• Skip to primary navigation
  • Skip to main content
  • Skip to primary sidebar

রূপকথন

Healthier Lifestyljhhe Choices

  • Facebook
  • Home
  • Shop
  • Blog
    • মেকআপ
      • ব্রাইডাল মেকআপ
      • সেলিব্রিটি মেকআপ
      • চোখের সাজসজ্জা
      • মুখের রূপসজ্জা
      • লিপ মেকআপ
      • মেকআপের ধারণা
      • মেহেদী ডিজাইন
      • নখের ডিজাইন
    • চুলের যত্ন
    • ত্বকের যত্ন
    • চুল স্টাইল
    • স্বাস্থ্য ও সুখ
      • ফিটনেস
      • স্বাস্থ্যকর খাবার
      • ওজন বৃদ্ধি
      • ওজন কমানো
      • যোগ ব্যায়াম
      • ডায়েট টিপস
      • আয়ুর্বেদ
  • Contact Us

HAIR CARE (চুলের যত্ন)

পেঁয়াজের রসের ১১ টি সহজ এবং কার্যকরি উপায় যা আপনাকে দিবে প্রথম দিন থেকে খুশকি মুক্ত চুল [আজই পছন্দের পদ্ধতি বেছে নিন]

by Mohona Leave a Comment

খুশকি খুব ভয়াবহ একটি সমস্যা। খুশকি আপনার জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলার আগেই আপনাকে এর থেকে পরিত্রান পেতে হবে। স্ক্যাল্প চুলকানোর থেকেও বিব্রতকর বিষয় হলো খুশকির সাদা আঁশগুলো। এবং আপনি এই সমস্যার একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চান।

খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পেঁয়াজের রস সবচেয়ে সহজ এবং সঠিক সমাধান কারণ এটা সহজলভ্য এবং এ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল। খুশকি দূর করার জন্য আমরা আপনাদেরকে পেঁয়াজের রস ব্যবহারের সবচেয়ে কার্যকর ১১ টি ঘরোয়া উপায় বলবো।

এর আগে, চলুন জেনে নেই খুশকি দূর করার জন্য কেন পেঁয়াজের রস ব্যবহার করা হয়।

পেঁয়াজের রস কিভাবে খুশকি কমাতে সাহায্য করে

খুশকি এবং চুল পরা সমস্যা দূর করার জন্য পেঁয়াজের রস একটি প্রাচীনতম সমাধান। এটি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং স্ক্যাল্পের সাদা আঁশ দূর করে। এছাড়াও এটি চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় ও মজবুত করে এবং স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এছাড়াও চুল ঝরা বন্ধ করতে এটি খুবই উপকারি প্রতিকার।

এখন চলুন দেখে নেই পেঁয়াজের রস ব্যবহারে খুশকি দূর করার অনেকগুলো উপায়।

খুশকি দূর করতে পেঁয়াজের রস ব্যবহারের কয়েকটি উপায়

১. পেঁয়াজের রস

২. মেথির বীজ এবং পেঁয়াজের রস

৩. অ্যালোভেরা এবং পেঁয়াজের রস

৪. সবুজ কলাইয়ের পাউডার এবং পেঁয়াজের রস

৫. বীটরুট এবং পেঁয়াজের রস

৬. চিচিঙ্গা এবং পেঁয়াজের রস

৭. লেবুর রস এবং পেঁয়াজের রস

৮. অলিভ অয়েল এবং পেঁয়াজের রস

৯. নারিকেল তেল এবং পেঁয়াজের রস

১০. আপেল সিডার ভিনেগার এবং পেঁয়াজের রস

১১. আপেলের রস এবং পেঁয়াজের রস

১. পেঁয়াজের রস

উপকরণ

  • একটি বড় পেঁয়াজ
  • একটি ব্লেন্ডার

প্রক্রিয়া

  • পেঁয়াজটা টুকরো করে কেঁটে নিন এবং ব্লেন্ড করুন।
  • স্ক্যাল্পে জুসগুলো ম্যাসাজ করুন।। ৩০ মিনিট এগুলো চুলে রেখে দিন।
  • একটি কোমল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

২. মেথির বীজ এবং পেঁয়াজের রস

উপকরণ

  • ২ টেবিল চামচ মেথির বীজ
  • ১ বাটি পানি
  • ২ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস

প্রক্রিয়া

  • মেথির বীজ সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
  • পরের দিন এদের মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন এবং পেঁয়াজের রসের সাথে মিশান।
  • স্ক্যাল্পে পেস্টটি লাগান এবং আধা ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

সপ্তাহে এক অথবা দুইবার ব্যবহার করুন।

কেন কাজ করে?

মেথির বীজে এ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল এবং এ্যান্টিফাংগাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। এরা প্রচুর প্রোটিন এবং নিকোটিনিক এসিড সমৃদ্ধ, এই দুইটিই চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৩. অ্যালোভেরা এবং পেঁয়াজ রস

উপকরণ

  • ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল
  • ৩ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস

প্রক্রিয়া

  • অ্যালোভেরা জেল পেঁয়াজের রসের সাথে মিশান এবং আপনার স্ক্যাল্পে লাগিয়ে হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন।
  • ১০ মিনিট মাথায় রেখে ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

আপনি এটি সপ্তাহে ২-৩ বার করতে পারেন।

কেন কাজ করে?

অ্যালোভেরা চুলকানি যুক্ত স্ক্যাল্পে প্রশান্তি দেয়। এটি আপনার চুলকে হাইড্রেটেড রাখে এবং এর উপর একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর প্রদান করে। এটি প্রোটোলাইটিক এনজাইমও বহন করে যা চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৪. সবুজ কলাই পাউডার এবং পেঁয়াজের রস

উপকরণ

  • ২ টেবিল চামচ সবুজ কলাই পাউডার
  • ১ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস

প্রক্রিয়া

  • কলাই পাউডার নিন এবং এতে পেঁয়াজের রস মিশান। মশ্রিণ পেস্ট না পাওয়া পর্যন্ত খুব ভালোভাবে মিশান।
  • চুলের মাস্কের মত করে পেস্টটি আপনার স্ক্যাল্প এবং চুলে লাগান। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত চুলে রাখুন।
  • পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

ভালো ফলাফলের জন্য আপনাকে এই পেস্টটি সপ্তাহে ২ বার লাগাতে হবে।

কেন কাজ করে?

সবুজ কলাই ভিটামিন এবং এনজাইম বহন করে যা চুলকে পুনর্যৌবন করে তুলে এবং চুলের বৃদ্ধিতে উৎসাহ জোগায়। পেঁয়াজের রস খুশকি নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. বীটরুট এবং পেঁয়াজের রস

উপকরণ

  • ২-৩ টি বীটরুট
  • পানি
  • ১ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস

প্রক্রিয়া

  • পানিতে বীটরুট সেদ্ধ করে ঠান্ডা করে নিন। তাদের ভর্তা করে পেস্ট করে নিন।
  • বীটরুটের পেস্ট পেঁয়াজের রসের সাথে মিশান।
  • ঘুমাতে যাওয়ার আগে মিশ্রণটি আপনার আঙুলের সাহায্যে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন।

কতবার?

খুশকির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত আপনি এটি প্রতিদিন করতে পারেন।

কেন কাজ করে?

বীটরুট পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস, যা চুলের ঝরে পরা প্রতিরোধ করে এবং চুল বৃদ্ধির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার চুলে উজ্জ্বলতাও প্রদান করে।

৬. চিচিঙ্গা এবং পেঁয়াজের রস

উপকরণ

  • ১ টেবিল চামচ চিচিঙ্গার রস
  • ১ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস

প্রক্রিয়া

  • চিচিঙ্গার রস এবং পেঁয়াজের রস একসাথে মিশান এবং আপনার পুরো মাথায় লাগান।
  • আধা ঘন্টা চুলে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

ভালো ফলাফলের জন্য মিশ্রণটি সপ্তাহে ২-৩ বার লাগাবেন।

কেন কাজ করে?

চিচিঙ্গার রস আপনার স্ক্যাল্পকে হাইড্রেটেড করে এবং স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য উন্নতি করে। এটি শুধু খুশকি থেকে মুক্তি দেয় না, এটি খুশকির বার বার ফিরে আসাও প্রতিরোধ করে।

৭. লেবুর রস এবং পেঁয়াজের রস

উপকরণ

  • ১ টেবিল চামচ লেবুর রস
  • ১ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস

প্রক্রিয়া

  • পেঁয়াজের রসের সাথে লেবুর রস মিশান এবং স্ক্যাল্পে লাগান।
  • শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত চুলে রাখুন (প্রায় ২০ মিনিট) এবং ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

ভালো ফলাফলের জন্য দুই দিন পর পর ব্যবহার করুন।

কেন কাজ করে?

লেবুর রস চুলের থেকে পেঁয়াজের দুর্গন্ধ দূর করে। প্রতিদিন ব্যবহারে এটি খুশকি দূর করে এবং স্ক্যাল্পের চুলকানি কমায়।

৮. অলিভ অয়েল এবং পেঁয়াজের রস

উপকরণ

  • ১ চা চামচ অলিভ অয়েল
  • ৩ চা চামচ পেঁয়াজের রস

প্রক্রিয়া

  • অলিভ অয়েল পেঁয়াজের রসের সাথে মিশান। মিশ্রণটি আপনার স্ক্যাল্প এবং চুলে লাগান।
  • একটি গরম তোয়ালে আপনার মাথায় আধা ঘন্টা পেঁচিয়ে রাখুন।
  • একটি হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

কার্যকর ফলাফলের জন্য সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করুন।

কেন কাজ করে?

অলিভ অয়েল চুলকে মজবুত, কোমলতা এবং উজ্জ্বলতা প্রদান করে। এই মিশ্রণটি চুল এবং স্ক্যাল্পে আদ্রতা প্রদান করে এবং আপনার স্ক্যাল্প চুলকানিমুক্ত এবং খুশকিমুক্ত রাখে।

৯. নারিকেল তেল এবং পেঁয়াজের রস

উপকরণ

  • ১ চা চামচ লেবুর রস
  • ৫ চা চামচ নারিকেল তেল
  • ৩ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস

প্রক্রিয়া

  • একটি মিক্সারে লেবুর রস, নারিকেল তেল এবং পেঁয়াজের রস মিশান।
  • এই মিশ্রণটি আপনার স্ক্যাল্পে লাগান এবং ২০-৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন।

কেন কাজ করে?

এটি খুশকি কমায়, আঁশ পরিষ্কার করে, চুলে আদ্রতা দেয় এবং চুলকে সতেজ এবং গন্ধমুক্ত রাখে ।

১০. আপেল সিডার ভিনেগার এবং পেঁয়াজের রস

উপকরণ

  • ১ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার
  • ১ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস

প্রক্রিয়া

  • আপেল সিডার ভিনেগার এবং পেঁয়াজের রস একসাথে মিশান।
  • ৫-৭ মিনিট আপনার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন।

কতবার?

সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করুন।

কেন কাজ করে?

আপেল সিডার ভিনেগারে প্রাকৃতিক এ্যান্টিফাংগাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা খুশকির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং খুশকি কমায়। এটি স্ক্যাল্পের পিএইচ স্তরে ভারসাম্য প্রদান করে এবং ফাংগাস বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

১১. আপেলের রস এবং পেঁয়াজের রস

উপকরণ

  • ২ টেবিল চামচ আপেলের রস
  • ২ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস

প্রক্রিয়া

  • আপেলের রসের সাথে পেঁয়াজের রস মিশান এবং আপনার স্ক্যাল্পে মিশ্রণটি লাগান।
  • ১৫-২০ মিনিট এটি আপনার চুলে রাখুন এবং এরপর আপনার চুল ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

কতবার?

কার্যকর ফলাফলের জন্য সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করুন।

কেন কাজ করে?

আপেলের রস স্ক্যাল্প পরিষ্কার করে এবং মৃত চামড়ার কোষ ও খুশকির আঁশ দূর করে।

খুশকি একটি ভয়াবহ সমস্যা যা আপনাকে হতাশাগ্রস্থ করে দিতে পারে। কিছু সহজ টিপস এবং পদ্ধতি প্রতিদিন ব্যবহার করলে খুব সহজেই খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই আপনার সমস্যা ভয়াবহ হওয়ার আগেই পেঁয়াজের রস ব্যবহারের এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করুন এবং আপনার চুলে পরিবর্তন দেখুন।

Filed Under: Dandruff (খুশকি)

১০ টি ঘরোয়া উপায় আপনি আজ থেকে ব্যবহার করতে পারেন যা আপনাকে শুষ্ক স্ক্যাল্প থেকে মুক্তি দিবে

by Mohona Leave a Comment

শুষ্ক এবং চুলকানী সৃষ্টিকারি স্ক্যাল্প আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে? শুষ্ক স্ক্যাল্পের কারণে আপনার মাথায় সারাদিন ধরে মাত্রাতিরিক্ত চুলকানো শুরু হলে কতটা কষ্ট হয় তা আমরা জানি। আপনি এই সমস্যাটি ঘরে তৈরি কিছু প্রাকৃতিক উপায়ের মাধ্যমে সমাধান করতে পারবেন।

শুষ্ক স্ক্যাল্প খুবই যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। কিন্তু আপনাকে আর এই অসুবিধা নিয়ে সারাজীবন কাটাতে হবে না। শুষ্ক স্ক্যাল্প ঠিক করার অনেকগুলো সহজ পদ্ধতি আছে যা আপনার সমস্যা দূর করতে নিশ্চিতভাবে সাহায্য করবে। টিপস এবং প্রতিকার যেগুলো যেগুলো আমাদের শুষ্ক স্ক্যাল্প ঠিক করেতে সাহায্য করবে তা শিখার আগে এই সমস্যার মূল কারণ বুঝাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শুষ্ক স্ক্যাল্পের কারণ কি?

মাথার ভিতর থাকা সুপ্ত এবং নিষ্ক্রিয় তেল গ্রন্থিই স্ক্যাল্পের শুষ্কতার কারন, যা আপনার ত্বকের ভেতর প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল উৎপাদনে সক্ষম নয়। স্ক্যাল্পের শুষ্কতার সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলোঃ

  • রুক্ষ প্রকৃতির শ্যাম্পু দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা যাতে প্রচুর পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ থাকে
  • ছত্রাকের সংক্রমণ
  • রাসায়নিকযুক্ত পানির বেশি ব্যবহার
  • অনুপযুক্ত খাদ্যের কারণে শরীরে পুষ্টির অভাব
  • মাত্রাতিরিক্ত খারাপ আবহাওয়া
  • স্টাইলিং পণ্যের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার
  • চুলের যত্নে অবহেলা, সেই সাথে অস্বাস্থ্যকর রূপচর্চার অভ্যাস, তেলের অভাব এবং কন্ডিশনিং ট্রিটমেন্ট

তাই, শুষ্ক স্ক্যাল্প ঠিক করার প্রথম পদক্ষেপটি হল এর কারণ সবার আগে খুঁজে বের করা। একবার আপনি কারণ জেনে গেলে, আপনি আপনার চুলের যত্ন করার রুটিনে কিছু প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারবেন।

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে শুষ্ক স্ক্যাল্প থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

১. টি ট্রি শ্যাম্পু

২. আপেল সিডার ভিনেগার

৩. তেল

৪. জুসিং (ফল অথবা সবজির রস)

৫. দই এবং ডিম

৬. লিসট্রিন

৭. মেয়োনিজ

৮. বেকিং সোডার ব্যবহার

৯. ভিটামিন ই

১০. অলিভ অয়েল এবং ডিম

শুষ্ক ত্বকের জন্য ঘরে তৈরি শীর্ষ প্রতিকার

১. টি ট্রি শ্যাম্পু

উপকরণ

  • টি ট্রি অয়েল
  • শ্যাম্পু

প্রক্রিয়া

  • আপনার নিয়মিত শ্যাম্পুতে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশান এবং বোতলটি ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন।
  • চুল ধুতে শ্যাম্পুটি যেভাবে ব্যবহার করেন ঠিক সেভাবেই করুন সবসময়।

কতবার?

এই তেল সমৃদ্ধ শ্যাম্পুটি দিয়ে সপ্তাহে দুইবার চুল ধুবেন।

কিভাবে কাজ করে?

যখন শুষ্কতা ছত্রাকের সংক্রমণের কারনে হয় তখন টি ট্রি অয়েল খুব ভালো কাজ করে কারণ এই তেলটি খুব ভালো ছত্রাকবিরোধী প্রতিনিধি। এটি চুলের গ্রন্থিগুলো খুলে দেয় এবং প্রাকৃতিক তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে।

২. আপেল সিডার ভিনেগার

উপকরণ

  • ২-৩ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার
  • তুলা

প্রক্রিয়া

  • তুলার সাহায্যে আপনার স্ক্যাল্পে ভিনেগারটা লাগান।
  • আঙ্গুল দিয়ে ২-৩ মিনিট আপনার স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করুন।
  • ১০ মিনিট ভিনেগারটি মাথায় রেখে দিন এবং এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

সপ্তাহে দুইবারের বেশি ব্যবহার করবেন না।

কিভাবে কাজ করে?

অ্যাসট্রিনজেন্ট হওয়ার কারণে আপেল সিডার ভিনেগার স্ক্যাল্পের ক্ষতিকারক জীবাণু পরিষ্কার করে এবং ত্বকের পিএইচ স্তর ব্যালেন্স করে।

সতর্কতা

আপনার ত্বক যদি সংবেদনশীল হয় তাহলে আপেল সিডার ভিনেগারের সাথে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে তারপর চুলে লাগান। এছাড়াও আপনি ভিনেগারের পরিবর্তে মধুও ব্যবহার করতে পারবেন।

৩. শুষ্ক স্ক্যাল্পের জন্য তেল

উপকরণ

  • নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল অথবা বেবী অয়েল অথবা অরগান অয়েল অথবা ক্যাস্টর অয়েল অথবা মরোক্কান অয়েল
  • কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল (ঐচ্ছিক)

প্রক্রিয়া

  • একটি পাত্রে আপনার পছন্দমত তেল নিন এবং সামান্য গরম করে নিন।
  • টি ট্রি অয়েলটি মিশান
  • আপনার স্ক্যাল্পে লাগান এবং ৫-৭ মিনিট ম্যাসাজ করুন।
  • চুল ধোয়ার আগে তেলটি এক ঘন্টা মাথায় রাখুন। তবে সারারাত তেল মাথায় রাখাটা অনেক বেশি ভালো।

কতবার?

তেলের এই ট্রিটমেন্টটি সপ্তাহে দুইবার করবেন।

কিভাবে কাজ করে?

শুষ্ক ত্বকে গরম তেলের ট্রিটমেন্ট বিস্ময়করভাবে কাজ করে। এই তেলগুলোর বেশিরভাগই ঘরে সবসময় থাকে এবং এগুলো স্ক্যাল্পকে হাইড্রেট করে এবং খুশকি ও স্ক্যাল্পের শুষ্কতা দূর করে। তেল শুধু স্ক্যাল্পে আদ্রতা প্রদান করে না, এটা স্ক্যাল্পের আদ্রতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে। যদি স্ক্যাল্প প্রয়োজনীয় তেল উৎপাদন করতে সক্ষম না হয় তাহলে বাহ্যিক তেল স্ক্যাল্পে পুষ্টি জোগাতে এবং শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে।

৪. জুসিং (ফল অথবা সবজির রস)

ক. শুষ্ক স্ক্যাল্পের জন্য লেবুর রস

উপকরণ

  • একটি লেবুর অর্ধেক

প্রক্রিয়া

  • যখন লেবুর রস বের করার জন্য লেবুতে চাপ প্রয়োগ করবেন তখন আপনার স্ক্যাল্পে হালকাভাবে লেবুটি ঘষুন।
  • ৫ মিনিট রস মাথায় রাখুন।
  • ধুয়ে সবসময়ের মত চুলে কন্ডিশনিং করে নিন।

কতবার?

সপ্তাহে দুইবার

কিভাবে কাজ করে?

লেবুর রস একটি অ্যাস্ট্রিনজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং স্ক্যাল্পের পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি খুশকির সাথে সম্পর্কিত ছত্রাকের সংক্রমণ দূর করে।

খ. শুষ্ক স্ক্যাল্পের জন্য আপেলের রস

উপকরণ

  • ১-২ টি আপেলের রস

প্রক্রিয়া

  • আপেলের থেকে রস নিন এবং রসগুলো দিয়ে আপনার চুল ধুয়ে নিন।
  • স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার আগে রসগুলো ১০ মিনিট চুলে রেখে দিন।

কতবার?

সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করতে পারেন।

কিভাবে কাজ করে?

আপেলের রসে সামান্য এসিড রয়েছে যা স্ক্যাল্পকে স্ক্রাব করে সকল মৃত, শুষ্ক এবং আলগা চামড়া দূর করে। এটি স্ক্যাল্পের পিএইচ পূনরুদ্ধার করে, এরপর তেল উৎপাদনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রন করে।

গ. শুষ্ক স্ক্যাল্পের জন্য পিয়াঁজের রস

উপকরণ

  • ১/৪ কাপ পিয়াঁজের রস
  • ১ টেবিল চামচ মধু
  • তুলা

প্রক্রিয়া

  • একটি পিয়াঁজ কুচি করে নিন এবং এর থেকে রস বের করে নিন।
  • এতে মধু যোগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • তুলো দিয়ে আপনার স্ক্যাল্পে এটি লাগান এবং ১৫-৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
  • আপনার নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

প্রাথমিকভাবে আপনি পিয়াঁজের রস সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করবেন। একবার শুষ্ক স্ক্যাল্পের অবস্থার উন্নতি হলে, চুলের বৃদ্ধির জন্য আপনি ১৫ দিন পর পর এই রস ব্যবহার করতে পারেন।

কিভাবে কাজ করে?

পিয়াঁজে থাকা উচ্চ মাত্রার সালফার খুশকির কারণে হওয়া শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে। এটি ব্যবহারে মাথায় আর কখনো আলগা চামড়ার সৃষ্টি হবে না। এছাড়াও পিয়াঁজ স্বাস্থ্যকর চুলের বৃদ্ধির জন্য খুবই পরিচিত।

ঘ. শুষ্ক স্ক্যাল্পের জন্য অ্যালোভেরার রস

উপকরণ

  • একটি অ্যালোভেরা পাতা
  • পানি

প্রক্রিয়া

  • পাতার ভেতর থেকে সতেজ অ্যালোভেরা জেল বের করে নিন।
  • এতে সামান্য পানি মিশান এবং ভালোভাবে মিশিয়ে জুসের মত করে নিন।
  • এই জুসটি আপনার স্ক্যাল্প এবং চুলে লাগান। কয়েক মিনিটের জন্য আপনার স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করুন।
  • অ্যালোভেরা মাথায় লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ২০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

সপ্তাহে দুইবার লাগাবেন।

কিভাবে কাজ করে?

শুষ্ক স্ক্যাল্পে অ্যালোভেরা খুব শীতল অনুভূতি প্রদান করে। এ্যামিনো এসিড, ভিটামিন, চিনি এবং ফ্যাটি এসিডের সাহায্যে এটি আপনার স্ক্যাল্পের ত্বকে পুষ্টি জোগায়। এতে এ্যান্টি-ইনফ্লেমেটোরি এবং এন্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আপনার সাপ্তাহিক চুলের যত্নের রুটিনে অ্যালোভেরা যুক্ত করে একটি স্বাস্থ্যকর স্ক্যাল্প এবং উজ্জ্বল চুল খুব সহজেই পেতে পারেন।

৫. দই এবং ডিম

উপকরণ

  • ১ টি ডিম
  • ২-৩ টেবিল চামচ দই
  • ১ টেবিল চামচ মধু

প্রক্রিয়া

  • মসৃণ পেস্ট পাওয়ার জন্য ডিমটি দইয়ের সাথে ফাঁটিয়ে নিন।
  • মধু যোগ করুন এবং ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • এই মাস্কটি আপনার স্ক্যাল্প এবং চুলে লাগান।
  • আধা ঘন্টার জন্য এটিকে বসতে দিন এবং এরপর আপনার নিয়মিত ব্যবহারের শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।

কিভাবে কাজ করে?

দই স্ক্যাল্প পরিষ্কার করে এবং স্ক্যাল্পের মরা ও শুষ্ক চামড়া দূর করে। এটি চুলের গোড়ার গ্রন্থি খুলে দেয় এবং তেল গ্রন্থির স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ডিম স্ক্যাল্পে পুষ্টি জোগায় এবং এতে থাকা ফ্যাট ও প্রোটিনের সাহায্যে আপনার চুল কন্ডিশন করে।

৬. শুষ্ক স্ক্যাল্পের জন্য লিসট্রিন

উপকরণ

  • ১/২ কাপ লিসট্রিন
  • ১/২ কাপ পানি

প্রক্রিয়া

  • আপনার চুল পরিষ্কার করে নিন এবং তোয়ালে দিয়ে চুলের পানি ঝরিয়ে নিন।
  • এখন, লিসট্রিন পানির সাথে মিশিয়ে আপনার স্ক্যাল্পে লাগান।
  • আপনার আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করুন এবং এরপর ৫ মিনিটের জন্য মাথায় লিসট্রিন রাখুন।
  • পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

কতবার?

সপ্তাহে একবার এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন।

কিভাবে কাজ করে?

লিসট্রিন একটি শক্তিশালী এন্টিসেপ্টিক এবং এ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট। শুষ্ক এবং আলগা চামড়া সৃষ্টিকারি সকল ক্ষতিকর জীবাণু লিসট্রিন মেরে ফেলে। এটি আপনার স্ক্যল্পের চুলকানির অনুভূতিও কমিয়ে আনে।

৭. মেয়োনিজ

উপকরণ

  • ১/২ কাপ মেয়োনিজ
  • শাওয়ার ক্যাপ

প্রক্রিয়া

  • আপনার স্ক্যাল্পে মেয়োনিজ লাগান এবং ১৫-২০ মিনিটের জন্য শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে আপনার মাথা ঢেকে দিন।
  • মেয়োনিজ পরিষ্কার করার জন্য গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।
  • এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

কয়েক সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে ১ দিন করে মেয়োনিজ লাগালে শুষ্ক স্ক্যাল্পের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

কিভাবে কাজ করে?

মেয়োনিজে প্রচুর তেল এবং ফ্যাট রয়েছে যা আপনার স্ক্যাল্প এবং চুল কন্ডিশন করতে সাহায্য করে। মেয়োনিজ ব্যবহারে সকল শুষ্কতা থেকে কার্যকরভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে।

৮. বেকিং সোডার ব্যবহার

উপকরণ

  • ৩-৪ টেবিল চামচ বেকিং সোডা
  • গোলাপ জল

প্রক্রিয়া

  • বেকিং সোডা এবং গোলাপ জলের একটি পেস্ট তৈরি করুন।
  • স্ক্যাল্পে লাগান এবং ২-৩ মিনিট আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন।
  • ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

সপ্তাহে দুইবার করবেন।

কিভাবে কাজ করে?

একটি এন্টিসেপ্টিক এবং এন্টিব্যাক্টেরিয়াল এজেন্ট হওয়া ছাড়াও, বেকিং সোডা একটি মৌলিক যৌগ যা স্ক্যাল্পের পিএইচ ব্যালেন্স পুনরুদ্ধার করে। এটি শুধু স্ক্যাল্পে স্বাস্থ্যকর প্রাকৃতিক তেলের উৎপাদনই করে না, সেই সাথে চুল লম্বা হতেও সাহায্য করে।

৯. ভিটামিন ই ক্যাপ

উপকরণ

  • ৫-১০ টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল

প্রক্রিয়া

  • সাবধানে ক্যাপসুলের ভেতর থেকে তেল বের করে একটি পাত্রে নিন।
  • আপনার স্ক্যাল্পে ভিটামিন ই তেল লাগান এবং ৫-১০ মিনিট ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন।
  • ১ ঘন্টা এই তেল মাথায় রাখুন এবং এরপর ধুয়ে ফেলুন।

কতবার?

সপ্তাহে অন্তত একদিন ভিটামিন ই তেল দিয়ে আপনার স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করুন।

কিভাবে কাজ করে?

ভিটামিন ই তেল আপনার স্ক্যাল্পকে হাইড্রেটেড রাখে এবং র‍্যাডিকেলের ক্ষতির থেকে রক্ষা করে। প্রতিদিন ব্যবহারে এটি মাথার রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে এবং চুলের বৃদ্ধি ঘটায়।

১০.অলিভ অয়েল এবং ডিম

উপকরণ

  • ১ টি ডিমের কুসুম
  • ২-৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল
  • ১ চা চামচ লেবুর রস

প্রক্রিয়া

  • ডিমের কুসুম ভালোভাবে ফাটিয়ে নিন এবং অন্যান্য উপকরণ এর সাথে ভালোভাবে মিশান।
  • স্ক্যাল্পে এটা লাগান এবং এই হেয়ার মাস্কটি ৩০ মিনিট চুলে ভালোভাবে সেট হতে দিন।
  • শ্যাম্পু এবং কুসুম গরম পানি দিয়ে আপনার চুল ধুয়ে নিন।
  • ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধোয়ার বেলায়ও একইভাবে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।

কতবার?

এই হেয়ার মাস্কটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।

কিভাবে কাজ করে?

ডিমের কুসুম ভিটামিন এ এবং লিকিথিন স্টেরোল বহন করে বিধায় এটি শুষ্ক ত্বকের সমস্যার জন্য খুবই উত্তম একটি প্রতিকার। এটি ত্বককে মসৃণ করে। অলিভ অয়েল ফ্যাটি এসিডে পরিপূর্ণ যা শুষ্ক ত্বকে পুষ্টি জোগায়।। এতে এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এ্যান্টিইনফ্লেমেটোরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা র‍্যাডিকেল, জীবাণু এবং দূষণের ফলে সৃষ্ট যে কোন ক্ষতি মোকাবেলা করতে সাহায্য করে।

এই প্রতিকার গুলো ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে এই পানিও আপনার ত্বক এবং চুল হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করবে। তাই সবসময় আপনার চুলের যত্নের জন্য অন্যান্য উপায়ের সাথে পানিও রাখবেন। এছাড়াও স্বাস্থ্যকর স্ক্যাল্প পেতে আপনার খাবারে বাদাম, ডিম, সামুদ্রিক খাবার, মুরগির মাংস, দুগ্ধ জাতীয় খাবার, সয়াবিন, পেঁপে, কমলা এবং সবুজ শাক-সবজি যোগ করুন। এগুলো আপনার স্ক্যাল্পে জিংক, আয়রন, ভিটামিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের অভাব পূরণ করবে। যদি আপনার স্ক্যাল্পের শুষ্কতা পুষ্টির অভাবের কারণে হয়ে থাকে তাহলে এই কৌশলটি নিশ্চিতভাবে আপনাকে সাহায্য করবে।

Filed Under: Dry Hair Care (শুকনো হেয়ার কেয়ার)

সহজে ঘরে তৈরি ৮ টি অসাধারণ কন্ডিশনার যা আপনার শুষ্ক চুলকে করবে আরো আকর্ষণীয় এবং প্রাণবন্ত (নিয়ম দেওয়া হলো)

by Mohona 1 Comment

শুষ্ক চুলের জন্য একটি ভালো মানের কন্ডিশনারের ব্যবহার সবার আগে প্রাধান্য পায়। কন্ডিশনার ছাড়া আমাদের জীবনটাই এলোমেলো হয়ে যাবে। অনিয়ন্ত্রিত রুক্ষতা, অপ্রয়োজনীয় টেক্সচার এবং অবাঞ্চিত ভাঙন এই সব জিনিষগুলো থেকে আমরা মুক্তি পেতে চাই। কন্ডিশনার চুল মসৃণ করতে সাহায্য করে এবং চুল হাইড্রেট করতে সাহায্য করে, যা আপনার চুলকে নরম করে, রুক্ষতা নিয়ন্ত্রন করে এবং জট লাগা থেকে মুক্তি দেয়।

বর্তমানে বাজারে অনেকগুলো বিভিন্ন ধরণের কন্ডিশনার পাওয়া যায় যেগুলোর মধ্যে একটি আপনি চুল ধোয়ার আগে ব্যবহার করতে পারবেন, আরেকটি চুল ধোয়ার পরে ব্যবহার করতে পারবেন এবং কিছু কিছু কন্ডিশনার সারারাত ধরে লাগিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু আপনি কি জানেন আপনি ঘরেই নিজের জন্য কন্ডিশনার বানাতে পারেন? এগুলো বানানো খুব সহজ এবং আপনার তেমন কোন খরচও করা লাগবে না, কিন্তু এগুলো দোকান থেকে আনা কন্ডিশনারের মতই কার্যকরী, এবং এতে কোন ক্ষতিকর কেমিক্যালও নেই।

প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি ৮ টি চুলের কন্ডিশনারের একটি তালিকা নিম্নে দেওয়া হলোঃ

শুষ্ক চুলের জন্য ঘরে তৈরি কন্ডিশনার

নোটঃ আপনার চুলের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে একই অনুপাতে উপকরণের পরিমাণ আপনি বাড়াতে বা কমাতে পারবেন। নিচের তালিকাতে দেওয়া পরিমাণগুলো মাঝারি থেকে লম্বা চুলের জন্য উপযুক্ত।

১. নারিকেল তেল এবং মধুর কন্ডিশনিং

উপকরণ

  • ১ টেবিল চামচ খাঁটি নারিকেল তেল
  • ১ টেবিল চামচ মধু
  • ১ টেবিল চামচ লেবুর রস
  • ২ টেবিল চামচ দই (না দিলেও চলবে)
  • ১ চা চামচ গোলাপ জল

প্রক্রিয়া

  • একটি পাত্রে সবগুলো উপকরণ ঢালুন এবং সবকিছু ভালোভাবে মিশে যাওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন।
  • এই কন্ডিশনিং মিশ্রণটি শ্যাম্পু করার পর পরই চুলে লাগাতে থাকুন।
  • ১০-১৫ মিনিট মাথায় রেখে দিন এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

২. গভীর থেকে কন্ডিশনিং এর জন্য নারকেল দুধ

উপকরণ

  • ৪ টেবিল চামচ নারকেল দুধ
  • ২ টেবিল চামচ মধু
  • ১ টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল
  • ১ চা চামচ গোলাপ জল
  • ১ চা চামচ ভেজিটেবল গ্লিসারিন

প্রক্রিয়া

  • একটি পাত্রে সবগুলো উপকরণ ঢালুন এবং সবকিছু ভালোভাবে মিশে যাওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন।
  • আপনার স্ক্যাল্প এবং চুলে সম্পূর্ণ মিশ্রণটি লাগিয়ে নিন।
  • একটি প্লাস্টিক ক্যাপ দিতে আপনার মাথা ঢেকে দিন এবং ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন। ঢেকে রাখার ফলে আপনার মাথায় একটি উষ্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হবে যা আপনার চুলের আগা এবং গোড়াকে আদ্রতা ও পুষ্টি শুষে নিতে সাহায্য করবে।
  • তারপর আপনার চুল ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৩. নারকেল দুধ এবং বাদাম তেলের কন্ডিশনার

উপকরণ

  • ১ টেবিল চামচ মধু
  • ১ টেবিল চামচ দুধ
  • ১ টেবিল চামচ নারকেল দুধ
  • ১ চা চামচ বাদাম তেল
  • ১ চা চামচ গোলাপ জল

প্রক্রিয়া

  • একটি পাত্রে সব উপকরণগুলো মিশান এবং মিশ্রণটি কিছুক্ষণ রেখে দিন।
  • আপনার চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন এবং আপনার ভিজা চুল ভাগ ভাগ করে প্রতি ভাগে মিশ্রণটি লাগান।
  • ১৫ মিনিট রেখে দিন। এই সময়ে সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়ার জন্য একটি তোয়ালে অথবা শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে পুরো মাথা ঢেকে রাখুন।
  • ঠান্ডা পানি দিয়ে কন্ডিশনারটি ধুয়ে ফেলুন।

৪. অ্যালোভেরা কন্ডিশনার

উপকরণ

  • ১ টি লেবু
  • ৪ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল
  • ৫ ফোঁটা পেপারমিন্ট এ্যাসেনশিয়াল অয়েল

প্রক্রিয়া

  • একটি পাত্রে সব উপকরণগুলো মিশান এবং মিশ্রণটি কিছুক্ষণ রেখে দিন।
  • শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন এবং ভিজা চুলে কন্ডিশনারটি লাগানো শুরু করুন।
  • ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫. ডিমের কন্ডিশনার

উপকরণ

  • ২ টি ডিমের কুসুম

প্রক্রিয়া

  • ডিমের কুসুম গুলো ফাটিয়ে নিন এবং কিছুক্ষণ বসতে দিন।
  • শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন এবং এরপর ডিমের কুসুমগুলো চুলে লাগান।
  • ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। গরম পানি ভুলেও ব্যবহার করবেন না। কারন গরম পানির তাপে ডিমগুলো চুলের ভিতর রান্না হওয়া শুরু হবে।

৬. অলিভ অয়েল কন্ডিশনার

উপকরণ

  • ২-৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল
  • আপনার পছন্দের যেকোন একটি এ্যাসেনশিয়াল অয়েলের ৫ ফোঁটা

প্রক্রিয়া

  • তেলটি গরম করে নিন এবং আপনার স্ক্যাল্প এবং চুলে ম্যাসাজ করুন।
  • পুরো চুলে তেল ভালোভাবে লেগে গেলে একটি গরম তোয়ালে দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন এবং ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
  • শ্যাম্পু দিয়ে চুলের তেল ধুয়ে ফেলুন।

৭. আপেল সিডার ভিনেগার কন্ডিশনিং

উপকরণ

  • ২ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার
  • ১ টেবিল চামচ মধু
  • ২ কাপ পানি

প্রক্রিয়া

  • একটি জগে সব উপকরণ একসাথে মিশান এবং কিছুক্ষণ রেখে দিন।
  • শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।
  • আপেল সিডার ভিনেগারের পানিটি আপনার ধোয়া চুলে ঢালুন।
  • আবার পানি দিয়ে ধোয়ার কোন প্রয়োজন নেই।

৮. দইয়ের কন্ডিশনার

উপকরণ

  • ৩ টেবিল চামচ দই
  • ১ চা চামচ মধু
  • ১ চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার
  • ১ চা চামচ নারকেল তেল
  • ৫ ফোঁটা পেপারমিন্ট এ্যাসেনশিয়াল অয়েল

প্রক্রিয়া

  • একটি পাত্রে সব উপকরণ একসাথে মিশান এবং কিছুক্ষণ রেখে দিন।
  • শ্যাম্পু এবং গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
  • আপনার চুল থেকে সব পানি নিঙরে নিন এবং চুলে কন্ডিশনারটি লাগানো শুরু করুন।
  • কন্ডিশনারটি চুলে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

এই সব উপকরণ শুষ্ক চুলে খুব ভালো কাজ করে, কারণ এগুলো আপনার চুলকে হাইড্রেট করতে সাহায্য করে এবং চুলের ভেতরে ময়েশ্চারাইজার আঁটকাতে সাহায্য করে। এরা চুলের রুক্ষতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং আপনার চুলকে নরম ও উজ্জ্বল করে তুলে। তাই আজই ঘরে তৈরি এই কডিশনার গুলো ব্যবহার করে দেখুন।

Filed Under: Dry Hair Care (শুকনো হেয়ার কেয়ার)

খুব সহজে কারি পাতা ব্যবহার করে চুলের বৃদ্ধির এবং চুল পড়া রোধে করুন ঘরে বসে! (আলটিমেট গাইড)

by Mohona Leave a Comment

কারি পাতা

বেশিরভাগ সময়, চুল ঝরে পড়ার কারন চুলের গ্রন্থিকোষের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়। মাথার তৈলাক্ত ত্বক, ধূলাবালি এবং বিভিন্ন রকম হেয়ার প্রোডাক্ট মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে চুলের গ্রন্থিকোষ গুলো বন্ধ হয়ে যায়। আর এই বন্ধ গ্রন্থিকোষ গুলো মাথার ত্বকে জালা-পোড়া, চুলকানি, খুশকি এবং চুল পড়া বৃদ্ধি করে।

কারি পাতা নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলোর কারনে কার্যকরভাবে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেঃ

  • কারি পাতাতে প্রচুর এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা মাথার ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে চুলের মৃত কোষগ্রন্থি থেকে রেহাই পেতে সাহায্য করে।
  • এরা প্রোটিন এবং বিটা-ক্যারোটিনের একটি ভালো উৎস, এর দুটিই চুল পড়া এবং পাতলা হওয়া প্রতিরোধ করে।
  • এই পাতা গুলোতে প্রচুর এ্যামিনো এসিডও রয়েছে যা কোষগ্রন্থি গুলোকে মজবুত এবং স্বাস্থ্যকর হতে সাহায্য করে।

কারি পাতা ব্যবহার করার বিভিন্ন উপায়

কারি পাতা আপনি বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। যেমনঃ

  • হেয়ার টনিক হিসেবে।
  • হেয়ার মাস্ক হিসেবে।
  • আপনার খাদ্যে যোগ করে।

চুলের বৃদ্ধির জন্য কারি পাতার ব্যবহার

সতর্কতা: কারি পাতার পেস্ট ব্যবহারে আপনার ত্বকে এলার্জি হতে পারে। তাই মাথার তালুতে দেওয়ার আগে সামান্য একটু ত্বকে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিন। কারি পাতার বীজ থাকে, কিন্তু সেগুলো খাবেন না কারন এগুলো বিষাক্ত।

১. হেয়ার টনিক হিসেবে

চুলের বৃদ্ধির জন্য কারি পাতার ব্যবহার

আপনার যা যা প্রয়োজন

  • এক মুঠো সতেজ কারি পাতা
  • ২-৩ টেবিল চামচ নারিকেল তেল

আপনার যা করতে হবে

  • একটি প্যানে নারকেল তেল ঢালুন এবং কারি পাতা গুলো এর মধ্যে ঢেলে দিন।
  • পাতার চারপাশ কালো না হওয়া পর্যন্ত নাঢ়তে থাকুন। প্যান থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন কারন যখন আপনি কারি পাতা ভাজবেন তখন প্যান থেকে তেল ফুটে এর ছিটা গায়ে আসার সম্ভবনা থাকে।
  • চুলার আঁচ বন্ধ করুন এবং মিশ্রণটি ঠান্ডা হতে দিন।
  • টনিকটি ঠান্ডা হয়ে গেলে তেল গুলো ছেঁকে নিন। আপনি এখন আপনার চুলে মিশ্রণটি লাগাতে পারবেন।
  • তেল আঙ্গুলের অগ্রভাগে লাগিয়ে আপনার মাথার ত্বকে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করুন। আপনার চুলের গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালোভাবে লাগাবেন।
  • ম্যাসাজের পর ১ ঘন্টা তেলটি মাথায় রাখুন এবং এক ঘন্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এটা কেন কাজ করে

নারিকেল তেল তীক্ষ্ন গুণ সম্পন্ন চুলের তেল হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত এবং এই তেল আপনার চুল পরিপুষ্ট এবং ময়েশ্চারাইজড রাখতে সাহায্য করে। আর যখন এই তেল কারি পাতার সকল পুষ্টিগুণ এবং এর ভিটামিন বি-৬ এর সাথে মিশে যায়, তখন এটি একটি মিশ্রণে পরিণত হয়ে চুলের গোঁড়া মজবুত করতে সাহায্য করে এবং চুলের ঝড়ে পরা প্রতিরোধ করে।

সপ্তাহে কতবার ব্যবহার করা উচিত

এক মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখতে সপ্তাহে ২-৩ বার আপনার মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন এবং প্রতিবার লাগানোর পর চুল ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন মাথার তালুতে তেল লাগালে এবং ম্যাসাজ করলে এটি আপনার চুল বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

২. চুলের মাস্ক হিসেবে

চুলের মাস্ক

আপনার যা যা প্রয়োজন

  • এক মুঠো কারি পাতা
  • ৩-৪ টেবিল চামচ দই

আপনাকে যা করতে হবে

  • কারি পাতাগুলো ব্লেন্ডারে দিয়ে মিশিয়ে নিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন।
  • ৩-৪ টেবিল চামচ দইয়ের সাথে ১ টেবিল চামচ কারি পেস্ট যোগ করুন। (দই এবং কারি পাতার পেস্টের পরিমাণ নির্ভর করে আপনার চুল কতটুকু লম্বা তার উপর)
  • এই দুইটি উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  • এই হেয়ার মাস্কটি দিয়ে আপনার মাথার তালু এবং চুল ম্যাসাজ করুন। এই পেস্টটি দিয়ে আপনার চুলের আগা থেকে গোঁড়া পর্যন্ত ঢেকে দিন।
  • ৩০ মিনিট মাথায় রেখে দিন এবং শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • আপনি চাইলে দইয়ের বিকল্প হিসেবে ২ টেবিল চামচ দুধ মিশাতে পারেন।

এটা কেন কাজ করে

দই মাথার ত্বকে একটি খুব ভালো হাইড্রেটিং ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে। এটি মৃত কোষ ও খুশকি দূর করে এবং আপনার মাথার ত্বক এবং চুল অনেক নরম এবং সতেজ করে। এতে অপরিহার্য পুষ্টিগুণ রয়েছে যা কোষল্গ্রন্থির উন্নয়ন করে মাথার তালুকে দূষনমুক্ত করতে সাহায্য করে। দই মিশানোর ফলে এই মিশ্রণটি অকালে পেঁকে যাওয়া প্রতিরোধ করে।

সপ্তাহে কতবার ব্যবহার করা উচিত

আপনার মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে সপ্তাহে ওকবার এই মাস্কটি ব্যবহার করুন এবং আপনার চুল কোমল এবং উজ্জ্বল করে তুলুন।

৩. আপনার খদ্যে যোগ করুন

চুলে কারি পাতা ব্যবহারের উপকারিতা

চুলের যত্নের মানে হলো আপনি আপনার শরীর যে খাদ্য গ্রহণ করবে তাই আপনার চুলও গ্রহণ করবে। চুল ঝরে পড়া প্রতিরোধ করতে এবং চুলের বৃদ্ধি জন্য একটি আদর্শ উপায় হলো আপনার খাদ্যে কারি পাতা যোগ করুন। আপনি কারি পাতার পাউডার বানিয়ে ভাত অথবা তরকারির সাথে খুব সহজেই মিশিয়ে খেতে পারবেন।

এছাড়াও আপনি কুচি কুচি করা পুদিনা পাতা এবং কারী পাতার মিশ্রণের সাথে দুধ অথবা বাটারমিল্ক মিশিয়ে খেতে পারেন।

কারিপাতা একটি সুন্দর গন্ধ আছে যা খিদে বাড়ানোর উপাদান বা এপেটাইজার (appetizer) হিসেবে কাজ করে। কিছু কারিপাতা ভেজে নিয়ে তার মধ্যে সেদ্ধ করা সবজি মিশিয়ে নিলে আপনার রোজকার একঘেয়ে খাবারে একটি সুন্দর গন্ধ যোগ হয় এবং একইসাথে এটি আপনার চুলের উপকারেও আসে।

চুলে কারি পাতা ব্যবহারের উপকারিতা

  • কারি পাতা মৃত কোষ, ধূলাবালি এবং চিটচিটে ভাব দূর করে চুলের কোষগ্রন্থির উন্নতি করে। এদের মধ্যে প্রচুর পুষ্টিগুণ আছে যা চুলের গোঁড়া শক্ত করে এবং চুল পরা প্রতিরোধ করে।
  • বিভিন্ন রকম হেয়ার প্রোডাক্টের ব্যবহারও মাথার ত্বকের জ্বালা-পোড়ার অনেক বড় বড় কারণগুলোর মধ্যে একটি। আপনার হেয়ার প্রোডাক্ট গুলো আপনার মাথার বহিঃত্বকের ঠিক নিচে জমা হতে পারে, যা আপনার চুলকে অনুজ্জ্বল এবং নিস্তেজ করে দেয়। এই সব প্রোডাক্টের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার আপনার চুলকে রুক্ষ করে দেয় যার ফলে আপনার চুলে জট বাঁধে এবং চুল ভেঙ্গে যায়। কারি পাতা চুলের বহিঃত্বকের ভিতর প্রোডাক্টের জমে থাকা প্রতিরোধ করে আপনার মাথার ত্বক এবং চুল সতেজ ও স্বাস্থ্যকর করে তুলে।
  • কারি পাতা ভিটামিন-বি এর খুব ভাল একটি উৎস, চুলের স্বাস্থ্যের জন্য এটি একটি অপরিহার্য ভিটামিন। ভিটামিন-বি এর অভাবে চুল পড়া বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কারি পাতা নতুন চুল জন্মাতে সাহায্য করে এবং আপনার চুল স্বাস্থ্যকর ও মজবুত করে তুলে।
  • বয়স বাড়ার সাথে সাথে আপনার চুলও প্রাণহীন এবং দুর্বল হয়ে যাওয়া শুরু করে। একবার যদি আপনার মাথার কোষগ্রন্থির রঞ্জক পদার্থ নিঃশেষ হয়ে যায়, আপনার চুল সাদা হয়ে যাওয়া শুরু করে। কখনও কখনও তরুণদের চুলও পেঁকে যেতে পারে এবং তাদের চুল পাকার কারন গুলো হলো মাত্রারিক্ত চাপ নেওয়া, ধূমপান করা, বংশগত কারণ অথবা মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করা ইত্যাদি। কারি পাতাতে উপস্থিত ভিটামিন-বি চুলের অকালে পেঁকে যাওয়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এবং যার ফলে আপনার চুল নিজের রঙ ধরে রাখতে পারে এবং চুল দীর্ঘকাল উজ্জ্বল থাকে।
  • কারি পাতাতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের এবং মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি আপনার চুলকে স্বাস্থ্যবান রাখতে ক্ষতিকারক র‍্যাডিকালের সাথে যুদ্ধ করে।
  • কারি পাতা আপনার চুলের স্থিতিস্থাপকতা এবং বৃদ্ধি শক্তির উন্নতি করে। যখন ক্ষতিগ্রস্থ চুল যথেষ্ট পরিমাণ পুষ্টি এবং ময়েশ্চার পায়, তখন চুল তার পূর্ববর্তী শক্তি এবং দীপ্তি পুনরায় ফিরে পেতে শুরু করে। নারিকেল তেলের সাথে মিশ্রিত কারি পাতা, আপনার চুলকে সুস্থ করার জন্য প্রয়োজনীয় হাইড্রেশন এবং পুষ্টি প্রদান করতে সাহায্য করে।
  • কারি পাতাতে উপস্থিত ভিটামিন-বি৬ হরমোনের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে যা আপনার চুলের গোঁড়া মজবুত করে চুলের পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

চুল ঝরে পড়ার সাথে যুদ্ধ করা কঠিন কাজ মনে হতে পারে, অনেক সময় অসম্ভবও মনে হতে পারে। কিন্তু, আপনাকে যা করতে হবে তা হলো সঠিক সমাধান বের করে এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। প্রতিদিন রুটিন করে নির্দিষ্ট কিছু প্রাকৃতিক উপাদান যেমন কারি পাতা দিয়ে আপনার চুলের যত্ন নিতে হবে যা আপনার চুলের হারিয়ে যাওয়া মহিমা এবং উজ্জলতা পূনরুদ্ধার করবে।

Filed Under: Hair Fall ( চুল পড়া), Hair Growth ( চুল বৃদ্ধি)

শীতকালে কিভাবে চুলের খুশকি প্রতিরোধ করবেন?

by রূপকথন ডেস্ক Leave a Comment

শীতকাল হল বছরের সেই সময়, যখন তাপমাত্রা কমে আসার ফলে আমাদের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পরে। আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে উঠে এবং মৃত চামড়ার কোষ ভেসে উঠে। এই শুষ্কতা শুধু ত্বক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেনা, এটি মাথার ত্বকেরও একটি সাধারণ সমস্যা। মাথার ত্বকের মৃত কোষগুলো ছোট ছোট আঁইশে রুপান্তরিত হওয়া শুরু করে এবং ঝরে পড়তে শুরু করে। তাই শীতকালে আপনাদের কাঁধে ঝরে পড়া সাদা আঁইশ বা কণাগুলো তুষারকণা নাও হতে পারে, এগুলো খুশকিও হতে পারে।

শীতকালীন ঠান্ডা বাতাস আপনার ত্বককে নষ্ট করে ফেলে এবং এই ঋতুতে আপনার মাথার ত্বকের আদ্রতাই খুশকি হওয়ার জন্য দায়ী। এই সময় সবসময় গরম উননের সামনে বসে থেকে মরুভুমির বাতাসের অনুভূতি নেওয়া মোটেও ঠিক নয়,  যার জন্য শীতকালে মাথায় খুশকি একটি সাধারণ সমস্যা। উনন দ্বারা উত্পাদিত কৃত্রিম তাপ শীতের হিমশীতল বায়ুর সাথে মিশে গিয়ে এমন একটি আদ্রতা তৈরী করে যা আপনার মাথার ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই কারনেই শীতকালে খুশকি হওয়া একটি সাধারন সমস্যা।

কিভাবে শীতকালে খুশকি হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন?

শীতকালে খুশকি হওয়া থেকে রক্ষা পাবার কিছু উপায় নিচে দেয়া হলঃ

১. নতুনদের জন্য, আপনি একটি কোমল ময়েশ্চারাইজিং কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন।  আপনার মাথার ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্য রক্ষা করা এবং মাথার ত্বক যাতে শুষ্ক হয়ে চুলকানির সৃষ্টি না করে সে দিকে লক্ষ্য রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি হারবাল পণ্য ব্যবহার করতে চান, তাহলে সেই হারবাল পণ্যে আপনার এলার্জি আছে কিনা তা পরীক্ষা করার করার জন্য প্রথমে খুবই অল্প পরিমাণ নিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে দেখুন। কিছু মানুষের হারবাল পণ্যে এলার্জি থাকে এবং তখন এই পণ্য ব্যবহারে মাথার চুলকানি বেড়ে যেতে পারে এবং মাথার ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।

২. টি ট্রি তেল এবং শ্যাম্পু, কন্ডিশনার এবং চুলের যত্নের অন্যান্য পণ্য যা চা গাছের তেল থেকে তৈরি, এসব পণ্য মাথার ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে এবং খুশকি প্রতিরোধ করতে অত্যন্ত ভাল কাজ করে। আপনি সপ্তাহে দুইবার মাথায় টি ট্রি তেল ম্যাসাজ করতে পারেন এবং কয়েকদিনের মধ্যেই ভালো ফল লক্ষ্য করবেন।

৩. আপনার মাথার ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য আপনার খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি এবং জিংক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডও অবশ্যই থাকতে হবে! এগুলো আপনি আখরোট, ডিম, পাতা যুক্ত সবজি ইত্যাদিতে পাবেন। যদি আপনি সবুজ শাকসবজি খুব একটা পছন্দ না করেন, তবে শাকসবজি দিয়ে সালাদ তৈরি করুন এবং মেয়নেজ (mayonnaise) মিক্স করুন, এটিকে একটি মজাদার এবং লোভনীয় খাবারে পরিণত করুন।

৪. একটি আদ্রতা রক্ষাকারী যন্ত্র বাতাসের আদ্রতা রক্ষা করে এবং আপনার ত্বকে পর্যাপ্ত পরিমাণ আদ্রতা বজায় রাখে। তবে আপনাকে যন্ত্রটি ২-৩ দিন পর পর অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে। ঠিকমত যত্ন না নিলে এটি ছত্রাক এবং ব্যাক্টেরিয়ার বসবাস স্থলে পরিণত হবে এবং এর কারনে এলার্জি এবং সংক্রমণজনিত রোগ হতে পারে।

৫. শীতকালে অধিক হেয়ার স্টাইলিং পণ্য ব্যবহার করা যাবেনা যেহেতু এই সময় মাথার ত্বক ইতিমধ্যেই শুষ্ক এবং চুল তার আর্দ্রতা থেকে বঞ্চিত, সেহেতু এরা খুব সহজেই চুলের পন্যের কেমিক্যাল দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে এবং এটি মাথায় চুলকানী বাড়িয়ে দিতে পারে এবং এতে খুশকি আবার বৃদ্ধি পেতে পারে।

৬. বেশি বেশি চুল ধোয়া থেকে বিরত থাকুন, এটা আপনার মাথার ত্বক শুষ্ক করে দিবে এবং খুশকি বাড়িয়ে দিবে। মাথায় খুব গরম পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন; তার পরিবর্তে কুসুম গরম পানি বা তার তেকে অধিকতর ঠান্ডা পানি যতটুকু ঠান্ডা আপনি সহ্য করতে পারেন ব্যবহার করুন, তাহলেই খুশকি এড়াতে পারবেন।

৭.আলতোভাবে আপনার মাথায় শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ম্যাসাজ করুন। খুব জোরে ঘষবেন না, এটি খুব সহজেই মাথার ত্বকে র‍্যাশ তৈরি করে এবং মাথার ত্বক আর্দ্রতা হারায়। চুলের রঙ করাও মাথার ত্বকের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং খুশকির কারণ হতে পারে, শীতকালে চুলে রঙ করা থেকে দূরে থাকুন অথবা এমন একটি রঙ বেছে নিন যা আপনার চুলের আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখবে।

৮. উষ্ণ অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল আপনার মাথায় ম্যাসাজ করুন এবং ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন। ক্ষারমুক্ত শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এতে আপনার চুলের খুশকি দূর হয়ে যাবে।

৯. খুশকি দূর করার জন্য যখন আপনি শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন তখন ভালো ফলাফলের জন্য তা ধোয়ার আগে অবশ্যই ২/৩ কিংবা ৫ মিনিট মাথায় রাখে দিন এবং এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মাথা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

১০. খুশকি দুষচিন্তার কারনেও হতে পারে পাশাপাশি চুলের যত্নের পন্যগুলোও চুল থেকে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।। প্রথমত, আপনাকে যথেষ্ট বিশ্রাম নিতে এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। দ্বিতীয়ত, আপনার মাথা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন যাতে কোন ধরনের হেয়ার ক্রিম বা চুলের স্টাইলিং পণ্য মাথার ত্বকে না থাকে। নিয়মিত লেবুর পানি দিয়ে চুলে ধুয়ে নিন, এটি খুশকি দূর করতে সাহায্য করবে।

উপরের টিপস দিয়ে, এই শীতকালে খুশকির সাথে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত থাকুন এবং উপভোগ করুন সতেজ, ঝলমলে, শক্তিশালী চুল।

Filed Under: Dandruff (খুশকি)

চুল সোজা করার ১০ টি সহজ প্রাকৃতিক উপায় যা কমসময়ে আপনাকে দিবে নিখুঁত সুন্দর, ঝলমলে, উজ্জ্বল, ও মসৃণ চুল

by রূপকথন ডেস্ক Leave a Comment

সোজা (Straight) চুলের স্টাইল কখনো পুরানো হয় না ! ঝলমলে আর সোজা চুল কে না পছন্দ করে?

বেশিরভাগ মেয়েই চায় তাদের চুল যেন সুন্দর, ঝলমলে, উজ্জ্বল, মসৃণ এবং সোজা হয়। বিশেষ করে তখনই যখন আপনার চুল বেশিরভাগ দিনেই অতিমাত্রায় কোঁকড়ানো এবং বাজে অবস্থায় থাকে।

যাইহোক, আপনার চুলের স্টাইল বার বার পরিবর্তন করা অথবা স্থায়ীভাবে চুল সোজা করা আপনার চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যদি আপনি চুল সোজা করার জন্য প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন তাহলে এর ফলাফল পেতে হয়তো অনেক সময় লাগতে পারে, কিন্তু এটি অবশ্যই আপনার চুলের সৌন্দর্য্য অনেক গুণ বাড়িয়ে দিবে এবং চুলের কোন প্রকার ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করবে।

কিভাবে ১০ টি প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরে বসেই আপনি আপনার চুল সোজা করতে পারবেন তা আজ আমি আপনাদের জানাবো।

কিভাবে ঘরে বসেই প্রাকৃতিক উপায়ে আপনার চুল সোজা করবেন ?

১. নারকেল দুধ এবং লেবু রস (Coconut Milk and Lemon Juice for Hair Straightening)

২. গরম তেলের ট্রিটমেন্ট (Hot Oil Treatment for Hair Straightening)

৩. দুধ স্প্রে (Milk Spray for Hair Straightening)

৪. ডিম এবং জলপাইয়ের তেল (Eggs and Olive Oil for Hair Straightening)

৫. দুধ এবং মধু (Milk And Honey For Hair Straightening)

৬. গুরো চালের ময়দা এবং ডিমের মাস্ক (Rice Flour and Egg Mask for Hair Straightening)

৭. কলা এবং পেপের মাস্ক (Banana and Papaya Mask for Hair Straightening)

৮. অ্যালোভেরা (Aloe Vera for Hair Straightening)

৯. কলা, দই এবং জল্পাইয়ের তেল (Banana, Curd and Olive Oil for Hair Straightening)

১০. আপেল সিডার ভিনেগার (Apple Cider Vinegar for Hair Straightening)

 

দ্রষ্টব্য: এই পদ্ধতিগুলো আপনাকে একদম পরিপূর্ণ সোজা চুল দেবে না। তবে, এই পদ্ধতি আপনার কোঁকড়ানো চুলকে অনেকটাই সোজা করবে এবং আপনার চুলকে মসৃণ এবং স্বাস্থ্যজ্জল করবে, এটি আপনার চুলকে সোজা বানাবে।

সহজে ঘরে চুল সোজা করার ১০টি প্রাকৃতিক উপায় নিচে দেওয়া হলঃ

১. নারকেলের দুধ এবং লেবু রস (Coconut Milk and Lemon Juice for Hair Straightening)

আপনার যা যা দরকার হবে ঃ

  • ¼ কাপ নারকেলের দুধ
  • ১ টেবিল চামচ লেবুর রস

প্রস্তুতির সময় ঃ সারারাত

প্রক্রিয়াকরণের সময় ঃ ৩০ মিনিট

প্রক্রিয়া ঃ

  1. নারকেল দুধ এবং লেবু রস ভালভাবে মিশিয়ে নিন।
  2. রাতে মিশ্রণটি ফ্রিজে রেখে দিন।
  3. সকালে, আপনার মিশ্রণটি চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালোভাবে লাগান।
  4. প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য মাথায় রাখুন।
  5. ঠান্ডা পানি এবং একটি কোমল সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কত দিন পর পর ব্যবহার করবেন ঃ সপ্তাহে একবার।

কিভাবে এটি কাজ করবেঃ

লেবুর রস আপনার চুল সোজা করতে সাহায্য করে। আর নারকেল দুধের সংমিশ্রণের ফলে এই দুধ আপনার চুল কন্ডিশনিং করবে এবং আপনার চুলের গোড়ায় প্রচুর ভিটামিন সি পৌঁছাবে। এই মাস্ক আপনার চুলকে সিল্কি এবং মসৃণ করতে সাহায্য করবে এবং আপনি লক্ষ্য করবেন, প্রথমবার ব্যবহারেই আপনার চুল আগের চেয়ে অনেক স্নিগ্ধ ও কোমল হয়েছে।

২. গরম তেলের ট্রিটমেন্ট (Hot Oil Treatment for Hair Straightening)

আপনার যা যা দরকার হবে ঃ

  • ১ টেবিল চামচ ক্যাস্টোর তেল
  • ১ টেবিল চামচ নারকেল তেল

প্রস্তুতির সময় ঃ ২ মিনিট

প্রক্রিয়াকরণের সময় ঃ ৪৫ মিনিট

প্রক্রিয়া ঃ

  1. তেল মিশিয়ে নিন এবং কয়েক সেকেন্ড চুলায় দিয়ে হালকা গরম করে নিন।
  2. আপনার মাথার তালু থেকে চুলের আগা পর্যন্ত তেল প্রয়োগ করুন।
  3. আপনার চুলে তেল দেওয়া সম্পূর্ণ হয়ে গেলে ১৫ মিনিটের জন্য আপনার মাথার তালু ম্যাসাজ করুন।
  4. ৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  5. ঠান্ডা পানি এবং কোমল সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কত দিন পর পর ব্যবহার করবেন ঃ  সপ্তাহে দুই বার।

কিভাবে এটি কাজ করবেঃ

ক্যাস্টোর অয়েল যেভাবে আপনার চুল ঠিক করে মজবুত এবং কন্ডিশনিং করে সেভাবে অন্য কোন কিছুই চুল ঠিক করতে পারে না । এটি আপনার চুলকে মসৃণ ও পুষ্টি প্রদান করে আপনার চুলের কোঁকড়ানো ভাব নিয়ন্ত্রন করে । এই উপকরণ গুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার চুল আরো মসৃণ এবং ঝলমলে উজ্জ্বল হয়ে উঠে।

৩. দুধ স্প্রে (Milk Spray for Hair Straightening)

আপনার যা দরকার হবে ঃ

  • ¼ কাপ দুধ
  • স্প্রে বোতল

প্রস্তুতির সময় ঃ ২ মিনিট

প্রক্রিয়াকরণের সময় ঃ ৩০ মিনিট

প্রক্রিয়া ঃ

  1. স্প্রে বোতলের মধ্যে দুধ ভর্তি করুন।
  2. আপনার চুল দুধে পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত স্প্রে করুন।
  3. ৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  4. ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কত দিন পর পর ব্যবহার করবেন ঃ সাপ্তাহে ১-২ বার।

কেন করবেন ঃ

দুধের প্রোটিন আপনার চুলকে শক্ত/মজবুত করতে সাহায্য করে। কোকঁড়ানো নিয়ন্ত্রণ করে এবং চুলে সিল্কি ভাব নিয়ে আসে।

৪. ডিম এবং অলিভ তেল (Eggs and Olive Oil for Hair Straightening)

আপনার যা দরকার হবে ঃ 

  • ২ টি ডিম
  • ৩ টেবিল চামচ অলিভ তেল

প্রস্তুতির সময় ঃ ২ মিনিট

প্রক্রিয়াকরণের সময় ঃ ১ ঘন্টা

প্রক্রিয়া ঃ

  1. উপাদানগুলো একটি পাত্রে নিয়ে একসাথে মিশ্রণ করুন।
  2. আপনার চুলে ভাল ভাবে লাগান।
  3. ৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  4. ঠান্ডা পানি এবং একটি সলফেট-মুক্ত (sulfate-free) শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কত দিন পর পর ব্যবহার করবেন ঃ সপ্তাহে একবার।

কেন করবেন ঃ

ডিম গুলো প্রোটিন দ্বারা পরিপূর্ণ যা আপনার চুলকে পুষ্টি দিবে এবং অলিভ তেল মিশ্রণে চুলে চমৎকার সিল্কি ভাব চলে আসে। এই উপাদান গুলো মিশ্রণে আপনি আপনার চুলের মসৃণতা ফিরে পাবেন এবং কোঁকড়ানো ভাব থাকবে না।

৫. দুধ এবং মধু (Milk and Honey for Hair Straightening)

আপনার যা দরকার হবে ঃ

  • ¼ কাপ দুধ
  • ২ টেবিল চামচ মধু

প্রস্তুতির সময় ঃ ২ মিনিট

প্রক্রিয়াকরণের সময় ঃ ২ ঘন্ট

প্রক্রিয়া ঃ

  1. দুধ আর মধু ভালভাবে মিশ্রণ করুন।
  2. এবার আপনার পুরো মাথায় মিশ্রণটি লাগান।
  3. ২ ঘন্টার জন্য এটি মাথায় রেখে দিন।
  4. ঠান্ডা পানি এবং একটি সলফেট-মুক্ত (sulfate-free) শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কত দিন পর পর ব্যবহার করবেন ঃ সাপ্তাহে ১ দিন।

কেন করবেন ঃ

দুধের প্রোটিন আপনার চুলকে পুষ্টি দিয়ে সাহায্য করে। মধু আপনার চুলকে কোমল/নরম করে চুলের ফাটল নিয়ন্ত্রণ করবে। এই মিশ্রণ প্রয়োগের ফলে আপনার চুল মসৃণ এবং চকচকে করবে।

আরো পড়তে পারেন চুল পড়া রোধে ১৫ টি কার্যকরী হেয়ার মাস্ক

৬. ময়দা এবং ডিম মাস্ক (Rice Flour and Egg Mask for Hair Straightening)

আপনার যা দরকার হবে

  • ১টি সাদা ডিম
  • ৫ টেবিল চামচ ময়দা
  • ১ কাপ মুলতানি মাটি
  • ¼ কাপ দুধ

প্রস্তুতির সময় ঃ ৫ মিনিট

প্রক্রিয়াকরণের সময় ঃ ১ ঘন্টা

প্রক্রিয়া ঃ

  1. একটি মসৃণ প্যাক না পাওয়া পর্যন্ত সকল উপাদান মিশ্রণ করুন। ( প্রয়োজনবোধে আরো দুধ ব্যবহার করতে পারেন যদি প্যাকটি বেশি ঘন এবং মুলতানি মাটির পরিমান বেড়ে যায়।)
  2. পুরো মাথায় মেখে নিন।
  3. ১ ঘন্টার জন্য এটি মাথায় রেখে দিন।
  4. ঠান্ডা পানি এবং একটি সলফেট-মুক্ত (sulfate-free) শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কত দিন পর পর ব্যবহার করবেন ঃ সাপ্তাহে ১ দিন

কেন করবেন ঃ

এই প্যাকের সকল উপাদান গুলো আপনার চুলকে মসৃণ এবং পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করবে। এই প্যাক আপনার চুলকে মজবুত, ময়লা নির্মূল ও চুল ফাটা থেকে রক্ষা করবে এবং আপনাকে দিবে শক্ত এবং মজবুত চুল।

৭. কলা এবং পেঁপে মাস্ক (Banana and Papaya Mask for Hair Straightening)

Banana and Papaya Mask for Hair

আপনার যা দরকার হবে ঃ

  • ১ টি কলা
  • ১ টি পেপের বড় পিস

প্রস্তুতির সময় ঃ ৫ মিনিট

প্রক্রিয়াকরণের সময় ঃ ৪৫ মিনিট

প্রক্রিয়া ঃ

  1. কলা এবং পেঁপে সমান সমান হয়েছে কিনা সিউর হয়ে নিন।
  2. সকল উপাদান গুলি একসাথে ভাল ভাবে মিশ্রণ করুন। (প্রয়োজনবোধে ব্লান্ডার ব্যবহার করতে পারেন।)
  3. এবার প্যাকটি মাথায় লাগান।
  4. ৪৫ মিনিট শুকানোর জন্য রেখে দিন।
  5. ঠান্ডা পানি এবং একটি সলফেট-মুক্ত (sulfate-free) শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কত দিন পর পর ব্যবহার করবেন ঃ সাপ্তাহে ১ বার

কেন করবেন ঃ

কলা এবং পেঁপে আপনার চুল লম্বা করবে এবং এটি চুলের পুষ্টি হিসাবে কাজ সরতে সাহায্য করে থাকে। এই প্যাক আপনার চুলকে নরম এবং ঝকঝকে করে তুলবে। এবং চুল হবে সুস্থ এবং মজবুত।

৮. অ্যালোভেরা (Aloe Vera for Hair Straightening)

Aloe Vera for Hair

আপনার যা দরকার হবে ঃ

  • ¼ কাপ নারকেল তেল / অলিভ তেল
  • ¼ কাপ অ্যালোভেরা জেল

প্রস্তুতির সময় ঃ ২ মিনিট

প্রক্রিয়াকরণের সময় ঃ ৪০ মিনিট

প্রক্রিয়া ঃ

  1. নারকেল তেল/ অলিভয়েল উষ্ণ গরম করুন।
  2. অ্যালোভেরা জেলার সাথে তেল ভাল ভাবে মিশ্রণ করুন।
  3. এবার প্যাকটি মাথায় লাগান।
  4. ৪০ মিনিট শুকানোর জন্য রেখে দিন।
  5. ঠান্ডা পানি এবং একটি সলফেট-মুক্ত (sulfate-free) শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কত দিন পর পর ব্যবহার করবেন ঃ সাপ্তাহে ১ দিন

কেন করবেন ঃ

অ্যালোভেরার জেল দিয়ে তৈরি প্যাক আপনার চুল বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে এবং আপনার চুলকে মসৃণ ও নরম রাখতে সাহায্য করবে। এই প্যাকটি আপনার চুলে হাইড্রোজেন ডুকাতে সাহায্য করে এবং কোকঁড়ানো ভাব কমায়।

৯. কলা, দই এবং অলিভ তেল (Banana, Curd and Olive Oil for Hair Straightening)

আপনার যা দরকার হবে ঃ

  • ২ টা পাকা কলা
  • ২ টেবিল চামচ মধু
  • ২ টেবিল চামচ অলিভওয়েল
  • ২ টেবিল চামচ দই

প্রস্তুতির সময় ঃ ৫ মিনিট

প্রক্রিয়াকরণের সময় ঃ ৩০ মিনিট

প্রক্রিয়া ঃ

  1. ভালভাবে কলা মিশ্রণ করুন।
  2. এবার সব উপাদান গুলো একসাথে ভাল করে মিশ্রণ করুন।
  3. এবার আপনার চুলে প্যাকটি ভালভাবে লাগান।
  4. ৩০ মিনিট শুকানোর জন্য রেখে দিন।
  5. ঠান্ডা পানি এবং একটি সলফেট-মুক্ত (sulfate-free) শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কত দিন পর পর ব্যবহার করবেন ঃ সাপ্তাহে ১ দিন

কেন করবেন ঃ

এই প্যাকটি আপনার চুলের গুণগতমান এবং গঠন উন্নত করতে দ্বিগুণ পরিমাণে কাজ করে। এটি আপনার চুল শক্ত এবং কোকঁড়ানো ভাকে পরিত্রাণ করতে সাহায্য করে।

১০. আপেল সিডার ভিনেগার (Apple Cider Vinegar for Hair Straightening)

আপনার যা দরকার হবে ঃ

  • ২ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার
  • ১ কাপ পানি

প্রস্তুতির সময় ঃ ২ মিনিট

প্রক্রিয়াকরণের সময় ঃ ২ মিনিট

প্রক্রিয়া ঃ

  1. একটি পাত্রে পানির মধ্যে আপেল সিডার ভিনেগার পাতলা করে মিশান।
  2. একটি সলফেট-মুক্ত (sulfate-free) শ্যাম্পু দিয়ে আপনার মাথা ধুয়ে ফেলুন।
  3. এবার পরিষ্কার মাথায় পানিতে মিশানো আপলে সিডার ভিনেগার দিয়ে আপনার মাথা ধুয়ে ফেলুন।
  4. এরপর আপনার চুল আর পানি দ্বারা ধুবেন না।

কত দিন পর পর ব্যবহার করবেন ঃ সাপ্তাহে ১ বার।

কেন করবেন ঃ

আপেল সিডার ভিনেগার আপনার মাথার অতিরিক্ত তৈলাক্ত, ময়লা দূর করতে সাহায্য করে। এটি আপনার মাথার চামড়া উঠা থেকে বিরত রাখে এবং চামড়াটাকে মসৃণ রাখে।

আপেল সিডার ভিনেগার আপনার কোকাঁড়ানো চুলকে সোজা করে এবং আপনার চুলকে স্বাস্থ্যকর করে তুলে, চুলকে দেয় এক চকচকে আভাস।

শেষ কথা

এখন আপনি জানেন কিভাবে স্বাভাবিকভাবে আপনার চুল ঘরে বসে সোজা করতে হবে, আপনি কি জন্য অপেক্ষা করছেন?

এই উপাদান গুলো ঘরে বসে ব্যবহার করে আপনি আপনার কোকঁড়ানো চুলকে বিদায় দিতে পারেন এবং সিলকি চুলকে স্বাগতম জানাতে পারেন। সেই সাথে আপনার চুল হবে নরম এবং স্বাস্থ্যকর।

আপনি কি এই প্রাকৃতিক উপাদানের কোন একটি ব্যবহার করেছেন? তারা কিভাবে কতটা সাহায্য করেছে আপনার চুলকে? নীচের মন্তব্য বক্সে আপনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আমাকে জানান।

Filed Under: Hair Treatment (চুল চিকিৎসা)

  • « Go to Previous Page
  • Page 1
  • Interim pages omitted …
  • Page 3
  • Page 4
  • Page 5

Primary Sidebar

সাম্প্রতিক লেখা

১৬টি সেরা খাবার সকালবেলার দৌড়ের পর খাওয়ার জন্য – পোস্ট-রান রিকভারি পুষ্টি

ওজন কমাতে সেরা ২০টি ডিটক্স স্মুদি: উপাদান, প্রস্তুতি ও উপকারিতা

সহজে হজম হয় এমন ১৬টি হালকা খাবারের রেসিপি

Low FODMAP Diet: ৩ ধাপের পরিকল্পনা ও কোন খাবার খাবেন, কোনটা এড়িয়ে চলবেন

প্যালিও ডায়েট: উপকারিতা, ঝুঁকি ও ৭ দিনের খাবার পরিকল্পনা

বিভাগ সমূহ

  • Fashion
  • HAIR CARE (চুলের যত্ন)
    • Basic Hair Care (বেসিক হেয়ার কেয়ার)
    • Dandruff (খুশকি)
    • Dry Hair Care (শুকনো হেয়ার কেয়ার)
    • Hair Care Ideas
    • Hair Fall ( চুল পড়া)
    • Hair Growth ( চুল বৃদ্ধি)
    • Hair Treatment (চুল চিকিৎসা)
    • Oily Hair Care ( তৈলাক্ত চুলের যত্ন)
  • HEALTH & WELLNESS (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা)
    • Diet Tips
    • Fitness
    • Healthy Food
    • Home Remedies
    • Ingredients and Uses
    • Nutrition (পুষ্টি)
    • Weight Gain
    • Weight Loss (ওয়েট লস)
  • Lifestyle (জীবনযাপন )
  • MAKEUP (মেকআপ)
    • Bridal Makeup (ব্রাইডাল মেকআপ)
    • Eye Makeup (চোখের সাজসজ্জা)
    • Lip Make up (লিপ আপ করুন)
  • SKIN CARE (ত্বকের যত্ন)
    • Acne
    • Anti Ageing
    • Beauty Secrets
    • Dry Skin
    • Face Care Tips
    • Face Packs and Masks
    • Glowing skin
    • Homemade Tips
    • Oily Skin
    • Skin Care Ideas
    • Skin Care Problems
    • Sunscreen
  • Top 10's

Copyright © 2026 · RUP KOTHON · All rights reserved ®