• Skip to primary navigation
  • Skip to main content
  • Skip to primary sidebar

রূপকথন

Healthier Lifestyljhhe Choices

  • Facebook
  • Home
  • Shop
  • Blog
    • মেকআপ
      • ব্রাইডাল মেকআপ
      • সেলিব্রিটি মেকআপ
      • চোখের সাজসজ্জা
      • মুখের রূপসজ্জা
      • লিপ মেকআপ
      • মেকআপের ধারণা
      • মেহেদী ডিজাইন
      • নখের ডিজাইন
    • চুলের যত্ন
    • ত্বকের যত্ন
    • চুল স্টাইল
    • স্বাস্থ্য ও সুখ
      • ফিটনেস
      • স্বাস্থ্যকর খাবার
      • ওজন বৃদ্ধি
      • ওজন কমানো
      • যোগ ব্যায়াম
      • ডায়েট টিপস
      • আয়ুর্বেদ
  • Contact Us

রূপকথন ডেস্ক

১৩ টি কার্যকর উপায়ে রান্না ঘরে থাকা সহজলভ্য উপাদান দিয়ে শীতে ত্বকের যত্ন নিন

by রূপকথন ডেস্ক Leave a Comment

আমি ব্যক্তিগতভাবে শীতকাল ভালবাসি। ঠান্ডার দমকা হাওয়ায় আমার মন হয় সতেজ, তাজা এবং জীবন্ত। কোমল জাম্পার, বুট, স্কার্ফ, এবং কি নাই, সব কিছু রয়েছে! কিন্তু দুঃখজনকভাবে, শীতকালে আমাদের ত্বক আমাদের সহযোগিতা করতে পছন্দ করে না।

এই মাসগুলোতে, আমাদের ত্বক শুষ্ক হতে থাকে। আর্দ্রতার অভাবে আমাদের ত্বক ফেটে যায় এবং নিস্তেজ হয়ে পড়ে। আমরা সাধারণত শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজ করতে ভাল কোল্ড ক্রিম ব্যবহার করে থাকি।

আমাদের অনুসন্ধানে সেরা সমাধান হল, রান্না ঘরে পাওয়া যায় এমন সব উপাদান দ্বারা আমাদের ত্বকের যত্ন নিলে শীতের প্রখরতার হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করতে পারবো এবং শীতকালকে উপভোগ করা যাবে।

আপনাদের শীতকালে ত্বকের যত্নের জন্য ১৩ টি হোম রেমেডিস এর তালিকা দেয়া হল। টিপসগুলো ব্যবহার করুন, কেননা বার বার আপনি আপনার ত্বকের প্রেমে পড়বেন।

শীতকালীন ত্বকের যত্নে ঘরোয়া প্রতিকার

১. পেপেঁ ফেইস প্যাক (Papaya Face Pack)

২. দুধ এবং আমন্ড ফেইস প্যাক (Milk And Almond Face Pack)

৩. দই এবং বাটার মিল্ক ফেইস প্যাক (Yogurt And Buttermilk Face Pack)

৪. গ্লিসারিন (Glycerine)

৫. পেট্রোলিয়াম জেলি (Petroleum Jelly)

৬. অলিভয়েল এবং ডিমের ফেইস প্যাক (Olive Oil And Egg Yolk Face Pack)

৭. আভোকাডো এবং মধু ফেইস প্যাক (Avocado And Honey Face Pack)

৮. নারকেল তেল (Coconut Oil)

৯. লেবু এবং মধু সমাধান (Lemon And Honey Solution)

১০. সূর্যমুখীর তেল (Sunflower Oil)

১১. স্ট্রবেরি মাস্ক (Strawberries Mask)

১২. কলার মাস্ক (Banana Mask)

১৩. মধু এবং কাঁচা দুধ (Honey And Raw Milk)

এই টিপসের মাধ্যমে শীতকালে আপনি আপনার ত্বকে ফাটল এবং আর্দ্রতার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

১. পেপেঁ ফেইস প্যাক (Papaya Face Pack)

উপাদানসমূহঃ

  • ১ টুকরা পাকা পেঁপের
  • ১ টি কলা
  • ২ টেবিল চামচ মধু

কিভাবে ব্যবহার করবো ঃ

  • পেপেঁ এবং কলা ভালভাবে মিশ্রণ করুন যাতে মসৃণ পেস্ট হয়ে যায়।
  • মিশ্রণটিতে মধু দিন এবং প্যাকটি আবার ভালভাবে মিশ্রণ করুন।
  • আপনার মুখে এই প্যাকটি আলতোভাবে ব্যবহার করুন এবং আপনার শরীরে শুষ্ক স্থানে লাগান।

উপকারীতাঃ

পেঁপেতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (antioxidants) এবং কলায় ভিটামিনের উপাদানের জন্য পরিচিত। এই দুটি ফল ত্বককের বয়সের ছাপ দূর (anti-aging) করতে সাহায্য কাজ। মধু ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজ হিসাবে কাজ করে থাকে। এই প্যাক ব্যবহারে আপনার ত্বক পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করবে। এটি আপনার ত্বককে দৃঢ় এবং ত্বককের বয়সের ছাপ দূর করবে।

সতর্কতাঃ

দরকার নেই।

২. দুধ এবং আমন্ড ফেইস প্যাক (Milk And Almond Face Pack)

উপাদানসমূহঃ

  • ১ টেবিল চামচ আমন্ড গুঁড়া।
  • ২ টেবিল চামচ কাঁচা দুধ

কিভাবে ব্যবহার করবো ঃ

  • আমন্ডের গুড়া এবং কাচাঁ দুধ মিশ্রণ করুন।
  • পেস্টটি আপনার মুখের উপর ব্যবহার।
  • এটি ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • ধীরে ধীরে ম্যাসেজ করুন এবং পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

উপকারীতাঃ

আমন্ডে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং অপরিহার্য ফ্যাট এসিড সমৃদ্ধ। দুধ ত্বকের জন্য একটি বিস্ময়কর ময়শ্চারাইজার। এতে অ্যাসিড সমৃদ্ধ এবং এনজাইম রয়েছে যা আপনার ত্বকের বড়াতি আশঁ তুলে আপনার ত্বককে করে আরো নরম, মসৃন আর উজ্জ্বল। এই ফেইস প্যাক ব্যবহারে আপনার ত্বকের শুষ্কতা কমাবে এবং ত্বককে আরো নমনীয় করে তুলবে।

সতর্কতাঃ

দুধ এবং দুধজাতীয় পণ্যে আপনার এলার্জি হলে এই ফেইস প্যাক ব্যবহার করবেন না।

৩. দই এবং বাটার মিল্ক ফেইস প্যাক (Yogurt And Buttermilk Face Pack)

উপাদানসমূহঃ

  • ১ কাপ দই।
  • ১ কাপ বাটার মিল্ক।

কিভাবে ব্যবহার করবো ঃ 

  • উপাদান ২টি ভালভাবে মিশ্রণ করুন।
  • আপনার পুরো শরীরে আলতো করে এই মিশ্রণটি ব্যবহার করুন এবং ১৫-২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

উপকারীতাঃ

দইয়ে দস্তা, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি, এবং অন্যান্য দরকারী এনজাইম (enzymes) আছে । এই প্যাকটি ত্বক পরিষ্কার করে এবং কালো দাগগুলোকে হালকা করে তোলে। বাটার মিল্কে ল্যাকটিক এসিড (lactic acid) এবং হালকা পিলিং (peeling) থাকে এবং যেটি শীতকালে শুষ্ক ও নিস্তেজ ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এটি শুষ্ক ত্বকের চুলকানি দূর করতে সাহায্য করে।

সতর্কতাঃ

দুধ এবং দুধজাতীয় পণ্যে আপনার এলার্জি হলে এই ফেইস প্যাক ব্যবহার করবেন না।

৪. গ্লিসারিন (Glycerine)

উপাদানসমূহঃ

  • গ্লিসারিন (Glycerin)
  • তুলার বল(Cotton ball)

কিভাবে ব্যবহার করবো ঃ 

  • আপনার মুখ পানি দিয়ে পরিস্কার করুন এবং শুকিয়ে নিন।
  • তুলার বল গ্লিসারিনে ভিজিয়ে নিন এবং মুখের উপর ব্যবহার করুন। চোখ এবং ঠোঁট এড়িয়ে চলুন। পুরো মুখে লাগিয়ে নিন এবং শুকানোর জন্য রেখে দিন।
  • মুখ শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুতে হবে না।

উপকারীতাঃ

গ্লিসারিন সহজেই পাওয়া যায় এবং শুষ্ক ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি প্রাকৃতিক ময়শ্চারাইজ এবং খুব সহজেই ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এই প্যাকটি ত্বককে নরম করার প্রচুর ক্ষমতা রাখে।

সতর্কতাঃ

দরকার নেই।

৫. পেট্রোলিয়াম জেলি (Petroleum Jelly)

উপাদানসমূহঃ

পেট্রোলিয়াম জেলি

কিভাবে ব্যবহার করবো ঃ 

আপনার পুরো শরীরে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান এবং ১/২ মিনিট ম্যাসেজ করুন যাতে তা ত্বক শুষে নেয়।

উপকারীতাঃ

পেট্রোলিয়াম জেলি বাজারে খুব সস্তা দামে সহজেই পাওয়া যায়। এটি শুধু শুষ্ক ত্বকের জন্য নয় বরং শীতকালে শুষ্ক ঠোঁট এবং ত্বকের ফাটল থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে। পেট্রোলিয়াম জেলি আমাদের ত্বককে নরম ও মসৃণ করে তুলে এবং এতে ত্বক ময়শ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য আছে। পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বকের ক্ষতিকর অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সাহায্য করে।

সতর্কতাঃ

আপনার ত্বকে যদি ব্রেকআউটের (breakouts) প্রবণতা থাকে থাকে তবে এই প্রতিকারটি ব্যবহার করবেন না।

৬. অলিভয়েল এবং ডিমের ফেইস প্যাক (Olive Oil And Egg Yolk Face Pack)

উপাদানসমূহঃ

  • ২টি ডিমের কুসুম
  • ৩-৪ ড্রপ অলিভ অয়েল

কিভাবে ব্যবহার করবো ঃ 

  • ডিমের কুসুমের মধ্যে অলিভ অয়েল দিয়ে উপাদানগুলো ভালভাবে মিশ্রণ করুন।
  • আপনার মুখে এটি ব্যবহার করুন এবং ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  • পরিষ্কার পানি দিয়ে এবার পরিষ্কার করে ফেলুন।

উপকারীতাঃ

অলিভওয়েল এ প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন ই (E) এবং কে (K) সমৃদ্ধ। ডিমের কুসুমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ (A) এবং লেসিথিন রয়েছে যা ত্বককে পুষ্টি জোগায় এবং শুষ্কতা দূর করে। শীতের সময় সপ্তাহে দুইবার মুখে এই মাস্কটি ব্যবহার করে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পারেন।

সতর্কতাঃ

প্রয়োজন নেই।

৭. আভোকাডো এবং মধু ফেইস প্যাক (Avocado And Honey Face Pack)

উপাদানসমূহঃ

  • ১/২ আভাকাডো
  • ২ টেবিল চামচ মধু

কিভাবে ব্যবহার করবো ঃ 

  • আভোকাডো মিশ্রণ করুন এবং মিশ্রণ করা আভোকাডোতে মধু ব্যবহার করুন।
  • আপনার মুখ এবং ঘাড়ের উপর মিশ্রণ ব্যবহার করুন।
  • এটি ১০-১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন, শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

উপকারীতাঃ

আভাকাডো এবং মধু উভয় ত্বকের জন্য খুবই উপকারী এবং শীতকালে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা নিরামযয়ে সাহায্য করে। আভাকাডোতে সুস্থকর ফ্যাট, ভিটামিন ই এবং সি, এবং ক্যারোটিনয়েড রয়েছে। আভাকাডো এবং মধু উভয়ই ত্বকের ভিতরের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং ত্বককে হাইড্রেট রাখে। ময়শ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য ছাড়াও, মধুতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে সতেজ করে তুলে।

সতর্কতাঃ

প্রয়োজন নেই।

৮. নারকেল তেল (Coconut Oil)

উপাদানসমূহঃ

  • ভার্জিন নারকেল তেল (Virgin coconut oil)

কিভাবে ব্যবহার করবো ঃ 

  • ত্বককের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে নারকেল তেল লাগান এবং আলতোভাবে ম্যাসেজ করুন যতক্ষণ পর্যন্ত না ত্বক শুষে নেয়।
  • পানি দিয়ে ধোয়া থেকে বিরত থাকুন।

উপকারীতাঃ

নারকেল তেল ত্বককে নরম ও মসৃণ করে তোলে এবং প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের আর্দ্রতা সরবরাহ করে। এটি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ এবং ত্বকের আর্দ্রতা কমাতে বাধা দেয়। শীতকালে, বিছানায় যাওয়ার আগে রাত্রে শরীরে নারকেল তেল ব্যবহার করুন।

সতর্কতাঃ

প্রয়োজন নেই।

৯. লেবু এবং মধু সমাধান (Lemon And Honey Solution)

উপাদানসমূহঃ

  • অর্ধেক লেবু
  • ২ টেবিল চামচ মধু
  • তুলার বল

কিভাবে ব্যবহার করবো ঃ 

  • অর্ধেক লেবু থেকে রস বের করে নিন এবং লেবুর রসে মধু ব্যবহার করুন।
  • উপাদানগুলো ভালভাবে মিক্স করুন এবং তুলো দিয়ে আলতো করে মুখে লাগান।
  • এটি ১০ মিনিটের জন্য ছেড়ে দিন এবং তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

উপকারীতাঃ

লেবু ভিটামিন সি (C) সমৃদ্ধ, মধুতে এ্যান্টি-ইনফ্লোমেটরি বৈশিষ্ট্য গুলি রয়েছে এবং যা শীতে কালে ফাটা ত্বককে প্রশমিত করা, ত্বকের চুলকানি কমাতে সাহায্য করে।

সতর্কতাঃ

এই প্রতিকার ব্যবহার করার পর একটি ভাল ত্বকের ময়শ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করুন।

১০. সূর্যমুখীর তেল (Sunflower Oil)

উপাদানসমূহঃ

  • কয়েক ফোটা সূর্যমুখী তেল।

কিভাবে ব্যবহার করবো ঃ 

  • প্যাকটি আপনার মুখে লাগান এবং আঙ্গুলের পেট দিয়ে আলতো করে ম্যাসেজ করুন।
  • ত্বক যতক্ষণ পর্যন্ত তেল শোষণ করে না নেয় ততক্ষণ পর্যন্ত ম্যাসেজ করুন।
  • মুখ ধোঁয়া থেকে বিরত থাকুন।

ইচ্ছে করলে আপনি আপনার পুরো শরীরে সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করতে পারেন।

উপকারীতাঃ

সূর্যমুখী তেল শীতকালে শুষ্ক ত্বকের জন্য উপকারী উপাদান। এটি ভিটামিন এবং ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। এটি আপনার ত্বককে তরূণ ও হাইড্রিয়েড রাখে, কারণ এটি প্রলেপের মাধ্যমে আপনার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি সবচাইতে ভালো কাজ করে যদি আপনে রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করেন।

সতর্কতাঃ

প্রয়োজন নেই।

১১. স্ট্রবেরি মাস্ক (Strawberries Mask)

উপাদানসমূহঃ

  • ২-৩ টি স্ট্রবেরি
  • ১ চা চামচ মধু
  • ১ টেবিল চামচ ফ্রেশ ক্রিম

কিভাবে ব্যবহার করবো ঃ 

  • স্ট্রবেরি ভালভাবে মাশ করুন এবং এতে মধু ব্যবহার করুন।
  • উপাদানগুলো ভালভাবে মিশ্রণ করুন।
  • মুখের চারপাশে এই প্যাকটি ভালভাবে লাগান, চোখ এবং ঠোঁটে যেন না লাগে।
  • মুখে মাস্কটি ১০-১২ মিনিটের জন্য রেখে শুকিয়ে নিন। এবার কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

উপকারীতাঃ

স্ট্রবেরিতে ভিটামিন সি রয়েছে যা ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে। এটি ত্বককে নরম, মসৃণ এবং ময়শ্চারাইজ করে তোলে। এটি একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এতে হালকা অ্যাসিড রয়েছে যা চামড়া মৃত কোষ দূর করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলে। এটার পর ভাল ক্রিম এবং মধু ময়শ্চারাইজিং ব্যবহার করলে ভাল।

সতর্কতাঃ

আপনার যদি দুগ্ধ থেকে এলার্জি হয়, তাহলে তাজা ক্রিমের পরিবর্তে অতিরিক্ত আরো ১ চামচ মধু ব্যবহার করতে পারেন।

১২. কলার মাস্ক (Banana Mask)

উপাদানসমূহঃ

  • ১/২ টি কলা
  • ১ চা চামচ মধু

কিভাবে ব্যবহার করবো ঃ 

  • কলা ভালভাবে মিশিয়ে ফেলুন, মেশানোর পর তাতে মদু মিক্স করুন। কলা এবং মধু ভালভাবে মিশ্রণ করুন যাত কোন ধরনের বড় আশঁ না থাকে।
  • আপনার মুখে এটি ব্যবহার করুন এবং ১৫-২০ মিনিটের জন্য মুখে রেখে দিন।
  • এবার পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

উপকারীতাঃ

কলাতে ভিটামিন সি (C), বি৬ (B6) এবং এ (A) রয়েছে যা ত্বককে ময়শ্চারাইজিং করে এবং পুষ্টি যোগায়। এটি ত্বকের প্রয়োজনীয় পানি ব্যালেন্স করে এবং হাইড্রয়েড রাখতে সাহায্য করে। এই মাস্ক ব্যবহার করে অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারেন যেমন এটি ত্বকের বার্ধক্য থেকে রক্ষা (anti-aging) করে এবং ত্বকের সূক্ষ্ম দাগ এবং বলি রেখা দূর করে।

সতর্কতাঃ

প্রয়োজন নেই।

১৩. মধু এবং কাঁচা দুধ (Honey And Raw Milk)

উপাদানসমূহঃ

  • ১ টেবলি চামচ মধু
  • ২ টেবিল চামচ কাঁচা দুধ
  • তুলা

কিভাবে ব্যবহার করবো ঃ 

  • মধু এবং দুধ মিশ্রিত করুন।
  • এই মিশ্রণে তুলো ভিজিয়ে নিন এবং আপনার শরীরে, মুখে এবং অন্যান্য শুষ্ক জায়গায় এটা ব্যবহার করুন।
  • প্রায় ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিন এবং স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে ফেলুন।
  • পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

উপকারীতাঃ

মধুর ময়শ্চারাইজিং এর জন্য বেশ ভাল। দুধ ধীরে ধীরে শুষ্ক এবং আলগা চামড়া অপসারণ করে এবং ত্বক মসৃণ করে। এটি আপনার ত্বকের ময়শ্চারাইজিং করে।

সতর্কতাঃ

যদি আপনার ত্বক সংবেদনশীল হয় বা দুধে এলার্জি থাকে তবে এই প্রতিকারটি ব্যবহার করবেন না।

এই প্রাকৃতিক প্রতিকারের মাধ্যমে, আপনি আপনার ত্বককে নরম এবং মসৃণ রাখতে পারেন,  শীতকাল জুড়ে আপনি আপনার ত্বককে উজ্জ্ববিত রাখুন।

আপনার মতামত দিন।

Filed Under: Dry Skin, Home Remedies

শীতে আপনার মুখের যত্ন নিন ৭টি সহজ উপায়ে

by রূপকথন ডেস্ক Leave a Comment

যেকোন চরম আবহাওয়ায় এটা হোক গরম বা ঠান্ডা তা আমাদের ত্বকের  ক্ষতি হতে পারে। যাইহোক, আমি মনে করি শীতকালে বিশেষভাবে ক্ষতিকর হল শুষ্ক বাতাস এবং শীতল আবহাওয়া যা আমাদের ত্বককে শুকিয়ে ফ্লেকস (flakes) তৈরি করতে পারে। এই সময় নিয়মিত ত্বকের যত্নে ই পারে এর থেকে মুক্তি দিতে । সুতারাং এই সময়ে প্রয়োজন ত্বকের বেশি যত্ন নেওয়া যা আমাদের দিবে স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বল ত্বক।

শীতকালে স্বাস্থ্য উজ্জ্বল চেহারা অর্জন করার জন্য এখানে আপনাদের ৭টি কৌশল জানানো হলো। যা আপনার ত্বকে ফাটা ও শুষ্কতা থেকে রক্ষা করবে রাখবে।

শীতকালে মুখের যত্নের ৭টি টিপস:

১. ক্লিনিং, স্বাস্থ্যকর ত্বকের প্রথম পদক্ষেপ (Cleansing, The First Step To Healthy Skin):

শীতে আপনি কোন পণ্যটি ব্যবহার করছেন সেটা প্রধান বিষয় নয়, মুখের ত্বকের যত্নে প্রথম ধাপ হল মুখ পরিষ্করণ। শুধু শীতে নয় এইটা সারা বছর অনুসরণ করা হবে। শীতকালে, আপনি ২-৩ বার মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলতে পারেন এবং অতিরিক্ত শুষ্কতা প্রতিরোধ করার জন্য ঠান্ডা দুধ এবং তুলার বল দিয়ে আপনার মুখ পরিষ্কার করুন।

২. স্ক্রাব (Scrub, Exfoliation Is The Key):

যে কোন ঋতুতে স্ক্রাব আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে শীতকালে দৈনিক স্ক্রাবিংয়ের ফলে আপনার ত্বক বেশি ঘর্ষনের ফলে শুকিয়ে যেতে পারে। তবে সাপ্তাহে একটি হালকা স্ক্রাব ব্যবহারে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

আপনি চাইলে ঘরে বা হাতের কাছে পাওয়া যায় এমন সব প্রাকৃতিক উপানদান ব্যবহার করে নিজের তৈরি স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন।

আপনাদের সুবিধার জন্য একটি ফলের স্ক্রাবিং এর নমুনা দেয়া হল।

  • ২ টেবিল চামচ পাকা কলা
  • ২ টেবিল চামচ আপেলের পেস্ট
  • ১ টেবিল চামচ মধূ
  • ২ ডলপো হালকা পুদিনা (dollops of your Mild scrub)

সব উপাদান এক সাথে ভালভাবে মিশ্রণ করুন এবং আলতোভাবে আপনার মুখে ২ মিনিট ধরে স্ক্রাব করুন। তারপর হালকা উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুখটা মুছে ফেলুন।

  ৩. ত্বকের টোনিং (Toning To Tighten The Skin):

প্রথমে যা করতে হবে তা হল, সর্বদা একটি হালকা টোনার ব্যবহার করতে হবে যা আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত । একটি খারাপ টোনার ত্বকের PH levels নষ্ট করে। টোনিং আপনার মুখের অতিরিক্ত ময়লা দূর করতে সাহায্য করে। টোনিং আপনার ত্বককে শুধু টান টান ভাব করতেই সহায়তা করেনা বরং এটি আপনার ত্বককে শুষ্ক আদ্রতার হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। আপনি রাতে ঘুমানোর আগে এটি  ব্যবহার করতে পারেন।

৪. ময়শ্চারাইজিং (Moisturizing For Soothing):

ময়েশ্চারাইজিং কেবল শুষ্ক এবং ফ্লাকি ত্বকের জন্য অপরিহার্য নয় বরং নিয়মিত সকল ত্বকের পরিচর্যার জন্য এটি প্রয়োজন। যদি আপনি রাসায়নিক যুক্ত (chemical-laden) পণ্যের উপর ভরসা করতে না পারেন সেক্ষেতে আপনি প্রাকৃতিক পণ্যগুলো দ্বারা ঘরে বসে ময়েশ্চারাইজ তৈরি করতে পারেন।

যেমন আমন্ড ওয়েল (almond oil) বা এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল (extra virgin olive oil) আপনার ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।

বিকল্প হিসাবে আপনি আপনার নরমাল কোল্ড ক্রিম বা লোশনের সাথে ওয়েল মিশ্রণ করতে পারেন। হালকাভাবে আপনার ত্বকের মধ্যে ম্যাসেজ করুন যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনার ত্বক উপাদানগুলো শোষণ করে নেয়।

৫. শীতের জন্য প্রয়োজনীয় ফেইস প্যাক (Essential Face Packs For Winter):

আপনার রান্নাঘরে অনেক উপাদান রয়েছে যা শীতে ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে আপনার মুখের ত্বক আরো নরম ও কমল রাখে রাখতে সাহায্য করবে । এখানে কয়েকটি ফেইস প্যাক তৈরির উপায় দেওয়া হল।

এভোকাডো ফেইস প্যাক (Avocado Face Pack):

পাকা এভোকাডো (Avocado) তে পর্যাপ্ত ময়েশ্চারাইজিং উপাদান রয়েছে। এটি আপনার মুখের পাশাপাশি চুলের জন্যও খুব উপকারী।এভোকাডো পেস্ট মুখে দিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন তার পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলোন। তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। টোনারের পরিবর্তে এই হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।

কলার ফেইস প্যাক (Banana Face Mask):

পাকা কলায় ময়শ্চারাইজিং এর বিশাল উৎস। ৪ থেকে ৫ টেবিল-চামচ পাকা কলার পেস্ট নিন এবং মুখে হালকাভাবে ম্যাসেজ করুন। ১০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন এবং আপনার মুখে মধু দিয়ে আবার কিছুক্ষণ ম্যাসেজ করুন। অতিরিক্ত ময়শ্চারাইজিং অনুভূতির জন্য পুরো মুখে ঘসুন। কমপক্ষে ১০ মিনিটের জন্য তা করুন এবং একটি টোনার ব্যবহার করে শেষ করুন।

বাটার মিল্ক (Buttermilk Pack):

কাচাঁ হলুদের সাথে ফ্রেশ বাটার মিল্ক মিশ্রণ করুন, এবার মুখে আলতো করে লাগান। মুখে লাগানো পেস্টটি ১০ মিনিট পরে কুসুম গরম পানি দ্বারা ধুয়ে ফেলুন।

অ্যালোভেরা (Aloe Vera):

অ্যালোভেরা অবিশ্বাস্যভাবে ময়শ্চারাইজিং উপাদানের এর জন্য পরিচিত। অ্যালোভেরা মুখের ময়েশ্চারাইজের জন্য ব্যবহার করাতে পারেন। এটি শুষ্কতা থেকে আপনার মুখকে রক্ষা করবে এবং ত্বক উন্নত করার একটি আদর্শ উপায়।

৬. নিজেকে হাইড্রেড রাখুন (Keep Yourself Hydrated):

প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন এটি শুষ্ক আবহাওয়া অত্যন্ত অপরিহার্য  শরীর এবং ত্বককে হাইড্রিয়াল রাখার জন্য। এটি আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা নিশ্চিত করে।

৭. সূর্য থেকে আপনার ত্বক রক্ষা (Shield Your Skin From The Sun):

শীতকালে সূর্য কুয়াশার বা মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। কিন্তু এটি তখনও আপনার ত্বকে ক্ষতিকর UVA এবং UVB রশ্মি মেঘের ভিতর দিয়ে ছড়ায় । সুতারাং বাইরে বের হওয়ার সময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভুলবে না।

আশা করি, এই টিপসগুলি আপনাকে শীতকালীন দুর্দশার হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে। আপনার শীতকালে স্কিন কেয়ারের আরো টিপস পেতে চান? তাহলে নীচের মন্তব্য বিভাগে একটি টেক্স ড্রপ করুন।

Filed Under: Dry Skin

গ্লিসারিন ব্যবহার করার ৪ টি সহজ উপায়

by রূপকথন ডেস্ক Leave a Comment

আপনি কি সুন্দর ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য কোন প্রাকৃতিক উপায় খুঁজছেন? ভাবছেন যদি এমন কিছু থাকতো যা দিয়ে আপনি আপনার ত্বক উজ্জ্বল এবং দীপ্তিময় রাখতে পারতেন? তাহলে আপনি গ্লিসারিনের সাথে গোলাপ জল এবং লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন।

ভাবছেন, কিভাবে এটি আপনার কাঙ্ক্ষিত নিখুঁত ত্বক পেতে সাহায্য করে? জানার জন্য পড়তে থাকুন।

কিভাবে আপনি আপনার ত্বকে গ্লিসারিন, গোলাপ জল এবং লেবুর রস ব্যবহার করবেন?

আপনার ত্বকের জন্য গোলাপজল এবং লেবুর রস দিয়ে গ্লিসারিন ব্যবহার করার বিভিন্ন রকম কার্যকর উপায় রয়েছে।

এখানে কতগুলো কৌশল দেয়া হল যা আপনাকে চমৎকার মিশ্রণ তৈরী করতে সাহায্য করবে।

১.  মেকআপ সেটিং স্প্রে  (Makeup Setting Spray):

আমরা দোকান থেকে যে মেকআপ সেটিং স্প্রে ক্রয় করি সেটি সাধারণত কেমিক্যাল দিয়ে পূর্ণ থাকে। তাই  গ্লিসারিন, গোলাপজল এবং লেবুর রসের মিশ্রণের ব্যবহার করা সবচেয়ে ভাল একটি উপায়, কারণ এটি আপনার ত্বকের জন্য নিরাপদ।

এই স্প্রে তৈরী করার জন্য আপনার যা যা দরকার হবে তা হল :

  • ২০ মি.লি. গোলাপ জল।
  • ২ ফোটা গ্লিসারিন।
  • ১ চা চামচ লেবুর রস।

এবার সবগুলো উপকরণ একসাথে মিশিয়ে নিন এবং একটি স্প্রে বোতলে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। আপনি এই স্প্রে ৪ সাপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।

যদি আপনার ত্বক শুষ্ক হয় তাহেল একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল যোগ করুন যাতে আপনার ত্বক পর্যাপ্ত পরিমান পুষ্টি পায়। মেকআপ লাগানোর পরে এই স্প্রেটি ব্যবহার করলে এটি আপনার ফাউন্ডেশন ভেসে উঠা প্রতিরোধ করবে এবং আপনার মেকআপ দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী করবে।

২. ফেশিয়াল ক্লিনজার অথবা স্ক্রাব  (Facial Cleanser/Scrub):

আপনি গ্লিসারিন, গোলাপজল এবং লেবুর রস দিয়ে একটি চমৎকার ফেসিয়াল স্ক্রাব করতে পারেন।

আপনাকে যা করতে হবে তা হল:

  • ১ চা চামচ গ্লিসারিন।
  • ১ চা চামচ লেবুর রস।
  • ১ টেবিল চামচ গোলাপ জল।
  • ১ চা চামচ চিনি।

সবগুলো উপাদান একসাথে মিশিয়ে ভালোভাবে ততক্ষন নাড়তে থাকুন যতক্ষন না পর্যন্ত চিনি পুরোপুরি মিশে যায়। এবার মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে আলতোভাবে ঘষে মুখের মৃত চামড়া তুলে ফেলুন। ঘরে তৈরি এই স্ক্রাব দিয়ে আপনি আপনার মুখের মৃত চামড়া, ধুলো-বালি এবং অন্যান্য দূষিত কণা তুলে ফেলতে পারেন। এই প্যাকটি আপনি আপনার ঘাড়, হাত, বাহু এবং হাঁটুতেও ব্যবহার করতে পারেন।

যখন এটি আপনি নিয়মিত ব্যবহার করবেন, আপনি লক্ষ্য করবেন আপনার শরীরের কালো অংশগুলো আস্তে আস্তে উজ্জ্বল হচ্ছে। আপনি মিশ্রণে একটি তুলা ভিজিয়ে এই তুলা মুখের মেকআপ পরিষ্কার করার জন্য, অতিরিক্ত তেল, ধূলোবালি ইত্যাদি দূর করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

৩. ফেশিয়াল মাস্ক  (Facial Mask):

গ্লিসারিন, গোলাপ জল এবং লেবুর রসের মিশ্রণ একটি চমৎকার মাস্ক তৈরী করে, কারণ এই উপাদানগুলো আপনার ত্বককে যথেষ্ট পরিমান আদ্রতা সরবরাহ করে। এটি মৃত চামড়া তুলে ফেলতে খুব চমৎকারভাবে কাজ করে এবং আপনার ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করে। মুখের দাগ, বলেরেখা এবং বয়সের ছাপ দূর করতে সাহায্য করে। এটি আপনার ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্সের (pH balance) ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।

এটি ব্রণ দূর করে এবং ব্রণ-সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে আপনাকে ভবিষ্যতে ব্রণ উঠা থেকে মুক্তি দেয়।

৪. ময়েশ্চারাইজার (Moisturizer):

আপনি ইতিমধ্যে জেনেছেন যে, গ্লিসারিনের ব্যবহার শুষ্ক ত্বককে নমনীয় করার জন্য একটি দুর্দান্ত উপায়, বিশেষ করে শীতকালে জন্য। ময়েশ্চারাইজার হিসেবে গ্লিসারিনের সাথে গোলাপ জল এবং লেবুর রসের ব্যবহার আপনার ত্বকের অনেক জন্য উপকার আসে এবং এটির সব চেয়ে ভাল দিক হল এটি যেকোন ত্বকের জন্য মানানসই।

এছাড়াও গোলাপজলে ফিনিলেথানল (phenylethanol) রয়েছে, যা সংকোচন সৃষ্টিকারী এবং একটি কার্যকর রোগ প্রতিরোধকারী হিসেবে কাজ করে যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক দাউদ, ব্রণ এবং অন্যান্য চর্মরোগ প্রতিরোধ করে।

আপনি দেখতে পাবেন, আপনার ত্বকে গ্লিসারিন, গোলাপ জল এবং লেবুর রস ব্যবহার করার অনেক উপায় রয়েছে। যখন এটাকে আপনি আপনার প্রতিদিনের রুপচর্চার অংশ হিসেবে ব্যবহার করবেন, তখন আপনি  নমনীয়, উজ্জ্বল এবং দাগহীন ত্বক পাবেন।

গ্লিসারিন, গোলাপ জল এবং লেবুর রস এই উপাদানগুলোর মধ্যে অনেক আশ্চর্যজনক প্রাকৃতিক গুণাবলী রয়েছে যা আপনার ত্বকে বিস্ময়কর প্রভাব ফেলে। যার ফলে বেশিরভাগ সময়ই এগুলো রুপচর্চা করার বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহার করা হয়।

সবসময় উজ্জ্বল এবং দীপ্তিময় ত্বক পাওয়ার জন্য গ্লিসারিন, গোলাপ জল এবং লেবুর রসের মিশ্রণ ব্যবহার করুন।

Filed Under: Skin Care Ideas

১৫ টি কৌশল যা শীতকালেও আপনার মুখের ত্বককে উজ্জ্বল রাখবে

by রূপকথন ডেস্ক Leave a Comment

শীতকাল আমাদেরকে সূর্যের তাপের হাত থেকে সাময়িকভাবে আমাদের ত্বককে রক্ষা করে। কিন্তু সেই সাথে আমাদের অনেক সমস্যারও মুখোমুখি হতে হয়। আপনি যদি এই শীতে নিখুঁত লাবন্যময় ত্বক পেতে চান এবং খারাপ আবহাওয়ার হাত থেকে ত্বককে নিরাপদে রাখতে চান তাহলে কিছু কৌশলগুলো অনুসরণ করুন।

শীতকাল আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে ত্বক হয়ে যায় প্রাণহীন রুক্ষ শুষ্ক। চিন্তা করবেন না শীতকালীন রূপচর্চা কৌশলগুলো খুব একটা জটিল নয়। আসলে, এই কৌশলগুলো প্রত্যেকদিন আপনার ত্বককে মসৃণ, সুন্দর, শুষ্ক এবং তৈলাক্ততা দূর করতে সাহায্য করবে।

তৈলাক্ত বা শুষ্ক ত্বকের মানুষগুলো খুব একটা ভাগ্যবান নয়। এটার অর্থ এই নয় যে, আপনি আপনার এই শুষ্ক বা তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে শীতে চলাফেরা করতে পারবেন না। এই শীতে আপনার ত্বককে উজ্জ্বল রাখার জন্য কিছু কৌশল আমি দিচ্ছি।

শীতকালে উজ্জ্বল লাবন্যময় ত্বক পেতে ১৫টি কৌশল ।

১. পরিষ্করণ (Cleansing):

প্রতিদিন আপনি ২-৩ বার আপনার মুখ পরিষ্কার করুন এবং রাতে শুতে যাওয়ার আগে মুখ ভালভাবে পরিষ্কার করুন। ত্বকের শুষ্কতা মোকাবেলা করার জন্য ঠান্ডা দুধ এবং তুলো ব্যবহার করে মুখ পরিষ্কার করুন।

২. স্ক্রাবিং (Scrubbing):

শীতকালে নিয়মিত স্ক্রাবিং করা অবশ্যই জরুরী। স্ক্রাবিংয়ে মরা কোষ ঝরে যায়। ত্বকের পানি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ে। যাইহোক, সাপ্তাহে একবার বা দুবার স্ক্রাবিং করা এবং হালকা শীতকালীন পণ্য ব্যবহার করা উচিত।

৩. টোনিং (Toning): 

শীতকালে তৈলাক্ত ত্বক ভিতরে তেলগুলোকে লুকিয়ে রেখে ত্বক আরো শুষ্ক করে দেয়। তাই শীতকালে তৈলাক্ত ত্বকের পরিচর্যায় বেশি করে যত্নসহকারে ত্বকের টোনিং করা।

৪. ময়শ্চারাইজিং (Moisturising):

প্রতিদিন আপনার ত্বকের ময়শ্চারাইজিং করতে হবে। একটি কোল্ড ক্রিম (cold cream) এর পরিবর্তে, আপনি ময়শ্চারাইজ করতে কাজু বাদাম বা এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল তেল ব্যবহার করতে পারেন।

৫. ফেস প্যাক (Face Packs):

শুষ্ক ত্বকের জন্য শীতকালীন যত্ন মানে হাতে বানানো হাইড্রেটিং মাস্ক ব্যবহার যা থেকে ঠান্ডার আদ্রতা থেকে আপনার ত্বককে বাচাঁতে সাহায্য করে। যেমন: মধু, তরমুজ, এভোকাডো, দই, অলিভওয়েল, জোজবা তেল, আমন্ড তেল, কলা যা আপনি পেতে পারেন।

৬. ভিতরের আদ্রতা ধরে রাখুন (Stay hydrated inside):

শুষ্ক ত্বক আদ্রতা হারায়। আপনার শরীর ও ত্বকের আদ্রতাপূর্ণ রাখাতে নিয়মিত পানি পান করুন।

৭. সানস্ক্রীন (Sunscreen):

শীতকালে সূর্যের তাপ আপনার কাছে কম মনে হতে পারে। কিন্তু এই সূর্যের তাপ থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করা প্রয়োজন। যখন আপনি বাইরে বের হবেন অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করে তারপর বাইরে বের হবেন।

৮.  গরম পানি (Lukewarm water):

গরম পানির শাওয়ার আপনার কাছে বিলাসিতা মনে হতে পারে। যদি তাপমাত্রা খুব বেশী হয় এবং আপনি খুব দীর্ঘ সময় ধরে থাকেন তাহলে প্রকৃতপক্ষে আপনি আপনার ত্বকের আদ্রতা শুকিয়ে ফেলেছেন।

৯. সঠিক ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন করুন  (Choose the right moisturiser):

একটি তেল-ভিত্তিক (oil-based) ময়েশ্চারাইজার এবং একটি প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে আপনার ত্বকের পরিবর্তন করতে পারেন।

১০. ত্বককে রক্ষা করা (Use protection):

সানস্ক্রীনের পাশাপাশি, ঠান্ডা বাতাস থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করার জন্য আপনার সমস্ত শরীর গরম কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখুন।

১১. রাতের ময়েশ্চারাইজ (Overnight moisturise):

যখন আপনি বিছানায় ঘুমাতে যান তখন আপনার হাত ও পায়ে একটি নাইট ক্রিম ব্যবহার করুন। আপনি আদ্রতাকে এড়াতে গ্লাভস ব্যবহার কর করতে পারেন।

১২. আপনার পরিস্কারের ধরন পরিবর্তন (Change your cleanser):

আপনার গ্রীষ্মকালীন ক্লিনজার (cleanser) পরিবর্তন করে শীতকালীন ময়েশ্চারাইজিং করুন। গ্রীষ্মকাল যাওয়ার সাথে সাথে  শীতকালীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

১৩. ভাজা খাবার থেকে দূরে থাকুন (Stay away from fried food):

শীতকালে ভাজা, চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ এটি আপনার শরীরের উপর আরো বেশি পরিমাণ চাপ সৃষ্টি করে এবং হজম প্রক্রিয়া কমায়।

১৪. স্বাস্থ্যসম্মত খাবার (Eat healthy):

আপনার খাদ্যের তালিকায় প্রচুর ফল এবং ফলের শরবত যুক্ত করুন। আপনার খাদ্যতে ভিটামিন এ (A) এবং ই (E) যোগ করুন।

১৫.  খুব ভারী মেকআপ পরিহার করা উচিত (Avoid damp make ups as it leads to clogging up of pores):

আপনার মেকআপে শুষ্ক এবং হালকা উপাদান থাকা আবশ্যক।

উপরে আমার দেয়া টিপসগুলো অনুসরণ করুন এবং আপনি এই শীতে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দিন।

Filed Under: Dry Skin

৫টি ঘরে তৈরি সহজ কলার প্যাক ব্যবহার করে শীতকালে শুষ্ক মুখের যত্ন নিন যা আপনার ত্বকের শুকনো ভাব দূর এবং ঠান্ডা প্রভাব থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখবে

by রূপকথন ডেস্ক Leave a Comment

শীতকাল হচ্ছে ত্বকের পুনরুদ্ধার এবং প্রস্তুতির ঋতু।

এক আমেরিকান ভ্রমণ লেখক এবং ঔপন্যাসিক যথাযথ বলেছেন। “গ্রীষ্মের দীর্ঘ এবং নিস্তেজ দিন আপনার ত্বককে করে দেয়  শুষ্ক এবং নির্জীব “। গ্রীষ্মের প্রখর রোদ্রে আমাদের ত্বক নষ্ট করে দেয়। তাই শীতকাল হচ্ছে আমাদের ত্বকের পুনরুদ্ধার এবং শীতকালে কঠোরতা থেকে ত্বককে প্রস্তুত রাখা।

শুষ্ক ও অনুজ্জ্বল চেহারার জন্য আমরা নিয়মিত অনেক টাকা ব্যয় করে রাসায়নিক পণ্যে ব্যাবহার করি, এটা আমরা কম খরচে প্রাকৃতিক উপায়ে প্রতিকার করতে পারি যা আমাদের কে শীতকালে শুষ্ক ত্বক এবং ফাটা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে । এই উপাদানগুলো ত্বকের জন্য খুবই কার্যকর, ব্যবহার করা যথেষ্ট সহজ এবং সাশ্রয়ী।

শীতকালে সুপার হাইড্রোডেড (super hydrated) এবং উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার  জন্য নিবিড়তা এবং ধৈর্য হল চাবি।

শুষ্ক ত্বকের জন্য ঘরে তৈরি কলার প্যাকগুলি

আসুন ঘরে বসে নিজের শুষ্ক মুখের জন্য কলার প্যাক তৈরি করি।

১. কলা এবং মধুর ফেইস প্যাক (Banana and Honey Face Pack)

উপাদান সমূহ

  • ১ টি পাকা কলা
  • ১ টেবিল চামচ মধু
  • ১ চা চামচ অলিভ অয়েল

তৈরি এবং ব্যবহার করবেন ঃ

১. একটি কলা নিন এবং কলাটিকে ছোট ছোট টুকরো করে একটি বাটিতে রাখুন।

২. ১ টেবিল চামচ মধু।

৩. ১ চা চামচ অলিভ অয়েল।

৪. সবগুলো উপাদান একটি পাত্রে নিয়ে পেস্ট করুন।

৫. এবার মুখে ব্যবহার করুন।

৬. ১০ মিনিট পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এই প্যাকটি ত্বকের শুকনো ভাব দূর করবে এবং শীতকালের ঠান্ডা প্রভাব থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখবে। এই প্যাক ভিটামিন ই(e)  আছে যা আপনাকে স্বাস্থ্য উজ্জ্বল ত্বক উপহার দিবে।

কলা এবং মধুর ফেইস প্যাক ভিডিও টিউটোরিয়াল

কলা এবং মধুর ফেইস প্যাক ব্যাহারে ত্বকের উপকারিতা

  • মধু শীতের ত্বকের আর্দ্রতা কমায়।
  • কলা এবং অলিভ অয়েলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ত্বকের রাসায়নিক পদার্থের খারাপ প্রভাবগুলি অপসারণ এবং নিষ্ক্রিয় করতে সহায়তা করে।
  • এছাড়াও অলিভ অয়েল আপনার ত্বকের মেদ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
  • এই প্যাক আপনার ত্বককে শিথল, মসৃণ এবং আর্দ্রতা কমাবে।

২. কলা এবং বাটার ফেস প্যাক (Banana and Butter Face Pack)

উপাদান সমূহ

  •  ১টি কলা
  •  ২ টেবিল চামচ সাদা বাটার

কিভাবে কলা এবং মাখন দ্বারা ফেইস প্যাক তৈরি এবং ব্যবহার করবেন?

  • একটি কলা নিন এবং কলাটিকে ছোট ছোট টুকরো করে একটি বাটিতে রাখুন। কলার টুকরোগুলোকে ভালভাবে মিশ্রণ করুন।
  • ২ টেবিল চামচ সাদা বাটার কলার পেস্টর সাথে মিশ্রণ করুন।
  • কলা এবং মাখন ভালভারে মিশ্রণ করে এবং মুখে ব্যবহার করুন। এটি শুষ্ক ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।

পদ্ধতি

একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করার জন্য সবগুলো উপাদান ভালভাবে মিশ্রণ করুন। আপনার মুখে মসৃণ পেস্টটি ভালভাবে লাগান এবং এটি ২০ মিনিট মুখে রাখুন। এবার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং তায়ালে দিয়ে মুখ মুছে ফেলুন।

৩. ভিটামিন ই (E) ফেইস প্যাক (Vitamin E Face Pack)

উপাদান সমূহ

  • ১ টি পাকা কলা যতক্ষণ পর্যন্ত মসৃণ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ভালভাবে পেস্ট করুন।
  • ১ টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল।
  • ১ টেবিল চামচ মধু।

কিভাবে তৈরি করবেন এবং মুখে লাগাবেন?

  • সমস্ত উপাদানগুলো ভালভাবে মিশ্রণ করুন এবং মুখে ব্যবহার করুন। ২০ মিনিটের জন্য মুখে রেখে দিন, শুকানো পর্যন্ত।
  • আপনার ইচ্ছে করলে, গোলাপ জল এবং চন্দন গুঁড়া মিশ্রণ করতে পারেন।

৪. কলা এবং দই ফেইস মাস্ক (Banana and Yogurt Face Mask):

উপাদান সমূহ

  • ১ টি পাকা কলা যতক্ষণ পর্যন্ত মসৃণ না ততক্ষণ পর্যন্ত ভালভাবে পেস্ট করুন।
  • ২ টেবিল চামচ দই। মসৃণ পেস্ট না হওয়া পর্যন্ত দই মিশ্রণ করুন।

কলা এবং দই কিভাবে ব্যবহার করবেন?

  • উপাদানগুলো ভালভাবে মিশ্রণ করুন এবং মুখে ব্যবহার করুন।
  • এটি ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করবে এবং সূর্যের অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে আপনার ত্বককে সুরক্ষিত রাখবে।

৫. কলা এবং লেবু রস মাস্ক (Banana and Lemon Juice Mask):

উপাদান সমূহ

  • ১ টি পাকা কলা যতক্ষণ পর্যন্ত মসৃণ না ততক্ষণ পর্যন্ত ভালভাবে পেস্ট করুন।
  • ১ টেবিল চামচ লেবুর রস।

কিভাবে তৈরি এবং ব্যবহার করবেন?

  • উপাদানগুলো ভালভাবে মিশ্রণ করুন এবং মুখে ব্যবহার করুন।
  • ১৫ মিনিটের জন্য ছেড়ে দিন এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ত্বকের ভিটামিন এ, বি এবং ই সমৃদ্ধ এবং চামড়ার ক্ষতিকর বার্ধক্যের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
  • লেবু ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং আপনার ত্বকের ক্ষত চিহৃ দূর করতে সাহায্য করে।

এই সেরা ৫টি ফেইস প্যাক আপনার ত্বককে শীতকালে সুষ্ঠ রাখবে এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য এই ফেইস প্যাক খুবই উপকারী। এই শীতে প্যাকগুলো ব্যবহার করুন।

সুস্থ এবং সুখী থাকুন।

Filed Under: Dry Skin, Face Care Tips

মাত্র ৭ দিনে প্রকৃতিক ভাবে ঘরে বসে উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় ত্বক পেতে আজই জেনে নিন (অপ্রকাশ্য অথ্য, নিয়ম দেওয়া হল)

by রূপকথন ডেস্ক Leave a Comment

উজ্জ্বল এবং মসৃন ত্বক নিয়ে সবারই একটি বাড়তি আগ্রহ থাকে। নিজের ত্বককে নিজরে সাথে সমঞ্জসতা করার জন্য ডার্ক সার্কেল, পিগমেন্টেশন, শুষ্ক ও নির্জীব ত্বকের প্যাচ, ব্ল্যাকহেড এর যুদ্ধ করতে হয়।

বর্তমান সময়ে হয়তো আপনাকে এই সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছেনা। কিন্তু আপনি যদি আপনার ত্বকের প্রতি অমনোযোগি হন তাহলে এধরনের সমস্যাগুলো ত্বকে বাসা বাধঁতে খুব বেশি সময় নিবেনা।

আপনি শুনে খুশি হবে যে আমি আপনাদের জন্য একটি গাইড লাইন নিয়ে এসেছি যা ৭ দিনের মধ্যে আপনাকে একটি সুন্দর উজ্জ্বল ত্বক উপহার দিবে।

১ সাপ্তাহের মধ্যে  কিভাবে উজ্জ্বল ত্বক পেতে পারেন

প্রথম দিন

আজ থেকে, CTN পদ্ধতিতে আপনার রুটিন শুরু করুন। যদিও বেশিরভাগ মানুষ মুখ পরিষ্কার করার জন্য টোনিং এবং মসজারাইজিং (Moisturizing) নিয়মিত ব্যবহার করে থাকে। যদি আপনি ব্যবহার না করে থাকেন তবে আজ থেকে শুরু করুন। শুরু করবেন, দেখবেন আর থামছেন না! নিয়মিত করছেন।

  • আপনার মুখ সব সময় ধুলা-বালি থেকে তৈলাক্ততা শোষণ করছে এবং আপনার মুখে যে তৈলাক্ত আর মরা চামড়া আছে তা আপনার মুখে জমা হচ্ছে। ক্লিনজার (cleanser) ব্যবহারের ফলে লোমগুলো অনাবৃত হয় এবং ব্রণের (acne) মত সমস্যাগুলো দূর হয়। এই ক্লিনজার হতে হবে আপনার ত্বকের উপর নির্ভরশীল। যেটি আপনার ত্বকে মানানসই। ক্লিনজার  (cleanser) ব্যবহারের পর টোনার (toners) ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের বাড়তি তেল ও ধূলা-বালি দূর হবে। প্রাকৃতিক টোনার (toners) ব্যবহার করা সব চেয়ে ভাল। প্রাকৃতিক টোনার এর মধ্যে গোলাপ জল, গ্রীন টী (green tea) এবং সাদা ভিনেগার (white vinegar) খুবই উপকারী। একটি ভাল ময়েশ্চারাইজার (Moisturizer) ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার রুটিন শেষ করুন।
  • এবার আপনার মুখে উজ্জ্বল ফেইস প্যাক ব্যবহার করুন। আপনি চাইলে আপনার প্যাক আপনি নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন। যেমন- পেঁপে, লেবু, মধু, দুধ এবং টমেটু যা আমাদের রান্না ঘরে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
  • ঘুমানোর আগে অবশ্যই আপনার মেকাপ তুলে ফেলা উচিত। আপনার ত্বকের রাতে শ্বাস-প্রাশ্বাস নেয়া দরকার যেটি মেকাপ থাকলে সম্ভব হয়না। মেকাপ তুলে ফেলার সব চেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে আপনি বেবি অয়েলএর কয়েক ফুটা আপনার মুখে লাগান এবং কয়েক মিনিট ম্যাসেজ করুন। যখন মেকাপ লোস হয়ে আসবে তখন আপনি তুলা, তুয়ালে বা টিস্যু দ্বারা মুছে ফেলুন।
  • আপনার দিন CTM পদ্ধতির মাধ্যমে আবার শেষ করুন। নিয়মিত একটি ভাল ময়েশ্চারাইজার এবং ভাল আই সেরাম (eye serum) এর মাধ্যমে আপনার দিন শেষ করুন। যদি আপনার ত্বক শুষ্ক হয় তাহলে আপনার শাটিন কাপুড়ের বালিশের কাভার ব্যবহার করুন। সব সময় চেষ্টা করবেন চিৎ হয়ে ঘুমাতে যাতে করে আপনার মুখ বালিশের সাথে না লাগে। এতে করে আপনার মুখের তৈলাক্ততা দূর করতে সাহায্য করবে।

দ্বিতীয় দিন

২য় দিন আপনি অবশ্যই ফোকাস করা উচিত আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নতি দিকা। তা নির্ভর করে আপনার খাবারের উপর। আপনার ত্বক তখনই ভাল কাজ করবে যখন সে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর খাবার পাবে। যখন বাহ্যিক যত্ন এতটা ভালভাবে নিচ্ছেন তখন অভ্যন্তরীণটা নয় কেন? ভাল খাবার আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

  • সকালের ক্লিনজ টোন ময়েশ্চারাইজ (cleanse-tone-moisturize) রুটিন ব্যবহার করুন ফলের প্যাক এর মাধ্যমে। ফলের প্যাক খুব সহজেই বানানো যায় এবং প্রয়োগ করা যায়। আপনি চাইলে এই উপাদানগুলো নিয়েই ব্যবহার করতে পারেন। যেমন আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয় তাহলে কলার প্যাক, আর যদি তৈলাক্ত হয় তাহলে স্ট্রবেরির (strawberries) প্যাক। এটি সব চেয়ে ভাল উপায় যেটি কেমিক্যাল ছাড়ায় আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে।
  • আপনার শরীরে পর্যাপ্ত সুস্থতার জন্য বেশি করে পানি এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। এটি আপনার মুখের যে তৈলাক্ততা তৈরি হয় তা নিয়ন্ত্রয়ণ করে এবং আপনার লোমকুপ শক্ত করতে সাহায্য করে।
  • আপনার মেকআপ দূর করুন এবং CTM পদ্ধতিতে দিন ও রাতের ত্বকের যত্নের রুটিনের মাধ্যমে আপনার দিন শেষ করুন।

তৃতীয় দিন

৩য় দিন আপনার মুখের মৃত / মরা  চামড়া তুলে ফেলুন। এতে করে আপনার মুখ আরো নরম তুলতুলে এবং মুখে উজ্জ্বলতা বেড়ে যাবে। এটি অন্যান্য চিকিৎসার চেয়ে উন্নতর যা আপনার ত্বক পূর্বের চেয়ে ঝকঝকে তকতকে ভাব চলে আসবে।

  • আপনার মুখের চামড়া ধোয়ে ফেলুন বা একটি ফেস স্পঞ্জ (face sponge) দ্বারা আপনার মুখ পরিষ্কার করুন। মৃত চামড়া ঘসে ত্বকের ভিতর লুকিয়ে থাকা সুস্থ ত্বক তুলে আনুন।
  • আপনার মুখের আশঁ শুকিয়ে যাওয়ার পর টোন এবং ময়শ্চারাইজ ব্যবহার করুন যার ফলে আপনার নতুন স্তরটি সুরক্ষিত থাকবে। এবার আপনি আপনার মুখে একটি ফেইস মাস্ক ব্যবহার করুন যাতে করে আপনার ত্বক আরো বেশি পুষ্টি ধারন করতে পারবে।
  • যখন রোদ্রময় দিনে বাইরে বের হবেন তখন সানস্ক্রিন (sunscreen) ব্যবহার করতে ভুলবেন না। এটি আপনার ত্বককে ক্ষতিকারক UV থেকে রক্ষা করবে।
  • সন্ধ্যায়, আপনার মুখ পরিষ্কার করার পরে একটি মুখের প্যাক প্রয়োগ করে আপনার CTM পদ্ধতি পরিবর্তন করুন। আপনি যদি প্যাক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা বন্ধ করেন, সেক্ষেত্রে আপনি টোনিং এবং ময়শ্চারাইজ ব্যবহার করুন।

চতুর্থ দিন

চতুর্থ দিনে, আপনি আপনার ত্বকের উন্নতি দৃশ্যমান ফলালফ দেখতে পাবেন এবং আপনার পুরো মুখের স্বাস্থ্যের বেপক পরিবর্ত ঘটবে। যাই হোক, তার মানে এই নয় যে আপনি আপনার রুটিন থেকে অবসর নিবেন।

  • আপনি আপনার নিয়মিত ক্লিনজার (cleanser) দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন এবং হালকা গরম ভাব দিন। এটি আপনার মুখের ছিদ্রগুলো উনমুক্ত করবে এবং ত্বকের গভির থেকে পরিস্কার করতে সাহায্য করবে। ১০ মিনিট গরম ভাব দেয়ার পর আপনি আপনার মুখে মুলতানি মাটি প্রয়োগ করুন যা আপনার মুখের ময়লা তুলে আনতে সাহায্য করবে। অন্যভাবে আপনি যেটি করতে পারেন তা হল, আপনি মধু এবং ওটমিল মিশ্রণ করে মুখে লাগাতে পারেন। একবার এটি হয়ে গেলে, মাস্ক তুলে ফেলুন এবং একটি তুলার বলে গোলাপ জল নিয়ে মুখে মেখে তার পর মুখে টোনার ব্যবহার করতে হবে। এটি আপনার মুখের গর্তগুলো ভরাট করতে সাহায্য করবে।
  • রাতে ত্বকের যত্ন ভালভাবে নিতে হবে যাতে সকালে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে।

পঞ্চম দিন

  • অ্যালোভেরা জেল ম্যাসেজ করুন আপনার মুখে CTM পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে। এটি আপনার মুখের রক্ত সঞ্চালন করতে সাহায্য করে এবং আপনার ত্বকে উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয়। এটি ত্বকের টক্সিন গুলোকে ফুলাতে সাহায্য করে। যদি আপনার চোখের নিচে কালো দাগ থাকে, তাহলে সবসময় চোখের নিচে এটি ব্যবহার করুন। এটি আপনার বিরর্ণতা দূর করে মুখের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দিবে।
  • ম্যাসেজ করার পর, আপনার নিয়মিত ময়শ্চারাইজ করুন কিংবা ডে ক্রিম (day cream) ব্যবহার করুন। এটি একটি উন্নতমানের SPF (Sun Protection Factor) সুতারাং আপনাকে আলাদা করে সানস্ক্রিন (sunscreen) লাগাতে হবেনা।
  • সন্ধ্যায়, CTM এর রুটিন অনুসারে মুখে মুলতানি মাটির প্যাক লাগান এতে আপনার মুখ আরো মসৃণ এবং উজ্জ্বলতা হয়ে উঠবে।

ষষ্ঠ দিন

  • এখন আবার স্ক্রাব করার সময়, আপনাকে অবশ্যই সাপ্তাহে ২ বার স্ক্রাব করতে হবে ত্বকের উজ্জ্বলতা রাখার জন্য। ৩য় দিনের ধাপ টি অনুসরণ করুন, সবশেষে টোনিং এবং ময়শ্চারাইজিং ব্যবহার করুন।
  • নিয়মিত পানি এবং তরল গ্রহণের করুন যেমন সুপ এবং জুস এটা খুবই প্রয়োজন সুস্থ শরীর এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য।

সপ্তম দিন

  • এখন সময় আপনার ত্বকে আরেকটি ফলের ফেশিয়াল (fruit facial) করার। CTM পদ্ধতিতে অনুসরণ করা দরকার সকালে এবং সন্ধ্যায়ও।
  • আপনার ত্বকের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য আপনাকে পানি বা স্বাস্থ্যকর পানীয় পান করতে হবে।

এই নির্দেশাবলী অনুসরণ করে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি প্রথম দিন থেকে লক্ষ্য করতে পারবেন। এক সপ্তাহ পরে আপনার মুখ হয়ে উঠবে নরম, দীপ্তিশীল, পরিষ্কার এবং  আরো সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং আপনার ত্বক সেরা ত্বকের একটি হয়ে উঠবে। এর মানে এই নয় যে আপনি আপনার ত্বকের যত্ন নেওয়া বন্ধ করে দিবেন।

প্রতিদিন CTM পদ্ধতি অনুসরণ করুন। সাপ্তাহে ২ বার ত্বকে স্কাব করুন এবং প্রাকৃতিক ফেইস প্যাক ব্যবহার করুন সপ্তাহে কয়েক বার, যা আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

আজই শুরু করুন দেখুন পরিবর্তন আর কমেন্ট করুন আপনার মতামত।

Filed Under: Glowing skin

  • « Go to Previous Page
  • Page 1
  • Interim pages omitted …
  • Page 22
  • Page 23
  • Page 24
  • Page 25
  • Go to Next Page »

Primary Sidebar

সাম্প্রতিক লেখা

১৬টি সেরা খাবার সকালবেলার দৌড়ের পর খাওয়ার জন্য – পোস্ট-রান রিকভারি পুষ্টি

ওজন কমাতে সেরা ২০টি ডিটক্স স্মুদি: উপাদান, প্রস্তুতি ও উপকারিতা

সহজে হজম হয় এমন ১৬টি হালকা খাবারের রেসিপি

Low FODMAP Diet: ৩ ধাপের পরিকল্পনা ও কোন খাবার খাবেন, কোনটা এড়িয়ে চলবেন

প্যালিও ডায়েট: উপকারিতা, ঝুঁকি ও ৭ দিনের খাবার পরিকল্পনা

বিভাগ সমূহ

  • Fashion
  • HAIR CARE (চুলের যত্ন)
    • Basic Hair Care (বেসিক হেয়ার কেয়ার)
    • Dandruff (খুশকি)
    • Dry Hair Care (শুকনো হেয়ার কেয়ার)
    • Hair Care Ideas
    • Hair Fall ( চুল পড়া)
    • Hair Growth ( চুল বৃদ্ধি)
    • Hair Treatment (চুল চিকিৎসা)
    • Oily Hair Care ( তৈলাক্ত চুলের যত্ন)
  • HEALTH & WELLNESS (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা)
    • Diet Tips
    • Fitness
    • Healthy Food
    • Home Remedies
    • Ingredients and Uses
    • Nutrition (পুষ্টি)
    • Weight Gain
    • Weight Loss (ওয়েট লস)
  • Lifestyle (জীবনযাপন )
  • MAKEUP (মেকআপ)
    • Bridal Makeup (ব্রাইডাল মেকআপ)
    • Eye Makeup (চোখের সাজসজ্জা)
    • Lip Make up (লিপ আপ করুন)
  • SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)
    • Acne
    • Anti Ageing
    • Beauty Secrets
    • Dry Skin
    • Face Care Tips
    • Face Packs and Masks
    • Glowing skin
    • Homemade Tips
    • Oily Skin
    • Skin Care Ideas
    • Skin Care Problems
    • Sunscreen
  • Top 10's

Copyright © 2026 · RUP KOTHON · All rights reserved ®