• Skip to primary navigation
  • Skip to main content
  • Skip to primary sidebar

রূপকথন

Healthier Lifestyljhhe Choices

  • Facebook
  • Home
  • Shop
  • Blog
    • মেকআপ
      • ব্রাইডাল মেকআপ
      • সেলিব্রিটি মেকআপ
      • চোখের সাজসজ্জা
      • মুখের রূপসজ্জা
      • লিপ মেকআপ
      • মেকআপের ধারণা
      • মেহেদী ডিজাইন
      • নখের ডিজাইন
    • চুলের যত্ন
    • ত্বকের যত্ন
    • চুল স্টাইল
    • স্বাস্থ্য ও সুখ
      • ফিটনেস
      • স্বাস্থ্যকর খাবার
      • ওজন বৃদ্ধি
      • ওজন কমানো
      • যোগ ব্যায়াম
      • ডায়েট টিপস
      • আয়ুর্বেদ
  • Contact Us

রূপকথন ডেস্ক

শীতে পা এবং গোড়ালীর যত্নে প্রয়োজনীয় ৫ টি উপায়

by রূপকথন ডেস্ক

শীতকালে বেশির ভাগ সময়  আমাদের পা উষ্ণ মোজা অথবা বদ্ধ জুতা পরিহিত থাকে। তাই এসময় আমাদের পায়ের বিশেষ যত্নের কথা ভুলে গেলে একেবারেই  চলবে না। শীতে পায়ের যত্নে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে এবং নীচে আমরা সেই ঠান্ডা শীতের দিনে আপনি আপনার পায়ের যত্ন নিতে পারেন এমন কিছু উপায় তালিকাভুক্ত করেছি ।

নীচে কয়েকটি প্রয়োজনীয় শীতকালীন পায়ের যত্নের টিপস দেওয়া হল।

১. শীতকালীন পায়ের যত্নে ময়েশ্চারাইজিং অপরিহার্য:

ঠাণ্ডা বাতাস আপনার ত্বককে শুকিয়ে দেয়, এবং আপনি যখন আপনার শরীরের অন্যান্য অংশকে ময়শ্চারাইজ করেন, আপনি আপনার পায়ের কথা ভুলে যেতে পারেন। 

শুষ্ক ত্বকের কারণে ফাটল দেখা দিতে পারে যা অত্যন্ত অস্বস্তিকর এবং বেদনাদায়ক হতে পারে, তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যেগুলি প্রায়শই ফাঙ্গাল সংক্রমণ বিকাশের প্রথম কারণ। 

একটি ভাল মানের ফুট বাম দিয়ে প্রতিদিন ময়শ্চারাইজ করার মাধ্যমে ত্বকের  চামড়া ফেটে যাওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারেন ।

২.শীতে পায়ের যত্নে পা উষ্ণ রাখার পাশাপাশি  খোলামেলা রাখা অত্যন্ত জরুরী :

শীতকালে নিম্ন তাপমাত্রার ফলে উল বা পশমি  মোজা এবং মোটা বুট/কেড্স জুতা বেশি ব্যবহার করা হয়। 

যদিও এটি শরীর কে উষ্ণ রাখার জন্য খুবই প্রয়োজন,তবে আপনার পায়ের স্বাভাবিক বাতাস চলাচল করতে দেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাই  আপনি যখনি আপনার বাড়ির ভিতরে থাকবেন এবং উষ্ণ বোধ করবেন, তখনই আপনার জুতো এবং মোজা খুলে ফেলুন।

সারাদিন আপনার পা জুতার মধ্যে আটকে রাখলে প্রচুর ঘাম হয়, যা পায়ের ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এছাড়াও পা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর জন্যও দায়ী।

৩.পায়ের যত্নে অন্যতম উপায় পা পরিষ্কার রাখা

শীতকালে আপনার পা প্রতিদিন সাবান (বা ক্লিনজার) এবং উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে ভুলবেন না। পা  ধোয়ার পরে এবং মোজা বা জুতা  পরার আগে খুবই ভালোভাবে শুকানো উচিত।

এছাড়াও শীতকালে উষ্ণ পানিতে ইপ্সম(Epsom salt) লবণ ব্যবহার করে গোড়ালি সহ পা কিছুক্ষন ভিজিয়ে রাখলে পা ফাটা একেবারেই হয় না।

৪. শীতের জন্য সঠিক জুতো বেছে নিন

এমন জুতা পরুন যা আরামদায়ক হয় এবং খুব টাইট না। আঁটসাঁট জুতা রক্তের প্রবাহকে কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে পা এবং গোড়ালির চামড়া ফেটে  যেতে পারে।

নিশ্চিত করুন যে আপনি একটি মোটা সোলড জুতা পরেছেন যাতে বাতাস প্রবাহিত করতে পারে  এমন উপাদান রয়েছে। এটি আপনার পা সুরক্ষিত এবং উষ্ণতা  নিশ্চিত করবে।

৫.নেইল পলিশ ব্যবহার করবেন না

শীতের মাসগুলি নখে নেইল পলিশে আচ্ছাদিত না করে আপনার নখগুলিকে স্বাভাবিক ভাবে থাকতে দেওয়াই আদর্শ কাজে ।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, শীতের মাসগুলিতে আপনার পায়ের যত্ন নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি আপনার পা দেখা না গেলেও নিশ্চিত করুন যে তা পরিষ্কার, উষ্ণ এবং ভালভাবে আর্দ্র থাকে। 

আশা করি, এই শীতকালীন পায়ের যত্নের টিপস আপনাকে সহায়তা করবে।

Filed Under: SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)

হেনা হেয়ার প্যাক : চুলে মেহেদী ব্যবহারের ৫টি উপকারিতা, কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

by রূপকথন ডেস্ক

সারা বিশ্বের মানুষ চুলের পুষ্টির জন্য মেহেদি ব্যবহার করে। আপনার চুলে কেরাটিন প্রোটিন রয়েছে যা এটিকে শক্তিশালী রাখে।

কিন্তু এই প্রোটিনগুলি অতিবেগুনী রশ্মি, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, রাসায়নিক, তাপ স্টাইলিং সরঞ্জাম, আবহাওয়া এবং দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

এই  লিখাটি পড়ে আপনি ৩টি বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন।  বিষয় ৩ টি হলো:

  • হেনা হেয়ার প্যাকের উপকারিতা
  • চুলের যত্নে হেনা কীভাবে ব্যবহার করবেন
  • হেনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

হেনা হেয়ার প্যাকের উপকারিতা(Benefits Of Henna Hair Packs):


১. মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে(Improves Scalp Health):

হেনা বা মেহেদী মাথার ত্বককে শীতল রাখে।তার অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। 

এটি খুশকি, মাথার ত্বকের জ্বালা এবং অন্যান্য ছত্রাক সংক্রমণ এর মতো সমস্যাগুলির সমাধান হিসেবে কাজ করে থাকে।

২. চুলের রঙ বৃদ্ধি করে(Enhances Hair Color):

হেনা একটি সুপরিচিত প্রাকৃতিক চুলের রঞ্জক।তবে এটি আপনার চুলের প্রাকৃতিক রং কেও উন্নত করতে পারে এবং চুলের অকাল পেকে যাওয়া  রোধ করতে পারে।

৩. আপনার চুলের কন্ডিশন হিসেবে কাজ  করে( Conditions Your Hair):

একটি ফিলিস্তিনি গবেষণা দেখায় যে মেহেদিতে চুলের কন্ডিশনার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর কারণ হল মেহেদি চুলের কিউটিকলকে সিল করতে সাহায্য করে যাতে এটি আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে।  ডিম বা দইয়ের মতো উপাদানগুলির সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

৪.চুল মজবুত করতে এবং ক্ষতিকর ফাটা চুল মেরামতে সাহায্য করে (Repairs Damage And Strengthens Hair):

হেনা অত্যন্ত পুষ্টিকর, যা চুলের গোড়ার  ক্ষতি মেরামত করতে সাহায্য করে। 

এটি চুলের স্থিতিস্থাপকতা এবং শক্তিকেও উন্নত করে, যা আপনার চুলকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। এটি চুলের আগাঁ ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৫. চুলের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে এবং চুল পড়া রোধ করে( Promotes Hair Growth And Curbs Hair Loss) :

হেনা ফলিকল স্বাস্থ্যের উন্নতি করে মাথার ত্বকের উপকার করে। এর ফলে চুল পড়া রোধ করে এবং চুল গজানোর হার বাড়ায়।

এই সমস্ত সুবিধা মেহেদিকে চুলের যত্নের একটি চমৎকার উপাদান করে তোলে।

চুলের যত্নে হেনা মেহেদী কীভাবে ব্যবহার করবেন(How To Use Henna For Hair Care):

১.হেনা এবং আমলকি হেয়ার প্যাক(Henna And Amla Hair Pack):Set Image here
আপনার যা যা প্রয়োজন হবে:

  •  আমলকি গুঁড়া/পাউডার  ১ কাপ।
  • ৩ টেবিল চামচ মেহেদি গুঁড়া/পাউডার।
  • ২ টেবিল চামচ মেথি গুঁড়া/পাউডার ।
  • ১টি ডিমের সাদা অংশ।
  • ১ টি  লেবু।

প্রস্তুতির সময় :১ ঘন্টা।

প্রক্রিয়াকরণের সময়:

৪৫ মিনিট – ১ ঘন্টা।

প্রক্রিয়া:

১. তিন টেবিল চামচ মেহেদি, এক কাপ আমলকি  এবং দুই টেবিল চামচ মেথির গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।

২. পেস্টে একটি ডিমের সাদা অংশ এবং একটি লেবুর রস যোগ করুন।

৩. মিশ্রণটি এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন।

৪. এই মিশ্রণটি আপনার চুলে লাগান,গোড়া থেকে শুরু করে আপনার চুলের পুরো দৈর্ঘ্যে এটি ব্যবহার করুন।

৫. এটি প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘন্টার জন্য চুলে রেখে দিন।

৬. ঠান্ডা জল দিয়ে আপনার চুল ধুয়ে ফেলুন। গরম জল ব্যবহার করবেন না কারণ এটি চুলের প্যাকে ডিমকে সেদ্ধ করতে পারে।


কতদিন পর পর ব্যবহার করবেন : 
সপ্তাহে একবার।

কিভাবে এটি কাজ করবে :

এটি একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ , পুষ্টিকর হেয়ার প্যাক যা চুল পড়া রোধ করে এবং চুলের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত  করে। ডিম প্রোটিন সমৃদ্ধ, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মেথি চুল পড়া কমায় এবং মাথার ত্বক পরিষ্কার করে, অন্যদিকে মেহেদি এবং আমলা পাউডার চুল পড়া কমায়।

২.হেনা, ডিম এবং দই হেয়ার প্যাক(Henna, Egg, And Curd Hair Pack):

আপনার যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ২ টেবিল চামচ মেহেদি গুঁড়া।
  • ১ টেবিল চামচ শিকাকাই গুঁড়া।
  • ১ টেবিল চামচ দই।
  • ১ টি সম্পূর্ণ ডিম।

প্রস্তুতির সময় : সারারাত।

প্রক্রিয়াকরণের সময়:

৪৫ মিনিট – ১ ঘন্টা।

প্রক্রিয়া:

১.দুই টেবিল চামচ মেহেদি এবং এক টেবিল চামচ শিকাকাই পাউডারের মিশ্রণে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।

২.এই পেস্টটি সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ভেজানো মেহেদির মিশ্রণে একটি ডিম এবং এক টেবিল চামচ দই যোগ করুন।

৩.এই মিশ্রণটি আপনার চুলে প্রয়োগ করুন, গোড়া থেকে শুরু করে আপনার চুলের পুরো দৈর্ঘ্যে এটি ব্যবহার করুন।

৪.এটি প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘন্টার জন্য রেখে দিন।

৫. ঠান্ডা জল দিয়ে আপনার চুল ধুয়ে ফেলুন।

গরম জল ব্যবহার করবেন না কারণ এটি চুলের প্যাকে ডিমকে সেদ্ধ করতে পারে

কতদিন পর পর ব্যবহার করবেন :  সপ্তাহে একবার।

কিভাবে এটি কাজ করবে :

এই হেয়ার প্যাকটি আপনার চুলকে করে তোলে চকচকে এবং অনেক বেশি পরিচালনাযোগ্য। এটি প্রোটিন সমৃদ্ধ এবং কন্ডিশনার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি একটি হালকা ক্লিনজার হিসাবে কাজ করে যা আপনার মাথার ত্বককে খুব বেশি না শুকিয়ে চুল এবং ফলিকল থেকে ময়লা দূর করে।

৩.হেনা এবং কলার হেয়ার প্যাক(Henna And Banana Hair Pack):

আপনার যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ২টেবিল চামচ মেহেদি।
  • ১টি পাকা কলা।

প্রস্তুতির সময় : সারারাত।

প্রক্রিয়াকরণের সময়: 

৫ মিনিট।

প্রক্রিয়া:

১.ঘন পেস্ট পেতে দুই টেবিল চামচ মেহেদি পানি দিয়ে পাতলা করুন।

২.এটি সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। 

৩.সকালে একটি পাত্রে একটি পাকা কলা ম্যাশ/পিষে নিয়ে তাতে ভেজানো মেহেদি যোগ করুন। 

এরপর একপাশে রেখে দিন।

৪.আপনার নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে আপনার চুল ধুয়ে নিন এবং আপনার কন্ডিশনারের পরিবর্তে মেহেদি কলার মিশ্রণটি ব্যবহার করুন।

৫.ভেজা চুলে মিশ্রণটি লাগান এবং প্রায় ৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন।

৬.ঠান্ডা বা হালকা গরম জল দিয়ে আপনার চুল ধুয়ে ফেলুন।

কতদিন পর পর ব্যবহার করবেন :  সপ্তাহে একবার।

কিভাবে এটি কাজ করবে :

এই হেয়ার প্যাকটি আপনার চুলকে চকচকে এবং আরও ঝরঝরে  করতে সাহায্য করে। কলা আপনার চুলের স্প্লিট-এন্ড কমাতে এবং কন্ডিশনিং করতে সাহায্য করে।

৪.হেনা এবং লেবুর রসের হেয়ার প্যাক(Henna And Lemon Juice Hair Pack):

আপনার যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১ কাপ মেহেদি গুঁড়া।
  • ১ কাপ তাজা তৈরি গ্রিন টি।
  • ২ টেবিল চামচ লেবুর রস।

প্রস্তুতির সময় : সারারাত।

প্রক্রিয়াকরণের সময়: 

৩ ঘন্টা।

প্রক্রিয়া:

১.গরম থাকা অবস্থায় এক কাপ তাজা তৈরি করা গ্রিন টি-তে এক কাপ মেহেদি পাউডার যোগ করুন।

২.একটি মসৃণ, সামঞ্জস্যপূর্ণ পেস্ট পেতে ভালভাবে মেশান এবং এটি সারারাত রেখে দিন।

৩.সকালে পেস্টে দুই টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।

৪.এটি আপনার মাথার ত্বকে এবং চুলে লাগান এবং প্রায় ৩ ঘন্টা রেখে দিন।

৫.ঠান্ডা/ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে আপনার চুল ধুয়ে নিন।

৬.কন্ডিশনার দিয়ে শেষ করুন।

কতদিন পর পর ব্যবহার করবেন :  মাসে  একবার।

কিভাবে এটি কাজ করবে :

এই হেয়ার প্যাকটি আপনার চুলকে রঙ করতে সাহায্য করে এবং ধূসর রঙ ঢেকে রাখে।

 আপনি যদি কমলা-লালের পরিবর্তে বাদামী রঙ চান তবে আপনি কালো কফির পরিবর্তে  সবুজ চা ব্যবহার করতে পারেন। 

এই প্যাকটি তৈলাক্ত মাথার ত্বকের লোকদের জন্য আদর্শ। সবুজ চা চুলের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত  করতে সাহায্য করতে পারে।

৫.হেনা এবং নারকেল দুধ(Henna And Coconut Milk):

আপনার যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ১০ টেবিল চামচ মেহেদি গুঁড়া।
  • ১কাপ নারকেল দুধ।
  • ৪ টেবিল চামচ জলপাই তেল/অলিভ ওয়েল ।

প্রস্তুতির সময় : সারারাত।

প্রক্রিয়াকরণের সময়: 

১ ঘন্টা।

প্রক্রিয়া:

১.এক কাপ নারকেল দুধ এবং ১০ টেবিল চামচ মেহেদি পাউডার এবং চার টেবিল চামচ অলিভ অয়েল গরম করুন।

২.ভালভাবে মেশান যতক্ষণ না এটি মিশে যায়  এবং আপনি একটি মসৃণ, সামঞ্জস্যপূর্ণ পেস্ট পান।

৩.এই হেয়ার প্যাকটি আপনার মাথার ত্বকে এবং চুলে লাগান।

৪.এটি এক ঘন্টার জন্য রেখে দিন এবং তারপরে হালকা সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫.আপনার চুল কন্ডিশন করুন।

কতদিন পর পর ব্যবহার করবেন :  সপ্তাহে একবার।

কিভাবে এটি কাজ করবে :

যাদের চুল খুব শুষ্ক তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ মেহেদি প্যাক। নারকেল দুধ এর পুষ্টিকর এবং 

শক্তিশালী বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনারগুলিতে একটি বহুল ব্যবহৃত উপাদান।

হেনার/মেহেদীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া(Side Effects Of Henna):

  • একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে লাল মেহেদি (সবচেয়ে সাধারণ) এর সক্রিয় উপাদান লসোনের কারণে অ্যালার্জিক ডার্মাটাইটিস হতে পারে। এটি G6PD-এর ঘাটতি সহ শিশুদের জীবন-হুমকি রোগ হেমোলাইসিসও ঘটাতে পারে।
  • কালো মেহেদিতে রয়েছে PPD (p-phenylenediamine)। এটি ত্বকের জ্বালা এবং অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।

সংক্ষেপে, হেনা একটি সুপরিচিত প্রাকৃতিক চুল রঙ করার উপাদান। তবে এটি কেবল চুলে রঙ করার চেয়ে চুলের যত্নে আরও সুবিধা দেয়। 

এটি আপনার চুলের পিএইচ স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং চুল এবং মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। 

এটি তেল উত্পাদন নিয়ন্ত্রণ করে, চুলকে শক্তিশালী করে  এবং চুল পড়া কমায়। চুলের যত্নে সুবিধা পেতে আপনি অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের সাথে মেহেদি মেশাতে পারেন। 

আমলা, ডিম, দই এর  মতো উপাদানগুলি আরও চুলের উন্নতি করে যা আপনার চুলকে সুন্দর এবং স্বাস্থ্যকর করে তোলে।

Filed Under: HAIR CARE (চুলের যত্ন)

শুষ্ক ত্বকের ব্রাইডাল মেকআপ টিপস

by রূপকথন ডেস্ক 1 Comment

বিয়ের আসর! উপস্থিত অনেক অতিথি।

এটা পাত্রীর জন্য অনেক চাপের। কারন এই অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ নববধূ।

ধরা যাক এটা আপনার বিয়ে !

আপনি কতটা চাপের থাকবেন জানেন ?

ভাববেন

  • আমাকে কেমন দেখাচ্ছে?
  • আমার সাজ কি ঠিক আছে?
  • আমার ছবি কেমন আসবে?
  • আমার মেকআপ টা কি ঠিক আছে এবং শেষ পর্যন্ত কি ঠিক থাকবে?

আর আপনার শুষ্ক ত্বক হলেত আরো চিন্তার!

শুষ্ক ত্বকের পাত্রীর জন্য মেকআপটা ঠিক হওয়াটা খুবই জরুরি। শুষ্ক ত্বকে যদি খুব জোর দিয়ে মেকআপ করা হয় তাহলে এটি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর । আমি শুষ্ক ত্বকের নববধূদের সাজানোর জন্য কিছু টিপস দিচ্ছি, যা সহজেই আপনি আপনার ত্বক ভাল রেখে, আপনার সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে তুলতে পারবেন।

শুষ্ক ত্বকের নববধূর মেকআপ টিপসঃ

শুষ্ক ত্বকের নারীদের বিয়ের মেকআপ সম্পর্কে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস।

১. আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখুন

  • আশঁ তুলে ফেলা (Exfoliation) :

মৃত চামড়া থেকে পরিত্রাণ পেতে এটি প্রথম ধাপ। শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই ধরনের ত্বকে মৃত চামড়া অনেক বেশি হয়। একটি পরিষ্কার ত্বক (Clean skin) বিয়ের মেকআপ দেয়ার জন্য নিখুঁত ক্যানভাস হিসাবে কাজ করে। তাই আপনার ত্বক যতটা পরিষ্কার (Clean) হবে আপনার মেকআপ ততটাই নিখুঁত হবে।

  • মুখ পরিষ্কার করা (Cleanse ):

সব ধরনের ত্বকের জন্য প্রতিদিন pH ব্যলেন্সড ফেসওয়াশ (face wash) দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা খুবই প্রয়োজন। শুষ্ক ত্বকের জন্য কঠোর (Harsh) ফেইস ওয়াসের বদলে সবসময় কোমল (Mild) ফেইস ওয়াস ব্যবহার করা উচিত। সাবান কখনই ব্যবহার করবেন না।

  • টোন (Tone) :

ফেসওয়াশ(face washes) দিয়ে মুখ পরিষ্কার করার পর টোনিং (Toning) করা অপরিহার্য। লক্ষ্য রাখবেন যেই টোনার ব্যবহার করবেন সেটি যেনো ত্বককে খুব বেশি টান টান না করে।

  • ময়েশ্চারাইজার (Moisturizer) ব্যবহার :

যদি আপনার ত্বক বেশি শুষ্ক হয় তাহলে ভারি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

২. রাতের রুটিন সঠিকভাবে অনুসরন করুন (Night Routine)

পানিতে গ্লিসারিন মিশিয়ে প্রতিদিন রাতে নিয়মিত ম্যাসাজ করুন। আপনি চাইলে এর সাথে ২-৩ ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানের আগের দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান।

৩. সঠিক মেকআপ পণ্য ব্যবহার করুন

  • সঠিক ফাউন্ডেশন নির্বাচন:

শুষ্ক ত্বকের নববধূদের জন্য সঠিক মেকআপ পণ্য বাছাই করা খুবই প্রয়োজন। যদি ত্বকে শুষ্ক হয় তাহলে তৈলাক্ত বা জেলা ভিত্তিক ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা উচিত। জেল ভিত্তিক ফাউন্ডেশন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে কারন এটি আপনার ত্বককে আর শুষ্ক করে তুলবে।

  • কনসিলার(Concealer) নির্বাচন:

ক্রিম ভিত্তিক কনসিলার ব্যবহার করুন যেটা আপনি ছোট ব্রাশ দিয়ে লাগাতে পারবেন।

  • সঠিক ব্লাশ (Blush) ব্যবহার করুন:

সব সময় চেষ্টা করবেন গোলাপী রঙের ব্লাশ (Blush) ব্যবহার করতে যেটি আপনার ত্বকের সাথে মানায়। সর্বদা ক্রিম ব্লাশ বা স্টিক (Stick) ব্লাশ ব্যবহার করবেন। পাউডার ব্রাশ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ এটি আপনার মেকআপকে শুষ্ক করে তুলে এবং মেকআপ ফেটে যায়।

  • চমৎকার একটা ঠোঁট (The Lovely Lips):

নববধূ হিসাবে আপনার ঠোঁটও অবশ্যই আকর্ষণীয় হতে হবে। তাই মনে রাখবেন আপনার ঠোঁটেরো যথেষ্টো যত্ন নিতে হবে। তার জন্য আপনাকে প্রথমে ঠোঁটের মরা চামড়া তুলে ফেলতে হবে। এর পর পরেই ভারি মইয়েশ্চারাইজেশন করতে হবে।

ঠোঁটের বেইস হিসেবে তৈলাক্ত ফাউন্ডেশন (Oily Foundation) লাগান। এবার আপনার পছন্দের লিপ লাইনার এবং একই রঙের লিপস্টিক লাগান

এখন ঠোঁটের উজ্জ্বলতা (Brightness) আরো বাড়ানোর জন্য  লিপ গ্লস (Lip gloss) লাগান।

  • চোখ:

চোখে ক্রিম আই শেইড প্রয়োগ করুন। শুষ্ক ত্বকে পাউডার আই শেইড ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। চোখে উজ্জ্বল গোলাপী রঙের শেইড ব্যবহার করুন যেটা আপনার ত্বককে গোলাপী দেখাতে সাহায্য করবে।

  • চোখের পাপড়ি (Lashes):

আপনাকে সবসময় ঘাম বর্জনকারি (Sweat Proof) এবং পানি বর্জনকারি (Waterproof) মাসকারা ব্যবহার করতে হবে। বিয়ের আগে আরো বেশি উজ্জ্বলতার জন্য প্রতিদিন রাতে চোখের পাতায় অলিভ অয়েল দিয়ে ময়েশ্চারাইজ করতে হবে।

You can moisturize your lashes with olive oil every night for the extra sheen on the lashes before your wedding. আপনি আপনার বিয়ের আগ পর্যন্ত আপনার চোখের পাতায় প্রতিরাতে olive oil দিয়ে ময়শ্চারাইজ করুন। এতে করে আপনার চোখের পাপড়ি ঘন কালো এবং অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা(extra sheen) করবে।

৪. ক্রিম ভিত্তিক মেকআপ প্রয়োগ করুন

মেকআপ এর সময় ক্রিম-ভিত্তিক মেকআপ ব্যবহারের চেষ্টা করুন যা আপনার ত্বককে সারা দিন আর্দ্র রাখবে। এছাড়াও, ক্রিম-ভিত্তিক মেকআপে টাচ-আপগুলি করা সহজ।

৫. আরো উজ্জ্বলতা পাওয়া (Get the Sheen On):

ত্বকে বাড়তি উজ্জ্বলতা পেতে গ্লিটার পাউডার ব্যবহার করুন। সামান্য কিছুটা লাগান এবং আপনি তৈরি বিয়েতে সবার নজর কারার জন্য।

শুষ্ক তকের জন্য আমাদের দেওয়া এই ব্রাইডাল মেকআপ টিপস গুল অনুসরন করুন। আপনাকে অবশ্যি আপনার বিয়েতে অনেক জমকালো দেখাবে!

অতিরিক্ত রেগ্যুলার কিছু টিপস:

১) মুখের শুষ্ক খুব বেশি থাকলে ফেইস সিরাম ব্যবহার করুন।
২) প্রতিদিন পরিমিত পানি পান করুন। ৮ থেকে ১০ গ্লাস।
৩) চা, কফি, জাঙ্ক ফুড, তৈলাক্ত খাবার পরিহার করুন।
৪) প্রোগ্রাম শেষে মেকআপ ভালো করে উঠাবেন যেকোনো ক্লিঞ্জিং মিল্ক বা অলিভ অয়েল, নারিকেল তেল দিয়ে।
৫) মেকআপ উঠানোর পর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে, নাইট ক্রিম লাগান।
৬) রাতে যথাসময়ে পর্যাপ্ত ঘুমাবেন অন্তত ৬-৮ ঘন্টা

Filed Under: Bridal Makeup (ব্রাইডাল মেকআপ)

২০টি লিভার সুস্থ রাখার খাবার । লিভার ভালো রাখার উপায়

by রূপকথন ডেস্ক Leave a Comment

লিভার আমাদের শরীরের দ্বিতীয় বৃহত্তম অঙ্গ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থিগুলোর মধ্যে একটি। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের লিভারের ওজন প্রায়  ১.৪ কেজি। লিভারের কাজ অবিরাম (non-stop) যা প্রোটিন সংশ্লেষণ, হজম, গ্লাইকোজেন স্টোরেজ, পিত্ত উৎপাদন, হরমোন স্রাব এবং লাল রক্তের কোয় বিভাজক এর প্রয়োজনীয় জৈব রাসায়নিক উৎপাদন করে থাকে।

লিভারের সবচেয়ে বড় শত্রু অ্যালকোহল। এছাড়া আমাদের জীবনধারায় আমরা প্রতিদিন নানা রকম অস্বাস্থ্যকর খাবার খাই (তেল-চর্বি এবং ট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার) এতে করে লিভার অতিরিক্ত কাজ করতে হয়।

অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন দেহের লিভারের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগ, দীর্ঘ সময় ক্লান্তি অনুভব করা, হজমের সমস্যা, এলার্জি, লিভার সিরোসিস, এসিডিস (ascites), হেপাটাইটিস বি বা সি , এবং এমনকি লিভার ফেইলিউর (liver failure) ইত্যাদি এই সমস্ত অসুখ দেখা দিতে পারে অসুস্থ লিভারের কারণে।

এমন কিছু খাবার আছে যা খেয়ে আমরা আমাদের ঐ রোগের উপসর্গগুলো কমাতে বা মুক্তি লাভ করতে পারি। নিচে লিভার সুস্থ রাখার জন্য ২০টি খাবারের তালিকা দেয়া হল।

আসুন প্রথমে আমরা যেনে নিই অসুস্থকর লিভারের উপসর্গগুলো কি কি যা আমাদের জানা খুবই প্রয়োজন।

  1. ওজন কমাতে অক্ষমতা (Inability to lose weight)
  2. ব্লোটিং (Bloating)
  3. লাল মূত্র (Dark urine)
  4. ক্ষুদা মন্দা (Poor appetite)
  5. আপোষহীনতা ( Compromised immunity)
  6. কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation)
  7. মাথা ব্যথা (Headache)
  8. বুক জ্বালা এবং অ্যাসিড রিফক্স (Heartburn and acid reflux)
  9. বিষণতা (Depression)
  10. দুচিন্তাগ্রস্থ হওয়া (Anxiety)
  11. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি (Chronic fatigue)
  12. অত্যাধিক ঘামা (Excessive sweating)
  13. উচ্চরক্তচাপ (Hypertension)
  14. রোসাসিয়া (Rosacea)
  15. বোরিং (Bruising)
  16. চোখ এবং চামড়া হলুদ হওয়া (Yellow skin and eyes)

যদি উপরের লক্ষণগুলো আপনার শরীরে দেখা দেয়, তাহলে  বুঝবেন আপনার লিভার সঠিকভাবে কাজ করছে না।

তাই ডাক্তারের পরামর্শে আপনাকে অবশ্যই নীচের খাবার নিয়মিত খেতে হবে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য ২০টি  সেরা খাবার

১. রসুন (Garlic)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

আপনার লিভার সুস্থ রাখতে ডিটক্সিফিকেশন (detoxification) এর গুরুত্ব অপরিসীম। এর জন্য যে খাদ্যটি আপনাকে সাহায্য করবে তা হল রসুন। রসুন অ্যালিসিন সমৃদ্ধ, এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এটি লিভারকে এনজাইম সক্রিয় করতে উৎসাহিত করে এবং ক্ষতিকারক পর্দাথ অপসারিত করে। এ ছাড়া শরীরের রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতাও বাড়ায় রসুন।

সাধারণত বেশি সময় নিয়ে রান্না করলে রসুনে থাকা অ্যালিসিন নষ্ট হয়ে যায়। তাই চেষ্টা করুন কাঁচা রসুন খেতে তবে দিনে দু’-তিন কোয়ার বেশি না খাওয়াই ভাল।

যদি রসুন কাঁচা থেকে না পারেন, তাহলে হামদর্দ এর রসুনের রসুনের ক্যাপসুল আকারে পাওয়া যাই সেটি খেতে পারেন।।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য  রসুন (Garlic) খাবার নিয়ম ঃ

  • এক টুকরো কাচাঁ রসুন প্রতিদিন সকালে খেতে হবে। যদি সম্ভব হয় তাহলে মধুর সাথে খেতে পারেন।
  • প্রতিদিন রান্না করে খাবারের মধ্যে ১/২ টেবিল চামচ রসুন বাটা দিন।

রসুনের কি কোনোই খারাপ দিক নেই? এ সম্পর্কে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামছুন্নাহার নাহিদ বলেন, ‘রসুন সবার জন্যই ভালো, তবে রসুন যেহেতু রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দিয়ে অ্যাসপিরিনের মতো কাজ করে, সেহেতু গর্ভকালে রসুন আলাদা করে না খাওয়াই ভালো। এ ছাড়া বড় কোনো অস্ত্রোপচারের পরেও কাঁচা রসুন খাওয়ায় খানিকটা বিধিনিষেধ আছে। এ ছাড়া সবাই রসুন খেতে পারবেন নিশ্চি‌ন্তে। (১)

২. ব্রকলি (Broccoli)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

ব্রকলি আইসোথিয়োকানেটস (isothiocyanates) এর চমৎকার উৎস। এতে প্রচুর পরিমাণে সালফার রয়েছে। ব্রকলি আমাদের শরীরের কোষের জিনের নিয়ন্ত্রয়ন করতে সাহায্য করে।

ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীগণ কর্তৃক পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নিশ্চিত করেছেন যে, ব্রকলি খাওয়ার ফলে অকার্যকর ফ্যাটি লিভার বিকিরণের ঝুঁকি কমায় এবং লিভার ক্যান্সার থেকে লিভারকে রক্ষা করতে সাহায্য করেছে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য ব্রকলি (Broccoli)  খাবার নিয়ম ঃ 

  • ১ কাপ, প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার।

৩. জিনসেং (Ginseng)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

জিনসেং (Ginseng) একটি ঔষধি গাছ যেখান থেকে প্যানাক্স জিনসেং (Panax Ginseng) শিকড় পাওয়া যায়। এটি জিনসেনোসাইড নামে পরিচিত, এতে প্রচুর পরিমাণে ঔষধের গুণাবলী বিদ্যমান। জিনসেং (Ginseng)  ৪০টি গুণানুণ রয়েছে, যা লিভারের আঘাত, লিভারের বিষাক্ততা, সিরোসিস এবং ফ্যাট লিভারের বিরুদ্ধে রক্ষা পাওয়ার গুণাগুণ রয়েছে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য জিনসেং (Ginseng)  খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন ২ কাপ জিন্সেং চা।

৪. বীটরুট (Beetroot)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

বীটরুট (Beetroot) এ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বেটেলের নামে পরিচিত। ফার্মাসিউটিকাল জৈব রসায়ন বিভাগের, মেডিকেল বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, পোল্যান্ডে নিশ্চিত করেছেন যে, বীটরুট রস দীর্ঘমেয়াদী খাওয়ানোর ফলে ডিএনএ (DNA) ক্ষতি এবং ক্যান্সার রোগ দ্বারা সৃষ্ট লিভারের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য বীটরুট (Beetroot) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন ১ গ্লাস বীটরুট এর জুস।
  • এক কাপ বীটরুট ২-৩ বার সাপ্তাহে।

৫. গাজর (Carrot)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

গাজর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং ডায়েটি ফাইবারে (dietary fiber) সমৃদ্ধ। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন বিজ্ঞানীরা, হায়দ্রাবাদ, জামিয়া উসমানিয়া, ভারত, আট সপ্তাহের জন্য গাজর রস দিয়ে চর্বি বানিয়ে একটি গবেষণা করেন।

তারা দেখেছেন যে, গাজর রস উল্লেখযোগ্যভাবে ডিএইচএ (DHA), ট্রাইগ্লিসারাইড (triglyceride), এবং এমইউএফএ (MUFA) (Mono Unsaturated Fatty Acids) এর মাত্রা কমে যায়। অতএব, গাজর আপনার শরীরকে nonalcoholic fatty live এবং liver toxicity রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য গাজর (Carrot)) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতি ২ দিনে ১ গ্লাস গাজরের জুস।
  • ১ কাপ রান্না করা গাজার প্রতি ২-৩ দিনে।

৬. সবুজ শাকসবজি (Leafy Greens)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

সবুজ শাক-সবজি অক্সিডেটিভ ক্ষতি এবং অন্যান্য রোগ থেকে আপনার লিভার কে রক্ষা করতে পারে। সবুজ শাক-বসজি, পালং শাক, লেটুস, মুলা শাক, সরিষা  শাক, মিষ্টি আলুর শাক, রকেট মরিচ ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি এবং কে, ক্যালসিয়াম, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমূহ। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন এবং এন্টি-ইনফ্লোমেটরি।

অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, সবুজ শাক সবজি লিভার কে ফ্যাট লিভার এবং সিভি (CV) থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য শাক সবজি (Leafy Greens) খাবার নিয়ম ঃ 

প্রতি দিন ১-২ কাপ সবুজ শাক-সবজি খেতে হবে।

৭. গ্রীন টি (Green Tea)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

এটি সকলেই জানে যে, গ্রীন টি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। গ্রীন টির ক্যাটচীন স্বাস্থ্যকর হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে পলিফেনল।

চীনা বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে,  গ্রীন টি পানকারীদের উল্লেখযোগ্যভাবে লিভার ক্যান্সার, লিভারের রোগ, লিভার স্ট্যাটোস, লিভার সিরোসিস এবং হেপাটাইটিস হ্রাস পায়। (source)

তাছাড়া, ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের গবেষকরা, ইরান, conducted a double-blind, placebo- controlled, randomized ক্লিনিকাল ট্রায়াল করেন নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি (Non-alcoholic fatty) লিভার রোগীদের উপর। তারা তাদের কে ১২ সাপ্তাহের জন্য গ্রীন টি এক্সট্র্যাক্ট (green tea extract) বা গ্রীন টি এক্সট্র্যাক্ট সাপ্লিমেন্ট (green tea extract supplement) খাওয়ান। ১২ সাপ্তাহের পর দেখা গেল যে, গ্রীন টি এক্সট্র্যাক্ট উল্লেখযোগ্যভাবে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রোগের সাথে যুক্ত লিভার এনজাইম হ্রাস করে। (source)

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য গ্রীন টি (Green Tea) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন ২-৩ কাপ গ্রীন টি।

৮. হলুদ (Turmeric)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

হলুদ একটি শিকড় যা রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। হলুদে যে জৈব সারকোজী যোগ হয় তা ঔষধি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লমেটরি (anti-inflammatory), অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (antioxidant), অ্যান্টিফানগাল (antifungal), অ্যান্টিভাইরাল (antiviral) এবং অ্যান্টিভেগটেলিএল (antibacterial) এর বৈশিষ্ট। কুরকুমিন লিভার রোগ এবং প্রদাহজনিত রোগ দ্বারা প্রদাহ, আক্সিড্যাটিভ (oxidative) চাপ কমানো, লিপিড মেটাবোলিজম উন্নত করে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

তেল-আভিভ সৌরক্কি (Tel-Aviv Sourasky) মেডিকেল সেন্টার, ইসরাইলের বিজ্ঞানীরা লিভার সিরোসিস (liver cirrhosis) এর উপর একটি পরীক্ষা পরিচালিত করেছেন। তারা ১২ সাপ্তাহ ধরে হলুদ নিয়ে গবেষণায় সম্পূরক ছিলেন এবং ১২ সাপ্তাহ শেষে  বিজ্ঞানীরা পেয়েছে, হলুদ অ্যান্টি-ইনফ্লমেটরি হ্রাস করে চর্বিযুক্ত লিভার সিরোসিসের উন্নতি করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য হলুদ (Turmeric) খাবার নিয়ম ঃ 

  • ১-৩ গ্রাম হলুদের গুঁড়া/পেস্ট প্রতি দিন।
  • প্রতিদিন ১.৫-৩ গ্রাম হলুদের রস।
  • ৪০০-৬০০ মিলিগ্রাম হলুদ সম্পৃক্ত খাবার, প্রতিদিন ২-৩ বার।
  • হলুদের রস ১৫-৩০ ড্রপ, প্রতিদিন ৩-৪ বার।

৯. আভাকাডো (Avocado)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

বাট্টার (buttery) এবং নাটি (nutty) ফল স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী এবং লিভারকে ভাল রাখার অন্যতম উপাদান। আভাকাডো সুস্থ ফ্যাট সমৃদ্ধ এবং যা anti-inflammatory বিরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য । নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার থেকে খারাপ জীবন যাপন সৃষ্টি হয়। এভোকাডো anti-inflammatory এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরোধ করার জন্য অত্যন্ত উপকারী।

জাপানী বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে পেয়েছেন, আভাকাডো লিভার ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য আভাকাডো (Avocado) খাবার নিয়ম ঃ 

  • ২-৫ টুকরা, প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার।

১০. লেবু (Lemon)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

লেবু vitamin C এর প্রধান উৎস, যা একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (antioxidant ). গবেষকরা পেয়েছেন, সাইট্রিক অ্যাসিড লিভারের অক্সিডেটিভ ক্ষতির (oxidative damage) হাত থেকে লিভারকে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য লেবু (Lemon) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন ½- ১টি করে লেবু।

১১. আপেল (Apple)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

বিজ্ঞানীরা লিভার ও সিরাম লিপিড স্তরের উপর ডিহাইড্রেড আপেলের প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা করেছেন। তিন মাস পরে গবেষণায় পাওয়া গেছে, আপেল সফলভাবে সিরাম এবং লিভার লিপিড মাত্রা হ্রাস করে।

চিনা গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, আপেল পলিফেনল প্রদাহজনক সিগন্যাল পন্থাকে নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতএব লিভারের বিভিন্ন রোগ যেমন হেপাটিক স্ট্যাটটোসিস (hepatic steatosis) রোগ থেকে রক্ষা করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য আপেল (Apple) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন ১টি করে আপেল।

১২. অলিভ ওয়েল (Olive Oil)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

সাধারণত আমাদের প্রতিদিনের খাবারের অস্বাস্থ্যকর তেল হতে লিভারের রোগ হয়। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, যারা অলিভ ওয়েল (Olive oil) খায় তাদের লিভারের রোগ কম হয়।

অলিভ ওয়েল (Olive oil) খাওয়ার ফলে খারাপ কলেস্টেরল এবং সিরাম ট্রাইগ্লিসারাইড মাত্রা কমায় এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা এবং লিপিড অক্সিডেশন বৃদ্ধি করে।

অতএব, আপনার লিভার স্বাস্থ্যকর রাখতে আপনার রান্না করার সময় অলিভ ওয়েল (Olive Oil) ব্যবহার করুন।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য অলিভ ওয়েল (Olive Oil) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন ৫-১০ টেবিল চামচ।

১৩.  অ্যাসপারাগাস (Asparagus)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

অ্যাসপারাগাস ভিটামিন এ (A), সি (C), ই (E), কে (K), ফোল্ট, কলিন, এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম খনিজ পর্দাথের প্রধান উৎস।

জেজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কোরিয়া থেকে বিজ্ঞানীরা young shoots নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে পেয়েছেন, এবং অ্যাসপারাগাসের পাতা হেপাটোমার সেল বৃদ্ধি দমন করতে সাহায্য এবং প্রতিক্রিয়াশীল অক্সিজেন (ROS) এবং অন্যান্য কোষের বিষাক্ত পদার্থ যেমন হাইড্রোজেন পারক্সাইড, ইথানল ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য  অ্যাসপারাগাস (Asparagus) খাবার নিয়ম ঃ 

  • আপনার শরীরের জন্য প্রতি দিনে 16-32 মিলিগ্রাম।

১৪. ওয়ালনাট (Walnut)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

ওয়ালনাট এ সুস্থ ফ্যাট সমৃদ্ধ, যা anti-inflammatory এর বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমেরিকান বিজ্ঞানীরা গবেষণায় পেয়েছেন যে, যখন উচ্চ চর্বিযুক্ত খাদ্য লিভারে প্রবাহিত হয়, তখন ওয়ালনাট হিপ্যাটিক ট্রাইগ্লিসারাইড হ্রাস করে।

লিভার হোমোস্টাসিসের সাথে জড়িত এনজাইমগুলির মাত্রা কমিয়ে আনে এবং হেপাটিক প্রদাহ জড়িত জিন (genes) দমন করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য ওয়ালনাট (Walnut) খাবার নিয়ম ঃ 

  • ৭ টি ওয়ালনাট প্রতিদিন।

১৫. রেড ক্যাবেজ (Red Cabbage)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

রেড ক্যাবেজ অ্যান্টিঅক্সিজেন্ট (antioxidants) এবং anthocyanin এ পরিপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা, চর্বিযুক্ত একটি উচ্চ কোলেস্টেরল খাদ্য এবং তারপর ২৫০-৫০০ মিগ্রা রেড ক্যাবেজ খেতে বলেন। তারা গবেষণায় পেয়েছেন, রেড ক্যাবেজ কোলেস্টর সমৃদ্ধ খাদ্য দ্বারা উৎপন্ন রোগকে দমনে সাহায্য করে এবং জীবাণুর বিরুদ্ধে লিভারকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের জন্য রেড ক্যাবেজ (Red Cabbage) খাবার নিয়ম ঃ 

প্রতিদিন এক কাপ করে রেড ক্যাবেজ, ২-৩ বার প্রতি সাপ্তাহে।

১৬. জাম্বুরা (Grapefruit)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

জাম্বুরায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এ পরিপূর্ণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। জাপানি বিজ্ঞানী একটি পরীক্ষা চালায়, যেখানে তারা চর্বিযুক্ত রস, অরবালকো রস এবং চিনি মিশ্রণের পরীক্ষা করেন। জাম্বুরা জুস খাওয়ার ফলে লিভারের এনজাইমগুলো খুব দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠে যা হ্যাপ্যাটিক অক্সিজেন থেকে রক্ষা করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের  জন্য জাম্বুরা (Grapefruit) খাবার নিয়ম ঃ 

  • ½ -১ গ্লাস জাম্বুরা রস (তাজা রস এবং চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টি ছাড়া) প্রতিদিন।

১৭. আস্ত শস্যদানা (Whole Grains)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

পুরো শস্য, যেমন রাই, বার্লি, বাদামি চাল, কুইনো ইত্যাদি যা চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এগুলো সকল ধরনের লিভারের রোগ থেকে লিভারকে মুক্ত রাখে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের  জন্য  শস্য (Whole Grains) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন আস্ত শস্যদানা ২-৩ টি

১৮. টমেটো (Tomatoes)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

টমেটোর রস/জুস আপনার লিভারের জন্য খুবই উপকারী। টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা লিভারের বিভিন্ন রোগ এবং লিভারকে বিভিন্ন আঘাতে থেকে রক্ষা করে এবং লিভারকে  ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা করতে সাহায্য করে।

গবেষকরা কার্সিনোজেন সাথে চর্বি এবং তারা ৬ সপ্তাহের জন্য টমেটো নিয়ে পরীক্ষা করেন। তারা গবেষণা করে পেয়েছেন, টমেটো কলেস্টোরলের মাত্রা নির্ণয় করে ফলে লিভারের ক্ষতি হ্রাস করে। তাই লিভারের ঝুঁকি কমাতে টমেটো খাওয়া উচিত।

স্বাস্থ্যকর লিভারের  জন্য  টমেটো (Tomatoes) খাবার নিয়ম ঃ 

  • প্রতিদিন এক গ্লাস টমেটো জুস।
  • প্রতিদিন ২-৩ টি টমেটো।

১৯. ড্যানডেলিওন (Dandelion)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

ড্যানডেলিওন হল একটি ওষুধি ফুল এতে রয়েছে অ্যান্টিএইয়াম্যাটিক (antirheumatic) এবং diuretic বৈশিষ্ট। বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন যখন ড্যানডেলিওন উচ্চ কোলেস্টরের খাদ্য খরগোশ কে খাওয়ানো হয়, তখন প্লাজমা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টটি সক্রিয় হয় এবং লিপিড এর মাত্রা হ্রাস পায়। তাই, লিভারের সমস্যা দূর করার জন্য ড্যানডেলিওন ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের  জন্য  ড্যানডেলিওন (Dandelion) খাবার নিয়ম ঃ 

  • ডোজ নির্ধারণের জন্য ডাক্তারের পরমর্শ নিন।

২০. ব্রাসেলস স্প্রাউট (Brussels Sprouts)

কিভাবে সাহায্য করেঃ

ব্রাসেলস স্প্রাটস ভিটামিন এ, কে, সি, ফ্লেট এবং ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়ামে পরিপূর্ণ। গবেষকরা গবেষণা করে পেয়েছেন, ব্রাসেলস স্প্রাউট অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর লিভারের  জন্য  ব্রাসেলস স্প্রাউট (Brussels Sprouts) খাবার নিয়ম ঃ 

  • ½-১ কাপ, প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার।

এই ২০টি খাবার আপনার লিভারকে সুস্থ রাখবে এবং যে কোন লিভারের রোগ থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে এছাড়াও লিভারের detoxification সাহায্য করে। আপনি আপনার প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে চাইলে আপনার দৈনন্দিন খাদ্যের তালিকায় এই খাবারগুলো অন্তর্ভুক্ত করুন।

আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। আর আমাদের সাথে থাকুন!

সতর্কতা: এই ২০টি খাবারে র যেকোনো একটি বা অনেক গুলো হয়তো আপনার শরীরে সংবেদনশীল থাকতে পারে বা আপনার অন্য কোনো রোগের জন্য বিধিনিষেদ থাকতে পারে তাই খাবার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে খাবেন।

Filed Under: Healthy Food

শীতকালে কিভাবে চুলের খুশকি প্রতিরোধ করবেন?

by রূপকথন ডেস্ক Leave a Comment

শীতকাল হল বছরের সেই সময়, যখন তাপমাত্রা কমে আসার ফলে আমাদের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পরে। আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে উঠে এবং মৃত চামড়ার কোষ ভেসে উঠে। এই শুষ্কতা শুধু ত্বক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেনা, এটি মাথার ত্বকেরও একটি সাধারণ সমস্যা। মাথার ত্বকের মৃত কোষগুলো ছোট ছোট আঁইশে রুপান্তরিত হওয়া শুরু করে এবং ঝরে পড়তে শুরু করে। তাই শীতকালে আপনাদের কাঁধে ঝরে পড়া সাদা আঁইশ বা কণাগুলো তুষারকণা নাও হতে পারে, এগুলো খুশকিও হতে পারে।

শীতকালীন ঠান্ডা বাতাস আপনার ত্বককে নষ্ট করে ফেলে এবং এই ঋতুতে আপনার মাথার ত্বকের আদ্রতাই খুশকি হওয়ার জন্য দায়ী। এই সময় সবসময় গরম উননের সামনে বসে থেকে মরুভুমির বাতাসের অনুভূতি নেওয়া মোটেও ঠিক নয়,  যার জন্য শীতকালে মাথায় খুশকি একটি সাধারণ সমস্যা। উনন দ্বারা উত্পাদিত কৃত্রিম তাপ শীতের হিমশীতল বায়ুর সাথে মিশে গিয়ে এমন একটি আদ্রতা তৈরী করে যা আপনার মাথার ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই কারনেই শীতকালে খুশকি হওয়া একটি সাধারন সমস্যা।

কিভাবে শীতকালে খুশকি হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন?

শীতকালে খুশকি হওয়া থেকে রক্ষা পাবার কিছু উপায় নিচে দেয়া হলঃ

১. নতুনদের জন্য, আপনি একটি কোমল ময়েশ্চারাইজিং কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন।  আপনার মাথার ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্য রক্ষা করা এবং মাথার ত্বক যাতে শুষ্ক হয়ে চুলকানির সৃষ্টি না করে সে দিকে লক্ষ্য রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি হারবাল পণ্য ব্যবহার করতে চান, তাহলে সেই হারবাল পণ্যে আপনার এলার্জি আছে কিনা তা পরীক্ষা করার করার জন্য প্রথমে খুবই অল্প পরিমাণ নিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে দেখুন। কিছু মানুষের হারবাল পণ্যে এলার্জি থাকে এবং তখন এই পণ্য ব্যবহারে মাথার চুলকানি বেড়ে যেতে পারে এবং মাথার ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।

২. টি ট্রি তেল এবং শ্যাম্পু, কন্ডিশনার এবং চুলের যত্নের অন্যান্য পণ্য যা চা গাছের তেল থেকে তৈরি, এসব পণ্য মাথার ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে এবং খুশকি প্রতিরোধ করতে অত্যন্ত ভাল কাজ করে। আপনি সপ্তাহে দুইবার মাথায় টি ট্রি তেল ম্যাসাজ করতে পারেন এবং কয়েকদিনের মধ্যেই ভালো ফল লক্ষ্য করবেন।

৩. আপনার মাথার ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য আপনার খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি এবং জিংক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডও অবশ্যই থাকতে হবে! এগুলো আপনি আখরোট, ডিম, পাতা যুক্ত সবজি ইত্যাদিতে পাবেন। যদি আপনি সবুজ শাকসবজি খুব একটা পছন্দ না করেন, তবে শাকসবজি দিয়ে সালাদ তৈরি করুন এবং মেয়নেজ (mayonnaise) মিক্স করুন, এটিকে একটি মজাদার এবং লোভনীয় খাবারে পরিণত করুন।

৪. একটি আদ্রতা রক্ষাকারী যন্ত্র বাতাসের আদ্রতা রক্ষা করে এবং আপনার ত্বকে পর্যাপ্ত পরিমাণ আদ্রতা বজায় রাখে। তবে আপনাকে যন্ত্রটি ২-৩ দিন পর পর অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে। ঠিকমত যত্ন না নিলে এটি ছত্রাক এবং ব্যাক্টেরিয়ার বসবাস স্থলে পরিণত হবে এবং এর কারনে এলার্জি এবং সংক্রমণজনিত রোগ হতে পারে।

৫. শীতকালে অধিক হেয়ার স্টাইলিং পণ্য ব্যবহার করা যাবেনা যেহেতু এই সময় মাথার ত্বক ইতিমধ্যেই শুষ্ক এবং চুল তার আর্দ্রতা থেকে বঞ্চিত, সেহেতু এরা খুব সহজেই চুলের পন্যের কেমিক্যাল দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে এবং এটি মাথায় চুলকানী বাড়িয়ে দিতে পারে এবং এতে খুশকি আবার বৃদ্ধি পেতে পারে।

৬. বেশি বেশি চুল ধোয়া থেকে বিরত থাকুন, এটা আপনার মাথার ত্বক শুষ্ক করে দিবে এবং খুশকি বাড়িয়ে দিবে। মাথায় খুব গরম পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন; তার পরিবর্তে কুসুম গরম পানি বা তার তেকে অধিকতর ঠান্ডা পানি যতটুকু ঠান্ডা আপনি সহ্য করতে পারেন ব্যবহার করুন, তাহলেই খুশকি এড়াতে পারবেন।

৭.আলতোভাবে আপনার মাথায় শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ম্যাসাজ করুন। খুব জোরে ঘষবেন না, এটি খুব সহজেই মাথার ত্বকে র‍্যাশ তৈরি করে এবং মাথার ত্বক আর্দ্রতা হারায়। চুলের রঙ করাও মাথার ত্বকের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং খুশকির কারণ হতে পারে, শীতকালে চুলে রঙ করা থেকে দূরে থাকুন অথবা এমন একটি রঙ বেছে নিন যা আপনার চুলের আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখবে।

৮. উষ্ণ অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল আপনার মাথায় ম্যাসাজ করুন এবং ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন। ক্ষারমুক্ত শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এতে আপনার চুলের খুশকি দূর হয়ে যাবে।

৯. খুশকি দূর করার জন্য যখন আপনি শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন তখন ভালো ফলাফলের জন্য তা ধোয়ার আগে অবশ্যই ২/৩ কিংবা ৫ মিনিট মাথায় রাখে দিন এবং এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মাথা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

১০. খুশকি দুষচিন্তার কারনেও হতে পারে পাশাপাশি চুলের যত্নের পন্যগুলোও চুল থেকে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।। প্রথমত, আপনাকে যথেষ্ট বিশ্রাম নিতে এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। দ্বিতীয়ত, আপনার মাথা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন যাতে কোন ধরনের হেয়ার ক্রিম বা চুলের স্টাইলিং পণ্য মাথার ত্বকে না থাকে। নিয়মিত লেবুর পানি দিয়ে চুলে ধুয়ে নিন, এটি খুশকি দূর করতে সাহায্য করবে।

উপরের টিপস দিয়ে, এই শীতকালে খুশকির সাথে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত থাকুন এবং উপভোগ করুন সতেজ, ঝলমলে, শক্তিশালী চুল।

Filed Under: Dandruff (খুশকি)

শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়ার ১০টি ঘরোয়া উপায়

by রূপকথন ডেস্ক Leave a Comment

শুকনো এবং ফাঁটা ঠোঁট নিয়ে কি সারা বছর বিড়ম্বনা মধ্যে থাকতে হয়? এই লেখাটি আপনার জন্য।

এটি খুবই বিরক্তিকর একটি সমস্যা যদি আপনার ঠোঁট  হয় শুকনো এবং খোসার ছাড়ানো ত্বক। এবং এই সমস্যা নিয়ে আমরা যখন আমাদের প্রিয় মায়ের কাছে অভিযোগ করি, তখন তারা আমাদের বলে আমারা যেন বারবার ঠোঁট চাটা বন্ধ। এই সমস্যা প্রতিরোধ করার সেরা উপায় হল আমাদের ঠোঁটে হাইড্রেশন এবং পুষ্টির প্রদানের মাধ্যমে।

প্রথমে বলে রাখি। পানি সৌন্দর্যের একটি অপরিহার্য নিয়ামক। এটি শরীর এবং ত্বকে ভালভাবে হাইড্রিয়ট রাখতে সাহায্য করে। আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান না করেন তবে আপনি যত প্রতিকার ঠোঁটের ব্যবহার করে না কেন এগুলো কোন কাজে আসবেনা।

ঠোঁট ফাটার কারণ গুলো কি?

ঠোঁট ফাটার প্রধান কারণগুলো হলঃ

  • অত্যাধিক ঠোঁট চাটা (Excessive licking of lips)
  • সূর্যের কারনে ক্ষতি (Sun damage)
  • ধূমপান এবং পানীয় (Smoking and drinking)
  • ত্বকের ক্ষতিকর এমন টুথপেস্টে (Skin irritants in toothpaste)
  • এলার্জি (Allergies)
  • নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ, যেমন রেটিনোয়েড এবং কেমোথেরাপি ড্রাগ (Certain medications, such as retinoids and chemotherapy drugs)

একটি কমন সমাধান হল, মানুষ ঠোঁট ফাটা বন্ধ করার জন্য ঠোঁটে চ্যাপস্টিক (chapstick ) বা সুগন্ধি লিপজেল ব্যবহার করে থাকে। এটি তাত্ক্ষণিক পরিত্রান পেতে সাহায্য করে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে, এটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান প্রদান করে না।

নীচের প্রতিকারগুলো এই সমস্যা সমাধান করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল দিতে সাহায্য করবে।

এখানে শুষ্ক এবং ঠোঁট ফাঁটা বন্ধ করার ঘরোয়া প্রতিকারগুলো দেয়া হল।

কিভাবে ঠোঁট ফাঁটার হাত থেকে মুক্তির পাবেন

১. নারকেল তেল (Coconut Oil)

২. মধু এবং ভ্যাসলিন (Honey And Vaseline)

৩. গোলাপের পাপড়ি (Rose Petals)

৪. শসা (Cucumber)

৫. অ্যালোভেরা (Aloe Vera)

৬. গ্রীন টি ব্যাগ (Green Tea Bags)

৭. কোকো বাটার (Cocoa Butter)

৮. লেবুর রস (Lemon Juice)

৯. চিনি পদ্ধতি (Sugar Method)

১০. ভ্যানিলা নির্যাস (Vanilla Extract)

ঠোঁট ফাঁটার হাত থেকে রক্ষা পাবার ঘরোয়া উপাদানসমূহঃ

১. ঠোঁটের জন্য নারকেল তেল (Coconut Oil For Lips)

আপনার যা প্রয়োজনঃ

  • ভার্জিন নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল বা ক্যাসটল তেল বা আমন্ড তেল বা জোজোবা তেল।
  • ১-২ ড্রাপ টি ট্রি তেল বা গ্রাফিজেড তেল বা নিম তেল।

আপনাকে যা করতে হবেঃ

১. এটা নির্ভর করবে আপনার কাছে কোন ক্যারিয়ার ওয়েল এবং অ্যাসেনশিয়াল ওয়েল আছে, ক্যারিয়ার অয়েল মাঝে ১-২ ড্রপ অ্যাসেনশিয়াল ওয়েল দিয়ে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন।

২. আপনার ঠোঁটে এই মিশ্রণ ব্যবহার করুন এবং কিছুক্ষণের জন্য ঠোঁটে রেখে দিন।

কতবার কাজটি করা উচিতঃ

দিনের মধ্যে ২/৩ বার মিশ্রিত তেল ব্যবহার করুন। এটি বিছানায় যাওয়ার আগে ব্যবহার করা যেতে পারে।

কেন কাজটি করবেন?

ক্যারিয়ার ওয়েল , যেমন অলিভ অয়েল, নারকেল তেল, এবং ক্যাসটল ওয়েল সেরা প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার এবং তেল জাতীয় পদার্থ রয়েছে। এগুলি সুস্থ ফ্যাটি অ্যাসিড ধারণ করে, যা ঠোঁটের প্রয়োজনীয় তৈলাক্ততা প্রদান করে ঠোঁটকে করে তুলে নরম ও নমনীয়। অ্যাসেনশিয়াল ওয়েল – যেমন টি ট্রি তেল বা গ্রাফিজেড তেল শুষ্ক ঠোঁটের জন্য কার্যকরী কাজ করে। এটি আপনার ঠোঁটের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে, বিশেষ করে শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে থাকে।

২. মধু এবং ভ্যাসলিন (Honey And Vaseline)

আপনার যা প্রয়োজনঃ

  • কাচাঁ মধু (Raw honey)
  • ভ্যাসলিন (Vaseline)

আপনাকে যা করতে হবেঃ

  • আপনার ঠোঁটে মধুর প্রলেপ দিন।
  • মধুর প্রলেপের উপর এবার ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন।
  • এটি ১০-১৫ মিনিটের জন্য ছেড়ে দিন।
  • এবার একটি ভেজা টিস্যু বা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।

কতবার কাজটি করা উচিতঃ

স্থায়ী ফলাফল পেতে এক সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন ১বার করে লাগান।

কেন কাজটি করবেন?

মধুতে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়ারোধী বৈশিষ্ট রয়েছে এবং প্রকৃতির সেরা নিরাময়ের মধ্যে একটি। ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয় ত্বকে কোমল এবং পুষ্টি প্রদান ও শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা জন্য। এটি ত্বকের কোষে আর্দ্রতা রক্ষা করে। এই দুটি উপাদানের মিশ্রন দ্বারা, আমরা ফাটা ঠোঁটের জন্য একটি খুব কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার পেতে পারি।

৩. গোলাপের পাপড়ি (Rose Petals)

আপনার যা প্রয়োজনঃ

  • ৫-৬ টি গোলাপের পাপড়ি
  • 1/4 কাপ কাঁচা দুধ

আপনাকে যা করতে হবেঃ

১.  ২-৩ ঘন্টার জন্য দুধের মধ্যে পাপড়ি ভিজিয়ে রাখুন।

২. পেস্টের মত সামঞ্জস্যতা পেতে গোলাপের পাপড়িগুলো দুধের সাথে আলতো করে মিশিয়ে নিন।

৩. এবার আপনার ঠোঁটে এই পেস্ট ব্যবহার করুন। এটি প্রায় ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।

৪. ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কতবার কাজটি করা উচিতঃ

এক সাপ্তাহের জন্য প্রতিদিন ১ বার করে।

কেন কাজটি করবেন?

গোলাপের পাপড়িতে ত্বকের পুষ্টিকর বৈশিষ্ট্য রয়েছে- যেমন ভিটামিন ই (E)। তা আপনার ঠোঁটের প্রকৃত রং ধরে রাখতে সাহায্য করে। দুধে ল্যাকটিক এসিড রয়েছে যা ঠোঁটের পৃষ্ঠ থেকে আলতো করে মৃত চামড়া তুলে আনে। দুধে অপরিহার্য ফ্যাট, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ রয়েছে যা শুষ্ক ঠোঁটকে হাইড্রেট রাখে।

৪. ঠোঁট ফাঁটা রোধে শসা (Cucumber For Chapped Lips)

আপনার যা প্রয়োজনঃ

  • কয়েক পিস শসার টুকরো।

আপনাকে যা করতে হবেঃ

১. ১/২ মিনিট ধরে আপনার ঠোঁটে শসার টুকরোটি আলতো করে ঘষুন।

২. ঠোঁটে লেগে থাকা শসার রস ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিন এবং তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

অথবা আপনি চাইলে, আপনি ১/২ টুকরো শসা পেস্ট করে আপনার ঠোঁটে ব্যবহার করতে পারেন।

কতবার কাজটি করা উচিতঃ

এই প্যাকটি প্রতিদিন ১/২ বার ব্যবহার করুন।

কেন কাজটি করবেন?

শসা আপনার ঠোঁটের জন্য সেরা বন্ধু হতে পারে, কারণ এটি আপনার ঠোঁট ফাটা এবং শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। শসা ত্বকের হাইড্রেট বজায় রাখে। শসা ব্যবহারের ফলে কিছুদিনের মধ্যে আপনার সকল ফ্যাকাশে ভাব (flakiness) এবং শুষ্কতা চলে যাবে।

৫. ঠোঁট ফাঁটা রোধে অ্যালোভেরা  (Aloe Vera for Chapped Lips)

আপনার যা প্রয়োজনঃ

  • একটি অ্যালোভেরা পাতা।

আপনাকে যা করতে হবেঃ

১. অ্যালোভেরার পাতা টুকরো করে কাটুন এবং ভিতর থেকে জেল বের করে আনুন। একটি পাত্রে অ্যালোভেরার জেলগুলো নিয়ে রাখুন। লক্ষ রাখতে হবে ঐ পাত্রে যাতে বাতাস ডুকতে না পারে।

২. আপনার ঠোঁটের উপর জেল প্রয়োগ করুন।

৩. জেলের পাত্র বা কৌটাটি ভালভাবে মুখ লাগিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন।

কতবার কাজটি করা উচিতঃ

নিয়মিত ঘুমানোর আগে অ্যালোভেরা জেল ঠোঁটে প্রয়োগ করুন।

কেন কাজটি করবেন?

অ্যালোভেরাতে প্রাকৃতিক উপাদানে পরিপূর্ণ যা ঠোঁট ফাঁটা থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের মৃত চামড়া তুলে আনে খুব সহজেই। এটি ঠোঁটের উপরের নরম চামড়াকে মজবুত করতে সাহায্য করে এবং ঠোঁটকে ঠান্ডা রাখে।

৬. ঠোঁট ফাঁটা রোধে গ্রীন টি ব্যাগ (Green Tea Bags For Chapped Lips)

আপনার যা প্রয়োজনঃ

  • ১টি গ্রীন টি ব্যাগ।
  • ১টি গরম পানির কাপ।

আপনাকে যা করতে হবেঃ

১. কয়েক মিনিটের জন্য গরম পানিতে গ্রীন টি ব্যাগ ডুবিয়ে রাখুন।

২. ঠোঁটের উপর এই টি ব্যাগটি ধরে রাখুন।

৩. কয়েক মিনিট এভাবে রাখুন।

কতবার কাজটি করা উচিতঃ

প্রতিদিন ১ বার করে।

কেন কাজটি করবেন?

গ্রীন টি তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ট্যানিন’স রয়েছে যা আপনার ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করে এবং ঠোঁটকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে।

৭. ঠোঁট ফাঁটা রোধে কোকো বাটার (Cocoa Butter For Chapped Lips)

আপনার যা প্রয়োজনঃ

অরগানিক কোকো বাটার বা শা বাটার বা পিনাট বাটার বা দই বা ঘি (clarified butter) বা বাটারমিল্ক।

আপনাকে যা করতে হবেঃ

১. আপনার ঠোঁটে কোকো বাটার অল্প পরিমাণে ব্যবহার করুন এবং ঐ অবস্থায় রাতে রেখে দিন।

২. বিকল্পভাবে, আপনি শা বাটার বা ঘি ব্যবহার করতে পারেন এবং ঐ অবস্থায় রাতে রেখে দিন।

৩. আপনি যদি পিনাট বাটার, দই বা বাটারমিল্ক ব্যবহার করতে চান, তবে ৫-১০ মিনিটের জন্য আপনার ঠোঁটে রেখে দিন।

কতবার কাজটি করা উচিতঃ

কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন ১ বার করে করুন।

কেন কাজটি করবেন?

যখন কোকো বাটার, শা বাটার এবং ঘি এই বিভিন্ন ধরনের মাখন নিষ্কাশিত হয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন ধরনের মাখন প্রধানত অপরিপূর্ণ ফ্যাটি অ্যাসিড ধারণ করে যা গভীর অবস্থা এবং নিঃশেষিত ত্বক নিরুদ করে। দই এবং বাটারমিল্কে ত্বকের পুষ্টিকর ফ্যাট রয়েছে। একই সময়ে, তা ত্বকে হালকা আবরন হিসাবে কাজ করে।

৮. ঠোঁট ফাঁটা রোধে লেবুর রস (Lemon Juice For Chapped Lips)

আপনার যা প্রয়োজনঃ

  • ১ চা চামচ লেবুর রস।
  • ১ চা চামচ মধু।
  • ১/২ চা চামচ কাস্টর ওয়েল।

আপনাকে যা করতে হবেঃ

১. সব উপাদান মিশ্রিত করুন এবং আপনার ঠোঁটে এটি মাস্ক হিসাবে ব্যবহার করুন।

২. প্রায় ১০ মিনিটের জন্য এটি রেখে দিন এবং তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

কতবার কাজটি করা উচিতঃ

৭-১০ দিনের জন্য প্রতিদিন একবার করে করুন।

কেন কাজটি করবেন?

লেবুর রস কালো দাগ এবং ঠোঁট ফাঁটা বন্ধ করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। লেবু একটি প্রাকৃতিক ব্লিচ এবং এক্সফোলিয়েট (exfoliant) হিসাবে কাজ করে। মধু ত্বকের যত্ন নেয় এবং ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে ঠোঁটকে রক্ষা করে।

৯. ঠোঁট ফাঁটা রোধে চিনি পদ্ধতি (Sugar Method For Chapped Lips)

আপনার যা প্রয়োজনঃ

  • ১ চা চামচ চিনি।
  • কয়েক ড্রপ অলিভ অয়েল।
  • ১/২ চা চামচ মধু।

আপনাকে যা করতে হবেঃ

১. মধু, চিনি এবং অলিভ অয়েল ভালভাবে মিশিয়ে ফেলুন যাতে করে কোন দানা দানা না থাকে।

২. আপনার ঠোঁটে এই মিশ্রণ ব্যবহার করুন এবং বৃত্তাকার গতিতে আলতো করে ঘষা দিন।

৩. কোমল ঠান্ডা পানি দিয়ে হালকা ভাবে ঘষে ধোয়ে ফেলুন।

কতবার কাজটি করা উচিতঃ

প্রাথমিকভাবে এই প্যাকটি এক দিন পর পর ব্যবহার করুন। তারপর, নরম এবং মসৃণ ঠোঁট বজায় রাখতে সাপ্তাহে ১/২ বার প্যাকটি ব্যবহার করুন।

কেন কাজটি করবেন?

আপনার ঠোঁটের স্ক্রাবিং করে আলগা চামড়া তুলে ফেলা এবং শুষ্ক ঠোঁট থেকে মুক্তিরপেতে সাহায্য করে। যার ফলে, আপনার ঠোঁট নরম এবং মসৃণ হয়। আপনার ঠোঁটের প্রকৃত রং প্রকাশ পায়। চিনি একটি চমৎকার উপাদান যা ত্বকের চামড়া উঠা বন্ধ করে, এটি সবার রান্নাঘরে পাওয়া যায় এবং ঠোঁট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

১০. ঠোঁট ফাঁটা রোধে ভ্যানিলা নির্যাস (Vanilla Extract For Chapped Lips)

আপনার যা প্রয়োজনঃ

  • ২ চা চামচ চিনি।
  • ১ চা চামচ বেকিং সোডা।
  • ২ চা চামচ জোজোবা তেল বা অলিভ অয়েল।
  • 1/4 চা চামচ ভ্যানিলা নির্যাস।

আপনাকে যা করতে হবেঃ

১. উপরের উল্লিখিত সমস্ত উপাদানগুলি ভালভাবে মিশ্রিত করুন।

২. আপনার আঙ্গুলের পাতায় এই মিশ্রণটি অল্প পরিমাণে নিন এবং আলতো করে আপনার ঠোঁটে এটি ব্যবহার করুন।

৩. এই মিশ্রণটি আপনার ঠোঁটে ১/২ মিনিট ধরে আলতো করে আঙ্গুলের পাতা দিয়ে ঘষুন এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

* একটি বায়ুরোধী ধারক এ সংরক্ষণ করে আপনি ৭দিন ব্যবহার করতে পারেন।

কতবার কাজটি করা উচিতঃ

কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন ১বার করে এবং পরে ৩-৪ দিন পর পর ১ বার এই প্যকিটি ব্যবহার করুন।

কেন কাজটি করবেন?

চিনি এবং বেকিং সোডা উভয়ের মিশ্রণে ত্বকের চামড়া উঠা বন্ধ করতে সাহায্য করে। ঠোঁটকে ঠান্ডা এবং বেগুনী করে তুলে। ভ্যানিলা নির্যাস অন্যরকম একটা ফ্লেভার যোগ করে যা আপনার ঠোঁট ফাঁটা বন্ধ করে।

এখন আপনি জানেন, কিভাবে এই শীতে আপনার ঠোঁটকে রক্ষা করবেন, আপনি কি জন্য অপেক্ষা করছেন? এই প্রতিকারের প্রধান লক্ষ্য হল আপনার ঠোঁটকে ফাঁটা থেকে রক্ষা করা এবং মৃত চামড়া দূর করতে সাহায্য করে এবং এটি নীচের নরম চামড়া স্থাপন করে। এই উপাদানগুলো আপনার ঠোঁটকে নরম, মসৃণ করে তুলে এবং স্নিগ্ধতা বজায় রাখে।

Filed Under: Skin Care Ideas

  • « Go to Previous Page
  • Page 1
  • Interim pages omitted …
  • Page 21
  • Page 22
  • Page 23
  • Page 24
  • Page 25
  • Go to Next Page »

Primary Sidebar

সাম্প্রতিক লেখা

১৬টি সেরা খাবার সকালবেলার দৌড়ের পর খাওয়ার জন্য – পোস্ট-রান রিকভারি পুষ্টি

ওজন কমাতে সেরা ২০টি ডিটক্স স্মুদি: উপাদান, প্রস্তুতি ও উপকারিতা

সহজে হজম হয় এমন ১৬টি হালকা খাবারের রেসিপি

Low FODMAP Diet: ৩ ধাপের পরিকল্পনা ও কোন খাবার খাবেন, কোনটা এড়িয়ে চলবেন

প্যালিও ডায়েট: উপকারিতা, ঝুঁকি ও ৭ দিনের খাবার পরিকল্পনা

বিভাগ সমূহ

  • Fashion
  • HAIR CARE (চুলের যত্ন)
    • Basic Hair Care (বেসিক হেয়ার কেয়ার)
    • Dandruff (খুশকি)
    • Dry Hair Care (শুকনো হেয়ার কেয়ার)
    • Hair Care Ideas
    • Hair Fall ( চুল পড়া)
    • Hair Growth ( চুল বৃদ্ধি)
    • Hair Treatment (চুল চিকিৎসা)
    • Oily Hair Care ( তৈলাক্ত চুলের যত্ন)
  • HEALTH & WELLNESS (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা)
    • Diet Tips
    • Fitness
    • Healthy Food
    • Home Remedies
    • Ingredients and Uses
    • Nutrition (পুষ্টি)
    • Weight Gain
    • Weight Loss (ওয়েট লস)
  • Lifestyle (জীবনযাপন )
  • MAKEUP (মেকআপ)
    • Bridal Makeup (ব্রাইডাল মেকআপ)
    • Eye Makeup (চোখের সাজসজ্জা)
    • Lip Make up (লিপ আপ করুন)
  • SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)
    • Acne
    • Anti Ageing
    • Beauty Secrets
    • Dry Skin
    • Face Care Tips
    • Face Packs and Masks
    • Glowing skin
    • Homemade Tips
    • Oily Skin
    • Skin Care Ideas
    • Skin Care Problems
    • Sunscreen
  • Top 10's

Copyright © 2026 · RUP KOTHON · All rights reserved ®