• Skip to primary navigation
  • Skip to main content
  • Skip to primary sidebar

রূপকথন

Healthier Lifestyljhhe Choices

  • Facebook
  • Home
  • Shop
  • Blog
    • মেকআপ
      • ব্রাইডাল মেকআপ
      • সেলিব্রিটি মেকআপ
      • চোখের সাজসজ্জা
      • মুখের রূপসজ্জা
      • লিপ মেকআপ
      • মেকআপের ধারণা
      • মেহেদী ডিজাইন
      • নখের ডিজাইন
    • চুলের যত্ন
    • ত্বকের যত্ন
    • চুল স্টাইল
    • স্বাস্থ্য ও সুখ
      • ফিটনেস
      • স্বাস্থ্যকর খাবার
      • ওজন বৃদ্ধি
      • ওজন কমানো
      • যোগ ব্যায়াম
      • ডায়েট টিপস
      • আয়ুর্বেদ
  • Contact Us

HEALTH & WELLNESS (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা)

ভিটামিন ই তেলের ১৬ টি অসাধারন গুণ যা আমাদের ত্বক, চুল এবং স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারি

by Mohona

আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন বেশিরভাগ কসমেটিক পণ্যগুলিতে প্রাথমিক উপাদান হিসেবে ভিটামিন ই থাকে? কারণ ভিটামিন ই আমাদের দেহের সকল অংশের জন্য খুবই উপকারী। এই ভিটামিন আমাদের শরীরের ভেতরেও সমানভাবে কার্যকর। ভিটামিন ই ত্বক, চুল এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সকল সমস্যা কার্যকরভাবে কাজ করে এবং সফলভাবে সমাধান করে। এখানে আমরা জানবো ত্বক, চুল এবং স্বাস্থ্যে ভিটামিন ই তেলের অসাধারন উপকারিতা।

Benefits-Of-Vitamin-E-For-Skin-Hair-And-Health

স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন ই তেল

ভিটামিন ই এর অনেক উপকারিতার মধ্যে একটি বড় সত্য হলো এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ভিটামিন ই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‍্যাডিকেল অপসারণ করে, কারণ এই র‍্যাডিকেলগুলো দেহের ক্ষতি করে।

১. ভিটামিন ই স্ট্রেচ মার্কস দূর করে

দেহের ওজন ঘন ঘন উঠা-নামা করলে সহজেই স্ট্রেচ মার্কস পরে। ভিটামিন ই তেল ত্বকের গভীর থেকে কাজ করে এবং স্ট্রেচ মার্কস ও যেকোনো ক্ষতচিহ্ন হালকা করে।

২. জ্বালা-পোড়া দূর করতে ভিটামিন ই

পুড়ে যাওয়ার ক্ষত নিরাময়ের জন্য ভিটামিন ই তেল ব্যবহার করার জন্য সবচেয়ে বেশি পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি কেবলমাত্র ছোট খাটো পোড়া ক্ষত সারাতে কাজ করে, গুরুতর ক্ষত সারাতে নয়। পুড়ে যাওয়া স্থানটি ঠান্ডা হতে দিন, আক্রান্ত স্থানে সরাসরি ভিটামিন ই তেল লাগান এবং রেখে দিন, মনে রাখবেন ত্বকে খুব বেশি টানাটানি করবেন না বা চাপ দিবেন না।

৩. ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য ভিটামিন ই তেল

যে সকল মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময়ই সূর্যের নিচে কাজ করে ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি হতে পারে। আর এই ঝুঁকি এড়াতে একটি সহজ উপায় হলো ভিটামিন ই তেল সানস্ক্রিনের সাথে মিশিয়ে বাহিরে যাওয়ার আগে ত্বকে লাগিয়ে নেওয়া। এতে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি আপনার গায়ে আর কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা।

৪. একজিমা এবং সোরিয়াসিসের চিকিৎসার জন্য ভিটামিন ই তেল

আক্রান্ত স্থানে প্রতিদিন নিয়ম করে ভিটামিন ই তেল লাগানোর ফলে বিভিন্ন রকম ত্বকের রোগ যেমন সোরিয়াসিস এবং একজিমা ইত্যাদি নিরাময়ে কার্যকর ফলাফল দেখিয়েছে।

৫. ঠান্ডা ঘা নিরাময়ে ভিটামিন ই তেল

ত্বকের মারাত্মক শুষ্কতা ও ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকা ত্বক ভিটামিন ই তেলে ব্যবহারের মাধ্যমে সারিয়ে তুলা যায়। যখন শীতকাল প্রবেশের সময় তখন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলি থেকে সবসময় ভিটামিন ই তেলের একটি ছোট বোতল নিতে ভুলবেন না। তেলের নিয়মিত প্রয়োগে ঠান্ডা ঘা নিরাময় হয়। প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজার হিসাবে এই তেল ব্যবহার করে ঠোঁটের ঘা হওয়া প্রতিরোধ করতে পারেন।

৬. হার্টের জন্য ভিটামিন ই তেল

ভিটামিন ই তেল রক্তকে পাতলা করতে সহায়তা করে যা হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের কোন ব্লকেজ এড়াতে খুবই উপকারী। ভালো ফলাফল পেতে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে সঠিক পরিমাণে ভিটামিন ই গ্রহণ করা সবচেয়ে উত্তম। এটিও সত্য যে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ই সানস্ট্রোক এবং ধমনী ব্যাধি বা যেকোন হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

৭. ইমিউনি সিস্টেম তৈরি করতে ভিটামিন ই তেল

ভিটামিন ই তে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলি শরীর থেকে যে কোন প্রকার ফ্রি র‍্যাডিকেলগুলি অপসারণ করে ফেলে। ইমিউনিটির মাত্রা আরো ভালো হয় এবং যার ফলে আপনি ভালো বোধ করবেন এবং কম অসুস্থ হবেন।

ত্বকের জন্য ভিটামিন ই তেল

৮. দাগ এবং বলিরেখার জন্য ভিটামিন ই তেল

ভিটামিন ই বয়সের ছাপ পরার দাগগুলি কার্যকরভাবে সরিয়ে দেয়। এছাড়াও এটি বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে এবং প্রতিদিন ব্যবহারে ধীরে ধীরে চলে যায়। ভিটামিন ই ফ্রি র‍্যাডিকেলের সাথে যুদ্ধ করে এবং যার ফলে বলিরেখা অদৃশ্য হয়ে যায়। ত্বকের ফাইন লাইনসগুলো হ্রাস হতে পারে কারণ ভিটামিন ই ত্বকে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়িয়ে তুলে যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে। ভিটামিন ই তেল নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক আরো স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

৯. ভিটামিন ই তেল ত্বককে নরম করে তুলে

ভিটামিন ই তেল সপ্তাহে একবার রাতের বেলা ত্বকের যত্নে লাগানো যেতে পারে। এই তেলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষগুলোকে প্রতিরক্ষা করে এবং খুব সহজেই ত্বকের ক্ষতি করতে পারে এমন নতুন ফ্রি র‌্যাডিকালগুলির গঠন প্রতিরোধ করে।

১০. ভিটামিন ই তেল বাদামী দাগ দূর করে

দেহে মেলানিনের উৎপাদন এবং বার্ধক্যজনিত কারণে পরা গাঢ়ো বাদামী দাগ ভিটামিন ই তেল ব্যবহার করে কার্যকরভাবে হ্রাস করা যেতে পারে। ভিটামিন ই তেলে ত্বক পুনরূদ্ধার করা এবং দাগ পড়া প্রতিরোধ করার শক্তি রয়েছে। এই দাগগুলো হালকা করার জন্য এবং ত্বককে টান টান করার জন্য আপনি ত্বকে সরাসরি ভিটামিন ই তেল প্রয়োগ করতে পারেন।

১১. আপনার কিউটিকেলের জন্য ভিটামিন ই তেল

কিউটিকেলের তেল যেহেতু খুব ব্যয়বহুল, কিউটিকেল শক্তিশালী করার জন্য আপনি ভিটামিন ই তেল ব্যবহার করতে পারেন। ভিটামিন ই তেল শুষ্ক কিউটিকেলগুলোকে কার্যকরভাবে উজ্জ্বল করতে পারে। শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে আলতো করে কিউটিকেল এবং নখে কয়েক ফোঁটা তেলে ম্যাসাজ করুন। আপনি আপনার নখে উন্নতি দেখতে পাবেন।

১২. ক্লিনজিং এজেন্ট হিসাবে ভিটামিন ই তেল

ভিটামিন ই তেল সব রকম ত্বকের জন্য অসাধারণ একটি ক্লিনজার। দূষিত জিনিষ যেমন ধূলা-বালি ও দূষণ আপনার ত্বকের ক্ষতি করে। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভিটামিন ই তেল ব্যবহার করার মত একটি সহজ উপায় আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলবে।

চুলের জন্য ভিটামিন ই তেল

চুলের বৃদ্ধি এবং উজ্জ্বলতার জন্য ভিটামিন ই তেল খুবই উপকারী। প্রতিদিন চুলে এই তেলের ম্যাসাজ এবং একটি সুষম খাদ্যতালিকা আপনার চুলকে ঝকঝকে এবং উজ্জ্বল করে তুলতে পারে। ভিটামিন ই তেলের ম্যসাজ আপনার মাথায় রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং এতে আপনার চুলের উজ্জলতা বৃদ্ধি পায়। চুল পড়া এবং অন্যান্য চুলের সমস্যার চিকিৎসার জন্য করা হেয়ার স্পা ট্রিটমেন্টে ভিটামিন ই তেল ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।

১৩. ভিটামিন ই তেল চুলের বৃদ্ধিকে আরো উদ্দীপিত করে

ভিটামিন ই তেলের ম্যাসাজ আপনার শরীরের সকল অংশে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। রক্তের স্বাস্থ্যকর সঞ্চালন চুল গজানোর ও বিকাশের জন্য উত্তম উদ্দীপক। এটি চুল সাদা হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে এবং আপনার মাথার ত্বকে পুষ্টি জোগায়।

১৪. দ্যুতিময় চুলের জন্য ভিটামিন ই তেল

নিয়মিত ভিটামিন ই তেলের ম্যাসাজ আপনার চুলকে গভীরভাবে কন্ডিশন করবে এবং একে স্বাস্থ্যকর অ দ্যুতিময় করে তুকবে। ভিতামিন ই তেল খাওয়ার মাধ্যমেও আপনি ভালো ফলাফল পেতে পারেন, কারণ এই তেল আপনার দেহে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে, যার ফলে আপনার মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন আরো উন্নত হয়। এটি চুলের সেবামকে উদ্দীপিত করে, যা আপনার চুলকে দ্যুতিময় করে তুলে।

১৫. চুলের আগা ফাঁটা প্রতিরোধে ভিটামিন ই তেল

চুলের ট্রিটমেন্ট, দূষণ, শুষ্কতা চুলের আগা ফেঁটে যাওয়ার কারণ। ঘরে খুব সহজেই এর চিকিৎসা করা যেতে পারে। ২ টেবিল চামচ তেল আপনার মাথায় এবং চুলে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন এবং একটি গরম তোয়ালে দিয়ে পুরো চুল ঢেকে রাখুন। এভাবে যত্ন নিলে চুল অনেক মসৃণ এবং আদ্রতাপূর্ণ হয়ে উঠে।

১৬. অকালে পেঁকে যাওয়া চুলের জন্য ভিটামিন ই তেল

বয়সের ছাপ পড়ার প্রক্রিয়া ধীর করার জন্য ভিটামিন ই তেল একটি অন্যতম সেরা উৎস। ধূসর চুল অস্বাস্থ্যকর দেখায় এবং স্বাভাবিকভাবেই কাউকে এই চুলে ভালো লাগে না। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো ভিটামিন ই তেল ব্যবহার করতে হবে। সর্বোত্তম উপকারিতা পেতে ভিটামিন ই তেল চুলের গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগাতে হবে এবং এছাড়াও, ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার যেমন সয়া বীজ, মটরশুটি, পালং শাক, ব্রকলি এবং ডিম ইত্যাদি গ্রহণ করতে হবে।

সঠিক দিকনির্দেশনায় নেওয়া হলে ভিটামিন ই তেলের সুবিধাগুলি সত্যিই খুব কার্যকর, সবসময় একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নিয়ে সঠিক ডোজ নিতে হবে। বাহ্যিক ত্বক এবং চুলের ব্যবহারের জন্য প্রথমে আপনার ত্বকে অল্প একটু লাগিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন যে আপনার এই তেলে অ্যালার্জি আছে নাকি নেই। যদি আপনি যৌবনদীপ্ত ত্বক, উজ্জ্বল চুল এবং সুন্দর স্বাস্থ্য পেতে পছন্দ করেন, তাহলে আপনার দৈনন্দিন জীবনে ভিটামিন ই তেল অন্তর্ভুক্ত করুন। ভিটামিন ই তেল আপনাকে কখনোই নিরাশ করবে না।

Filed Under: Ingredients and Uses

কোকো বাটারঃ এর উপকারিতা এবং ব্যবহার যা আপনার অবশ্যই জানা দরকার

by Mohona

কোকো বাটারের কথা বললে আপনার কি চকলেট বার এবং চকলেট আইস্ক্রিমের কথা মনে পড়ে?

তাহলে আপনার অবশ্যই জানা দরকার এই উপকরণটি ত্বকের ক্রিম এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির পণ্যেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

কোকো বাটার খেলে আপনার হয়ত ক্যালোরি অনেক গুণ বেড়ে যেতে পারে, কিন্তু আপনি যদি এটি আপনার ত্বকে ব্যবহার করেন তাহলে কোনো মতেই এটি আপনার ক্যালোরি বৃদ্ধি করবে না!

আপনি কেনো কোকো বাটার আপনার ত্বকে ব্যবহার করবেন?

কিভাবে এই বাটার কাজ করে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে হলে আরো পড়তে থাকুন।

কোকো বাটার কি?

কোকো বাটার হলো এক ধরণের ফ্যাট বা চর্বি যা কোকো বীজ থেকে নেওয়া হয়। এই চর্বি মিষ্টান্ন এবং প্রসাধনী সামগ্রী উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। প্রথমে বীজগুলি বৃহত্তর কোকো বীজ থেকে নেওয়া হয়, যেখানে এগুলো রোস্ট করা, ফালি করা এবং এরপর চেপে গুড়ো করা হয়। এরপর আলাদা করা ফ্যাটগুলি থেকে কোকো বাটার তৈরি করা হয়।

৩০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোকো ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। অ্যাজটেকস এবং মায়ানরা কোকো বীজকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করত। সাম্প্রতিক সময়ে, গবেষণা কোকোতে বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য এদের কার্যকারিতা আবিষ্কার করেছে। কোকো বাটারের বিভিন্ন ফ্যাটি এসিডের সংমিশ্রণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • অলিক এসিড, ৩৪.৫%
  • স্টেয়ারিক এসিড, ৩৪.৫%
  • পামিটিক এসিড, ২৬.০%
  • লিনোলিয়িক এসিড, ৩.২%

নারকেল তেলের মতই কোকো বাটারের বেশিরভাগ স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা সম্পূর্ণ বাটারের ৫৭ থেকে ৬৪ শতাংশ বাটার তৈরি করে। কোকো বাটার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো তা না হয় অন্য কোনদিন আলোচনা করবো, কিন্তু এখন আমরা জানবো কোকো বাটার আপনার ত্বকে কি বিষ্ময় সৃষ্টি করতে পারে।

আপনার ত্বকে কোকো বাটারের উপকারিতা

১. বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলি হ্রাস করতে সহায়তা করে

অনেক বেশি ফ্যাট থাকার কারণে কোকো বাটার অন্যান্য ময়েশ্চারাইজারের চেয়ে অনেক বেশি গাঢ় এবং ঘন হয়। এটি আপনার শরীরের তাপমাত্রায় গলে যায়, তাই এটি আপনার ত্বক খুব সহজেই শোষন করে নেয় এবং ত্বককে ময়েশ্চারাইজড করতে সহায়তা করে। তাই, এটি ত্বকের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে এবং আপনার ত্বককে নরম ও যৌবনদীপ্ত করে তুলে।

কোকোতে পলিফেনল রয়েছে যা বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলি হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে। পলিফেনল ত্বকের সংবেদনশীলতা এবং অবক্ষয় প্রতিরোধে সহায়তা করে। ত্বকের স্থিতিস্থাপকতার উপর কোকো পলিফেনলসের প্রভাব বাণিজ্যিক পণ্যগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি ভালো। কোকো কোলাজেন উৎপাদনে আর ভালো সাহায্য করতে পারে। এর ফলে দ্রুত বলিরেখা এবং ফাইন লাইনসের আসা প্রতিরোধ করে।

২. আন্ডার-আই ক্রিম হিসাবে কাজ করে

আমরা জানি যে কোকো বাটার ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা আরো উন্নত করে। কোকোর এই বৈশিষ্ট্যটি বিশেষ করে চোখের নিচের ত্বকে ভালো কাজ করে, কারণ চোখের নিচের এই অংশে খুব দ্রুত বলিরেখা এবং ফাইন লাইনস দেখা যায়। বাটার চোখের চারদিকের এবং নিচের ত্বক টান তান করতে সহায়তা করে।

কোকো বাটার চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতেও সাহায্য করে। এর ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য চোখের নিচের কালো দাগ হালকা করতে সহায়তা করে।

৩. ফেঁটে যাওয়া ঠোঁট নিরাময়ে সহায়তা করে

কোকা বাটার ফেঁটে যাওয়া ঠোঁট নিরাময়ে সহায়তা করে

কোকো বাটার উপশমকারী হিসেবে কাজ করে, যেমন এটি আপনার ঠোঁটে হাইড্রেশনের একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর যুক্ত করে। যা আপনার ঠোঁটের শুকিয়ে যাওয়া অথবা ফেঁটে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। বাটার যেহেতু খাওয়া যায়, তাই এর বিষক্রিয়া নিয়ে চিন্তা করার কোন দরকার নেই।

কোকো বাটার ব্যবহার করে ঠোঁট আদ্র এবং হাইড্রেটেড রাখার মাধ্যমে মুখের ঘা হওয়া প্রতিরোধ করা যায়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে, এই সকল উপায়েই কোকো বাটার আপনার ত্বকের উপকার করতে পারে।

আরেকটি অজানা সূত্র বলছে কোকো বাটার আপনার ত্বকে আরো বিভিন্ন রকম উপকার করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছেঃ

  • স্ট্রেচ মার্কস হ্রাস করা

কোকো বাটার ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে। এটি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করতে পারে এবং স্ট্রেচ মার্কসের উপস্থিতি হ্রাস করে।

  • একজিমা এবং ত্বকের অন্যান্য অ্যালার্জির চিকিৎসায় সহায়তা করা

বাটারে থাকা ভিটামিন ই সহায়তা করতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ভিটামিন অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী জীবাণুগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে এবং এই অবস্থার চিকিৎসায় কাজ করতে পারে। এটি আক্রান্ত ত্বককে নরম ও কোমলও করতে পারে।

  • উল্কির ক্ষত চিকিৎসা করতে পারে

এই বাটারের ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য উল্কির ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করতে পারে। তবে আমরা আপনাকে সতর্ক থাকার জন্যই কিছু পরামর্শ দিচ্ছি।

কোকো বাটার উপরোক্ত সুবিধাগুলি প্রদান করতে পারে তা নিয়ে সঠিক কোনো প্রমাণ নেই। তাই, আপনি এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার আগে আপনার চর্ম বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না।

যদিও, কোকো বাটার ব্যবহার করার আরো কয়েকটি উপায় রয়েছে।

আর যে সকল উপায়ে আপনি কোকো বাটার ব্যবহার করতে পারেন

১. জ্বালা-পোড়া উপশম করতে

এর জন্য আপনাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে কোকো বাটার খাঁটি কিনা। এতে কোনো অ্যালকোহল অথবা সুগন্ধী অথবা অন্য কোনো জিনিষ থাকা যাবে না।

আক্রান্ত স্থানে আস্তে আস্তে বাটার লাগান এতে পোড়া স্থানে আরামদায়ক অনুভূতি হবে। কিন্তু এটি কখনোই মূল চিকিৎসার প্রতিস্থাপন হিসেবে নেওয়া যাবে না। অর্থাৎ জ্বালা-পোড়ার মূল চিকিৎসা আপনাকে অবশ্যই করে নিতে হবে।

২. শেভিং ক্রিম হিসেবে

শেইভ করার জন্য এবং ত্বক হাইড্রেটেড রাখার জন্য আপনি কোকো বাটার ব্যবহার করতে পারেন। মুষ্টিমেয় বাটার নিলেই হবে। আপনি চাইলে গোসল করার পরেও এটি ব্যবহার করতে পারেন কারণ পানির তাপে আপনার ত্বকের পোরসগুলি খুলে যায় এবং তখন ত্বকে যেকোন পণ্য আরো ভালোভাবে শোষিত হয়।

আপনি দেখতেই পাচ্ছেন কিভাবে কোকো বাটার আপনার ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে।

আসুন আমরা কোকো বাটারে কি কি পুষ্টিগুণ রয়েছে তা একবার দেখে নেই। এই সকল পুষ্টিগুণ কোকো বাটারকে আমাদের ত্বকের জন্য বন্ধুসুলভ করে তুলেছে।

কোকো মাখনের পুষ্টিগুণ বিষয়ক তালিকা

ক্যালোরি তথ্য
নির্বাচিত ঊপাদানের পরিমাণ   ডিভি%
ক্যালোরি ১৯২৭ (৮০৬৮ কেজি) ৯৬%
কার্বোহাইড্রেট থেকে ০.০ (০.০ কেজি)  
ফ্যাট থেকে ১৯২৭ (৮০৬৮ কেজি)  
প্রোটিন থেকে ০.০ (০.০ কেজি)  
অ্যালকোহল থেকে ০.০ (০.০ কেজি)  
ফ্যাট এবং ফ্যাটি এসিড
নির্বাচিত ঊপাদানের পরিমাণ   ডিভি%
মোট ফ্যাট ২১৮ গ্রাম ৩৩৫%
স্যাচুরেটেড ফ্যাট ১৩০ গ্রাম ৬৫১%
মোনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট ৭১.৭ গ্রাম  
পলিঅনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ৬.৫ গ্রাম  
মোট ট্রান্স ফ্যাটি এসিড ~  
মোট ট্রান্স-মনোয়েনিক ফ্যাটি এসিড ~  
মোট ট্রান্স-পলিয়েনিক ফ্যাটি এসিড ~  
মোট ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ২১৮ মিলিগ্রাম  
মোট ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড ৬১০৪ মিলিগ্রাম  
ভিটামিন
নির্বাচিত ঊপাদানের পরিমাণ   ডিভি%
ভিটামিন ই (আলফা টোকোফেরল) ৩.৯ মিলিগ্রাম ২০%
ভিটামিন কে ৫৩.৯ মিলিগ্রাম ৬৭%

আপনি কি জানেন? আপনি চাইলে বাড়িতেই কোকো বাটার তৈরি করতে পারেন। আর এর জন্য আপনার কিছু উপকরণ লাগবে। কোকো বাটার কিভাবে ঘরেই তৈরি করতে পারবেন তা নিচে দেওয়া হলোঃ

ঘরে বসে কিভাবে কোকো বাটার তৈরি করবেন

কোকো বাটার বানাতে আপনার যা যা লাগবে

  • কোকো বীনস, যা
    অবশ্যই
    লাগবে
  • ঠান্ডা পানি
  • একটি ওভেন, রোস্ট
    করার
    জন্য
  • পাখা বা ফ্যান
  • হাতুড়ি বা হ্যামার
  • চালনী
  • বাটি
  • কফি গ্রাইন্ডার
  • পরিষ্কার কাপড়

কোকো বাটার বানানোর দিকনির্দেশনা

  • পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে কোকো বীনগুলো ধুয়ে নিন। এটি অবাঞ্ছিত অবশিষ্টাংশ অপসারণ করবে। পরিষ্কার করার পর প্রাকৃতিক বাতাসে শুকিয়ে নিন।
  • বীনগুলো ১০০ থেকে ১৩৫ ডিগ্রী ফারেনহাইটে ৯০ মিনিট রোস্ট করে নিন। খেয়াল রাখবেন যাতে প্রতিটি বীনে সমানভাবে তাপ প্রয়োগ হয়।
  • ফ্যানের নিচে রেখে বীনসগুলি শুকিয়ে নিন। পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে এটি দ্রুত করুন।
  • বাইরের খোলস থেকে ভিতরের নিব বের করে আনতে হ্যামার দিয়ে আলতো করে প্রতিটি বীনে আঘাত করুন। বাহিরের খোলসটি রোস্ট করার কারণে আলতো হয়ে থাকে, তাই জোরে আঘাত করার প্রয়োজন হয় না।
  • ভাঙ্গা কোকো বীনসগুলো চালনীতে নিন এবং চালনীর নিচে একটি বাটি রাখুন। আলতো করে চালনীতে রাখা নিবগুলো ঝাকাতে থাকুন। এতে করে সম্পূর্ণ গুঁড়ো হয়ে যাওয়া নিবগুলো নিচে রাখা বাটিতে পরবে। খোলসগুলো চালনীতেই রয়ে যাবে কারণ এগুলো চালনী দিয়ে নিচে পরার জন্য অনেক বেশি বড়।
  • কোকো নিবগুলো কফি গ্রাইন্ডারে দিয়ে ভালোভাবে গুঁড়ো করে নিন। গ্রান্ডারের তাপ নিবগুলোর ফ্যাট গলিয়ে ফেলবে। এতে গুঁড়ো নিবগুলো তরলে পরিণত হয়ে যাবে।
  • এখন আপনি সুতি কাপড়ের মধ্যে দিয়ে এই তরল ছেঁকে নিতে পারেন। এভাবেই আপনি কোকো বাটার ফিল্টার করে ফেলেছেন। এবং এভাবেই আপনার কাঙ্ক্ষিত কোকো বাটার পেয়ে গেছেন।

এখন আপনি জানেন কিভাবে ঘরেই কোকো বাটার তৈরি করা যায়। কিন্তু আপনি কোকো বাটার বানানো এবং ব্যবহার করার আগে আপনাকে অবশ্যই একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। তা হলোঃ

কোকো বাটার ত্বকের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। কেউ কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে। সুতরাং, ব্যবহার করার আগে অবশ্যই একটি প্যাচ টেস্ট করে নিবেন। আর তখন আপনি যদি আপনার ত্বকে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন সাথে সাথেই এর ব্যবহার বন্ধ করে দিন এবং আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

কোকো বাটার আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি প্রাকৃতিক উপায়। এটি আপনার ত্বককে করে তুলে নরম, কোমল এবং স্বাস্থ্যজ্জোল। তাছাড়া, কোকো বাটার মুখের বলিরেখা ও ফাইন লাইন্স দূর করে আপনার ত্বককে করে তুলে যৌবনদীপ্ত এবং প্রাণবন্ত।

এছাড়া শীতকালে কোকো বাটার আপনার ফাঁটা ঠোঁট এবং ত্বকের সুরক্ষার জন্য হয়ে উঠে প্রকৃত বন্ধু। এছাড়া বাজারের বেশিরভাগ ত্বকের যত্নের পণ্য যখন কোকো বাটার প্রাথমিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন ঘরেই এই বাটার প্রস্তুত করে ব্যবহার করাটা আপনার নেওয়া সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি হবে।

Filed Under: Nutrition (পুষ্টি)

জোজোবা অয়েলঃ ৮ টি দারুণ ব্যবহার ! যা আপনার ত্বক ও চুলের জন্য অনেক উপকারি

by Mohona

জোজোবা অয়েল, জোজোবা উদ্ভিদ থেকে আসে। উদ্ভিদটি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, দক্ষিণ অ্যারিজোনা এবং উত্তর-পশ্চিম মেক্সিকোর স্থানীয় একটি গুল্ম। এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো আপনার ত্বক দারুনভাবে এই তেল শুষে নেয়।

এর চমকপ্রদ কিছু উপকারিতাও রয়েছে। আপনার কি ব্রণ আছে? অথবা আপনি কি অনুভব করতে পারছেন যে আপনার ত্বক শুকিয়ে যাচ্ছে? এছাড়াও আপনার ত্বক বা চুলের অন্য যে কোনো সমস্যা যা নিয়ে আপনি খুব উদ্বিগ্ন? ঠিক এখানেই জোজোবা অয়েল আপনার সকল উদ্বেগ দূর করতে পারে।

সুচিপত্র

  • জোজোবা অয়েল কি? এই তেল কিভাবে কাজ করে?
  • জোজোবা অয়েল কিভাবে আপনার উপকার করে?
  • জোজোবা অয়েলের গঠন কিরূপ?
  • কিভাবে আপনি সঠিক জোজোবা অয়েল কিনবেন
  • আপনার কি কি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?

জোজোবা অয়েল কি? এই তেল কিভাবে কাজ করে?

যা আমারা বলেছিলাম যে, জোজোবা অয়েল, জোজোবা উদ্ভিদ থেকে আসে। এই তেল জোজোবা গাছের বাদাম থেকে নিষ্কাশিত করা হয়।

এই তেলটি অন্য তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহারের জন্য খুব উপযুক্ত। তাছাড়াও আপনি তেলটি সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন। এই তেলের বৈজ্ঞানিক নাম সিমন্ডসিয়া চিনেসিস। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় জোজোবা অয়েল প্রায় দুই বছর পর্যন্ত ভালো থাকে।

জোজোবা অয়েলে সামান্য মাত্রায় বাদামের মত গন্ধ পাওয়া যায়। এই তেলে অলিক, স্টেরিক অ্যাসিড এবং প্যালমেটিক অ্যাসিড সহ কয়েকটি শক্তিশালী ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এছাড়াও এই তেলে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটোরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেগুলো ত্বকের অনেক রকম ইনফেকশন এবং ক্ষত দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বকে বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলি তাড়াতাড়ি না আস্তে সাহায্য করে।

এছাড়াও আরো অনেক রকম উপায়ে এই তেল আপনার ত্বক ও চুলের সমস্যাগুলো সমধান করতে পারে। এবং এদের বেশিরভাগই গবেষণার মাধ্যমে সমর্থন করা হয়েছে। এর থেকে বোঝা যায় যে জোজোবা অয়েল নিয়ে খুব ভালোভাবে গবেষণা করা হয়েছে, এবং এর উপকারিতা বা সুবিধাগুলো পরীক্ষা করে দেখার মত।

জোজোবা অয়েল কিভাবে আপনার উপকার করে?

ত্বক এবং চুলের একদম সাধারন সমস্যাগুলো জোজোবা অয়েলে থাকা ময়েশ্চারাইজিং এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটোরি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে নিরাময় করে তুলে। এই তেল ব্যবহার করা খুব সহজ – শুধু মাত্র কয়েক ফোঁটার ব্যবহারই আপনার মুখের ব্রণ, শুষ্ক ত্বক এবং ফাংগাল ইনফেকশন দূর করতে পারে। জোজোবা অয়েল আপনার চুলের স্বাস্থ্য উন্নতি এবং ঝরে যাওয়া চুল ফিরে পেতেও সাহায্য করে।

১. জোজোবা অয়েল ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে

বিভিন্ন রকম ত্বকের যত্নের পণ্যে জোজোবা অয়েল খুব সাধারণ একটি উপাদান। গবেষণাতে এই তেলের অ্যান্টি ইনফ্লেমেটোরি এবং অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

একটি জার্মান সমীক্ষা তাদের গবেষণায় জোজোবা অয়েল থেকে তৈরি “ফেইস মাস্কের” মুখের সমস্যা দূর করার নিরাময় বৈশিষ্ট্য দেখায়। এই ক্লে মাস্কগুলো প্রসাধনী প্রক্রিয়ার একটি অংশ ছিলো এবং এই তেল ক্ষত যুক্ত ত্বক এবং হালকা ব্রণ দূর করতে পারে।

জোজোবা অয়েলে ওয়্যাক্স এস্টার রয়েছে যা ব্রণের মত নানা রকম ত্বকের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

ব্রণের চিকিৎসার জন্য জোজোবা অয়েল ব্যবহার করা খুব সহজ। জোজোবা অয়েল এবং বেন্টোনাইট মাটি সমপরিমাণে নিয়ে মিশিয়ে নিন। মিশানোর পর যখন একটি মস্রিণ পেস্ট তৈরি হবে তখনেই পেস্ট আপনার মুখে এবং ফেইসে লাগাবেন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখবেন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।

আপনি এই পদ্ধতিটি প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার করতে পারেন। মাটির মিস্রণটি ধুয়ে ফেলার পর আপনার ত্বক কিছুক্ষণের জন্য লালচে দেখাতে পারে। তাই, রাতের বেলা ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনি এই পেস্টটি লাগাতে পারেন।

জোজোবা অয়েলের তৈলাক্ততা নিয়ে আপনার কোনো চিন্তা করতে হবে না। আপনার মুখে যে তেল তৈরি হয় ঠিক ওই তেলের মতই এর তৈলাক্ততা। তাই, আপনার ত্বক এই তেল মুখে উপর লেগে থাকতে না দিয়ে শোষণ করে নিবে।

জোজোবা অয়েল নন-কমেডোজেনিক, তাই এটি মুখের পোরস বন্ধ করে না।

২. আপনার ত্বক ময়েশ্চারাইজড করে

জোজোবা অয়েল প্রায়শই ত্বকের যত্নের পণ্যগুলিতে হিউম্যাক্ট্যান্ট হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এটি আপনার ত্বকে প্রতিরক্ষামূলক বাঁধা তৈরি করে সীল করে দেয় এবং ত্বককে ময়েশ্চারাইজড রাখে।

আর এই তেল সম্পর্কে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক মৌলিক সত্যটি হলো এটি আপনার ত্বকের পোরসগুলোকে বন্ধ না করেই ত্বককে ময়েশ্চারাইজড করে। এমনকি, এই তেল বেশিরভাগ ত্বকের ময়েশ্চারাইজারের একটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর ব্যবহারও অনেক সহজ। আপনার মুখ ক্লিনজিং এবং টোনিং করার পর, হাতের তালুতে ৫ থেকে ৬ ফোঁটা তেল নিন এবং আপনার মুখে বৃত্তাকারভাবে লাগান।

আপনি এই তেল ফেঁটে যাওয়া ঠোঁটে ব্যবহার করতে পারেন। এই তেল ত্বকে ভালোভাবে শোষিত হয় এবং বাষ্পীভূত হয় না, অন্যান্য কেমিক্যাল মিশ্রিত পণ্যের মত নয়।

জোজোবা অয়েল ত্বকের কোষগুলোর মধ্যে সঞ্চালিত হয় এবং ত্বকের ভেতরের পানি হারিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে ত্বককে সিল করে। এই বৈশিষ্ট্যটি একজিমাতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এই রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

জোজোবা অয়েল রোসেসিয়া রোগ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। যদিও এই বিষয়টি সমর্থন করার জন্য কোনও নিরপেক্ষ গবেষণা বিদ্যমান নেই, জোজোবা অয়েলের অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি এবং ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্যগুলি ঈই চিকিৎসাতে সহায়তা করতে পারে এমনটি ধরে নেওয়া যায়। তবে এই রোসেসিয়া রোগের চিকিৎসাতে এই তেল ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিবেন।

৩. ছত্রাকের সংক্রমণ দূর করে

জোজোবা অয়েলকে বিভিন্ন রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিফাংগাল কার্যক্রম করতে দেখা গেছে। গবেষণায়, জোজোবা অয়েল কিছু ছত্রাকের প্রজাতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা দেখিয়েছিল – সালমনেলা এবং ই. কোলাই সহ।

চর্মরোগ সংক্রান্ত গবেষণা থেকে আরও জানা গেছে যে জোজোবা অয়েল ছত্রাক সংক্রমণের সাথে সম্পর্কিত প্রদাহ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

যদিও এর সরাসরি কোনো গবেষনা নেই, তারপরও আপনি জোজোবা অয়েল নখ এবং পায়ের ছত্রাকের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। আক্রান্ত স্থানে প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার কয়েক ফোঁটা এই তেল লাগান।

৪. বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলিকে দেরিতে আস্তে সহায়তা করে

জোজোবা অয়েলের ময়েশ্চারাইজিং এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটোরি বৈশিষ্ট্যগুলি বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলিকে দেরিতে আস্তে সহায়তা করে। জোজোবা অয়েলের গঠন মানব দেহের সেবামের মতই এবং অল্প বয়সে বুড়িয়ে যাওয়ার লক্ষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে – ফাইন লাইন এবং বলিরেখার বিরুদ্ধেও কাজ করে।

শুষ্ক ত্বক আরেকটি গুরুতর সমস্যা যা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আরো বাড়তে থাকে। আর এই তেলের ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য এই সমস্যা সমাধানে ভালো ভূমিকা নিতে পারে। বয়সের ছাপ থেকে রক্ষা পেতে জোজোবা অয়েলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ত্বকে কোলাজেনের সংশ্লেষণ উন্নত করার ক্ষমতা। এই বৈশিষ্ট্যটি ক্ষত নিরাময়েও সাহায্য করতে পারে।

৫. ক্র্যাডল ক্যাপ নিরাময় করতে সাহায্য করে

ক্র্যাডল ক্যাপ হ’ল বাচ্চার মাথার ত্বকে খসখসে এবং হলুদ রঙের আঁশের গঠন। এটি মাত্রাতিরিক্ত সেবামের নিঃসরণের কারণে হয়ে থাকে।

এখন পর্যন্ত কোন গবেষনা এটা সমর্থন করেনি যে জোজোবা অয়েল ক্র্যাডল ক্যাপের চিকিৎসা করতে পারে। কিন্তু এর ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য এবং মানুষের সেবামের সাথে সাদৃশ্য ক্র্যাডল ক্যাপের লক্ষণ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

কিন্তু, আপনার শিশুর ত্বকে জোজোবা অয়েল ব্যবহার করার আগে অবশ্যই শিশুর চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিবেন।

৬. মেকআপ অপসারণে সহায়তা করে

জোজোবা অয়েলের নন-কমেডোজেনিক এবং ময়াশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্যের কারণে এই তেল একটি আদর্শ মেকাপ রিমুভার হিসেবে কাজ করে।

মেকাপ অপসারণ করার জন্য এর ব্যবহার অনেক সহজ। একটি তুলার বলে কয়েক ফোঁটা জোজোবা অয়েল মিশান এবং আপনার মেকাপকৃত ত্বকে ঘষুন। যদি আপনি অনেক বেশি মেকাপ ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনাকে বেশি কটন বল ব্যবহার করতে হবে।

আপনার মুখ থেকে সকল মেকাপ মুছে ফেলার পর পানি দিয়ে সম্পূর্ণ মুখ ধুয়ে ফেলুন। আপনি একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আপনার মুখ মুছে ফেলতে পারেন এবং তারপর কয়েক ফোঁটা জোজোবা অয়েল মুখে লাগিয়ে নিন।

৭. চোখের পাপড়ি ঘন করা এবং লিপ বাম হিসেবে ব্যবহার

জোজোবা অয়েল খুব মৃদু এবং তাই কোনো সংশয় ছাড়াই আপনি চোখের চারপাশে এটি ব্যবহার করতে পারেন। আঙ্গুলের অগ্রভাগে তেল লাগিয়ে আপনার চোখের পাপড়ির চারপাশে ভালোভাবে লাগান। আপনি লাগানোর জন্য তুলো ব্যবহার করতে পারেন। এই প্রক্রিয়াটি আপনি আপনার চোখের ভ্রু ঘন করতেও ব্যবহার করতে পারেন।

জোজোবা অয়েল লিপ বাম হিসেবে খুবই অসাধারন। এটি শুষ্ক ঠোঁট ঠিক করে এবং একে নরম ও কোমল করে তুলে। ঠোঁটে লিপ্সটিক লাগানোর আগে আপনি হালকা করে জোজোবা অয়েল লাগিয়ে নিতে পারেন, এতে আপনার ঠোঁট শুষ্ক হবে না।

নোটঃ এই পদ্ধতিগুলো কাজ করবেই এমন কোন গবেষনার প্রমাণ নেই। এই তথ্যগুলো অজানা প্রমাণের ভিত্তিতে তৈরি।

৮. চুল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে

জোজোবা অয়েলে ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য আছে যার ফলে এটি চুলে ব্যবহার করা যায়।

আপনি আপনার চুলের কন্ডিশনারে জোজোবা অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি আপনার চুলকে শুষ্কতা এবং আগা ফেটে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

জোজোবা অয়েলের ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য আপনার মাথার ত্বকের শুষ্কতা এবং খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। এই তেলে থাকা ভিটামিন ই আপনার মাথার চুল এবং মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো।

জোজোবা অয়েল চুলকে মজবুত করে এর কোনো সঠিক প্রমাণ নেই। কিন্তু এখানে একটি যুক্তি আছে – এই তেল চুলের ফলিক্যালস ময়েশ্চারাইজ করে এবং শুষ্কতা রোধ করে, অন্যথায় চুল ঝরে যেতে পারে।

কিছু শ্যাম্পুতে জোজোবা অয়েল (অথবা এর মোম) একটি প্রধান উপাদান হিসেবে যোগ করা হয়।

কিছু কিছু উৎস জোজোবা অয়েলকে অ্যালোপেসিয়া (টাক পরা) রোগের চিকিৎসার জন্য কার্যকরী ভাবেন। তবে এটি গবেষণা দ্বারা এখনো সমর্থিত হয়নি। তাই, আমরা “টাক পরা” চিকিৎসা বা এর প্রতিরোধের জন্য এই তেলের উপর সম্পূরণরূপে নির্ভর না হওয়ার পরামর্শ দেই। তাই সবার আগে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিন।

জোজোবা অয়েলে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যাতে আরোগ্য লাভের বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। আসুন এদের বিস্তারিতভাবে দেখে নেই।

জোজোবা অয়েলের গঠন কিরূপ?

জোজোবা অয়েলে সর্বাধিক ফ্যাটি অ্যাসিডের মধ্যে রয়েছে ওলিক, প্যালমেটিক এবং আইকোসেনোইক অ্যাসিড। অন্যান্য পুষ্টির মধ্যে ভিটামিন ই এবং বি কমপ্লেক্স, সিলিকন, কপার, জিংক এবং ক্রোমিয়াম অন্তর্ভুক্ত। এটিতে উচ্চ মাত্রায় আয়োডিন রয়েছে।

যদিও এই পুষ্টি উপাদানগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ, তবুও এরা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। অতএব, জোজোবা অয়েল ব্যবহার করার আগে সামান্য একটু লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

এই পরীক্ষা করা খুব সহজ। আপনার কনুই অথবা হাতের উলটো দিকে ৩ থেকে ৪ ফোঁটা জোজোবা অয়েল লাগান। একটি ব্যান্ডেজ দিয়ে ওই অংশ ঢেকে রাখুন এবং পুরো একদিন (২৪ ঘন্টা) অপেক্ষা করুন। ব্যান্ডেজটি অপসারণ করুন এবং আপনার ত্বক ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। যদি আপনি অ্যালার্জির কোনও চিহ্ন খুঁজে না পান, তাহলে এটি বযবহার করতে পারবেন।

কিন্তু এই ছোট পরীক্ষাটি করার আগে, সঠিক জোজোবা অয়েলটি নেওয়া আপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। মার্কেটে থাকা প্রচুর পণ্যের মধ্যে আপনাকে সতর্ক হয়ে সঠিক পণ্য বেছে নিতে হবে।

কিভাবে আপনি সঠিক জোজোবা অয়েল কিনবেন

সঠিক জোজোবা অয়েল সনাক্ত করা খুব সহজ। ১০০% অরগ্যানিক জোজোবা অয়েল নিবেন। নিশ্চিত করুন এটি কোল্ড-প্রেসড (এর মানে হলো তেল এর কোন উপকারী বৈশিষ্ট্য হারায়নি)

তেলটি অবশ্যই ১০০% খাঁটি হতে হবে। এমন তেল নেবেন না যা অন্য তেলের সাথে মিশ্রিত বা পরিশোধিত করা।

তাছাড়া আপনি আপনার কাছের কোনো সুপার শপ বা সুপার মার্কেট অথবা ঔষধালয় অথবা অনলাইন শপ থেকে কিনে নিতে পারেন। আপনি এখনই এটি ব্যবহার শুরু করতে পারেন তবে কিছু সতর্কতা মনে রেখে।

আপনার কি কি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে সতর্কতাটি অবলম্বন করতে হবে তা হলো এই তেল আপনি কোনো ভাবেই পান করবেন না। জোজোবা অয়েলে এরুসিক (Erucic acid) অ্যাসিড রয়েছে, এটি একটি টক্সিন যা হৃদরোগে অবদান রাখে।

সাময়িকভাবে লাগানোর কারণে কিছু লোকের মধ্যে সামান্য অ্যালার্জি (র‍্যাশ) হতে পারে। একটি ছোট পরীক্ষা করে এই সমস্যা সমাধান করতে পারবেন।

শেষ কথা

জোজোবা অয়েল নিয়ে আরও গবেষণা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান গবেষণা থেকে আমরা এটি অনুমান করতে পারি যে, এটি ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভবিষ্যতে আরো ভালো ফল আনবে। মনে রাখবেন এটি খেয়ে ফেলবেন না।

আমরা আশা করি ভবিষ্যতের গবেষণায় জোজোবা অয়েলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের সন্ধান পাওয়া যাবে।

Filed Under: Ingredients and Uses

প্রাকৃতিকভাবে ওজন বাড়ানোর ১০ টি বিস্ময়কর উপায়

by Mohona Leave a Comment

বর্তমানে সবাই যখন ওজন কমানোর পিছনে ছুটছে তার মাঝে অনেকেই আছে যার ওজন বাড়াতে আগ্রহী। কিন্তু অনেক সময় অনেকের কাছে প্রাকৃতিকভাবে ওজন বাড়ানো অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

আপনার হয়তো শারীরিক কোনো সমস্যা নেই তারপরেও ওজন বাড়াতে পারছেন না। কিংবা ওজন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখার এবং শরীরকে কর্মক্ষম রাখার আশা করছেন।

তাই, আমরা আপনার কাছে প্রাকৃতিকভাবে ওজন বৃদ্ধি করার সবচেয়ে উপযুক্ত ১০ টি পদ্ধতি তুলে ধরবো এবং পদ্ধতি গুলো অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত হবে। আশাকরি এই পদ্ধিতি গুলো অনুসরন করার মাধ্যমে আপনি কিছু কেজি ওজন বাড়াতে পারবেন!

১. লাল মাংস (Red Meat)

গরু, মহিষ, খাসি, ভেড়া প্রভৃতি পশুর মাংসকে রেড মিট বা লাল মাংস বলে। লাল মাংসে প্রচুর পরিমান কলেস্টেরল, প্রোটিন, ভিটামিন বি, জিংক এবং অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা শরীর গঠনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ওজন বাড়ানোর জন্য নিয়মিত লাল মাংস খেতে পারেন। মনে রাখবেন ভালো করে রান্না করে খাবেন। প্রক্রিয়াজাত বা বাসি খাবেন না।

মাংসের সবচেয়ে ভাল অংশ গুলো, যেমন পাঁজরের টুকরো (rib), টি-বোন (t-bon), স্ট্রিপ (strip) এবং হাঁড় ছাড়া মাংস, এগুলো চর্বির সবচেয়ে ভালো উৎস।

কিন্তু মনে রাখবেন উচ্চ মাত্রার চর্বিযুক্ত মাংস আপনার খাদ্যতালিকাতে রাখবেন না কারন এটি কোনভাবেই ওজন লাভ করার স্বাস্থ্যকর উপায় নয়।

২. পিনাট বাটার (Peanut Butter)

স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা খেতে চাইলে অবশ্যই পিনাট বাটারকেও আপনার সকালের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। পিনাট বাটার তৈরী করা হয় বাদাম থেকে। বাদামে প্রোটিন এবং ফ্যাটে পরিপূর্ণ।

যারা প্রাকৃতিকভাবে ওজন বাড়াতে চান তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাবার। মাত্র ১ টেবিল চামচ পিনাট বাটারে প্রায় ১০০ ক্যালোরি থাকে। পিনাট বাটারে ভিটামিন যেমন ম্যাগ্নেসিয়াম, ফলিক এ্যাসিড, ভিটামিন “বি” এবং ভিটামিন “ই” রয়েছে।

পিনাট বাটার সাধারণত আমরা পাউরুটি দিয়ে খাই তাই খাওয়ার সময় পাউরুটিতে পিনাট বাটারের অনেক পুরু প্রলেপ লাগান এবং আপনার দেহে ক্যালোরি বৃদ্ধি করুন।

৩. ফ্যাটযুক্ত দুধ (Full Cream Milk)

ওজন বাড়ানোর একটি সহজ সমাধান হলো আপনি পাস্তুরিত দুধের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ফ্যাটযুক্ত দুধ গ্রহন করুন। প্রতি গ্লাস ফ্যাটযুক্ত দুধ আপনাকে পাস্তুরিত দুধের চেয়ে ৬০ ভাগ বেশি ক্যালোরি প্রদান করবে। দুধে প্রচুর ভিটামিন এবং পুষ্টি রয়েছে।

এছাড়াও এটি একটি ভিটামিন “ডি” এবং “এ” সমৃদ্ধ উৎস। ওটমিল এবং সিরিয়ালের সাথে আপনি এই দুধ খেতে পারেন। আপনি এটি যেভাবেই গ্রহন করুন না কেন, এটি আপনার স্বাস্থ্যকে অনেক সুন্দর করবেই।

৪. ফল (Fruits)

সাধারনত, গ্রীষ্মকালীন ফল আপনার ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। আম, কলা, পেঁপে এবং আনারসে ভালো প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে, যেটি ওজন বাড়ানোর একটি দুর্দান্ত উপায়। প্রাকৃতিক চিনিযুক্ত এই ফল গুলো আপনার পেট পরিপূর্ণ করবে এবং আপনাকে তাত্ক্ষণিক শক্তি প্রদান করবে।

আপনি এই ফল গুলো দিয়ে খুব সহজ মিষ্টি জাতীয় খাবার বানাতে পারবেন এবং যার ফলে আপনি কৃত্রিম চিনি বাদ দিতে পারবেন। যদি আপনার কাছে ফল বিরক্তিকর মনে হয়, তাহলে আপনার পছন্দের ফল বা কয়েকটি ফল একসাথে ব্লেন্ড করে সুস্বাদু স্মুদি তৈরি করুন।

৫. আভাকাডো (Avocado)

আপনার খাদ্যে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আভাকাডো চমৎকার একটি উপায়। আভাকাডোর ১০০ গ্রামে প্রায় ১৬০ ক্যালোরি থাকে।

এছাড়াও এই আভাকাডো ভিটামিন এবং মিনারেলের খুব ভালো উৎস, যেমন এতে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন “ই”, ফলিক এসিড এবং পটাশিয়াম। তাই, আভাকাডোকে সবসময় সালাদ হিসেবে খেতে ভুলবেন না। এমনকি আপনি আপনার টোস্টের উপরেও আভাকাডো ছড়িয়ে দিয়ে খেতে পারেন।

৬. গমের পাউরুটি (Wheat bread)

গমের পাউরুটিতে প্রচু পুষ্টি এবং ক্যালোরি রয়েছে তাই সকালের নাস্তাতে শুধুমাত্র এই পাউরুটি খাওয়াও যথেষ্ট। এছাড়াও এই পাউরুটিতে ফাইবার এবং মিনারেল রয়েছে যা সাধারণ সাদা পাউরুটিতে পাওয়া যায় না। তাই সকালের নাস্তায় এই গমের পাউরুটি খেলে এটি আপনার পেটকে দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখতে সাহায্য করবে।

৭. মাখন অথবা ঘি (Butter or Ghee)

মাখনে উচ্চ মাত্রায় ক্যালোরি রয়েছে। যদি প্রতিদিন দুধ খেতে খেতে আপনি বিরক্ত হয়ে যান, তাহলে পাউরুটিতে মাখন লাগিয়ে মৃদু আঁচে ভালোভাবে ভেজে নিন। এটি সকালের নাস্তা হিসেবে খুব ভালো এবং সারাদিনে আপনার যতটুকু পুষ্টি প্রয়োজন তার সবটূকুই এর থেকে পাবেন। মনে রাখবেন, মাখনে অনেক বেশি ফ্যাট রয়েছে, তাই নিয়ন্ত্রনে রেখেই মাখন খান এবং উপভোগ করুন।

আপনি যদি মাখন পছন্দ না করেন, তাহলে আপনি বিকল্প হিসেবে ঘি খেতে পারেন। মাখনের পরিশোধিত রূপ হলো ঘি। আপনি রান্নায় তেলের পরিবর্তে ঘি ব্যবহার করতে পারেন কারন এর একটি ভালো স্বাদ আছে যা খাবারকে আরো সুস্বাদু করে তুলে। মাখন অথবা ঘি তে ডিম হালকা ভাবে ভেজে নিয়ে ডিমকে আরো সুস্বাদু করতে পারেন, এটি আপনাকে স্বাস্থ্যকর নাস্তা গ্রহণের পাশাপাশি আপনার ক্যালোরিও বৃদ্ধি করবে।

৮. বাদাম (Nuts)

যখন ওজন বৃদ্ধির কথা আসে তখন বাদাম একটি দুর্দান্ত খাবার। এরা ফ্যাট এবং পুষ্টির জন্য খুব ভালো উৎস। এছাড়াও বাদামে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। বিভিন্ন ধরণের বাদামের মিশ্রণ একসাথে খেলে এটা আপনার পেট দীর্ঘক্ষণ পূর্ণ রাখবে।

বর্তমানে নানা ধরনের বাদামের মিক্সড পাওয়া যাই আপনি চাইলে এই মিক্সড বাদাম ও খেতে পারেন। এগুলোকে আপনি ব্যাগে করে আপনার কর্মস্থলে অথবা কলেজে খুব সহজেই নিয়ে যেতে পারেন।

৯. পনির (Cheese)

পনির আমার খুব পছন্দ এবং আমি নিশ্চিত আপনিও পনির খুব ভালোবাসেন। এর সবচেয়ে সেরা বিষয়টি হলো আপনি আপনার প্রায় সকল পছন্দের রান্নায় এটি ব্যবহার করতে পারেন।

আবার, আপনি যদি দুধ পান করা থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন, তাহলে পনির খুব ভালো একটি বিকল্প কারণ এতে দুধের সকল পুষ্টিগুণ আছে। সাধারণত, বেশিরভাগ পনিরে প্রচুর ফ্যাট থাকে, তাই একজন ব্যক্তি পনির খেলে এটা প্রাকৃতিকভাবে তার ওজন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

১০. আলু (Potatoes)

সবাই আলু খেতে ভালোবাসে। দ্রুত ওজন বাড়ানোর জন্য আপনি আপনার খাদ্যে এই উচ্চ কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ সবজিটি যোগ করতে পারেন। আলুতে উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন, প্রচুর ফাইবার এবং ভিটামিন “সি” রয়েছে। আমরা প্রায়ই আলু ছিলকা ছাড়াই খাই, কিন্তু মনে রাখবেন আলুর ছিলকাতেই সবচেয়ে বেশি পুষ্টি থাকে। তাই আপনি আলুর ছিলকা তুলে ফেলার মানে হলো আপনি আলুর প্রধান ভিটামিন এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ অংশ তুলে ফেলছেন।

এগুলো হলো ওজন কমানোর জন্য কিছু প্রাকৃতিক খাবার। আপনি ওজন বাড়াতে বা কমাতে যেটাই করতে চান না কেন, এর জন্য আপনি অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারেন না। যদি কোন খাবারে উচ্চ মাত্রার ক্যালোরি থাকেও তার মানে এই না যে আপনি ওজন বাড়ানোর জন্য এটি খেতে পারবেন।

আমাদের শরীরের বেশিরভাগ পানি তাই সারা দিনে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি খান। তবে, খেতে বসার ঠিক আগে পানি খাবেন না বা খাওয়ার মাঝখানেও পানি খাবেন না। এতে ক্ষিদা নষ্ট হয়ে যায়।

পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। আপনি যত হালকা-পাতলাই হন না কেন ব্যায়ামে আপনিও দারুণ উপকৃত হবেন। নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনার ক্ষুধা বাড়বে। ফলে আপনার যদি ক্ষুধা মন্দা থাকে তা কাটিয়ে উঠে আপনি খেতে পারবেন।

ট্রান্স ফ্যাট, যেটি প্রধানত প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবারে পাওয়া যায়, এই ধরণের খাবার সবসময় এড়িয়ে চলতে হবে। এগুলো আসলে ভুল খাবার যেগুলো আপনাকে হৃদরোগের দিকে পরিচালিত করবে।

এটা সত্য যে চিনি জাতীয় পানীয় যেমন সোডা এবং ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এগুলো আপনার ওজন বৃদ্ধি করবে, কিন্তু এগুলো কোন স্বাস্থ্যকর উপায়ে আপনার ওজন বৃদ্ধি করবে না। সবসময় স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করাই হলো ওজন বাড়ানোর সবচেয়ে উত্তম উপায়।

সবশেষ একটা কথা আপনার যদি কোনো বদ অভ্যাস থাকে তা পরিহার করুন এবং রাতে ঠিকঠাক ঘুমিয়ে পড়া আর সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার মতো অভ্যাসের গড়ে তুলুন।

Filed Under: Weight Gain

ওজন বাড়ানোর জন্য ৫টি সেরা প্রোটিন শেইক

by Mohona 1 Comment

বর্তমানে প্রায় সবাই ওজন হ্রাস করতে চাই , তবে অনেকেই অনেকে আছেন যারা ওজন বাড়িয়ে নিতে চান।

যদিও পেশী অর্জনের জন্য সুষম খাদ্য এবং সঠিক ব্যায়াম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তবে ফুড সুপ্প্লিমেন্ট গুলি ক্যালরি এবং প্রোটিন সরবরাহ করে আপনাকে সহায়তা করতে পারে।

প্রোটিন শেইক সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুড সুপ্প্লিমেন্ট যা আপনার ওজন বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

কিন্তু, আমরা শুধু জানিনা না যে ওজন বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে উত্তম প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট কোনটি! এছাড়াও, এই প্রোটিন শেইক গুলো কীভাবে আপনার শরীরকে প্রভাবিত করে এবং ওজন বাড়াতে এরা আসলে কিভাবে সাহায্য করে? এবং আপনি কিভাবে এই সকল সাপ্লিমেন্ট থেকে প্রোটিন শেইক তৈরি করবেন?

আপনি এই পোস্টটিতে এই সব প্রশ্নের সকল উত্তর পেয়ে যাবেন! সুতরাং, পড়তে থাকুন!

১. হোয়ে প্রোটিন পাউডার শেইক (Whey Protein Powder Shake)

হোয়ে প্রোটিন (Whey Protein) পেশী বৃদ্ধির জন্য অন্যান্য প্রোটিনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট। সাধারণত, প্রোটিন পাউডার চর্বি হিসেবে আমাদের ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে না। আমাদের দেহে যা বৃদ্ধি পায় তা হলো পেশী, এবং এই পেশী বর্ধনের জন্য হোয়ে প্রোটিন সবচেয়ে উত্তম একটি সাপ্লিমেন্ট। এই প্রোটিন অনেক কোম্পানি দ্বারা প্যাকেটজাত হয়, এবং ভ্যানিলা, চকলেট, স্ট্রবেরি, এবং আনারস এই কয়েকটি স্বাদে বাজারে পাওয়া যায়।

খাওয়ার পর পরই হোয়ে (Whey) খুব দ্রুত হজম হয় এবং আপনার পেশীতে দ্রুত পৌঁছে যায়। এই প্রোটিনে ছোট ছোট পেপ্টাইডস আছে, যা পেশীতে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে। হোয়ে (Whey) অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে।

২৫০ মি.লি. পানি অথবা দুধে (গরম অথবা ঠান্ডা) ২ চা চামচ হোয়ে প্রোটিন পাউডার মিশান এবং এরপর আপনার হোয়ে প্রোটিন শেইকটি উপভোগ করুন। ব্যায়াম করার পর পরই এই প্রোটিন শেইক খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

২. ক্যাসিন প্রোটিন পাউডার শেইক (Casein Protein Powder Shake)

ক্যাসিন হলো আরেকটি দুধ ভিত্তিক প্রোটিন। হোয়ে এর মতই এটিও ব্যায়ামের পর পরই খেলে আপনার পেশীতে প্রোটিন উত্পাদন হার বাড়াতে পারে। এতে এ্যামিনো এসিডের খুব পুষ্টিকর ভারসাম্য বজায় আছে। যদিও এটি খুব ধীরে হজম হয়, ক্যাসিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে খাওয়ার জন্য একটি আদর্শ খাবার কারন ঘুমন্ত অবস্থায় এটি আপনার শরীরে ক্যাটাবোলিজম প্রতিরোধ করে।

ক্যাসিন সাপ্লিমেন্ট বিভিন্ন ধরণের স্বাদে খুব সহজেই পাওয়া যায়, অনেকটা হোয়ে প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের মতই। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে ব্যায়াম করার পরে হোয়ে প্রোটিন এবং ক্যাসিন প্রোটিন একসাথে মিশিয়ে খেলে উল্লেখযোগ্যভাবে পেশী খুব দ্রত বৃদ্ধি পায়।

২৫০ মি.লি. পানি অথবা দুধে (গরম অথবা ঠান্ডা) ১ চা চামচ হোয়ে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট, ১ চা চামচ ক্যাসিন প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট মিশিয়ে নিন, আপনার প্রোটিন শেইকটি তৈরি।

৩. ক্রিয়েটিন প্রোটিন শেইক (Creatine Protein Shake)

ক্রিয়েটিন প্রোটিন শেইক তিনটি এ্যামিনো এসিডের সমন্বয়ে গঠিত সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পছন্দের প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট। এতে আর্জিনিন, মিথিওনিন এবং গ্লিসিন রয়েছে।

অনেক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট মানুষের ওজন ৫-১০ পাউন্ডের মত বাড়াতে সাহায্য করে। ক্রিয়েটিন গ্রহণকারী মানুষের দেহে নাটকীয়ভাবে শক্তিমত্তার উন্নতি হয় এবং আরো বেশী কঠোর পরিশ্রমের ব্যায়াম করতে পারে এবং আরো দীর্ঘক্ষন ব্যায়ামে স্থায়ী হতে পারে। ক্রিয়েটিন পেশীর ভিতরে আই.জি.এফ-১ (IGF-1) এর মাত্রা বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য, যা দেহের বৃদ্ধির বিকাশে সাহায্য করে।

যদিও আপনি শুধু ক্রিয়েটিন গ্রহন করতে পারবেন কিন্তু কার্নোসিন সাপ্লিমেন্টের সাথে সমন্বয়ে এটি সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হয়।

২৫০ মি.লি. পানি অথবা দুধে (গরম অথবা ঠান্ডা) ১ চা চামচ ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট এবং ১ চামচ কার্নোসিন সাপ্লিমেন্টে মিশান এবং আপনার তৈরি শেইকটি উপভোগ করুন।

৪. ব্রাঞ্চড-চেইন এ্যামিনো এসিড শেইক {Branched-Chain Amino Acids (BCAAs) Shake}

সাধারনত, ব্রাঞ্চড-চেইন এ্যামিনো এসিড আইসোলিউসিন (Isoleucine), লিউসিন (leucine) এবং ভ্যালাইনের (valine) সাথে সম্পর্কিত। এই এ্যামিনো এসিড গুলি কোলাজেন সৃষ্টি এবং পেশীর টিস্যুর ক্ষয়পূরণের জন্য অপরিহার্য। লিউসিন এখানে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কারণ এটি পেশীর বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। এখানে উল্লিখিত তিনটি অ্যামিনো এসিডই আপনাকে শক্তি প্রদানের মাধ্যমে, পেশীর বিকাশ ঘটিয়ে এবং অবশ্যই পেশীর টিস্যুর ক্ষয়পূরণের মাধ্যমে কার্যকরীভাবে কাজ করে। ব্রাঞ্চড-চেইন এ্যামিনো এসিড কর্টিসোলও (একটি হরমোন যা টেস্টোস্টেরনকে বাঁধা দেয় এবং পেশীর ভাঙন বৃদ্ধি করে) হ্রাস করে।

২৫০ মি.লি. পানি অথবা দুধে (গরম অথবা ঠান্ডা) ২ চা চামচ বি.সি.এ.এ.এস. সাপ্লিমেন্ট মিক্স করুন এবং বি.সি.এ.এ.এস. প্রোটিন শেইক পান করুন।

৫. বিটা-অ্যালানিন/কার্নোসিন  শেইক (Beta-Alanine/Carnosine Shake)

বিটা-অ্যালানিন শেইক বিটা-অ্যালানিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে গঠিত যা কার্নোসিন গঠন করার জন্য হিস্টিডিনের সাথে মেশে।

উচ্চ মাত্রার কার্নোসিন উচ্চ মাত্রার সহনশীলতার সমান। কার্নোসিন আপনার পেশীর তন্তু বৃদ্ধির ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্লান্তি দূর করে।

সাধারণত, দু’টির পরিবর্তে একটি খাওয়ার চেয়ে বিটা-অ্যালানিন সাপ্লিমেন্ট এবং ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট সমন্বয় করে খেলে এটি আপনার পেশীর বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। বিটা-অ্যালানিন সাপ্লিমেন্ট নানা রকম স্বাদে কিনতে পাওয়া যায়।

২৫০ মি.লি. পানি অথবা দুধে (গরম অথবা ঠান্ডা) ১ চা চামচ বিটা-অ্যালানিন সাপ্লিমেন্ট এবং ১ চা চামচ ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট মিক্স করুন এবং আপনার বিটা-অ্যালানিন/কার্নোসিন এবং ক্রিয়েটিন শেইক উপভোগ করুন।

সুতরাং, এই প্রোটিন শেইক গুলো গ্রহণ করুন এবং ওজন বৃদ্ধি করুন।

Filed Under: Weight Gain

ওজন বাড়ানোর জন্য ১০ টি সহজ ঘরোয়া উপায়

by Mohona Leave a Comment

যদি আপনি সেই সব সংখ্যালঘুদের দলে থাকেন যারা ওজন হ্রাসের পরিবর্তে ওজন বৃদ্ধি করতে বেশি আগ্রহী, তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে উত্তম পথটি হল ঘরে তৈরি প্রতিকার গুলো গ্রহন করা।

এগুলো তৈরি খুবই সহজ এবং এগুলো খুব কার্যকরী, এবং এগুলো ব্যবহারে কোন ক্ষতিকর দিক নেই। এগুলো গ্রহন করার সবচেয়ে ভালো দিকটি হলো আপনি আপনার নিয়মিত জীবনধারায় এই প্রতিকার গুলোর কোন প্রকার পরিবর্তন না করেই বেশিরভাগই খুব কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন এবং খুব সহজেই ওজন বৃদ্ধি করতে পারবেন। ওজন বাড়ানোর জন্য ঘরোয়া প্রতিকারই সবচেয়ে সহজ একটি পথ।

ওজন বাড়ানোর জন্য সেরা ১০ টি ঘরোয়া উপায় দেওয়া হল যেগুলো তেমন কোন কষ্ট ছাড়াই আপনার ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে।

১. পরিশোধিত মাখন এবং চিনি

  • ১ টেবিল চামচ পরিশোধিত মাখন এবং তার সমপরিমান চিনি মিক্স করুন।
  • খাবার খাওয়ার আধা ঘন্টা আগে খালি পেটে এই মিশ্রনটি খাবেন।
  • শুধু ১ মাস এই মিশ্রনটি গ্রহন করলে আপনি চমকপ্রদ ফলাফল লক্ষ্য করবেন।

২. বিকালের ঘুম

  • বিকাল বেলা কমপক্ষে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
  • এটা শুধু আপনার ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে না, বরং এটা আপনাকে রাতের বেলা ভালোভাবে ঘুমাতেও সাহায্য করবে।

*দ্রুত ওজন বাড়ানোর জন্য এটি আমাদের সবচেয়ে প্রিয় একটি ঘরোয়া প্রতিকার!

৩. আম এবং দুধ

  • দিনে ৩ বার ১ টি করে আম (পাকা) খাবেন।
  • আম খাওয়ার পর অবশ্যই এক গ্লাস গরম দুধ পান করবেন।
  • ১ মাস পর আপনি লক্ষ্যণীয় ফলাফল দেখতে পাবেন।

৪. ডুমুর ফল এবং কিশমিশ

  • শুকনো ডুমুর ফল এবং কিশমিশ প্রচুর ক্যালরিতে পরিপূর্ণ, তাই তারা ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • ৬ টি শুকনো ডুমুর এবং প্রায় ৩০ গ্রাম কিশমিশ সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
  • এরপরের দিন এগুলোকে ২ ভাগ করে সকালে এবং রাতে খেয়ে নিন।
  • বেশিরভাগ মানুষ প্রায় ২০-৩০ দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট ফলাফল দেখতে পায়।

৫. পিনাট বাটার/বাদামের মাখন

বর্তমানে সবাই জানে যে পিনাট বাটারে প্রচুর ক্যালোরি থাকে। তাই ওজন বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে ভালো ঘরোয়া প্রতিকার হলো পিনাট বাটার।

আপনার পাউরুটিতে বেশি করে পিনাট বাটার লাগান এবং দেখতে থাকুন আপনার ওজন কত দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।

৬. আলু

আলু কার্বোহাইড্রেটে পরিপূর্ণ, তাই এখানে কোন সন্দেহ নেই যে প্রতিদিন আলু খেলে এটি আপনার ওজন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

আলুতে মাখন লাগিয়ে গ্রিল অথবা ওভেনে বেক করুন, অথবা আপনি যদি পছন্দ করেন তাহলে এক্সট্রা ভার্জিন অয়েল দিয়ে আলু গুলোকে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই করুন, তবে সপ্তাহে ২ বারের বেশি আলু খাবেন না।

৭. বাদাম

বাদাম যেমন আমন্ড, আখরোট, সূর্যমুখী বীজ এবং শস্য বীজ এগুলোতে প্রচুর ক্যালোরি রয়েছে এবং দিনে ৩ বেলা আহার গ্রহন করার মাঝখানের বিরতি গুলোতে খাওয়ার জন্য সেরা হলো বাদাম।

এদের দারুণ স্বাদ উপভোগ করার জন্য, পুষ্টি পাওয়ার জন্য এবং অবশ্যই ওজন বাড়ানোর জন্য বেশি বেশি বাদাম খাবেন। বাদামে স্বাস্থ্যকর তেল রয়েছে এবং এটি আপনার ওজন বাড়ানোর জন্য একটি স্বাস্থ্যকর উপায়।

৮. স্ট্রেস মুক্ত থাকা

ওজন কমে যাওয়ার একটি প্রধান কারন হলো স্ট্রেস বা চাপ। তাই আপনি যদি ঘরে বা কর্মক্ষেত্রে চাপগ্রস্থ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তাহলে যোগ ব্যায়াম করুন অথবা শ্বাস নিয়ন্ত্রন করার কৌশল আয়ত্ত করার চেষ্টা করুন।

এই কৌশল গুলো আপনার শরীরকে চাপমুক্ত করতে সাহায্য করবে। যখন আপনি আপনার চাপ নিয়ন্ত্রন করা এবং নিজেকে চিন্তা মুক্ত করার কৌশল আয়ত্ত করে ফেলবেন, তখন দেখবেন ওজন বৃদ্ধি করা আপনার জন্য খুব সহজ হয়ে গিয়েছে।

৯. কলা এবং দুধ

আপনি হয়ত জানেন না যে কলা প্রচুর পরিমাণ ক্যালোরিতে পরিপূর্ণ। এরা আপনাকে মুহূর্তের মধ্যে শক্তি সরবরাহ করতে পারে।

এর মাধ্যমেই বুঝা যায় কেন টেনিস খেলোয়াড়েরা প্রতি খেলার মাঝখানে প্রায়ই কলা খান। প্রতিদিন সকালে একটি করে কলা খাবেন এবং খাওয়ার পরেই এক গ্লাস গরম দুধে এক চা চামচ চিনি মিশিয়ে পান করবেন।

১০. বাদাম দুধ

কয়েক পাউন্ড ওজন বাড়ানোর জন্য বাদাম দুধ পান করাও একটি দুর্দান্ত উপায়। দুধের সাথে বাদাম, শুকনো ডুমুর ফল এবং খেজুর মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। ফুটানো হয়ে গেলে দুধ ছেঁকে নিন এবং এক মাস ধরে প্রতিদিন এই গরম দুধ পান করুন। সিদ্ধ বাদাম, ডুমুর এবং খেজুর গুলো ফেলে দিবেন না। সিদ্ধ করার পরেও এগুলোর ভিতরে অনেক পুষ্টি বিদ্যমান থাকে। তাই এগুলোও খেয়ে ফেলুন।

আপনি আপনার ওজন বাড়ানোর জন্য নানা রকম ঘরোয়া প্রতিকার গুলোকে সমন্বয় করে নতুন খাবার বানাতে পারেন এবং আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত ওজন পাওয়া পর্যন্ত এই ঘরোয়া পদ্ধতি গুলো চালিয়ে যান।

যদি আপনি আপনার ওজন বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যকর, সহজ এবং জটিলতাবিহীন ঘরোয়া প্রতিকার চান তাহলে আমাদের দেওয়া এই ১০ টি খাদ্য অনুসরন করতে পারেন।

Filed Under: Weight Gain

  • « Go to Previous Page
  • Page 1
  • Interim pages omitted …
  • Page 13
  • Page 14
  • Page 15
  • Page 16
  • Go to Next Page »

Primary Sidebar

সাম্প্রতিক লেখা

১৬টি সেরা খাবার সকালবেলার দৌড়ের পর খাওয়ার জন্য – পোস্ট-রান রিকভারি পুষ্টি

ওজন কমাতে সেরা ২০টি ডিটক্স স্মুদি: উপাদান, প্রস্তুতি ও উপকারিতা

সহজে হজম হয় এমন ১৬টি হালকা খাবারের রেসিপি

Low FODMAP Diet: ৩ ধাপের পরিকল্পনা ও কোন খাবার খাবেন, কোনটা এড়িয়ে চলবেন

প্যালিও ডায়েট: উপকারিতা, ঝুঁকি ও ৭ দিনের খাবার পরিকল্পনা

বিভাগ সমূহ

  • Fashion
  • HAIR CARE (চুলের যত্ন)
    • Basic Hair Care (বেসিক হেয়ার কেয়ার)
    • Dandruff (খুশকি)
    • Dry Hair Care (শুকনো হেয়ার কেয়ার)
    • Hair Care Ideas
    • Hair Fall ( চুল পড়া)
    • Hair Growth ( চুল বৃদ্ধি)
    • Hair Treatment (চুল চিকিৎসা)
    • Oily Hair Care ( তৈলাক্ত চুলের যত্ন)
  • HEALTH & WELLNESS (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা)
    • Diet Tips
    • Fitness
    • Healthy Food
    • Home Remedies
    • Ingredients and Uses
    • Nutrition (পুষ্টি)
    • Weight Gain
    • Weight Loss (ওয়েট লস)
  • Lifestyle (জীবনযাপন )
  • MAKEUP (মেকআপ)
    • Bridal Makeup (ব্রাইডাল মেকআপ)
    • Eye Makeup (চোখের সাজসজ্জা)
    • Lip Make up (লিপ আপ করুন)
  • SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)
    • Acne
    • Anti Ageing
    • Beauty Secrets
    • Dry Skin
    • Face Care Tips
    • Face Packs and Masks
    • Glowing skin
    • Homemade Tips
    • Oily Skin
    • Skin Care Ideas
    • Skin Care Problems
    • Sunscreen
  • Top 10's

Copyright © 2026 · RUP KOTHON · All rights reserved ®