিন। একটি চেয়ার নিন এবং এর উচ্চতা টেবিলে রাখা পাত্রের সাথে সমন্বয় করে নিন।

অথবা

আপনি এটি আপনার সিঙ্কেও করতে পারেন। পানি বের হওয়ার স্থানটি বন্ধ করে নিন এবং এর কাছে একটি চেয়ার নিন। আপনার সুবিধা মত উচ্চতা সমন্বয় করে নিন।

ধাপ ২. একটি রাবার ব্যান্ড বা তোয়ালে দিয়ে আপনার চুল বেধে নিন। একটি ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ এবং ঘাড় পরিষ্কার করে নিন।

ধাপ ৩. পানি গরম করুন। পানির পরিমান পাত্র অথবা সিঙ্ক এর আকারের উপর নির্ভর করে।

ধাপ ৪. আপনি গরম পানির সাথে কিছু হারবাল পাতা যোগ করতে পারেন, যেমন পেপারমিন্ট, ইউক্যালিপ্টাস, রোজমেরি, ল্যাভেন্ডার এবং ক্যামোমিল। অথবা আপনার পছন্দের যেকোন এসেনশিয়াল তেল যোগ করতে পারেন। যদি আপনি হারবাল পাতা ব্যবহার করেন, আপনার প্যান চুলা থেকে নামানোর আগেই তা মিশাবেন, এবং যদি আপনি এসেনশিয়াল তেল ব্যবহার করেন তাহলে পাত্রে/সিঙ্কে পানি ঢালার পর এটি যোগ করবেন।

ধাপ ৫. পাত্র/সিঙ্কে পানি ঢেলে ফেলার পর এবং এসেনশিয়াল তেল যোগ করার পর (আপনি যদি এটি ব্যবহার করেন), তোয়ালে আপনার মাথার উপর দিন এবং মুখ তোয়ালের ভিতরে রেখে তোয়ালের বাকি অংশ দিয়ে পাত্র/সিঙ্ক ঢেকে দিন। আপনার মুখ পাত্র/ সিঙ্ক থেকে ৬ ইঞ্চি উপরে রাখুন।

ধাপ ৬. আপনি কতটা উত্তাপ সহ্য করতে পারেন তার উপর ভিত্তি করে দূরত্ব নির্ধারণ করুন। মুখ ঠান্ডা করার জন্য আপনার যতবার ইচ্ছা ততবার তোয়ালের এক কোণা উঠাতে পারেন।

ধাপ ৭. এটি ১০ মিনিটের বেশি করবেন না।

তোয়ালের ব্যবহার

উপরে বর্ণিত ১ থেকে ৪ ধাপ পর্যন্ত অনুসরন করুন। এরপর, নিম্নলিখিত কাজগুলো অনুসরন করুন।

ধাপ ১. একটি নরম এবং পরিষ্কার তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে নিন এবং ভালোভাবে নিঙরে নিন।

ধাপ ২. আপনি যদি একটি চেয়ারে বসে থাকেন তাহলে পেছনের দিকে হেলান দিয়ে বসুন এবং আপনার মুখে গরম তোয়ালেটি রাখুন। তোয়ালেটি যাতে আপনার মুখটি ভালোভাবে ঢেকে রাখে। আপনি শুয়ে থেকেও একই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারেন।

ধাপ ৩. সেশনটি ১০ মিনিটের বেশি কখনো করবেন না। প্রতিবার ২ মিনিট পর পর তোয়ালে মুখ থেকে সরিয়ে নিবেন।

ফেসিয়াল স্টিমারের ব্যবহার

ধাপ ১. একটি ফেসিয়াল স্টিমার কিনে নিন। এগুলো অনলাইন শপিং এ কিনতে পাবেন।

ধাপ ২. কতটুকু পানি ব্যবহার করতে হবে তা জানতে নির্দেশাবলী ভালোভাবে পড়ুন। তদানুসারে স্টিমারে পানি ভরে নিন এবং টেবিলে বসান।আপ্নি যে চেয়ারে বসে স্টিম নিবেন ওই চেয়ারের দূরত্ব স্টিমারের সাথে ঠিক করে নিন।

ধাপ ৩. চুল নিরাপদে রাখতে একটি তোয়ালে বা ব্যান্ড দিয়ে ছুল বেঁধে নিন। একটি ভালো ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ পরিষ্কার করে নিন।

ধাপ ৪. স্টিমারের উপরে কৌণিক স্থানটিতে আপনার মুখ বসান। নির্দেশাবলী অনুযায়ী স্টিমার থেকে আপনার মুখের দূরত্ব ঠিক করে নিন।

ধাপ ৫. একনাগাড়ে ২-৩ মিনিট স্টিম নিন। আপনার ত্বকে মানিয়ে নিচ্ছে কিনা তা দেখতে এর মধ্যে একবার বিরতি নিন। আপনাকে এটা করতে হবে কারন, অন্যান্য প্রক্রিয়ার তুলনায় , ফেসিয়াল স্টিমার শক্তিশালী স্টিম প্রদান করে।

স্টিমিং প্রক্রিয়া নিয়ে নেওয়ার পর  আপনার মুখ শুকিয়ে নিন অথবা প্রাকৃতিকভাবে শুকাতে দিন। এরপর ত্বকের সিরাম বা অথবা ক্রিম আপনার মুখে লাগিয়ে নিন।

এখন পরবর্তী প্রশ্নটি হলো, আপনি ঘরে কতবার ফেসিয়াল স্টিমিং করতে পারবেন? এখানে আপনার উত্তরটি দেওয়া হলোঃ

কতবার আপনি ফেসিয়াল স্টিমিং করতে পারবেন এবং কতখনের জন্য?

আমরা জানি যে কোন কিছুর বেশি বযবহার করা মোটেও ভালো না। মাত্রাতিরিক্ত স্টিমিং আপনার ব্রণের জন্য ক্ষতিকারক। তাই, সপ্তাহে একবার স্টিম করা আপনার মুখের জন্য উত্তম। যদি আপনার লোমকূপগুলো মাত্রাতিরিক্ত দূষিত হয়ে থাকে তাহলে আপনি সপ্তাহে ২ বার ফেসিয়াল স্টিমিং করতে পারেন – কিন্তু এর থেকে বেশি না। এভাবে আপনি দুই সপ্তাহের জন্য করতে পারেন এবং এরপর বার সপ্তাহে একদিন করে করতে পারেন।

সাধারনত, একনাগাড়ে ১০ মিনিটের বেশি স্টিমিং করা উচিত নয়। কিন্তু, আপনি আপনার ত্বকের ধরণ অনুযায়ী সময় বাড়াতে বা কমাতে পারেন।

১. সাধারণ বা মিশ্র ত্বকের জন্যঃ সপ্তাহে একবার ১২ মিনিটের জন্য

২. শুষ্ক ত্বকের জন্যঃ সপ্তাহে দুইবার ১০ মিনিটের জন্য

৩. তৈলাক্ত ত্বকের জন্যঃ সপ্তাহে দুইবার ১২ মিনিটের জন্য

৪. সংবেদনশীল ত্বকের জন্যঃ আপনার ত্বক-বিশেষজ্ঞের সাথে কনসাল্ট করে জেনে নিন যে আপনার ত্বক স্টিমিং সহনশীল নাকি না।

আপনি যদি স্পা এর মত অনুভূতি পেতে চান, আপনি এ্যাসেনশিয়াল তেল ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু কোন এসেনশিয়াল তেলটি আপনি বেছে নিবেন?

ফেসিয়াল স্টিমিং এর জন্য এসেনশিয়াল তেল

যেই এসেনশিয়াল অয়েলটি কাজ করবে তা আপনার ত্বকের ধরণের উপর নির্ভর করে। (সাধারণত, সব এসেনশিয়াল তেল ভালো – যদি আপনি এলারজিক না হন)

ব্রণের জন্য টি ট্রি তেল এবং রোজমেরি তেল ব্যবহার করুন।

আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয় এবং ব্রণ থাকে, টি ট্রি তেলের সাথে জেসমিন এবং রোজ এসেনশিয়াল তেল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। (যেকোন দুইটি অথবা তিনটি একসাথে)।

যদি আপনার ত্বক সংবেদনশীল হয় এবং ব্রণ থাকে, টি ট্রি তেল, ল্যাভেন্ডার এবং জেরেনিয়াম তেল ব্যবহার করতে পারেন।

এসেনশিয়াল তেল ২-৩ ফোঁটার বেশি ব্যবহার করবেন না (যদি আপনি পাত্র বা ফেসিয়াল স্টিমার ব্যবহার করেন)। পানির পরিমান যদি আরো বেশি হয় (সিঙ্ক বা বেসিনে হলে), প্রতিটি এসেনশিয়াল অয়েল ৪-৫ ফোঁটা ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু এর থকে বেশি না।

প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ, কিন্তু আপনি যে ফলাফলটি পাবেন তা আর কোনটির মত হবে না, বিশেষ করে ত্বক পরিষ্কার এবং সুন্দর হবে। আপনার ত্বকের যত্ন নিতে আপনাকে সময় বের করে নিতে হবে। নিয়মিত ফেশিয়াল স্টিমিং আপনার ত্বকে প্রাকৃতিক তেল বৃদ্ধি করে এবং লোমকূপগুলো বন্ধ হতে দেয় না।

তাহলে আর দেরি কেন? ব্যবহার করে দেখুন, এবং আমি নিশ্চিত আপনি এটি পছন্দ করবেন।

Filed Under: Oily Skin

শুষ্ক ত্বকের জন্য প্রতিদিনের কার্যকরী রুটিন

by Mohona

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নেওয়া যতটা কঠিন ঠিক তেমনি শুষ্ক ত্বকের যত্ন নেওয়া ততটাই কঠি্ন। শুষ্ক ত্বকের সাথে নানা রকম সমস্যা জড়িত যেমন মৃত কোষ, চুলকানি এবং সংবেদনশীল ত্বক। কিন্তু, সঠিক যত্নের মাধ্যমে আপনি এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেন। প্রতিদিন শুষ্ক ত্বকের যত্নের জন্য একটি রুটিন ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করলে ত্বকের শুষ্কতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ত্বকের শুষ্কতা থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে যা করতে হবে তা নিচে দেওয়া হলোঃ

শুষ্ক ত্বকের জন্য দৈনিক স্কিন কেয়ার রুটিন

  1. সকাল
  2. দুপুর
  3. রাত

১. সকাল

ধাপ ১ঃ সবার প্রথমে আপনাকে যা করতে হবে তা হলো সকালে ঘুম থেকে উঠার পর পরেই আপনার মুখমন্ডল ঠান্ডা পানি দিয়ে কিছুক্ষন ধুয়ে নিবেন। এটি আপনার ত্বককে সম্পূর্ণরূপে সতেজ করে তুলে।

ধাপ ২ঃ এরপর, একটি ময়েশ্চারাইজিং ক্লিনজার নিন এবং এটি দিয়ে আস্তে আস্তে আপনার ত্বক পরিষ্কার করে নিন। এবং আপনি অবশ্যই একটি প্রাকৃতিক পণ্য বাছাই করবেন যাতে কেমিক্যালের মাত্রা অনেক কম থাকে।

ধাপ ৩ঃ ক্লিনজিং এর পর আপনার স্কিন টোন করুন। একটি টোনার নিন যেটি আপনার ত্বক শুষ্ক করে না। প্রাকৃতিক এবং ভালো উপায় হিসেবে আপনি গোলাপ জল ব্যবহার করতে পারেন।

ধাপ ৪ঃ এরপরের ধাপ হলো ময়েশ্চারাইজিং – এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ত্বকে মিশে না যাওয়া পর্যন্ত ময়েশ্চারাইজার আপনার পুরো মুখে ভালোভাবে লাগান।

ধাপ ৫ঃ অতপর, আপনি যদি বাহিরে যান তাহলে সানস্ক্রিন অবশ্যই লাগাবেন। এবং এটি অবশ্যই এসপিএফ ৩০ অথবা এর থেকে বেশি হতে হবে। কয়েক ঘন্টা পর পর এটি লাগাবেন।

ধাপ ৬ঃ আপনি যদি মেকাপ ব্যবহার করতে চান তাহলে হালকা মেকাপ করাই উত্তম। ময়েশ্চারাইজার, বিবি ক্রিম এবং কনসিলার সবচেয়ে ভালো বিকল্প। এগুলো অবশ্যই ময়েশ্চারাইজিং হতে হবে যা যে কোন প্রকার শুষ্কতা থেকে রক্ষা করবে।

২. দুপুর

ধাপ ১ঃ আপনার সকালের রুটিন কয়েক ঘন্টার জন্য ভালভাবে স্থায়ী থাকে, কিন্তু তারপর আপনার চা নাস্তার বিরতিতে দুপুরের খাবার খাওয়ার আগে একবার টাচ আপ করে নেওয়া উত্তম। ময়েশ্চারাইজার নিয়ে আপনার পুরো মুখে লাগান অথবা শুষ্ক হয়ে যাওয়া স্থানে লাগান।

ধাপ ২ঃ আপনার ঠোঁটের যত্ন নেওয়া এবং তাদের ময়েশ্চারাইজড রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ঠোট সারাদিন কোমল রাখতে সবসময় একটি বাটার লিপ বাম সাথে রাখুন।

ধাপ ৩ঃ বাহিরের ত্বকের যত্ন ছাড়াও আপনার শরীরের ভিতরে কি প্রবেশ করছে তাতে লক্ষ্য রাখুন। অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করবেন – এটি মৌলিক উপায়। যদি পানি পান করা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রচুর পরিমাণে পানীয় এবং পানীয় জাতীয় খাবার খেতে হবে। সচেতন হন এবং সোডার পরিবর্তে সতেজ জুস বেছে নিন।

ধাপ ৪ঃ ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খান। এটি আপনার ত্বককে ভিতর থেকে দৃঢ়, উজ্জ্বল এবং ময়েশ্চারাইজড করে তুলবে। মাত্রাতিরিক্ত ভাজা খাবার পরিহার করুন এবং বেশিরভাগ কাঁচা এবং সিদ্ধ খাবার বেছে নিন।

ধাপ ৫ঃ এবং আপনি আপনার শিক্ষাক্ষেত্র/ কর্মক্ষেত্র থেকে বের হওয়ার আগে, আরেকবার ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

৩. রাত

ধাপ ১ঃ আপনার রাতের স্কিন কেয়ার রুটিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন যখন আপনি ঘুমান তখন ত্বকের সবচেয়ে বেশি কাজ হয়, এবং এই সময় আপনি যদি আপনার ত্বকে সঠিক পণ্যটি ব্যবহার করেন, আপনার ত্বক আরো দ্রুত নিরাময় হবে এবং সুস্থ থাকবে।

ধাপ ২ঃ ঘরে ফিরে আসার পর, উষ্ণ পানি দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে নিন এবং একটি ক্লিনজিং তেল অথবা মেকাপ রিমুভার দিয়ে মেকাপ তুলে নিন।

ধাপ ৩ঃ তারপর, আপনার মুখ সকালে যেভাবে পরিষ্কার করেছেন ঠিক সেভাবে পরিষ্কার করে নিন। এরপর একটি ভারি এবং নারিশিং নাইট ক্রিম লাগান যা আপনার ত্বককে সারারাত ময়েশ্চারাইজড রাখবে।

ধাপ ৪ঃ আপনাকে অবশ্যই ৭-৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।

এবং মনে রাখবেন সপ্তাহে একবার অবশ্যই একটি ময়েশ্চারাইজিং ফেইস মাস্ক লাগাবেন এবং ত্বকে স্ক্রাবিং করবেন।

এখন, আপনার শুষ্ক ত্বকের যত্নের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপসঃ

শুষ্ক ত্বকের যত্নের জন্য টিপস

  • . মাত্রাতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করা থেকে দূরে থাকুন। এটা আপনার ত্বককে আরো শুষ্ক এবং ক্ষতিগ্রস্থ করে তুলে।
  • . সবসময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন, এবং এটি আপনার জন্য উত্তম।
  • আপনার ত্বকে ক্লিনজিং করার পর খালি রেখে দিবেন না। সাথে সাথে একটি ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন।
  • আপনার ব্যাগে সবসময় একটি ময়েশ্চারাইজিং ফেশিয়াল মিস্ট রাখা খুবই উত্তম বুদ্ধি। এটি ব্যবহার করা এবং সাথে রাখা সহজ।
  • যে সকল পণ্যে অনেক বেশি কেমিক্যাল এবং মাত্রাতিরিক্ত সুগন্ধ রয়েছে তা শুষ্ক ত্বকের মানুষের জন্য একেবারেই নিষিদ্ধ। এরা ত্বককে শুষ্ক, লাল, আঁশযুক্ত এবং চুলকানি প্রবণ করে তুলে।
  • আরামদায়ক কাপড় পরিধান করুন যা আপনার ত্বকে চুলকায় না। হালকা সুতি এবং খাদি কাপড় ভালো বিকল্প।
  • বেশিক্ষণ রোদে থাকা থেকে বিরত থাকুন। ট্যানিং এবং শুষ্কতা একটি মারাত্মক সংমিশ্রণ হতে পারে।
  • আপনার হাতের তালু এবং আঙ্গুল প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজড করবেন কারন এদের দ্বারা সকল প্রকার কাজ করা হয়। আপনার পায়ের তালু ও ময়েশ্চারাইজড করার কথা অবশ্যই মনে রাখবেন।

প্রতিনিয়ত যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে, আপনি আপনার শুষ্ক ত্বককে হারাতে পারেন। আর তার জন্য লক্ষ্যে অটল থাকা এবং হার না মানাই আসল। উপরে উল্লিখিত রূটিনটি অনুসরন করুন, এবং কিছুদিনের মধ্যেই আপনি আপনার ত্বকে পার্থক্য নিজেই লক্ষ্য করবেন।

Filed Under: Dry Skin

৬ টি সহজ উপায়ে অলিভ অয়েল ব্যবহার করে কিভাবে নিশ্চিত উজ্জ্বল এবং আকর্ষণীয় ত্বক পাবেন (আলটিমেট গাইড)

by Mohona Leave a Comment

অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল চিনে না এমন ব্যক্তি পাওয়া খুব দুষ্কর। খাবারে অলিভ অয়েলের ব্যবহার যে কতটা উপকারী তা জানেনা এমন কেউ কি আছে? এটি একটি সুপরিচিত প্রাকৃতিক পণ্য যার স্বাস্থ্য এবং ত্বকের জন্য উপকারী অসাধারণ গুণাবলী আছে।

উচ্চ পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ এই তেলটি পাঁচ হাজার বছর আগে মিশরীয়দের দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। খাদ্যে ভেজিটেবল তেল অথবা অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর তেলের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহার করার জন্য বিশ্ব জুড়ে প্রত্যেক পুষ্টিবিদ পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আপনি কি জানেন অলিভ অয়েলে ত্বকের উপকারের জন্য অসাধারণ পুষ্টিগুণ আছে? এটি আপনাকে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল ত্বক পেতে সাহায্য করে।

অলিভ অয়েলের উপকারিতা

অলিভ অয়েল এমন একধরণের তেল যা আমাদের ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের রাসায়নিক কাঠামোর সাথে মিলে যায়। উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যকর ত্বক প্রদান করা ছাড়াও, এটি ত্বকের অন্যান্য সমস্যা যেমন ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইট হেডস ইত্যাদির সাথে যুদ্ধ করে। অলিভ অয়েলের সবচেয়ে ভালো উপকারিতাগুলো নিম্নে দেওয়া হলোঃ

১. প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।

২. খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার।

৩. ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইট হেডস নিরাময়ক।

৪. ত্বকে তারুণ্য ফিরিয়ে আনে।

৫. স্কিন সেলস রিপেয়ার করে।

৬. প্রাকৃতিকভাবে জীবাণু প্রতিরোধক।

৭. প্রদাহ কমায়।

আমাদের ত্বকের জন্য অলিভ অয়েলের উপকারিতাগুলো অবিশ্বাস্য। উজ্জ্বলতার জন্য মুখে অলিভ অয়েল না লাগানোটা কি এখন মোটেও যুক্তিসংগত মনে হচ্ছে? যাই হোক, আপনি রূপচর্চার জন্য অবশ্যই “এক্সট্রা ভার্জিন” অলিভ অয়েল ব্যবহার করবেন।

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল ব্যবহার করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় কারণ এটি তেলের পরিশোধিত রূপ নয়; যার ফলে, এর মধ্যে সকল পুষ্টিগুণ গুলো সংরক্ষিত থাকে। এতে এসিডের পরিমাণ ১ থেকে ২% থাকে।

উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য অলিভ অয়েল ব্যবহারের অনেকগুলো উপায় আছে। সর্বাধিক উপকারিতা আছে এমন উপায়গুলো নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ

উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য কিভাবে অলিভ অয়েল ব্যবহার করবেন?

১. এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল

২. অলিভ অয়েল এবং লেবুর রস

৩. অলিভ অয়েল এবং মধু

৪. অলিভ অয়েল এবং হলুদ

৫. অলিভ অয়েল এবং ক্যাসটোর অয়েল

৬. অলিভ অয়েল এবং ভিনেগার

ত্বকের জন্য অলিভ অয়েল ব্যবহারের কার্যকরী উপায়

১. এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল

উপকরণ

  • ১ টেবিল চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল
  • সুতার রুমাল
  • গরম পানি

প্রক্রিয়া

  • আপনার হাতের আঙ্গুল দিয়ে আপনার মুখের সব জায়গায় তেলটি ম্যাসাজ করুন। আপনার নাক, গাল এবং কপালে দৃঢ়ভাবে ঘষার চেষ্টা করবেন।
  • এখন, রুমালটি গরম পানিতে চুবিয়ে নিন। মুখে রুমালটি চাপ দিয়ে ধরে রাখুন এবং রুমালটি রুমের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় না আসা পর্যন্ত মুখেই ধরে রাখুন।
  • রুমাল সরিয়ে নিন এবং আবার গরম পানি দিয়ে রুমাল নিঙরে নিন। এইবার, রুমালটি চাপ দিয়ে ধরে রাখার বদলে আলতোভাবে পুরো মুখে ঘষার চেষ্টা করুন। এতে অলিভ অয়েলের উপরের স্তরটি মুছে যাবে।
  • একটি পেপার টাওয়েল দিয়ে আপনার মুখ মুছে নিন।

এটি কতবার করবেন?

প্রতিদিন সকালে এবং রাতে এর পুনরাবৃত্তি করুন। এক সপ্তাহের মধ্যে আপনি ফলাফল দেখতে পাবেন।

কিভাবে কাজ করে?

অলিভ অয়েল ব্যবহারের উপকারিতা উপরে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে। যদি আপনার ত্বক শুষ্ক হয়, সকল অমসৃণ এবং শুষ্ক প্যাচেস দূর করবে এবং আপনার ত্বক উজ্জ্বল এবং পুনরায় তারুণ্যময় করে তুলবে। তৈলাক্ত ত্বক হলে, আপনার ত্বকে অতিরিক্ত তেলের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে এবং আপনার লোমকূপগুলো পরিষ্কার এবং ধূলাবালি মুক্ত হবে।

সতর্কতা

গরম পানির তাপমাত্রা অবশ্যই সহনীয় পর্যায়ে হতে হবে।

২. অলিভ অয়েল এবং লেবুর রস

উপকরণ

  • ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল
  • ১ টেবিল চামচ লেবুর রস

প্রক্রিয়া

  • অলিভ অয়েলে লেবুর রস ভালোভাবে মিশান।
  • আপনার পুরো মুখে এটি লাগান এবং ১-২ মিনিট মুখে ম্যাসাজ করুন।
  • ৩০ মিনিট মুখে রেখে দিন এবং গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • সবশেষে আরেকবার ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

এটি কতবার করবেন?

প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার করবেন।

এটা কিভাবে কাজ করে?

লেবুর রস লোমকূপে জমে থাকা ধুলাবালি পরিষ্কার করে এবং আপনার গায়ের রং উজ্জ্বল করে তুলে। এটি খুব ভালো এ্যাস্ট্রিনজেন্ট এবং এ্যান্টিসেপ্টিক।

৩. অলিভ অয়েল এবং মধু

উপকরণ

  • ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল
  • ১ চা চামচ মধু
  • ১ টি ডিমের কুসুম

প্রক্রিয়া

  • একটি পাত্রে অলিভ অয়েল, মধু এবং ডিমের কুসুম নিন। ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • আপনার মুখে মিশ্রণটি লাগান এবং ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • এখন গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এটি কতবার করবেন?

ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন।

এটা কিভাবে কাজ করেন?

এই ফেইস মাস্কটি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা, মসৃণতা, আদ্রতা এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। মধু একটি হিউমেকট্যান্ট এবং এছাড়াও এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বহন করে যা নিষ্প্রাণ ত্বক পুনরায় সতেজ করে তুলে। ডিমের কুসুমে পুষ্টিগুণ আছে যা ত্বক পুনর্গঠিত করে এবং ত্বককে টান টান করে এবং ত্বকে খুব সুন্দর উজ্জ্বলতা প্রদান করে।

৪. ত্বকের জন্য অলিভ অয়েল এবং হলুদ

উপকরণ

  • ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল
  • ১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়া
  • ২ টেবিল চামচ দই

প্রক্রিয়া

  • সব উপকরণগুলো একসাথে মিশান এবং আপনার মুখে লাগান।
  • ১০-১৫ মিনিট ফেইস প্যাকটি আপনার মুখে রাখুন।
  • পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনি মুখ থেকে হলুদের দাগ দূর করার জন্য একটি ফেসিয়াল ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারবেন।

এটি কতবার করবেন?

সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করবেন।

এটা কিভাবে কাজ করে?

হলুদ বেশিরভাগ সময় হারবাল ফেইস প্যাকগুলোতে শুধুমাত্র ত্বকের সমস্যা দূর করার জন্য ব্যবহার হয় না, ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বলতা বাড়াতেও ব্যবহার হয়। এই প্যাকের দই ত্বককে কন্ডিশন করে এবং এর ল্যাকটিক এসিড ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

৫. অলিভ অয়েল এবং ক্যাসটোর অয়েল

উপকরণ

  • ১ চা চামচ অলিভ অয়েল
  • ১ চা চামচ ক্যাসটোর অয়েল
  • কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল অথবা ল্যাভেন্ডার অয়েল (না দিলেও চলবে)
  • ওয়াশ ক্লথ
  • গরম পানি

প্রক্রিয়া

  • সব তেল একসাথে মিশিয়ে নিন এবং আপনার মুখে ম্যাসাজ করুন। আলতো করে বৃত্তাকারভাবে ম্যাসাজ করুন।
  • ২-৩ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করতে থাকুন।
  • পরবর্তী ১০ মিনিট তেল মুখে ব্লেন্ড হয়ে যেতে দিন এবং একটি ওয়াশ ক্লথ গরম পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে মুখের তেল এটা দিয়ে মুছে ফেলুন।

কতবার করবেন?

সপ্তাহে ৩-৪ বার এটা করবেন।

এটা কিভাবে কাজ করে?

ত্বক ম্যাসাজ করার জন্য তেলের ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক স্তরে চলে আসে। আপনার ত্বকে পুষ্টি জোগায় এবং আপনার ত্বককে প্রতিদিন আরো নরম, কোমল এবং উজ্জ্বল করে তুলবে।

৬. অলিভ অয়েল এবং ভিনেগার

উপকরণ

  • ১/২ কাপ অলিভ অয়েল
  • ১/৪ কাপ ভিনেগার
  • ১/৪ কাপ পানি
  • একটি বোতল (সংরক্ষণের জন্য)

প্রক্রিয়া

  • সব উপকরণ বোতলে ঢালুন এবং ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটির কয়েক ফোঁটা আপনার মুখে লাগান। পুরো মুখে বৃত্তাকারভাবে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে নিন।
  • সারারাত মুখে রেখে দিন।

কতবার লাগাবেন?

প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এটি মুখে লাগিয়ে ঘুমাবেন।

এটা কিভাবে কাজ করে?

যখন অলিভ অয়েল ত্বকে পুষ্টি জোগায় তখন ভিনেগার ত্বককে টোন করে এবং এর কোমল এসিডিক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বলতা পাওয়ার জন্য অলিভ অয়েল দিয়ে রূপচর্চার উপায়গুলো স্পষ্টভাবে খুবই উপকারি। তাছাড়া, আমরা সবাই ক্যামিকাল দেওয়া কসমেটিকস এর পেছনে বেশি ব্যয় না করেই উজ্জ্বল ত্বক পেতে চাই। উপরে বর্ণিত উপায়গুলোর মাধ্যমে অলিভ অয়েল ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াত সাহায্য করবে। এবং আমরা সবাই জানি প্রাকৃতিক উপায় সবসময় সুন্দর এবং সুরক্ষিত।

Filed Under: Glowing skin

১০টি সহজ উপায়ে দ্রুত তৈলাক্ত ত্বক ফর্সা এবং আকর্ষণীয় করার ঘরোয়া নিয়ম [উপকরণ দেওয়া হল]

by Mohona Leave a Comment

“তৈলাক্ত ত্বক” – যখনই আমরা এই শব্দটি শুনি তখনই আমরা দাগ, ব্রণ এবং প্যাচেসযুক্ত নোংরা মুখ কল্পনা করতে শুরু করি। যাই হোক, এটি একটি শ্রুতিকথা যে যার ত্বক তৈলাক্ত, সে কখনোই দেখতে ভালো হয় না। আমি এই শ্রুতিকথাটি ভুল প্রমাণ করতে পারব।

আমার নিজের ত্বক তৈলাক্ত এবং এই তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা আমার বয়স যখন ১৩ ছিল তখন থেকেই শুরু হয়। অনেক বছর ধরে আমি ত্বকের নানা রকম সমস্যাতে ভুগি। আমি অনেক অয়েন্টমিন্ট (মেডিসিন জাতীয়), ক্রিম, টনিক ইত্যাদি ব্যবহার করেছি, কিন্তু কোনটাই আমার ত্বকে কাজ করেনি। যার ফলে, আমি আমার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি এবং বাহিরে অথবা কোন পার্টিতে যাওয়া কমিয়ে দিয়ে বেশিরভাগ সময় ঘরেই থাকা শুরু করি।

কিন্তু এখন আমি আমার মুখ নিয়ে খুবই খুশি কারণ আমি ঘরে তৈরি সঠিক প্রতিকার খুজে পেয়েছি যা আমার ত্বককে ভালো দেখাতে সাহায্য করে এবং ত্বক কিছুটা ফর্সা করে।

আজকে আমি রুপকথনের সকল পাঠকদের আমার এই গোপন পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে জানাবো। আমরা সাধারণত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ এবং অয়েন্টমিন্ট ব্যবহার করি, কারণ আমাদের মধ্যে এই গুজবটি খুব বেশি প্রচলিত যে এরা ঘরে তৈরি প্রতিকার থেকেও বেশি কার্যকরভাবে কাজ করে। কিন্তু এই কথাটা মোটেও সত্য নয়।

বিশ্বের সবাই ফর্সা, রূপবতী এবং দিপ্তীময়ী হতে চায়। তাই, এখানে ত্বক ফর্সা করার জন্য ঘরে তৈরি কিছু টিপস দেওয়া হল যা আপনাকে ফর্সা এবং সুন্দর দেখাতে সাহায্য করবে। আশা করি আপনারা সকলে টিপসগুলো পছন্দ করবেন। আমি নিশ্চিত এই উপকরণগুলো আপনার ঘরেই সহজে পাওয়া যাবে।

তাই, নিম্নলিখিত টিপসগুলো নিয়ে কাজ করার জন্য প্রস্তুত হোনঃ

তৈলাক্ত ত্বক ফর্সা করার দ্রুত এবং সহজতম উপায়

১.  প্রথমত, দিনে ৭-৮ বার ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুবেন। তৈলাক্ত ত্বকের উপযোগী একটি ফেসিয়াল ক্লিনজার কিনুন। সবসময় এমন পণ্য কিনার চেষ্টা করবেন যেগুলোতে প্রাকৃতিক উপাদান থাকে। অরগানিক পণ্য কিনার চেষ্টা করবেন। মুখ ধোয়ার সময় পানিতে এক চিমটি লবন মিশিয়ে নিন। কারণ, লবনাক্ত পানি অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়।

২. মুখ ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে আস্তে আস্তে চেপে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। কখনো খুব জোরে ঘষে ঘষে মুখ মুছবেন না কারণ, এটি আপনার ত্বক নষ্ট করে দিবে। এছাড়াও, যদি আপনার ব্রণ থাকে তাহলে ব্রণে আচড় পরবে। তাই যতটুকু সম্ভব আপনার ত্বকের প্রতি কোমল থাকুন।

৩. একটি টোনার কিনুন। প্রতিদিন ক্লিনজিং-টোনিং-ময়েশ্চারাইজিং এই রুটিনটি সবসময় অনুসরন করুন। ক্লিনজার দিয়ে আপানার মুখ ক্লিন করে নিন, এরপর মুখে টোনার লাগান। টোনার সম্পূর্ণভাবে ত্বক ও লোমকূপ পরিষ্কার করে, এবং লোমকূপের আকার ছোট করে। এই উপায়টি ব্রণ হওয়ার সম্ভবনা কমিয়ে দেয়। তাছাড়া, তৈলাক্ত ত্বকের উপযোগী একটি ময়েশ্চারাইজার কিনবেন এবং টোনিং এর পর আপনার ত্বকে ময়েশ্চারাইজারটি লাগাবেন।

৪. এখন আমি একটি আদর্শ ঘরোয়া প্রতিকারের কথা বলবো। একটি শসা নিন এবং এটিকে জুস করুন। এরপর, এর সাথে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে নিন এবং মুখে লাগান। আপনি আপনার মুখে তাৎক্ষনিক উজ্জ্বলতা দেখতে পাবেন।

৫. আপনি ঘরে বসে নিজেই একটি ফেইস ওয়াশ বানাতে পারেন, যেটি আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারবেন। একটি পেঁপে নিন এবং এর পেস্ট করে নিন। এতে কয়েক ফোঁটা মধু যোগ করুন এবং ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর, ২-৩ টেবিল চামচ দুধ যোগ করুন। এখন, মিশ্রণটি আপনার মুখে ভালোভাবে লাগান। ৩০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং মুখ তুলো বা তোয়ালে দিয়ে মুছে শুকিয়ে নিন।

৬. আমিষভোজীদের জন্য একটি টিপস। আপনি সপ্তাহে ২ বার আপনার মুখে ডিমের সাদা অংশ লাগাতে পারেন। আপনি এটিকে ত্বক ফর্সাকারি মাস্ক হিসেবে লাগাতে পারেন।

৭. এছাড়াও, আপনি সপ্তাহে দুইবার আখরোটের স্ক্রাব মুখে লাগাতে পারেন। এটি আপনার মুখের লোমকূপে আটকে থাকা ধুলো-ময়লা দূর করে। এছাড়াও এই স্ক্রাব শুষ্ক এবং মৃত চামড়া ধুয়ে পরিষ্কার করে। সুতরাং, এই স্ক্রাবিং এর পর আপনি আরো ফর্সা ত্বক অর্জন করবেন।

৮. ফর্সা ত্বক পাওয়ার জন্য কাঁচা দুধ খুবই কার্যকরী একটি উপায়। অনেক মায়েরা তাদের বাচ্চাদের জন্য এই ফর্মুলাটি ব্যবহার করেন।

৯. আলুর রস এবং লেবুর রস সমপরিমাণে মিশিয়ে, ত্বকে যেই কালো দাগগুলো রয়েছে তাতে লাগান। প্রতিদিন ব্যবহার করুন, দেখবেন আপনার ত্বকের কালো অংশগুলো আস্তে আস্তে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। আরো পড়ুন : ৭ টি আলুর রসের রেসিপি

১০. শেষ কিন্তু সর্বশেষ নয়, বেসন নিন, এক চিমটি হলুদ, জাফরান এবং সামান্য দুধ এতে যোগ করুন। একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটি আপনার মুখে লাগান এবং ২০-৩০ মিনিটের জন্য মুখে রেখে দিন তারপর ধুয়ে ফেলুন। আপনি আপনার মুখের রঙে তাৎক্ষণিক একটি পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

আশা করি আপনার পোস্টটি ভালো লেগেছে। আমার দেওয়া তৈলাক্ত ত্বকের এই টিপসগুলো আপনাকে একটি সুন্দর ও ফর্সা ত্বক পেতে অবশ্যই সাহায্য করবে।

Filed Under: Glowing skin

৩ টি কার্যকরী উপায়ে ফেইস প্যাক ব্যবহার করে আজই পরিষ্কার এবং আকর্ষণীয় ত্বক পেতে পারেন [নিয়ম দেওয়া হলো]

by Mohona Leave a Comment

পরিষ্কার এবং সুন্দর ত্বক পাওয়া প্রতিটি নারীর স্বপ্ন কিন্তু বর্তমান সময়ের ব্যস্ত রুটিন, দূষিত পরিবেশ এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির কারণে স্বাস্থ্যকর এবং পরিষ্কার ত্বক বজায় রাখা খুবই কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে।

ব্রণ, দাগ, রোদে পুড়ে যাওয়া ত্বক এবং অন্যান্য কারণগুলি পরিষ্কার নিখুঁত ত্বক যা আমরা সবসময় আশা করি সেই ত্বক পেতে বাঁধা সৃষ্টি করে।

স্কিন কেয়ার শিল্পের বৃদ্ধির সাথে সাথে এই সমস্যাগুলোর সমধান করা যাচ্ছে কিন্তু পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য আরো অনেক সহজ পদ্ধতি আছে। পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল ত্বকের জন্য এখানে কিছু ঘরে তৈরি ফেইস প্যাক দেওয়া হলো যা খুব সহজে বানিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে নিখুঁত ত্বক পাওয়া সম্ভব।

পরিষ্কার ত্বকের জন্য ৩ টি ফেইস প্যাক

১. নিম, বেসন এবং দইয়ের ফেইস প্যাক

উপকরণ

  • কিছু নিম পাতা/নিম পাতার গুঁড়ো
  • ১ টেবিল চামচ বেসন
  • ১ চা চামচ দই

প্রক্রিয়া

  • একটি পাত্রে দই নিন।
  • তারপর বেসন যোগ করুন এবং পেস্ট তৈরি করুন।
  • কিছু পেস্ট করা নিম পাতা/নিম পাতার গুঁড়ো নিন এবং সবকিছু একসাথে মিশিয়ে নিন।
  • মিশ্রণটি মুখে লাগান। ১০-১৫ মিনিট শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত মুখে রেখে দিন এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

দই ত্বক নরম ও ময়েশ্চারাইড করে এবং নিম পাতা উজ্জ্বল ত্বক প্রদান করতে সাহায্য করে। নিম পাতা ফেইস প্যাকগুলোতে এ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। এটি ব্রণের জালা-পোড়া কমিয়ে ব্রণকে শীতল করে তুলে। এটি খুবই ভালো প্রাকৃতিক এজেন্ট এবং আগের থেকেও আরো দীর্ঘ সময় ধরে পরিষ্কার ত্বক প্রদান করার উপাদান হিসেবে পরিচিত।

২. বাদাম, মধু এবং জাফরানের ফেইস প্যাক

উপকরণ

  • ৪/৫ টা বাদাম পানি/দুধে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন
  • ১ চা চামচ মধু
  • কিছু জাফরান ২ টেবিল চামচ গরম দুধে ভিজিয়ে রাখুন
  • ১ চা চামচ লেবুর রস

প্রক্রিয়া

  • ভিজানো বাদাম গুলো নিন এবং এদেরকে পেস্ট করে নিন।
  • জাফরান ভিজানো দুধ পেস্টে মিক্স করুন এবং মধু ও লেবুর রস যোগ করুন।
  • একটি মশ্রিণ পেস্ট তৈরি করুন এবং আপনার মুখে সমানভাবে লাগান, ১০-১৫ মিনিট মুখে রেখে দিন।
  • শুকিয়ে গেলে দুধ অথবা ঠান্ডা পানিতে ভিজানো তুলো দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

এই প্যাকটি আপনার ত্বকে উজ্জ্বল আভা প্রদান করবে। জাফরান ত্বক ফর্সা করতে সাহায্য করে এবং স্পটের উপস্থিতি কমাতে সাহায্য করে; মধু ত্বক টান টান করে; বাদামের সাথে লেবু ত্বকের মৃত চামড়া দূর করে এবং এটি ত্বক পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল করে।

৩. কলা এবং দইয়ের ফেইস প্যাক

উপকরণ

  • একটি খোসা ছাড়ানো পাকা কলা এবং পেস্ট করে নিতে হবে।
  • ১ টেবিল চামচ দই
  • ১ চা চামচ মধু
  • ১ চা চামচ লেবুর রস

প্রক্রিয়া

  • একটি পাত্রে পেস্ট করা কলা এবং দই মিশান।
  • মিশানোর পর মধু এবং লেবুর রস যোগ করুন এবং সব কিছু একসাথে মিশিয়ে মশ্রিণ পেস্ট তৈরি করুন।
  • এই ফেইস প্যাকটি মুখে ও গলায় লাগান এবং শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত রেখে দিন।
  • শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

লেবু একটি প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট এবং আপনাকে পরিষ্কার উজ্জ্বল ত্বক পেতে সাহায্য করে। কলাও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য খুবই ভালো। দই ত্বক ময়েশ্চারাইজড করতে সাহায্য করে।

কিভাবে প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার ত্বক পাওয়া যাবে এই প্রশ্নটি নিশ্চয়ই এখন আর আপনাকে চিন্তায় ফেলবে না। কেন আপনি প্যাকেটজাত পণ্যের উপর নির্ভর করবেন যখন আপনার বাসার রান্নাঘরেই পরিষ্কার ত্বক পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় আছে।

Filed Under: Face Packs and Masks

৫ টি গ্রীষ্মকালীন ফেইস প্যাক যা মিশ্র ত্বকের জন্য কার্যকরী (চূড়ান্ত নিয়মকানুন)

by Mohona Leave a Comment

মিশ্র ত্বক নিয়ে কাজ করা সামান্য জটিল হতে পারে। তৈলাক্ত এবং শুষ্ক ত্বকের মিশ্রণে মিশ্র ত্বকের সৃষ্টি, তাই এই ত্বকের জন্য আপনার বিশেষ পণ্য এবং বিশেষ যত্নের প্রয়োজন যাতে আপনার ত্বক ভালোভাবে পুষ্টি এবং যত্ন পায়।

মিশ্র ত্বক এমন এক ধরণের ত্বক যেখানে আপনার ত্বকের কিছু অংশ শুষ্ক হয় এবং অপরদিকে কিছু অংশ তৈলাক্ত হয়। যাদের মিশ্র ত্বক তাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের কপাল, নাক, চিবুক তৈলাক্ত হয় আর অন্যদিকে মুখের চারপাশ এবং গাল শুষ্ক হয়।

আর গ্রীষ্মকাল মিশ্র ত্বকের অধিকারীদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক, কারণ একদিকে আপনি ঘাম এবং তৈলাক্ততা কমাতে চাবেন, কিন্তু অপরদিকে আপনাকে ত্বকের শূষ্কতারও যত্ন নিতে হবে।

মিশ্র ত্বকের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পন্য খুঁজে পাওয়াটা হয়ত একটু কষ্টসাধ্য হতে পারে। এইসব পণ্য খুবই অল্প এবং সীমাবদ্ধ, এবং মাঝে মাঝে সবার উপর কাজ নাও করতে পারে। আপনার মিশ্র ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায়টি হলো ঘরে তৈরি কিছু মিক্স ব্যবহার করা যেগুলো আপনার ত্বকের সমস্যা দূর করার সাথে সাথে আপনার ত্বককে শীতলও রাখবে।

মিশ্র ত্বকের জন্য গ্রীষ্মকালীন ফেইস প্যাকঃ

যদি আপনার ত্বক মিশ্র হয় তাহলে নিম্নলিখিত ঘরে তৈরি সেরা ৫ টি গ্রীষ্মকালীন ফেইস প্যাকগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

১. মধু, দই এবং গোলাপজলের ফেইস প্যাক

  • মধু, দই এবং গোলাপজল সবগুলো উপকরণ সমপরিমাণে নিয়ে মিশিয়ে নিন। (প্রতিটি ১ টেবিল চামচ)
  • সমানভাবে মুখে লাগান।
  • ১৫-২০ মিনিট মুখে রেখে দিন।
  • স্বাভাবিক পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

এই প্যাক কিভাবে সাহায্য করে?

মধু এবং দই ত্বকে শীতল প্রভাব ফেলার জন্য পরিচিত। এরা শুষ্কতার সাথে যুদ্ধ করে এবং আপনার ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখে। গোলাপজল তৈলাক্ততা নিয়ন্ত্রন করবে এবং সেই সাথে আপনার ত্বকে সতেজতা প্রদান করবে, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে। এছাড়াও গোলাপজল খুব ভালো সূর্য প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

২. ওটস এবং বাদামের ফেইস প্যাক

ওটস মিশ্র ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।

  • ১০ টি বাদাম পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন।
  • পরের দিন সকালে বাদামগুলোর পেস্ট তৈরি করে নিন।
  • ১ টেবিল চামচ ওটস, ১ চা চামচ মধু এবং দই এর সাথে যোগ করুন।
  • মশ্রিণ পেস্ট পেতে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • মুখে মিশ্রণটি লাগান এবং ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
  • পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

এই প্যাক কিভাবে সাহায্য করে?

ওটস আপনার ত্বকের অতিরিক্ত তেল স্ক্রাব করে ফেলতে সাহায্য করবে এবং বাদাম আপনার শুষ্ক ত্বকের পুষ্টি পুনরায় ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে।

৩. পেঁপে এবং কলার ফেইস প্যাক

যখন আপনার ত্বকের যত্নের কথা আসে তখন পেঁপে এবং কলা খুবই ভালো ফল।

  • কিছু পেঁপে এবং কলা ভর্তা করে নিন এবং একসাথে মিশিয়ে নিন।
  • এখন এতে সামান্য মধু মিশান।
  • সবকিছু একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে মশ্রিণ পেস্ট তৈরি করুন।
  • আপনার মুখে লাগান এবং শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত রেখে দিন।
  • শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এই প্যাক কিভাবে সাহায্য করে?

কিছুক্ষণ পর দেখুন আপনার ত্বক কত উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। উজ্জ্বলতা এবং অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ত্বকের শুষ্ক স্থানগুলোও যথেষ্ট নরম হবে।

৪. মুলতানি মাটির ফেইস প্যাক

ঘরে তৈরি বেশিরভাগ ফেইস প্যাকগুলোতে মুলতানি মাটি একটি প্রধান উপকরণ এবং এমনকি মার্কেটে সহজলভ্য প্যাকগুলোতেও। শুধুমাত্র মুলতানি মাটি একাই শুষ্ক ত্বক ঠিক রাখতে পারে। আপনার ত্বক যাতে প্রয়োজনীয় ময়েশ্চার পায় তার জন্য এর সাথে সবসময় গোলাপজল যোগ করা সর্বোত্তম উপায়।

  • মুলতানি মাটি এবং গোলাপজল মিশিয়ে নিন।
  • আপনার মুখে লাগান এবং শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত রেখে দিন।
  • পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

এই প্যাকটি কিভাবে সাহায্য করে?

এই প্যাকটি আপনার ত্বক শীতল এবং সতেজ করে।

৫. শসার ফেইস প্যাক

  • একটি শসার অর্ধেক নিয়ে পেস্ট করে নিন এবং এর সাথে ১ চা চামচ মধু এবং আধা চা চামচ দুধের ক্রিম মিশান।
  • আপনার মুখে এটি লাগান।
  • ২ টি শসার টুকরো আপনার চোখে রাখুন।
  • শুকিয়ে গেলে অথবা ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

সকল ফেইস প্যাকে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক উপাদানগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ

  • মধু এবং কলা খুবই ভালো প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার।
  • দই ত্বক কোমল এবং হাইড্রেট করে।
  • ওটস এবং পেঁপে নতুন ত্বক বের করে আনে এবং মরা চামড়ার কোষ দূর করে।
  • বাদামে থাকা ভিটামিন ই তেল ত্বকে পুষ্টি জোগায়।
  • গোলাপজল ত্বকের শুষ্ক এবং তৈলাক্ত স্থানের ভারসাম্য রক্ষা করে।
  • মুলতানি মাটি এবং শসা শীতলতা এবং সতেজতা প্রদান করে।

Filed Under: Face Packs and Masks

  • « Go to Previous Page
  • Page 1
  • Interim pages omitted …
  • Page 6
  • Page 7
  • Page 8
  • Page 9
  • Page 10
  • Interim pages omitted …
  • Page 12
  • Go to Next Page »

Primary Sidebar

সাম্প্রতিক লেখা

১৬টি সেরা খাবার সকালবেলার দৌড়ের পর খাওয়ার জন্য – পোস্ট-রান রিকভারি পুষ্টি

ওজন কমাতে সেরা ২০টি ডিটক্স স্মুদি: উপাদান, প্রস্তুতি ও উপকারিতা

সহজে হজম হয় এমন ১৬টি হালকা খাবারের রেসিপি

Low FODMAP Diet: ৩ ধাপের পরিকল্পনা ও কোন খাবার খাবেন, কোনটা এড়িয়ে চলবেন

প্যালিও ডায়েট: উপকারিতা, ঝুঁকি ও ৭ দিনের খাবার পরিকল্পনা

বিভাগ সমূহ

  • Fashion
  • HAIR CARE (চুলের যত্ন)
    • Basic Hair Care (বেসিক হেয়ার কেয়ার)
    • Dandruff (খুশকি)
    • Dry Hair Care (শুকনো হেয়ার কেয়ার)
    • Hair Care Ideas
    • Hair Fall ( চুল পড়া)
    • Hair Growth ( চুল বৃদ্ধি)
    • Hair Treatment (চুল চিকিৎসা)
    • Oily Hair Care ( তৈলাক্ত চুলের যত্ন)
  • HEALTH & WELLNESS (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা)
    • Diet Tips
    • Fitness
    • Healthy Food
    • Home Remedies
    • Ingredients and Uses
    • Nutrition (পুষ্টি)
    • Weight Gain
    • Weight Loss (ওয়েট লস)
  • Lifestyle (জীবনযাপন )
  • MAKEUP (মেকআপ)
    • Bridal Makeup (ব্রাইডাল মেকআপ)
    • Eye Makeup (চোখের সাজসজ্জা)
    • Lip Make up (লিপ আপ করুন)
  • SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)
    • Acne
    • Anti Ageing
    • Beauty Secrets
    • Dry Skin
    • Face Care Tips
    • Face Packs and Masks
    • Glowing skin
    • Homemade Tips
    • Oily Skin
    • Skin Care Ideas
    • Skin Care Problems
    • Sunscreen
  • Top 10's

Copyright © 2026 · RUP KOTHON · All rights reserved ®