• Skip to primary navigation
  • Skip to main content
  • Skip to primary sidebar

রূপকথন

Healthier Lifestyljhhe Choices

  • Facebook
  • Home
  • Shop
  • Blog
    • মেকআপ
      • ব্রাইডাল মেকআপ
      • সেলিব্রিটি মেকআপ
      • চোখের সাজসজ্জা
      • মুখের রূপসজ্জা
      • লিপ মেকআপ
      • মেকআপের ধারণা
      • মেহেদী ডিজাইন
      • নখের ডিজাইন
    • চুলের যত্ন
    • ত্বকের যত্ন
    • চুল স্টাইল
    • স্বাস্থ্য ও সুখ
      • ফিটনেস
      • স্বাস্থ্যকর খাবার
      • ওজন বৃদ্ধি
      • ওজন কমানো
      • যোগ ব্যায়াম
      • ডায়েট টিপস
      • আয়ুর্বেদ
  • Contact Us

HEALTH & WELLNESS (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা)

সেরা ১০ টি সবজি যা আপনাকে দ্রুত লম্বা হতে সাহায্য করে

by রূপকথন ডেস্ক

এটি সকলের জানা যে ,একজনের উচ্চতা একজনের জিনের উপর নির্ভর করে। কিন্তু, অনেক সময় মানুষ তাদের আদর্শ উচ্চতায় পৌঁছাতেও সক্ষম হয় না। একটি প্রধান কারণ ভারসাম্যহীন পুষ্টি হতে পারে। তবে ভাল খবর হল কিছু সবজি আছে যা আপনাকে লম্বা হতে সাহায্য করতে পারে। আপনার ডায়েটে কিছু শাকসবজি হরমোনের সঠিক নিঃসরণে সাহায্য করতে পারে যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে, যা বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

একজনকে সব সময় মনে রাখা উচিত যে কিশোর বয়সে শরীর তার উচ্চতায় সর্বোচ্চ বেড়ে  যায়।এটি বলা হয়ে থাকে, বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি দিয়ে তৈরি একটি সুষম খাদ্য একজনের সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এই আলোচনাটি  বিভিন্ন শাকসবজি নিয়ে করা হবে যা আপনি আপনার ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, কেননা এসব শাক সবজি আপনার বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। 

কোন শাকসবজি আপনাকে লম্বা হতে সাহায্য করতে পারে?

আপনার বেড়ে ওঠার বয়স পার হয়ে যাওয়ার পরও কিছু শাকসবজি আপনাকে স্বাভাবিকভাবে আপনার উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে। সেগুলো হলো : 

১.রুবার্ব (Rhubarb):

Rhubarb হল একটি ভেষজ উদ্ভিদ যা পুরু এবং ছোট রাইজোম থেকে জন্মে। এই গাছপালা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফল হিসাবে বিবেচিত হয়। এই গাছগুলি প্রধান খাবার হিসাবে রান্না করা যায়। এই বিশেষ উদ্ভিদের ব্যবহার শরীরকে ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এটি শরীরে বৃদ্ধির হরমোন নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে, ফলে এটি লম্বা হতে সাহায্য করে।

২.বাঁধাকপি পাতা (Collard Greens):

কোলার্ড গ্রিনস এসেফালা গ্রুপের একটি অংশ যা খুবই পুষ্টিকর উদ্ভিদ। এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, দ্রবণীয় ফাইবার এবং কিছু অ্যান্টি-ক্যান্সার বৈশিষ্ট্য রয়েছে । এগুলো খাওয়া উচ্চতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।

৩. পালং শাক (Spinach):

পালং শাক একটি সবুজ সবজি যা বেশিরভাগ এশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং এতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, আয়রন এবং ফাইবার রয়েছে যা শরীরের সঠিক কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয়। শরীরের সঠিক বৃদ্ধির জন্যও এই পুষ্টিগুণ গুরুত্বপূর্ণ।

৪.শালগম (Turnip):

শালগম বেশিরভাগ বিশ্বের নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে জন্মে তবে আজকাল তাদের বিশ্বব্যাপী পাওয়া যায়। এই সুন্দর সবজিতে রয়েছে ভিটামিন, ফাইবার, প্রোটিন, ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল । শালগম সামগ্রিক খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম গ্রহণে অবদান রাখে, যার ফলে হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত হয় । এটি উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

৫. ঢেড়শ (Okra):

ওকরার সাধারণ নাম হল লেডি’স ফিঙ্গারস বা ভিন্ডি। এই উদ্ভিদের উদ্ভিজ্জ খুবই গুমোট যা রেচক হিসেবে কাজ করে। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং এতে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, পানি এবং ফাইবার রয়েছে । এই পুষ্টিগুলি শরীরের বৃদ্ধির হরমোনগুলিকে জড়তা থেকে বের করে আনে  এবং শরীরকে বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করে । 

৬.মটরশুটি (Beans):

মটরশুটি খুবই পুষ্টিকর সবজি। এগুলিতে ভিটামিন, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফোলেট এবং ফাইবার এর মতো পুষ্টি থাকে। মটরশুটি ব্যবহার আপনার উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে কারণ এতে উচ্চ পরিমাণে প্রোটিন থাকে।

৭.ব্রকলি (Broccoli):

ব্রকলি হল ফুলকপি পরিবারের অন্তর্গত একটি ভোজ্য উদ্ভিদ। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং এতে ভিটামিন সি, বিভিন্ন ফাইবার এবং আয়রন  রয়েছে। ব্রকলি খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং শরীরের সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ভিটামিন কে এবং অন্যান্য পুষ্টির উপস্থিতির কারণে উচ্চতা বৃদ্ধি করতে পারে।

৮.মটর (Peas):

এই গোলাকার আকৃতির সবুজ শাকসবজি খুবই পুষ্টিকর এবং একজন ব্যক্তির বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে এগুলিতে প্রোটিন, ভিটামিন, ফাইবার, লুটেইন এবং খনিজ রয়েছে যা উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৯. ব্রাসেলস স্প্রাউটস (Brussels Sprouts):

ব্রাসেলস স্প্রাউটগুলি বাঁধাকপি পরিবারের অন্তর্গত। এগুলিতে ক্যানসার-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন, আয়রন, ফাইবার ইত্যাদি রয়েছে । এরা  শরীরের বৃদ্ধির হরমোনগুলিকে উদ্দীপিত করতে কাজ করে।

১০.চীনা বাঁধাকপি (Bok choy):

বক চয় হল চাইনিজ বাঁধাকপি, যা ডায়েটারি ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ইত্যাদিতে সমৃদ্ধ । এখানে তালিকাভুক্ত অন্যান্য সবজির মতো, বক চয়ও শরীরের বৃদ্ধির হরমোনকে উদ্দীপিত করে এবং উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে।

প্রতিটি ব্যক্তি কিশোর বয়সে তাদের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অর্জন করে  এবং তাদের উচ্চতা নির্ধারণে তাদের জেনেটিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ,কেউ কেউ দুর্বল পুষ্টির কারণে ততটা লম্বা হতে পারে না। সৌভাগ্যবশত, রেবার্ব এর মতো আরো অনেক শাকসবজি খাওয়া আপনাকে লম্বা হতে সাহায্য করে,কারণ তারা শরীরে বৃদ্ধির হরমোনকে উদ্দীপিত করে। 

উপরে তালিকাভুক্ত শাকসবজি,যেমন কলার শাক, পালং শাক, শালগম, ওকড়া, মটরশুটি ইত্যাদি, প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, ট্রেস উপাদান এবং ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টে সমৃদ্ধ যা উচ্চ পুষ্টিগুন সম্পন্ন। সুতরাং, এগুলিকে আপনার ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করুন এবং নিজেই এর ফলাফল দেখতে পাবেন।

Filed Under: HEALTH & WELLNESS (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা), Healthy Food, Top 10's

১১ টি প্রাকৃতিক উপায়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষত তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করুন

by রূপকথন ডেস্ক

গৃহস্থালিতে প্রতিনিয়ত ছোটোখাটো আঘাত খুবই সাধারণ, তারমধ্যে আগুনে পুড়ে যাওয়া অন্যতম সাধারণ একটি আঘাত। সাধারণত রান্না করার সময় সকলেই আমাদের জীবনের কোন না কোন সময়ে পোড়ার শিকার হয়ে থাকি।

ভুলবশত ফ্রাইং প্যান স্পর্শ করা,তেল ছিটকে পড়া, ভাতের মাড় পড়ে পোড়া খুবই কষ্টের। ভালো খবর এই যে, বাসায় থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে বাড়িতে পোড়ার চিকিৎসা করতে পারেন। তারা দাগ এবং আরও সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে। তবে পুড়ে যাওয়ার গভীরতা যদি বেশি অনুভব করেন, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পুড়ে যাওয়া ক্ষত তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করুন

এই লিখাটি পড়ে আপনারা ৩টি বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন। 

  • পুড়ে যাওয়ার ধরণ। 
  • পুড়ে যাওয়া ক্ষত তাৎক্ষণিক চিকিৎসার কিছু প্রাকৃতিক উপাদান। 
  • পোড়া চিকিৎসায় কিছু প্রাকৃতিক উপায়।

পুড়ে যাওয়ার ধরণ(Types Of Burns):

তীব্রতা এবং ক্ষতির উপর নির্ভর করে, পোড়াকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

প্রথম-ডিগ্রী বার্ন(First-Degree Burn):

যেসব পোড়া ত্বকের সবচেয়ে কম ক্ষতি করে তাকে বলা হয় ফার্স্ট-ডিগ্রি বার্ন। এই পোড়াগুলি শুধুমাত্র ত্বকের বাইরের স্তরকে প্রভাবিত করে এবং ফোস্কা সৃষ্টি করে না। প্রথম-ডিগ্রি পোড়ার সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে লালভাব, প্রদাহ এবং কিছু ক্ষেত্রে, ত্বকের সামান্য চামড়া উঠে যাওয়া ।

দ্বিতীয়-ডিগ্রী বার্ন(Second-Degree Burn):

সেকেন্ড-ডিগ্রি পোড়া প্রায়ই ত্বকের বাইরের স্তরের বাইরে চলে যায় এবং ত্বকে ফোস্কা পড়ে এবং কালশিটে হয়ে যায়। যদি একটি ফোস্কা পপ হয়,তবে এটিতে পানি জমে যায় । ফোস্কাগুলির তীব্রতার উপর নির্ভর করে, এই ধরণের পোড়া নিরাময়ে বেশি সময় নেয়।

তৃতীয়-ডিগ্রী পোড়া(Third-Degree Burn):

তৃতীয়-ডিগ্রি পোড়া ত্বকের সমস্ত স্তরকে প্রভাবিত করে এবং প্রসারিত করে। এগুলি খুব গুরুতর এবং প্রায়শই স্নায়ুর ক্ষতি করে, যা পোড়া থেকে ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতাকে অক্ষম করে।

এই পোড়া দ্বারা প্রভাবিত ত্বক হয় মোমের মতো সাদা বা গাঢ় বাদামী হয়ে যায়। যদি চিকিৎসা না করা হয়, এই ধরনের পোড়া গুরুতর দাগ সৃষ্টি করতে পারে। তৃতীয়-ডিগ্রি পোড়াতে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা পরিচর্যা করা আবশ্যক এবং নিজে নিজে চিকিৎসা করা উচিত নয়।

পোড়া চিকিৎসায় কিছু প্রাকৃতিক উপাদান:

  • হলুদ সরিষা।
  • ঘৃতকুমারী।
  • মধু।
  • টুথপেষ্ট।
  • টি ব্যাগ।
  • বেকিং সোডা।
  • নারকেল তেল।
  • ভিটামিন ই তেল।
  • দুধ।
  • ভিনেগার।
  • লবণ।

নিচে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষত তাৎক্ষণিক চিকিৎসার কিছু প্রাকৃতিক উপায় বর্ণনা করা হল:

১. হলুদ সরিষা(Yellow Mustard):

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • হলুদ সরিষা ১ টেবিল চামচ
  • পানি ১/২ টেবিল চামচ

প্রক্রিয়া:

১.হলুদ সরিষাকে পানি  দিয়ে ব্লেন্ড করে মিহি পেস্ট তৈরি করুন।

২.এই পেস্টটি পোড়া ত্বকে লাগান।

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন অন্তত তিনবার এটি করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

সরিষার বীজ অ্যালাইল আইসোথিওসায়ানেট নামক একটি কাউন্টার-ইরিট্যান্ট যৌগ সমৃদ্ধ যা ব্যথা উপশম করতে পারে এবং আক্রান্ত স্থানে রক্ত ​​প্রবাহ সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে।

২. ঘৃতকুমারী(Aloe Vera):

যা যা প্রয়োজন হবে:

১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল।

প্রক্রিয়া:

পোড়া জায়গায় সমানভাবে অ্যালোভেরা জেল লাগান।

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন অন্তত তিনবার এটি করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

অ্যালোভেরা জেল এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে পোড়া নিরাময় করে। এটি ব্যাকটেরিয়ারোধী এবং তাই এটি ক্ষত, দাগ এবং ফোসকা সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। 

৩. মধু(Honey):

যা যা প্রয়োজন হবে:

২ চা চামচ খাঁটি মধু। 

প্রক্রিয়া:

কিছু খাঁটি মধু নিন এবং এটি পোড়া স্থানের উপর আলতোভাবে লেপে দিন। 

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন অন্তত তিনবার এটি করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হওয়ার কারণে, মধুতে একটি প্রাকৃতিক pH ভারসাম্য রয়েছে যা পোড়াকে সংক্রামিত হতে বাধা দেয়। মধুতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এইভাবে পোড়া ক্ষত দ্রুত নিরাময় করতে সহায়তা করে।

৪. টুথপেষ্ট(Toothpaste):

যা যা প্রয়োজন হবে:

টুথপেস্ট

প্রক্রিয়া:

১.ক্ষত স্থান ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে তাতে কিছু পরিমান টুথপেস্ট লেপে দিন।

২.এটি ধুয়ে ফেলার আগে 10 থেকে 15 মিনিটের জন্য রেখে দিন।

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন একবার এটি করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

টুথপেস্ট ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং এর পুদিনা নির্যাস এর কারণে পোড়াকে প্রশমিত করে।

৫. টি ব্যাগ(Tea Bags):

যা যা প্রয়োজন হবে:

২ থেকে ৩ টি ব্যবহৃত টি-ব্যাগ।

প্রক্রিয়া:

১.চা বানানোর পর ব্যবহৃত টি ব্যাগগুলো পাশে রাখুন।

২.তাদের ঠান্ডা হতে দিন এবং আপনার পোড়া জায়গায় ভেজা টি ব্যাগ লাগান।

৩.টি ব্যাগগুলিকে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য জায়গায় রাখতে একটি গজ ব্যবহার করুন।

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন অন্তত দু’বার এটি করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

চা ট্যানিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ যা পোড়া জায়গা থেকে তাপ তুলতে সাহায্য করে। এইভাবে, টি ব্যাগ ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া উপশম করতে সক্ষম।

৬. বেকিং সোডা(Baking Soda):

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১ চা চামচ বেকিং সোডা।
  • ১/২ থেকে ১ চা চামচ পানি।

প্রক্রিয়া:

১.বেকিং সোডা এবং পানি  মিশিয়ে একটি সূক্ষ্ম পেস্ট তৈরি করুন।

২.এই বেকিং সোডা পেস্ট সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগান।

৩.১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন এবং তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার এই নিয়মটি অনুসরণ করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

বেকিং সোডার অ্যান্টিসেপটিক প্রকৃতি পোড়া জায়গাটিকে সংক্রমণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। বেকিং সোডা আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক pH ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতেও সাহায্য করতে পারে এবং এর ফলে, ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া হ্রাস পায়।

৭. নারকেল তেল( Coconut Oil):

যা যা প্রয়োজন হবে:

নারকেল তেল ১ থেকে ২ চা চামচ।

প্রক্রিয়া:

১.নারকেল তেল সরাসরি আঙ্গুলের ডগা দিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান।

২.এটি কিছুক্ষনের জন্য রেখে দিন এবং এটি আপনার ত্বকে শোষিত হতে দিন।

কতবার এটি করা উচিত:

দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য আপনাকে প্রতিদিন অন্তত তিনবার এই  প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

নারকেল তেল, বৈজ্ঞানিকভাবে Cocos nucifera নামে পরিচিত, ত্বকের কোষের পুনর্জন্মে সাহায্য করতে পারে এবং ত্বকের মধ্যেও প্রবেশ করতে পারে। এটি প্রদাহ বিরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এটি পোড়ার যন্ত্রনা ঠান্ডা করতে এবং পোড়া ত্বকের ফোসকা এবং দাগ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

৮. ভিটামিন ই তেল(Vitamin E Oil):

যা যা প্রয়োজন হবে:

ভিটামিন ই তেল ১ চা চামচ।

প্রক্রিয়া:

১.ক্যাপসুল থেকে ভিটামিন ই তেল বের করে পুড়ে যাওয়া জায়গায় সমানভাবে লাগান।

২.এটি ত্বক দ্বারা সম্পূর্ণরূপে শোষিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে রেখে দিন।

কতবার এটি করা উচিত:

এটি আপনাকে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

ভিটামিন ই সুপরিচিত এবং তার বিভিন্ন ত্বকের সুবিধার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ভিটামিন ই তেলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলি প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে এবং এর ত্বকের পুনর্জন্মের ক্ষমতা দ্রুত পোড়া নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে।

৯. দুধ(Milk):

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১/৪ কাপ ঠান্ডা দুধ।
  • কটন বল। 

প্রক্রিয়া:

১.একটি তুলোর বল রেফ্রিজারেটেড দুধে ভিজিয়ে রাখুন এবং আক্রান্ত স্থানে লাগান।

২.পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার আগে এটি ১০ ​​থেকে ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন।

কতবার এটি করা উচিত:

ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া কমে না যাওয়া পর্যন্ত আপনাকে প্রতি কয়েক ঘন্টা পর পর এটি পুনরাবৃত্তি করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

দুধে জিঙ্ক এবং কিছু প্রোটিনের উচ্চ পরিমাণ রয়েছে যা দ্রুত পোড়াকে প্রশমিত করতে এবং নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে।

১০. ভিনেগার(Vinegar):

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • রেফ্রিজারেটেড ভিনেগার ২ চা চামচ। 
  • পানি 2 চা চামচ। 
  • কটন বল। 

প্রক্রিয়া:

১.পানি দিয়ে কিছু রেফ্রিজারেটেড ভিনেগার পাতলা করুন।

২.মিশ্রিত ভিনেগারে একটি তুলার প্যাড ভিজিয়ে পোড়া ত্বকে লাগান।

৩.ভিনেগার নিজে থেকে বাষ্পীভূত না হওয়া পর্যন্ত এটি রেখে দিন।

কতবার এটি করা উচিত:

এটি প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার করুন।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

ভিনেগার একটি প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট এবং অ্যান্টিসেপটিক এবং এটি প্রধানত অ্যাসিটিক অ্যাসিড দিয়ে গঠিত। অ্যাসিটিক অ্যাসিড তার প্রদাহ-বিরোধী এবং ব্যথা-নিরাময়ের বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য পরিচিত। ভিনেগারের এই বৈশিষ্ট্যগুলি সামান্য পোড়ার চিকিত্সা এবং নিরাময়ে উপকারী হতে পারে। 

 ১১. লবণ(Salt):

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • লবণ 1 চা চামচ
  • পানি 

প্রক্রিয়া:

১. পেস্ট তৈরি করতে লবণের সাথে কয়েক ফোঁটা পানি যোগ করুন।

২. এই পেস্টটি আপনার পোড়া জায়গায় লাগান এবং শুকাতে দিন।

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন কয়েকবার এই প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করুন।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

লবণ, যা সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামেও পরিচিত, এতে প্রাকৃতিক নিরাময় এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ফোসকা প্রতিরোধ করে এবং পোড়া দ্রুত নিরাময়ে সহায়তা করে। 

আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে এই চিকিৎসাগুলি যে কোনও একটি অনুসরণ করার আগে আপনার পোড়ার উপর ঠান্ডা পানি ঢালতে হবে কারণ এটি আপনার পোড়ার প্রভাবকে কমিয়ে দেবে এবং এটিকে আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করবে। এবং যদিও আপনি ঘরে বসেই ছোটখাটো পোড়ার  চিকিৎসার জন্য এই প্রতিকারগুলি অনুসরণ করতে পারেন, তবে গুরুতর পোড়ার ক্ষেত্রে আপনাকে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

Filed Under: Home Remedies

আপেল সিডার ভিনেগার কি ওজন কমাতে সাহায্য করে ? [Apple Cider Vinegar for Weight Loss]

by লামিয়া তানজিন মাহমুদ

মেদবিহীন, ছিপছিপে সুন্দর স্বাস্থ্য ছোট বড় সবারই খুব প্রিয়। আর নিজের সুগঠিত, সুগড়ন ও কার্যক্ষম শরীর সবারই কাম্য । পরিসংখ্যানে জানা যায়, যুগোপযোগী এবং উপযুক্ত খাবার গ্রহণে সক্ষম মানুষই স্বাভাবিক ওজন ও সুস্থ শরীর নিয়ে বেঁচে থাকেন। আর ঠিক তাই, খাবার নির্বাচনে এবং নিয়মিত শরীরচর্চায় আমাদের সকলের একমাত্র ব্রত হওয়া উচিত। তথাপি এই প্রত্যাশা পূরণ সহজ কাজ নয়।

আমরা জানি যুগে যুগে ইতিহাসে, শক্ত মনের মানুষই স্বাভাবিক চিন্তাধারা এবং সাবলীল মননশীলতার ছাপ রেখে গেছেন। একটা সময় ছিল যখন মানুষ, সিনেমার রঙীন পর্দায় চিকন কিংবা মুটিয়ে যাওয়া নায়ক-নায়িকা দেখে তাদের মতো নিজেদেরকে সাজানোর ব্যর্থ প্রয়াসে নিজেদের অলস অবসরের সময় অতিবাহিত করতো ।

গড়বাঁধা অলস জীবনাসরের সেই সময় এখন পাল্টে গেছে ,পাল্টানোর সেই অদম্য গতি, এতটাই প্রবল যে শরীর নিয়ে অসচেতন মানুষগুলো ও এখন হাঁটছে সচেতনতার পথে। তবে, বিষয়টি মন্দ নয়। চলমান মহামারীতে বেঁচে থাকাটাই যেখানে অনিশ্চিত সেখানে স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়াকে অনেকে বিলাসিতা ভাবলেও মূলত এটিই ঠিক।

ওজন অনুচিন্তন!

অনেক হলো জীবনাদর্শের নিয়মানুবর্তিতা । প্রসঙ্গে ফেরা যাক এবার তবে – স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবনার শুরুতে যেটা সবার আগে মাথায় আসে, তার নাম ওজন। অতিরিক্ত ওজনে মুটিয়ে যাওয়া মানুষগুলোকে কাছ থেকে দেখেছেন কখনও? চিকন হওয়ার জন্য কিংবা একটা পরিমিত ওজনে আসার জন্য তাদের প্রচেষ্টা কিন্তু দেখার মতো। জিম থেকে শুরু করে ডায়েট, ব্যায়াম, সকালে হাঁটা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে তারা নিজেদের খুব ভালোভাবেই অভ্যস্ত করে ফেলেন। নিয়ম মেনে হাত ধোওয়া, পরিষ্কার -পরিচ্ছন্ন থাকা, চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা, ব্যায়াম করা, পরিমিত খাওয়া, বাইরে বের হলে ও হাঁচি-কাশির প্রাদুর্ভাব হলে মাস্ক পরা এগুলো কি খুব কঠিন? তবে সত্যি বলতে, একসময় কঠিন মনে হলেও এখনের পরিস্থিতি অনুযায়ী সব স্বাভাবিক ।

অভ্যাসের শুরুটা শুরুটা হওয়া উচিত খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে। সেক্ষেত্রে পছন্দের শুরুতে থাকে কিটো ডায়েট, কারও কারও আবার অ্যাপল সিডার ভিনেগার। ওজন ভাবনার সাথে অ্যাপল সিডার ভিনেগার এর সম্পর্ক যারা আঁচ করতে পারছেন না, আজকের এই চেষ্টা শুধুমাত্র তাদের জন্য।

অ্যাপল সিডার ভিনেগার কী? [What is Apple Cider Vinegar?]

অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং পানির সংমিশ্রণে তৈরি হয় ভিনেগার। এক্ষেত্রে চিনি বা ইথানলকে গাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যাসিটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করা হয়। বাংলায় যাকে সিরকা নামে চিনে থাকেন আমাদের মায়েরা, সেটাই আসলে ভিনেগার। ভিনেগার বা সিরকা, যে নামেই ডাকুন, পদার্থটা আদতে আদ্যোপান্ত তরল। লেখার এ পর্যায়ে একটা মজার তথ্য জানিয়ে রাখি- মুলত টক ওয়াইনকেই কিন্তু ভিনেগার বলা হয়! বাজারে যে কয়েক ধরণের ভিনেগার পাওয়া যায় তার মধ্যে সাদা ভিনেগার, বলস্যামিক ভিনেগার, অ্যাপল সিডার ভিনেগারগুলো বেশ প্রচলিত।

ওজন নিয়ন্ত্রণে অ্যাপল সিডার ভিনেগার [Apple Cider Vinegar for Weight Loss]

অ্যাপল সিডার ভিনেগার মূলত জনপ্রিয় হতে শুরু করেছেই ওজন কমানোর কারণে। এই ভিনেগারে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড খাওয়ার ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। আর বাড়িয়ে দেয় শরীরের মেটাবলিজম। 

বলা হয়ে থাকে ওজন কমানো, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং পেটের যে-কোন সমস্যায় অ্যাপল সিডার ভিনেগার টনিকের মত কাজ করে। ভিনেগারটি অ্যাসিড সম্প্রদায়ের সদস্য হলেও অ্যাসিডিটি দূর করার ক্ষেত্রে কিন্তু বেশ কার্যকর। খাওয়ার আগে ১ কাপ পানিতে ১-২ চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খেয়ে নিবেন।

দিনে ১-২ বার পান করলেই যথেষ্ট, মূলত এই অ্যাপল সিডার ভিনেগার ওজন কমানোর জন্যই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। শর্করায় যে ওজন বাড়ে তা ইতোমধ্যে কিটো ডায়েট এর আর্টিকেলে আপনারা জেনেছেন। হুট করে খাবারের তালিকা থেকে শর্করা এড়িয়ে চলাটা শর্করা-প্রেমি বাঙালির জন্য কঠিনই বটে। সেক্ষেত্রে শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার পর এই অ্যাপল সিডার ভিনেগার পানির সাথে মিশিয়ে পান করলে দিনের পরবর্তী সময়গুলোতে ক্ষুধা লাগার বিষয়টা থেকে মুক্তি পাবেন।

অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়া ১৭৫ জনকে নিয়ে জাপানে একটা গবেষণা হয়েছিল। গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অ্যাপল সিডার ভিনেগার আদতে কাজে দেয় কী না। ফলাফল ইতিবাচক। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অ্যাপল সিডার ভিনেগারকে যদি নিত্যদিনের ডায়েটে যোগ করতে পারেন তাহলে ক্ষুধাবোধ থেকে মুক্তি তো পাবেনই সেই সাথে ওজন নিয়ন্ত্রণেও রাখতে পারবেন।

অ্যাপল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম [How to Drink ACV for Weight Loss]

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন খাওয়ার আগে ১-২ টেবিল চামচ পরিমাণ অথবা ১৫-৩০ মিলি অ্যাপল সিডার ভিনেগারই সারাদিনের জন্য পরিমিত পরিমাণ।

অথবা এই পুরো পরিমাণকে ২-৩ ডোজ আকারে ভাগ করে নিয়েও সারাদিন খেতে পারেন। পছন্দ আপনার।

তবে হ্যাঁ, খেতে হবে অবশ্যই পানিতে মিশিয়ে। এক গ্লাস পানিতে ১/২ টেবিল চামচ অর্থাৎ ৫-১০ মিলিলিটার পরিমাণ অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খেতে হবে।

ঘরে তৈরি করুন আপেল সিডার ভিনেগার [How to Make Apple Cider Vinegar at Home]

১০টি আপেল নিয়ে ভালো করে ধুয়ে কাপড় দিয়ে মুছবেন। প্রত্যেকটা আপেলকে ৪ কিংবা ৮ কিংবা যত ইচ্ছা ছোটো টুকরো করে কেটে নেবেন। বিচি অথবা বিচির অংশ বাদ দিতে হবে না। সবটা নেবেন।

আপেলের রঙ বাদামি না হওয়া পর্যন্ত রেখে দিন। রঙ ধরলে বড়ো কাঁচের জারে আপেলের টুকরোগুলো রাখুন। এবার ১ কাপ পানিতে ১ চা চামচ চিনি গুলিয়ে জারে ঢেলে দিন। কাঁচের জার যেন অবশ্যই ভালো করে ধুরে রোদে শুকানো হয়।

আপেলের টুকরো গুলো পুরোপুরি ডুবে না যাওয়া পর্যন্ত চিনি মেশানো পানি ঢালবেন। পরিমাণ তো জানেন? ১ কাপের জন্য ১ চা চামচ চিনি। আপেলগুলো পুরোপুরি ডুবে গেলে ২ টেবিল চামচ সাদা ভিনেগার দিন।

এবার টিস্যু দিয়ে জারের মুখ ঢেকে দিয়ে রান্নাঘরের ক্যাবিনেটে রেখে দিন ৩ সপ্তাহ। লক্ষ্য রাখবেন, কোনভাবেই যাতে বাতাস না ঢোকে জারের ভেতর। ৩সপ্তাহ পর জার বের করে আপেলের টুকরো তুলে ফেলবেন। তারপর তরলটাকে ভালোভাবে কাঠের চামচ দিয়ে নাড়বেন, নেড়েচেড়ে আবার আগের জায়গায় রেখে দিবেন। এরপর নিয়ম করে প্রতিদিন একবার চামচ দিয়ে নাড়বন। এভাবে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ দেখুন। টক ভাব এসেছে? এলেই হয়ে গেলো আপনার ভিনেগার।

Apple Cider Vinegar at Home

আপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতা [Benefits of Apple Cider Vinegar]

৯৪% পানি, ১% কার্বোহাইড্রেট সহ ফ্যাট এবং প্রোটিন-শুন্য অ্যাপল সিডার ভিনেগার ১০০ মিলিতে ২২ ক্যালোরির যোগান দেয়।দেখতে গাঢ় মধুর মত আর ঘ্রাণে হালকা টকের এই পানীয়তে আছে সেলুলোজ ও অ্যাসিটিক অ্যাসিডের দারুণ মিশেল যেটাই মূলত শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কাজ করে। রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ সালমা পারভিন এ ব্যাপারে বলেন- রোজ নিয়ম করে ১-২ চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার শুধু ওজনই কমায় না বরং মেটাবলিজম বাড়ায় ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জোগান দেয় শরীরে। অ্যাপল সিডার ভিনেগারে প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার থাকার দরুন ভিনেগারটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক। টাইপ টু ডায়াবিটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যার যে ঝুঁকি তা কমিয়ে এনে হৃদরোগের আশঙ্কাও কমিয়ে দেয় অ্যাপল সিডার ভিনেগার। এখানে একটা কিন্তু আছে। ডায়াবিটিসে আক্রান্ত যাদের ঔষধ খাওয়া

লাগে,তবে এখানে কিছু সতর্কতা আছে। পুষ্টিবিদ সালমা পারভিন জানান, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যাপল সিডার ভিনেগার না খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। অন্তঃসত্ত্বা মা, বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মা এবং কিডনি রোগিদের জন্য অ্যাপল সিডার ভিনেগার একদমই নিষেধ। প্রশ্ন আসা খুব স্বাভাবিক, কেন নিষেধ? উত্তর এটাই, এ অবস্থায় অ্যাপল সিডার ভিনেগার শরীরে স্থায়ী ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই করে না। অতএব অ্যাপল সিডার ভিনেগার খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

অনেক কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে এবার আসল আলাপনে আসা যাক। ঠিক কী কী কারণে অ্যাপল সিডার ভিনেগারের এত জনপ্রিয়তা, কী কারণেই বা এর ব্যবহার হুট করে বেড়ে গেলো তা জানার প্রয়োজন আছে বইকি! চলুন একটু করে জেনে নেই অ্যাপল সিডারের অন্যান্য ব্যবহারগুলোও।

  • ব্লাড সুগার কমানোর কাজে অ্যাপল সিডার ভিনেগার!

ব্লাড সুগার যাদের আছে তারা জানেন এর ভাবনা ভাবাটা কতটা দূর্বিষহ। এই দূর্বিষহ ভাবনা থেকে কিছুটা রেহাই দিতেই যেন অ্যাপল সিডার ভিনেগার এর আবির্ভাব। ব্লাড সুগার এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এর পাশাপাশি কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমিয়ে আনে অ্যাপল সিডার ভিনেগার। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। ডায়াবিটিস ও ক্যান্সার রোগিরা এর সুফল বেশ ভালোভাবেই পেয়ে থাকেন। তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই অ্যাপল সিডার ভিনেগার খাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

  • খুশকি ভাবনায় অ্যাপল সিডার ভিনেগার!

খুশকি নিয়ে ভাবেন না এমন কে আছেন বলুন তো? ঘুম হারাম করে দেওয়ার মতো চিন্তা নয় কী? সমস্যা যেমন আছে, সমাধানও কিন্তু আছে। ১ টেবিল চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ ভিনেগার নিন। ওতে মেশান ১ কাপ পানির ৪ ভাগের ১ ভাগ। মেশানো পানি চুলের ত্বকে ভালো করে ঘষে নিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ২ বার করুন আরও ভালো ফলাফল পেতে।

  • রোদের আঁচ এবং ব্রণ যখন শত্রু!

চলছে তীব্র রোদের সময়। সূর্য যেন উপচে পড়ে তাপ ছড়াতেই বেশি ব্যস্ত। ঝড়ছে ঘাম, ক্লান্ত হচ্ছে শরীর। একই সাথে চেহারায় পড়ছে রোদে পড়া কালচে ছোপ। গরমের দিনের জাতীয় সমস্যা! তবে সমাধান হিসেবে এবারও অ্যাপল সিডার ভিনেগারের পথেই হাঁটবো আমরা।

১ কাপ ভিনেগার, ১ কাপ গোলাপজল, ১ কাপ পানি ভালো করে মিশিয়ে ফ্রিজে রাখুন। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে রোদে পোড়া জায়গা গুলোতে এই মিশ্রণ মাখিয়ে বাতাসে শুকিয়ে নিন। পাতলা নরম সুতি কাপড় দিয়ে আলতো ঘষে মুছে পরিষ্কার করে নিন। এই কাজটি চালু রাখুন। ফল পাবেন।

একইভাবে ব্রণ নিয়েও অনেকে অনেক ঝামেলা পোহান। সমাধান হিসেবে অ্যাপল সিডার ভিনেগার এর নামই বলতে হবে। কেন? বলছি-
অ্যাপল সিডার ভিনেগারটিতে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল প্রভাব প্রাকৃতিক টোনারের কাজ করে। যার কাজ মুখের ব্রণের বৃদ্ধি কমিয়ে এনে মুখের যাবতীয় ব্রণ দূর করা। এই অ্যাপল সিডার ভিনেগারটি মুখের পিএইচ এর মাত্রা ঠিক রেখে মুখের অন্যান্য দাগ দূরীকরণে সাহায্য করে।

এছাড়া এটি খুব দ্রুতই ত্বকের একদম গভীরে প্রবেশ করে। যা ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করে দেয়। এ কারণে ব্রণ হলে কী করবেন জানেন? ভিনেগার আর পানির মিশ্রণে কটন বাড ডুবিয়ে একদম সরাসরি ব্রণের উপর রেখে মুছবেন। ব্রণের চারপাশও মুছবেন। একই নিয়মে প্রতিদিন নিয়ম করে ২ বার যত্ন নিতে থাকুন। ব্রণের জীবাণু পুরোপুরি নির্মূল হবে এবং ব্রণের দাগ পড়বে না মুখে।

  • ডায়রিয়ার হঠাৎ প্রাদুর্ভাব দূরীকরণে অ্যাপল সিডার ভিনেগার!

অনেক সময় এমন হয় না যে হুট করে ডায়রিয়া হয়ে গেলো। ঘরে স্যালাইন নেই। তখন কী করবেন? সময় নিয়ে গুড়, লবণ মিশিয়ে স্যালাইন বানাবেন? অবশ্যই না! বাড়িতে অ্যাপল সিডার ভিনেগার থাকলে চটজলদি এক চামচ পানিতে গুলে খেয়ে নিলে খুব দ্রুত উপকার পাবেন। এখানে একটু করে জানিয়ে রাখি, ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে ডায়রিয়া হলে এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

  • খাবার সংরক্ষণে অ্যাপল সিডার ভিনেগার!

অনেকে খাবার সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহার করেন। এ আপনারা জানেন। মজার ব্যাপার হলো এই অ্যাপল সিডার ভিনেগার দিয়েও আপনি কিন্তু খাবার সংরক্ষণ করতে পারবেন। ভিনেগারটিতে অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকার কারণে খাবারের এনজাইম ও ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস হয়ে প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

  • গন্ধ দূর করতে অ্যাপল সিডার ভিনেগার!

গরমের দিন চলছে না? প্রচুর ঘামছেন। সারা শরীর ঘামে ভিজে বাজে গন্ধ ছড়াচ্ছে। একই সাথে জুতা মোজার বিষয় তো আছেই। গন্ধটা বিব্রতকর অবশ্যই। এজন্য কী করবেন জানেন? অ্যাপল সিডার ভিনেগার পানিতে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। গোসলের পরে এই পানি বগল, পা সহ যেখানে ঘাম বেশি হয়, সেখানে মাখিয়ে নিন। ব্যাক্টেরিয়া মরবে। ঘামের গন্ধও দূর হবে।

বাইরে যাওয়ার আগে এটা করতে পারেন। আবার ঘরে ফিরে এসে কুসুম গরম পানিতে ভিনেগার মিশিয়ে রোদে পোড়া জায়গায় মাখাবেন। উপকার পাবেন। একই কথা প্রযোজ্য মুখের গন্ধের ক্ষেত্রেও। অ্যাপল সিডার ভিনেগারে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল নামক উপাদানের উপস্থিতি থাকার দরুন পানির সাথে অ্যাপল সিডার ভিনেগারটি মিশিয়ে কুলকুচি করে ফেলে দিলে মুখের দুর্গন্ধ নিমেষেই দূর হবে।

  • ডিশ ডিটারজেন্ট হিসেবে অ্যাপল সিডার ভিনেগারের ব্যবহার!

অনেক সময় দেখা যায় ঘরে ব্যবহৃত প্লেট বাটি কেমন তেল চিটচিটে হয়ে আছে। সাবান কিংবা ছাই এ কাজ হচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে পরিষ্কারক হিসেবে অ্যাপল সিডার ভিনেগার কিন্তু বেশ কাজের। যে ডিশ ওয়াশার দিয়ে প্লেট বাটি পরিষ্কার করেন তার সঙ্গে ভিনেগার মিশিয়ে প্লেট বাটি সহ আনুষঙ্গিক যা যা ধোয়ার ধুয়ে নিন। সিঙ্কটাও ধুয়ে ফেলতে পারেন। ফলাফল নিজেই দেখুন।

  • স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অ্যাপল সিডার ভিনেগারের ব্যবহার!

মানব দেহের পুরো Ph এর সমতা রক্ষার কাজ কিন্তু অ্যাপল সিডার ভিনেগার করতে সক্ষম। যাদের শরীরে Ph এর মাত্রা কম থাকে তাদের কিছু সমস্যা থাকে। তারা যে-কোন রোগে খুব দ্রুত আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এবং তাদের শরীরে শক্তিও থাকে তুলনামূলক কম। সুতরাং বুঝতেই পারছেন ভিনেগারটি এদিক থেকে কতটা এগিয়ে। নিয়মিত এই ভিনেগার পানে দেহে শক্তি জমা হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।শরীরের লিভার ভালো রাখার জন্য এবং অ্যালার্জি প্রতিরোধের জন্য অ্যাপল সিডার বেশ কার্যকর।

এছাড়া যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তারা চটজলদি সমাধান পেতে ১ গ্লাস পানিতে ১ চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। দ্রুত ফল পাবেন। তবে হ্যাঁ, যাদের আলসার আছে তাদের কাছে অনুরোধ- আপনারা এ জিনিস ভুলেও পান করবেন না।

আপেল সিডার ভিনেগারের ক্ষতিকর প্রভাব [Side Effects of Apple Cider Vinegar]

প্রাকৃতিক বলেই প্রতিক্রিয়ার ঊর্দ্ধে থাকবে এমন কিন্তু কিছুই নেই। আর তাই, ব্যতিক্রমের তালিকায় নাম লেখায়নি অতি প্রয়োজনীয় এবং সুপরিচিত এই অ্যাপল সিডার ভিনেগারটিও। আছে কিছু বিরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও। একটু আলাপনের প্রয়োজন আছে এই বিষয়ে।

অ্যালার্জি আছে এমন ব্যক্তিদের অনেকের ক্ষেত্রেই অ্যাপল সিডার ভিনেগার উলটো প্রতিক্রিয়া দেখায়। আবার ডায়াবিটিসের কারণে যাদের ইনসুলিন নিতে হচ্ছে তাদের নির্ধারিত ঔষধের সাথেও অ্যাপল সিডার ভিনেগারের সংঘর্ষ হতে পারে। অ্যাপল সিডার ভিনেগার এর অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বকের সমস্যার কারণ হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। মূলত এর কোন ঔষধি গুণাগুণ কিংবা পুষ্টিগুণ নেই। নেই কোন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ক্লিনিকাল প্রমাণও। যেমন – ওজন হ্রাসের কথাই ধরুন। যে কারণে জনস্বাস্থ্য সংস্থা চিকিৎসা সংকান্ত নির্দেশিকায় এই অ্যাপল সিডার ভিনেগার ব্যবহারের প্রস্তাব দেয় না। তবে সামান্যতম ব্যবহার নিরাপদ হিসেবেই বিবেচিত হয়। আবার ট্যাবলেট আকারে অ্যাপল সিডার ভিনেগারে মুখ, গলা, পেট, কিডনির নরম টিস্যুতেও ক্ষত সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অনেকে আছেন যারা সাময়িক ঔষধ হিসেবে অ্যাপল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করেন, অনেকে চোখ ধোওয়া এবং কান পরিষ্কারের জন্যও অ্যাপল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করেন। যার ব্যবহার আদতে বিপজ্জনকই বটে!

মূলত অতিরিক্ত কোনকিছুই ভালো না। তা যতই প্রাকৃতিক হোক না কেন! যে কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন আছে বইকি! পরামর্শ নিয়ে খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে কিংবা পরে পানি মিশিয়ে অ্যাপল সিডার ভিনেগার পান করুন। তবে হ্যাঁ, রাতে ঠিক ঘুমোনোর আগে এ ভিনেগার খাবেন না। ঐ সময়ে এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ঘুমোনোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে যাবতীয় খাওয়া দাওয়া শেষ করবেন।

অনেকে আছেন যে-কোন খাবার খাওয়ার আগে শুঁকে দেখেন। অভ্যেসটা ভালো তবে অ্যাপল সিডার ভিনেগারের ক্ষেত্রে এই অভ্যেসটা একটু এড়িয়ে যেতে হবে। এর তীব্র গন্ধ নাকের জন্য ভালো নয়। চোখের জন্যও নয়।

অনেকে ভরা পেটে এই ভিনেগার পান করেন। যা আদতে অনুচিত। পাঠক, ভিনেগার মেশানো পানি খেতে হবে খালি পেটে, ভরা পেটে খেলে লাভ তো হবেই না বরং শরীরে নানান ধরণের সমস্যা দেখা দিবে।একটা বিষয় স্পষ্ট করে জানিয়ে রাখা ভালো, অনেকে রাতের বেলায় এই ভিনেগার খেয়ে ঘুমোতে যান। এটা সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর। ভুলেও যদি রাতে খেয়ে ফেলেন, তাহলে অন্তত ৩০ মিনিট সোজা হয়ে বসে থাকবেন। পান করে সাথে সাথে শুয়ে পড়বেন না।একইসাথে অনেকটা ওজন কমানোর চিন্তায় অনেকেই একসাথে অনেকটা অ্যাপল সিডার ভিনেগার খেয়ে ফেলেন। এখানে একটা বিষয় বোঝা দরকার, সবকিছু সবার শরীর নিতে পারে না। তাই শুরুটা অল্পে হওয়া ভালো। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে এলেই না হয় পরিমাণ বাড়ানো যাবে।

এ পর্যায়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় জানিয়ে রাখি। অনেকেই আছেন ভিনেগার মেশানো পানি খেয়েই দাঁত ব্রাশ করে ফেলেন। দয়া করে এ ভুল করবেন না। কেন করবেন না? এতে দাঁতের অ্যানামেল ক্ষয়ে যায়। ক্যাভিটি দেখা দেয়। তবে পানীয় পান করার ৩০ মিনিট পর দাঁত ব্রাশ করতে পারেন।

পরিশেষে, ওজন কমানোর জন্য কী নেই? অনেক কিছুই আছে। তবে প্রয়োজন আছে সদিচ্ছার। কম খাওয়া কিংবা পরিমিত খাওয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে লিপ্ত থাকাই আপনাকে একটা সুস্থ জীবন দেবে। এ আপনি বিশ্বাস করেন? জীবন কিন্তু অতটাও মন্দ নয়, শুধু জীবনটা কাটানোর নিয়মটা জানতে হয়।

Filed Under: Weight Loss (ওয়েট লস)

কিটো ডায়েট এর আদ্যপ্রান্ত – ১ মাসে ১৫ কেজি পর্যন্ত ওজন কমবে

by লামিয়া তানজিন মাহমুদ

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল!

আপনি যেহেতু এই লেখাটি পড়ছেন,তাই ধরেই নিচ্ছি আধুনিক প্রযুক্তির যান্ত্রিক সমীকরণের সাথে তাল মিলিয়ে আপনি স্মার্টফোন নয়তো পিসি ব্যবহারে অভ্যস্ত। আমাদের এই যান্ত্রিক জীবন ব্যবস্থার যাতাকলে পিষে, ক্লান্তির সেই অবসর সময় টুকুর সদ্ব্যবহার করার জন্য,আপনি ও হয়ত প্রায়শ ফেইসবুক,টুইটার বা বিভিন্ন সাইট ভিজিট করে থাকেন। আর ঠিক তাই, আপনি রূপকথনের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এই আর্টিকেলটি পড়ছেন ।

আধুনিক বিশ্বের এই ক্রান্তি লগ্নে এসে প্রযুক্তির উন্নতি সাধনের সাথে সাথে আমাদের অবশ্যই নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে ও সচেতনতা আবশ্যক।

‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’ ভাব-সম্প্রসারণ হিসেবে ছোটোকালে কম-বেশি সবাই পড়েছি আমরা। মুখস্ত বিদ্যা কিংবা সৃজনশীলতার দরুন নানান কথাবার্তা লিখে পাশ-মার্ক তুলেই হয়তো দায়িত্ব সেড়েছেন অনেকে, কেউ-বা আবার বুঝে-শুনেই যা লেখার লিখে বাস্তব জীবনেও তার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

চারপাশে একটু নজর বুলালেই এ কথার সত্যতা কিন্তু আপনি নিজেই যাচাই করতে পারবেন। সকাল সকাল কিছু মানুষকে একসাথে দৌড়াতে দেখেছেন? কিংবা হাসতে? অনেকের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় প্রচুর তাজা শাক-সবজি, ছোটো মাছ এবং দেশীয় ফলের প্রাধান্য দেখতে পাবেন। কেন বলুন তো?

ঘুরে-ফিরে উত্তর কিন্তু ওটাই, স্বাস্থ্য! নিয়মতান্ত্রিক জীবন ও সুসম খাবারে যেটা পরিণত হয় সম্পদে। সুস্বাস্থ্যের চেয়ে বড়ো সম্পদ কি কিছু আছে? অসুস্থ হলেই কেবল বোঝা যায়, সুস্থ থাকার প্রয়োজনিয়তা কী। তাই নয়? স্বাস্থ্য এবং সুস্থ থাকা। এ দুটো বিষয় যে বিষয়টির সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত তার নাম খাবার। এই খাবারের সাথে আবার যে নামটি আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে তার নাম ডায়েট কন্ট্রোল।

আচ্ছা, ডায়েট কন্ট্রোলের নাম শুনেছেন? একটু মুটিয়ে যাওয়া কিংবা মোটা হওয়া থেকে দূরে থাকার জন্য অনেকেই কিন্তু ডায়েট কন্ট্রোলের দিকে ঝুঁকে থাকেন। সেই ডায়েট কন্ট্রোলের দুনিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নামটি “কিটোজেনিক ডায়েট বা কিটো ডায়েট“।

বিঃদ্রঃ আপনার ব্যক্তিগত ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে এই ডায়েট অনুসরণ করবেন না

কিটো ডায়েটের পরিচয়ঃ কী এই কিটো ডায়েট? [What is the Keto Diet?]

এক কথায়- ‘নো কার্বোহাইড্রেট!’ অর্থাৎ, এই কিটো ডায়েটের মূল উদ্দেশ্যই হলো শরীরে থাকা যাবতীয় কার্বোহাইড্রেটকে একদম নিঃশেষ করে ফেলা এজন্য কিটো ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়। আপনারা জানেন, মোটা হওয়ার জন্য কার্বোহাইড্রেট দরকার হয় শরীরে। তাই যারা চিকন হতে চান তাদের জন্য কিটো ডায়েটে এর ঠিক উলটো কাজটা করতে হয়। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় সব খাবার এড়িয়ে যেতে হয়। যাতে শরীরে থাকা চর্বি পুড়তে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে জমে থাকা কার্বোহাইড্রেটও পুড়তে শুরু করে। যার কারণে ওজন কমতে থাকে। মূলত কিটো ডায়েটকে সুপার লো-কার্ব ডায়েট বলে। ডায়েটটিতে কার্ব এক্সট্রিম লেভেলে কম থাকে, প্রোটিন মিড লেভেলে এবং ফ্যাট যথেষ্ট হাই থাকে।

টিপিকাল যে কিটো ডায়েট আছে সেখানে মোট ক্যালোরিক নিডের ফ্যাট ৭০%, প্রোটিন ২৫% এবং কার্ব ৫% থাকে। এর মানে হলো একটা পুরো দিনে আপনি যতটা খাবার খাবেন সেই খাবারের সুষম বণ্টনটা এমন হবে। একজন মানুষের স্বাভাবিক যে ডায়েট সেখানে কার্বোহাইড্রেট এর পরিমাণই থাকে ৫০%, ফ্যাট থাকে ৩০% এবং প্রোটিন ২০%। এখন আপনি যদি সারাদিনে ১২০০ ক্যালোরি খান তাহলে এর ৫০% কার্ব মানে ৬০০ ক্যালোরি কার্ব খেতে হবে আপনাকে।

মানবদেহের প্রধান খাদ্য বা জ্বালানি কী জানেন? গ্লুকোজ। আর কিটো ডায়েটের মূল উদ্দেশ্যই হলো এই গ্লুকোজের বদলে কিটোন বডিগুলোকে জ্বালানি বা খাদ্য হিসেবে প্রস্তুত করে ব্যবহার করা। খুব ইফেক্টিভ একটি ফ্যাট লস ডায়েট হিসেবে খ্যাত এই কিটোজেনিক ডায়েটটি মূলত প্রোটিন নির্ভর। অর্থাৎ প্রোটিন খাওয়াটাই কিটো ডায়েটের মূল উদ্দেশ্য।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই প্রোটিন দিয়ে মানবদেহের প্রতিদিনের ক্যালোরি নিড এবং রিকোয়ার্মেন্ট পূরণ করা সম্ভব হয় না সেক্ষেত্রে টোটাল ক্যালোরি নিডের ২০%-৩০% প্রোটিন এবং ৫% কার্ব খেয়ে শরীরের বাকি নিড এবং রিকোয়ার্মেন্ট পূরণ করতে হয়।

এতক্ষণের আলাপনে মোটামুটি একটা ধারণা এসেছে না কিটো ডায়েট সম্পর্কে? এমনও অনেকে আছেন যারা কিটো ডায়েট বলতেই বোঝেন প্রচুর মাংস গ্রহণ। আদতে বিষয়টা এমন না। আমাদের শরীরে ৬২% পানি, ১৬% আমিষ, ১৬% চর্বি, ৬% মিনারেল এবং ১% এর থেকেও কম কিংবা কাছাকাছি পরিমানের শর্করা, ভিটামিন এবং অন্যান্য কিছু উপাদান আছে।

কিটো ডায়েটের প্রকারভেদ [Types of Keto Diet]

এখনও পর্যন্ত চার ধরণের কিটো ডায়েট এর সাথে আমাদের পরিচয় ঘটেছে-

(ক) স্ট্যান্ডার্ড কিটোজেনিক ডায়েট – এ ধরণের ডায়েটে ফ্যাট ৭০%, প্রোটিন ২৫% এবং কার্ব ৫% থাকে। সাধারণত কিটো ডায়েট বলতে মানুষ এটাই বুঝে এবং এই স্ট্যান্ডার্ড কিটোজেনিক ডায়েটই বেশি পরিচিত এবং প্রচলিত।

 (খ) সাইক্লিক্যাল কিটোজেনিক ডায়েট – সপ্তাহে দু’দিন-ই কার্ব খাওয়ার অনুমতি আছে এই কিটো ডায়েটে।

(গ) টার্গেটেড কিটজেনিক ডায়েট – প্রথম দুটি কিটো ডায়েটের তুলনায় এই কিটো ডায়েট একটু আলাদাই বটে। কতটা আলাদা সে প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয়, এই কিটো ডায়েটে আপনি কার্ব খেতে পারবেন তবে সেটা বিশেষ ক্ষেত্রে। যেমন- ওয়ার্ক-আউটের আগে কিংবা পরে।

(ঘ) হাই প্রোটিন কিটোজেনিক ডায়েট – এই ডায়েটটি কিছুটা স্ট্যান্ডার্ড কিটোজেনিক ডায়েট এর মতো। কেবল প্রোটিনের মাত্রাটা কিছুটা বেড়ে যায়। কেমন সেটা? স্ট্যান্ডার্ড কিটোজেনিক ডায়েট এ প্রোটিন থাকে ২৫% আর এই হাই প্রোটিন কিটোজেনিক ডায়েটে প্রোটিনের পরিমাণ থাকে ৩৫%। অর্থাৎ পুরো বণ্টনটা হলো- ফ্যাট ৬০%, প্রোটিন ৩৫% এবং ফ্যাট ৫%। এথলেট এবং বডিবিল্ডারদের জন্য এই হাই প্রোটিন কিটোজেনিক ডায়েট খুব কার্যকর।

নতুনদের জন্য সহজ কেটোজেনিক ডায়েট এর খাবার পরিকল্পনা [Simple Ketogenic Meal Plan for Beginner]

Ketogenic Meal Plan

কিটোজেনিক ডায়েটের এতক্ষণের আলাপনে কী খেতে পারবেন আর কী খেতে পারবেন না এটুকু জানার পরে ডায়েট চার্ট জানার ব্যাপারে সামান্য আগ্রহ জন্মেছে কি পাঠক? আগ্রহ জিইয়ে রাখার উপহার স্বরূপ এক সপ্তাহের কিটোজেনিক ডায়েট প্ল্যান, শুধু আপনাদের জন্য-

সকালে কী খাবেন?

অনেকের সকালে খাওয়ার অভ্যেস নেই, অনেকের আছে। যাদের আছে তারা সকাল ৮ টা থেকে সাড়ে ৮ টার মধ্যে দুধ এবং চিনি ছাড়া ১ কাপ চা খেতে পারেন। স্বাদ পেতে আদা, লেবু এবং সামান্য লবণ দিতে পারেন।

কুসুম গরম পানির সাথে অ্যাপল সিডার ভিনেগার অথবা কোকোনাট ভিনেগার মিলিয়ে খেতে পারেন। কিংবা লেবু চিপে রস বের করে নিয়েও মিশিয়ে খেতে পারেন।

যারা সকালের খাবার খেতে দেরি করেন, তারাও একই ভাবে বেলা ১১ টার মধ্যে উপর্যুক্ত খাবার খাবেন।

দুপুরে কী খাবেন?

দুপুরের খাবারের শুরুটা হবে অ্যাপল সিডার ভিনেগারের এক চামচের সাথে এক গ্লাস পানি। মিশিয়ে খাবেন। এতে গ্যাস হওয়া থেকে নিরাপদ তো থাকবেনই, সেই সাথে শরীরের চর্বি কাটাতেও এর উপকারিতা আছে।

দুপুরের খাবারে বাটার, শাক, সবজি, মাংস অথবা মাছ, ঘিয়ে ভাজা ডিম এবং বাদাম, শশা এবং টমেটোর সালাদ খাবেন। শাক, মাছ এবং সবজি এক্সট্রা ভার্জিন ওলিভ ওয়েল দিয়ে রান্না করে খাবেন। সবজি কম সেদ্ধ করবেন, এতে সবজির গুণগত মান অব্যাহত থাকে।

১ দিনে সর্বোচ্চ ৬ টা ডিম কুসুমসহ খেতে পারবেন। এতে সমস্যা নেই তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রোটিন এবং ফ্যাটের ভালো উৎস ডিম। কিটোজেনিক ডায়েট আপনাকে ডিম খাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। অতএব…

পাঠক, মাছ আর মাংস কিন্তু একই সাথে খাবেন না। ঠিক আছে? মাছ খেলে মাংস খাবেন না আবার মাংস খেলে মাছ খাবেন না। মুরগি (দেশি বা ফার্ম), উট, দুম্বা, ভেড়া, খাসি, গরু ইত্যাদি, অর্থাৎ যে মাংসই খান না কেন ১ টুকরো। বেশি নয়।

সকালে যারা ৮ টা থেকে সাড়ে ৮ টার মধ্যে সকালের খাবার খান, তরা চেষ্টা করবেন দুপুরের খাবার দেড়টার মধ্যে খেয়ে নিতে। আর ১১ টায় যারা খান, তারা আড়াইটা থেকে ৩ টার মধ্যে খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

বিকালে কী খাবেন?

বিকালে খাওয়ার অভ্যেস থাকলে কিংবা ক্ষুধা লাগলে সকালের নাস্তার পুনরাবৃত্তি করবেন। চা, বাটার কফি, বাটার কিংবা ঘিয়ে ভাজা বাদাম ইত্যাদি খেতেই পারেন।

রাতে কী খাবেন?

রাত ৮ টার মধ্যে রাতের খাওয়া শেষ করবেন। দুপুরে যা খেলেন, এখানেও ঠিক তাই। খাবারের কয়েক পদ কম হোক, সমস্যা নেই।

যে ধরণের খাবার খেতে পারবেন না কিটো ডায়েটে! [Foods You Should Avoid on a Ketogenic Diet]

যত ধরণের ডায়েট কন্ট্রোল এর ব্যাপার আছে, প্রায় সবগুলোতেই সাধারণ কিছু বিধিনিষেধ আছে। তেমনই কিছু বিধিনিষেধ আছে কিটো ডায়েটেও-

(ক) মিষ্টিজাতীয় খাবার বাদ! সাথে চিনিও! সাদা চিনি, লাল চিনি বলতে কিছুই থাকবে না খাদ্য তালিকায়। মিষ্টিপ্রেমিদের জন্য দুঃসংবাদই বটে! তবে দুঃসংবাদের এখানেই শেষ নয়, আরও একটু আছে। কোকজাতীয় সব ধরণের ঠাণ্ডা পানীয়, সব ধরণের ফল ও ফলের জুস, কেইক আইসক্রিম, চকোলেইট, স্মুদি, যে-কোন ধরনের মিষ্টান্ন, ইত্যাদি নিষিদ্ধ। খেতেই পারবেন না।

(খ) আটার তৈরি খাবার অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে। একই সাথে ভাত,পাস্তা, নুডুলস, ওটস, কর্নফ্লেক্সও অনেকে বেশ পছন্দ করে খান। দুঃখের সাথে জানাচ্ছি কিটোজেনিক ডায়েটে এগুলোও বাদ!

(গ) বাঙালি মানেই মাছে-ভাতে-ডালে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়া এক অনুভূতি। কী তাইতো? অনেকে বেশ আয়েশ করে ডাল দিয়ে আলুভর্তা, ডাল দিয়ে আম এবং ডাল দিয়ে ডিম অমলেট খেতে ভালোবাসেন। এ ভালোবাসা দোষের কিছু না তবে কিটো ডায়েটে এ ভালোবাসা নিষিদ্ধই বটে! ডালে প্রোটিনের পাশাপাশি প্রচুর কার্ব থাকার কারণে কিটো ডায়েটে সব ধরণের ডাল বাদ!

(ঘ) প্রিয় পাঠক, মাটির নিচের সবজি খেতে কেমন লাগে আপনার? আলু, গাজর, কচু, ওল, মুলা, ইত্যাদি খেতে কেমন লাগে? সর্ষের তেল আর নতুন ওঠা ধনে পাতা দিয়ে ঝাল করে আলু ভর্তার স্বাদ পেতেই বা কেমন লাগে পাঠক? অমৃত নয়? এখানেও দুঃসংবাদ জানাচ্ছি, কিটো ডায়েটে এই মাটির নিচে হওয়া সবজি খাওয়া একদমই বারণ!

(ঙ) সর্বশেষ দুঃসংবাদ তাদের জন্য যারা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেতে ভালোবাসেন! জি! ওটাও বাদ! কোন প্রক্রিয়াজাত খাবার আপনি কিটো ডায়েটে খেতে পারবেন না।

যে খাবার গুলো খাওয়ার অনুমতি আছে! [Foods that are Allowed to Eat!]

খাদ্যপ্রেমীরা হয়তো ভাবছেন, সবই যদি বাদ পড়ার তালিকায় যায় তবে খাবেন টা কী? কিংবা হয়তো ভাবছেন, কিটো ডায়েটে কি তবে না খেয়েই ডায়েট কন্ট্রোল করতে হবে? উত্তর হলো- ‘না!’ অনেক কিছু বাদ পড়লেও অনেক মুখরোচক কিছুই আছে যা আপনি এই কিটো ডায়েটে খেতে পারবেন। চলুন একটু জেনে নেওয়া যাক-

(ক) মাংসপ্রেমীদের জন্য সুখবর! কিটো ডায়েটে আপনি মাংস অর্থাৎ গরু এবং মুরগি খেতে পারবেন।

(খ) অনেকে মাংস অত পছন্দ করেন না। এবারের সুখবরটা তাদের জন্য! সব ধরণের মাছ আপনি খেতে পারবেন। বড়ো কিংবা ছোটো কোন বাছ-বিচার নেই। সব মাছ খাওয়া আপনার জন্য প্রযোজ্য। কী খুশি তো ফিশ-লাভারেরা?

(গ) বলুন তো পাঠক, কোন খাবারকে ব্যাচেলর্স ফুড বলা হয়? ডিম, তাইতো? ব্যাচেলর্স লাইফ, হল লাইফ, মেস লাইফ, সাবলেট লাইফে থাকা প্রতিটা মানুষের নিত্য দিনের খুব পরিচিত খাবার কিন্তু ডিম। ঘরে আর কিছু থাকুক বা না থাকুক, ডিম তো থাকবেই। ডিম ভাজি কিংবা ভর্তা করে দিনাতিপাত করে দেয় এমন অনেকেই কিন্তু আছেন। রান্নার ঝামেলা এড়ানো কিংবা সহজে প্রস্তুত করা যায় বলে ডিমের জনপ্রিয়তাও কিন্তু অনেক। আবার অনেকে ডিম খেতেও বেশ পছন্দ করেন। তো ডিম নিয়ে এত আলাপনের মাঝে একটা সুখবর দিয়ে রাখি, কিটো ডায়েটে আপনি ডিম খেতে পারবেন। জি ঠিকই পড়েছেন। ডিম খাওয়ার অনুমতি আপনি কিটো ডায়েটে পাচ্ছেন।

(ঘ) ঘি এবং বাটার কার না পছন্দ? ঘিয়ে ভাজা লুচি কিংবা পরোটার স্বাদ অমৃত-তুল্য অনেকের কাছেই। আর বাটার? সে তো আরেক ধাপ এগিয়ে। পাউরুটি এবং বাটার যেন মানিকজোড়। বলছি, এই বাটার এবং ঘি-ও আপনি খেতে পারবেন কিটো ডায়েটে!

(ঙ) বাদাম পছন্দ? খেতে ভালোবাসেন? বাদামের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানলে এই জিনিস না খেয়ে থাকা অসম্ভবই হবে আপনার জন্য। কিটো ডায়েট এই অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবারটি আপনার জন্য বরাদ্দ রেখেছে।

(চ) স্বাস্থ্য সম্মত যত তেল আছে, যেমন- অলিভ অয়েল, কোকোনাট অয়েল, ক্যানলা অয়েল, এর সবই খেতে পারবেন।

(ছ) সবুজ যত সবজি আছে, যেমন- পালং, ব্রকলি, বাঁধাকপি ইত্যাদির সবই খেতে পারবেন। তবে রংটা সবুজ হতে হবে।

(জ) মশলা খেতে পারবেন, প্রায় সবই। এতে মানা নেই।

কেন কিটো ডায়েট ভালো? [Benefits of Ketogenic Diet]

প্রায় হুট করেই বাংলাদেশে যেন কিটো ডায়েট বিষয়টা জনপ্রিয় হয়ে উঠলো। এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই কিটো ডায়েট আদতে কতটা ভালো আর কেনই-বা ভালো? উত্তর খুঁজতে কিছু বিষয়ের আলাপন জুড়ে দিচ্ছি-

  • যদি প্রচুর ফ্যাট কমানোর ইচ্ছা থাকে তবে কিটো ডায়েটকে ভরসা আপনি করতেই পারেন! কারণ এই ডায়েটে খুব অল্প সময়েই অনেক ফ্যাট কমানো যায়।
  • এই ডায়েটে ফ্যাট আর প্রোটিন গ্রহণের আধিক্যের কারণে পেট খালি থাকার সম্ভাবনাও থাকে না। অনেক বেশি প্রোটিন শরীরে থাকলে এমনিতেও ক্ষুধা পায় না। এজন্য ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে আনা খুব সহজ হয়ে যায়।
  • মেদ কমে যাবে ঠিকই কিন্তু শরীরে পেশীর পরিমাণ ঠিক থাকবে।
  • গবেষণা জানাচ্ছে, যে সকল মানুষ কিটো ডায়েটে অভ্যস্ত তারা টিপিক্যাল লো-ফ্যাট ক্যালোরির যত রেস্ট্রিক্টেড ডায়েট আছে, সে সমস্ত ডায়েটের চাইতে ২.২ গুণ বেশি ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন।
  • হার্ট ডিজিজ, ব্লাড প্রেশার, ব্লাড সুগারের রিস্ক কমায় কিটো ডায়েট। একই সাথে পিসিওএস এবং ডায়াবিটিস রোগীদের জন্যও ডায়েটটি বেশ কার্যকর। শুধু ওজন কমানো না বরং ইনসুলিন আর ব্লাড সুগারও নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ সাহায্য করে কিটো ডায়েট।
  • তবে ভেজিটেরিয়ানদের জন্য কিটো ডায়েটটা আসলেই মুশকিলের ব্যাপারই বটে! কারণটা ইতোমধ্যে হয়তো বুঝেও গেছেন। কিটো ডায়েটে প্রোটিন যতটা গ্রহণ করতে হয় শাক-সবজি থেকে সেই পরিমাণটা সংগ্রহ করা আসলেই খুব কঠিন। আবার শাক-সবজিতে শর্করাও থাকে। কিটো ডায়েটে শর্করা আবার নিষেধ! সুতরাং একই সাথে শর্করা আর প্রোটিন, বুঝতেই পারছেন বিষয়টা আসলেই সাংঘর্ষিক।

আছে বিপরীত কিছু ঘটনাও! [Common Side Effects on a Keto Diet]

হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই কিটো ডায়েট আদতে কতটা সুফল বয়ে আনে কিংবা কুফল, সে আলাপে যাবো না তবে একটা ডাক্তারের ঘটনা উল্লেখ করতে চাই। মন দিয়ে পড়ুন ,সিদ্ধান্ত আপনাদের!

মেয়েটির বয়স ৩০, উচ্চতা ৫ ফুট ৩। উচ্চশিক্ষিতা এবং একজন মা। দুটি ফুটফুটে সন্তানের জননী সে। জনৈক ডাক্তারের চেম্বারে গিয়েছিলেন তীব্র শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে অথচ তার পরিবারে শ্বাসকষ্টের কোন রোগী নেই! রিপোর্ট জানালো কিটো ডায়েটে আকৃষ্ট হয়ে ৫ মাস ধরে কিটো ডায়েট এ আছেন মেয়েটি। এই ৫ মাসে ৮ কেজি ওজন কমিয়ে ৭২ কেজি থেকে ৬৪ কেজিতে নামিয়ে এনেছেন। সবই ঠিক ছিল কিন্তু সমস্যা বেঁধেছে অন্য জায়গায়। ওজন কমলেও শরীরের নানান জায়গায় নানান রকম সমস্যার দেখা মিলছে। বুকের ভেতর অস্থির লাগা, শরীর দূর্বল লাগা, মাথা ঘোরা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য। সব মিলিয়ে দিশেহারা মেয়েটি।

প্রশ্ন রাখছি, কী বুঝলেন? সবার কি সব সয়?

ডায়েট সম্পর্কে অনেকের ধারণা শূন্যেরও নিচে, এ আপনি জানেন?

ইউটিউব, গুগল ঘেটে অল্প সময়ে ওজন কমাতে অনেকেই ঝুঁকে যান কিটো ডায়েটের দিকে। নাম পালটে অনেকে লো কার্ব ডায়েট বলেও ফলাও করে প্রচার করছেন কিন্তু কাজ তো ঐ একই। কিন্তু সত্যি বলতে কী, আমরা অনেকেই ভুলে যাই যে আমরা আদতে মানুষ। হ্যাঁ, এটাও ঠিক মানুষ পারে না এমন কিছুই নেই। কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে যে জীবন একটাই! গেইমের মতো একাধিক লাইফ আমরা পাবো না ,তাই সব কিছু নিয়ে নিজের উপর এক্সপেরিমেন্টটা না চালালেই কী নয়?

না, আমি এও বলছি না যে কিটো ডায়েট ভালো নয়, বরং অনেকের কাজে এসেছে। কিন্তু যদি সর্বসাকুল্যে চিন্তা করতে যান, তাহলে কিন্তু এই কিটো ডায়েট আদতে সাধারণ কোনো মানুষের জন্য উপযুক্ত নয়। বিভিন্ন ডাক্তাররা অন্তত এমনটাই বক্তব্য দিয়েছেন। এখন কেন এই কিটো ডায়েট সর্বসাকুল্যে প্রযোজ্য নয়, সে বিষয়ে একটু আলাপের প্রয়োজন আছে বইকি! তো চলুন বিভিন্ন ডাক্তার এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত জেনে নেওয়া যাক-

আচ্ছা পাঠক, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে এমন কাউকে দেখেছেন কখনও? এই মানুষগুলোর জন্য লবণ খাওয়া কিন্তু একদম নিষিদ্ধ! আবার ধরুন যিনি থাইরয়েড ডিজঅর্ডারে ভুগছেন, স্বাভাবিকভাবেই তার গ্লোটেনযুক্ত খাবার নিষিদ্ধ। একইভাবে গবেষণা করেই কিটো ডায়েটকে মূলত সাজানো হয়েছিল মৃগী রোগীদের থেরাপডিউডিক ডায়েট হিসেবে। প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টি উপাদানকে বাদ দিয়ে কেবল হাই ফ্যাট, হাই প্রোটিন এবং নামেমাত্র কিছু কার্বোহাইড্রেড দিয়ে সাজানো হয় এই কিটো ডায়েট। এই ডায়েট তৈরির নেপথ্যে ছিল মৃগী রোগীদের সুস্থতা। কিন্তু ঔষধ আবিষ্কারের আগে এই কিটো ডায়েটের সাইড ইফেক্ট প্রকট হয়ে ধরা দেয়। অতিরিক্ত ওজন হ্রাস, স্বাস্থ্য জটিলতা সহ ডায়েটটি গ্রহণযোগ্যতা হারাতে শুরু করে। আমাদের মস্তিষ্কের প্রধান খাদ্যই হচ্ছে শর্করা বা গ্লুকোজ যেটা আমাদের সারাদিনের অ্যানার্জি বহন করে। এখন আপনি চিন্তা করুন, এত প্রয়োজনীয় এই শর্করা বাদ দিয়ে অতিরিক্ত চর্বি যখন আপনি গ্রহণ করছেন শর্করার পরিবর্তে, তা আদতে কতটা কাজে দেবে? সাময়িকভাবে এটা হয়তো শরীরে থাকা অতিরিক্ত চর্বিকে পুড়িয়ে, ভেঙে ওজন কমিয়ে দেয় এবং শরীরে স্বাভাবিক মেটাবলিজমের বিরুদ্ধে হয়ত কাজও করে, তবে সেটা সাময়িক। কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে এই অবস্থা চলতে থাকলে কিছু সমস্যা হয়। অতিরিক্ত ফ্যাট বার্ন হওয়ার দরুন কিটন বডি অতিরিক্ত তৈরি হয় যা প্রাথমিকভাবে রক্তে কিটোসিস এবং পরবর্তী সময়ে কিটোএসিডোসিসে রুপান্তরিত হয়। আর এগুলো রক্তের সাধারণ পিএইচ লেভেলকে একদম ক্ষতিগ্রস্থ করে ফেলে।

পড়ুন: ৩০ দিনে ওজন কমানোর কার্যকরী উপায়

কিটো ডায়েটের শুরুর দিকে প্রথম ২/৩ সপ্তাহ কোনরকমে ঝুঁকির বাইরে ফেললেও দীর্ঘমেয়াদী কিটো ডায়েট শরীরের জন্য মোটেও সুখকর কিছু না। মাথা ঘোরানো, মাথাব্যথা, বুক ধরফর করা, বমি বমি ভাব, শরীর ব্যথা, কাজে অমনযোগিতা, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস, সারাদিন পিপাসা পাওয়া, খিটখিটে মেজাজ ইত্যাদি দেখা দেয়। আরও ভয়ংকর তথ্য দেই পাঠক? হুট করে না জেনে-বুঝে এই কিটো ডায়েট অনুসরণ করে অতিরিক্ত চর্বি গ্রহণ করার ফলে রক্তে কোলেস্টেরল, এলডিএল, টিজি বেড়ে গিয়ে স্ট্রোক এবং হৃদরোগ এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এখানেই শেষ নয়! অতিরিক্ত চর্বি গ্রহণের কারণে উপর্যুক্ত সমস্যা তো আছেই, বাড়তি হিসেবে যোগ দেয় ডায়রিয়া। আবার ডায়েটে ফাইবার কম থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যকে বোনাস হিসেবেও পেতে পারেন! ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত যারা, তাদের জন্য এই কিটো ডায়েট মোটেও আদর্শ নয়। লিভার দুর্বল তো করবেই, পিত্তথলিতে পাথর, প্যানাক্রিয়াস সহ হজম শক্তি পর্যন্ত কমিয়ে দেবে। এতো গেলো শরীরের ভেতরকার সমস্যা। বাইরের কথায় একটু আসি- ত্বকের উজ্জ্বলতা হারানোর পাশাপাশি চুল পড়ে যাওয়ার আধিক্য দেখা দেবে! হরমোনাল ইম্ব্যালেন্স যাদের আছে, গর্ভবতি, দুগ্ধদানকারি মা, আর্থ্রাইটিসে ভোগা মানুষদের জন্যও এই কিটো ডায়েট আদর্শ নয়। মেয়েদের জন্য বলছি- ডায়েট শুরুর পূর্বে জেনে-বুঝে আগাবেন। সামান্য এদিক ওদিকে ঋতুস্রাবের সমস্যার পাশাপাশি বাচ্চা ধারণেও কিন্তু সমস্যা হতে পারে।

কিডনি রোগীদের কথা একটু না বললেই নয়। এই রোগীদের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটিন খাওয়ার অনুমতি থাকে। কিটো ডায়েটে মাত্রার অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ফলে কিডনিতে চাপ পড়ে। দীর্ঘসময় এই চাপ নেওয়ার ক্ষমতা কিডনির থাকে না ফলে কিডনিতে পাথর হয়ে বিকল হয়ে যাওয়ার ঘটনা কিন্তু বিরল নয়।

পাঠক, একটু হলেও এবার হয়ত ধারণা পেয়েছেন যে কিটো ডায়েট আদতে সর্বসাকুল্যের জন্য নয়। এবং দীর্ঘমেয়াদের জন্যও আদর্শ নয়। আবার হুট করে ছেড়ে দিলে আগের চেয়ে বেশি হারে ওজন বেড়ে যাবে। মূলত এখনও পর্যন্ত কোন গবেষণায় কিটো ডায়েটের দীর্ঘমেয়াদী কিংবা সর্বসাকুল্যে গ্রহণযোগ্যতার বিষয় আবিষ্কৃত হয়নি। তাই একে পুর্ন নিরাপদ ভাবার আগে একটু ভাবতে হবে। ডাক্তার কিংবা পুষ্টিবিদ এর পরামর্শ ছাড়া ফেইসবুক, ইউটিউব এবং গুগলের উপর ভরসা করে নিজের শরীর নিয়ে এক্সপেরিমেন্টে না যাওয়ার অনুরোধ জানাবো। শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করুন। ভালো চিন্তা করুন এবং প্রফুল্ল থাকুন। বাজে চিন্তা এবং বাজে অভ্যাস থাকলে তা বাদ দিয়ে দিন। সুস্থতা হাতে এসে ধরা দেবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানবজীবনের ৭টি বদভ্যাস এর তালিকা করেছে যেগুলো মানব মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর –

  • সকালে কিছু না খাওয়া।
  • রাতে খুব দেরিতে ঘুমানো।
  • বেশি চিনি ও মিষ্টান্ন গ্রহণ।
  • দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা।
  • খাওয়ার সাথে টিভি দেখা, মোবাইল চালানো অথবা কম্পিউটার চালানো।
  • ঘুমানোর সময় মাথায় কিছু দিয়ে ঢেকে রাখা- টুপি বা স্কার্ফ জাতীয়।
  • প্রস্রাবের বেগ থাকা সত্ত্বেও আঁটকে রাখা।

সুস্থ জীবন যাপনের জন্য শরীরে কম বেশি সব ধরণের খাবারই কিন্তু দরকার হয়। শরীর যেহেতু আপনার, একে ভালো রাখার দায়িত্বটাও আপনার। আর তাই সিদ্ধান্তটাও আপনার।

Filed Under: Diet Tips, Weight Loss (ওয়েট লস)

২০টি লিভার সুস্থ রাখার খাবার । লিভার ভালো রাখার উপায়

by রূপকথন ডেস্ক Leave a Comment

লিভার আমাদের শরীরের দ্বিতীয় বৃহত্তম অঙ্গ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থিগুলোর মধ্যে একটি। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের লিভারের ওজন প্রায়  ১.৪ কেজি। লিভারের কাজ অবিরাম (non-stop) যা প্রোটিন সংশ্লেষণ, হজম, গ্লাইকোজেন স্টোরেজ, পিত্ত উৎপাদন, হরমোন স্রাব এবং লাল রক্তের কোয় বিভাজক এর প্রয়োজনীয় জৈব রাসায়নিক উৎপাদন করে থাকে।

লিভারের সবচেয়ে বড় শত্রু অ্যালকোহল। এছাড়া আমাদের জীবনধারায় আমরা প্রতিদিন নানা রকম অস্বাস্থ্যকর খাবার খাই (তেল-চর্বি এবং ট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার) এতে করে লিভার অতিরিক্ত কাজ করতে হয়।

অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন দেহের লিভারের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগ, দীর্ঘ সময় ক্লান্তি অনুভব করা, হজমের সমস্যা, এলার্জি, লিভার সিরোসিস, এসিডিস (ascites), হেপাটাইটিস বি বা সি , এবং এমনকি লিভার ফেইলিউর (liver failure) ইত্যাদি এই সমস্ত অসুখ দেখা দিতে পারে অসুস্থ লিভারের কারণে।

এমন কিছু খাবার আছে যা খেয়ে আমরা আমাদের ঐ রোগের উপসর্গগুলো কমাতে বা মুক্তি লাভ করতে পারি। নিচে লিভার সুস্থ রাখার জন্য ২০টি খাবারের তালিকা দেয়া হল।

আসুন প্রথমে আমরা যেনে নিই অসুস্থকর লিভারের উপসর্গগুলো কি কি যা আমাদের জানা খুবই প্রয়োজন।

  1. ওজন কমাতে অক্ষমতা (Inability to lose weight)
  2. ব্লোটিং (Bloating)
  3. লাল মূত্র (Dark urine)
  4. ক্ষুদা মন্দা (Poor appetite)
  5. আপোষহীনতা ( Compromised immunity)
  6. কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation)
  7. মাথা ব্যথা (Headache)
  8. বুক জ্বালা এবং অ্যাসিড রিফক্স (Heartburn and acid reflux)
  9. বিষণতা (Depression)
  10. দুচিন্তাগ্রস্থ হওয়া (Anxiety)
  11. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি (Chronic fatigue)
  12. অত্যাধিক ঘামা (Excessive sweating)
  13. উচ্চরক্তচাপ (Hypertension)
  14. রোসাসিয়া (Rosacea)
  15. বোরিং (Bruising)
  16. চোখ এবং চামড়া হলুদ হওয়া (Yellow skin and eyes)

যদি উপরের লক্ষণগুলো আপনার শরীরে দেখা দেয়, তাহলে  বুঝবেন আপনার লিভার সঠিকভাবে কাজ করছে না।

তাই ডাক্তারের পরামর্শে আপনাকে অবশ্যই নীচের খাবার নিয়মিত খেতে হবে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য ২০টি  সেরা খাবার

১. রসুন (Garlic)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

আপনার লিভার সুস্থ রাখতে ডিটক্সিফিকেশন (detoxification) এর গুরুত্ব অপরিসীম। এর জন্য যে খাদ্যটি আপনাকে সাহায্য করবে তা হল রসুন। রসুন অ্যালিসিন সমৃদ্ধ, এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এটি লিভারকে এনজাইম সক্রিয় করতে উৎসাহিত করে এবং ক্ষতিকারক পর্দাথ অপসারিত করে। এ ছাড়া শরীরের রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতাও বাড়ায় রসুন।

সাধারণত বেশি সময় নিয়ে রান্না করলে রসুনে থাকা অ্যালিসিন নষ্ট হয়ে যায়। তাই চেষ্টা করুন কাঁচা রসুন খেতে তবে দিনে দু’-তিন কোয়ার বেশি না খাওয়াই ভাল।

যদি রসুন কাঁচা থেকে না পারেন, তাহলে হামদর্দ এর রসুনের রসুনের ক্যাপসুল আকারে পাওয়া যাই সেটি খেতে পারেন।।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য  রসুন (Garlic) খাবার নিয়ম ঃ

  • এক টুকরো কাচাঁ রসুন প্রতিদিন সকালে খেতে হবে। যদি সম্ভব হয় তাহলে মধুর সাথে খেতে পারেন।
  • প্রতিদিন রান্না করে খাবারের মধ্যে ১/২ টেবিল চামচ রসুন বাটা দিন।

রসুনের কি কোনোই খারাপ দিক নেই? এ সম্পর্কে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামছুন্নাহার নাহিদ বলেন, ‘রসুন সবার জন্যই ভালো, তবে রসুন যেহেতু রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দিয়ে অ্যাসপিরিনের মতো কাজ করে, সেহেতু গর্ভকালে রসুন আলাদা করে না খাওয়াই ভালো। এ ছাড়া বড় কোনো অস্ত্রোপচারের পরেও কাঁচা রসুন খাওয়ায় খানিকটা বিধিনিষেধ আছে। এ ছাড়া সবাই রসুন খেতে পারবেন নিশ্চি‌ন্তে। (১)

২. ব্রকলি (Broccoli)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

ব্রকলি আইসোথিয়োকানেটস (isothiocyanates) এর চমৎকার উৎস। এতে প্রচুর পরিমাণে সালফার রয়েছে। ব্রকলি আমাদের শরীরের কোষের জিনের নিয়ন্ত্রয়ন করতে সাহায্য করে।

ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীগণ কর্তৃক পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নিশ্চিত করেছেন যে, ব্রকলি খাওয়ার ফলে অকার্যকর ফ্যাটি লিভার বিকিরণের ঝুঁকি কমায় এবং লিভার ক্যান্সার থেকে লিভারকে রক্ষা করতে সাহায্য করেছে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য ব্রকলি (Broccoli)  খাবার নিয়ম ঃ 

  • ১ কাপ, প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার।

৩. জিনসেং (Ginseng)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

জিনসেং (Ginseng) একটি ঔষধি গাছ যেখান থেকে প্যানাক্স জিনসেং (Panax Ginseng) শিকড় পাওয়া যায়। এটি জিনসেনোসাইড নামে পরিচিত, এতে প্রচুর পরিমাণে ঔষধের গুণাবলী বিদ্যমান। জিনসেং (Ginseng)  ৪০টি গুণানুণ রয়েছে, যা লিভারের আঘাত, লিভারের বিষাক্ততা, সিরোসিস এবং ফ্যাট লিভারের বিরুদ্ধে রক্ষা পাওয়ার গুণাগুণ রয়েছে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য জিনসেং (Ginseng)  খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন ২ কাপ জিন্সেং চা।

৪. বীটরুট (Beetroot)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

বীটরুট (Beetroot) এ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বেটেলের নামে পরিচিত। ফার্মাসিউটিকাল জৈব রসায়ন বিভাগের, মেডিকেল বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, পোল্যান্ডে নিশ্চিত করেছেন যে, বীটরুট রস দীর্ঘমেয়াদী খাওয়ানোর ফলে ডিএনএ (DNA) ক্ষতি এবং ক্যান্সার রোগ দ্বারা সৃষ্ট লিভারের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য বীটরুট (Beetroot) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন ১ গ্লাস বীটরুট এর জুস।
  • এক কাপ বীটরুট ২-৩ বার সাপ্তাহে।

৫. গাজর (Carrot)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

গাজর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং ডায়েটি ফাইবারে (dietary fiber) সমৃদ্ধ। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন বিজ্ঞানীরা, হায়দ্রাবাদ, জামিয়া উসমানিয়া, ভারত, আট সপ্তাহের জন্য গাজর রস দিয়ে চর্বি বানিয়ে একটি গবেষণা করেন।

তারা দেখেছেন যে, গাজর রস উল্লেখযোগ্যভাবে ডিএইচএ (DHA), ট্রাইগ্লিসারাইড (triglyceride), এবং এমইউএফএ (MUFA) (Mono Unsaturated Fatty Acids) এর মাত্রা কমে যায়। অতএব, গাজর আপনার শরীরকে nonalcoholic fatty live এবং liver toxicity রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য গাজর (Carrot)) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতি ২ দিনে ১ গ্লাস গাজরের জুস।
  • ১ কাপ রান্না করা গাজার প্রতি ২-৩ দিনে।

৬. সবুজ শাকসবজি (Leafy Greens)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

সবুজ শাক-সবজি অক্সিডেটিভ ক্ষতি এবং অন্যান্য রোগ থেকে আপনার লিভার কে রক্ষা করতে পারে। সবুজ শাক-বসজি, পালং শাক, লেটুস, মুলা শাক, সরিষা  শাক, মিষ্টি আলুর শাক, রকেট মরিচ ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি এবং কে, ক্যালসিয়াম, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমূহ। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন এবং এন্টি-ইনফ্লোমেটরি।

অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, সবুজ শাক সবজি লিভার কে ফ্যাট লিভার এবং সিভি (CV) থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য শাক সবজি (Leafy Greens) খাবার নিয়ম ঃ 

প্রতি দিন ১-২ কাপ সবুজ শাক-সবজি খেতে হবে।

৭. গ্রীন টি (Green Tea)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

এটি সকলেই জানে যে, গ্রীন টি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। গ্রীন টির ক্যাটচীন স্বাস্থ্যকর হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে পলিফেনল।

চীনা বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে,  গ্রীন টি পানকারীদের উল্লেখযোগ্যভাবে লিভার ক্যান্সার, লিভারের রোগ, লিভার স্ট্যাটোস, লিভার সিরোসিস এবং হেপাটাইটিস হ্রাস পায়। (source)

তাছাড়া, ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের গবেষকরা, ইরান, conducted a double-blind, placebo- controlled, randomized ক্লিনিকাল ট্রায়াল করেন নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি (Non-alcoholic fatty) লিভার রোগীদের উপর। তারা তাদের কে ১২ সাপ্তাহের জন্য গ্রীন টি এক্সট্র্যাক্ট (green tea extract) বা গ্রীন টি এক্সট্র্যাক্ট সাপ্লিমেন্ট (green tea extract supplement) খাওয়ান। ১২ সাপ্তাহের পর দেখা গেল যে, গ্রীন টি এক্সট্র্যাক্ট উল্লেখযোগ্যভাবে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রোগের সাথে যুক্ত লিভার এনজাইম হ্রাস করে। (source)

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য গ্রীন টি (Green Tea) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন ২-৩ কাপ গ্রীন টি।

৮. হলুদ (Turmeric)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

হলুদ একটি শিকড় যা রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। হলুদে যে জৈব সারকোজী যোগ হয় তা ঔষধি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লমেটরি (anti-inflammatory), অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (antioxidant), অ্যান্টিফানগাল (antifungal), অ্যান্টিভাইরাল (antiviral) এবং অ্যান্টিভেগটেলিএল (antibacterial) এর বৈশিষ্ট। কুরকুমিন লিভার রোগ এবং প্রদাহজনিত রোগ দ্বারা প্রদাহ, আক্সিড্যাটিভ (oxidative) চাপ কমানো, লিপিড মেটাবোলিজম উন্নত করে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

তেল-আভিভ সৌরক্কি (Tel-Aviv Sourasky) মেডিকেল সেন্টার, ইসরাইলের বিজ্ঞানীরা লিভার সিরোসিস (liver cirrhosis) এর উপর একটি পরীক্ষা পরিচালিত করেছেন। তারা ১২ সাপ্তাহ ধরে হলুদ নিয়ে গবেষণায় সম্পূরক ছিলেন এবং ১২ সাপ্তাহ শেষে  বিজ্ঞানীরা পেয়েছে, হলুদ অ্যান্টি-ইনফ্লমেটরি হ্রাস করে চর্বিযুক্ত লিভার সিরোসিসের উন্নতি করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য হলুদ (Turmeric) খাবার নিয়ম ঃ 

  • ১-৩ গ্রাম হলুদের গুঁড়া/পেস্ট প্রতি দিন।
  • প্রতিদিন ১.৫-৩ গ্রাম হলুদের রস।
  • ৪০০-৬০০ মিলিগ্রাম হলুদ সম্পৃক্ত খাবার, প্রতিদিন ২-৩ বার।
  • হলুদের রস ১৫-৩০ ড্রপ, প্রতিদিন ৩-৪ বার।

৯. আভাকাডো (Avocado)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

বাট্টার (buttery) এবং নাটি (nutty) ফল স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী এবং লিভারকে ভাল রাখার অন্যতম উপাদান। আভাকাডো সুস্থ ফ্যাট সমৃদ্ধ এবং যা anti-inflammatory বিরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য । নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার থেকে খারাপ জীবন যাপন সৃষ্টি হয়। এভোকাডো anti-inflammatory এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরোধ করার জন্য অত্যন্ত উপকারী।

জাপানী বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে পেয়েছেন, আভাকাডো লিভার ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য আভাকাডো (Avocado) খাবার নিয়ম ঃ 

  • ২-৫ টুকরা, প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার।

১০. লেবু (Lemon)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

লেবু vitamin C এর প্রধান উৎস, যা একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (antioxidant ). গবেষকরা পেয়েছেন, সাইট্রিক অ্যাসিড লিভারের অক্সিডেটিভ ক্ষতির (oxidative damage) হাত থেকে লিভারকে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য লেবু (Lemon) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন ½- ১টি করে লেবু।

১১. আপেল (Apple)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

বিজ্ঞানীরা লিভার ও সিরাম লিপিড স্তরের উপর ডিহাইড্রেড আপেলের প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা করেছেন। তিন মাস পরে গবেষণায় পাওয়া গেছে, আপেল সফলভাবে সিরাম এবং লিভার লিপিড মাত্রা হ্রাস করে।

চিনা গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, আপেল পলিফেনল প্রদাহজনক সিগন্যাল পন্থাকে নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতএব লিভারের বিভিন্ন রোগ যেমন হেপাটিক স্ট্যাটটোসিস (hepatic steatosis) রোগ থেকে রক্ষা করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য আপেল (Apple) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন ১টি করে আপেল।

১২. অলিভ ওয়েল (Olive Oil)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

সাধারণত আমাদের প্রতিদিনের খাবারের অস্বাস্থ্যকর তেল হতে লিভারের রোগ হয়। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, যারা অলিভ ওয়েল (Olive oil) খায় তাদের লিভারের রোগ কম হয়।

অলিভ ওয়েল (Olive oil) খাওয়ার ফলে খারাপ কলেস্টেরল এবং সিরাম ট্রাইগ্লিসারাইড মাত্রা কমায় এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা এবং লিপিড অক্সিডেশন বৃদ্ধি করে।

অতএব, আপনার লিভার স্বাস্থ্যকর রাখতে আপনার রান্না করার সময় অলিভ ওয়েল (Olive Oil) ব্যবহার করুন।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য অলিভ ওয়েল (Olive Oil) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন ৫-১০ টেবিল চামচ।

১৩.  অ্যাসপারাগাস (Asparagus)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

অ্যাসপারাগাস ভিটামিন এ (A), সি (C), ই (E), কে (K), ফোল্ট, কলিন, এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম খনিজ পর্দাথের প্রধান উৎস।

জেজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কোরিয়া থেকে বিজ্ঞানীরা young shoots নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে পেয়েছেন, এবং অ্যাসপারাগাসের পাতা হেপাটোমার সেল বৃদ্ধি দমন করতে সাহায্য এবং প্রতিক্রিয়াশীল অক্সিজেন (ROS) এবং অন্যান্য কোষের বিষাক্ত পদার্থ যেমন হাইড্রোজেন পারক্সাইড, ইথানল ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য  অ্যাসপারাগাস (Asparagus) খাবার নিয়ম ঃ 

  • আপনার শরীরের জন্য প্রতি দিনে 16-32 মিলিগ্রাম।

১৪. ওয়ালনাট (Walnut)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

ওয়ালনাট এ সুস্থ ফ্যাট সমৃদ্ধ, যা anti-inflammatory এর বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমেরিকান বিজ্ঞানীরা গবেষণায় পেয়েছেন যে, যখন উচ্চ চর্বিযুক্ত খাদ্য লিভারে প্রবাহিত হয়, তখন ওয়ালনাট হিপ্যাটিক ট্রাইগ্লিসারাইড হ্রাস করে।

লিভার হোমোস্টাসিসের সাথে জড়িত এনজাইমগুলির মাত্রা কমিয়ে আনে এবং হেপাটিক প্রদাহ জড়িত জিন (genes) দমন করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য ওয়ালনাট (Walnut) খাবার নিয়ম ঃ 

  • ৭ টি ওয়ালনাট প্রতিদিন।

১৫. রেড ক্যাবেজ (Red Cabbage)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

রেড ক্যাবেজ অ্যান্টিঅক্সিজেন্ট (antioxidants) এবং anthocyanin এ পরিপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা, চর্বিযুক্ত একটি উচ্চ কোলেস্টেরল খাদ্য এবং তারপর ২৫০-৫০০ মিগ্রা রেড ক্যাবেজ খেতে বলেন। তারা গবেষণায় পেয়েছেন, রেড ক্যাবেজ কোলেস্টর সমৃদ্ধ খাদ্য দ্বারা উৎপন্ন রোগকে দমনে সাহায্য করে এবং জীবাণুর বিরুদ্ধে লিভারকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য রেড ক্যাবেজ (Red Cabbage) খাবার নিয়ম ঃ 

প্রতিদিন এক কাপ করে রেড ক্যাবেজ, ২-৩ বার প্রতি সাপ্তাহে।

১৬. জাম্বুরা (Grapefruit)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

জাম্বুরায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এ পরিপূর্ণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। জাপানি বিজ্ঞানী একটি পরীক্ষা চালায়, যেখানে তারা চর্বিযুক্ত রস, অরবালকো রস এবং চিনি মিশ্রণের পরীক্ষা করেন। জাম্বুরা জুস খাওয়ার ফলে লিভারের এনজাইমগুলো খুব দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠে যা হ্যাপ্যাটিক অক্সিজেন থেকে রক্ষা করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের  জন্য জাম্বুরা (Grapefruit) খাবার নিয়ম ঃ 

  • ½ -১ গ্লাস জাম্বুরা রস (তাজা রস এবং চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টি ছাড়া) প্রতিদিন।

১৭. আস্ত শস্যদানা (Whole Grains)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

পুরো শস্য, যেমন রাই, বার্লি, বাদামি চাল, কুইনো ইত্যাদি যা চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এগুলো সকল ধরনের লিভারের রোগ থেকে লিভারকে মুক্ত রাখে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের  জন্য  শস্য (Whole Grains) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন আস্ত শস্যদানা ২-৩ টি

১৮. টমেটো (Tomatoes)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

টমেটোর রস/জুস আপনার লিভারের জন্য খুবই উপকারী। টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা লিভারের বিভিন্ন রোগ এবং লিভারকে বিভিন্ন আঘাতে থেকে রক্ষা করে এবং লিভারকে  ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা করতে সাহায্য করে।

গবেষকরা কার্সিনোজেন সাথে চর্বি এবং তারা ৬ সপ্তাহের জন্য টমেটো নিয়ে পরীক্ষা করেন। তারা গবেষণা করে পেয়েছেন, টমেটো কলেস্টোরলের মাত্রা নির্ণয় করে ফলে লিভারের ক্ষতি হ্রাস করে। তাই লিভারের ঝুঁকি কমাতে টমেটো খাওয়া উচিত।

স্বাস্থ্যকর লিভারের  জন্য  টমেটো (Tomatoes) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন এক গ্লাস টমেটো জুস।
  • প্রতিদিন ২-৩ টি টমেটো।

১৯. ড্যানডেলিওন (Dandelion)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

ড্যানডেলিওন হল একটি ওষুধি ফুল এতে রয়েছে অ্যান্টিএইয়াম্যাটিক (antirheumatic) এবং diuretic বৈশিষ্ট। বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন যখন ড্যানডেলিওন উচ্চ কোলেস্টরের খাদ্য খরগোশ কে খাওয়ানো হয়, তখন প্লাজমা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টটি সক্রিয় হয় এবং লিপিড এর মাত্রা হ্রাস পায়। তাই, লিভারের সমস্যা দূর করার জন্য ড্যানডেলিওন ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের  জন্য  ড্যানডেলিওন (Dandelion) খাবার নিয়ম ঃ 

  • ডোজ নির্ধারণের জন্য ডাক্তারের পরমর্শ নিন।

২০. ব্রাসেলস স্প্রাউট (Brussels Sprouts)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

ব্রাসেলস স্প্রাটস ভিটামিন এ, কে, সি, ফ্লেট এবং ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়ামে পরিপূর্ণ। গবেষকরা গবেষণা করে পেয়েছেন, ব্রাসেলস স্প্রাউট অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের  জন্য  ব্রাসেলস স্প্রাউট (Brussels Sprouts) খাবার নিয়ম ঃ 

  • ½-১ কাপ, প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার।

এই ২০টি খাবার আপনার লিভারকে সুস্থ রাখবে এবং যে কোন লিভারের রোগ থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে এছাড়াও লিভারের detoxification সাহায্য করে। আপনি আপনার প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে চাইলে আপনার দৈনন্দিন খাদ্যের তালিকায় এই খাবারগুলো অন্তর্ভুক্ত করুন।

আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। আর আমাদের সাথে থাকুন!

সতর্কতা: এই ২০টি খাবারে র যেকোনো একটি বা অনেক গুলো হয়তো আপনার শরীরে সংবেদনশীল থাকতে পারে বা আপনার অন্য কোনো রোগের জন্য বিধিনিষেদ থাকতে পারে তাই খাবার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে খাবেন।

Filed Under: Healthy Food

ভিটামিন সি এর ২৫ টি অসাধারণ গুণ যা আমাদের চুল, স্বাস্থ্য ও ত্বকের জন্য খুব উপকারি

by Mohona

ভিটামিন সি – হ্যা, আপনার খুব ভালো করেই জানেন এর কথা। এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা এই ভিটামিন সম্পর্কে জানে না। এবং এই ভিটামিন এত বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় যে এর ঘাটতি হওয়ার তেমন কোনো সম্ভবনাই নেই। কারণ, প্রায় বেশির ভাগ ফলেই রয়েছে ভিটামিন সি। বিশেষ করে টক জাতীয় ফলে এই ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। আর টক ফল খেতে কে না ভালোবাসে।

কিন্তু আমারা অনেকেই জানি না যে এই ভিটামিন আমাদের কতটা উপকার করতে পারে এবং কি কি দিতে পারে! সেজন্যই আজকে আমাদের এই পোস্ট।

আজ আমরা জানবোঃ

  • ভিটামিন সি কি এবং কি কাজ করে?
  • ভিটামিন সি এর ঘাটতি কি এবং এর লক্ষণগুলো কি কি?
  • ভিটামিন সি এর স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো কি কি?
  • ত্বকের জন্য ভিটামিন সি এর উপকারিতা কি?
  • ভিটামিন সি চুলের কি কি উপকার করে?
  • কোন কোন ফলে বা খাবার থেকে কি পরিমাণ ভিটামিন সি পাবেন?
  • ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্টস কি?
  • কিভাবে ভিটামিন সি খাবেন?
  • প্রতিদিন কতটুকু পরিমাণ ভিটামিন সি খাবেন?
  • ভিটামিন সি খাবার সময় কি কোন সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত?
  • কোনো ঔষধের সাথে কিভিটামিন সি এর সম্ভাব্য পাশ্য প্রক্রিয়া আছে?

ভিটামিন সি কি এবং কি কি কাজ করে?

ভিটামিন সি এল-অ্যাসকরবিক অ্যাসিড হিসেবেও পরিচিত, ভিটামিন সি একটি জল-দ্রবণীয় ভিটামিন যা কিছু খাবারে প্রাকৃতিকভাবেই মিশ্রিত থাকে এবং কিছু খাবারে যোগ করা হয়। এবং অন্যান্য প্রাণীর মত, মানুষ এই ভিটামিন পরিহার করতে পারে না – আর তাই এটি একটি অপরিহার্য খাদ্য উপাদান।

ভিটামিন সি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহের অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করে। এটি দেহে নন-হিম আয়রন শোসন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সংযোজক টিস্যু তৈরিতে ও ক্ষত নিরাময়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও ভিটামিন সি ত্বক ও দেহে ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখে।

দিনে ৩০ থেকে ৪০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি গ্রহণ করুন, এতে ভিটামিনের ৭০ থেকে ৯০% শোষিত হয়। যদি ভিটামিন গ্রহণের পরিমাণ দিনে ১ গ্রাম ছাড়িয়ে যায়, তাহলে ৫০% এর নিচে নেমে আসে। আর আপনি যদি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন তাহলে দৈনিক 500 মিলিগ্রাম গ্রহণ করা সর্বোত্তম।

ভিটামিন সি এর বিভিন্ন রূপ রয়েছে –

  1. অ্যাসকরবিক অ্যাসিড – ভিটামিন সি এর বিশুদ্ধতম রূপ।
  2. সোডিয়াম অ্যাসকরবেট – এই ভিটামিনের ১০০০ মিলিগ্রামে ১১১ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে।
  3. ক্যালসিয়াম অ্যাসকরবেট – এই ভিটামিনের ১০০০ মিলিগ্রামে ৯০ থেকে ১১০ গ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।
  4. ম্যাগনেসিয়াম অ্যাসকরবেট – দৈনিক ৩৫০ মিলিগ্রামের বেশি ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করা যাবে না।
  5. পটাশিয়াম অ্যাসকরবেট – দৈনিক ১১ গ্রামের বেশি পটাশিয়াম গ্রহণ করা যাবে না।
  6. ম্যাংগানিজ অ্যাসকরবেট – দৈনিক ১১ মিলিগ্রামের বেশি ম্যাংগানিজ গ্রহণ করা যাবে না।
  7. জিংক অ্যাসকরবেট – দৈনিক ৪০ মিলিগ্রামের বেশি জিংক গ্রহণ যাবে না।
  8. মলিবডেনাম অ্যাসকরবেট – প্রতিদিন ২ গ্রামের বেশি মলিবডেনাম গ্রহণ করা যাবে না।
  9. ক্রোমিয়াম অ্যাসকরবেট – ক্রোমিয়াম প্রতিদিন সর্বাধিক কতটুকু পরিমাণে গ্রহণ করা যাবে তা এখনো জানা যায়নি। কিন্তু আর.ডি.এ. অনুসারে বয়স্ক এবং কিশোরদের ৫০ ও ২০০ মাইক্রোগ্রামের মধ্যে গ্রহণ করা উচিত।

সোডিয়াম অ্যাসকরব্যাট এবং ক্যালসিয়াম অ্যাসকরব্যাট ব্যতীত, ভিটামিন সি এর অন্য সকল রূপগুলি অন্যান্য খনিজ অ্যাসকরবেট অথবা অন্য খনিজের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় পাওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

এখন আমরা কথা বলব ভিটামিন সি এর ঘাটতি সম্পর্কে –

ভিটামিন সি এর ঘাটতি কি এবং এর লক্ষণগুলো কি কি?

যেমনটি সুস্পষ্ট ভাবে বলা যায় যে, ভিটামিন সি এর অভাব তখনি ঘটে, যখন ভিটামিন সি দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করা হয় না। আর দেহে ভিটামিন সি এর অপর্যাপ্ততার লক্ষণগুলো হলোঃ

  • মাড়ি ফোলা বা রক্তপাত হওয়া
  • মাড়িতে ব্যাথা অনুভব হওয়া (জিংজিভাইটিসও বলা হয়)
  • যেকোন ক্ষত নিরাময়ে সময় লাগা
  • শুষ্ক ও আগা ফাটা চুল
  • রুক্ষ এবং শুষ্ক ত্বক
  • নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ
  • দূর্বল ইমিউনিটি
  • হাড়ের সংযোগ স্থানে ফুলে যাওয়া এবং ব্যাথা করা।
  • ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা

পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি এর গ্রহণ করা কেবলমাত্র এই লক্ষণগুলি প্রতিরোধ করে না, পাশাপাশি অন্যান্য আরো অনেক সুবিধাও প্রদান করে – যা আমরা এখন দেখতে পাবো – ভিটামিন সি এর অনেকগুলো কার্যকারিতা।

ভিটামিন সি এর স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো কি কি?

১. হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত করে

আমেরিকার এক গবেষণা অনুসারে, ভিটামিন সি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা পালন করে। একাধিক অধ্যয়নগুলি প্রমাণ করেছে যে, রক্তে উচ্চ হারে ভিটামিন সি হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাসের সাথে সংযুক্ত।

আরো গবেষণায় বলা হয়েছে যে ভিটামিন সি আপনার হার্টের জন্য ব্যায়ামের মতই অনেক ভালো। ভিটামিন সি এর নিয়মিত ডোজ এন্ডোথিলিন-১ নামক প্রোটিনের ক্রিয়াকলাপে বাঁধা দিতে পারে, যেই প্রোটিন ছোট রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে ফেলে – এবং এটি শেষ পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়। এই ভিটামিন আপনার রক্তচাপকে কমাতে পারে এবং আপনার ধমনীগুলোকে ফ্লেকজিবল রাখে।

স্ট্রেস এর কারণে ধমণীর বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যাও ভিটামিন সি সমাধান করে এমনটি খুঁজে পাওয়া গেছে – এটি রক্তের প্রবাহ বাড়ায় এবং, যার ফলে রক্তে অক্সিজেন বহন করার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল এবং শাকসবজি হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ নিরামিষ খাবার রক্তের কোলেস্টেরলকে ১% কমাতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ২% কমিয়ে দেয়।

ভিটামিন সি এর সাপ্লিমেন্টও সিরামের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এমনটি জানা গেছে, এবং এটি করোনারি হার্ট ডিজিজ এড়াতে সহায়তা করতে পারে।

২. রক্তচাপের স্তর নিয়ন্ত্রণ করে

জনস হপকিন্স মেডিসিনের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ভিটামিন সি এর অনেক বেশি ডোজ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি মূত্রবর্ধক হিসাবে কাজ করে এবং এর ফলে কিডনিগুলো শরীর থেকে আরো বেশি সোডিয়াম ও পানি বের করে দেয় – এটি রক্তনালীর দেয়ালগুলোকে চাপমুক্ত করে দেয়।

৩. ইমিউনিটি বাড়ায়

ভিটামিন সি এর অভাব হলে দেহে নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। একটি গবেষণা অনুসারে, ভিটামিন সি জীবের শক্তি ও সুরক্ষা বাড়িয়ে দিয়ে ইমিউনিটি সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে।

ইমিউনিটি সিস্টেম রক্ষা করার পাশাপাশি, ভিটামিন সি বিভিন্ন এ্লার্জির তীব্রতা হ্রাস করে এবং ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করে। আরো জানা গেছে ক্ষততে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ভিটামিন সি এর উচ্চ মাত্রার ডোজ নিয়ে দ্রুত ক্ষত সারাতে পারে।

এবং সাধারণ সর্দি-কাশির বেলায় যদিও আরো গবেষণা করা প্রয়োজন, তারপরেও জানা গেছে ভিটামিন সি ঠান্ডার সময়কাল কমাতে সাহায্য করে। আমরা এখনো জানি না যে এই ভিটামিন সর্দি-কাশি প্রতিরোধ করতে পারে কিনা – কিন্তু এটি নিশ্চিতভাবে সর্দি-কাশির সময়কাল কমায়। ভিটামিন সি এজমা রোগের সম্ভাবনামূলক চিকিৎসা হতে পারে। তবে এই বিষয়ে আরও গবেষণা করা দরকার।

৪. ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে

অসংখ্য ল্যাবরেটরির গবেষণায় দেখা গেছে যে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি মূত্রথলী, যকৃৎ, মলাশয় এবং অন্যান্য নানা ধরণের ক্যান্সারের কোষগুলির বৃদ্ধি হতে দেয় না। উচ্চ মাত্রার ভিটামিন সি ক্যান্সারের চিকিৎসা করতেও সহায়তা করে।

অস্ত্রোপচারের উপযোগী নয় এমন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর দেহের শিরা দিয়ে প্রবেশ করানো যায় এমন ধরণের ভিটামিন সি দেওয়ার ফলে কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই টিউমারের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা যায়। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ভিটামিন সি আক্রমণাত্মক কোলোরেক্টাল ক্যান্সারকে দমিয়ে রাখে।

৫. হাড়ের বাতের চিকিতসায় সহায়তা করে

আর্থ্রাইটিস ফাউন্ডেশনের মতে ভিটামিন সি কিছু ধরণের বাত প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু এর বেশি প্রয়োগ অনেক সময় আরো খারাপ রূপ নিতে পারে – আর তাই ভিটামিন সি প্রয়োগে ভারসাম্য রাখতে হবে। ভিটামিন সি এর সঠিক ডোজ প্রদাহ হয় এমন বাত প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং হাড়ের বাত সারিয়ে হাড়ের জয়েন্টগুলো স্বাস্থ্যকর রাখে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে যাদের দেহে ভিটামিন সি এর মাত্রা অনেক কম তাদের প্রদাহজনিত বাত হওয়ার সম্ভাবনা তিনগুণ বেশি। তবে যেমনটি আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি, ডোজ সঠিক হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেহে ভিটামিন সি এর ডোজ বেশি হলে বাতের ব্যাথা আরো ভয়াবহ হতে পারে।

৬. চোখের স্বাস্থ্য উন্নত করে

বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ আরো বলেছে যে ভিটামিন সি গ্রহণের ফলে চোখের ছানি পরার ঝুঁকি কমে যায়। এই ভিটামিন অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির সঙ্গে গ্রহণ করলে বয়স সম্পর্কিত ম্যাকুলার অবক্ষয় ও দৃষ্টিশক্তির কমে যাওয়া রোধ করতে পারে। এমনকি যারা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন সি গ্রহণ করে তাদের চোখে ছানি পরার ঝুঁকি ২০% কম। ভিটামিন সি আপনার রেটিনার কোষগুলোর সঠিক কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। এই ভিটামিন আপনার চোখের রক্তনালী গুলির স্বাস্থ্য ঠিক রাখে।

ভিটামিন সি চোখের ভিটামিন ই পুনরায় ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে, যা চোখের স্বাস্থ্য আরো উন্নত করে। নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণের ফলে ইউভাইটিসের (চোখের মাঝের স্তরে প্রদাহ, যাকে ইউভিয়াও বলা হয়) চিকিৎসায় সহায়তা করতে পারে।

৭. স্বাস্থ্যকর মাড়ি বজায় রাখে

ভিটামিন সি এর ঘাটতির ফলে পিরিয়ডোন্টাল রোগ হতে পারে, যা জিঞ্জিভাইটিসের মারাত্মক রূপ (মাড়ির রোগ)। এর কারণ হলো ভিটামিন সি এর অভাব সংযোজক টিস্যুগুলো দূর্বল করে দিতে পারে এবং কৈশিক নাড়ীগুলো সহজে ভেঙ্গে ফেলতে পারে। আসলে, ভিটামিন সি এর অভাবের প্রাথমিক লক্ষণ হলো মাড়ির রক্তপাত। এবং এই এবং ভিটামিন দাঁত এবং মাড়ির স্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরি।

৮. এলার্জির চিকিৎসা করতে সহায়তা করে

এটি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে যখন আপনার শরীর হিস্টামিন নিঃসরণ করে, এটি একটি বায়োকেমিক্যাল। ভিটামিন সি হিস্টামিনের নিঃসরণ কমিয়ে ফেলে, এতে এলার্জি প্রতিরোধ হয়।

আরেকটি জাপানি গবেষণা অনুসারে, অটোইমিউন রোগ এবং এই সম্পর্কিত এলার্জিগুলি ভিটামিন সি দ্বারাও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। খড় জ্বর (এলার্জি রাইনাইটিস নামেও পরিচিত) নিরাময়ে ভিটামিন সি ও সহায়তা করতে পারে।

৯. শুকনো মুখ থেকে মুক্তি দেয়

কিছু উৎস বলে যে, ভিটামিন সি শুষ্কতা প্রতিরোধ এবং শুষ্কতা দূরও করতে পারে। যদিও, এই বিষয়ে সীমিত প্রমাণ রয়েছে।

১০. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে

প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি ভিটামিন সি (১০০০ মিগ্রা) গ্রহণ করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে ভালো ফল পাওয়া যায়। ভিটামিন সি আপনার রক্তনালীগুলির ডায়াবেটিসজনিত ক্ষতিও রোধ করতে পারে।

জাপানের আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে ভিটামিন সি গ্রহণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কারণ, এই ভিটামিন দেহে ইনসুলিন প্রক্রিয়া জাগিয়ে তুলতে পারে, যার ফলে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় সুবিধা হয়। ভিটামিন সি কে টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতেও দেখা গেছে।

১১. ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা করে

এলার্জির চিকিৎসায় উচ্চ মাত্রার ভিটামিন সি খুবই কার্যকরী। অতীতে এই ভিটামিন সি হাম, চুলকানী, মাম এবং ভাইরাসঘটিত নিউমোনিয়ার চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হত। এখানে অ্যান্টিবায়োটিক হিসাবে ভিটামিন সি এর কার্যকারিতা দেখা যায়। এছাড়াও, যেহেতু ভিটামিন সি একটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, তাই এটি ক্ষতিকারক ফ্রি র‍্যাডিকালগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসায় সহায়তা করে।

মনোনিউক্লিওসিসের চিকিৎসা (অস্বাভাবিক অনুপাতে সাদা রক্তকণিকা, যা গ্রন্থিময় জ্বর সৃষ্টি করে) করতে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন সি এর ডোজ কার্যকরী বলে পাওয়া গিয়েছে। এটি ফ্রি র‍্যাডিকালগুলোর বিরুদ্ধেও লড়াই করে (যা ইতিমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে) যা মনোনিউক্লিওসিসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

১২. স্কারভি প্রতিরোধ করে

যদিও এই রোগটি এখন বিশ্বে বিরল, স্কার্ভি এমন লোকগুলোকে আক্রমণ করে যারা পরিমিত পরিমাণে ভিটামিন সি গ্রহণ করে না। এবং এই ভিটামিন উচ্চ মাত্রায় খাওয়ার পরেও এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিরল।

ভিটামিন সি ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়ে আসছে। দীর্ঘ যাত্রায় ভ্রমণরত নাবিকরা তাদের ভোজন সামগ্রীতে লেবুর রস রাখত শুধুমাত্র স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করার জন্য। দৈনিক ১০ গ্রাম ভিটামিন সি দিয়ে স্কার্ভি প্রতিরোধ করা যায়।

১৩. স্ট্রোকে বাঁধা দেয়

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে পারে, বিশেষ করে হেমোরাজিক স্ট্রোক। ভিটামিন সি রক্তচাপ হ্রাস করে স্ট্রোকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। দেহে ভিটামিন সি এর স্বল্পমাত্রার কারণে স্বাভাবিক মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ভিটামিন সি আয়রনের সাথে যুক্ত হয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে। এছাড়াও, একটি সমীক্ষা অনুসারে, রক্তে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি থাকা লোকেরা তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি ৪২% হ্রাস করতে পারে।

১৪. আপনার মন–মেজাজ ঠিক করে

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের উপর একটি গবেষণা করে প্রমাণিত হয়েছে যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি গ্রহণ করা মেজাজকে উন্নত করতে পারে। ভিটামিন সি এর মন মেজাজ উন্নত করার ক্ষমতা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ কমাতে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট ভালো কাজ করে।

১৫. ওজন কমাতে সাহায্য করে

পরিমিত পরিমাণে ভিটামিন সি এর গ্রহণ ব্যায়ামের সময় শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। সুতরাং, ভিটামিন সি এর অভাব ওজন ও মেদ হ্রাসে বাঁধা দিতে পারে। ভিটামিন সি বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধি করে, ফলে ওজন হ্রাসে সহায়তা করতে পারে।

১৬. শক্তি বাড়ায়

ভিটামিন সি আপনাকে ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে এবং ক্লান্তি দূর করে। সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ভিটামিন সি গ্রহণ স্কুল ফুটবলারদের প্রশিক্ষণও প্রায় ১০% সহজ করে দিয়েছে এবং ৫৫% ক্লান্তি হ্রাস করেছে।

আরেকটি কোরিয়ান গবেষনায় জানা যায়, ভিটামিন স্বাস্থ্যকর কর্মীদের মধ্যে কাজ সম্পর্কিত ক্লান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে।

ত্বকের জন্য ভিটামিন সি এর উপকারিতা কি?

ভিটামিন সি এর উপকারিতা আমাদের ত্বকের জন্যও কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, ভিটামিন সি খাওয়ার পাশাপাশি আপনি এটি ত্বকেও ব্যবহার করতে পারেন (সিরামের মত) এবং উপকারিতা নিতে পারেন। সিরাম কোলাজেনকে উদ্দীপিত করে এবং ত্বককে অন্যান্য ক্ষতিকর কারণ যেমন দূষণের হাত থেকে রক্ষা করে।

১৭. জ্বালা–পোড়া ও ক্ষত নিরাময় করে

ভিটামিন সি ক্ষত নিরাময়ে ভালো কাজ করে এবং গুরুতর পোড়া রোগীদের ভেন্টিলেশনের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করতে পারে। ভিটামিন সি তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পোড়া ক্ষতগুলি নিরাময়ে সহায়তা করে।

উচ্চ মাত্রার ভিটামিন সি পুড়ে যাওয়ার পরেও কৈশিক ফুটো কমাতে সাহায্য করে। এবং যেহেতু ভিটামিন সি নতুন টিস্যু বৃদ্ধি এবং নতুন ত্বক হতে সাহায্য করে, এটি পোড়া ও ক্ষত নিরাময়ে চমৎকারভাবে ভালো কাজ করে।

১৮. রোদে পোড়া থেকে বাঁচায়

ভিটামিন সি এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্যগুলি কোলাজেন সংশ্লেষণে ভূমিকা রাখে এবং সানবার্ন নিরাময়ে সহায়তা করে। ভিটামিন সি গ্রহণ করা অথবা সাময়িক ভিটামিন সি তেলের প্রয়োগ করে এই পরিস্থিতি উন্নত করতে পারে। তবে এটি জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, ভিটামিন সি কেবলমাত্র সান্সক্রিনের সাথে একসাথে বা পাশাপাশি ব্যবহার করা যেতে পারে, সান্সক্রিন বাদ দিয়ে ব্যবহার করা যাবে না। ভিটামিন সি ইউভিবি-প্রেরিত এরিথিমা (ত্বকের উপরিভাগে লালচেভাব) এর প্রভাব হ্রাস করতে দেখা গেছে।

১৯. একজিমার চিকিৎসায় সহায়তা করে

একজিমা সারানোর একটি ভালো উপায় হলো ভিটামিন সি ও জিংকের সংমিশ্রণ – প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১০০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ১৫ মিলিগ্রাম জিংক গ্রহণ একজিমার সম্ভাব্য নিরাময় হিসেবে কাজ করে।

২০. কোলাজেন উৎপাদন

হাইড্রোক্সিপ্রোলাইন ও হাইড্রোক্সিলিসিন উৎপাদনের জন্য ভিটামিন সি একটি প্রয়োজনীয় উপাদান, উভয়ই কোলাজেন দ্বারা উৎপাদিত মলিকিউলস গুলো একত্রিত বা আবদ্ধ করতে প্রয়োজনীয়। আর এগুলো আপনার ত্বককে সঠিকভাবে গড়ে তুলে ও ত্বকের টোন ঠিক রাখে। কোলাজেন ত্বকের গভীর থেকে ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে তুলে এবং বলিরেখা ও বার্ধক্যের লক্ষণগুলো হ্রাস করে।

২১. ত্বকের বিবর্ণতা থেকে রক্ষা করে

ভিটামিন সি ডিএনএ কে ফোটোকেমিক্যালের বিক্রিয়া থেকে রক্ষা করে যা টিউমার, ত্বকের বিবর্ণতা এবং বিভিন্ন ধরণের ত্বকের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। এটি পাইরাইমিডিন ডাইমারস উৎপাদনে বাঁধা দেয় যেগুলো মানুষের মেলানোমাস হওয়ার প্রাথমিক কারণ। এটি ত্বকের গাঢ়ো বিবর্ণতা যেমন ত্বকের ছোট দাগ ও বয়সের ছাপ দূর করে ত্বককে আরো যৌবন এবং আরো মসৃণ করে তুলে।

২২. ত্বকের গঠন ঠিক রাখে

কোলাজেন দেহে রক্তনালীগুলির গঠন করতে সাহায্য করে। ত্বকের নিচের স্তরে থাকা ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলি অক্সিজেন ও অন্যান্য পুষ্টি বহন করে যা ত্বককে স্বাস্থ্যবান রাখে। পর্যাপ্ত পুষ্টিবিহীন ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে উঠে। ভিটামিন সি যুক্ত ক্রিমগুলো বাহ্যিক ত্বকের উপস্থিতি ও গঠন উন্নত করে।

ভিটামিন সি ইলাস্টিনের গঠন বাড়ায় যা ত্বকের সেলগুলোকে পুরু করে, নিরাময় করে ও প্রতিরক্ষা করে। ত্বকের পুরু প্রভাবটি ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে, ত্বককে আরো উজ্জ্বল ও কোমল করে তুলে।

ভিটামিন সি চুলের কি কি উপকার করে?

অবাক করা হলেও সত্যি যে, আপনার চুলের জন্যও ভিটামিন সি এর অনেক উপকারিতা রয়েছে।

২৩. চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়

আমাদের চুলের বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে এমন সব চুলের সমস্যাগুলির বেশিরভাগ কারণ হয়ত ভিটামিন সি কম গ্রহণ করার ফলে হয়। ভিটামিন সি এর অভাব চুল শুষ্ক করে ও চুলের আগা ফেঁটে যায়। চুলের নিয়মিত বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন সি এর অভাব মোটেও অনুকূল না বরং এর ফলে আস্তে আস্তে আপনি আপনার চুল হারাতে শুরু করবেন।

আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তখন আমাদের শরীর শক্তি উৎপাদনের জন্য ওই খাদ্য গ্লুকোজে পরিণত করে, আর তখন ফ্রি র‍্যাডিকালগুলো প্রাকৃতিকভাবেই গঠিত হয়। এই ফ্রি র‍্যাডিকালগুলো আমাদের চুলকে দুর্বল, ভঙ্গুর এবং পাতলা করে ক্ষতি করে যা চুলের বৃদ্ধিতে বাঁধা দেয়।

ভিটামিন সি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ফ্রি র‍্যাডিকালগুলোর গঠন হ্রাস করে এবং আমাদের দেহের উপর এগুলোর প্রভাব হ্রাস করে। ফ্রি র‍্যাডিকালের বিরুদ্ধে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সুরক্ষা পেতে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার রাখা অপরিহার্য। যারা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি গ্রহণ করে তারা স্বাস্থ্যকর, মজবুত ও ঘন চুলের অধিকারী হয়।

২৪. খুশকি ধ্বংস করে

আমাদের চুলের ফলিকলগুলি খুশকি, শুষ্ক ও আঁশ উঠা ত্বকের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এটি চুলের ফলিকলগুলির ক্ষতি করতে পারে এবং তাছাড়াও চুলের বৃদ্ধিতে বাঁধা দেয়। ভিটামিন সি মাথার ত্বকের ব্যাক্টেরিয়ার সাথে লড়াই করতে সহায়তা করে। ভিটামিন সি খুশকি দূর করে, মৃত ফলিকলগুলো থেকে মুক্তি দেয় এবং নতুন চুলের বৃদ্ধিতে উৎসাহ দেয়। এর অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য মাথার ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি নিরাময় করতে সহায়তা করে।

২৫. চুলের অকালে পেঁকে যাওয়া প্রতিরোধ করে

ভিটামিন সি শুধুমাত্র চুল ঝরে পড়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে না, চুলের অসময়ে পেঁকে যাওয়া প্রতিরোধ করে চুলের প্রাকৃতিক রঙ ধরে রাখতেও সহায়তা করে। তবে, এই নিয়ে খুব কম গবেষণা পাওয়া গিয়েছে।

ভিটামিন সি এর উপকারিতা সীমাহীন, তাই নয় কি? তবে এই ভিটামিন পাওয়ার উৎসই যদি না জানেন তাহলে কিভাবে হবে?

কোন কোন ফলে বা খাবার থেকে কি পরিমাণ ভিটামিন সি পাবেন?

আপনার রান্নাঘরেই এমন অনেক খাদ্যসামগ্রী রয়েছে যা ভিটামিন সি এর খুব ভালো উৎস। স্বল্প বাজেটের মধ্যেই এইসব খাবার আপনার হাতের নাগালে পেয়ে যাবেন, আর এগুলো প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এগুলোর মধ্যে কিছু উদাহরণ হলো

মরিচ (১ কাপ মরিচে ১০৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি),

বেল পেপার (১২০ থেকে ১৯০ মিলিগ্রাম),

ব্রোকলি (১৩২ মিলিগ্রাম),

পেঁপে (৮৮.৩ মিলিগ্রাম),

স্ট্রবেরী (৮৪.৭ মিলিগ্রাম),

ফুলকপি (১২৭.৭ মিলিগ্রাম),

আম (১২২.৩ মিলিগ্রাম),

আনারস (৭৮.৯ মিলিগ্রাম),

লেবু (১১২.৪ মিলিগ্রাম),

কমলা (৯৫.৮ মিলিগ্রাম)

ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্টস কি?

ভিটামিন সি এর সাপ্লিমেন্টগুলোতে সাধারণত এই ভিটামিন অ্যাসকরবিক এসিড আকারে থাকে। কয়েকটি জনপ্রিয় ভিটামিন সি ক্যাপসুল বা ট্যাবলেটগুলির মধ্যে পোটেন সি (Poten Cee), সিশাইন (Cshine), ভিসিএনই (Vcne), রিডক্সোন (Redoxon) এবং সেলিন ৫০০ (Celin 500) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সাপ্লিমেন্টগুলো ত্বকের (বিশেষ করে মুখের জন্য) জন্য এবং পুরো শরীরের জন্যই উপকারী। এমনকি একটি ভিটামিন সি ইনজেকশন (তরল ভিটামিন সি) বা অন্যভাবে বললে, শিরা দ্বারা প্রবেশ করানো তরল ভিটামিন সি একই রকম উপকারিতা দিতে পারে। খাদ্য হিসেবে ভিটামিন সি থেকেও ইনজেকশন দিয়ে দেহে প্রবেশ করানো ভিটামিন সি এর ডোজ অনেক বেশি এবং এটি ত্বক, ইমিউনি সিস্টেম ও ক্যান্সার রোগীদের জন্য পরিপূরক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ভিটামিন সি এর আরো রূপ রয়েছে যেমন ভিটামিন সি ড্রপ, ক্রিস্টালস অথবা পাউডার (মুখের জন্য)। এমনকি এখন অনেকে ত্বকের জন্য ভিটামিন সি ক্রিম ব্যবহার করেন।

অনেক কিছুই তো বলা হলো। কিন্তু, ভিটামিন সি কিভাবে গ্রহণ করতে হয় তাও আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে।

কিভাবে ভিটামিন সি খাবেন?

ভিটামিন সি গ্রহণের সর্বোত্তম উপায় হলো আপনার ডায়েটে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা। বেশিরভাগ ফল ও শাক-সবজিতে এই ভিটামিন রয়েছে – সুতরাং আপনি নিয়মিত ফল ও সবজির সালাদ খেতে পারেন এবং নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। এমনকি এক গ্লাস জুস বা স্মুদিও এই ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করবে।

কিন্তু সালাদ তৈরি করার জন্য আপনার হাতে যদি যথেষ্ট সময় না থাকে তাহলে আপনি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন। ডোজের উপর নির্ভর করে আপনি আপনার খাবারের সাথে দিনে দুই থেকে তিন বার ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন। আপনি এটি খালি পেটেও গ্রহণ করতে পারেন, কারণ কিছু গবেষণা বলে খালি পেতে ভিটামিন সি আরো ভালো শোষিত হয় এবং ভালো কাজ করে। আপনার জন্য সঠিক ডোজ নির্ধারণ করতে আপনার ডাক্তার অথবা পুষ্টিবিদের সাথে পরামর্শ করে নিন।

ওষুধের ক্ষেত্রে নিয়মিত উদ্ভাবনকে আমরা এখন লিপোসোমাল ভিটামিন সি বলে থাকি। লিপোসোমাল প্রযুক্তি পুষ্টিগুলির শোষণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। লিপোসোমাল ভিটামিন সি ওটিসি (OTC) সাপ্লিমেন্টের তুলনায় অধিক বায়োঅ্যাবিলিটির সুবিধা দেয়। পেটে ফসফোলিপিডগুলো পানির সাথে মিশ্রিত হওয়ার সময় লাইপোজোম রূপ ধারণ করে। এই লাইপোজোমগুলো শোষণের হার বাড়ায়। এবং বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের মতে এটি ভিটামিন সি এর সেরা রুপ।

প্রতিদিন কতটুকু পরিমাণ ভিটামিন সি খাবেন?

১৮ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য প্রতিদিন ভিটামিন সি গ্রহণের পরিমাণ ৯০ মিলিগ্রাম। ১৮ বছরের বেশি বয়সের মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি ৭৫ মিলিগ্রাম। এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী গর্ভবতী এবং বুকের দুধ খাওয়ানো মহিলাদের জন্য এটি যথাক্রমে ৮৫ মিলিগ্রাম এবং ১২০ মিলিগ্রাম। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, যারা ধূমপান করে তাদের নিয়মিত খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত আরো ৩৫ মিলিগ্রাম যুক্ত করতে হবে।

শিশুদের জন্য (০ থেকে ১২ মাস বয়স), মায়ের বুকের দুধে যে পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে তাতেই হবে। ১ থেকে ৩ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য, ভিটামিন সি গ্রহণের পরিমাণ ১৫ মিলিগ্রাম; ৪ থেকে ৮ বছর বয়স ২৫ মিলিগ্রাম; ৯ থেকে ১৩ বছর বয়স ৪৫ মিলিগ্রাম।

কিশোর-কিশোরীদের জন্য (১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী), ছেলেদের জন্য ৭৫ মিলিগ্রাম এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ৬০ মিলিগ্রাম।

যদিও এই পরিমাণগুলো আরডিএ এর মত অনুসারে, কিন্তু ডাক্তার আপনার চিকিৎসার জন্য আরো বেশি পরিমাণের ডোজ দিতে পারে।

সবকিছু যদি ভালোও হয়, তারপরও যেকোন কিছুতেই সতর্কতা অবলম্বন করা ভালো। সুতরাং, ভিটামিন সি এর ক্ষেত্রেও একই।

ভিটামিন সি খাবার সময় কি কোন সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত?

ভিটামিন সি এর কারণে পেটে ব্যাথা, দাঁতের ক্ষয়, বুকের ব্যাথা, অজ্ঞান হওয়া, ডায়রিয়া, অনিদ্রা, মাথা ব্যাথা, বুক জ্বালা-পোড়া করা, বমি বমি ভাব এবং খাদ্যনালী ফুলে যেতে পারে। এরকম কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে এটি গ্রহণ বন্ধ করে দিন এবং আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি এর গ্রহণে বিষক্রিয়া হতে পারে, রক্ত জমাট বাঁধা, কিডনিতে পাথর এবং পাচনতন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, G6PD ঘাটতি আছে এমন লোকদের জন্য এই সমস্যা পুরোপুরি সত্য, এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ এবং সংক্রমণের প্রতিক্রিয়াতে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙ্গে যায়।

গর্ভাবস্থায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ভিটামিন সি স্বাভাবিক পরিমাণে নিরাপদ হিসাবে বিবেচিত হয় – কিন্তু প্রস্তাবিত ডোজের চেয়ে বেশি ব্যবহার করার সময় অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করুন।

এছাড়াও…

কোনো ঔষধের সাথে কি ভিটামিন সি এর সম্ভাব্য পাশ্য প্রক্রিয়া আছে?

নিম্নলিখিত কিছু ঔষধের তালিকা রয়েছে যা ভিটামিন সি (সাপ্লিমেন্ট) এর সাথে বিক্রিয়া করতে পারে –

  • অ্যাসপিরিন (Aspirin)
  • এ্যাসিটামিনোফেন (Acetaminophen)
  • বারবিটুরেটস (Barbiturates)
  • কেমোথেরাপির ঔষধ (Chemotherapy drugs)
  • ওরাল কন্ট্রাসেপ্টিভস (Oral contraceptives)
  • প্রোটিজ ইনহিবিটরস (Protease inhibitors)
  • ওয়ারফারিন (Warfarin)
  • অ্যান্টাসিডস (Antacids)
  • কিছু অ্যান্টি-সাইকোটিক ড্রাগ, যেমন ফ্লাফিনাজিন (Fluphenazine)

যদিও ভিটামিন সি এর ঘাটতি বিরল, তার অর্থ এই নয় যে আপনি এটিকে অবহেলা করবেন। আপনি কেবলমাত্র এর উপকারিতা গুলোই দেখেছেন, তাই নয় কি? সুতরাং, পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি গ্রহণ করুন। সুস্থ থাকুন, সতেজ থাকুন এবং ভালো থাকুন।

Filed Under: Nutrition (পুষ্টি)

  • « Go to Previous Page
  • Page 1
  • Interim pages omitted …
  • Page 12
  • Page 13
  • Page 14
  • Page 15
  • Page 16
  • Go to Next Page »

Primary Sidebar

সাম্প্রতিক লেখা

১৬টি সেরা খাবার সকালবেলার দৌড়ের পর খাওয়ার জন্য – পোস্ট-রান রিকভারি পুষ্টি

ওজন কমাতে সেরা ২০টি ডিটক্স স্মুদি: উপাদান, প্রস্তুতি ও উপকারিতা

সহজে হজম হয় এমন ১৬টি হালকা খাবারের রেসিপি

Low FODMAP Diet: ৩ ধাপের পরিকল্পনা ও কোন খাবার খাবেন, কোনটা এড়িয়ে চলবেন

প্যালিও ডায়েট: উপকারিতা, ঝুঁকি ও ৭ দিনের খাবার পরিকল্পনা

বিভাগ সমূহ

  • Fashion
  • HAIR CARE (চুলের যত্ন)
    • Basic Hair Care (বেসিক হেয়ার কেয়ার)
    • Dandruff (খুশকি)
    • Dry Hair Care (শুকনো হেয়ার কেয়ার)
    • Hair Care Ideas
    • Hair Fall ( চুল পড়া)
    • Hair Growth ( চুল বৃদ্ধি)
    • Hair Treatment (চুল চিকিৎসা)
    • Oily Hair Care ( তৈলাক্ত চুলের যত্ন)
  • HEALTH & WELLNESS (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা)
    • Diet Tips
    • Fitness
    • Healthy Food
    • Home Remedies
    • Ingredients and Uses
    • Nutrition (পুষ্টি)
    • Weight Gain
    • Weight Loss (ওয়েট লস)
  • Lifestyle (জীবনযাপন )
  • MAKEUP (মেকআপ)
    • Bridal Makeup (ব্রাইডাল মেকআপ)
    • Eye Makeup (চোখের সাজসজ্জা)
    • Lip Make up (লিপ আপ করুন)
  • SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)
    • Acne
    • Anti Ageing
    • Beauty Secrets
    • Dry Skin
    • Face Care Tips
    • Face Packs and Masks
    • Glowing skin
    • Homemade Tips
    • Oily Skin
    • Skin Care Ideas
    • Skin Care Problems
    • Sunscreen
  • Top 10's

Copyright © 2026 · RUP KOTHON · All rights reserved ®