• Skip to primary navigation
  • Skip to main content
  • Skip to primary sidebar

রূপকথন

Healthier Lifestyljhhe Choices

  • Facebook
  • Home
  • Shop
  • Blog
    • মেকআপ
      • ব্রাইডাল মেকআপ
      • সেলিব্রিটি মেকআপ
      • চোখের সাজসজ্জা
      • মুখের রূপসজ্জা
      • লিপ মেকআপ
      • মেকআপের ধারণা
      • মেহেদী ডিজাইন
      • নখের ডিজাইন
    • চুলের যত্ন
    • ত্বকের যত্ন
    • চুল স্টাইল
    • স্বাস্থ্য ও সুখ
      • ফিটনেস
      • স্বাস্থ্যকর খাবার
      • ওজন বৃদ্ধি
      • ওজন কমানো
      • যোগ ব্যায়াম
      • ডায়েট টিপস
      • আয়ুর্বেদ
  • Contact Us

রূপকথন ডেস্ক

সেরা ১০ টি সবজি যা আপনাকে দ্রুত লম্বা হতে সাহায্য করে

by রূপকথন ডেস্ক

এটি সকলের জানা যে ,একজনের উচ্চতা একজনের জিনের উপর নির্ভর করে। কিন্তু, অনেক সময় মানুষ তাদের আদর্শ উচ্চতায় পৌঁছাতেও সক্ষম হয় না। একটি প্রধান কারণ ভারসাম্যহীন পুষ্টি হতে পারে। তবে ভাল খবর হল কিছু সবজি আছে যা আপনাকে লম্বা হতে সাহায্য করতে পারে। আপনার ডায়েটে কিছু শাকসবজি হরমোনের সঠিক নিঃসরণে সাহায্য করতে পারে যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে, যা বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

একজনকে সব সময় মনে রাখা উচিত যে কিশোর বয়সে শরীর তার উচ্চতায় সর্বোচ্চ বেড়ে  যায়।এটি বলা হয়ে থাকে, বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি দিয়ে তৈরি একটি সুষম খাদ্য একজনের সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এই আলোচনাটি  বিভিন্ন শাকসবজি নিয়ে করা হবে যা আপনি আপনার ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, কেননা এসব শাক সবজি আপনার বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। 

কোন শাকসবজি আপনাকে লম্বা হতে সাহায্য করতে পারে?

আপনার বেড়ে ওঠার বয়স পার হয়ে যাওয়ার পরও কিছু শাকসবজি আপনাকে স্বাভাবিকভাবে আপনার উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে। সেগুলো হলো : 

১.রুবার্ব (Rhubarb):

Rhubarb হল একটি ভেষজ উদ্ভিদ যা পুরু এবং ছোট রাইজোম থেকে জন্মে। এই গাছপালা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফল হিসাবে বিবেচিত হয়। এই গাছগুলি প্রধান খাবার হিসাবে রান্না করা যায়। এই বিশেষ উদ্ভিদের ব্যবহার শরীরকে ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এটি শরীরে বৃদ্ধির হরমোন নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে, ফলে এটি লম্বা হতে সাহায্য করে।

২.বাঁধাকপি পাতা (Collard Greens):

কোলার্ড গ্রিনস এসেফালা গ্রুপের একটি অংশ যা খুবই পুষ্টিকর উদ্ভিদ। এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, দ্রবণীয় ফাইবার এবং কিছু অ্যান্টি-ক্যান্সার বৈশিষ্ট্য রয়েছে । এগুলো খাওয়া উচ্চতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।

৩. পালং শাক (Spinach):

পালং শাক একটি সবুজ সবজি যা বেশিরভাগ এশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং এতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, আয়রন এবং ফাইবার রয়েছে যা শরীরের সঠিক কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয়। শরীরের সঠিক বৃদ্ধির জন্যও এই পুষ্টিগুণ গুরুত্বপূর্ণ।

৪.শালগম (Turnip):

শালগম বেশিরভাগ বিশ্বের নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে জন্মে তবে আজকাল তাদের বিশ্বব্যাপী পাওয়া যায়। এই সুন্দর সবজিতে রয়েছে ভিটামিন, ফাইবার, প্রোটিন, ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল । শালগম সামগ্রিক খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম গ্রহণে অবদান রাখে, যার ফলে হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত হয় । এটি উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

৫. ঢেড়শ (Okra):

ওকরার সাধারণ নাম হল লেডি’স ফিঙ্গারস বা ভিন্ডি। এই উদ্ভিদের উদ্ভিজ্জ খুবই গুমোট যা রেচক হিসেবে কাজ করে। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং এতে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, পানি এবং ফাইবার রয়েছে । এই পুষ্টিগুলি শরীরের বৃদ্ধির হরমোনগুলিকে জড়তা থেকে বের করে আনে  এবং শরীরকে বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করে । 

৬.মটরশুটি (Beans):

মটরশুটি খুবই পুষ্টিকর সবজি। এগুলিতে ভিটামিন, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফোলেট এবং ফাইবার এর মতো পুষ্টি থাকে। মটরশুটি ব্যবহার আপনার উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে কারণ এতে উচ্চ পরিমাণে প্রোটিন থাকে।

৭.ব্রকলি (Broccoli):

ব্রকলি হল ফুলকপি পরিবারের অন্তর্গত একটি ভোজ্য উদ্ভিদ। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং এতে ভিটামিন সি, বিভিন্ন ফাইবার এবং আয়রন  রয়েছে। ব্রকলি খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং শরীরের সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ভিটামিন কে এবং অন্যান্য পুষ্টির উপস্থিতির কারণে উচ্চতা বৃদ্ধি করতে পারে।

৮.মটর (Peas):

এই গোলাকার আকৃতির সবুজ শাকসবজি খুবই পুষ্টিকর এবং একজন ব্যক্তির বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে এগুলিতে প্রোটিন, ভিটামিন, ফাইবার, লুটেইন এবং খনিজ রয়েছে যা উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৯. ব্রাসেলস স্প্রাউটস (Brussels Sprouts):

ব্রাসেলস স্প্রাউটগুলি বাঁধাকপি পরিবারের অন্তর্গত। এগুলিতে ক্যানসার-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন, আয়রন, ফাইবার ইত্যাদি রয়েছে । এরা  শরীরের বৃদ্ধির হরমোনগুলিকে উদ্দীপিত করতে কাজ করে।

১০.চীনা বাঁধাকপি (Bok choy):

বক চয় হল চাইনিজ বাঁধাকপি, যা ডায়েটারি ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ইত্যাদিতে সমৃদ্ধ । এখানে তালিকাভুক্ত অন্যান্য সবজির মতো, বক চয়ও শরীরের বৃদ্ধির হরমোনকে উদ্দীপিত করে এবং উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে।

প্রতিটি ব্যক্তি কিশোর বয়সে তাদের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অর্জন করে  এবং তাদের উচ্চতা নির্ধারণে তাদের জেনেটিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ,কেউ কেউ দুর্বল পুষ্টির কারণে ততটা লম্বা হতে পারে না। সৌভাগ্যবশত, রেবার্ব এর মতো আরো অনেক শাকসবজি খাওয়া আপনাকে লম্বা হতে সাহায্য করে,কারণ তারা শরীরে বৃদ্ধির হরমোনকে উদ্দীপিত করে। 

উপরে তালিকাভুক্ত শাকসবজি,যেমন কলার শাক, পালং শাক, শালগম, ওকড়া, মটরশুটি ইত্যাদি, প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, ট্রেস উপাদান এবং ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টে সমৃদ্ধ যা উচ্চ পুষ্টিগুন সম্পন্ন। সুতরাং, এগুলিকে আপনার ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করুন এবং নিজেই এর ফলাফল দেখতে পাবেন।

Filed Under: HEALTH & WELLNESS (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা), Healthy Food, Top 10's

ফ্রুট ফেসিয়াল: বাড়িতে বসেই কীভাবে করবেন? (সম্পূর্ণ গাইড)

by রূপকথন ডেস্ক

ফলমূল অত্যন্ত ভিটামিন এবং পুষ্টিতে ভরপুর যা শুধুমাত্র আপনাকে ফিট এবং সুস্থ থাকতে সাহায্য করে না বরং আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। ফেসিয়াল করার জন্য আপনার স্পা বা পার্লার যাওয়ার  করার দরকার নেই। এর পরিবর্তে, আপনি বাড়িতে একটি ফ্রুট ফেসিয়াল করতে পারেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই স্পা-এর মতো উজ্জ্বলতা অর্জন করতে পারেন।

এই লিখাটি পড়ে ফেসিয়ালের জন্য উপযোগী ফলের তালিকার সাথে সাথে ঘরে বসেই কিভাবে ফলমূল দিয়ে ফেসিয়াল করতে হয় , সেই সম্পর্কে বিশদভাবে ধারণা পাবেন।

এই লিখাটি পড়ে আপনারা জানতে পারবেন-                                                                          

  • ফেসিয়ালের জন্য ব্যবহার উপযোগী ফল
  • বাড়তি কি কি উপাদান যোগ করতে হবে 
  • বাড়িতে কীভাবে ফ্রুট ফেসিয়াল করবেন: ধাপে ধাপে নির্দেশিকা
  • ফ্রুট ফেসিয়াল করার আগে এবং পরে যা করবেন

ফেসিয়ালের জন্য ব্যবহার উপযোগী ফল (Fruits To Use For  Facials):

১. জাম্বুরা (Grapefruit):

কসমেটিক পণ্যগুলিতে ব্যবহৃত জাম্বুরার নির্যাস ত্বকের হাইড্রেশন উন্নত করতে এবং ত্বককে হালকা করতে ব্যবহার করা হয়। জাম্বুরা ত্বকের উজ্জ্বলতা এবং টেক্সচার বাড়াতে সাহায্য করে বলেও বলা হয়।

২. আঙ্গুর (Grapes):

আঙ্গুরে একটি উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে যা ত্বককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। তারা ত্বকের সংক্রমণ এবং ব্যাধিগুলির চিকিৎসা করতেও সহায়তা করে থাকে।

৩. ডুমুর (Fig):

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডুমুরের নির্যাস দিয়ে তৈরী একটি ক্রিম এপিডার্মাল ক্ষয় কমাতে এবং স্কিন হাইড্রেশন এবং সিবাম এর ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। ডুমুর হাইপারপিগমেন্টেশন, ব্রণ, ফ্রেকলস এবং বলিরেখা কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

৪. পেঁপে (Papaya):

পেঁপেতে ভিটামিন এ, সি এবং ই রয়েছে যা তাদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ব্যারিয়ার ফাংশন রক্ষা করে এবং বার্ধক্যজনিত দাগ ছোপ কমাতে সাহায্য করে ।

৫. রাস্পবেরি (Raspberry):

রাস্পবেরি নির্যাস ভাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর কাজ করে থাকে এবং মুক্ত র্যাডিকেল কমাতে সাহায্য করতে পারে যা বলিরেখা এবং বার্ধক্যজনিত অন্যান্য দাগ বা ছোপ সৃষ্টি করে। 

৬.আপেল (Apple):

আপেলগুলিতে আলফা-হাইড্রক্সি অ্যাসিড এবং পলিফেনলিক যৌগ থাকে যা রুক্ষ ও শুষ্ক ত্বককে মসৃণ করতে এবং কোষের পুনর্গঠন করতে করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি বয়সের দাগ হালকা করে এবং বলি এবং দাগ কমায়।

৭. কলা (Banana):

কলা ত্বকে ফোলাভাব এবং জ্বালা বা চুলকানি প্রশমিত করতে সাহায্য করে । মুলতানি মাটির সাথে ব্যবহার করা হলে, এটি পোরস পরিষ্কার করতে এবং কোনও ময়লা বা প্রসাধনী পণ্যের অবশিষ্টাংশ অপসারণ করতেও সহায়তা করে থাকে।

৮. স্ট্রবেরি (Strawberry):

স্ট্রবেরিতে রয়েছে পলিফেনল, ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি UV ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। UV রশ্মি অকাল বার্ধক্য এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৯.টমেটো(Tomato):

টমেটোতে লাইকোপিন রয়েছে, একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট । এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট UV ক্ষতির বিরুদ্ধে ত্বককে রক্ষা করতে পারে।

১০. লেবু (Lemon):

লেবুতে ব্রণ ধ্বংসকারী এবং জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি তৈলাক্ত বা সংমিশ্রণ ত্বকে ব্রণের চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে ভাল ব্যবহারযোগ্য । এটি কোলাজেন উৎপাদনও বাড়ায়, যা ত্বকের মসৃণতা এবং গঠন উন্নত করে। এটিতে অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্যও রয়েছে এবং বলিরেখা কমাতে পারে।

১১. শসা (Cucumber):

শসার  বৈশিষ্ট্যগুলি হলো শীতল, প্রশান্তিদায়ক এবং নিরাময়কারী । তাদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বলিরেখা  এবং রোদে পোড়া প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।

বাড়তি কি কি উপাদান যোগ করতে হবে(Added Ingredients):

মধু (Honey):

মধুতে অ্যামিনো অ্যাসিড, প্রোটিন এবং ভিটামিন রয়েছে যা ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এটি একটি হিউমেক্ট্যান্ট যা এর অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। এটি বলিরেখা এবং দাগের দৃশ্যমানতা হ্রাস করে। এটি ত্বকের pH মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে।

দুধ (Milk):

গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, দুধ ত্বক পরিষ্কার করতে পারে । কন্ডিশনিং এজেন্ট হিসাবে প্রসাধনী পণ্যগুলোতে প্রায়ই দুধ যোগ করা হয়। এছাড়া  দুধ ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে পারে।

দই (Yogurt):

দইয়ের মতো প্রোবায়োটিকগুলি ব্রণ এবং রোসেসিয়ার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। এগুলি ত্বককে বার্ধক্য এবং ফটোড্যামেজ থেকে রক্ষা করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। 

ওটমিল(Oatmeal):

ওটমিলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলি অকাল বার্ধক্যের ছাপকে হ্রাস করতে পারে। 

বাড়িতে কীভাবে ফ্রুট ফেসিয়াল করবেন: ধাপে ধাপে নির্দেশিকা

ধাপ 1: পরিষ্কার করা

  • প্রথম ধাপ হল আপনার মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করা।
  • আপনি হয়তো একটি হালকা সাবান দিয়ে মুখ ধুতে পারেন,কিন্তু আমরা পরামর্শ দিই যে সমস্ত বর্জ মুছে ফেলার জন্য একটি তুলোর বলে ঠান্ডা কাঁচা দুধ ব্যবহার করুন। দুধ ক্লিনজার হিসাবে দুর্দান্ত এবং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, তাই এতে কোনও কঠোর রাসায়নিক পদাথ নেই।
  • ত্বক পরিষ্কার করতে একটি বৃত্তাকার গতিতে তুলার বল ব্যবহার করুন।
  • পরিষ্কার করার পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। দুধ পোরস থেকে ময়লা এবং জঞ্জাল অপসারণ করতে সাহায্য করে এবং মুখে তাৎক্ষণিক চকচকে ভাব এনে দেয়।

ধাপ 2: এক্সফোলিয়েটিং

  • একটি ভাল ফ্রুট ফেসিয়ালের পরবর্তী ধাপ হল এক্সফোলিয়েট করা।
  • এর জন্য আপনার প্রয়োজন হবে ১ টেবিল চামচ ওটমিল এবং ১ টেবিল চামচ লেবুর খোসার গুঁড়া বা শুকনো লেবুর খোসা।
  • দুটি একসাথে মেশান এবং সামান্য গোলাপ জল/স্বাভাবিক পানি যোগ করে একটি পেস্ট তৈরি করুন।
  • এছাড়াও, আপনি পেস্ট তৈরি করতে একটি মিক্সার ব্যবহার করতে পারেন।
  • লেবুর খোসা নিন, তাতে কিছুটা পানি  দিন এবং মিক্সার ব্যবহার করে এটিকে একটি পাল্প তৈরি করুন।
  • তারপর পেস্ট তৈরি করতে এতে ওটমিল যোগ করুন।
  • পেস্ট প্রস্তুত হওয়ার পরে, একটি বৃত্তাকার গতিতে আপনার আঙ্গুলগুলি ব্যবহার করে এটি আপনার সারা মুখে লাগান।
  • আপনার ঘাড়েও পেস্টটি ব্যবহার করুন। 

ধাপ 3: উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করা

  • আপনার ত্বকে কিছুটা মধু ঘষুন যাতে ত্বক কিছুটা উজ্জ্বল হয়।
  • মধু ব্লিচ হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।
  • ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

ধাপ 4: ত্বকের পোরস উন্মুক্ত করা 

  • একটি প্যান নিয়ে তাতে গরম পানি ফুটিয়ে নিন এবং এটির বাষ্প আপনার মুখে ব্যবহার করুন।
  • ৫ মিনিট পর্যন্ত এটি করুন  এবং বাষ্প ধরে রাখতে মুখের উপর একটি তোয়ালে দিয়ে ঝুঁকে বাষ্প নিন।
  • এতে আপনার ত্বকের লোমকূপের ছিদ্র খুলে যাবে।

ধাপ 5: ফ্রুট ফেসিয়াল

  • একটি পাকা টমেটো নিন এবং এটি ম্যাশ করে একটি পেস্ট তৈরী করুন এবং এতে কয়েক ফোঁটা লেবু যোগ করুন।
  • মিশ্রণটি ২০-৩০ মিনিটের জন্য রেফ্রিজারেটরে রাখুন এবং তারপর বের করে নিন।
  • এতে এক চা চামচ মধু যোগ করুন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে এবং ঘাড়ে লাগান।
  • ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন এবং পানি  দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • এছাড়াও টমেটো না  থাকলে একটি পাকা কলা ম্যাশ করুন এবং কিছু লেবুর রস এবং এক চা চামচ মধু যোগ করুন। ভালো করে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ১৫ মিনিটের জন্য এটি রেখে দিন।

ধাপ 6: ময়শ্চারাইজ করুন

  • একটি শসা নিন এবং এর একটি পেস্ট তৈরি করুন।
  • এই পেস্টটি মুখ এবং ঘাড়ের অংশে লাগান।
  • ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিন এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন এবং আপনার ঘরে বসে ফেসিয়াল করা শেষ ।
  • সবশেষে আপনাকে একটি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার অবশ্যই করতে হবে।

আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয়ে  থাকে তবে আপনি ফলের সাথে গ্লিসারিন, নারকেল তেল বা অ্যালোভেরার মতো ময়েশ্চারাইজিং উপাদানগুলি ব্যবহার করতে পারেন। আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত বা সংমিশ্রিত থাকে তবে ফলের সাথে রোজমেরি বা পিপারমিন্টের মতো তেলের ব্যবহার করতে পারেন।

আপনার ফ্রুট ফেসিয়াল শুরু করার আগে এখানে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

ফ্রুট ফেসিয়াল করার আগে এবং পরে যা করবেন:

ফেসিয়াল করার আগে(Before The Facial):

আপনার ত্বক পরিষ্কার আছে কি-না তা নিশ্চিত করুন। একটি ফেস ওয়াশ দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে নিন এবং আপনার ত্বককে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে একটি ক্লিনজার ব্যবহার করুন। আপনার ত্বক থেকে সমস্ত মেকআপ অপসারণ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।হালকা ময়েশ্চারাইজারও লাগাতে পারেন। আপনার যদি ব্রণ-প্রবণ ত্বক থাকে তবে নিশ্চিত করুন যে ময়েশ্চারাইজারটি  ক্রিম বা তেল জাতীয় যাতে না হয়। 

ফেসিয়ালের পর(After The Facial):

আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন। আপনার মুখ ঘষবেন না কারণ এটি লালভাব সৃষ্টি করতে পারে। শুয়ে থাকুন এবং আপনার ত্বককে ফেসিয়াল করার পরে স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিতে দিন। কেননা ফেসিয়ালের উপাদাগুলোর ত্বকে কাজ করতে কিছুটা সময় লাগে। তাজা ফলের পাল্প দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ত্বককে অত্যন্ত সতেজ করে তোলে । এগুলি আপনার ত্বককে পুনরুজ্জীবিত, নরম, উজ্জ্বল এবং সতেজ করার সর্বোত্তম উপায়। এই ফেস প্যাকগুলি আপনার ত্বক পরিষ্কার করতে পারে, সমস্ত বর্জ দূর করতে পারে এবং এটিকে হাইড্রেটেড রাখতে পারে। বাসায় ফ্রুট ফেসিয়াল করতে আমাদের শেয়ার করা প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করুন। 

এমনকি প্রক্রিয়াগুলোকে আপনি আপনার ত্বকের সাথে মানানসই করে বিভিন্ন উপাদান যোগ করে পরিবর্তন করেও ব্যবহার করতে পারেন । যাইহোক, কোন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করার আগে সবসময় একটি প্যাচ পরীক্ষা করুন। এটি আপনাকে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া এড়াতে সহায়তা করবে।

Filed Under: Face Care Tips, SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)

মধু কি মুখ ও ত্বকের জন্য উপকারী? এটি কিভাবে ব্যবহার করতে হয়?

by রূপকথন ডেস্ক

মধু হল সবচেয়ে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক উপাদানগুলির মধ্যে একটি। এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং এটি ত্বকের যত্নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন উপাদান। অনেক লোক উজ্জ্বল ত্বক এবং নরম, হাইড্রেটেড চেহারা বজায় রাখার জন্য মধু ব্যবহার করে। এছাড়াও, মধুতে উপস্থিত প্রাকৃতিক এনজাইমগুলি এটিকে ত্বকের যত্নের একটি কার্যকারী উপাদান করে তোলে। তাই প্রায় দেখবেন ত্বকের যত্নের পণ্যে মধু ব্যবহার হয়ে থাকে।

মধুতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং ক্ষত নিরাময়ের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আপনার বাড়িতে এক বোতল মধু থাকলে, আপনি সহজেই আপনার ত্বকের জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন।

এই আলোচনায় ত্বক চর্চায় মধু আমাদের কি কি উপকার করে তা সম্পর্কে জানতে পারবো।

মধু ব্রণ সারাতে পারে (Honey Can Heal Acne): গবেষণায় দেখা গেছে যে, মধুতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি অনেক রকমের চর্মরোগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জীবাণুর বৃদ্ধিকে বাধা দেয়।এসব জীবাণুদের মধ্যে রয়েছে P. acnes এবং S. aureus যা ব্রণ সৃষ্টি করে। S. aureus এটোপিক ডার্মাটাইটিস এবং অন্যান্য ত্বকের সংক্রমণের কারণ হতে পারে।  

এটি ক্ষত নিরাময় করে (It Heals Wound): মধু ছোটখাটো পোড়া এবং ক্ষত নিরাময় করতে পারে এবং ত্বকের সমস্যা যেমন ত্বকের সোরিয়াসিস, খুশকি এবং ডায়াপার ডার্মাটাইটিসের বিরুদ্ধে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে। 

এটি আপনার ত্বককে ময়েশ্চারাইজড রাখে (It Keeps Your Skin Moisturized): মধু একটি চমৎকার ইমোলিয়েন্ট এবং হিউমেক্ট্যান্ট যা আপনার ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। তাই, এটি ময়শ্চারাইজিং ক্রিম এবং লোশনগুলিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। আপনার ত্বক যদি শুষ্ক  থাকে তবে আপনি ত্বককে  নরম এবং কোমল রাখতে মধু ব্যবহার করতে পারেন।

মধু ত্বকের পিএইচ বজায় রাখতে সাহায্য করে (Honey Helps Maintain Skin pH): মধু আপনার ত্বকের pH নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যেকোনো ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে । মধুর কম  pH অনেক রোগজীবাণু বৃদ্ধিতে বাধা দেয় এবং ক্ষত দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে।

মুখের জন্য মধু কীভাবে ব্যবহার করবেন?

১. লেবু এবং মধু (Lemon & Honey):

লেবুর রসে ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ। এক গবেষণা বলে যে, লেবুর রস ত্বকে একটি ক্ষয়কারী প্রভাব ফেলে, আপনার ত্বককে তেল-মুক্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং ছিদ্র বা পোরস কমিয়ে দিতে পারে। এই ফেইস মাস্ক ব্রণ, ব্রেকআউট নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • অর্ধেকটা পরিমান লেবুর রস। 
  • ১ টেবিল চামচ খাঁটি মধু। 
  • তোয়ালে। 

প্রক্রিয়া:

  • মধুর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে একটি মসৃণ মিশ্রণ তৈরী করুন ।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। চোখের চারপাশের ত্বক এড়িয়ে চলুন।
  • মিশ্রণটি প্রায় ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • প্রথমে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, তারপরে ঠান্ডা পানি দিয়ে।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে একবার.

২. দুধ, আপেল সিডার ভিনেগার এবং মধু (Milk,Apple cider vinegar & Honey):

দুধে ল্যাকটিক এসিড থাকে। টপিকাল ল্যাকটিক অ্যাসিড আপনার ত্বকে একটি মৃদু এক্সফোলিয়েটিং এবং ক্লিনজিং প্রভাব ফেলে এবং ত্বকের গঠন মসৃন করে। আপেল সাইডার ভিনেগার ব্যাপকভাবে তার ত্বকের প্রশান্তিদায়ক প্রভাবের জন্য ব্যবহৃত হয়। বলা হয় এটি ত্বকের পিএইচ পরিবর্তন করে যা ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১ টেবিল চামচ গুঁড়া দুধ (বা ১/২ চা চামচ কাঁচা দুধ) । 
  • ২ চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার। 
  • ১/২ চা চামচ খাঁটি মধু। 
  • তোয়ালে। 

প্রক্রিয়া:

  • একটি মসৃণ মিশ্রণ না পাওয়া পর্যন্ত সমস্ত উপাদান একসাথে মিশাতে হবে। 
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। আপনার চোখের চারপাশে ত্বক এড়িয়ে চলুন ।
  • প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য মিশ্রণটি রেখে দিন।
  • ১৫ মিনিটের পরে, আপনার আঙ্গুলগুলি ভিজিয়ে নিন এবং আপনার ত্বককে এক্সফোলিয়েট করার জন্য শুকনো মাস্কটি আলতো করে ঘষুন।
  • ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।
  • ময়েশ্চারাইজ করুন। 

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে একবার। 

৩. মধু এবং দারুচিনি (Honey And Cinnamon):

দারুচিনিতে এমন গুণ রয়েছে, যা ব্রণ বা ফোলাভাব দূর করতে পারে । ২০ জন রোগীকে নিয়ে একটি গবেষণায় হালকা থেকে মাঝারি ব্রণের উপর দারুচিনি জেলের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলাফল হিসেবে পাওয়া গেছে যে, দারুচিনি জেল ব্রণের ক্ষত কমাতে সাহায্য করেছে। মধুর সাথে, দারুচিনি ব্রণ পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • এক চিমটি গুঁড়া করা দারুচিনি  বা ২-৩ ফোঁটা দারুচিনি এসেনশিয়াল অয়েল।
  • ১ টেবিল চামচ মধু। 

প্রক্রিয়া:

  • উপাদান দুটি একসাথে মিশাতে হবে।
  • মিশ্রণটি ব্রণের ক্ষতগুলিতে প্রয়োগ করুন (একটি স্পট চিকিত্সা হিসাবে)।
  • ১০-১৫ মিনিটের জন্য এটি রেখে দিন।
  • ধুয়ে ফেলুন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ১-২ বার।

৪. টমেটো এবং মধু (Tomato And Honey):

টমেটোতে লাইকোপিন থাকে । একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে টপিকাল লাইকোপিন একটি কার্যকর  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফ্রি র্যার্ডিকেলগুলিকে বাধা দিয়ে কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে। মধু, টমেটো একসাথে আপনার ত্বক সুস্থ রাখতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১/২ পাকা টমেটো। 
  • ১ টেবিল চামচ খাঁটি মধু।
  • তোয়ালে।

প্রক্রিয়া:

  • একটি ব্লেন্ডারে টমেটো পিউরি করুন।
  • পিউরিতে মধু যোগ করুন এবং ভালভাবে মেশান।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। আপনার চোখের চারপাশে ত্বক এড়িয়ে চলুন।
  • প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য মাস্কটি রেখে দিন।
  • ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২ বার। 

৫. কলা এবং মধু (Banana And Honey):

কলা একটি সাধারণ উপাদান যা ফেস মাস্কে ব্যবহৃত হয় এবং বলা হয় এটি ত্বকে ময়শ্চারাইজিং প্রভাব ফেলে । এটি যেকোনো ফেস মাস্কের জন্য একটি চমৎকার বেস। মধু এবং লেবুর সাথে একসাথে, এই মাস্কটি আপনার ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রেকআউট প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১টি পাকা কলা। 
  • ১ চা চামচ কাঁচা মধু। 
  • ১ চা চামচ লেবুর রস। 
  • তোয়ালে। 

প্রক্রিয়া:

  • একদম মসৃন না হওয়া পর্যন্ত কলা ম্যাশ করুন।
  • ম্যাশ করা কলায় মধু এবং লেবুর রস যোগ করুন।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। আপনার চোখের চারপাশে সংবেদনশীল ত্বক এড়াতে ভুলবেন না।
  • প্রায় ১০-১৫ মিনিটের জন্য মিশ্রণটি রেখে দিন।
  • হালকা গরম পানি দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে ফেলুন এবং একটি তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে একবার। 

৬. বেসন এবং মধু (Gram Flour & Honey):

বেসন ত্বক পরিষ্কার করতে এবং এক্সফোলিয়েট করতে সাহায্য করে। এটি অতিরিক্ত তেল এবং ট্যানিং কমাতেও সাহায্য করে। এই মাক্সটি নিয়মিত ব্যবহারে আপনাকে একটি পরিষ্কার রঙ দিতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ২ টেবিল চামচ বেসন (বেসন)
  • ১ টেবিল চামচ খাঁটি  মধু
  • পানি 
  • তোয়ালে

প্রক্রিয়া:

  • মধু ও বেসন মিশিয়ে নিন।
  • কিছু পানি যোগ করুন এবং একটি মসৃণ এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ পেস্ট পেতে ভালভাবে মেশান।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। আপনার চোখের চারপাশে ত্বক এড়াতে ভুলবেন না।
  • প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য মিশ্রণটি রেখে দিন।
  • হালকা গরম পানি দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
  • একটি তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ৩ বার। 

৭. দই এবং মধু (Yougurt & honey):

দইতে এল-সিস্টাইন রয়েছে যা ত্বকের রঙ হালকা করতে সাহায্য করতে পারে । এটি ত্বককে এক্সফোলিয়েট করতে এবং উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে এবং এটিতে একটি শীতল এবং ত্বক-প্রশান্তকারী প্রভাবও রয়েছে। এই ফেসপ্যাকটি ত্বককে নরম করতে এবং উজ্জ্বল করার জন্য চমৎকার।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ২ টেবিল চামচ দই বা দই। 
  • ১ টেবিল চামচ খাঁটি মধু। 
  • তোয়ালে। 

প্রক্রিয়া:

  • একটি মসৃণ মিশ্রণ পেতে উপাদানগুলি একত্রিত করুন।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। আপনার চোখের চারপাশে এড়িয়ে চলুন।
  • প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য মিশ্রণটি ত্বকে রেখে দিন।
  • হালকা গরম পানি দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২ বার।

৮. অলিভ অয়েল এবং মধু (Olive Oil And Honey):

অলিভ অয়েল জনপ্রিয়ভাবে ত্বক পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হয়। ত্বকে ম্যাসাজ করা হলে, এটি ত্বকের পোরস পরিষ্কার করতে এবং আপনার ত্বক থেকে ময়লা এবং বর্জ অপসারণ করতে সহায়তা করে। মধু মিশানোর পর, এটি আপনার ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রেকআউট প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ২ টেবিল চামচ মধু
  • ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল
  • তোয়ালে।

প্রক্রিয়া:

  • আপনি একটি মসৃণ মিশ্রণ না পাওয়া পর্যন্ত উপাদানগুলি  একসাথে মিশান ।
  • সামান্য গরম না হওয়া পর্যন্ত মিশ্রণটি প্রায় 20 সেকেন্ডের জন্য মাইক্রোওয়েভ এ গরম করুন।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। আপনার চোখের চারপাশে এড়িয়ে চলুন ।
  • মিশ্রণটি প্রায় ৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • হালকা গরম পানি এবং একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২ বার।

৯. হলুদ এবং মধু (Turmeric And Honey):

হলুদের থেরাপিউটিক উপকারিতা রয়েছে যার ফলে ব্রণ সহ ত্বকের অনেক সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করতে পারে। এটি প্রাচীনকাল থেকে এর অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই সংমিশ্রণটি আপনার ত্বককে পরিষ্কার রাখতে পারে, ব্রণের ব্রেকআউটকে কমিয়ে আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১ চা চামচ হলুদ
  • ১ চা চামচ খাঁটি মধু
  • ১ চা চামচ দই
  • তোয়ালে

প্রক্রিয়া:

  • আপনি একটি মসৃণ মিশ্রণ না পাওয়া পর্যন্ত উপাদানগুলি মিশিয়ে নিন ।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। 
  • মিশ্রণটি প্রায় ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • হালকা গরম পানি  এবং একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ১-২ বার।

১০. গোলাপজল এবং মধু (Rosewater And Honey):

গোলাপজল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট প্রদর্শন করে এবং S. aureus ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে বাধা দেয় যা ব্রণ এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ২ চা চামচ গোলাপ জল
  • ১ টেবিল চামচ মধু
  • তোয়ালে

প্রক্রিয়া:

  • আপনি একটি মসৃণ মিশ্রণ না পাওয়া পর্যন্ত উপাদানগুলি একসাথে মিশান। 
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। 
  • প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য মিশ্রণটি রেখে  দিন।
  • হালকা গরম পানি এবং একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
  • তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ১-২ বার।

১১. মধু এবং চিনি স্ক্রাব (Honey And Sugar Scrub):

চিনি এবং মধুর স্ক্রাবের টেক্সচার আপনার ত্বকের উপরিভাগের সমস্ত মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। এটি আপনার ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। স্ক্রাবটি আপনার মুখকে আর্দ্রতা এবং পুষ্টি শোষণের জন্য প্রস্তুত করে, তাই এটি একটি ময়েশ্চারাইজিং মাস্কের সাথে ব্যবহার করা ভালো হবে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ২ টেবিল চামচ মধু
  • ৩ টেবিল চামচ চিনি
  • ১ চা চামচ অলিভ অয়েল
  • ১ চা চামচ লেবুর রস
  • তোয়ালে

প্রক্রিয়া:

  • একটি ঘন মিশ্রণ পেতে উপাদানগুলি একসাথে মেশান ।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে নিন।
  • আপনার মুখে মিশ্রণটি প্রয়োগ করুন এবং আপনার আঙ্গুলের ডগা দিয়ে বৃত্তাকার গতিতে আপনার ত্বকে আলতো করে স্ক্রাব করুন। মিনিট দুয়েক এভাবে করুন।
  • প্রথমে মৃদু উষ্ণ পানি  দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে নিন, তারপরে ঠান্ডা পানি দিয়ে।
  • একটি তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নিন।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২-৩ বার।

১২. মধু এবং নারকেল তেল (Honey And Coconut Oil):

নারকেল তেলের প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি সোরিয়াসিস এবং এটোপিক ডার্মাটাইটিস এর মতো ত্বকের সমস্যাগুলোকে কমিয়ে আনতে পারে। এটি সব ধরনের ত্বকের সাথে খাপ খায় না,  বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের ধরন যাতে ব্রণ বাড়াতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১ চা চামচ নারকেল তেল
  • ১ চা চামচ মধু

প্রক্রিয়া:

  • দুটি উপাদান মিশ্রিত করুন। 
  • মিশ্রণটি আপনার মুখে ১০ মিনিটের জন্য ম্যাসাজ করুন।
  • এটি আরও ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে নিন।
  • সবশেষে একটি ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে শেষ করুন ।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২ বার।

১৩. অ্যাভোকাডো এবং মধু (Avocado And Honey):

অ্যাভোকাডো তেল পলিআনস্যাচুরেটেড এবং মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড সহ লিনোলিক এবং লিনোলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ। গবেষণায় দেখা গেছে যে এটির চমৎকার ক্ষত-নিরাময় ক্ষমতা রয়েছে  এবং কোলাজেনের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে পারে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  •  অ্যাভোকাডো তেল এক চা চামচ
  • এক চা চামচ খাঁটি মধু

প্রক্রিয়া:

  • দুটি উপাদান একত্রে মিশ্রিত করুন।
  • এটি আপনার মুখে ১০ মিনিটের জন্য ম্যাসাজ করুন।
  • এটি আরও ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে নিন।
  • সবশেষে একটি ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে শেষ করুন ।

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২-৩ বার।

১৪. ওটমিল এবং মধু (Oatmeal and honey):

কলয়েডাল ওটমিল (সিদ্ধ ওটস) ত্বকের জন্য একটি চমৎকার ক্লিনজিং এজেন্ট। এটি স্যাপোনিন সমৃদ্ধ যা ত্বক থেকে ময়লা এবং বর্জ অপসারণ করতে সহায়তা করে। এটি জ্বালাপোড়া কমিয়ে  আপনার ত্বককে ঠান্ডা করতেও সাহায্য করে।

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • সেদ্ধ ওটস ২ টেবিল চামচ
  • ১ টেবিল চামচ খাঁটি মধু

প্রক্রিয়া:

  • উভয় উপাদান মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  • এটি আপনার মুখে সমানভাবে লাগিয়ে  দিন।
  • ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন এবং তারপরে আরও ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • উষ্ণ পানি এবং তারপর একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • সবশেষে একটি ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে শেষ করুন। 

কতবার এটি করা উচিত:

  • সপ্তাহে ২ বার।

মুখ ও ত্বকের জন্য মধু ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

খাঁটি ও ভেজালহীন মধু অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। খাঁটি কাঁচা মধুতে পরাগের অস্তিত্ব থাকতে পারে। তাই, যদি আপনার পরাগ এবং মৌমাছির বিষ থেকে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে আপনার মুখে মধু ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

এটি বিভিন্ন উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে, যেমন:

  • ফুসকুড়ি
  • চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়া
  • শ্বাস গ্রহণে জটিলতা
  • লাল লাল দাগ ও চুলকানিযুক্ত চর্মরোগ
  • হাঁচি
  • ত্বকে দাগ
  • গলা চুলকানি

মধু ব্যবহার করার আগে, এটি আপনার জন্য উপযুক্ত কিনা তা নিশ্চিত করতে একটি প্যাচ পরীক্ষা করুন। এছাড়াও, আপনার মুখে মধু ব্যবহার করে রাতারাতি ফেলে রাখবেন না। এটি আঠালো, এবং আপনি আরাম বোধ করবেন না। এটি ধুলো এবং অন্যান্য ময়লাকে আকর্ষণ করতে পারে যাতে আপনার ত্বকের অবস্থা আরো খারাপ করতে পারে।

Filed Under: Face Care Tips, SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)

১১ টি প্রাকৃতিক উপায়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষত তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করুন

by রূপকথন ডেস্ক

গৃহস্থালিতে প্রতিনিয়ত ছোটোখাটো আঘাত খুবই সাধারণ, তারমধ্যে আগুনে পুড়ে যাওয়া অন্যতম সাধারণ একটি আঘাত। সাধারণত রান্না করার সময় সকলেই আমাদের জীবনের কোন না কোন সময়ে পোড়ার শিকার হয়ে থাকি।

ভুলবশত ফ্রাইং প্যান স্পর্শ করা,তেল ছিটকে পড়া, ভাতের মাড় পড়ে পোড়া খুবই কষ্টের। ভালো খবর এই যে, বাসায় থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে বাড়িতে পোড়ার চিকিৎসা করতে পারেন। তারা দাগ এবং আরও সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে। তবে পুড়ে যাওয়ার গভীরতা যদি বেশি অনুভব করেন, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পুড়ে যাওয়া ক্ষত তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করুন

এই লিখাটি পড়ে আপনারা ৩টি বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন। 

  • পুড়ে যাওয়ার ধরণ। 
  • পুড়ে যাওয়া ক্ষত তাৎক্ষণিক চিকিৎসার কিছু প্রাকৃতিক উপাদান। 
  • পোড়া চিকিৎসায় কিছু প্রাকৃতিক উপায়।

পুড়ে যাওয়ার ধরণ(Types Of Burns):

তীব্রতা এবং ক্ষতির উপর নির্ভর করে, পোড়াকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

প্রথম-ডিগ্রী বার্ন(First-Degree Burn):

যেসব পোড়া ত্বকের সবচেয়ে কম ক্ষতি করে তাকে বলা হয় ফার্স্ট-ডিগ্রি বার্ন। এই পোড়াগুলি শুধুমাত্র ত্বকের বাইরের স্তরকে প্রভাবিত করে এবং ফোস্কা সৃষ্টি করে না। প্রথম-ডিগ্রি পোড়ার সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে লালভাব, প্রদাহ এবং কিছু ক্ষেত্রে, ত্বকের সামান্য চামড়া উঠে যাওয়া ।

দ্বিতীয়-ডিগ্রী বার্ন(Second-Degree Burn):

সেকেন্ড-ডিগ্রি পোড়া প্রায়ই ত্বকের বাইরের স্তরের বাইরে চলে যায় এবং ত্বকে ফোস্কা পড়ে এবং কালশিটে হয়ে যায়। যদি একটি ফোস্কা পপ হয়,তবে এটিতে পানি জমে যায় । ফোস্কাগুলির তীব্রতার উপর নির্ভর করে, এই ধরণের পোড়া নিরাময়ে বেশি সময় নেয়।

তৃতীয়-ডিগ্রী পোড়া(Third-Degree Burn):

তৃতীয়-ডিগ্রি পোড়া ত্বকের সমস্ত স্তরকে প্রভাবিত করে এবং প্রসারিত করে। এগুলি খুব গুরুতর এবং প্রায়শই স্নায়ুর ক্ষতি করে, যা পোড়া থেকে ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতাকে অক্ষম করে।

এই পোড়া দ্বারা প্রভাবিত ত্বক হয় মোমের মতো সাদা বা গাঢ় বাদামী হয়ে যায়। যদি চিকিৎসা না করা হয়, এই ধরনের পোড়া গুরুতর দাগ সৃষ্টি করতে পারে। তৃতীয়-ডিগ্রি পোড়াতে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা পরিচর্যা করা আবশ্যক এবং নিজে নিজে চিকিৎসা করা উচিত নয়।

পোড়া চিকিৎসায় কিছু প্রাকৃতিক উপাদান:

  • হলুদ সরিষা।
  • ঘৃতকুমারী।
  • মধু।
  • টুথপেষ্ট।
  • টি ব্যাগ।
  • বেকিং সোডা।
  • নারকেল তেল।
  • ভিটামিন ই তেল।
  • দুধ।
  • ভিনেগার।
  • লবণ।

নিচে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষত তাৎক্ষণিক চিকিৎসার কিছু প্রাকৃতিক উপায় বর্ণনা করা হল:

১. হলুদ সরিষা(Yellow Mustard):

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • হলুদ সরিষা ১ টেবিল চামচ
  • পানি ১/২ টেবিল চামচ

প্রক্রিয়া:

১.হলুদ সরিষাকে পানি  দিয়ে ব্লেন্ড করে মিহি পেস্ট তৈরি করুন।

২.এই পেস্টটি পোড়া ত্বকে লাগান।

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন অন্তত তিনবার এটি করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

সরিষার বীজ অ্যালাইল আইসোথিওসায়ানেট নামক একটি কাউন্টার-ইরিট্যান্ট যৌগ সমৃদ্ধ যা ব্যথা উপশম করতে পারে এবং আক্রান্ত স্থানে রক্ত ​​প্রবাহ সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে।

২. ঘৃতকুমারী(Aloe Vera):

যা যা প্রয়োজন হবে:

১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল।

প্রক্রিয়া:

পোড়া জায়গায় সমানভাবে অ্যালোভেরা জেল লাগান।

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন অন্তত তিনবার এটি করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

অ্যালোভেরা জেল এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে পোড়া নিরাময় করে। এটি ব্যাকটেরিয়ারোধী এবং তাই এটি ক্ষত, দাগ এবং ফোসকা সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। 

৩. মধু(Honey):

যা যা প্রয়োজন হবে:

২ চা চামচ খাঁটি মধু। 

প্রক্রিয়া:

কিছু খাঁটি মধু নিন এবং এটি পোড়া স্থানের উপর আলতোভাবে লেপে দিন। 

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন অন্তত তিনবার এটি করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হওয়ার কারণে, মধুতে একটি প্রাকৃতিক pH ভারসাম্য রয়েছে যা পোড়াকে সংক্রামিত হতে বাধা দেয়। মধুতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এইভাবে পোড়া ক্ষত দ্রুত নিরাময় করতে সহায়তা করে।

৪. টুথপেষ্ট(Toothpaste):

যা যা প্রয়োজন হবে:

টুথপেস্ট

প্রক্রিয়া:

১.ক্ষত স্থান ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে তাতে কিছু পরিমান টুথপেস্ট লেপে দিন।

২.এটি ধুয়ে ফেলার আগে 10 থেকে 15 মিনিটের জন্য রেখে দিন।

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন একবার এটি করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

টুথপেস্ট ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং এর পুদিনা নির্যাস এর কারণে পোড়াকে প্রশমিত করে।

৫. টি ব্যাগ(Tea Bags):

যা যা প্রয়োজন হবে:

২ থেকে ৩ টি ব্যবহৃত টি-ব্যাগ।

প্রক্রিয়া:

১.চা বানানোর পর ব্যবহৃত টি ব্যাগগুলো পাশে রাখুন।

২.তাদের ঠান্ডা হতে দিন এবং আপনার পোড়া জায়গায় ভেজা টি ব্যাগ লাগান।

৩.টি ব্যাগগুলিকে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য জায়গায় রাখতে একটি গজ ব্যবহার করুন।

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন অন্তত দু’বার এটি করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

চা ট্যানিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ যা পোড়া জায়গা থেকে তাপ তুলতে সাহায্য করে। এইভাবে, টি ব্যাগ ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া উপশম করতে সক্ষম।

৬. বেকিং সোডা(Baking Soda):

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১ চা চামচ বেকিং সোডা।
  • ১/২ থেকে ১ চা চামচ পানি।

প্রক্রিয়া:

১.বেকিং সোডা এবং পানি  মিশিয়ে একটি সূক্ষ্ম পেস্ট তৈরি করুন।

২.এই বেকিং সোডা পেস্ট সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগান।

৩.১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন এবং তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার এই নিয়মটি অনুসরণ করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

বেকিং সোডার অ্যান্টিসেপটিক প্রকৃতি পোড়া জায়গাটিকে সংক্রমণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। বেকিং সোডা আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক pH ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতেও সাহায্য করতে পারে এবং এর ফলে, ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া হ্রাস পায়।

৭. নারকেল তেল( Coconut Oil):

যা যা প্রয়োজন হবে:

নারকেল তেল ১ থেকে ২ চা চামচ।

প্রক্রিয়া:

১.নারকেল তেল সরাসরি আঙ্গুলের ডগা দিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান।

২.এটি কিছুক্ষনের জন্য রেখে দিন এবং এটি আপনার ত্বকে শোষিত হতে দিন।

কতবার এটি করা উচিত:

দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য আপনাকে প্রতিদিন অন্তত তিনবার এই  প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

নারকেল তেল, বৈজ্ঞানিকভাবে Cocos nucifera নামে পরিচিত, ত্বকের কোষের পুনর্জন্মে সাহায্য করতে পারে এবং ত্বকের মধ্যেও প্রবেশ করতে পারে। এটি প্রদাহ বিরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এটি পোড়ার যন্ত্রনা ঠান্ডা করতে এবং পোড়া ত্বকের ফোসকা এবং দাগ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

৮. ভিটামিন ই তেল(Vitamin E Oil):

যা যা প্রয়োজন হবে:

ভিটামিন ই তেল ১ চা চামচ।

প্রক্রিয়া:

১.ক্যাপসুল থেকে ভিটামিন ই তেল বের করে পুড়ে যাওয়া জায়গায় সমানভাবে লাগান।

২.এটি ত্বক দ্বারা সম্পূর্ণরূপে শোষিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে রেখে দিন।

কতবার এটি করা উচিত:

এটি আপনাকে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

ভিটামিন ই সুপরিচিত এবং তার বিভিন্ন ত্বকের সুবিধার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ভিটামিন ই তেলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলি প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে এবং এর ত্বকের পুনর্জন্মের ক্ষমতা দ্রুত পোড়া নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে।

৯. দুধ(Milk):

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১/৪ কাপ ঠান্ডা দুধ।
  • কটন বল। 

প্রক্রিয়া:

১.একটি তুলোর বল রেফ্রিজারেটেড দুধে ভিজিয়ে রাখুন এবং আক্রান্ত স্থানে লাগান।

২.পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার আগে এটি ১০ ​​থেকে ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন।

কতবার এটি করা উচিত:

ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া কমে না যাওয়া পর্যন্ত আপনাকে প্রতি কয়েক ঘন্টা পর পর এটি পুনরাবৃত্তি করতে হবে।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

দুধে জিঙ্ক এবং কিছু প্রোটিনের উচ্চ পরিমাণ রয়েছে যা দ্রুত পোড়াকে প্রশমিত করতে এবং নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে।

১০. ভিনেগার(Vinegar):

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • রেফ্রিজারেটেড ভিনেগার ২ চা চামচ। 
  • পানি 2 চা চামচ। 
  • কটন বল। 

প্রক্রিয়া:

১.পানি দিয়ে কিছু রেফ্রিজারেটেড ভিনেগার পাতলা করুন।

২.মিশ্রিত ভিনেগারে একটি তুলার প্যাড ভিজিয়ে পোড়া ত্বকে লাগান।

৩.ভিনেগার নিজে থেকে বাষ্পীভূত না হওয়া পর্যন্ত এটি রেখে দিন।

কতবার এটি করা উচিত:

এটি প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার করুন।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

ভিনেগার একটি প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট এবং অ্যান্টিসেপটিক এবং এটি প্রধানত অ্যাসিটিক অ্যাসিড দিয়ে গঠিত। অ্যাসিটিক অ্যাসিড তার প্রদাহ-বিরোধী এবং ব্যথা-নিরাময়ের বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য পরিচিত। ভিনেগারের এই বৈশিষ্ট্যগুলি সামান্য পোড়ার চিকিত্সা এবং নিরাময়ে উপকারী হতে পারে। 

 ১১. লবণ(Salt):

যা যা প্রয়োজন হবে:

  • লবণ 1 চা চামচ
  • পানি 

প্রক্রিয়া:

১. পেস্ট তৈরি করতে লবণের সাথে কয়েক ফোঁটা পানি যোগ করুন।

২. এই পেস্টটি আপনার পোড়া জায়গায় লাগান এবং শুকাতে দিন।

কতবার এটি করা উচিত:

প্রতিদিন কয়েকবার এই প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করুন।

কেন এটি ব্যবহার করবেন:

লবণ, যা সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামেও পরিচিত, এতে প্রাকৃতিক নিরাময় এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ফোসকা প্রতিরোধ করে এবং পোড়া দ্রুত নিরাময়ে সহায়তা করে। 

আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে এই চিকিৎসাগুলি যে কোনও একটি অনুসরণ করার আগে আপনার পোড়ার উপর ঠান্ডা পানি ঢালতে হবে কারণ এটি আপনার পোড়ার প্রভাবকে কমিয়ে দেবে এবং এটিকে আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করবে। এবং যদিও আপনি ঘরে বসেই ছোটখাটো পোড়ার  চিকিৎসার জন্য এই প্রতিকারগুলি অনুসরণ করতে পারেন, তবে গুরুতর পোড়ার ক্ষেত্রে আপনাকে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

Filed Under: Home Remedies

চুলের যত্নে কালোজিরার তেলের ব্যবহার এবং উপকারিতা

by রূপকথন ডেস্ক

আপনি নিঃসন্দেহে এখন ভাবছেন যে কালোজিরার তেল আপনার চুলের জন্য ভাল কিনা? এটি এমন একটি প্রশ্ন যা আমরা নিয়মিতভাবে জিজ্ঞাসা করি। 

সহজ উত্তর হল হ্যাঁ, কালোজিরার তেল চুলের জন্য সেরা প্রাকৃতিক প্রতিকারগুলির মধ্যে একটি, 

কারণ এতে আপনার চুলের পুষ্টি গুন বজায় রাখার জন্য যা যা প্রয়োজন তা প্রায় সবই রয়েছে।

আমাদের চুলে কালোজিরার তেল ব্যবহার করার অনেকগুলি উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করবো।

খুশকি নিরাময়ে কালোজিরার তেল(Black Seed Oil For Dandruff):

আপনি যদি খুশকিতে ভুগেন তবে কালোজিরার তেল একটি চমৎকার প্রাকৃতিক প্রতিকার, বিশেষ করে যখন আপনি এটি প্রতিদিন সরাসরি মাথার ত্বকে লাগান।

এটি শুধুমাত্র শুষ্ক মাথার ত্বকে সাহায্য করবে না, এটি ফ্ল্যাকিনেস কমিয়ে দেবে, চুলের শিকড়ের শক্তি উন্নত করবে এবং আপনার মাথার ত্বক এবং চুলের চেহারা এবং অনুভূতি উন্নত করবে।

চুলের বৃদ্ধির জন্য কালোজিরার তেল(Black Seed Oil For Hair Growth):

কালোজিরার তেল অবশ্যই চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।  অনেক প্রকৃতিবিদ কালোজিরার তেল চুলের ক্ষতির চিকিৎসায় ব্যবহার  করে থাকেন।

সর্বোত্তম ফলাফলের জন্য, দিনে দুবার কালোজিরার তেল প্রয়োগ করা উচিত। এটিকে মাথার ত্বকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ম্যাসেজ করে করুন, কারণ এটি চুলের ফলিকলগুলিতে রক্ত ​​​​সঞ্চালন বাড়াবে, যা  আপনার চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে।

চুল হাইড্রেশন জন্য কালো তেল(Black Seed Oil For Hair Hydration):

কোঁকড়া বা কোঁকড়ানু চুলের বেশিরভাগ লোকই শুষ্ক মাথার ত্বকে বা ডিহাইড্রেটেড চুলে ভুগে থাকে যা কেবল শুষ্কই বোধ করে না বরং নোংরা এবং অপ্রিয় দেখায়। 

নিয়মিতভাবে কালোজিরার তেল ব্যবহার করে আপনি বিশেষ করে আপনার মাথার ত্বকে একটি বিশাল পার্থক্য লক্ষ্য করতে শুরু করবেন, কারণ তেলটি যেকোনো আর্দ্রতাকে আটকে রাখবে, চুলকে আরও আকর্ষণীয় এবং স্বাস্থ্যকর করে তুলবে।

কালোজিরা তেল কাজ করতে কতক্ষণ লাগে?

চুলের উপর কালোজিরার তেলের প্রভাব আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী বা আপনার চুল বা মাথার ত্বক কতটুকু ক্ষতিগ্রস্থ তার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হবে।

উদাহরণস্বরূপ, কিছু লোক রাতারাতি এটি প্রয়োগ করে এবং পরের দিন সকালে তারা অবিলম্বে পার্থক্য লক্ষ্য করে, তবে, যারা আরও গুরুতর শুষ্কতা বা মাথার ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়মিত ব্যবহারের দুই সপ্তাহ পরে ফলাফল দেখতে পারে।

Filed Under: HAIR CARE (চুলের যত্ন)

৯টি সহজ উপায়ে শীতে তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিন

by রূপকথন ডেস্ক

তৈলাক্ত ত্বক মানেই হল মুখের উপর তেল চিটচিটে অনুভূতি এবং চকচকে দাগ যা কেউই চাইবে না।

অনেকেই মনে করেন যে শীতের শুষ্ক বাতাস অতিরিক্ত তেল দূর করে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এটি সত্য নয়। শীত হোক বা গ্রীষ্ম, তৈলাক্ত ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত।

এই  লিখাটি পড়ে ৯টি সহজ পদ্ধতিতে শীতকালে আপনার তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিতে পারবেন।


১. সঠিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন(Pick The Right Moisturizer):

আপনাকে নিয়মিত তেল-মুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে, এমনকি শীতকালেও।

বর্তমান বাজারের পণ্যগুলি ভিটামিন ই সমৃদ্ধ, যা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সেরা পণ্য। 

নিশ্চিত করুন যে আপনি প্রতিবার মুখ ধোয়ার রুটিনের পরে ময়শ্চারাইজ করুন কারণ এটি তেলের ভারসাম্য বজায় রাখবে।

২. ত্বক এক্সফোলিয়েট করুন(Exfoliate Your Skin):
আপনি নিয়মিত আপনার ত্বক পরিষ্কার এবং এক্সফোলিয়েট করে একটি স্বাস্থ্যকর ত্বক বজায় রাখতে পারেন।আপনি একটি স্ক্রাব প্রয়োগ করতে পারেন।

প্রায় ৩০ সেকেন্ডের জন্য এক্সফোলিয়েট করুন এবং তারপরে উষ্ণ – গরম নয় – জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনার ত্বকে কাটা, খোলা ক্ষত বা রোদে পোড়া হলে এক্সফোলিয়েটিং এড়িয়ে চলুন।

৩.পেট্রোলিয়াম জেলি এড়িয়ে চলুন(Avoid Petroleum Jelly):

আপনার মুখ এবং ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি প্রয়োগ করা এড়িয়ে চলুন।

ফাটা ঠোঁটের জন্য, মেডিকেটেড বা ভেষজ লিপ বাম ব্যবহার করুন।

৪.টি ট্রি অয়েল(Tea Tree Oil):
বেশিরভাগ মানুষ শীতকালে গোসল করার জন্য গরম জল ব্যবহার করেন। গরম জল আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে ফেলতে পারে। এটা প্রমাণিত যে কয়েক ফোঁটা চা গাছের তেলের সাথে গরম জল ব্যবহার করা আর্দ্রতার ক্ষতি পূরণ করে এবং ত্বককে কোমল এবং অনেক নরম রাখতে সাহায্য করে।

৫.হাইড্রেটেড থাকুন(Stay Hydrated):
প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস জল খাওয়ার চেষ্টা করুন। এটি আপনাকে আপনার ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে এবং আপনার ত্বকের ছিদ্র থেকে টক্সিন এবং ব্যাকটেরিয়া বের করে দেয়।

৬.তেল-মুক্ত মেকআপ পণ্য ব্যবহার করুন(Use Oil-Free Makeup Products):

ফাউন্ডেশন কেনার সময়, নিশ্চিত করুন যে আপনি একটি তরল ক্রিম বেছে নিন যা তেল-মুক্ত এবং আদ্র । 

নিয়মিত মেকআপ পণ্যগুলিতে প্রাকৃতিক তেল থাকে যা আপনার ত্বকের জন্য ভাল নয়।

পরিবর্তে, ম্যাট-ইফেক্ট সহ পাউডার ভিত্তিক পণ্যগুলি ব্যবহার করুন কারণ সেগুলি দীর্ঘস্থায়ী হয়।

৭.আর্দ্রতা সমৃদ্ধ ত্বকের পণ্য ব্যবহার করুন(Use Moisture-Rich Skin Products):

চেষ্টা করুন সাবান এর পরিবর্তে বডি ওয়াশ ব্যবহার করতে। আর আপনি যদি সাবান ব্যবহার করতেই চান তবে নিশ্চিত করুন যে এতে যেন ময়শ্চারাইজিং উপাদান থাকে। গ্লিসারিন এবং প্রাকৃতিক তেলযুক্ত সাবান শরীরের জন্য একটি ভাল বিকল্প। তবে মুখের জন্য, তেল-মুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। 

৮.পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করুন(Use A Clean Towel):

একটি পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করলে তৈলাক্ত ত্বক প্রতিরোধ করা যায়। এটি ব্রেকআউটের পরিমাণও কম করে। আপনার মুখ ধোয়ার পরে, আপনার ত্বক শুকিয়ে নিন এবং আপনার ত্বকে ঘষবেন না। একই তোয়ালে ব্যবহার করলে তোয়ালে থাকা ব্যাকটেরিয়া আপনার মুখে ফিরে আসবে। 

এটি এড়াতে, প্রতি সপ্তাহে তোয়ালে ধুয়ে পরিষ্কার করে ব্যবহার করুন।

৯.ত্বক পরিষ্কার করুন, টোনিং করুন এবং ময়শ্চারাইজ করুন(Cleanse, Tone, And Moisturize):

রুটিন ক্লিনজিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং আপনার ত্বকের সমস্ত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে এবং প্রতিটি ঋতুতে আপনার সেগুলি করা অপরিহার্য। নিশ্চিত করুন যে আপনি ক্লিনজিং মিল্কের চেয়ে আদ্র ক্লিনজার এবং টোনার কিনছেন কারণ এটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ক্লিনজিং মিল্ক ভাল নয়।

গ্রীষ্ম হোক বা শীত, আপনার তৈলাক্ত ত্বক থাকেই। সুতরাং, এটিকে আপনার চিরশত্রু হিসাবে বিবেচনা করার পরিবর্তে, এটির সাথে মিত্র হওয়ার চেষ্টা করুন, তাহলে জিনিসগুলি আরও মসৃণভাবে কাজ করবে। যত্ন সহকারে এই টিপসগুলি অনুসরণ করুন।

Filed Under: Oily Skin

  • « Go to Previous Page
  • Page 1
  • Interim pages omitted …
  • Page 20
  • Page 21
  • Page 22
  • Page 23
  • Page 24
  • Page 25
  • Go to Next Page »

Primary Sidebar

সাম্প্রতিক লেখা

১৬টি সেরা খাবার সকালবেলার দৌড়ের পর খাওয়ার জন্য – পোস্ট-রান রিকভারি পুষ্টি

ওজন কমাতে সেরা ২০টি ডিটক্স স্মুদি: উপাদান, প্রস্তুতি ও উপকারিতা

সহজে হজম হয় এমন ১৬টি হালকা খাবারের রেসিপি

Low FODMAP Diet: ৩ ধাপের পরিকল্পনা ও কোন খাবার খাবেন, কোনটা এড়িয়ে চলবেন

প্যালিও ডায়েট: উপকারিতা, ঝুঁকি ও ৭ দিনের খাবার পরিকল্পনা

বিভাগ সমূহ

  • Fashion
  • HAIR CARE (চুলের যত্ন)
    • Basic Hair Care (বেসিক হেয়ার কেয়ার)
    • Dandruff (খুশকি)
    • Dry Hair Care (শুকনো হেয়ার কেয়ার)
    • Hair Care Ideas
    • Hair Fall ( চুল পড়া)
    • Hair Growth ( চুল বৃদ্ধি)
    • Hair Treatment (চুল চিকিৎসা)
    • Oily Hair Care ( তৈলাক্ত চুলের যত্ন)
  • HEALTH & WELLNESS (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা)
    • Diet Tips
    • Fitness
    • Healthy Food
    • Home Remedies
    • Ingredients and Uses
    • Nutrition (পুষ্টি)
    • Weight Gain
    • Weight Loss (ওয়েট লস)
  • Lifestyle (জীবনযাপন )
  • MAKEUP (মেকআপ)
    • Bridal Makeup (ব্রাইডাল মেকআপ)
    • Eye Makeup (চোখের সাজসজ্জা)
    • Lip Make up (লিপ আপ করুন)
  • SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)
    • Acne
    • Anti Ageing
    • Beauty Secrets
    • Dry Skin
    • Face Care Tips
    • Face Packs and Masks
    • Glowing skin
    • Homemade Tips
    • Oily Skin
    • Skin Care Ideas
    • Skin Care Problems
    • Sunscreen
  • Top 10's

Copyright © 2026 · RUP KOTHON · All rights reserved ®